| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
খায়রুল আহসান
অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।
গতকালের FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলায় মেসি অত্যন্ত নিষ্প্রভ ছিলেন। দর্শকদের তাকে মাঠে খুঁজতে হয়েছে, তিনি তার চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, মাঠের সর্বকোণে বল নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে সকলের নিকট দৃশ্যমান হন নাই। তবে এ কথাও সত্য যে বিপক্ষ দলের একাধিক খেলোয়াড় তাকে ঘিরে শক্ত ব্যূহ তৈরি করে রেখেছিল। Argentina shines if Messi does. কিন্তু মেসিকে গতকাল একজন ফুটবলে অনাসক্ত, হতাশাগ্রস্ত, ও জয়লাভে উদাসীন খেলোয়াড় বলে মনে হয়েছে। তবে আর্জেনটিনার গোলরক্ষক খুব ভালো খেলেছেন। জান প্রাণ দিয়ে ম্যাচের পুরো সময়টাতে তো বটেই, দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ের অর্ধেক পর্যন্ত তিনি অনেকগুলো চমৎকার গোলরক্ষা করে দলকে গোলশূন্য রেখেছিলেন। এর জন্য কৃ্তিত্ব তাকে দিতেই হয়। একেবারে তীরের কাছে এসে যে গোলটিতে তরী ডুবেছিল, সেটাতে তার করার কিছু ছিল না। সেটাও তিনি প্রথম ধাক্কায় ঠেকিয়েছিলেন, কিন্তু রি-বাউন্ডে স্পেনের ৭ নং (বদলি) খেলোয়াড়টি যে দর্শনীয় শটের মাধ্যমে গোলটি অর্জন করেছিলেন, কেবলমাত্র “Hands of God” ছাড়া সেটা ঠেকানোর আর কোন উপায়ই ছিল না বলা যায়।
এ কথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে গতকাল স্পেনিয়ার্ডরা একচেটিয়াভাবে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। তাদের তুলনায় আর্জেন্টাইনদেরকে মোটেই সমগোত্রীয় মনে হয় নাই। তবুও এই একপেশে খেলায় যে আর্জেন্টাইনরা খেলাটিকে প্রায় শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য রাখতে পেরেছিল, সেটা সম্ভব হয়েছে তাদের গোলরক্ষক এবং রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য। স্পেনিয়ার্ডদের ছোট ছোট পরিচ্ছন পাস দেয়া ও নেয়ার দক্ষতা ও কৌশল অত্যন্ত দর্শনীয় ছিল। এইসব ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে মাঠের দৈর্ঘে-প্রস্থে ইচ্ছেমত অবলীলায় ছুটাছুটি করে সুসমন্বিত আক্রমণ রচনায় তাদের দলের প্রত্যেকটি খেলোয়াড় মুন্সীয়ানার স্বাক্ষর রেখেছে। অভিনন্দন স্পেন দলকে, দু'ঘণ্টার এক ছন্দময় মহাকাব্যিক ফুটবল সারা বিশ্বের ফুটবল পাগল দর্শকদেরকে উপহার দেয়ার জন্য।
Football prodigy, ১৯ বছর বয়স্ক, ১৯ নম্বর জার্সিধারী বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল এর শুধু মাঠব্যাপী ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা ও আক্রমণের কৌশলই যে চোখে পড়েছে, তা নয়। তার খেলা-পরবর্তী বিনয় এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচরণও নজর কেড়েছে। ফুটবল রণে পরাজিত বিপক্ষ দলের অধিনায়ক মেসিকে খেলার পর মাঠে ভগ্নহৃদয়ে হতাশ হয়ে বসে থাকতে দেখে তিনি একাই ধীর পায়ে তার দিকে হেঁটে যান। মেসিও তার চেয়ে বিশ বছরের অনুজ ইয়ামালকে দেখে সম্মানের সাথে উঠে দাঁড়ান। ইয়ামাল তার গুরু মেসিকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার পিঠে ও মাথায় সমবেদনার হাত বুলিয়ে দেন। এটাই খেলোয়াড়সুলভ আচরণ, এটাই মানবিকতা। পক্ষান্তরে আর্জেন্টিনা দলের দুই একজন খেলোয়াড়ের খেলা-পরবর্তী সহিংসতা এবং বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি চড়াও হওয়ার অ-খেলোয়াড়সুলভ আচরণ খুবই দৃষ্টিকটু লেগেছে। এহেন আচরণ ফুটবল খেলোয়াড় এবং খেলাপ্রিয় দর্শকদের নিন্দা কুড়িয়েছে। এর ফলে, বিশ্বকাপ হারানোর সাথে সাথে তারা নিজ দেশে এবং বহির্দেশে তাদের শুভাকাঙ্খী ও সমর্থকদের সমর্থন ও ভালোবাসা হারিয়েছেন।
