| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
“বিশ্বকাপ-২০১৪”
ফুটবল ইতিহাসের উচিত তার দায় আজকে মিটিয়ে দেয়া ।
গল্পটা আমরা সবাই কম বেশী জানি তারপরও বিশেষ এই মুহুর্তে না বলে সত্যই বসে থাকতে পারছি না। সবাইকে আরো একবার মনে করিয়ে দিবার জন্যই এই প্রচেষ্টা। হরমোন জনিত জটিল রোগের স্বীকার একটি ছেলে সঠিক ভাবে বড় হতেই পাড়ছিল না। ব্যায় বহুল এই রোগের চিকিৎসা খরচ বহন করার সামর্থ্যও তার পরিবারের ছিল না।কিন্তু ছেলেটি নাকি ফুটবল পায়ে রাখতে পারতো দারূনভাবে।অতপর ল্যাটিন আমেরিকার আর দশটা ফুটবল প্রতিভার মতো, স্পেনের বিখ্যাত ক্লাব বার্সিলোনার নজর পড়ে ছেলেটির উপর। তাদের খরচে ছেলেটির চিকিৎসাও হয় এবং ফুটবল ট্রেনিং ও চলতে থাকে সমান্তরালে। অতপর এই ছেলেটির বাঁ পায়ের উপর ভর করে বার্সিলোনা ইতিমধ্যে ৬ টি লা-লিগা ট্রফি, ২ টি কোপা ডেল-রে, ৫ টি সুপার কোপাস ডি এসপানা, ৩টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ২টি সুপার কাপ, ২ টি বিশ্ব ক্লাব কাপ জিতেছে। যা ইতহাসে বিরল এক ঘটনা।।একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতা টিমের সদস্য হওয়া অনেক বড় খেলোয়ার এর ভাগ্যও জোটে না।
এই ছেলেটি একমাত্র খেলোয়ার যে কিনা চ্যাম্পিয়ান্স লিগে পরপর তিনবার রেকর্ড সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিল এবং এক সিজেনে সর্বোচ্চ ৭৩ টি গোল করার বিরল এক রেকর্ডের মালিক সে ॥ লা লিগার মতো লিগে, সে টানা ১৯ টি ম্যাচে গোল করেও অন্যন্য এক রেকর্ড করে রেখেছে। এই রকম আরোও অনেক রেকর্ড এর কথা বলা যায়, তার পক্ষে। সে যদি একবার খালি বলে যে, ক্লাব বদল করবে, আমরা হয়তো কল্পনাও করতে পারবো না কত টাকার অফার সে পেতে পারে ! কই টাকার জন্য সবাই ক্লাব বদল করলেও সে তার ইতিহাস ভুল যায়নি কখোনও।
বার্সিলোনাতে সে সত্যিই একটি দারূন টিমের অংশ ছিল। বিষেশত জাভি ও ইনেয়াস্তা নামের আরোও দুইজন অসাধারন ফুটবল প্রতিভার সাথে, তার বোঝাপড়া এই সাফল্যর অন্যতম মুল কারন। যার কারনে আর্জেন্টিনার হয়ে তাকে একটু অপ্রস্তুত দেখা যায় ।সেই জাদুর মুহুর্তে খুব বেশী দেখা যায় না অথচ তার নেতৃর্ত্বে আর্জেন্টিনা বিশ্ব যুব ফুটবল কাপ জিতে অনেক আগেই। দেশের জার্সিতে সেই চুড়ান্ত সফলতা দেখাতে না পারার কারনে তার দেশপ্রেম নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।অতপর বর্তমান কোচ সাবেলার সময় তাকে দেখা যাচ্ছে সেই দারূন ফুটবল খেলতে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হয়, এই ছেলেটি জন্সেছেই শুধু ফুটবল খেলতে।ফুটবল নাকি তার সবচেয়ে প্রিয় উপহার ও।
