নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ক্ষণিকের দেখা- ৪

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০০

এ পর্বে আমি যে দুটো ‘ক্ষণিকের দেখা’ স্মৃতি রোমন্থন করবো, তার প্রথমটি একটি দৃশ্যের, আর পরেরটি একটি (মানুষের) মুখের। অবশ্য প্রথমটি শুধুমাত্র একটি দৃশ্যের হলেও, তার পেছনে ছিল একটি অদেখা, কল্পিত মুখও।

সে বহুদিন আগের কথা। আমার বয়স তখন পঁচিশ-ত্রিশের মাঝামাঝি, আমি সেনাবাহিনীর একজন তরুণ অফিসার। ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে সেনাবাহিনীর বাৎসরিক শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ অনুশীলন হয়ে থাকে। এ দুটো মাসে চেষ্টা করা হয়ে থাকে, সেনাবাহিনীর ব্যাটালিয়ন/ইউনিট গুলোতে যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক অফিসার উপস্থিত থেকে অনুশীলনে অংশ নিতে পারেন। তাই ঐ সময়টাতে ইউনিটের বাইরে যারা নিয়োগপ্রাপ্ত থাকেন, তাদেরকেও ইউনিটে সাময়িকভাবে হলেও ফিরিয়ে আনা হয়ে থাকে। তখন আমি ঢাকার স্টাফ কলেজে কনিষ্ঠতম স্টাফ অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এমনিতেই বদলি’র সময় হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ অনুশীলনে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতার কারণে সময়টা কয়েকমাস এগিয়ে আনা হয়েছিল। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে একদিন বদলিকালীন ‘জয়েনিং টাইম’ তথা ছুটি ছাটা ব্যতিরেকেই ৪৮ ঘন্টার নোটিশে বগুড়ার একটি ইউনিটে যোগদান করলাম। যোগদানের কিছুদিন পরেই শীতকালীন যৌথ প্রশিক্ষণ শুরু হলো। একটি কোম্পানীর অধিনায়ক হিসেবে অনুশীলন শুরুর প্রথম সকালে আমি ব্যাটালিয়নের সাথে বের হই। তখন নিয়ম ছিল অনুশীলনের শুরুতে কিছুদিন কোম্পানীগুলো নিজ ব্যাটালিয়নের সাথে থাকবে, তারপর তারা যেসব ব্রিগেডকে সাপোর্ট দেবে, তাদের এলাকায় চলে যাবে।

বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের ‘মোকামতলা’ ওয়াই জাংশনের জিরো পয়েন্ট থেকে যে রাস্তাটা পশ্চিমে জয়পুরহাট চলে গিয়েছে, সে রাস্তা ধরে ঠিক ৩ কিমি মাইলপোস্টের উত্তর পার্শ্বে ছিল আমাদের অনুশীলন এলাকা। তারই পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছিল ‘উথলি’ নামের একটা ছোট্ট নদী। শুধু নামটার কারণেই সে শীর্ণ নদীটাকে ভালবেসেছিলাম। ঐ এলাকাটা হলুদ চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। হলুদ তোলা হয়ে গেছে, এমন কিছু ক্ষেতের একটি কোণায় স্থাপন করা হয়েছিল আমার কোম্পানীর তাঁবু। আমার তাঁবু থেকে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কে চলাচলরত মানুষ ও যানবাহনগুলোকে স্পষ্ট দেখা যেত। প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটগামী বিআরটিসি’র সদ্য আমদানিকৃত একটা চিকন জাপানি মিৎসুবিশি কোচ আমাদের এলাকাটি অতিক্রম করতো। তখন ঐ কোচগুলোই ছিল লেটেস্ট মডেলের এবং রাজধানীতে সেগুলোর কয়েকটাকে রেখে বাকিগুলোকে দূরপাল্লার জেলা শহরগুলোতে চলাচলের জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই কোচটা আগের দিন বিকেলে আমাদের এলাকা অতিক্রম করে জয়পুরহাট যেত, আবার পরেরদিন সকালে জয়পুরহাট থেকে ঢাকা যাবার সময় আমাদের এলাকা পার হতো। একদিন বিকেলে অযথাই সড়কটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম লক্ষ্যহীনভাবে। হঠাৎ করেই নজরে এলো, চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে এক বেখেয়ালি রমণীর রঙিন ওড়নাটা পতপত করে উড়ছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি দৃশ্য, কিন্তু সেটি ছিল বড় মনোরম। উড়ন্ত রঙিন কাপড়টাকে মনে হয়েছিল সুখের একটি প্রতীকী পতাকা, যেটি ছুটে চলেছিল একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। মনের অজান্তেই অদেখা পতাকাবাহকের একটি কল্পিত অবয়ব আঁকা হয়েছিল। আর সেই আসন্ন সন্ধ্যায় গুণগুণ করে গেয়ে উঠেছিলাম, ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে......’!