খেলার শুরুতে খেলাচ্ছলে আমি বন্ধুমহলে একটা ভবিষ্যদ্বাণী রেখেছিলাম। সেটা হচ্ছেঃ Argentina 2:1 Spain। অনেকেই অনেক রকমের prediction করেছিল, তার মধ্যে মাত্র একজনেরটাই সঠিক হয়েছিল। বলাবাহুল্য, আমার prediction ভুল হয়েছিল। খেলাশেষে নিঃসন্দেহে যোগ্যতর দলই জয়লাভ করে বিশ্বকাপ নিয়ে ঘরে ফিরেছে। খেলাটি দেখেছেন, এমন কেউই এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না বলে মনে করি। বিজয়ী দলের প্রতি অভিনন্দন রইলো, বিজিত দলের প্রতি সমবেদনা। উভয় দলের প্রতি ভবিষ্যতে আরও পরিচ্ছন্ন ও উন্নত মানের খেলা এবং খেলার মাঠে সর্বোচ্চ মানের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ প্রদর্শনের আহবান ও শুভকামনা রইলো।
ঢাকা
২১ জুলাই ২০২৬
শব্দ সংখ্যাঃ ৪৯৩
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:২১
খায়রুল আহসান বলেছেন: "আপনার লেখাটি পড়ে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি, দুই দলের কৌশল, মেসির নিষ্প্রভ উপস্থিতি, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের লড়াই, স্পেনের পাসিং ফুটবলের আধিপত্য এবং লামিন ইয়ামালের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ -এসব বিষয় আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারলাম" - অনেক ধন্যবাদ। আমার প্রচেষ্টা সার্থক হলো।
"তাই লেখাটি কেবল একটি ম্যাচ-রিভিউ নয়, বরং ফুটবলের সৌন্দর্য, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং মানবিকতারও একটি সুন্দর প্রতিফলন হয়ে উঠেছে" - আমি কোন দলের অন্ধ সমর্থক নই। তবে মনে মনে আরজেন্টিনাকে সমর্থন করি সেই ১৯৮৬ সাল থেকেই। গতবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা দল এবং বিশেষ করে মেসি'র খেলা ভালো লেগেছিল। এবারেও সেরকম একটা কিছু আশা করেছিলাম, কিন্তু এবারে ওরা সেটার ধারে কাছে যেতে পারেনি। আমি চেষ্টা করেছি, নিরপেক্ষভাবে প্রতিযোগিতাটাকে দেখতে এবং যার যেখানে যেটুকু কৃ্তিত্ব প্রাপ্য, তাকে সেখানে সেটুকু দিতে।
পোস্টে প্রথম মন্তব্যটির জন্য রইলো আপনার প্রতি অশেষ ধন্যবাদ।
২|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ভালো লিখেছেন স্যার। আপনার মতামতের সাথে একমত।
এবারের বিশ্বকাপটা অনেক নাটকীয়তায় ভরপুর, ভিএআরসহ রেফারি ও ফিফার ভূমিকা নিয়ে অজস্র বিতর্কে ঠাসা এ বিশ্বকাপ। শুরুর দিকে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের অভাব ছিল অনেক, যদিও প্রতি গ্রুপের লাস্ট ম্যাচ দুটোতে দারুণ উত্তেজনা ছিল, যা থেকে রাউন্ড অব ৩২-এ ওঠার দল নির্ণয়ে ছিল অভূতপূর্ব উত্তেজনা ও নাটকীয়তা।
ইয়ামালের একটা পুরষ্কার আশা করেছিলাম। গোল্ডেন গ্লাভস এবারও আর্জেন্টিনার মার্টিনেজ কিংবা কেপ ভার্দের গোল কিপার পেতে পারতেন। এমবাপ্পে গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল দুটোই পেতে পারতেন। যাই হোক, এসব শুধু আমাদের মতামত, ফিফার মতামত আমাদের পছন্দ হোক বা না হোক, সেটাই চূড়ান্ত। তবে সেই মতামত যদি সিংহভাগ মানুষের মতের সাথে মিলে যায়, তাহলে বিতর্ক কম হয়।
