নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

মেলবোর্নের দিনলিপি-৯ ... কিছু বিক্ষিপ্ত স্মৃতি

০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:০৮

এর আগের পর্বটি দেখতে পাবেন এখানেঃ মেলবোর্নের দিনলিপি-৮ ... ব্রাইটন বীচের বেলাভূমিতে এক সন্ধ্যায়

আলহামদুলিল্লাহ, মেলবোর্নে আসার পর থেকে খুবই প্রশান্তিময় দিন কাটাচ্ছি। সংসারের কোন ঝামেলা নেই, কোন দায় দায়িত্ব নেই, ইচ্ছেমত সময় কাটাতে পারছি আমরা দু’জন। ছেলে এবং বৌমা যতক্ষণ কাজে থাকে, আমরা ততক্ষণ ইচ্ছেমত ফেইসবুকিং করি আর ছবি আপলোড করি, আমি ব্লগিং এবং কিছু অন্যান্য লেখালেখিও করি। ওরা ফিরে আসতে আসতে কখনো বিকেল, কখনো সন্ধ্যা, কখনো রাত হয়। ওরা ফিরে এলে কখনো কখনো ওদের সাথে চা-টা খাই, সময় থাকলে আশে পাশের সৈকতে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থেকে ঘরে ফিরে আসি। সপ্তাহান্তের ছুটিতে দূরে কোথাও যাই। অন্যান্য দিনের বিকেলগুলোতে আমরা দু’জনে হাঁটতে বের হই। এখানকার আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূল হওয়ায় (খুব বেশী শীত এখনো পড়ে না, বৃষ্টিও তেমন হয় না, হলেও বেশীক্ষণ ধরে হয় না) নিরিবিলি রাস্তা ধরে হাঁটাটাই প্রভূত আনন্দদায়ক। হাঁটতে হাঁটতে কখনো ছবি তুলি, পাখি দেখি, পাখির কাকলি শুনি। যত ছোটই হোক, প্রতিটি পথের একটা করে নাম আছে, আমি সে নামগুলোও পড়ি! ১৩ ও ১৪ জানুয়ারীতে হাঁটাহাঁটির সময়ে তোলা এরকম কিছু ছবি এখানে দিলাম।

১৪ জানুয়ারী বিকেলে আমরা মুরাব্বিন রেল-স্টেশন এর এক পাশ দিয়ে ঢুকে অপর পাশ দিয়ে বের হয়ে ‘কিংস্টন সিটি হল’ এর আশপাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করি। এই সিটি হলগুলো অনেকটা আমাদের জেলাশহরের টাউন হলের মত। এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, নগরপালের সভাসমিতি হয়, নতুন নাগরিকত্ব প্রাপ্তদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ করানোর পর এখানেই নাগরিকত্ব সনদপত্র প্রদান করা হয়। এখানে নাগরিকদের পড়াশোনার জন্য ভাল পাঠাগার রয়েছে, চিত্র প্রদর্শনীর জন্য উন্নত মানের আর্ট গ্যালারী রয়েছে। সূর্য ডোবার তখনো ৩০/৪০ মিনিট বাকি ছিল। আমরা সেই পড়ন্ত আলোতেই কিছু ছবি তুললাম। সিটি হল সংলগ্ন ওভারপাস থেকে মুরাব্বিন স্টেশনে আগমনকারী কিছু ট্রেনের ভিডিও চিত্র ধারণ করলাম।

১৫ জানুয়ারীঃ আজ আমার ভাতিজা শাহেদের জন্মদিন। জন্মদিনের কথা আমার সাধারণতঃ মনে থাকে না, কিন্তু ওরটা কেন জানি সকালেই মনে পড়লো, তাই ওকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানালাম। আমার ফোন পেয়ে ও মনে হয় একটু অবাকই হলো। আকাশটা তখনো ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। দাবানলের ধোঁয়া এ পর্যন্ত চলে এসেছে। কিছুক্ষণ ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে টেবিলে ফিরে এসে লিখতে বসলাম। দুপুরে বেশ গরম ছিল, তবে সহনীয়। বিকেল চারটার পর মেঘের গর্জন ও সেই সাথে বিজলি চমকানো শুরু হলো, তারপর বৃষ্টি নামলো। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা অনেকটা কমে এলো। এখানে এমনই হয় তা আসা অবধি দেখছি। সকাল-দুপুরে কিছুটা গরম থাকলেও, বিকেল নাগাদ শীত শীত ভাব চলে আসে। বাতাসও থাকে প্রায় সময়। বাতাস থাকলে একটা সোয়েটার কিংবা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে বের হতে হয়।

