নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কালপুরুষ

"পসার বিকিয়ে চলি জগৎ ফুটপাতে, সন্ধ্যাকালে ফিরে আসি প্রিয়ার মালা হাতে"

কালপুরুষ

জন্মঃ নারিন্দা, ঢাকা। পেশাঃ নগর গবেষক। শখঃ আড্ডা, বিতর্ক, লেখালেখি, ফটোগ্রাফী, রান্না, বই পড়া, গান শোনা ও ছবি আঁকা। এক সময় রাশিফল ও হস্তরেখা বিদ্যা চর্চায় যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। বিশ্বাসঃ মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে আমার ভীষণ ভয়।

কালপুরুষ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফিরে আসা (২য় পর্ব)

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৩

ফিরে আসা (২য় পর্ব)



(একটা উপন্যাস লেখার অপচেষ্টা এভাবেই শুরু করেছিলাম। কিন্তু লেখার আলসেমির কারণে আর এগুতে পারিনি। যতটুকু লিখেছি পাঠকদের সাথে সেটুকুই শেয়ার করছি। একটু কঠোর ও বাস্তবধর্মী মতামত/মন্তব্য আশা করছি।)



ধুমপানের অভ্যাস নেই অঞ্জনের তাই পকেটে দেশলাই কিংবা লাইটার নেই। ঘরে আরো একটু আলো দরকার। কেমন জানি অন্ধকার মনে হচ্ছে ঘরটা। চোখে সবকিছুই ঝাপসা লাগছে। মায়ের ঘরে দীর্ঘদিন পরে তার অনুপ্রবেশ। ঘরটা ভাল করে দেখতে চায় অঞ্জন, তাই আলো দরকার, আরো বেশী আলো। সন্ধ্যার মধ্যেই আলোর ব্যবস্থা করার কথা ভাবলো অঞ্জন। খুব ভাল করে দেখা হলোনা সবকিছু। বাড়ির কোন ঘরেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। কে করবে? বিনা ভাড়ায় যাদের এখানে থাকতে দেয়া হয়েছে তাদের সেই সামর্থ নেই। বাড়ীর আশে পাশে সব বাড়ীতেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে। শুধু এই বাড়ীটাই অন্ধকার। আশ্রিতদের ঘরে হয় হ্যারিকেন নয়তো কুপি জ্বলে। আলো বলতে দিনের আলোই একমাত্র ভরষা। মায়ের মৃত্যুর পর সবই যেন আঁধারে ঢেকে গ্যাছে। মা যতদিন বেঁচে ছিলেন এই বাড়ীতে আলো ছিল।



অল্প বয়সে বাবার মৃত্যু হওয়ায় বাবা সম্পর্কে অঞ্জনের তেমন কোন ধারণা নেই। মাকে তাকে বাবা সম্পর্কে তেমন কিছুই বলতেন না। বাবা কেমন করে যেন টের পেয়েছিলেন তিনি বেশীদিন বাঁচবেন না। তাই একদিন মকবুল চাচাকে ডেকে এই বাড়ীটা মায়ের নামে লিখে দিয়েছিলেন। বাবাকে এই বাড়ীটা দাদা উইল করে গেছিলেন। এই নিয়ে চাচাদের মনে দারুন অসন্তোষ ছিল। অথচ গ্রামের ফসলি জমি ভিটেমাটি সবটাই চাচাদের নামে দিয়ে গেছিলেন দাদা শুধু এই বাড়ীটা ছাড়া। মকবুল চাচা শহরের নামকরা উকিল। বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাই মনে মনে ক্ষুন্ন হলেও চাচারা এই নিয়ে তেমন কিছু করার সাহস পায়নি। দাদার মৃত্যুর পর থেকে দাদী এই বাড়ীতেই বাবার কাছেই থাকতেন। দাদা-দাদীর খুব প্রিয় সন্তান ছিলেন বাবা। অন্য চাচাদের সাথে দাদীর সম্পর্ক তেমন ভাল ছিলনা। দাদী চিরকালই চাচাদের কাছে সৎমা হয়েই ছিলেন।



বাড়ীটা মায়ের নামে থাকায় চাচারা অনেক চেষ্টা করেও মাকে এই বাড়ী থেকে সরাতে পারেনি। মায়ের ধারণা এই বাড়ীর লোভেই চাচাদের কেউ হয়তো বাবাকে কিছু খাইয়ে মেরে ফেলেছে। অঞ্জন মায়ের মুখে এসব কিছুই শোনেনি। তবে দাদীর ধারণা এমনটাই। ছোটবেলায় দাদীর মুখে গল্পের ছলে এমন কথাই শুনেছিল। আজ আর তা স্পষ্ট মনে নেই অঞ্জনের। দাদী একদিন তাকে চুপ করে বলেছিল, “দাদাভাই, তুই এখানে থাকিসনা। তুই এখান থেকে পালিয়ে যা, ওরা হয়তো তোকেও মেরে ফেলবে”। তাই হয়তো অঞ্জন বড় হতে না হতেই মা তাকে একরকম জোড় করেই হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়। সেই থেকে অঞ্জনের হোস্টেল জীবন শুরু। মা’কে ছেড়ে, এই বাড়ী ছেড়ে বোর্ডিং স্কুলেই কেটে গেল অঞ্জনের শৈশব, কৈশোর- স্কুল, কলেজ। পড়ালেখায় সে খুবই ভাল ছিল। একদিন স্কলারশীপ পেয়ে বিদেশে পাড়ি দেয় অঞ্জন। ইচ্ছে না থাকলেও মা-দাদীর চাপ ও ইচ্ছার কারণে দেশ ছেড়ে চলে যায় অজানার উদ্দেশ্যে। এর পর থকে মায়ের সাথে, দাদীর সাথে দেখা খুব একটা হতোনা। মা নিয়মিত চিঠি লিখতেন। দুই/এক বছর পর পর কখনো ছুটি পেলে মাকে এসে দেখে যেত অঞ্জন।



আধো আলো আধো অন্ধকারে অঞ্জন এগিয়ে গেল ঘরের দখিন কোণে। তার স্মৃতিতে দখিন ও পূবের জানালাদুটো স্পষ্ট ভাসছে। দখিন দিকের এই জানালার পাশে বসেই মা তাকে নানা রকমের গল্প শোনাতো। ছোটবেলায় খাটে বসে মায়ের মুখে শোনা সেই গল্পগুলো ছিল তার ভীষণ প্রিয়। এই জানালা দিয়ে উঠোনের নিম গাছটা দেখা যেত। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনবরত কত রকমের পাখীর কিচির মিচির ডাক শোনা যেত। অঞ্জন সেই জানালাটা খুলতে চায়। একটু আলো চায়। সামনে এগোতেই পেয়ে গেলো পুরোনা সেই জানালা। বিশাল জানালার গায়ে কাঠের দুটো পাল্লা। একসময় গাঢ় সবুজ রঙ ছিল পাল্লা দুটোর। বহুদিন না খোলায় জানালা জুড়ে মাকড়সার বাস। অঞ্জন হাত বাড়িয়ে জানালার খিল খুলে দিল। লোহার মোটা শিকগুলোতে মরচে ধরে গ্যাছে। কাঠের বার্ণিশও রীতিমত চটে গ্যাছে। ফেটে ফেটে গ্যাছে পাল্লা দুটোর কিছু কিছু অংশ। জানালা গলে খানিকটা আলো এসে পড়লো ঘরে।



চলবে--

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-৫

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩৭

সৌপ্তিক বলেছেন: পরের গুলোর অপেক্ষায় আছি। ধন্যবাদ

২| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫২

মন মণষা বলেছেন: কালপুরুষ দা, ভাল এগিয়েছে...তবে আমার কাছে কছুটা ডিটেলের আধিক্য মনে হচ্ছে। তবে এখুনি মন্তব্য নয়, পরের কিস্তীর অপেক্ষায় রইলাম।

পুনশ্চঃ আমি একটা লিখতে শুরু করেছিলাম। কিছু এগিয়েছে...নাম ”কেউ কেউ ফিনিক্স” আপনার অবব্জারভেসন আশা করছি।

৩| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৪

হাতেম তাঈ বলেছেন: কেপি দা চলুক

৪| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৩

ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন: আমার আধাআধা জিনিস পড়তে কেমন যেন লাগে...আমি বরং শেষ হলে একবারে পড়বো।

৫| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮

হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: বর্ণনাভঙ্গিতে একটু কথ্য ভাষা চলে আসছে কোথাও কোথাও। আমার মনে হয় আপনার লেখার প্রধান পাঠক আপনার নিজে হওয়া উচিৎ। তাই ব্লগে দেয়ার আগে কমপক্ষে ২বার নিজে পড়লে অনেক সূক্ষ্ অসঙ্গতি ধরা পড়ে। "কেমন জানি অন্ধকার মনে হচ্ছে ঘরটা।"_ জানি শব্দটা বোধহয় যেন হওয়ার দাবী রাখে। আর গতপর্বেও দেখলাম "গ্যাছে" লেখা, আমি নিশ্চিত নই এটি সঠিক, নাকি "গেছে?"........
২য় আর ৪র্থ প‌্যারাকে মনে হল যমজ ভাই-বোন, যেকারণে চেহারায় মিল না থাকলেও কোথাও একটা আন্তঃসংযোগ আছে বোধহয়। যমজ বাচ্চর কনসেপ্টটা মন্দ না, তবে বাচ্চাদেরর মা বুঝে একই বয়সের ২টি বাচ্চা পালন করা কতটা কষ্টকর। পাঠক কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে মা-ই বলা যায়।

১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১১

কালপুরুষ বলেছেন: নিজে নিজের ভুল ধরা কঠিন কাজ। আর লিখে যাবার পর মনযোগ দিয়ে তেমন একটা পড়া হয়না। ভাবলাম খসড়া যখন লিখছি কাঁটা-ছেঁড়া পরেও করা যাবে। আগে একটা কাঠামো তৈরী হোক। তবে এর পরের পর্বগুলোতে সময় নেব। আর কাহিনীর মূল ঘটনা এখনো আসেনি। জানিনা কিভাবে আসবে- ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাও সময় আর ধৈর্যের ব্যাপার। শুধু লেখা নিয়ে থাকলে অসুবিধে হতে না। অনেক কিছু ব্যস্ত থাকতে হয়- বলা বাহুল্য নানা ঝামেলার মধ্যে থেকে সময় বের করে লেখা চালিয়ে যাওয়া কঠিন কাজ। তবুও চেষ্টা করছি। দু'চার কলমের ছড়া হলে কোন ব্যাপার ছিলনা। সাধু/চলিতের ব্যাপারটা অনিচ্ছাকৃত হয়ে যেতে পারে। সচেতন হবার চেষ্টা করবে। ধন্যবাদ, সুন্দর ও কার্যকর মতামতের জন্য। আমার খুব কাজে আসবে।

৬| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৪:৫১

হিমালয়৭৭৭ বলেছেন: দুঃখিত ২য় আর ৩য়।।।

৭| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪১

ফারুক আহেমদ রনি বলেছেন: কালপুরুষ.. মিছ করেছিলাম প্রথম পর্ব তাই দুই পর্বই আজ পড়লাম।
মন্তব্য এখনও দেবোনা.. তবে ভাললাগার উপাধেয় যথেষ্ট। ধন্যবাদ

৮| ১৮ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:০৪

অদৃশ্য বলেছেন: কালপুরুষ দা, "বিশাল জানালার গায়ে কাঠের দুটো পাল্লা।"- বর্ননাটা আমার কাছে দুর্বল মনে হলো। সাধারণত দু'পাল্লার বিশাল জানালা হয়না।
আর ঘরের ভেতরের বর্ননাটা আমার কাছে বেশীবেশী লাগছে। আপনি ওই ইতিহাসগুলো ধীরাধীরা উপস্থাপন করতে পারতেন। তাতে আমার লোকের বোরিং হবার সম্ভাবনা কম থাকতো।

আমার মতো করে মন্তব্য করলাম...........................চালিয়ে যাবার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ আপনাকে।

১৯ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৯

কালপুরুষ বলেছেন: বিশাল বলতে দরজার চেয়ে বড় নয় আশা করি। পুরোনো দিনের বাড়ীতে দরজার মতোই দুটো করে পাল্লা (লম্বাটে) দেখেছি। নাটোরের জমিদার বাড়ী, রাজশাহীর "বড়কুঠি" কিংবা বরেন্দ্র যাদুঘরের বাড়ীতে তেমন জানালা এখনো আছে। আমার শশুরের পুরোনো বাড়ীর জানালাগুলো তেমনি। যাই হোক, সূক্ষ্ণ পর্যবেক্ষনের জন্য ধন্যবাদ।

৯| ২০ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৪২

সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: আধো আলো আধো অন্ধকারে অঞ্জন এগিয়ে গেল ঘরের দখিন কোণে। তার স্মৃতিতে দখিন ও পূবের জানালাদুটো স্পষ্ট ভাসছে।

এই রকম কত কিছু যে স্মৃতির ঘরে বাস করে।
ভালো লাগছে......।
পড়ছি।
ভালো থাকবেন।
শুভেচ্ছা।

১০| ২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:২০

শায়লা হক বলেছেন: এটাও পড়লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.