ফুটবল ইতিহাসে পেলে ও ম্যারাডোনাকে রাখা হয় সবার উপরের স্থানে, তারা সেই যোগ্যতাও রাখে। তাদের প্রতি সন্মান রেখেই বলছি , এই ছেলের ব্যক্তিগত অর্জন তাদের চেয়ে কম তো নয়ই বরং কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক বেশী।সর্বকালের সবচেয়ে সুন্দর ১০ টি গোলের যদি লিষ্টও করা হয়, এই ছেলের গোল থাকবে তাতে মিনিমাম ৫ টি। অথচ ফুটবল বোদ্ধারা সবসময় বলেন যে, একটি বিশ্বকাপ না জিতলে নাকি তাদের সমকক্ষ হওয়া যাবে না বা ইতিহাসে বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ফুটবলারের সন্মান পাওয়া যাবে না। কথাটি তো আংশিক ভাবে অবশ্যই সত্যে । নিজ দেশে দেবতার আসন না পেলে অন্যরা কেন তা দিতে যাবে ! আর তা করতে তো একটি বিশ্বকাপ জিতা লাগে। একটি বিশ্বক্াপ জিতা ছাড়া এহেন কোন ফুটবলীও রেকর্ড নেই যা সে ইতিমধ্যে করেনি, বাকী সময় তো এখনো পড়ে আছে। আজকের আধুনিক ফুটবলে গোল করার জায়গা পাওয়া যায় না, টেকনিক্যালী খেলাও অনের কঠিন। সে যদি ম্যারাডোনা বা পেলের সময়ে জন্মাত, তাহলে খোদাই জানে গোলকিপার দের ভাগ্য কি ছিল। অনেক খেলোয়ারদের ব্যক্তিগত জীবন এর নানা অনিয়ম এর গল্প শোনা যায় অথচ এই দৃষ্টিতেও সে কলংক মুক্ত। রোনাল্ড, নেইমার,বেল বা হালের জেমস রূদ্রিগেজ সবাই খনজন্মা নেচারাল প্রতিভা কিন্তু এই ছেলেটি তো সুপার ন্যাচারাল। তাকে বলাই হয় সে অন্য গ্রহ থেকে এই পৃথিবীতে এসেছে। লিও মেসি নামের আর্জেন্টিনার বর্তমান অধিনায়কের গল্পই এইটা ।
শচীন টেন্ডুলকার নামের এক ব্যাটসমেনের ও একই অবস্থা ছিল। অতপর ভাগ্য তাকে সব দিয়েছে। বিশ্বকাপ জিতেই সে অবসর নিতে পেরেছে। সমালোচকদেও মুখ বন্ধ করতে ও তাকে তার ন্যায্য ও প্রাপ্য সন্মান বুঝিয়ে দেওয়াটা ইতিহাসের ও দায় বলে আমার মনে হয়। তা না হলে ইতহাসে অনেক ভুল থেকে যাবে। খেলাটি একজন যদি খেলতে পারতো তাহলে মেসি আজকে ৪ টি বিশ্বকাপের মালিক থাকতো। তা যেহেতু নয় তাই সবদিক বিচার করলে মেসির পক্ষে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত নয়।আর এই বার মাত্র আর একটি ম্যাচ জিতলেই যেহেতু তার স্বপ্ন পুরন হয় তাই ফুটবল ইতিহাসের উচিত এই দায় আজকে মিটিয়ে দেয়া। বিশ্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট ফুটবলারের প্রাপ্য সন্মান তাকে দিয়ে দেয়া। এই আশা করার অধিকার সে অনেক আগেই অর্জন করেছে। এই কারনেই মেসিই আমার কাছে আর্জেন্টিনা, মেসিই আমার কাছে ফুটবল। নিজেকে আমি ভাগ্যবান মনে করি তার খেলা আমি দেখতে পাই বলে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ৯:১৩
ইমতিয়াজ ১৩ বলেছেন: শুভ কামনা রইল আজকের দিনের জন্য।