বিকেল সাতটার দিকে ব্যালকনিতে বসে আমরা চারজনে মিলে নাগেটস আর কফি খেলাম। তখনও হাল্কা বৃষ্টি ঝরছিলো, বিদ্যুৎও চমকাচ্ছিল। আমরা বাংলাদেশের বৈকালিক বৈশাখী ঝর বৃষ্টির আমেজ অনুভব করছিলাম। আগামীকাল সকালে বেয়াই-বেয়াইন ঢাকার উদ্দেশ্যে মেলবোর্ন ছেড়ে চলে যাবেন। ওনারা বেশ বিচক্ষণতার সাথে মোট ১৮ দিন ছুটিকে সমানভাবে দু’ভাগ করে ওনাদের মেয়ের বাসায় ৯ দিন আর ছেলের বাসায় ৯ দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর ছেলে ও বৌমা ওনাদের সাথে দেখা করার জন্য তুষার (বৌমার ভাই) এর বাসায় যাবে, তার প্রস্তুতি কিছুটা আগে থেকেই নেয়া শুরু করলো। আমরা প্রায় প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে বের হই। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেদিন আর হাঁটতে যাওয়া হলো না।


ঢাকা
৩০ মে ২০২০
শব্দসংখ্যাঃ ৪৭২


যত ছোটই হোক, প্রতিটি পথের একটা করে নাম আছে, আমি সে নামগুলোও পড়ি!


১৪ জানুয়ারীর পড়ন্ত বিকেল


মুরাব্বিন স্টেশনের এ্যাপ্রোচ লাইন


স্বব্যাখ্যাত


স্বব্যাখ্যাত


মুরাব্বিন বোলিং ক্লাব

বিকেলের আলোয়


'কিংসটন সিটি হল' এর সম্মুখে

মন্তব্য ৩৭ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩৭) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:২৫

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: মেলবোর্নের দিনলিপি ৯ এ ছোট্ট স্মৃতিচারণ। কিংস্টন সিটি হলের সঙ্গে জেলা সদরের টাউন হল গুলোর সাদৃশ্যতা না বললে মনে কৌতুহল থেকে যেত। ধন্যবাদ বিষয়টিকে সামনে আনাতে। দেরিতে হলেও 15 জানুয়ারি আপনার ভাতিজা শাহেদের জন্মদিনের বিলম্বিত শুভেচ্ছা রইল। বৈকালিক হাঁটাটাও বেশ উপভোগ্য হয়েছে।
ছবিগুলো একটু বেঁকে গেছে, অনেকটা আমারই ছবি ব্লগের মতই হয়েছে।
সব মিলিয়ে পোস্টে ভালোলাগা।

শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা স্যার আপনাকে।

০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ছবিগুলো একটু বেঁকে গেছে, অনেকটা আমারই ছবি ব্লগের মতই হয়েছে - আপনি যে আবার এত ঝটপট পোস্টটা পড়ে ফেলবেন, তা কে জানতো! আমি ছবিগুলো বেঁকে যাওয়াটা খেয়াল করেই সাথে সাথে মুছে দিতে উদ্যত হ'লাম, পোস্টে ফিরে এসে দেখি ইতোমধ্যে আপনার পোস্ট পড়া শেষ! মন্তব্যেও সেটা উল্লেখিত। যাহোক, সব শেষে লেখা ব্রাকেটবদ্ধ কথাগুলো পড়লে বাকিটা বুঝতে পারবেন।
ছবি কেন বেঁকে যায়, সেটার কারণ কি উদ্ধার করতে পেরেছিলেন? আমি আজই প্রথম মোবাইল ফোন থেকে পোস্ট ও ছবি আপলোড করলাম, আর আজই প্রথম ছবিগুলো বেঁকে গেল। মনে হয়, ফোন থেকে আপলোড করতে হলে অন্য কোন বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে হয়। ল্যাপটপ থেকে কখনো এমনটি হয়নি।
প্রথম মন্তব্য এবং প্রথম প্লাসের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। ব্যাকা ট্যারা সব ছবি দেখতে হলো বলে দুঃখিত। রাতের বেলায় ধীরে সুস্থে বাকি সব ছবি আপলোড করার আশা রাখি।

২| ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:৫১

বিজয় নিশান ৯০ বলেছেন: প্রতি বছর কি অস্ট্রেলিয়া যান ? দেশে- বিদেশে বেশ ভাল সময় কাটছে আপনার ।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: দেশে- বিদেশে বেশ ভাল সময় কাটছে আপনার - আলহামদুলিল্লাহ! যখন যে অবস্থায় থাকি, ভাল থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহ'র কাছে হাজার শোকর, তিনি তাতে সহায় থাকেন।
প্রতি বছর কি অস্ট্রেলিয়া যান? - এই পোস্টে বা আমার অন্য কোন পোস্টে কি কোথাও পেয়েছেন, প্রতিবছর অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোন দেশে যাবার কথা? জ্বী না, প্রতিবছর নয়, ১৯ বছর পর এবারে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলাম।
তবে এবারে ছেলে আর বৌমা মিলে যেভাবে আমাদেরকে আদর আপ্যায়নে রেখেছিল, এখন থেকে মনে হয় শরীর স্বাস্থ্য ভাল থাকলে প্রতি বছর ইচ্ছে হবে একবার ওদের ওখান থেকে ঘুরে আসি।
আমার ছেলের এখন যে বয়স, আমার যখন সে বয়স ছিল, তখন আমার আব্বাকে কয়েক মাস আমার ঢাকার বাসায় এনে রেখেছিলাম। আমি আমার কাজে ব্যস্ত থাকতাম। আব্বার কাজ ছিল সারাদিন নিয়ম মাফিক খাওয়া দাওয়া করা, ওযু গোসল করা, নামাজ কালাম পড়া, বিকেলে নাতিদেরকে নিয়ে সামান্য হাঁটাহাটি করা, আর এর মাঝের সময়গুলোতে আমার বাসায় মুফতি আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলীর লেখা পবিত্র ক্বোর'আন মজীদের তাফসীরসহ একটা ইংলিশ ট্রান্সলেশন ছিল, সেটা নিয়ে মশগুল থাকা। ওনাকে একটা নোটবুক দিয়েছিলাম, সেখান থেকে নানা নোটস সেটাতে টুকে রাখ্তেন। রাতে খাবার টেবিলে দেখা হতো, সামান্য কথা হতো, উনি তাতেই খুশী থাকতেন। কোন সমস্যায় পড়লে ওনাকে বলতাম, যাদুর মত সে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। উনি আমার বাসায় থাকতে থাকতেই আমার একটি বিদেশী দূতাবাসে পোস্টিং হয়। আমরা সেখানে থাকা কালীন তিনি ইন্তেকাল করেন। মারা যাওয়ার আগে উনি আমার স্ত্রীকে একটি চিঠিতে লিখেছিলেন, বৌমা, তোমার বাসায় আমি শেষ যে ক'টা দিন কাটিয়ে আসলাম, 'সেটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়'। এটাই হয়তো জীবনে আমার এত ভাল থাকার গোপন সূত্র।

৩| ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৪:০৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


ওখানে বাংগালীরা ব্যবসা বাণিজ্য করছেন? সেখানে সামুদ্রিক মাছ খেয়েছেন? চীনাদের পরিমাণ কেমন?

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:২৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: না, বাঙালিরা সেখানে তেমন ব্যবসা বাণিজ্য করছেনা। বেশীরভাগ বাঙালিরা ছোট খাট চাকুরিজীবি, কেউ কেউ মাঝারি, তবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক গবেষকও আছেন প্রচুর। ওনারা ভাল করছেন। অনেক বাঙালি ছাত্র ছাত্রীও আছেন। ডাক্তার কিছু আছেন, তবে ওনারা ডাক্তারির বদলে অন্য পেশায় নিয়োজিত। আইটি সেক্টরে বেশ কিছু বাঙালি কাজ করেন বলে আমার ধারণা হয়েছে। হান্টিংডেল এলাকায় একটা বাংলা রেস্টুরেন্ট ছিল, শুনেছি সেটা তেমন ভাল ব্যবসা করতে পারে নাই বলে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ড্যান্ডিনং এলাকায় বাংলা মার্কেট রয়েছে, সেখানে বাঙালি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে শাক সব্জী, মাছ ইত্যাদি আমদানী করে বিক্রী করে। সেগুলো ভাল চলে।
হ্যাঁ, ওখানকার সামুদ্রিক মাছ খেয়েছি এবং তা খুব ভাল লেগেছে। আমি আমার ছেলে বৌমাকে বলে এসেছি, ওরা যেন স্থানীয় মাছ, শাক সব্জী ও ফলমূল বেশী করে খায়। সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন বেশী থাকে বলে তা স্বাস্থ্যকর।
চীনারা সেখানে প্রচুর সংখ্যায় আছে। পথে ঘাটে ট্রামে রেলে সব জায়গাতেই চীনাদেরকে দেখা যায়। চীনের সাথে অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক লেন-দেন প্রচুর, সেজন্য ওরা চীনকে সামঝে ও সামলে চলে। ওদের পর্যটন শিল্প অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর মতই চীনা নির্ভর।
আমার এই ছোট্ট পোস্ট পড়ে আগ্রহভরে তিনটে ছোট ছোট প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ। আমিও চেষ্টা করেছি, যথাসম্ভব সঠিক উত্তর দেবার।

৪| ০২ রা জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৩৪

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো।
ভ্রমন কাহিনি পড়লেই মনে হয়- জীবন আনন্দময়।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: আনন্দ বেদনা নিয়েই জীবন। এ পৃথিবীতে আমরা সবাই স্বল্পকালীন পরিব্রাজক।

৫| ০২ রা জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

চাঙ্কু বলেছেন: মনে হচ্ছে বেশ সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। আমার এক পরিচিত আংকেল আছে যার ৫ ছেলে-মেয়ে পৃথিবীর ৫ দেশে থাকে। এইজন্য উনি মোটামুটি সারা বছর ছেলে-মেয়ের কাছে আসা-যাওয়ার মধ্যে ওয়ার্ল্ড-ট্যুর করে বেড়ান!!