মিশর, জাপান, ইরান আর কেপ ভার্দের জন্য আমার খারাপ লেগেছে, আমার বলাটা ভুল হলো, সমগ্র বাংলাদেশীদের কাছেই খারাপ লেগেছে বলে আমি মনে করি। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ভক্ত আমি এশিয়ান কাপ ফুটবল থেকেই। এদের খেলাও ভালো, কিন্তু ২০০২ এর সেমিফাইনাল ছাড়া এ দু দলের তেমন ভালো ফলাফল নেই।
বিশ্বকাপ এক উত্তেজনার নাম। উত্তেজনা শেষ। বেশ কিছুদিন এক মনমরা হয়ে সময় কাটাতে হবে।
শুভেচ্ছা রইল স্যার। সুন্দর পোস্ট।
২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্টে প্রথম 'লাইক' আর দ্বিতীয় মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ। পোস্টের বক্তব্যের সাথে আপনি একমত জেনে প্রীত হ'লাম।
এবারের বিশ্বকাপে ভিএআরসহ রেফারি ও ফিফার ভূমিকা নিয়ে অজস্র সমালোচনা হয়েছে, তবে তার অনেকাংশ না হলেও কিয়দংশ অবশ্যই এসেছে সমর্থকদের ভাবাবেগপূর্ণ প্রত্যাশা ও পর্যবেক্ষণ থেকে। খেলার মাঠে রেফারি বা আম্পায়ারের ভুল ভ্রান্তি ও ভুল সিদ্ধান্ত থাকবেই। সেটাকে মেনে নিয়েই প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে হয়। ভুল সিদ্ধান্ত দেয়া রেফারি বা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তেরও পরে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয় এবং প্রয়োজনবোধে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমার মনে হয় আজকের এই হাই-টেক যুগে শত শত কোটি কোটি মনুষ্য ও যান্ত্রিক চোখের সামনে কোন রেফারিই চাইবেন না ইচ্ছে করে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে নিজের পেশাগত যোগ্যতা ও সম্মানকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে। খেলোয়াড়রাও চাইবে না রেফারির পক্ষপাতিত্বের সুযোগে জয় নিয়ে মাঠ ত্যাগ করতে। তার চাইবে তাদের নিজের যোগ্যতাবলেই জয় ছিনিয়ে আনতে।
৩|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২২
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: বিশ্লেষণ ভালো হয়েছে-
আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার কিন্তু তাদের এই পরাজয়ের কারণে তেমন কষ্ট পাইনি, কারণ ওরা এত বাজে খেলেছে যে ট্রফি ওরা ডিজার্ভ করে না। একদম একতরফা খেলা হয়েছে, ১০ মিনিটের জন্যও আর্জেন্টিনা ভালো খেলেনি। এই বিশ্বকাপে আমি ২০২২ এর আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পাইনি, কোন একটি ম্যাচে ও তারা একক আধিপত্য দেখিয়ে জিতে পারেনি, প্রত্যেকটি খেলায় তারা হারতে হারতে জিতে গিয়েছে আর ফাইনালে তো এক মুহুর্তের জন্যও দাঁড়াতেই পারেনি তাই এই পরাজয়ের পিছনে কোন ধরণের অজুহাত খুঁজা ঠিক হবে না।
কষ্ট লাগছে মেসির জন্য, বেচারার বিদায়টা সুখকর হলো না।
(
যোগ্য দল হিসেবে স্পেন চ্যম্পিয়ন হয়েছে- তাদের অভিনন্দন।
২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:৫২
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার সাথে মোটামুটি একমত। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৪|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫
শায়মা বলেছেন: জ্যাকস্মিথ ভাইয়া একদম ঠিক বলেছে। কোনো ম্যাচেই তারা তেমন ভালো ছিলো না। ভাগ্যের জোরে উঠে এসেছিলো!