এর কয়েক সপ্তাহ পরের কথা। এলাকাটি তখন পরিচিত হয়ে গেছে হাতের তালুর মত, এলাকার কিছু মানুষের সাথেও টুকরো আলাপচারিতায় সখ্য গড়ে উঠেছিল, এবং তাদের প্রতি একটু মায়াও জন্মেছিল। তারা মাঝে মাঝে এসে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সুখ দুঃখের কথা জানাতো। এলাকাটির মানুষজন খুব দরিদ্র ছিল। অনতিদূরে ছিল ‘কিচক’ নামের একটি ব্যবসাকেন্দ্র ভিত্তিক এলাকা। সে এলাকার লোকজন ছিল অবশ্য স্বচ্ছল, অবস্থাপন্ন গেরস্ত অথবা চালু ব্যবসায়ী। কাকতালীয় ভাবে একদিন বিশাল উঠান ও বেশ বড় বড় কয়েকটি ঘরসহ একটি অবস্থাপন্ন গেরস্তবাড়ীর সম্মুখ দিয়ে যাবার সময় জানতে পারি, সেটা ছিল আমারই এক সতীর্থের বাড়ী। তখনো বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল একদিন, এবং সেটা ছিল রবিবারে। একদিন শনিবার বিকেল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে একটি জররি কারণে একদিনের ছুটি নিয়ে রংপুর গিয়েছিলাম। রবিবার রাত দশটার মধ্যে ফিরে এসে পরদিন থেকে আবার দায়িত্ব পালন শুরু করার কথা। তখন শীতের রাতে মফস্বল এলাকায় রাত আটটার মধ্যেই সবকিছু শুনশান হয়ে যেত। একদিনের ছুটি কাটিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ন’টার দিকে আমি যখন মোকামতলা বাস স্ট্যান্ডে এসে নামলাম, তখন সেখানে মাত্র দুই একটা রিক্সা ছিল, যারা ‘উথলি’ পর্যন্ত যাবে। আমি একটা রিক্সা ঠিক করে তাতে উঠে বসলাম, ঠিক তখনই একজন বয়স্ক লোক (পঞ্চাশোর্ধ্ব তো হবেই) রিক্সার পাশে এসে কাচুমাচু করতে লাগলো। রিক্সাওয়ালা আমাকে বললো, ‘স্যার এই মুরুব্বী অনেকক্ষণ ধরে ‘শেয়ারে’ উথলি যাবার জন্য রিক্সা খুঁজছেন, কিন্তু তিনি কোন সঙ্গী পান নাই বলে যেতে পারছেন না’। অর্থাৎ পুরো রিক্সাভাড়া মেটানোর সামর্থ্য বা সুযোগ তার ছিল না। আমি তাকে সানন্দে পাশে তুলে নিলাম। টুকটাক আলাপে জানলাম, আমি যেখানে নামবো, তিনি তার সামান্য একটু দূরেই নামবেন। আমি নামবো নদীর এপারে, আর উনি নামবেন ওপারে। নদী পার হয়েই রাস্তার পাশে একটি বাঁশ ঝাড়ের মধ্যে তার বাসা। সেখানে তিনি কোনমতে একটি খুপড়ি বানিয়ে তার স্ত্রীসহ থাকেন। তারা উভয়ে রাতকানা, তাই রাতের আঁধারে তাদের চলতে ফিরতে অসুবিধে হয়। নইলে সামান্য ৩/৪ কিমি পথ হাঁটা তার জন্য কিছু নয়, দিন হলে উনি হেঁটেই বাড়ী ফিরতে পারতেন। তিনি ও তার স্ত্রী দু’জনে মিলে বাঁশ কিনে সেগুলো কেটে কেটে ডালি, টুকরি, চাই (মাছ ধরার ফাঁদ) ইত্যাদি বানিয়ে মোকামতলা হাটে বিক্রয় করেন, এ দিয়েই তাদের দু’জনার সংসার চলে যায়।

কথা বলতে বলতে আমি আমার গন্তব্যে, অর্থাৎ উথলি নদীর পূর্বপ্রান্তে পৌঁছে গেলাম। আমি আগে নামবো, তারপর উনি। নদীর উপর একটি ‘বেইলী ব্রীজ’, তার ওপাশেই আমার এই ক্ষণিকের সাথী নেমে যাবেন। আমি যখন নামি, তখন ব্রীজের ওপার থেকে একটা ট্রাক আসছে। ট্রাকের তীব্র আলো আমাদের চোখে এসে পড়লো। সে আলোতে এই প্রথম আমি সেই বৃ্দ্ধের মুখাবয়ব স্পষ্টভাবে দেখতে পেলাম। মাথায় উস্কো খুস্কো সাদা চুল, সবুজ লুঙ্গি আর সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে। আমি রিক্সাওয়ালার নির্ধারিত ভাড়ার কিছুটা অতিরিক্ত মিটিয়ে দিয়ে তাকে বললাম, ‘খুব সাবধানে তাকে নামিয়ে দিবেন, সম্ভব হলে তার বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছে দিবেন’। কিছুটা অতিরিক্ত ভাড়া পেয়ে রিক্সাওয়ালাও অনুপ্রাণিত হয়ে বললো, ‘স্যার আপনি চিন্তা করবেন না, আমি তাকে ঠিকই বাড়ী পৌঁছে দেব’। তারপর আলো আঁধারে পকেট হাতড়ে দেখলাম, পকেটে যা অবশিষ্ট আছে, তা দিয়ে মুরুব্বী অন্ততঃ এক মাসের কাঁচামাল অর্থাৎ বাঁশ কিনতে পারবেন। সমুদয় অর্থ তার হাতে গুঁজে দিয়ে মুরুব্বিকে বললাম, ‘এর পরে চেষ্টা করবেন, সন্ধ্যা নামার আগেই বাড়ী ফিরে আসতে’। এ অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তিতে তার চোখে মুখে বিস্ময় ফুটে উঠলো, তার সে বিস্ময় দেখে আমার মুখে তৃপ্তির হাসি। একটা স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে আমি অন্ধকারে হাঁটতে হাঁটতে চেনা আ’ল ধরে আমার তাঁবুতে ফিরে এলাম। আলো না জ্বালিয়েই, হাতমুখ ধুয়ে মাটির বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। তাঁবুর একটি ফাঁক দিয়ে খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে পথের ক্লান্তি নিয়ে নিমেষেই ঘুমিয়ে পড়লাম।

“আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে॥
দেহ মনের সুদূর পারে হারিয়ে ফেলি আপনারে,
গানের সুরে আমার মুক্তি উর্ধ্বে ভাসে॥
আমার মুক্তি সর্বজনের মনের মাঝে,
দুঃখ বিপদ তুচ্ছ করা কঠিন কাজে।
বিশ্বধাতার যজ্ঞশালা, আত্মহোমের বহ্নি জ্বালা
জীবন যেন দিই আহুতি মুক্তি আশে”॥


ঢাকা
২০ জানুয়ারী ২০২১
শব্দসংখ্যাঃ ৯৮৩

মন্তব্য ৩৬ টি রেটিং +২২/-০

মন্তব্য (৩৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২৬

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আমি আজকের মত চলে গেছিলাম স্যার। কিন্তু আপনার পোস্ট দেখেই আবার ফিরে এলাম।
অনুশীলন কেন্দ্র থেকে মিটসুবিশি বাসের অদেখা কোন যাত্রীর পতপত করে উড়তে থাকা রঙিন দোপাট্টার কল্পিত দৃশ্যের বর্ণনার সঙ্গে আপন-মনে গুনগুন করে ওঠার বিষয়টি খুবই মনোগ্রাহী হয়েছে।
পরবর্তী অংশের জন্য আবার কমেন্ট আসছি।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: একবার চলে যাবার পরও আমার পোস্ট দেখে ফিরে এসে প্রথম মন্তব্যটি করার জন্য এবং প্রথম প্লাসটি দিয়ে যাবার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
"মিটসুবিশি বাসের অদেখা কোন যাত্রীর পতপত করে উড়তে থাকা রঙিন দোপাট্টার কল্পিত দৃশ্যের বর্ণনার সঙ্গে আপন-মনে গুনগুন করে ওঠার বিষয়টি খুবই মনোগ্রাহী হয়েছে" - আপনার এ প্রশংসা পেয়ে প্রাণিত হ'লাম।
ভাল থাকবেন, শুভকামনা....

২| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: রাতকানা ব্যাক্তিকে সাথে নেওয়া ও ওনাকে কিছু উপহার দেওয়া থেকে আপনার মহানুভবতার পরিচয় পেলাম। আমরা নিজেদের পাশে অবশ্য এরকম ছেড়া কাপড় খালি পায়ের ব্যাক্তিকে পাশে নিতে পারিনা। সহযাত্রী হলেও বাধ্য হয়ে বড় গাড়িতে পাশে বসার অনুমতি দেই ঠিকই কিন্তু একটা অনুকম্পার দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে ভুলিনা। একটা পুরানো ভক্ত কবির কথা মনে পড়ে গেল,
" মনরে কৃষিকাজ জানানো/ এমন মানব জমিন রইলো পতিত/আবাদ করলে ফলতো সোনা।" ঠিক তাই।সোনা নিশ্চয়ই ফলবে দরকার স্যার আপনার মত মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার....
বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা স্যার আপনাকে।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: উনি আমার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বয়সী ছিলেন। আমি তার প্রবীণত্বকে সম্মান করেছি। কারণ লেখাপড়া জানা না থাকলেও এসব মানুষের জীবন সিঞ্চিত অভিজ্ঞতার মূল্য নেহায়েৎ কম নয়। ওনার ছেলেরাও দরিদ্র বলে পৃথক হয়ে তারা নিজেদের পথ খুঁজে নিয়েছে, কিন্তু ওনাদের ভার নিতে পারেনি। ওনারা ভিক্ষা না করে (স্বামী-স্ত্রী) দু'জনে মিলে মিশে কায়িক শ্রমের মাধ্যমে এই বয়সেও তাদের জীবিকা সম্মানজনকভাবে অর্জন করে চলেছেন, এটা দেখে আমি অভিভূত হয়ে ওনাদেরকে যৎসামান্য সাহায্য করেছিলাম।
পুনঃমন্তব্যের জন্য পুনরায় ধন্যবাদ।

৩| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৫১

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি চোখের সমস্যার লোকটিকে সাহায্য করেছেন, খুবই দরকারী ভালো কাজ করেছেন।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৪১

খায়রুল আহসান বলেছেন: মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে যৎসামান্য একটু সাহায্য করেছিলাম মাত্র।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৪| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৩৯

মনিরা সুলতানা বলেছেন: চমৎকার স্মৃতি !!
আমার কি হত জানেন ! যখন পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করতাম। কেউ অসুস্থ্য হলে, বা অসুস্থ্য অবস্থায় জার্নি করলে যে কোন ভাবেই হোক আমার কাছে চলে আসবে। প্রায়শই বয়স্ক মহিলা বা অল্প বয়সী মেয়েরা আমার কাঁধে মাথা রেখে বাকি জার্নি শেষ করত।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৩০

খায়রুল আহসান বলেছেন: "প্রায়শই বয়স্ক মহিলা বা অল্প বয়সী মেয়েরা আমার কাঁধে মাথা রেখে বাকি জার্নি শেষ করত" - বাহ, খুবই আনন্দদায়ক একটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন এখানে! খুব সুন্দর একটা অনুভূতি মনকে আচ্ছন্ন করে এমন কথা শুনলে।
মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

৫| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫১

মেহেদি_হাসান. বলেছেন: ‘হাওয়া মে উড়তা যায়ে......’!
এই অংশটুকু পড়ে "কোথাও কেউ নেই" নাটকের বাকের ভাই,বদি এবং চায়ের দোকানের কথা মনে পরে গেলো।
সত্যি স্যার আপনার দেখার চোখ এবং বর্ননায় মুগ্ধ হলাম।

দ্বিতীয় ঘটনা পড়ে আরো ভালো লেগেছে ঐ বয়স্ক লোককে সাহায্য করে আপনি মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন। আপনার মতো আমিও এরোকম খেটে-খাওয়া অসহায় মানুষদের সাহায্য করে স্বর্গীয় অনুভূতি পেতে চাই।
পোস্টে ভালোলাগা, শুভেচ্ছা জানবেন।