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১০:২৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমরা এই প্রথম এক ছেলের বাসায় গেলাম। ভিসা যেহেতু তিন মাসের ছিল, সেহেতু পুরো তিন মাসই সেখানে ছিলাম। জ্বী, সময়টা সেখানে ভালই কেটেছে। অস্ট্রেলিয়া সুন্দর দেশ, পর্যটক বান্ধব। আবার অস্টেলিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মেলবোর্ন এগিয়ে, যার জন্য মেলবোর্নকে অস্ট্রেলিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়ে থাকে।
মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৬| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ৮:৪৭

বিজয় নিশান ৯০ বলেছেন: কোথাও পায় নি প্রতি বছর বাইরে যাবার কথা । ছেলে নাতি থাকে সেইজন্য ভেবেছিলাম । আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে চিনি যারা প্রতি বছর প্রবাসে এসে কিছু সময় কাটিয়ে যান ।

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:০১

খায়রুল আহসান বলেছেন: যে ছেলের বাসায় গিয়েছিলাম, তাদের ঘরে এখনো নাতি নাতনি আসেনি। নাতি নাতনি থাকলে সেটা অবশ্যই দাদা-দীদার জন্য একটা অপরিহার্য আকর্ষণে পরিণত হয়।

৭| ০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:১৫

কাছের-মানুষ বলেছেন: আপনার মেলবোর্নের খন্ড স্মৃতি পড়ে আমার ভাল লাগল। বিদেশে অনেক সময় একা মনে হয়, তবে একটা জিনিষ ভাল লাগে সেখানে বাঙ্গালীদের মাঝে আন্তরিকতা অনেক থাকে, আমি অন্তত সেরকম দেখেছি।


মেলবোর্নের পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশোন কেমন? ট্রেনে চরেছিলেন?

০২ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:৪২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, পোস্টটা পড়ার জন্য।
তবে একটা জিনিষ ভাল লাগে সেখানে বাঙ্গালীদের মাঝে আন্তরিকতা অনেক থাকে, আমি অন্তত সেরকম দেখেছি - জ্বী, আমিও একসময় প্রবাসে থাকা কালে সেটা দেখেছি। সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, বিদেশে বাঙালি মাত্রই সজ্জন
তবে আবার এটাও দেখেছি যে তিনজন বাঙালি জড়ো হলে দুটো সমিতি খাড়া করে আর তৃতীয়জনকে নিয়ে উভয়ে টানা হ্যাঁচড়া করে।
মেলবোর্নের পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশোন কেমন? ট্রেনে চরেছিলেন? - জ্বী জ্বী, ট্রেনেই তো ছিল আমাদের নিত্য আসা যাওয়া। শুধু সপ্তাহান্তের ছুটির দিনগুলোতে ছেলে-বৌমা আমাদেরকে নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যেত। পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশোন খুবই সুপরিকল্পিত এবং সিস্টেমেটিক। কোন কারণে ট্রেন যোগাযোগ বিঘ্নিত হবার সম্ভাবনা থাকলে পর্যাপ্ত সংখ্যক পাবলিক বাসের ব্যবস্থা করে, সুপ্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করে কমিউটারদেরকে আগে ভাগে জানিয়ে দেয় এবং চলাচলের গতিধারা নির্বিঘ্ন রাখে। ট্রেনগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা হয় এবং সময় বুঝে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে/বাড়িয়ে ফ্লো ঠিক রাখা হয় যেন কোন সময় ওভার ক্রাউডেড না হয়। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা প্রায় সেকেন্ড ধরে চলা। কখনো বিলম্বের দৈর্ঘ মিনিটে গড়ায় না, কেবলমাত্র লাইন মেরামতজনিত বিলম্ব ছাড়া।
২০১৩ সালে আমি নিউ ইয়র্ক সিটির ট্রেনে কিছুদিন যাতায়াত করেছিলাম। সে অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক ট্রেন ও বাস সিস্টেম ওদের তুলনায় অনেক উন্নত।

৮| ০৩ রা জুন, ২০২০ দুপুর ১:২০

সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পারলাম।

০৩ রা জুন, ২০২০ দুপুর ১:৩১

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, পোস্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্য।

৯| ০৩ রা জুন, ২০২০ দুপুর ১:৫৩

মুক্তা নীল বলেছেন:
ভাই ,
অনেক ভালো লাগছে আপনার মেলবোর্নের দিনলিপির
দিনগুলো পড়তে। তাছাড়া প্রতি মন্তব্য পড়ে আরো অনেক
কিছু জানলাম এবং ২ নং প্রতিমন্তব্য আমার খুবই ভালো
লেগেছে । আমি ৬ ও ৭ দিনলিপি পড়ি নাই পড়ে অবশ্যই
পড়ে নিবো তাছাড়া আমি আপনার পারিবারিক কিছু লেখার একদম অন্ধভক্ত । আজকের ছবিগুলো সুন্দর হয়েছে ।
ভালো ও নিরাপদে থাকুন ।

০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্য/প্রতিমন্তব্যসহ দিনলিপিগুলো পড়ে যাচ্ছেন দেখে প্রীত হ'লাম। উদার মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত।
ছবিগুলো আপনার ভাল লেগেছে জেনেও খুশী হ'লাম।
আপনিও ভালো ও নিরাপদে থাকুন, শুভকামনা....