আর্জেনটিনা ভক্তরা এই কথা শুনে তেড়েও আসতে পারে
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
খায়রুল আহসান বলেছেন: জেনুইন ফুটবল বোদ্ধারা এবং ফুটবল বুঝে যারা আর্জেনটিনাকে সমর্থন করে, সেইসব ভক্তরা এই কথা শুনে তেড়ে আসবে না। তবে তারা "প্রত্যেকটি খেলায় তারা হারতে হারতে জিতে গিয়েছে" - এই কথাটার সাথে দ্বিমত প্রকাশ করতে পারে।
আপনি কি রাত জেগে পুরো খেলাটা দেখেছিলেন?
৫|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫
রাজীব নুর বলেছেন: ফাইনাল খেলা দেখে আমার মন ভীষন খারাপ হয়েছে।
আমার কষ্টটা বেশি। আমি ধরেই নিয়েছিলাম আর্জেটিনা জিতবে।
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার অনুভূতির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। তবে খেলা খেলাই। খেলার ফলাফল আমার পক্ষেও যেতে পারে, আবার বিপক্ষেও যেতে পারে – এটুকু মেনে নিয়েই খেলা দেখতে বসতে হবে। খেলার সৌন্দর্য কৌশল প্রয়োগে। যে দল ভালো খেলে জয়লাভ করে, সে দল জিতে গেলে, সে দলের সমর্থক না হলেও মন খারাপের কিছু নেই। একমাত্র যোগ্যতা ও দক্ষতাই হোক সকল খেলায় জয়লাভের মানদণ্ড।
৬|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৪
এম ডি মুসা বলেছেন: google voice টাইপ করার কারণে অনেক শব্দগুলো ভুল হয়েছে এজন্য দুঃখিত।
২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৫১
খায়রুল আহসান বলেছেন: আবোল তাবোল মন্তব্যটি (৬ নং) মুছে দিয়েছি। google voice এ টাইপ করার কারণে অনেক সময় লেখক কে বিপজ্জনক ও বিব্রতকার পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তাই google voice এ টাইপ করে ফাইনাল ক্লিক করার আগে ভালো করে টেক্সট টা দেখে নেবেন।
৭|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০৫
এম ডি মুসা বলেছেন: ঐদিন তাদের বিপক্ষে যে দলই থাকতো ওই দলের হারতো। স্পেন এ বিশ্বকাপে তাদের সেরাটা দিয়ে তারা ফাইনাল খেলেছে।
২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: এ ধারণাটা অনুমান নির্ভর হলেও, সেদিনের খেলায় এর যথেষ্ট সম্ভাব্যতা ছিল।
৮|
২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:২২
কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত) বলেছেন: ১. স্পেনের ছোট পাসিং গেম এবং মাঠের সমন্বয় ছিল চমৎকার; তারা পুরো ম্যাচ জুড়ে পরিকল্পিত আক্রমণ চালিয়েছে।
২. আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক না থাকলে স্কোরলাইন আরও বড় হত; তার সেভগুলো দলের লড়াকু মনোভাবকে ধরে রেখেছিল।
৩. মেসির গতিশীলতা কম ছিল; হয়তো মানসিক চাপ ও প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিং তার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
৪. লামিন ইয়ামালের আচরণ ফুটবলকে কেবল প্রতিযোগিতা নয়, মানবিক সম্পর্কের খেলা হিসেবেও তুলে ধরেছে।
৫. কিছু খেলোয়াড়ের খেলা-পরবর্তী সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়; খেলার মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি।