২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৫৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: বাকের ভাই এর নাটক প্রচারিত হবার সময়ের বহু আগের ঘটনা ছিল এটি। কিন্তু প্রসঙ্গটি লেখার সময়েই আমি ভেবেছিলাম, পাঠকদের অনেকেই হয়তো আমার এ লেখা পড়ে বাকের ভাই কে স্মরণ করবেন।
আপনি যখন বিপন্ন কোন মানুষের উপকার করে তার মুখে হাসি ফোটাতে কিংবা তার স্বস্তির কারণ হতে পারবেন, তখন অবশ্যই আপনি স্বর্গীয় অনুভূতি লাভ করবেন।
মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৬| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৪

করুণাধারা বলেছেন: শুরু করেছেন খুব সুন্দর ভাবে, সমাপ্তি ততোধিক চমৎকার!! প্রতারণা আর নিষ্ঠুরতার এই সময়ে মানবিকতার এই গল্প পড়ে মনে ভালো হয়ে গেল। চমৎকার একটি গান দিয়ে লেখা সমাপ্ত করেছেন। কাল রাতেরবেলা গান এর মোর মনে...

প্রথম ঘটনার বর্ণনাও চমৎকার!! তরুণ বয়সে এমন দৃশ্য দেখে যে গানটি আপনার মনে পড়েছিল তা একেবারে লাগসই B-)

একটা কথা, আপনি "মেরা জীবন কোরা কাগজ..." গানটি প্রথম শোনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন এক পোস্টে। সেটা কি বগুড়ায়? কিন্তু সেখানে তাবু ছিলনা...

চমৎকার পোস্ট, ++++

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: শুরু ও সমাপ্তি, দুটোরই প্রশংসা এবং পোস্টে প্লাস পেয়ে অনুপ্রাণিত হ'লাম।
"তরুণ বয়সে এমন দৃশ্য দেখে যে গানটি আপনার মনে পড়েছিল তা একেবারে লাগসই" - এখনো যদি সেই গানটি কখনো শুনে থাকি, তখন মাঝে মাঝে ঐ উড়ন্ত পতাকাটির কথা মনে পড়ে।
"মেরা জীবন কোরা কাগজ..." এর সে কাহিনীটি ছিল আমার মেস জীবনের অন্যতম প্রথম রুমমেটের কাহিনী। সেটা শুনতাম মেসে বসে, ঢাকায়। তাই সেখানে কোন তাঁবু'র উল্লেখ ছিল না। আর এটা ছিল অনুশীলন মাঠে, তাই তখন অস্থায়ী তাঁবুতে থাকতাম।
চমৎকার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা।

৭| ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৮

ঢাকার লোক বলেছেন: বরাবরের মতই সুন্দর স্মৃতিচারণ! উথলি নামটি সত্যি বেশ, যাওয়া আসার পথে জানিনা কখনো খেয়াল করেছেন কিনা ঢাকা আরিচা সড়কে আরিচা থেকে মাইল চার আগে একটা যায়গার নামও উথলি, রাস্তার পাশে সড়ক ও জনপথ দপ্তরের একটা অফিস ও ডাকবাংলা একসময় ছিল, হয়তো এখনো আছে।
পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। ভাল থাকুন!

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: "কখনো খেয়াল করেছেন কিনা ঢাকা আরিচা সড়কে আরিচা থেকে মাইল চার আগে একটা যায়গার নামও উথলি, রাস্তার পাশে সড়ক ও জনপথ দপ্তরের একটা অফিস ও ডাকবাংলা একসময় ছিল, হয়তো এখনো আছে" - জ্বী, সেটাও খেয়াল করতাম, এবং বাস থেকে সুন্দর এই 'উথলি' নামটা দেখে ভাল লাগতো।
পরের পর্বের জন্য আগ্রহ প্রকাশে প্রাণিত বোধ করছি। পোস্টে প্লাসটাও অনুপ্রাণিত করেছে।

৮| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি একজন মানবিক মানুষ।
কিছু কিছু ভালো কাজের প্রতিদান আল্লাহ্নিজ হাতে দিবেন।

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাল কাজের জন্য যেমন রয়েছে উত্তম বিনিময়, প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মন্দ কাজের জন্যও তেমনি শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে।
পোস্ট পাঠ এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৯| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:২০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



ভাল লাগল ক্ষনিকের দেখার বিবরণ । উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত মানুষকে সহায়তা করেছেন ।
এই টুকু সহায়তা যে সেই রাতকানা বৃদ্ধের কাছে কত বড় ছিল তা ভাবতেও ভাল লাগছে।
ক্ষনিকের দেখার অনুভবের যতার্থতার প্রকাশ ঘটেছে রবি ঠাকুরের গীতবিতানের উদ্ধৃতিটিতে।
আমার মুক্তি আলোয় আলোয় এই আকাশে,
আমার মুক্তি ধুলায় ধুলায় ঘাসে ঘাসে ।।


নবান্ন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলীতে বসে মাছের মেলা। শত বছরের এই মাছের মেলাকে ঘিরে
জেলার ১৭টি গ্রামের মানুষের মনে লাগে উৎসবের ছোঁয়া।উথলীতে মেলা প্রাঙ্গণে মাছ নিয়ে হাজির হন
বিক্রেতারা।ক্রেতা বেশি থাকায় বিক্রিও হয় ভালো।এক থেকে শুরু করে ১২ কেজি ওজনের রুই, কাতলা,
চিতল, বিগহেড, কার্পসহ হরেক রকমের মাছ বিক্রি হয় মেলায়। মেলায় বড় বড় চিতল মাছ দেখার মত ।

ছবি সুত্র : বৈশাখী টিভি

মনে পরে আশির দশকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে গিয়েছিলাম।
দিন কয়েক ছিলাম বগুড়াতে । বগুড়ার আশপাশ অনেকটাই ঘুরে দেখেছি সেখানে খাকা কালে।
সময়টা ছিল মাছের মেলা দেখার উপযুক্ত সময়। লোকমুখে শুনে দল বেদে আমরা কয়েকজন
গিয়েছিলাম মাছের মেলা দেখতে । হরেক পদের বড় মাছ দেখার সে স্মৃতি ভুলার নয় ।
মনে হয় সে যেন শুধু ক্ষনিকের নয়, মনের মাঝে রয়ে যাওয়া একটি চিরকালীন ছবি ।

একটি স্মৃতি বিজড়িত স্থানের বিবরণ সম্বলিত পোষ্টটি প্রিয়তে তুলে রাখলাম ।

শুভেচ্ছা রইল

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: নবান্ন উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলীতে বসে মাছের মেলা'র সচিত্র তথ্য সংযোজন করে আমার এ পোস্টটাকে সমৃদ্ধ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পোস্টটাকে "প্রিয়"তে তুলে নিয়ে কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ করলেন!
মন্তব্যে অনুপ্রাণিত। হার্দিক শুভকামনা ----

১০| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০১

বলেছেন: এককথায় বলবো - Respect Sir !!

We have a lot to learn from you....

চালিয়ে যান '্্

২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫১

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা....

১১| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:০১

রামিসা রোজা বলেছেন:

চলার পথের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মৃতিগুলো পড়ে মুগ্ধ হচ্ছি ।
উথলি নদীর নামটি খুবই সুন্দর ।
চলন্ত বাসের জানালা দিয়ে এক বেখেয়ালি রমণীর রঙিন
ওড়নাটা পতপত করে উড়ছে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের
একটি দৃশ্য, কিন্তু সেটি ছিল বড় মনোরম ---
আপনার বর্ণনা যেনো চোখে ভাসছে ।
শীতের সন্ধ্যায় চমৎকার একটি লেখা পড়লাম ।

৩০ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: "চলার পথের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্মৃতিগুলো পড়ে মুগ্ধ হচ্ছি" - স্মৃতি কথাগুলো পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত।
ভাল থাকুন, শুভকামনা.....

১২| ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৫৮

মিরোরডডল বলেছেন:



সেকেন্ড স্টোরিটা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই ভালো লেগেছে ।
এভাবে যদি সবাই সবার পাশে থাকতো, জীবন অনেক বেশী সুন্দর হয়ে উঠতো ।

ভাবছি এটা যদি ট্রু স্টোরি না হয়ে গল্প উপন্যাস বা নাটক হতো , তাহলে গল্পের নায়ক কোনও একদিন সেই মুরুব্বি দুজনের খবর নিতে সেই বাসায় যেতো আর ওখানে সেই উড়ে যাওয়া রঙিন ওড়নার রমণীকে দেখত পেতো । সে বাড়ীরই মেয়ে । অতঃপর তাদের মাঝে প্রেম হয়ে যেতো । হা হা হা......



০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: গল্প উপন্যাস বা নাটক হলে তো কত কিছুই হতে পারতো! আপনার কল্পনাটা শেয়ার করেছেন, এজন্য ধন্যবাদ, যদিও সেটা হবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে মনে করি।
প্লাসে অনুপ্রাণিত।
শুভকামনা---

১৩| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৩৬

সোহানী বলেছেন: আপনার এ দান হ্ণদয় ছুয়ে গেল। হাজার বছর বেঁচে থাকুন আপনি।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্ট পাঠের জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে উৎসাহিত বোধ করছি।

১৪| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ২:৫৪

অজ্ঞ বালক বলেছেন: সুন্দর হইসে স্মৃতি রোমন্থনগুলা।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, অজ্ঞ বালক। আপনার প্রশংসা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

১৫| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৫৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




রাত কানাকে আমাদের এলাকায় বলে কানা উলা। রাত কানাতে মানুষ কতোটা অসহায় তা স্বচোক্ষে না দেখলে জানা মুশকিল।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:২৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: "রাত কানাতে মানুষ কতোটা অসহায় তা স্বচোক্ষে না দেখলে জানা মুশকিল" - জ্বী, আপনি ঠিক বলেছেন। দিনের বেলায় তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারলেও, রাতে তারা অসহায়। অনেকটা রিফ্লেক্স এর উপর তারা রাতে চলা ফেরা করে থাকেন।
মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও প্রাণিত। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!!!

১৬| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৩:৩৩

অন্তরন্তর বলেছেন: আপনার ভদ্রলোককে দান করা মনে দাগ কেটেছে। দুটি অভিজ্ঞতাই খুব সুন্দর। আপনার হওয়া মে উর্তা জায়ে শুনে শিশু বয়সের পুরান ঢাকার কথা মনে পড়ল, প্রত্যেকদিন এটা এখানে সেখানে আর রেস্টুরেন্ট থেকে ভেসে আসত। খুব সুন্দর করে অভিজ্ঞতা লিখেছেন। আল্লাহ্ পৃথিবীর সকলের মঙ্গল করুন।

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেকদিন পর আপনাকে আমার কোন পোস্টে পেয়ে প্রীত হ'লাম।
স্বাধীনতার আগে ঢাকায় থাকাকালে, রাতের বেলায় কিছু বাংলা, কিছু উর্দু গানের সুর মাইকে দূর থেকে ভেসে আসতো, তা এখনো মনে পড়ে। তার মধ্যে কয়েকটিঃ
*ও দাইমা কিসের বাদ্য বাজে গো
*শোনেন শোনেন জাঁহাপনা শোনেন রানী ছয়জনা
*সোনার ময়না পাখি
*সাগর কূলের নাইয়া
*ওকি গাড়িয়াল ভাই

*তু যাঁহা কাঁহি ভি যায়ে
*একেলে না জানা
*যাব কয়ি পেয়ার সে বুলায়ে গা
*মন দোলে তান দোলে
*তেরে দুয়ারে খাড়া এক যোগী


মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৭| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:৫৫

ঢুকিচেপা বলেছেন: প্রথম গল্পে উপস্থাপন করা অনুভূতি আমার কাছে সুন্দর একটা দৃশ্য হিসাবে চিত্রায়িত হয়েছে। তার সাথে যোগ হয়েছে বহুল প্রচলিত গান।

বয়স্ক মানুষটাকে পাশে নিয়ে যাওয়া এবং তাকে সাহায্য করা আপনার সুন্দর মনের বহিঃপ্রকাশ।

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: ছোট ছোট ক'টি বাক্য দিয়ে অনেকটা বড় প্রশংসা করে গেলেন। মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।
মনে হচ্ছে বেশ ক'দিন পরে ব্লগে এলেন। আশাকরি ভাল আছেন?
শুভকামনা....

১৮| ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ভোর ৫:০৪

মলাসইলমুইনা বলেছেন: খায়রুল ভাই,

'উথলি' নদীটাকে আপনার থেকে নাম জেনে আমিও ভালোবেসে ফেললাম । নদীর তীর ঘেঁষেই জন্ম আর নদীর তীরেই ছেলে বেলার একটা সময় কাটানো বলেই যে কোনো নদীর ব্যাপারেই আমার টান। মেঘনা ব্রিজ চালু হবার আগে যখন আরিচা হয়ে রাজশাহী যেতাম তখন নাটোর ক্রস করার আগে পরে কোনো একটা জায়গায় ছোট একটা পুল পার হয়ে যেত বাসগুলো ।সেই পুলের নীচ দিয়ে বাশ ঝড়ের পাশ দিয়ে একে বেঁকে বয়ে যাওয়া শীর্ণ একটা নদী । পুলের ওঠার আগে লেখাছিল নারদ নদ । আমার দেখা দেশের সবই নদী শুধু এই একটাই ছিল নদ ।এতদিন পরেও দেশের বাইরে থেকেও সেই নারদ নদের কথা আমার অনেক মনে পরে ।

আপনার লেখায় বাংলাদেশে একটা জায়গার নাম 'কিচক' শুনে অবাক হলাম ! মহাভারত বা রামায়ণের একটা রাক্ষসের নাম না ছিল 'কিচক' যাকে রাম বা ভীম হত্যা করেছিলেন ? তাই একটা রাক্ষসের নামে কোনো জায়গার নাম হতে পারে সেটা জেনেই অবাক হলাম । সাধারণত, অশুভ কিছুর নামেতো কোনো জায়গার নামকরন করা হয় না দেশে ।

আর আমাদের ছোট বেলায় আমিও কিন্তু বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর একটা শীতকালীন মহড়া দেখেছিলাম ।সেটা দেখেছিলাম জয়দেবপুর । মেশিনটুলস ফ্যাক্টরি আর বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরির মধ্যে একটা জায়গায় সেটা হয়েছিল । আব্বা চাকুরী মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে চাকুরী করতেন তখন। আমাদের বাসা থেকে কাছেই হয়েছিল মহড়াটা। একটা ধানক্ষেতের আইলে একটা মাইন্ মনে হয় সেই মহড়ায় বার্স্ট করা হয়েছিল । মহড়ার শেষে আমরা একদল বন্ধু সেটা দেখতে গিয়েছিলাম সেই গর্তটা । আপনার স্মৃতিচারণ পড়তে পড়তে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়লো । ভালো লাগলো স্মৃতিচারণ । আপনার এই ধরণের লেখাগুলোর আমি কিন্তু একনিষ্ঠ পাঠক সব সময়ই ।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ১১:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: 'উথলি'কে যেমন নাম শুনেই আমি ভালবেসেছিলাম, তেমনি আপনিও তাকে ভালবেসে ফেলেছেন জেনে প্রীত হ'লাম। 'নারদ নদ' কে মমতাভরে এতকাল পরেও স্মরণ রেখেছেন জেনে ভাল লাগলো। নদী নালা খাল বিল ছিল একদা বাংলা মায়ের প্রাণ। আজ সে প্রাণের উপর জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে আছে জলদস্যুদের হিংস্র থাবা।

উপমহাদেশীয় পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে আমার পড়াশুনা অত্যল্প, একেবারে নেই বললেও চলে। তাই 'কিচক' এর সাথে অশুভ রাক্ষস খোক্কস এর নাম জড়িয়ে আছে, তা আমার জানা ছিল না। এখন আপনার মন্তব্য পড়ে জানলাম।

শীতকালীন মহড়া নিয়ে আপনার স্মৃতিচারণটা খুব ভাল লাগলো। এটা পড়ে আমার মনে হলো, বিভিন্ন সময়ে আমাদের মহড়া এলাকাতেও অনেক কৌতুহলী শিশু কিশোর এমনকি বয়স্ক মানুষও জড়ো হয়ে নানারকমের জিজ্ঞাসু প্রশ্ন করতেন। তরুণ অফিসার থাকাকালে আমি তাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে আনন্দ পেতাম। পরে যখন আমি একটি ব্যাটালিয়নের সিও (অধিনায়ক) হয়েছিলাম, আমি আমাদের সাথে নিযুক্ত মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্টকে নির্দেশ দিতাম, প্রয়োজনে তাদেরকেও বিনামূল্যে কিছু টুকটাক চিকিৎসা সেবা দিতে। বিশেষ করে পেট মোটা উলঙ্গ বাচ্চাদের বাবা মাকে ডেকে কৃ্মির ঔষধ দিয়ে বুঝিয়ে দিতাম কিভাবে সে ঔষধ সেবন করাতে হবে। কারও ওরাল স্যালাইন লাগলে সেটাও দিতাম।

"আপনার এই ধরণের লেখাগুলোর আমি কিন্তু একনিষ্ঠ পাঠক সব সময়ই" - অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম, আপনার মন্তব্যের এই শেষ লাইনটা পড়ে। অশেষ ধন্যবাদ।



আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.