১০| ০৩ রা জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




খাইরুল আহসান ভাই, অষ্ট্রেলিয়া ভ্রমণে আমার বেশ ভয়ের স্মৃতি আছে সময়ে লিখবো আশা করি। একটি দেশ আস্ত একটি মহাদেশ। আমি কোথাও শুনেছি সম্ভবত ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের কোনো সেমিনারে। সমগ্র পৃথিবীর মানুষ অষ্ট্রেলিয়া একাট্টা করা হলে ঢাকা রাজধানীর সমান ঘনবসতি হবে।




০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: অষ্ট্রেলিয়া ভ্রমণে আমার বেশ ভয়ের স্মৃতি আছে সময়ে লিখবো আশা করি - কিসের ভয়? লিখে ফেলুন তাড়াতাড়ি।
আমার কাছে দেশটিকে ভালই লেগেছে। এদের রাষ্ট এবং সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনাচার, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিশ্বাস ইত্যাদি নিয়ে তেমন মাথা ঘামায় না বলেই মনে হয়েছে। লোকজন বেশ একটা ইজী গোয়িং লাইফ লীড করে।

১১| ০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ৯:৪০

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




ভাই অষ্ট্রেলিয়াতে সমস্যা হয়নি সমস্যা হয়েছিলো ফ্লাইটে এই বুঝি প্লেন ব্রাষ্ট হবে এমন। আমি লিখবো সেই ঘটনা। অষ্ট্রেলিয়া খুবই সুন্দর দেশ। আসলে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা থাকলে মানুষের চিন্তা থাকে না। এই হচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ার চিত্র। ছিমছাম পরিস্কার দেশ। এতো বড় দেশ যে সমগ্র বিশ্বের মানুষ অষ্ট্রেলিয়াতে জায়গা হবে।

০৩ রা জুন, ২০২০ রাত ১১:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আসলে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা থাকলে মানুষের চিন্তা থাকে না - কথাটা তো অবশ্যই ঠিক। তার পরেও ভাবি, ১৭৮৮ সালে কিছু ব্রিটিশ সৈন্যদল এবং একজন গভর্নরের নেতৃত্বে ১১টি জাহাজ বোঝাই ৭৩৬ জন দাগী অপরাধীদের নিয়ে আসা এক বিশাল রণতরীর বহর যখন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (যার রাজধানী সিডনী) এর বন্দরে নোঙর করেছিল, তখন কে জানতো যে এদের বংশধরেরা দুই শ' বছরের ব্যবধানে এখানে একদিন একটা সভ্য দেশ ও শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে?

১২| ০৪ ঠা জুন, ২০২০ রাত ২:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



আমি আগেও বলেছি আপনার বৈদেশিক ভ্রমন কাহিনীর কিছু কথামালা ও চিত্র আমার জানার স্পৃহাকে বাড়িয়ে দেয় যা হতে আমি সহজে নিবৃত হতে পারিনা ।তবে আমার জানার ইচ্ছাকে বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আপনার প্রতি রইল কৃতজ্ঞতা।

আপনার সাথে আমিও কিছুটা হেটে আসলাম মোরাব্বীনের পথে ঘাটে(তবে তা ভারচুয়াল জগতে)।আপনার মত হাটার পথে
পাখীর ডাক না শুনলেও জানলাম ও দেখলাম মুরাব্বীনের কিছু দৃশ্যাবলী ও কথা মালা। টাউন হলটি খুবই সুন্দর ।

বৃটিশ আমলে বাংলাদেশের জেলা সদরে নির্মিত টাউন হল গুলি ছিল জেলার সাংস্কৃতিক মিলন মেলার কেন্দ্র ।দেখতে চেয়েছিলাম সাবেক বৃটিশ কলোনী হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার টাউন হলগুলির আর্কিটেকচরাল কাঠামো বাংলাদেশের জেলা সদরের টাউন হলের মতই ছিল কিনা । সেটা দেখতে গিয়ে অনেকটা সময় কেটে যায়। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম কখন বৃটিশ কলোনির গোড়াপত্তন হয় এবং কখন তারা সভরেইন স্টেট হিসাবে স্বধিনতা লাভ করে তা জানার প্রয়োজনীতা দেখা দেয় । বিষয়টি জানতে গিয়ে প্রাসঙ্গিক বিষযে প্রচুর সময় ব্যয় করেছি। আপনার পোষ্টের কল্যানে অস্ট্রেলিয়ার স্বাধিনতা লাভের বিষয়ে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য জানতে পেরেছি।

জানা গেল ১৭৮৮ সনে অস্ট্রেলিয়াতে বৃটিশ এমপায়ারের প্রথম ঔপনিবেশিক শাসনের গোড়াপত্তন হয়। তারপরের ইতিহাস
ব্যাপক । যাহোক, জানা গেল On 1 January 1901, Six colonies of the United Kingdom excepting New Zealand formed the Commonwealth of Australia and became states in the Commonwealth of Australia. যদিউ বিবিধ কারণে অস্ট্রেলিয়াবাসীর পুর্ণ স্বাধিনতার প্রশ্নে অবস্থা ছিল বেশ জটিল
যহোক, মুল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। কলোনিয়েল পিরিয়ডে মোরাব্বীনে কোন টাউন হল নির্মিত হয়েছিল কিনা তা জানতে পারিনি ।
তবে ১৯৬২সনে মোরাব্বিন টাউন হলের জন্য প্রণীত একটি আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং এর সন্ধান পেয়েছি যার সাথে আপনার পোষ্টে দেয়া টাউন হলের মিল রয়েছে। মিল নেই বাংলাদেশের জেলা সদরের টাউন হলগুলির আর্কিটেকচারাল স্ট্রাকচারের সাথে।

অপরদিকে দেখা গেল মোরাব্বিন রেল স্টেশনটির রয়েছে বেশ পুরাতন ইতিহাস । South Brighton নামে স্টেশনটি যাত্রা শুরু করে এবং ১মে ১৯০৭ সনে এটাকে Moorabbin Rail Station হিসাবে পুণ নামকরন করা হয়।

ভাচুয়াল জগতের বোরাব্বীনের পথে পথে হাটার সময় সেখানকার আবাসিক বাড়ীগুলি খুবই সুন্দর দেখা গেছে । আবাসিক বাড়ীঘরের মুল্যও বেশ চড়া ।নীচের ছবিতে দেখানো ৫ বেডরুমের বাড়িটির অফারকৃত দাম দেখা যায় ধরা হয়েছে ২.৮৮মিলিয়ন হতে ২.৯৯ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

অন্যান্য ছোট বড় বাড়ীঘরের অবস্থা দেখেও মনে হল সেখানকার বাসিন্দারা বেশ বিলাসী ভবনেই বসবাস করেন।পরিবারের ঘনিষ্টজনের সান্যিধ্য ও সেবা যত্ন ছাড়াও সেখানকার মনোরম বাসস্থানের কারনেও আপনার অবস্থানকালীন সময়টি বেশ আরামপ্রদ ও সুখের হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নাই।

আমাদের জ্ঞানের পরিধি জানার স্পৃহা বর্ধনকারী পোষ্টটি প্রিয়তে গেল ।

ভাল থাকার শুভকামনা রইল।

০৪ ঠা জুন, ২০২০ সকাল ১১:২৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্টের সবশেষে এলো সবচেয়ে comprehensive কমেন্ট, এবং সেটা যথারীতি আর কারো কাছ থেকে নয়, ডঃ এম এ আলী ছাড়া! অনেক ধন্যবাদ, আমার পোস্ট পড়ে এতটা সম্পূরক তথ্য মন্তব্যে তুলে আনার জন্য।
মুরাব্বীন জায়গাটা আসলেই ভারি সুন্দর। উপসাগরের তটরেখার প্রায় সমান্তরাল চলে যাওয়া লাইনে রেল ভ্রমণও বেশ আনন্দদায়ক। এ লাইনের দুই প্রান্তের নামঃ ফ্লিন্ডার্স স্ট্রীট, যা শহরের বাণিজ্যিক এলাকার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, এবং ফ্র্যাঙ্কস্টন, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর মর্নিংটন পেনিনসুলায় অবস্থিত। মুরাব্বিন এ লাইনের প্রায় মাঝামাঝি অবস্থিত একটি স্টেশন। পুরো লাইনটির দৈর্ঘ ৪৩ কিমি। মুরাব্বিন থেকে শহরের দিকের প্রান্তে অর্থাৎ ফ্লিন্ডার্স স্ট্রীট যেতে ১৩ টি স্টেশন পড়ে, সময় লাগে ৩০ মিনিট, দূরত্ব ১৮.৪ কিমি। আর অপর প্রান্ত ফ্র্যাঙ্কস্টন যেতে ১৪ টি স্টেশন পড়ে, সময় লাগে ৩৫ মিনিট, দূরত্ব ২৪.৬ কিমি। ফ্র্যাঙ্কস্টন যাবার সময় কিছু কিছু জায়গায় ট্রেনটা চলে একেবারে উপসাগরের তীর ঘেঁঁষে, খুব সুন্দর লাগে ট্রেনে বসে সে দৃশ্য দেখতে। আমি তো একবার তীর ঘেঁঁষা এরকম একটা স্টেশনে নেমেই যেতে ধরেছিলাম, অন্য আরো ভাল কিছু দেখার সময়ে টান পড়বে বলে আমার স্ত্রী তখন আমাকে নামতে দেয়নি।
পোস্টটি "প্রিয়" তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা, মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত।
অশেষ ধন্যবাদ এবং শুভকামনা....

১৩| ০৪ ঠা জুন, ২০২০ দুপুর ২:২৭

করুণাধারা বলেছেন: দেরি করে মন্তব্য করে লাভ হলো দেখছি! ডঃ এম এ আলীর চমৎকার মন্তব্যসহ পোস্টকে সমৃদ্ধ করা আরো অনেক গুলো মন্তব্য পাওয়া গেল!

দিনলিপির এই পর্বও ভালো লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

০৪ ঠা জুন, ২০২০ বিকাল ৩:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: দেরি করে মন্তব্য করে লাভ হলো দেখছি! - আমি তো এমন তরো লাভের আশাতেই সবার লেখা দেরি করেই পড়ি! :)
দিনলিপির এই পর্বও ভালো লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম - অনেক ধন্যবাদ, এমন প্রেরণাদায়ক মন্তব্য এবং সেই সাথে প্লাসের জন্য।
আপনার আমেরিকা প্রবাসী ছেলেরা সে দেশের এখনকার এমন টালমাটাল অবস্থায় ভাল আছে তো?
সপরিবারে থাকুন, শুভকামনা...

১৪| ০৬ ই জুন, ২০২০ বিকাল ৫:৫৮

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:


ছবিগুলো সুন্দর।

//আমার মতো জাম ব্লগারের জন্য চ্যাকাল-মুক্ত পরিবেশ হলো খুব আরামদায়ক। চ্যাকালের খারাপ দিক হলো গালিগালাজ। গালিগালাজ, বেয়াদবি, অপমানজনক কমেন্ট আমার সহ্যের বাইরে।//

দক্ষিণ এশিয়া বাইরের কোন দেশে গেলে যে বিষয়টি আমাদেরকে প্রশান্তি দেয়, সেটি হলো জনমানবহীনতা (অথবা স্বল্পতা)। যেখানে প্রচুর ভিড় থাকার কথা, সেখানে দেখা গেলো যে শুধু আপনিই সেখানে পথচারি। দেশের মধ্যে এতো মানুষের ভিড়ে থেকে আমাদের সাবকনশাস মনে একপ্রকার ক্লস্ট্রোফোবিয়া সৃষ্টি হয়, যেটি আবিস্কৃত হয় ভিনদেশের কম জনসংখ্যায়।

আমি একটি পূর্ব এশিয়ান দেশের গ্রামে গিয়ে দেখেছিলাম সারা গ্রামে মাত্র ৫৪জন মানুষ! এটি আমার কাছে ছিলো অবিশ্বাস্য! পাকা রাস্তায় ঘাস-লতা-পাতা এমনভাবে গজিয়েছে যে, মনে হয় না সেখানে কোন মানুষ চলাচল করে। বনুফুলে গন্ধ, বৃক্ষরাজির হিসহিস শব্দ আর পাখির কলকাকলিতে আমি সেদিন একপ্রকার আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তাড়াতাড়ি ফিরে আসি গন্তব্যে। কিন্তু আনন্দটুকু ভুলতে পারি না।

১৫| ০৬ ই জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৪

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:


//নিরিবিলি রাস্তা ধরে হাঁটাহাঁটি প্রভুত আনন্দদায়ক। হাঁটতে হাঁটতে কখনো ছবি তুলি, পাখি দেখি, পাখির কাকলি শুনি। যত ছোটই হোক, প্রতিটি পথের একটি করে নাম আছে, আমি সে নামগুলোও পড়ি!//

প্রথম মন্তব্যে ভুলবশত ভুল একটি অনুচ্ছেদকে আমি উদ্ধৃত করেছি। সঠিকটি ওপরে দেওয়া হলো।



(আমি প্রায়ই ভুলে যাই যে, সামুর মূল পোস্ট থেকে লেখা কপি করে পেস্ট করা যায় না। সেটি করতে গিয়ে পূর্বের একটি কপি করা লেখা পেস্ট হয়ে গেছে। আরেকটি কপি-পেস্ট করতে গিয়ে নিজেই বুঝতে পারলাম। অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য দুঃখিত।)

০৬ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৪১

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনাকাঙ্খিত ভুলের জন্য দুঃখিত - কোন ব্যাপার না। আপনি চাইলে আমি ১৪ নং মন্তব্যটা মুছে দিতে পারি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে তা চাই না, কারণ সেখানে আপনি আপনার একটি সুন্দর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন (কিন্তু আনন্দটুকু ভুলতে পারি না) যা আমার ভাল লেগেছে।
আমার এ পোস্ট থেকে লাইন দুটো উদ্ধৃত করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

১৬| ০৭ ই জুন, ২০২০ সকাল ৮:০৭

সোহানী বলেছেন: পোস্ট পড়ে মন্তব্যের ঘরে এসে আলী ভাইয়ের মন্তেব্যে চোখ পড়লো..... ২.৯৯ মিলিয়ন ডলারের বাড়ির কথা শুনে ভয় পেলাম। আমার সব আত্মীয় বন্ধু বান্ধবইতো দেখি বাড়ি কিনেছে অস্ট্রেলিয়ায়। তবে অন্য শহর কিংবা ভিন্ন স্থানে।..... অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েদারতো শুনি চমৎকার। যাবো কোন একদিন।

লিখা ছোট হলেও ছবিগুলো তা পুরন করেছে।

০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ৮:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অস্ট্রেলিয়ায় ওয়েদারতো শুনি চমৎকার - আমরা যে তিন মাস ওখানে কাটিয়ে এলাম, তখন ওদের মোটামুটি গ্রীষ্মকাল। তবুও কয়েকদিন বেশ শীত পেয়েছিলাম। বিশেষ করে বিকেলের পরে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। আবার কয়েকদিন এমন গরম পড়েছিল যে এসি ছাড়তে হয়েছিল। বাকিটা সময়, বেশীরভাগ, এসি কিংবা হীটার, কোনটারই প্রয়োজন হয় নাই। তাই বলা যায়, ভাল আবহাওয়াতেই আমরা অস্ট্রেলিয়া বেড়িয়ে এসেছি।
লিখা ছোট হলেও ছবিগুলো তা পুরন করেছে - অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত।

১৭| ০৭ ই জুন, ২০২০ রাত ১১:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: আপনার আমেরিকা প্রবাসী ছেলেরা সে দেশের এখনকার এমন টালমাটাল অবস্থায় ভাল আছে তো?

ধন্যবাদ, খবর নেবার জন্য। ছেলেরা নয়, আমার একটিই ছেলে, মেয়ে আগেই গেছে; আমেরিকা যাবার আড়াই মাসের মধ্যে ছেলে পড়েছে লকডাউনে। খাবার অভাব, একাকী থাকা এসব শেষে অবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু হতেই শুরু হল কারফিউ। তবে আল্লাহর রহমতে নিরাপদেই আছে। দোয়া রাখবেন।

আপনিও ভালো থাকুন সপরিবারে।

০৮ ই জুন, ২০২০ সকাল ১১:৪১

খায়রুল আহসান বলেছেন: তবে আল্লাহর রহমতে নিরাপদেই আছে - আলহামদুলিল্লাহ! প্রবাসে ওদের দু'জনের জন্য এবং স্বদেশে আপনাদের দু'জনের জন্য শুভকামনা.....

১৮| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ২:৫০

সোহানী বলেছেন: কালই মেলবোর্নে থাকা কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সাথে দীর্ঘক্ষন আড্ডা দিলাম। এর মাঝে একজন মেলবোর্ন ইউনি তে পড়ায়। ওরা খুব করে বলছে আসার জন্য। এবারতো কোনভাবেই যাওয়া যাবে না। নেক্সট একদিন চলে যাবো হুটহাট করে।

২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:১২

খায়রুল আহসান বলেছেন: নেক্সট একদিন চলে যাবো হুটহাট করে - অবশ্যই যাবেন, আশাকরি বন্ধু সাহচর্যে ভাল সময় কাটিয়ে আসবেন।
পুনঃমন্তব্যের জন্য আরেক প্রস্থ ধন্যবাদ গ্রহণ করুন! :)

১৯| ১৭ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৫১

জুন বলেছেন: আপনার মেলবোর্ন ভ্রমণ কাহিনী পড়ে মনে হয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় একটি সময় কাটাচ্ছিলেন। কিন্ত দাবানল আর তারপর কোভিড ১৯ শেষটুকু স্বস্তি দিলো না। তারপরও আমার মতই আপনিও দেখলাম সব কিছু আর সামান্য কিছুর মাঝেও একটা আনন্দ খুজে নিতে পারেন। আমিতো রাস্তার পাশের বুনো ফুল বা পাখি দেখেই অনেক আনন্দময় সময় কাটাতে পারি। অথবা কোন কোন বিকেলে একাকী পাশের মলের কেএফসিতে এক কাপ কফি আর ছোট এক প্যাকেট ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে বসে বসে কত মানুষের হাসি কান্না দেখি।
ছবিগুলো দেখে পুর্ন হলো আমারও কাল্পনিক ভ্রমণ। অনেক অনেক ভালোলাগা রইলো। আশাকরি এই দুর্যোগে সাবধানে আছেন। ভালো থাকুন সবসময়।
+

১৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার মেলবোর্ন ভ্রমণ কাহিনী পড়ে মনে হয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আনন্দময় একটি সময় কাটাচ্ছিলেন - পরিবারের সদস্য বলতে আমাদের মেজ ছেলে আর বৌমা, এবং আমার গিন্নী তো অবশ্যই। :)
হ্যাঁ, সময়টা আমরা খুব ভালই কাটাচ্ছিলাম মা শা আল্লাহ, কিন্তু 'করোনা'র কারণে শেষের দু'সপ্তাহ কোথাও যেতে পারিনি, কিছুটা ভয়ে এবং কিছুটা সামাজিক বিধি নিষেধের কারণে। তবে তার জন্যেও আল্লাহ' কাছে হাজার শুকুর, সেই ঘরে বসে থাকাটাও আমাদের জন্য নিশ্চয়ই কল্যাণকর ছিল। আল্লাহ'র সকল সিদ্ধান্তে আমি মা শা আল্লাহ, খুশি।
আপনার আন্তরিক মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.