৬. দুই ঘণ্টার খেলা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক রোমাঞ্চকর উপহার; বিশেষ করে স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনীয় ছিল।
৭. আর্জেন্টিনা যদি মেসির চারপাশে নতুন সমর্থন ও কৌশল গড়ে তোলে, তারা দ্রুত ফিরে আসতে পারবে।
৮. ফাইনালে হার-জয় দুটোই শিক্ষা; ক্রীড়াবৃত্তি ও শিষ্টাচারই দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি।
২৭ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৫৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: খুব ভালো বলেছেন। চমৎকার উপসংহার টেনেছেন আমার পুরো পোস্টের। ৮টি পয়েন্টের কোনটার সাথেই দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই।
আন্তরিক ধন্যবাদ, পয়েন্ট বাই পয়েন্ট এমন একটি ছিমছাম, গোছানো মন্তব্যের জন্য। +
৯|
২৬ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯
কিরকুট বলেছেন: আসল কথা স্পেন বিশ্বকাপ জয়ী একটা দল ।
তবে রেফারীর আচরণ কিছু ক্ষেত্রে খুবই দৃষ্টিকুট ছিলো । দ্বির্ঘ ১২০ মিনিট জুড়ে স্পেন ২০ টা ফাউল করেছে অথচ কোন হলুদ কার্ড নেই । আমার দেখামতে স্পেনের ফাউল ২০ টা না ২২ টা । একটা মেসি কে ডি বক্সের ভেতর ল্যাং মেরে ফেলে দেয়া , যা অন্য যেকন ম্যাচে ফাউল বলেই গন্য হবে আর দ্বিতীয় টা সিমিওনি কে বল রিসিভের সময় ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে মাটিতে চেপে ধরা, এটা শুধু ফাউল না এটা লাল কার্ড পাওয়ার মতো ফুটবলিয় অপরাধ। স্প্যানিশরা বুঝে গেছিলো তাদের কোন ফাউলই ধার্তব্যের মধ্যে না । এটা খুবই সন্দেহজনক । আর্জেন্টিনার মতো একটা দল ৯০ মিনিট প্রতিপক্ষের গোলবারে একটা শটও নেয় নাই এটা খুবই সন্দেহজনক । মেসি না হয় বুড়া বাকিরা তো বুড়া না ।
তারপরেও বলবো আর্জেন্টিনা ফাইনালে ভালো মোটেও খেলে নাই । কেবলমাত্র গোলরক্ষকের জন্য এই ম্যাচ তারা অন্তত ৪ গোল হজম করে নাই । গোলরক্ষক তার এই বিশ্বকাপের সর্বচ্চ পর্যায়ের পার্ফরমেন্স দেখিয়েছে ।
২৮ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: "আসল কথা স্পেন বিশ্বকাপ জয়ী একটা দল" - সঠিক।
"আমার দেখামতে স্পেনের ফাউল ২০ টা না ২২ টা" - বুঝা যাচ্ছে, আপনি খুবই মনযোগের সাথে খেলাটি দেখেছেন।
"তারপরেও বলবো আর্জেন্টিনা ফাইনালে ভালো মোটেও খেলে নাই" - এটাও ঠিক কথা। একমত।
মন্তব্যে প্রীত হলাম। ধন্যবাদ।
১০|
০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: ব্যক্তিগতভাবে মেসি একজন অত্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়, সেটা নিয়ে খুব সম্ভবত আলোচনার তেমন কোন অবকাশ নেই। বলতে গেলে ফুটবল ইতিহাসে তিনি তার নাম এমনভাবে লিখে দিয়েছেন যে, আগামী অর্ধ-শতকেও তাকে ছাঁড়িয়ে যাওয়া যে কোন ফুটবলারের জন্য কঠিন হবে। আমি এতসব বলছি যদিও আমি কোনদিনই আর্জেন্টিনার ফ্যান ছিলাম না আর হবারও সম্ভাবনা নেই। সমস্যা হয়ে গেছে ফাইনালের দিনে তিনি বা তার দল স্বভাবসুলভ দ্যুতি ছড়াতে পারেন নি। পুরো খেলায় তাদের পারফরম্যান্স ছিলো বেশ হতাশজনক। ফাউল করে লাল কার্ড পাওয়া আর খেলা শেষে অপেশাদারী আচরণ তাদের জাত চিনিয়েছে।
আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার পর বিগত দুই দশকে, দুঃখজনকভাবে আমার লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক ধারনা জন্মেছে। তাদের প্রায় সব দেশেরই কম-বেশী মানুষের সাথে আমার পরিচয় তথা চেনা-জানা হয়েছে। সুতরাং মাঠে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়ের অপেশাদারী আচরণ আর ইউরোপীয় দেশ স্পেনের খেলোয়াড়দের আচরণ আমাকে মোটেও অবাক করে নি।
০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫০
খায়রুল আহসান বলেছেন: "বলতে গেলে ফুটবল ইতিহাসে তিনি তার নাম এমনভাবে লিখে দিয়েছেন যে, আগামী অর্ধ-শতকেও তাকে ছাঁড়িয়ে যাওয়া যে কোন ফুটবলারের জন্য কঠিন হবে" - আমিও তাই মনে করি। মেসি ও ম্যারাডোনার নাম আরজেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে আইকন হিসেবে শতাব্দীকাল জুড়ে বিরাজমান থাকবে, যেমন আছে/থাকবে ব্রাজিলের পেলের নাম।
"ফাইনালের দিনে তিনি বা তার দল স্বভাবসুলভ দ্যুতি ছড়াতে পারেন নি। পুরো খেলায় তাদের পারফরম্যান্স ছিলো বেশ হতাশাজনক" - হুম, বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট হিসেবে খারাপ খেলারও একটা সীমা থাকে। তারা সে সীমারেখাটারও অনেক নিচে নেমে গিয়েছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৮
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনার বিশ্লেষণটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। আমি এবারের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটি সরাসরি দেখিনি; সাধারণভাবে খেলাধুলাও খুব একটা দেখা হয় না। তাই বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাচ-রিপোর্ট পড়ে ম্যাচের চিত্রটি বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আপনার লেখাটি পড়ে ম্যাচের গতি-প্রকৃতি, দুই দলের কৌশল, মেসির নিষ্প্রভ উপস্থিতি, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের লড়াই, স্পেনের পাসিং ফুটবলের আধিপত্য এবং লামিন ইয়ামালের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ -এসব বিষয় আরও স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারলাম।
বিশেষ করে আপনি শুধু ফলাফল নয়, খেলার ট্যাকটিক্যাল দিক, খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা এবং খেলা-পরবর্তী আচরণ -সবকিছুর ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন করেছেন। তাই লেখাটি কেবল একটি ম্যাচ-রিভিউ নয়, বরং ফুটবলের সৌন্দর্য, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব এবং মানবিকতারও একটি সুন্দর প্রতিফলন হয়ে উঠেছে।
এমন নিরপেক্ষ ও বিশ্লেষণধর্মী মূল্যায়নের জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ।