নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

ছোটদের জন্য গল্প: নানা দেশে, নানান সময়ে।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:০৬


 একটা শিশু তার জীবনের প্রথম পাঁচ বছর যা শেখে, তা তার পরবর্তী জীবনের ভিত তৈরি করে দেয়। এই সময়ে ছবি আর শব্দ দিয়ে শিশুদের জন্য চমৎকার একটা জগৎ তৈরি করা যায়, যে জগতে চাঁদ হাসতে জানে, দুমদাম শব্দে ফুল ফোটে, মুরগি-শিয়াল-বাঘ-সিংহ-কুমির সবাই অফুরান কথা বলতে থাকে........


 একেবারে ছোট শিশুদের কিছু শেখাবার জন্য, কিম্বা  একটা সুন্দর জগত তৈরি করে দেয়ার জন‍্য বাংলায় প্রচুর ছন্দময়  ছড়া রয়েছে। 'আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা' বা 'চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে, কদমতলায় কে?' এই ছড়া শুনতে শুনতে শিশুর চাঁদ চেনে; 'খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে', কিংবা 'ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি মোদের দেশে এসো/ খাট নাই পালং নাই পিঁড়ি পেতে বস' শুনতে শুনতে শিশুর দু'চোখে ঘুম নামে। আবার 'খোকা যাবে মাছ ধরতে সঙ্গে যাবে কে? ঘরে আছে হুলো বিড়াল কোমর বেঁধেছে' কিংবা 'আয়রে আয় টিয়ে, নায়ে ভরা দিয়ে....' এইসব ছড়া ছবিওয়ালা বইয়ের পাতা উল্টে শুনতে শুনতে শিশুরা হুলো বিড়াল, বোয়াল মাছ, ভোঁদড়ের কান্ডকীর্তি দেখে মোহিত হয়। বৃষ্টির টুপটাপ  শুনতে শুনতেও কত ছড়া শোনা যায়! 'আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ধান দেবো মেপে' কিংবা 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান'........ 

 কবিগুরুর কবিতায় দেখি:

 "বাদল ধারায় মনে পড়ে ছেলে বেলার গান/ বৃষ্টি পরে টাপুর টুপুর নদে এলো বান" (বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, সঞ্চয়িতা)

কবিগুরুর ছেলেবেলা মানে অন্তত দেড়শ বছর আগের কথা। তাহলে বাঙলার এই ছড়া- কবিতার সৃষ্টি  কয়েক প্রজন্ম ধরে শিশুদের মনোরঞ্জন করে আসছে!
 
সে তুলনায় এই বয়সীদের জন্য গল্প আছে খুবই কম; এর একটা কারণ মনে হয়, ছন্দময় ছড়া শিশুরা মনে রাখতে পারে সহজে; ছড়া- কবিতায় অল্প কথা দিয়ে শিশুদের বোধগম্য একটা ছবি এঁকে দেয়া যায়, কিন্তু এ কাজটা গল্প দিয়ে করা কঠিন; হয়ত তাই, এদের জন্য গল্প তেমন লেখা হয়নি।  অনেক খুঁজে পেতে এই বয়সী শিশুদের জন্য লেখা বাংলায় একটাই গল্পের বই পেয়েছি- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা টুনটুনির বই। এটা তিনি লিখেছিলেন ১০০ বছরেরও আগে! আসলে এত ছোট শিশুদের জন্য যে বই লেখা যায়, লেখা দরকার, এই  বোধটাই হয়তো আমাদের নেই। বাংলাপিডিয়ায় শিশুসাহিত্যর  সংজ্ঞা কেন দেয়া আছে এভাবে:

"শিশুসাহিত্য  শিশুদের উপযোগী সাহিত্য। সাধারণত ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় রেখে এ সাহিত্য রচনা করা হয়। এই বয়সসীমার ছেলেমেয়েদের শিক্ষামূলক অথচ মনোরঞ্জক গল্প,  ছড়া, কবিতা,  উপন্যাস ইত্যাদিকেই সাধারণভাবে শিশুসাহিত্য বলে।"

তাহলে ছয় বছরের কম বয়সীরা কি শিশু না! তাদের উপযোগী সাহিত্যর দরকার নেই!!

রাশিয়ান ভাষায় কিন্তু এই ১ থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য প্রচুর গল্প আছে, যা একইসাথে মনোরঞ্জক এবং শিক্ষামূলকও। আশির দশকের রাশিয়া টুকরো হয়ে যাবার আগে পর্যন্ত মস্কোর প্রগতি প্রকাশন থেকে  রাশিয়ান সাহিত্য বিভিন্ন ভাষায় প্রচুর অনূদিত হত, বাংলাতেও অতি চমৎকার ভাবে অনূদিত রাশিয়ান সাহিত্য অনেক, অনেক আছে। মূল রাশান সাহিত্য পড়তে পারিনি, কিন্তু যতটুকু এই অনূদিত সাহিত্য পড়েছি, তাতে আমার বিশ্বাস জন্মেছে যে, রাশিয়ান সাহিত্যের মত মনের মাঝখানে গিয়ে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়া, আবার একইসাথে শিক্ষামূলক, এমন সাহিত্য সারা পৃথিবীতে আর কোথাও ছিল না, নেইও। ছোটদের বইগুলো যা বাংলায় অনূদিত হত সেগুলো ছিল বিশাল, চোদ্দো/ দশ ইঞ্চি আকারের, একটু মোটা এক ধরনের কাগজে ছাপা, আর প্রতি পাতায় সুন্দর ছবি আর একটা করে বাক্য মোটামুটি দশ বারোটা বাক্যে ছোটদের একটা গল্প। ছবিসহ গল্পগুলো এমন যে, একবার শুনলে এরপর ছবি দেখে দেখে নিজেই গল্পটা বুঝে নেয়া যায়! গল্পগুলো একেবারে দু তিন বছরের বাচ্চার উপযোগী। একটা গল্প এরকম- গল্পের নাম 'কার জোর বেশি'। এই বইয়ের প্রথম ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাবার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে দু তিন বছরের ছেলে জিজ্ঞেস করছে, "আচ্ছা বাবা, কার জোর সবচেয়ে বেশি?" বাবা বলছে, "চল্, নিজেই দেখে নে।" বাবা ছেলেকে নিয়ে গেল চিড়িয়াখানায়; সব প্রাণী দেখার পর ছেলে বলল, "হাতি আর তিমি সবচেয়ে বড়, তাই এদের জোর সবচেয়ে বেশি।" এবার বাবা নিয়ে গেল, যেখানে কনটেইনারে মাল ভরে ক্রেনে তোলা হচ্ছে সেখানে। বাবা বলল, "এই কন্টেইনারে হাতি, তিমি দুটোই এঁটে  যাবে।" ছেলে বলল, "তাহলে ক্রেনের জোর বেশি,  কারণ ক্রেন কনটেইনারগুলো তুলছে!" এবার বাবা বলল, "দেখ, একটা মালগাড়িতে একসাথে কতগুলো কন্টেইনার  যাচ্ছে", ছেলে বলল, "তাহলে মালগাড়ির জোর বেশি।" এরপর তারা এলো জাহাজ ঘাটে, দেখা গেল একেকটা জাহাজে কয়েকটা করে মালগাড়ির জিনিস ভরা হচ্ছে। ছেলে দেখে বলল, "তাহলে জাহাজের জোর সবচেয়ে বেশি", বাবা বলল, "কিন্তু মানুষ যদি না চালাতো, তাহলে এই জাহাজ, মালগাড়ি, ক্রেন কিছুই চলতো না; তাহলে কার জোর বেশি হল?"এবার ছেলে বলল, "মানুষের"; পিঠ চাপড়ে বাবা বলল, "একেবারে ঠিক।"

এই বই দেখে গল্প শুনতে শুনতে যে শিশু কখনো চিড়িয়াখানা দেখেনি, সেও চিড়িয়াখানার অনেক জীবজন্তু দেখে ফেলে, দেখে জাহাজঘাটা, ট্রেন স্টেশন, মালগাড়ি..... আর জেনে যায় সবচেয়ে বেশি জোর কার, মানুষের!



মাশার গল্পও ছোটদের বোঝার মত; রাশিয়ান ভাষায় মাশা মানে ছোট খুকি। মাশার একটা গল্প এরকম:

একদিন মাশা দেখতে পেল এক থুত্থুরে- দুর্বল বুড়ি রাস্তা পার হতে পারছে না, মাশা তাকে হাতে ধরে রাস্তা পার করে দিল। বুড়ি খুব খুশি হয়ে মাশাকে একটা ফুল দিল, তাতে রংধনুর সাত রং এর পাপড়ি। বুড়ি বলল, "যখনই তুমি কিছু চাইবে, তখনই একটা করে পাপড়ি ছিঁড়ে বলবে,
 
যা উত্তর যা দক্ষিণ
সাঙ্গ করে প্রদক্ষিণ
যেই না এসে পড়বে ভূঁইয়ে
 ইচ্ছে উঠুক সফল হয়ে।

  সাথে সাথে সেটা পেয়ে যাবে।" পরীক্ষা করে দেখার জন্য মাশা লাল পাপড়িটা ছিড়ে বলল, "যা উত্তর, যা দক্ষিণ,.... আমি বাড়ি যাব", অমনি দেখে সে তার বাসায় দাঁড়িয়ে আছে। কি করা যায় ভাবতে ভাবতেই দেখল, আলমারির মাথায় মায়ের কাঁচের ফুলদানি রাখা। ভাবল, এটা নিয়ে খেলা যাক! ফুলদানিটা নামাতে যেতেই হাত থেকে পড়ে চুরমার! রান্নাঘর থেকে মা চেঁচিয়ে বললেন, "কি ভাঙল মাশা?" মাশা ঝটপট কমলা পাপড়িটা ছিঁড়ে বলল, "যা উত্তর..... মায়ের ফুলদানিটা ঠিক হয়ে যাক!" দেখে ফুলদানি আবার আলমারির মাথার উপরে। এখন কি করা যায়! জানলা দিয়ে গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি দেখতে দেখতে মাশা ভাবলো, উত্তর মেরু গেলে কেমন হয়! সঙ্গে সঙ্গে নীল পাপড়ি ছিঁড়ে বলল, "......আমি উত্তর মেরু যাব"

দেখে শোঁ শোঁ বাতাসের সাথে বরফে কুচি এসে ওকে জমিয়ে দিচ্ছে,  চারপাশ অন্ধকার, কোথাও কেউ নেই! বুঝল এটাই উত্তর মেরু! ঠান্ডায় আর ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে হঠাৎ হাতে ধরা ফুলে চোখ পড়ল; তাড়াতাড়ি বেগুনি পাপড়ি ছিঁড়ে বলল,
".......আমি বাড়ি যাব"
দেখে আবার সে বাড়িতে। ভাবল, কি করি . এখন...... আচ্ছা, খেলনা আনানো যাক! হলুদ পাপড়ি ছিঁড়ে বলল, "....আমার খেলনা চাই", সঙ্গে সঙ্গে খেলনা আসা শুরু হল, বাতাসে ভেসে ভেসে খেলনা আসছে..... পুতুল, হাতি, বাঁশি, বল.... যত রকম খেলনা আছে, দোকানের খেলনা, বাসার খেলনা, সবরকম খেলনা......  বাসা ভরে, উঠোন ভরে যেতে লাগল। মাশা বলতে লাগলো, "থাক! থাক! আর লাগবেনা!" কিন্তু খেলনা আসছেই..... এবার মাশা সবুজ পাপড়ি ছিঁড়ে বলল, "......সব খেলনা চলে যাক" সাথে সাথে বাড়ি খালি, একটাও খেলনা নেই, এমনকি তার নিজের যেসব খেলনা ছিল সেগুলোও চলে গেছে!

মাশা দেখল আর মাত্র একটা পাপড়ি আছে- আকাশী পাপড়ি। মাশা ভাবলো, 'এখন কি চাইব! একটা সাইকেল, নাকি বড় পুতুল, নাকি একটা ট্রেন সেট!' ভাবতে ভাবতেই মাশা বাইরে এলো, এসে দেখে সব বাচ্চারা খেলছে, শুধু একটা ছেলে চুপচাপ মন খারাপ করে একা বসে আছে। মাশা বলল "তুমি খেলছো না কেন?" ছেলেটা বলল, "কি করে খেলবো! আমার তো পা ভাঙ্গা" মাশা বললো, "এক্ষুনি তোমার পা ভালো করে দিচ্ছি", বলে শেষ পাপড়িটা ছিঁড়ে বলল, "ছেলেটার পা ভালো হয়ে যাক", অমনি ছেলেটা উঠে দৌড় লাগালো, তাকে ধরতে পিছনে দৌড়াতে লাগলো মাশা।

গল্পটা মজার; আবার শিক্ষণীয়। এরকম গল্প আরো অনেক আছে, যেমন অকর্মার চিঠি, কুটকুটে বিছানা, লাল ঝুঁটি মোরগটি....... এমনকি বোকা আইভানের  গল্প, যেটা একটু বড় বাচ্চাদের, সেটা পর্যন্ত এই ছোট বাচ্চারা দেখেশুনে খুব মজা পেত। আমি যখন আমার ছেলে মেয়েদের জন্য এই বইগুলো খুঁজলাম, তখন আর বাজারে রাশিয়ান বই পাওয়া যায় না, পেলাম অনূদিত চাইনিজ বই। এগুলোও একেবারে ছোট শিশুদের জন্য, এগুলোতেও ছবিসহ গল্প আছে, কিন্তু ছবি-গল্প কোন কিছুই রাশিয়ান বই এর ধারে কাছে যায় না। চৈনিক গল্পে আছে পান্ডা, খরগোশ, হাতি, শেয়াল এইসবের নানা ঘটনা; আর আছে চার পাঁচ বছর বয়সী ইউয়ান ইউয়ানকে নিয়ে নানা ঘটনা;  কিভাবে সে খায়, ঘুমায়, কিন্ডারগার্টেনে যায় এসব, এগুলোই গল্প!! অদ্ভুত লাগলো দেখে যে, এই গল্পগুলোতে কোন কাল্পনিক চরিত্র নেই,(যেমন মাশার গল্পে বুড়িরূপী পরী) শিশুদের গল্পে যার উপস্থিতি প্রায়শই থাকে। চীনা শিশুদের মনে হয় হাঁটি হাঁটি পা পা বয়স থেকেই বাস্তব জীবনের গল্প শেখানো হয়- এতে ভালো না মন্দ হয় জানিনা! 

জাপানি ছোট শিশুদের জন্যও ছবিসহ গল্প আছে; আমার একটা মাত্র জাপানি গল্প  মনে আছে। দুই বোন থাকে শ্বশুর বাড়িতে; বহুদিন মাকে দেখেনি, তাই শাশুড়ির কাছে অনুমতি চাইলো মায়ের বাড়ি যাবার। শাশুড়ি তাদের যাওয়া বন্ধ করার জন্য বললেন, এক শর্তে অনুমতি দেবেন যাবার, যদি ফেরার সময় তাদের একজন কাগজে করে বাতাস, আরেকজন কাগজে করে আগুন নিয়ে আসতে পারে। ৩ কিছু না ভেবেই রাজি হয়ে গেল দুই বোন। তারপর এক মাস মায়ের কাছে থেকে, যখন বাড়ি ফিরছে, তখন অর্ধেক পথ পার হয়ে, একটা জঙ্গলের মধ্যে এসে হঠাৎ শাশুড়ির শর্তের কথা মনে পড়ল; মনে পড়তেই তারা বুঝলো কি অসম্ভব কাজ করতে তারা রাজি হয়েছে। দুজন তখন খুব কাঁদতে লাগল। হঠাৎ দেখে সামনে এক পরী! পরী সব শুনে বলল, "কান্না থামাও, তোমরা যা চাও এক্ষুনি তা দিচ্ছি" বলে পরী একটা কাগজ নিয়ে অনেক ভাঁজ করতে লাগলো, ভাঁজ করা কাগজ এর একদিক ধরে নাড়া দিতেই বাতাস বের হলো পরী বলল এই নাও, কাগজে করে বাতাস- এর নাম পাখা। এবার পরী একটা কাগজের উপর একটা মোমবাতি বসিয়ে মোমবাতির চারপাশ কাগজ দিয়ে ঢেকে দিল। অন্য বোনকে সেটা দিয়ে বলল, "এই নাও কাগজের মধ্যে আগুন, এর নাম লন্ঠন।" দুই বোন তো মহা খুশি!

 জাপানি পাখা আর লন্ঠন কিভাবে এল তার গল্প এটা! এই গল্প পুরোটা ছবি দিয়ে বলা, যার জন্য ছোট বাচ্চারাও এটা বুঝতে পারে।

ইংরেজিতে ছোট বাচ্চাদের জন্য এমন প্রচুর গল্প আছে, এগুলোকে বলে টডলার স্টোরিজ। আসলে ইউরোপে এক দেশে যে গল্পের উৎপত্তি তা অন্য দেশে গিয়ে সেই দেশীয় রূপ ধারণ করে, সেই দেশেরই গল্প হয়ে যায়। তাই ডেনমার্কের হ্যান্স এন্ডারসনের গল্প আর জার্মানির গ্রীম ভাইদের গল্প ইউরোপের নানা দেশে নানাভাবে চালু আছে, ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে ছড়িয়ে গেছে সারা পৃথিবীর নানা দেশে। গ্রীম ভাইদের একটা গল্প আছে জেলে ও মাছের গল্প; এই গল্পটা আবার রাশিয়ানদেরও আছে; রাশিয়ানরা যদি গ্রীম ভাইদের থেকে এই গল্পটা নিয়েও থাকে, তবে তার পরিবেশন একেবারে তাদের দেশী স্টাইলে, এটার বাংলা অনুবাদও খুব সাবলীল, শুনলে মনে হয় আমার দেশী কোন ভাই কথা বলছেন! এই যেমন মাছকে ডেকে বলা জেলের কথা,

".........মোর স্ত্রী এমেলা, এ জীবনের ঝামেলা :(
      পাঠিয়েছে হেথা মোরে, বর মাগিবার তরে"

এই বইয়ের ছবিগুলো খুব সুন্দর; শান্ত সমুদ্র, উত্তাল সমুদ্র, প্রাসাদ এবং সবশেষে ভাঙ্গা কুঁড়েঘরের সামনে সস্ত্রীক জেলে। যদিও গল্পটা একটু বড় কিন্তু এটাও ছবি দেখে দেখে বোঝার মতো গল্প! এই গল্পের শিক্ষা, 'বেশি লোভ করলে সব চলে যায়' !! এরকম শিক্ষামূলক গল্প আরো আছে, যেগুলো তিন বছরের থেকে শুরু করে আরো বড় বাচ্চাদের বোঝার মত, খুব ছোটদের বলার সময় কিছু কাটছাঁট করতে হয় তাদের জ্ঞাত শব্দ ভান্ডার বিবেচনা করে। পিনোকিওর গল্প এমন একটা গল্প; একেকটা মিথ্যা বলার সাথে সাথে পিনোকিওর নাক বড় হতে থাকে; এই বইয়ে অনেক ছবি থাকায় ছোট শিশুরা গল্পটা বুঝতে পারে, মিথ্যা কথা বললে যে বিপদ হয় সেটাও বুঝতে পারে!


 ঈশপের গল্পগুলোও শিক্ষামূলক, কিন্তু ছবি না দেখিয়ে এই গল্পগুলো শিশুদের বলে বোঝানো মুশকিল। আমার ছোটবেলায় শোনা ঈশপের প্রতিটা গল্প আজো মনে আছে........ একটা গল্পে ছিল, একটা ছোট ছেলে দেখল যে রাস্তার পাশে পড়ে আছে একটা কাঁচের বৈয়াম, ভেতরে অনেকগুলো মার্বেল। ছেলেটা বৈয়ামের ভেতর হাত ঢুকিয়ে মুঠো ভরে মার্বেল নিয়ে হাত বের করতে গিয়ে দেখল, বৈয়ামের মুখে হাত আটকে যাচ্ছে। অনেকবার চেষ্টা করার পরও যখন পারল না, তখন সে মুঠোয় অল্প কয়টা মার্বেল নিল, এবার সহজেই হাত বের করতে পারল। Grasp all, lose all- তখনই শিখেছিলাম!

 ছোটদের শব্দ ভান্ডার সীমিত বলে গল্প তাদের গল্প বলা কিছুটা ঝামেলার; আবার অনেকসময় গল্প তারা নিজের মতো করে বানিয়ে নেয়! আমি এটা বুঝেছিলাম আমার ১৪-১৫ বছর বয়সে, ২+ বছর বয়সী মামাতো বোনকে গল্প বলতে গিয়ে। তাকে গল্প বলা শুরু করেছিলাম, 'একদিন এক বাঘের গলায় কাঁটা ফুটল', সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন, "কেন, গাবের মা ওকে পানি খাওয়ায় নাই?" সেই উদগ্রীব মুখের দিকে চেয়ে মনে হলো, বাঘ কাকে বলে ওতো তাই জানে না; তাহলে বাঘ, সারস, শিয়াল এসব চেনাবো কিভাবে! তার চেয়ে ও যেভাবে শুনতে চায় সেভাবেই গল্পটা বলি! বললাম, "হ্যাঁ, মা তো প্রথমে একটু পানি খাওয়ালো, কাঁটা গেল না; আবার খাওয়ালো, গেল না, তারপর আবার খাওয়ালো......"  এভাবে অনেকবার পানি খাওয়ার গল্প বলার পর একসময় বাঘের গলায় কাঁটা বেঁধার গল্প শেষ হল ! ঈশপ সাহেব তার গল্পের এই রূপান্তর দেখলে কি বলতেন জানি না, কিন্তু এভাবে ছোট শিশুদের জন‍্য গল্প বানানো যায়, যেকোনো একটা কিছু নিয়ে গল্প শুরু করে দিলেই হয়, তারপর তার কল্পনা অনুযায়ী গল্প আগাতে থাকে। অবশ্য এভাবে গল্প বানাবার একটা সমস্যাও আছে; প্রথমবার যা বলে আর শোনে, শিশুর মাথায় গল্পের সেই শব্দগুলো থেকে যায়, তাই পরের বার বলতে গেলে হুবহু সেটাই বলতে না পারলেই বিপত্তি!! একবার ইলিশ মাছ দিয়ে ভাত খাওয়াতে খাওয়াতে যৌথ উদ্ভাবন হল ইলিশ মাছের ক্যান্ডি ফ্লস কিনতে যাবার গল্পের। পরের বার আবার ইলিশ মাছ খাওয়াবার সময় সেই গল্প বলতে হবে, বললামও, কিন্তু প্রথমবার বলার সময় ইলিশ মাছের বাচ্চাদের যে নাম ছিল সেগুলো ভুলে গেছিলাম, সুতরাং খুবই অশান্তি হল! এর পর থেকে গল্প যেটাই বানানো হোক, আমি খুঁটিনাটি লিখে রাখতাম.......

সব বিদেশী গল্পর কথা বললাম, আমাদের গল্পের কথা বলি। এই খুব ছোট শিশুদের জন্য বাংলায় প্রচুর ছড়া-কবিতা থাকলেও গল্প তেমন নেই, আগেই বলেছি। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ক্ষীরের পুতুল, বুড়ো আংলা এগুলো ছোটদের জন্য লেখা ঠিকই, কিন্তু আজকালকার শিশুরা ওই গল্পগুলোতে তেমন আগ্রহী হয় না। বাংলা শিশু সাহিত্যের ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন রায় পরিবারের যে তিন প্রজন্ম- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়; চমৎকার লেখার সাথে সাথে এরা সকলেই ছবিও আঁকতে জানতেন, তাই এদের পক্ষেই সম্ভব ছিল ছোটদের জন্য ছবিসহ গল্প লেখা। কিন্তু তারা কেউই তা লেখেননি; প্রথম দুজনের জীবদ্দশায় এদেশে ছাপাখানা তেমন উন্নত ছিল না জানি, কিন্তু সত্যজিৎ রায় কেন লেখেন নি কে জানে!!

আমাদের অনেক রূপকথা আছে; ঠাকুরমার ঝুলি তো রূপকথার এক বিশাল ভান্ডার। এই রূপকথাগুলো আমাদের লোকসাহিত্যের অংশ; বহুকাল আগে থেকেই  শিশুরা এগুলোর সাথে পরিচিত। কিন্তু আমার মনে হয়, এই রূপকথাগুলোর বিষয়বস্তু খুব ছোট শিশু কেন, কোন শিশুর জন‍্যই উপযোগী নয়।
অরুন-বরুন-কিরণমালার অভিযান, বা রাজপুত্র- মন্ত্রীপুত্র তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে অভিযানে যায়, কখনো অচিনদেশের রাজকন্যাকে নিয়ে ফেরে- এই গল্পগুলো হয়তো বাচ্চাদের কল্পনা শক্তিকে উদ্দীপিত করে কিন্তু অনেক গল্পেরই বিষয়বস্তু এমন যে, শিশু তা থেকে নতুন কিছু শিখতে পারে না......... কোন কোন রূপকথার গল্প এমন যে- রাজার সন্তান হয় না, তাই একে একে সাত রাণী ঘরে আনেন, কিন্তু কারোরই সন্তান হয় না; তখন একদিন এক সন্ন্যাসী এসে একটা  ফল দিয়ে বলেন সেটা পাটায় বেঁটে যেন সাত রানী সাত ভাগ করে খান, কিন্তু ছয় রানী ষড়্ করে ছোটরাণীকে না দিয়েই সেটা খেয়ে নেন, ছোট রানী এসে যে শিলপাটায় সেটা বাটা হয়েছিল সেটা ধুয়ে পানি খায়; দশ মাস পরে ছয় রানীর সুন্দর ছয়টি ছেলে হলো কিন্তু ছোট রানীর গর্ভে জন্ম নিল একটা বানর, আর একটা পেঁচা। তাদের নাম হল বুদ্ধু- ভুতুম........ 
এইসব গল্প এমনই অদ্ভুতুম!! এইসব গল্পে অনেক ছড়াও আছে, যেমন:


"বুদ্ধু আমার বাপ, কি করেছি পাপ,
কোন পাপে ছেড়ে গেলি দিয়ে মনস্তাপ!"  কিম্বা,
 
"এক যে ছিল বাদশা তাহার ঘরে ছিল সাতটি রানী
ছোট রানী মা হইবেন, লোকে করে কানাকানি...."

 আরো আছে, ১২ বছর বয়সী রূপবান কন্যার ১২ দিন বয়সী স্বামী, তার করুণ কাহিনী........

এইসব গল্পে শিক্ষনীয় কি আছে? গল্পগুলো নানি- দাদিরা বাচ্চাদের বলেন, তারাও খুব মন দিয়ে শোনে। শেষ পর্যন্ত কি বোঝে সেটা জানি না। একটা চার বছরের শিশু, যার শোনা বেশিরভাগ গল্পই এইসব রাজা- রানী সংক্রান্ত, তাকে যখন একটা গল্প বলতে বলা হল, তখন সে গল্প বলছে এভাবে:

"রাজা আর রানি বসে আছে বাগানে। মন্ত্রী আসলো, বলল, 'মহারানী, আপনার একটা মেয়ে হয়েছে', রানী বলল 'ও, তাই নাকি'........"

বেচারা বুঝতেও পারছে না, তার বলা গল্পটার উদ্ভটত্ব! এই গল্পটা শোনার পর থেকে ভাবছি, এইসব রূপকথা ঠিক কত বছরের বাচ্চাদের শোনার উপযোগী......

ইউরোপীয় রূপকথাগুলোও কী আর ভালো! বেশিরভাগই তো সৎমায়ের কূটনামি, রাণীর হিংসামি বা ডাইনীর শয়তানির গল্প! তবে রাশিয়ান বাবা ইয়াগা আর যাদুকরী ভাসিলিসার রূপকথা গুলো অনবদ‍্য!!!

 যেসব শিশুরা কিছু বড়, যাদের জানা জগৎ  এবং শব্দ ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ, তাদের জন্য এবং কিশোর বয়সীদের জন্য বাংলা সাহিত্যের ভান্ডার খুবই সমৃদ্ধ;  একইসাথে মনোরঞ্জক ও শিক্ষামূলকও। অবশ্য রাশিয়ান বই, যেমন তিমূর ও তার দলবল, মিশকার রান্নাবান্না, উভচর মানব, ছোরা- এগুলোর সাথে তুলনীয় কোন বই-ই আমি দেখিনি!!!

 এখন সুন্দর ছবিওয়ালা অনেক বই পাওয়া যায়, কিন্তু বইয়ের পাতা উল্টে গল্পের ভেতর ডুবে যাবে এমন ছোট মানুষ এখন আর পাওয়া যায় না! এখন ৩/৪ বছর বয়সীরাও নিজে নিজে  ট্যাব বা ল্যাপটপ চালাতে জানে, খুঁজে নেয় পছন্দসই গল্পের ভিডিও; আগের প্রজন্ম, কিংবা তারও আগের প্রজন্মের শিশুদের গল্প শোনার সাথে, এই প্রজন্মের শিশুদের ডিজিটাল গল্প শোনার আনন্দের কোন ফারাক হয় কিনা জানিনা! শিশুদের সম্পর্কে বলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাটা আমার খুব মনে হয়।

"ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মতো পুরাতন আর-কিছুই নাই। দেশ কাল শিক্ষা প্রথা-অনুসারে বয়স্ক মানবের কত নূতন পরিবর্তন হইয়াছে, কিন্তু শিশু শত সহস্র বৎসর পূর্বে যেমন ছিল আজও তেমনি আছে।"  ( ছেলে ভুলানো ছড়া ১, রবীন্দ্র রচনাবলী)

কথাটা এখন আর ঠিক বলে মনে হয় না; দেশ কাল শিক্ষা প্রথা-অনুসারে বয়স্ক মানবের যেমন পরিবর্তন হয়েছে, শিশুদেরও তেমন পরিবর্তন ঘটেছে বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে; তাদের হাতে মোবাইল, ট্যাব, কম্পিউটার এসে যাওয়ায় আজকের শিশু আর আগের দিনের শিশুর মধ্যে এখন বিরাট ফারাক। তাই এইসব গল্প কবিতার আবেদন ক্রমশই কমে আসছে। /:)


সব ছবি অন্তর্জাল থেকে নেয়া।





 

       



 

মন্তব্য ১০৬ টি রেটিং +১৮/-০

মন্তব্য (১০৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:১২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আগে উপস্থিতির জানান দিলাম গল্প পড়ে পড়ে আসছি.....

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: প্রথম যে উপস্থিত হয় তাকে গরম চা দিয়ে আপ্যায়ন করাটাই নিয়ম, কিন্তু আমি যে গরম চা আনতে জানি না!!! :( তাই শুধু ধন্যবাদ জানাই, প্রথম মন্তব্য আর প্লাস এর জন্য; আর জানাই শুভকামনা।

২| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ২:১৫

শায়মা বলেছেন: এসব আমার খুবই প্রিয় ছিলো। এখনও বাচ্চারা এসব ভালোবাসে আপু। এ আমি শতভাগ নিশ্চিৎ কারণ আমি এটা পরীক্ষিত সত্যতার প্রমান পেয়েছি আমার ক্লাসের বাচ্চাদের নিয়ে। কিন্তু এখন সময় নাই বাবা মায়েদের। ডিজিটাল দুনিয়া আর বাস্তবতার চাপে তারা নিজেরাই ভুলে গেছে শিশুরা আজও এসব ভালোবাসতে পারে যা তারা নিজেরাও ভালোবেসেছিলো এবং শিখেছিলো তাদের শিশুবেলায় ........

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৩

করুণাধারা বলেছেন: তুমি যখন বলছ বাচ্চারা এখনও এসব গল্প ভালোবাসে, তাহলে নিশ্চয়ই ভালোবাসে; তোমার চেয়ে ভালো বাচ্চাদের মন বোঝে ব্লগে এমন কয়জন আছে!! তবে আমার ধারণা, তুমি গল্প বল অভিনয় করে, ছবি এঁকে, এজন্য বাচ্চারা তোমার গল্প শুনতে ভালোবাসে। গল্প বলার সাথে সাথে তাদের অসংখ্য প্রশ্নেরও উত্তর দিতে হয়, আজকালকার প্যারেন্টসদের সময় কোথায় এসব করার.......

কিন্তু আমার খুব মনে হয়, অন্তত পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের সময় দেয়া দরকার, আর তাদের বই পড়া শেখানো দরকার।

৩| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রথমেই বলি আপু ,

হেডলাইনের সঙ্গে গোটা পোস্টটা দারুণ সামঞ্জস্যপূর্ণ । সত্যিই নানা দেশের শিশুসাহিত্যের তুল্যমূল্য আলোচনা। 92 সালের ছবি রাতের ভ্রমণে রাত পর্যন্ত আমরা ও ছোটবেলায় আমাদের এখানে সোভিয়েত নারী ও সোভিয়েত ইউনিয়ন বলে দুটি পত্রিকা পেতাম। অত্যন্ত সুন্দর সুন্দর ছবি সম্বলিত পত্রিকা দুটিতে যেমন থাকতো হরেক রকমের দু'চার কথার ছোটদের উপযোগী বিভিন্ন গল্প তেমনি থাকত পোশাক-আশাকে সুন্দর ছবি মূলত শীতবস্ত্রের ছবি। এই পত্রিকার আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো - বেশ মোটা মোটা পাতাগুলি আমাদের শৈশবে বইয়ের মলাট হিসাবেও দারুণ আকর্ষণীয় ছিল। সোভিয়েত নারীতে বিভিন্ন শীতবস্ত্রের সুন্দর নকশাগুলি বড়বোন বা মায়েদের কাছে ছিল উলেন বিভিন্ন নকশা করার একটা হাতিয়ার। এমন পত্রিকায় দেখেছি যেগুলো সুন্দর নকশা করার জন্য আগে থেকেই কেটে নিয়ে গুছিয়ে রেখে দিত যাতে আমাদের হাতে এসে না পড়ে।

পাশাপাশি আমাদের ছোট বেলাতেও কলকাতা থেকে প্রকাশিত চাঁদমামা বা শুকতারা যা ছিল তখন শিশুদের জনপ্রিয় পত্রিকা । যদিও চাঁদমামা বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে, আর শুকতারা আমি আমার ছোট বাচ্চার জন্য রাখি। তবে এই জেনারেশন যেন এসব বইয়ের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আমার ছেলের এখন ন বছর বয়স চলছে। ছোট থেকে ওকে আমি আমার হেরো গলায় গান শুনিয়ে ঘুম পাড়াতাম । যদিও ওর মা গানে v year কমপ্লিট করলেও মায়ের গান শুনে একদিনও ঘুমায়নি। আমি ওকে পাশাপাশি পটল ও ঝিঙের বন্ধুত্ব , আদার সঙ্গে করলার বাজারে দেখা হলো, কিংবা টমেটো বেগুনকে জিজ্ঞেস করল, ভাই কেমন আছিস ? এসব গল্পগুলো করতাম ও খুব মজা পেত। সবচেয়ে আশ্চর্যের ও এখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়েও মাঝে মাঝে বলে , বেগুন ঝিঙের বিভিন্ন গল্প করতে। আমি অবশ্য ওকে শর্ত চাপিয়ে দিই। যেটা বলবো তা থেকে আমাকে পাঁচটি সেন্টেন্স লিখে দিতে হবে। সঙ্গে অবশ্য এসব ঠাকুরমার ঝুলি উপেন্দ্রকিশোর বা শুকতারা থাকলেও দুর্নিবার আকর্ষণ ডরিমন সিঞ্চন এসবের প্রতি।

আপনার রুশ বালকটির সঙ্গে বাবার ঘুরে ঘুরে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী কে? দেখানোর গল্পটি পড়ে আমার ইঁদুর মতির বিয়ে গল্পটির কথা মনে পড়ে গেল। হয়তো বিষয়টা একই , কিন্তু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে লেখা।

পোস্টে আপনি যেভাবে চীন রাশিয়া ডেনমার্ক জাপান সহ গোটা ইউরোপের বাচ্চাদের উপযোগী গল্পগুলির কথা আলোচনা করলেন তা এককথায় অনবদ্য । তবে দি যেহেতু ভূগোল অভের অনেকটা অংশের কভার করলেন সে ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে ল্যাটিন আমেরিকা বা আফ্রিকার বাচ্চাদের উপযোগী গল্পগুলি অপূর্ণ থেকে গেল।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা প্রিয় আপুনিকে।


২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৯

করুণাধারা বলেছেন: আবার ফিরে আসায় খুব খুশি হলাম পদাতিক চৌধুরী। আপনার মন্তব্য পড়ে আমি নস্টালজিক হয়ে পড়লাম! মনে পড়ল, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও সোভিয়েত নারী আমিও পড়তাম; এত স্বল্প মূল্যে এমন বই পাওয়া যেত যা ভাবাই যায় না! সেই চমৎকার ছবিগুলো....... উজবেক নারীদের সূচিকর্ম, বিভিন্ন প্রদেশের কারুশিল্প, কত কিছু যে থাকতো.......... কখনো কখনো ধারাবাহিক গল্পও থাকতো। সেসব পড়তে পড়তে আমার খুব ইচ্ছে করতো সোভিয়েত দেশে যাবার।

খুবই ভালো লাগলো আপনি ছেলেকে সময় দেন দেখে!! এই যে যেভাবে আপনি গল্প বলেছেন, এতে সে অংশগ্রহণ করেছে, এটা তার ভাবনার জগতকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে, তার বই পড়ার রুচি বোধ তৈরি করে দিয়েছে; এখন সে নিজের মতই ঠিক বইগুলো বেছে নিয়ে পড়তে পারবে ইনশাল্লাহ। তবে আপনি যেটা বলছেন, ডোরেমন ইত্যাদি দেখে, এটা তো খুবই স্বাভাবিক। আমরা চিরকাল ভাত মাছ খেয়ে কাটিয়ে দিলাম, বার্গারের নাম শুনিনি বলে। তাই বলে এখন আমাদের সন্তানদের বার্গার খেতে বাধা দিয়ে শুধু মাছ ভাত খেতে বলা ঠিক হবে?

যে গল্প গুলোর কথা বলেছি, এগুলো আমার স্মৃতি থেকে বলা। আমি ল্যাটিন আমেরিকার, আফ্রিকার কিছু গল্প জানি, কিন্তু সেগুলো ঠিক ৫ বছর পর্যন্ত বয়সীদের উপযোগী না, তাই সেগুলোর উল্লেখ করতে পারিনি।

অনেক শুভেচ্ছা পদাতিক চৌধুরী, সন্তানদেরসহ ভালো থাকুন।

৪| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৬

বলেছেন: শিশুদের চেয়ে পুরাতন কিছু নাই ---
তথ্য বহুল পোস্ট কিন্তু কি যেন নেই!!! অ হ হা আমার মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যা শিশুকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয় --

শিশুদের হাতে এখন তুলে দেয়া হয় গেইমের নামে হিজিবিজ সব আর সাথে আছে বিভিন্ন এপস এসব কথা কে শুনবে।


শুরুটা হোক আমাদের থেকে।

ধন্যবাদ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৭

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ ল, আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো।

আমি বলতে চেয়েছি ১ থেকে ৫ বছর বয়সীদের নানা রকম গল্প বলে নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া যায়, মিথ্যা না বলা (পিনোকিও), অন্যকে সাহায্য করা (মাশা) ইত্যাদি। আর দরকার পারিবারিক বন্ধন। একেবারে অল্প বয়সে এই শিক্ষা দেয়া গেলে পরবর্তীতে সহজেই তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া যাবে।

সমস্যা হচ্ছে আজকাল দেখি ৩/৪ বছরের বাচ্চার হাতে মোবাইল, মা গর্ব করে বলেন, "আমার বাচ্চা ভিডিও ডাউনলোড করতে পারে", এর পরিণতি কি হবে জানিনা.........

ভালো থাকুন, ল।

৫| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫১

রাজীব নুর বলেছেন:

বড়দিন উপলক্ষে শিশুদের হাসপাতালে বারাক ওবামা

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: আপনার নাম দিলাম প্রত্যুৎপন্নমতি! আমি বাচ্চাদের গল্প বলা সম্পর্কিত পোস্ট দিলাম, আর আপনি সাথে সাথে বাচ্চাদের জন্য ওবামার হাসপাতালে যাওয়ার ছবি দিয়ে দিলেন! দারুন!!!!

ভালো থাকুন পরীকে নিয়ে, শুভকামনা।

৬| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৩৯

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আপনার লেখা পড়তে পড়তে ছোটকালে ফিরে গেলাম। মস্কোর প্রগতি প্রকাশনের বই তখন প্রচুর পড়তাম, কিন্তু এক ''উভচর মানুষ'' ছাড়া আর কোন বই এর নামই মনে করতে পারলাম না! :(
স্মৃতি প্রতারণা করছে; বুঝতে পারছি, বুড়া হয়ে যাচ্ছি। আর ইন্সট্যান্টলি মনে করতে পারছি ''ঠাকুমার ঝুলি'' আর ''বাংগালীর হাসির গল্প''।
বাংগালীর হাসির গল্পের একটা গল্পের রেফারেন্স আমি এখনও দেই; যেখানে এক নাপিত তার ক্ষুর দিয়েই অনেক অপারেশান করতো। তার এমন নাম-ডাক হলো যে, লোকজন ডাক্তারের কাছে না গিয়ে তার কাছেই যেতো, ফলে ডাক্তারদের না খাওয়ার অবস্থা! পরে সব ডাক্তার মিলে চক্রান্ত করে সেই নাপিতকে বিপদে ফেলার গল্প।

আপনার লেখা পড়ে ক্ষণিকের জন্য সেইকালে ফিরে গেলাম!
যুগের পরিবর্তন হচ্ছে! আমরা যেভাবে বড় হয়েছি, এখনকার বাচ্চারা সেভাবে হবে না; আবার ভবিষ্যতের বাচ্চারা নিশ্চয়ই আরো ভিন্নভাবে বড় হবে! তবে যাই হোক, আমাদের শিশুসাহিত্যকে আরো সমৃদ্ধ করা উচিত।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৭

করুণাধারা বলেছেন: ভুয়া মফিজ, ইদানিং নানা ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের একটা দূরত্ব গড়ে উঠছে, সেই যে একটা কথা আছে, 'বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, আর কেড়ে নিয়েছে আবেগ', ফলে সকলেই এখন মহাব্যস্ত। কিন্তু তবু, অন্তত প্রথম পাঁচ বছর সন্তানকে মা-বাবার কিছু কোয়ালিটি টাইম দেয়া উচিত যাতে ভবিষ্যৎ জীবনে সে আত্মমর্যাদা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে। এই কোয়ালিটি টাইম দেবার আর একটা উপায় হতে পারে তাদের সাথে নানা রকম গল্প করা, গল্প শোনানো। ক্ষুদেদের উপযোগী গল্প খুঁজতে গিয়ে দেখলাম, রাশান ভাষায় এদের জন্য যত হয়েছে তেমন আর কোন ভাষায় হয়নি। (আমার ভুল হয়ে থাকতে পারে।) সেটা নিয়ে লিখতে লিখতে অনেক লিখে ফেললাম।

পক্ষপাতিত্বও হয়ত! কিন্তু ইকথিন্ডরের মত আর কোন চরিত্র কোন দেশের সাহিত্যে কি আছে!! আরেকটা গল্প, নাম মনে করতে পারছি না, সেটা ছিল মানুষকে দিয়ে কম্পিউটারের মতো কাজ করানো; এই গল্পটাও খুব ভালো ছিল। আরেকটা ধারাবাহিক গল্প পড়েছিলাম সোভিয়েত নারীতে, "প্রথম শিক্ষক", সেটার শেষটা পড়তে পারিনি....... আজও দুঃখ হয়।

ভাগ্যিস মনে করিয়ে দিলেন বাঙালির হাসির গল্পের কথা। নাপিতের গল্পটা মনে পড়ল। আর একটা গল্প ছিল; দুই ভাই উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয় একটা খেজুর গাছ, একটা গরু, আর একটা কাঁথা। বড় ভাই ছোট ভাইকে ঠকাতে চায়, ছোট ভাই কিভাবে বড় ভাইকে শিক্ষা দিল এই গল্পটা তা নিয়ে। একেবারেই আমাদের দেশীয় গল্প। আমি গল্প বলতে খুব পছন্দ করি, এই গল্পটা একবার এক ক্লাসে বলেছিলাম যেখানে বিভিন্ন জাতীয়তার বাচ্চারা ছিল, সব বাচ্চারা খুব মজা পেয়েছিল দেখে আমার খুব গর্ব হয়েছিল।

অবশ্য দুঃখ লাগলেও মেনে নিতেই হবে, আগামী সময়ে সাহিত্যের আবেদন হয়তো আজকের মত থাকবে না।

মন্তব্য আর প্লাস দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা, ভুয়া মফিজ। ভালো থাকুন।

৭| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪০

জুন বলেছেন: করুনাধারা
আমার মনের কথাগুলোই বলেছেন বিশেষ করে রুশ শিশু সাহিত্য নিয়ে। মনে পরে আমরা তিন ভাই বোন যখন একেবারেই ক্ষুদে তখন আমার কিশোরী চাচাতো দুবোন ঢাকা থেকে চিটাগাং আমাদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিল গ্রীস্মের ছুটিতে। আমার বড় ভাই এর জন্য ছিল আর্কাদি গাইদারের নীল পেয়ালা আমার জন্য রূপালী ক্ষুর আর আমার ছোট বোনের জন্য নানা চাকা নৌকা। প্রগতি প্রকাশন থেকে প্রকাশিত আর ননী ভৌমিক অনুদিত সেই বই এর পর বয়সের সাথে সাথে কতশত রুশ উপকথা গল্প পড়েছি তার হিসেব নেই। সেই পাতলা পাতলা সিভকা বুর্কার মত বই আমার ছেলের জন্য ঢাকা নিউমার্কেটের বারান্দায় অনাদরে পরে থাকতে দেখে কিনে এনেছিলাম যা আজো আমি সযতনে সাজিয়ে রেখেছি।
শান্তিনিকেতন বেড়াতে গিয়েছি মামীর সাথে । চোখে পরলো নীল কাপড়ে বাধানো সোনালী অক্ষরে লেখা দক্ষিনারন্জন মিত্র মজুমদারের লেখা ঠাকুরমার ঝুলি। এক লহমায় কিনে নিলাম । শুকে দেখলাম সেই ছোট বেলার ঘ্রান পাওয়া যায় কি না ! মামী বল্লো এখানে এসে তুমি রবি ঠাকুরের বই কেনার আগে এটা কিনলে যে ! আমি তাকে বোঝাতে পারিনি তাতে লেগে আছে আমার শৈশব কৈশরের ঘ্রান । এরপর আমেরিকান লেখিকা লরা ইংগলস ওয়াইল্ডারের ঘাসের বনে ছোট্ট কুটির আমাদের কৈশরে এসে হানা দিয়েছিল আর তা এখোনো জায়গা দখল করে আছে দাপটের সাথেই । যদিও বর্তমানে তার লেখা নিয়ে অনেক বিতর্ক চলছে তথাপি তার বর্ননা অবিসম্বাদিত ।
অনেক অনেক ভালোলাগা রইলো লেখায় :)

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩২

করুণাধারা বলেছেন: জুন, লিখতে শুরু করেছিলাম পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সীদের শোনানোর মত গল্প নিয়ে; দেখি যা মনে করতে পারছি সবই রাশিয়ান গল্প। আসলে রাশিয়ান সাহিত্য নিয়ে মুগ্ধতার শুরু অনেককাল আগে যখন পড়তাম তখন থেকে; আজও সে মুগ্ধতা একেবারে কমেনি। যে তিনটা বইয়ের কথা বলেছেন, শুধু নানা চাকা নৌকাটা মনে করতে পারছি। বাকিগুলোও পড়েছি নিশ্চয়ই, কারণ সে সময় যদি শুনতাম অন্য কারো কাছে কোন বই আছে, তাহলে সেটা যেভাবেই হোক চেয়েচিন্তে নিয়ে পড়তেই হত!! মনে করিয়ে দিলেন, "সিভকা বুর্কা, যাদুকা লাড়কা/ চেকনাই ঘোড়া, সামনে এসে দাঁড়া!!"

ঠাকুমার ঝুলি নিয়ে স্মৃতি শেয়ার ভালো লাগলো, আর ভালো লাগলো ঘাসের বনে ছোট্ট কুটিরকে মনে করিয়ে দেয়া; বর্ণনাগুলো একটা জীবন্ত ছিল, সেই যে খড়ের গাদা থেকে বারবার পড়ে যাওয়া, কিংবা তুষারঝড়ের সময় বাবার গুহায় আটকে পড়া- সব কিছু মনে হত চোখে দেখতে পারছি........

স্মৃতি শেয়ার করায় অনেক ধন্যবাদ জুন, ভালো থাকুন সব সময়।

৮| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৬

চাঁদগাজী বলেছেন:



আশির দশকে রাশিয়া টুকরো হয়নি, টুকরো হয়েছে সোভিতেত ইউনিয়ন; লেখার মানের দিকে খেয়াল রাখেন।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: যাক! দিয়ে গেছে অল্পের উপর দিয়ে গেছে! একটা মাত্র ভুলই তো করেছি। :(

USSR কে আমরা রাশিয়া বলতাম, যেমন বলতাম রাশিয়া আমেরিকার মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। তাই বলে ফেলেছি রাশিয়া ভেঙেছে, আর সেটা আশির দশক নয়, নব্বইয়ের দশক। ইতিহাসে আমি খুবই কাঁচা, সব সময়। তবে ভাগ্যিস ভুলটা করেছিলাম, না হলে কি আর আপনি ভুল খোঁজার জন্য এতদুর পড়তেন!!!!!

৯| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪১

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: একটু টাইপো হওয়ার জন্য আপু আবার ফিরে আসতে হলো ।
দ্বিতীয় লাইনে 92 সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙ্গন । যদিও 91 এর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভাঙ্গন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছিল । তবে মোটের উপর 92 সাল থেকে ধরা হয়।

একদম শেষে ভূগোলোবের বলতে চেয়েছি । যার অনেকটা আপনি কভার করলেও আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকাটা বাদ পড়ে গেছে । যদিও উত্তর আপনি ইতিমধ্যে দিয়ে দিয়েছেন।


শ্রদ্ধা ও শুভকামনা প্রিয় আপুকে।


২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪১

করুণাধারা বলেছেন: আবার ফিরে আসায় ধন্যবাদ, পদাতিক চৌধুরী। আমি ভুল করেছিলাম, ভেবেছিলাম রাশিয়া (আসলে সেটা রাশিয়াও নয়) আশির দশকে ভেঙেছে, আসলে ভেঙেছে ৯১তে, আপনার থেকেই জানতে পারলাম। অনেক ধন্যবাদ এই তথ্যটা জানিয়ে দেবার জন্য। পরে এডিট করে ঠিক করে দেবার আশা রাখি।

১০| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৮

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
রাশিয়ান রূপকথা ও গল্পর বই পড়েছি।

এত ভাললাগে যে নেশা ধরে যায়।

সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। তথ্যবহুলতো বটেই।

ধন্যবাদ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪৫

করুণাধারা বলেছেন: মোঃ মাইদুল সরকার, মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো।

সত্যি, রাশিয়ান গল্পের মত এত আকর্ষণীয় সাহিত্য আমি আর দেখিনি। একবার ধরলে না পড়ে রাখা যেত না..... ‌

১১| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭

শহীদুল সোহাগ বলেছেন: ভাল বলেছেন

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:০২

করুণাধারা বলেছেন: আমার ব্লগে আপনার প্রথম আগমন! মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো শহিদুল সোহাগ।

ভালো থাকবেন।

১২| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:০৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: মাথার মধ্যে আপনার লেখাটা কেন জানি ঘুরপাক খাচ্ছে, ঝেড়ে ফেলতে পারছি না!
সম্ভবতঃ ছোটবেলার স্মৃতি আমাকে স্মৃতি-কাতর করে দিয়েছে। এই মূহুর্তে প্রগতি প্রকাশনের আরেকটা খুবই প্রিয় বই-এর নাম মনে পড়েছে.........মালাকাইটের ঝাপি!!!

পড়েছিলেন এটা? দারুন একটা বই!!

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৬

করুণাধারা বলেছেন: : মালাকাইটের ঝাঁপি পড়েছি, কিন্তু কোনো গল্পই পুরোপুরি মনে করতে পারছিনা। শুধু মনে আছে পড়ার পরের মুগ্ধতা.........

একটা গল্প ছিল সার্কাসের হাতি হঠাৎ করে পেপার পড়া শুরু করে, হঠাৎ করে তার অনেক আচরণ বদলে যায়। পরে দেখা গেল, এক মৃত বিজ্ঞানীর মগজ হাতির মাথায় লাগান হয়েছে। পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয় নি যে, আজগুবি কিছু পড়ছি।

আবার ফিরে আসায় অনেক ধন্যবাদ, ভুয়া মফিজ। ভালো থাকবেন।

১৩| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১৩

জুন বলেছেন: করুনাধারা আমারো ভুয়া মফিজের অবস্থা । সেই হলদে ঝুটি মোরগটি থেকে তিমুর ও তার দলবল হয়ে পুশকিনের বেলকিনের গল্প সাথে অসাধারন ক্যাপ্টেনের মেয়ে, নিকোলাই গোগলের রসময় লেখনী , দস্তয়েভস্কি আর টলস্টয় আরো অজস্র রাশিয়ান বই আমাদের শৈশব কৈশর আর তরুন জীবনকে ভরিয়ে তুলেছিল নিয়ে গিয়েছিল এক অসামান্য উচ্চতায় করুনাধারা ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪১

করুণাধারা বলেছেন: মনে হচ্ছে বইপড়ার স্মৃতির বন্ধ ঘরের দরজা খুলে দিয়েছিল, সব স্মৃতি এখন বেড়িয়ে আসছে........

হলদে ঝুঁটি মোরগটি, নাকি লাল ঝুঁটি মোরগটি হবে এতক্ষণ মনে করতে পারছিলাম না; অবশ‍্য মনে পড়ছিল, "জানলা দিয়ে মুখ বাড়াও, মটরশুটি খেয়ে নাও".......

আসলেই, রাশিয়ান গল্পগুলো এমন ছিল, কখনোই মনে হতো না যে চরিত্রগুলো অন্য দেশের, অপরিচিত। সব সময় মনে হতো, সবকিছু খুব চেনা।

আমাদের সময় একটি রচনা প্রায়ই লিখতে হতো, "বই পড়া ভারি মজা" বা "বই পড়ার আনন্দ।" বই পড়ার নেশা এমনই যে, এটা অন্যান্য নেশা আর হতাশায় হাত থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। নিজের জীবনের এটা পরীক্ষিত........

১৪| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৩

নীলপরি বলেছেন: খুব ভালো লাগলো পোষ্ট ।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৪

করুণাধারা বলেছেন: আপনাকে আমার ব্লগে পেয়ে খুব ভালো লাগলো নীলপরি।

ভালো থাকবেন।

১৫| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৭

প্রামানিক বলেছেন: অনেক সুন্দর পোষ্ট। খুব ভালো লাগল। ধন্যবাদ

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৩

করুণাধারা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, এত ব্যস্ততার মধ্যে আমার ব্লগে আসার জন্য।

ভালো থাকুন, সব সময়।

১৬| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ২:৫০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ".........মোর স্ত্রী এমেলা, এ জীবনের ঝামেলা :(
পাঠিয়েছে হেথা মোরে, বর মাগিবার তরে"

....................................................................
খুব মজা করে পড়লাম, ধন্যবাদ ++

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৪

করুণাধারা বলেছেন: স্বপ্নের শঙ্খচিল, যে লাইনটি আপনি বোল্ড করেছেন সেটা আমি করতে চেয়েছিলাম, যেন বিশেষভাবে নজর পড়ে। কিন্তু পরে ভুলে গিয়েছিলাম করতে; আমার ধারণা এই লাইনটি লেখার সময় বাংলা অনুবাদক স্ত্রীজাতি সম্পর্কে তার নিজস্ব মতামত দিয়েছেন। বোল্ড করা না থাকা সত্বেও আপনি এটা লক্ষ্য করেছেন দেখে আমি খুবই অবাক হলাম। চমৎকার ছবি দেবার জন্য ধন্যবাদ; আপনি কোথায় পান এত চমৎকার ছবি!! ভালো থাকুন, স্বপ্নের শঙ্খচিল।

১৭| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: শুভ অপরাহ্ন আপু,
আপনার লেখাটা আগেই পড়ে ভালো লেগেছিল দেখে লাইক দিয়ে চলে গিয়েছিলা, ব্যস্ততার জন্য। এখন আবার আসলাম মন্তব্য করার জন্য.....
আমাদের শিশুদের ভাষা শেখার জন্য আমি মনে করি এই সব ছড়া বা গল্প গুলি দারুন কাজ করে। আমি আমার বড় বাচ্চাটার ১ বছর হবার সাথে সাথেই বাংলা ছড়া গুলির ডিজিটাল রাইমস এনে টিভি তে ছেড়ে দিতাম। কত তাড়াতাড়ি যে ও ভাষা শিখেছে সে বলার নয়। মাত্র ১'৫ বছরে দিব্যি ভালো বাংলা কথা শিখে গেল। এখন আড়ং এ গেলে বাচ্চাদের বাংলা গল্পের বই গুলি কিনে দেই, এইসব বই পড়লে বাচ্চারা তো নিজে নিজেই ভাষা শিখে যাবে........বাবা মা'র কষ্টও কত কমে যায়!

আজকাল ডিজিটাল যুগ শুরু হয়ে গেছে। বাসায় ট্যাব থাকলে এই সব বাচ্চাদের গল্পগুলির সফট কপি পাওয়া যায়। সেগুলি ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে দিলেই তো হয়। আমি তাই করেছি। বাচ্চার মা প্রথম দিকে কয়েকদিন পড়ে শুনিয়েছিল। যখন মজা পেয়ে গেছে, এখন নিজেই পড়ে........।

একটা দু:খজনক বিষয় হলো, বাচ্চাদের ছড়া বা রাইমস এর ব্যাপারে, প্রায় সব গুলিই কলকাতার। কেন যেন এই দেশে এই রাইমস বা বই ছাপায় না। অথচ কত কত সুন্দর সুন্দর ছড়া আছে দেশে, আইটি লোকজন কষ্ট করে রাইমেরস সফটওয়ার বানালেই আমাদের ঐ পাড়ে যেতে হয় না।

ঘরে ঘরে কার্টুন নেটওয়ার্ক আর দুরন্ত চ্যানেলের আগ্রাসনে আসলে বাচ্চার কত টুকু বই পড়ার সময় পায় সেটা আসলেই ভাবার বিষয়! আমরা ছোট বেলায় দেখতাম একটা চ্যানেল।আর এখন বলুন?

রাশিয়ান সাহিত্য খুব চমৎকার ছিল কিন্তু বিপ্লবের পর সব উলট পালট হয়ে গেছে। এই সব বই এখন খুজে পাওয়া খুব কঠিন ঢাকা বাইরে........

তাও বাবা মা যদি একটু কষ্ট করে বাচ্চাদের এই সব বই বা রাইমস পড়ানোর চেস্টা করে আমি মনে করি সেটা তাদের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভই বয়ে নিয়ে আসবে.........

এত চমৎকার একটা নিয়ে লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
শুভ কামনা রইল!



২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৯

করুণাধারা বলেছেন: নীল আকাশ, প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই ২১ তারিখে এত ব্যস্ততার মধ্যেও আপনি আমার পোস্ট পড়েছেন, এবং লাইক দিয়ে গিয়েছেন তাই। আমি এটা তখনই লক্ষ্য করেছিলাম, এবং খুবই অবাক এবং খুশি হয়েছিলাম এ কারণে যে, আপনি চট্টগ্রামের ব্লগারদের মিলান মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন, এবং তার পরও সময় বের করে আমার পোস্টে লাইক দিয়েছেন.......

আমি বলতে চেয়েছি যে, জন্মাবার পর থেকে প্রথম পাঁচ বছর শিশুদের গড়ে তোলার সময়। এই সময় শিশুদের শব্দ ভান্ডার বাড়িয়ে তুললে ভবিষ্যৎ জীবনের সে নিজেকে সহজে প্রকাশ করতে পারে। এই সময় আরও দরকার তাদেরকে নানা মানবিক গুণাবলী শিক্ষা দেওয়া কিংবা নীতি কথার শিক্ষা দেয়া। কিছু গল্প কবিতার মধ্যে দিয়ে এই কাজটা সহজেই করা যায়, আবার এইসব গল্প বলার সময় সন্তানের সাথে মা বাবার যে মিথস্ক্রিয়া হয় তা সন্তানের জন্য নিঃসন্দেহে ভালো ফল বয়ে আনে।

আপনার সন্তানদের যেভাবে বড় করে তুলছেন, জেনে খুবই ভালো লাগলো। আমরা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সচেষ্ট হই তাদের জন্য অর্থ সম্পদ রেখে যেতে, কিন্তু আসলে আমাদের চেষ্টা করা উচিত তাদের মনের বিত্ত বাড়াবার, তাদের আত্মমর্যাদাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবার। এজন্য তাদের জানার জগৎকে সম্প্রসারিত করতে হবে, সেটা বই ছাড়াও ডিজিটাল মাধ্যমে হতে পারে, কিন্তু মা-বাবার এ ব্যাপারে সচেতন থাকা দরকার। আমার মনে হচ্ছে আপনি যথেষ্ট সচেতন এবং সঠিক পথটি বেছে নিয়েছেন। শুভকামনা রইল আপনার সন্তানদের জন্য।

রাশিয়ান গল্প গুলো সবসময়ই একটা বার্তা দেয়। ছোটদের গল্প গুলো যেমন, বড়দের গল্পও তেমন। আমার খুব প্রিয় টলস্টয় এর সাড়ে তিন হাত জমির গল্পটি। আমি সুযোগ পেলেই এটা আমার সন্তান দের শোনাতাম...........

এই চমৎকার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, নীল আকাশ। ভালো থাকুন পরিবার নিয়ে, সব সময়।

১৮| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: চমৎকার পোস্ট.....
আমি প্রচুর রাশিয়ান বই পড়েছি.....
দস্তয়েভস্কি'র বই, ইয়াকভ পেরেলম্যান এর গনিত, পদার্থের বই......
রাশিয়ান জোকস.... রাশিয়ান সাহিত্য........
এস্ট্রোনমির বইও পড়েছি.....
প্রগতি প্রকাশন...... সোভিয়েত ইউনিয়নের বইগুলো দারুণ....

বাচ্চাদের নিয়ে লেখা এ পোস্টে মুগ্ধতা.... প্রিয়তে নিলাম.....

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৫

করুণাধারা বলেছেন: চমৎকার মন্তব্য! মন ভরে গেল.........

বইগুলোর বিশেষত্ব ছিল বাঁধাই, সুন্দর ছবি আর কাগজ। কনটেন্টের কথা যদি নাও ধরি, শুধু বাহ্যিক চেহারাতে রাশিয়ান বইগুলো ছিল অনবদ্য। সেই গল্পগুলো মনে করতে করতে এই লেখার সূচনা।

ভালো লাগলো আপনার মত রাশিয়ান গল্পের পাঠক পেয়ে। শুভকামনা রইল।

১৯| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৭

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: কমেন্ট পড়লাম....
USSR, KGB সব নিয়েই পড়াশোনা করেছি...... প্রচুর.....

এখন FSB নিয়া পড়ছি....

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬

করুণাধারা বলেছেন: FSB সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই নেই........

২০| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: কালাশনিকভ এর ব্যাপারেও পড়েছি অনেক B-))

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬

করুণাধারা বলেছেন: দারুন পাঠক আপনি, অনেক কিছু পড়েছেন।

২১| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৭

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: জাপানী রূপকথার বইও পড়েছি......
একে একে পোস্টটা পড়ছি আর কমেন্ট করছি......
একটা জাপানী গল্প দিলামঃ

বড় নামের বিপদ
অনেক কাল আগে একটা বাচ্চার জন্ম হলে বাবা-মা নাম রাখলো জুগেমু জুগেমু গোকোনো ছুরি কিরে পাইপো পাইপো.... (আর মনে নাই)
তো ছেলেটা একদিন খেলতে খেলতে কুয়ায় পড়ে গেল..... সবাই তাকে তোলার জন্য বলতে লাগলো জুগেমু জুগেমু গোকোনো ছুরি কিরে পাইপো পাইপো..... কুয়ায়া পড়ে গেছে । নামের কারনে দড়ি আনার আগেই ছেলেটি মারা যায়....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

করুণাধারা বলেছেন: সর্বাধিক মন্তব্য করার জন্য একটা মেডেল দিতে হয় আপনাকে, আর্কিওপটেরিক্স।

২২| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১২

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: টডলার স্টোরিজ, রিডিং ফর প্লেজার, গ্রিম ভাইদের গল্প, এন্দারসনের গল্প পড়েছি......
জোসস....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

করুণাধারা বলেছেন: বেশ বেশ.......

২৩| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৭

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: রায় পরিবারের সবারই লেখা কম বেশি পড়েছি....
কয়েকদিন আগে পুনরায় ঠাকরমার ঝুলি পড়লাম....
শেষে সেই বিখ্যাত কথাঃ
নটে গাছটি ফুরোলো.... :D

সবশেষে বলতেই হয়....
বই চাই বই....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০০

করুণাধারা বলেছেন: সবশেষে বলতেই হয়....
বই চাই বই....


বইয়ের কি অভাব আছে? বইমেলায় হাজার হাজার বই আছে!

২৪| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১৯

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: আমার পিসিতে টিনটিনের পুরনো সব কমিক্স আছে....
তা বাদে ডায়মন্ড কমিক্স, ইন্দ্রজাল কমিক্স..... কত কি পড়েছি....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০৭

করুণাধারা বলেছেন: টিনটিন আজ বেস্ট।

২৫| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:২৩

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: ইশপের বাংলা + ইংরেজি দুটোই B-)) মানে পড়া শেষ

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৭

করুণাধারা বলেছেন: আপনার সবগুলো মন্তব্যে লাইক দিলাম। আসলে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি আমার পোস্টটা আপনি এভাবে ব্যবচ্ছেদ করে তারপর পড়তে দেখে ঈশপের গল্পগুলো খুবই মজার। আমাদের পাঠ্যসূচিতে একটা ছিল, যার মরাল ছিল, "One cannot please everybody" এই গল্পগুলো এই যুগের ছেলেমেয়েরা কি পড়ে??

২৬| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: I don't know :||

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪১

করুণাধারা বলেছেন: এই স্পিডে মন্তব্য পেতে থাকলে আমি প্রতিমন্তব্য করতে পেরে উঠবো তো!!! তাই আপাতত বিশ্রাম! শুভ রাত্রি।

২৭| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: এন্ডারসনের গল্প যে বইতে পড়েছিঃ
হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এন্দারসনের কাহিনী পঞ্চাশৎ

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০১

করুণাধারা বলেছেন: ভালো।

২৮| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: বিশেষ করে আঙুলিনা গল্পটা আজও মনে পড়ে....

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:০২

করুণাধারা বলেছেন: থাম্বেলীনা!

২৯| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪৩

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: ওক্কে B-))

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫৪

করুণাধারা বলেছেন: আমি একেবারেই ওকে নই, আর্কিওপটেরিক্স। তাই আপনার বাকি মন্তব্যগুলোর উত্তর দেওয়া মুলতবি থাক, যতদিন না সুস্থ হয়ে ফিরতে পারি......

৩০| ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৪১

আমি তুমি আমরা বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট। শিশুদের বিকাশ নিয়ে ব্লগে এমনিতেই পোস্ট কম আসে, তারওপর শিশুদের জন্য গল্প বা ছড়া নিয়ে পোস্ট নেই বললেই চলে।

প্লাস এবং প্রিয়তে।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৫

করুণাধারা বলেছেন: আপনার মন্তব্য আর প্লাস আমার অনুপ্রেরণা, আমি তুমি আমরা!

আজকাল দেখি মায়েরা সিরিয়াল দেখতে বসেন, বাচ্চার হাতে মোবাইল বা ট‍্যাব ধরিয়ে দিয়ে। অথচ পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের যদি মায়েরা ছবিওয়ালা গল্পের বইয়ের গল্প বলতেন, তাহলে তাদের কল্পনাশক্তি বাড়তো, মায়ের সাথে আত্মিক বন্ধন দৃঢ় হত এবং তাদের শব্দ ভান্ডার তাড়াতাড়ি উন্নত হত। ছোট বাচ্চাদের গল্পের বই নিয়ে বসার সুবিধা এটাই, তারা তাড়াতাড়ি বই পড়তে আগ্রহ হয়ে ওঠে। আর আমাদের ছড়া কবিতার ভান্ডার তো অফুরন্ত, এখানে কোন বয়সের বাছবিচার নেই। এগুলোর ছন্দ, অন্তমিল এমন যে শিশুরা খুবই আগ্রহ নিয়ে শোনে; আমি আমার দু বছরের মেয়েকে অজস্র ছড়া শোনাতাম, "এ তো বড়ো রঙ্গ জাদু, এ তো বড়ো রঙ্গ/ চার মিঠে দেখাতে পারো, যাব তোমার সঙ্গ", এই কবিতা শুনতে শুনতে সে দু বছর বয়সেই সাদা-কালো- তেতো- মিঠে সব শিখে ফেলেছিল....... ছড়া কবিতার কথা বলতে গেলে আমার কেবল বলতেই ইচ্ছা করে, তাই আপাতত থামলাম।

ভালো থাকুন, আমি তুমি আমরা।

৩১| ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: আমি ছোটবেলায় চিনের রূপকথা পড়েছি প্রচুর। খুব সুন্দর ছবি থাকতো, আমি রঙ করতাম। সব মিলিয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা। রাশান যে গল্পগুলো বললেন ওগুলো আমার স্ত্রী পড়তেন। এখন বাংলায় ভালো প্রকাশনা হলো সিসিমপুর। ওরা শিশু মনস্তত্ব বুঝে খজুব সুন্দর ছবি আর গল্প তৈরি করে। আমার বাচ্চাদের খুব পছন্দ।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৪৮

করুণাধারা বলেছেন: হাসান মাহবুব, ধন্যবাদ জানাই সিসিমপুর বইয়ের কথাটা বলার জন্য। ইদানিং আমার যেসব আত্মীয়-স্বজনদের বাচ্চাদের দেখি,  তাদের বাসায় অনেক খেলনা দেখি, কিন্তু ছোটদের বই দেখি না; তাই সিসিমপুরের বই আছে এটা আমি জানতামই না। আমারও ধারণা এই বইগুলো নিশ্চয়ই শিশুদের উপযোগী, শিশু মনস্তত্ত্ব বুঝে লেখা- যেমন আপনি বলেছেন।

আমার ছেলে- মেয়েদের গল্প বলার দিন অনেক আগেই পার হয়ে এসেছে, মূলত সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমার এই লেখা; তাই সাম্প্রতিক বইপত্রের কথা জানা ছিল না, যদিও উচিত ছিল জেনে নিয়ে লেখা।

আমি মূলত পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের, যারা পড়তে জানে না কিন্তু গল্পের মধ্য দিয়ে শুনে ও দেখে নানা জিনিস শিখতে পারে, তাদের কথা লিখতে চেয়েছি। মোবাইল- ট‍্যাব এসব বাচ্চাদের হাতে ধরিয়ে দিলে তারা গল্প ঠিকই শুনতে পারে, কিন্তু মা বাবার পাশে বসে গল্প শোনার যে আনন্দ তা আর পায় না! আপনার সন্তানেরা মায়ের কাছে গল্প শোনার সুযোগ পায় জেনে খুবই ভালো লাগলো।

 প্রার্থনা করি আপনার সন্তানদের শৈশব আনন্দময় হোক।

৩২| ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৩১

অপু দ্যা গ্রেট বলেছেন:




ছোট বেলা থেকেই বই পড়তাম । এখনও পড়া চলছে । রাশিয়ান উপন্যাস পড়েছি । তবে ছোটদের বই পড়া হয়নি । তবে আপনার পোস্ট থেকে অনেক কিছুই জানতে পারলাম ।

আশা রাখি এই তথ্যমূলক পোস্টটা কাজে লাগবে ।

তবে উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকার ছোটদের গল্প গুলো এড করলে ভাল হতো । আমি স্কুলে থাকতে পড়েছি ।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫১

করুণাধারা বলেছেন: অপু দ্যা গ্রেট, রাশিয়ান শিশুসাহিত্য এতটাই সমৃদ্ধ যে আমি বুড়ো হয়েও এখনো সেগুলো পড়ার আনন্দ ভুলতে পারিনা! অবশ্য যে গল্পগুলোর উল্লেখ আমি করেছি, সেই গল্পগুলো ছবিময়-অল্পকথার; ছোট বাচ্চাদের জন্য, যারা পড়তে শিখেনি। ছোট বাচ্চাদের এভাবে গল্প শোনানোর সুবিধা এই যে, তারা খুব তাড়াতাড়ি বই পড়া শিখতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

এই বয়সীদের জন্য আমি উত্তর আমেরিকা আফ্রিকার গল্প মনে করতে পারিনি; যে গল্পগুলো মনে করতে পেরেছি সেগুলো একটু বড় বাচ্চাদের, ছয় থেকে ১৪/১৫ বছর পর্যন্ত বয়সীদের জন্য। তাই সেগুলোর উল্লেখ করিনি।

আপনি যে অনেক বই পড়েন সেটা বুঝতে পারি। আসলে বই পড়া এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা, তা আমাদের এতটা সমৃদ্ধ করে যা হয়তো পড়ার সময় বুঝতে পারি না; অনেক বছর পর বোঝা যায়। তাই পড়তে থাকুন অপু দ্যা গ্রেট, আর ভালো থাকুন সব সময়।

৩৩| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪০

মাহের ইসলাম বলেছেন: গল্প গুলো ভালো লেগেছে।
আপনার লেখা পড়ার সময় বারবার ঠাকুরমার ঝুলির কথা মনে পড়ছিল।
আমার ছোটবেলায় ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

শুভ কামনা রইল।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৪২

করুণাধারা বলেছেন: আপনার মন্তব্য পড়ে ভালো লাগলো মাহের ইসলাম, উত্তর দিতে খুব দেরি করে ফেললাম! :(

এই গল্পগুলো ভালো লাগতো, তাই হয়তো মনে থেকে গিয়েছিল। শেয়ার করার ইচ্ছা থেকে এই লেখা, আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুব ভালো লাগছে। জানিনা এই গল্পগুলো আগামী দিনের শিশুর ভালো লাগবে কিনা!!!

ভালো থাকুন সবসময়, শুভকামনা রইল।

৩৪| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:২৮

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: খুব ভাল লিখেছেন আপু।
আমরা ছোট বেলায় বড়দের কাছে গল্প শোনার বায়না করতাম কিন্তু এখনকার শিশুরা খুব কমই গল্প শুনতে চাই।
আমরা বড়রাও গল্প শোনাতে আগ্রহী নয়।সবাই আজকাল ব্যস্ত।শিশুদের কে বেশির ভাগ অভিভাবকরা আলাদা করে সময় দেননা।
ছোট বেলার গল্প শোনার দিন গুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম লেখাটি পড়তে পড়তে।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৬

করুণাধারা বলেছেন: আমি খুব দুঃখিত মোস্তফা সোহেল, উত্তর দিতে খুব দেরি করে ফেলেছি কিছু অসুবিধার কারণে।

 আমি ছোট শিশুদের গল্প বলতে খুব পছন্দ করতাম, এবং নিজের সন্তান ছাড়াও অনেক শিশু আমার গল্প শুনতে পছন্দ করত। ইদানিং দেখতে পাই, যেমন মায়েদের সময় থাকে না তেমনি বাচ্চাদের গল্প শোনার ইচ্ছা থাকে না! নিজে নিজে স্ক্রীন দেখে গল্প শুনতে এখন বাচ্চারা পছন্দ করে। কেন জানি আমার মনে হয়, মায়েদের কাছে গল্প শুনলে বাচ্চাদের মায়েদের সাথে  আই কন্টাক্ট হবার ফলে পরস্পরকে বোঝাটা সহজ হয়। আজকের এই ব্যস্ত সময়ে এটা খুবই দরকার.......

মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইল।

৩৫| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: দুঃখজনক হলেও সত্য, ছোটবেলায় আমি তেমন গল্পের বই পড়িনি। রাশিয়ান/চাইনীজ/জাপানী/ইউরোপীয়ানদের শিশুতোষ গল্পের সাথে আমি মোটেও পরিচিত ছিলাম না। তাই আপনাদের আনন্দটা ঠিক সেভাবে উপভোগ করতে পারলাম না। এ ব্যাপারে আপনার পাঠকদের মধ্যে আমিই বোধহয় একমাত্র ব্যতিক্রম। আর সে জন্যেই বুঝি, আমি গল্প লিখতে পারি না।

আপনার লেখাটা পড়ছিলাম আর পুরোটা সময় ধরে আমার চার বছরের নাতনিটার চেহারা মনের মধ্যে ভাসছিল। মাত্র গতকালই আমি ওর মাকে আগেও বহুবার বলা কথাটা পুনর্বার স্মরণ করিয়ে দিলাম, ওকে বেশী বেশী করে গল্প বলতে, বই থেকে গল্প পড়ে শোনাতে, ইউ টিউব থেকে ওর উপযোগী গল্পের ভিডিও দেখাতে। ব্লগার শায়মা এ বিষয়টি নিয়ে একটি সুন্দর পোস্ট লিখেছিলেন। ওটাও আমার নাতনির জন্য আমি পুনর্বার পড়ে দেখবো বলে মনে মনে ঠিক করেছিলাম।
Grasp all, lose all- কি চমৎকার একটি শিক্ষনীয় বিষয় এত ছোট্ট একটা গল্প দিয়ে বলা হয়ে গেলো!
পোস্টে প্লাস + +

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৮

করুণাধারা বলেছেন: আমার ছোটবেলা কেটেছে ঘরের মধ্যে; রোদে যাওয়া, খেলাধুলা করা, এবং অনেক খাবার আমার জন্য নিষিদ্ধ ছিল। সেই দুঃখময় সময়ে একমাত্র আনন্দ ছিল বইয়ের পাতা উল্টানো, সেই বই গুলো আমি পড়তে পারতাম না, কেউ পড়ে শোনাত। আমি খুব অসুখে ভুগতাম। আমার ধারণা আপনার ছেলেবেলা কেটেছে ঘরের বাইরে খেলাধুলা আর অন্যান্য আনন্দময় কাজের মধ্যে; যারা এমন একটি শৈশব পেয়েছেন তাদের কি দরকার আছে বই নিয়ে পড়ে থাকার!

আমি অনেক সময় যা বলতে চাই তা লেখাতে প্রকাশ করতে পারিনা; এই লেখাটিও তার ব্যতিক্রম নয়। পোস্ট লিখতে চেয়েছিলাম এটা বলতে, যেন  মায়েরা তাদের সন্তানদের গল্প বলেন; সেই গল্প গাছ- ফুল- ইলিশ যা খুশি তাই দিয়ে বানানো যায় ! সেই কথা বলতে গিয়ে আমার নানা গল্প মনে পড়ল, আর সেগুলো লিখে ফেললাম। আমার  মনে হল, ছোট শিশুদের যারা পড়তে পারে না, তাদের জন্য নানা দেশের নানা ভাষায় লেখা ছবি সহ গল্প আছে, যা তারা সহজেই শুনে বুঝতে পারে, অনেক কিছু শিখতে পারে এর মাধ্যমে। সেই তুলনায় বাংলায় লেখা এমন বইয়ের সংখ্যা খুব কম, তাই এই ছোটদের জন্য লেখা দরকার। এই ধরনের বই লিখতে গেলে লেখককে বুঝতে হবে কি ধরনের ছবি তার কথা কে ফুটিয়ে তুলবে, যেন সেটা শিশুদের ভালো লাগে; আমাদের ব্লগে এমন একজন লেখক তো আছেনই, যিনি একই সাথে ভালো লিখতে, ছবি আঁকতে এবং ছোটদের ভালবাসতে জানেন! তিনি যদি ছোটদের জন্য লিখতেন।

জানিনা কেন আপনার মনে হল, আপনি গল্প লিখতে জানেন না। আমার আপনার লেখা গল্প খুব ভালো লাগে এর ভাষার সরলতার জন্য।

এই লেখাতেই আমি বলেছি ছোটদের জন্য গল্পের বইয়ের তেমন দরকার হয় না যদি মা যে কোন বিষয় নিয়ে গল্প শুরু করতে পারেন, এবং সন্তান মাঝে মাঝে কথা বলে গল্প এগিয়ে নিয়ে যায়! এতে তার কল্পনাশক্তি এবং শব্দ ভান্ডার বাড়ে। মা এবং সন্তানের কথা বলা দরকার সব সময় অন্তত প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত। দুঃখের কথা হচ্ছে এটা, আজকাল মায়েরা বাচ্চার হাতে একটা মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেন; তার সাথে কথা বলার সময় মায়ের থাকেনা। তবে আপনার নাতনি কে নিয়ে আপনার উদ্বেগের কোন কারণ আছে বলে আমার মনে হয় না; প্রথমত তার মা শিক্ষিতা, এবং দ্বিতীয়ত সে দেশে শিশুর বিকাশের জন্য নানা আয়োজন আছে, এবং তিনি তা ভালোভাবেই গ্রহণ করতে পারবেন বলে আমার ধারণা। 

 খুবই দেরি হল প্রতিমন্তব্য করতে; আন্তরিকভাবে দুঃখিত এই জন্য। অনেক ধন্যবাদ, আপনার সুন্দর মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য। ভালো থাকুন।


 

৩৬| ১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৬:৩৯

ভাসমান মাইন বলেছেন: লেখাটা পড়ে নস্টালজিক হয়ে গেলাম--অনেক ধন্যবাদ।

মানুষের ব্রেন লাগানো সেই হাতিটার নাম ছিল হৈটি টৈটি।

প্রগতি আর রাদুগার বইগুলির অনুবাদ যারা করতেন, তারা নিজেরাও মনে হয় বিশ্বমানের লেখক ছিলেন। কোন লেখা পড়ে মনে হতো না অনুবাদ পড়ছি--জীবন্ত বাংলা লেখা ছিল সবকটা। অনুবাদকদের মধ্যে শুধু ননী ভৌমিকের নাম মনে আছে।

এখানে প্রচুর সোভিয়েত বাংলা বই আছে।

আর এই লেখা যদিও ছোটদের বই নিয়ে--সোভিয়েত সায়েন্স ফিকশন গুলিও খুব উচ্চ মানের ছিল।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০

করুণাধারা বলেছেন: হ্যাঁ, হৈটি টৌটি; কিছুতেই মনে করতে পারছিলাম না!

সোভিয়েত সাহিত্য খুবই উচ্চমানের, আর অনুবাদকেরাও ভালো ছিলেন। তবে লিংক ধরে গিয়ে দেখলাম, যে গল্পটিকে আমি "বুদ্ধিমতী মাশা" বলে লিখেছি, সেটা আসলে অন্য গল্প!

মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ ভাসমান মাইন।

৩৭| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:২৮

আখেনাটেন বলেছেন: আপনার এই লেখা পড়ছি আর ভাবছি কখন আপনি অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ক্ষীরের পুতুলের কথা পাড়বেন। হা হা হা। শেষে পেয়ে গেলাম।

ছোটকালে কতশত এই জাতীয় লেখা হজম করেছিলাম। ছুটিতে শীতের সকালে তিন চারটা করে বই বগলদাবা করে ধান শুকানোর মাঠে নিয়ে গোগ্রাসে গিলতাম। অথচ এখন জন্মের পরেই মোবাইল আর ট্যাবে আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশুরা।

সুন্দর লেখাটি কিছুটা নস্টালজিক করে দিল করুণাধারা'পা।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৩

করুণাধারা বলেছেন: "ক্ষীরের পুতুল" এর মত এত পুরনো লেখা আজকাল কেউ পড়ে না; কিছুদিন পর এগুলোর নামও কেউ জানবে না, একসময় এইসব গল্প হারিয়েই যাবে! আমাদের সময় নতুন বইয়ের পাতা উল্টানো, কাগজের ঘ্রাণ অনুভব করা একটা আনন্দ ছিল; এই আনন্দ আজকালকার বাচ্চারা জানবেও না। চাঁদ দিয়ে নানা রকম কল্পনা, চাঁদের বুড়ির সুতা কাটা- এই সব গল্প আর কেউ মনে রাখবে না! আমার ধারনা, বছর ত্রিশের মধ্যে মানুষ  হরদম চাঁদে যাওয়া আসা করবে। সেই সময় অ্যামাজন ইকো, গুগল হোম এর উন্নত ভার্সন বেরিয়ে যাবে....... বাচ্চারা এদের কাছে গল্প শোনার আবদার করবে, গল্প শুনানোর কাজটা এরাই করবে.........

বসে এইসব ভাবতে থাকি........ জানিনা, খুশি হব নাকি দুঃখিত.....

 চমৎকার মন্তব্য আর প্লাস এর জন্য ধন্যবাদ, আখেনাটেন।

৩৮| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৩৭

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ইশ এত সুন্দর লেখা টা এতদিনে পড়লাম :(
আপু আপনার লেখা বোই গুলো র সাথে আমার শৈশব গেঁথে আছে।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: ইশ এত সুন্দর লেখা টা এতদিনে পড়লাম। 
ইশ, এমন মন্তব্যে আমিও দারুন অনুপ্রাণিত হলাম!

 বাচ্চাদের গল্প এখন আমার মনে পড়া উচিত নয় হয়ত, তবু খুব মনে পড়ে। তাই এই লেখাটার সৃষ্টি..........এমনিতে আমার শৈশবে বই পড়া ছাড়া আর আনন্দময় কিছু মনে পড়ে না। তাই অন্য কারো শৈশবের আনন্দময় দিনের বিবরণ পড়তে খুব ভালো লাগে। "কেয়া পাতায় নৌকা ভাসানোর দিনগুলো-৩" পড়তে খুবই ভালো লেগেছে, কিন্তু সে কথা বলতে পারছিলাম না, কারন নিজের পোস্টে অনেক গুলো প্রতিমন্তব্য করা বাকি ছিল।

প্লাসের জন্য ধন্যবাদ মনিরা, অনেক শুভকামনা।

৩৯| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৭:০৭

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:

এবারের বইমেলায় কাওসার ভাইকে নিয়ে ক'টা ইংলিশ গল্পের বই কিনলাম, কী যেন নাম (!) ভুলে গেছি। যাই হোক,গল্পগুলো আমি পাশে বসে ছোট্ট ভাইটাকে পড়তে বললাম। খুব আনন্দ নিয়ে পড়লো আর ছবি দেখিয়ে আমাকে তাফচির করছিল। আমি মুগ্ধ হলাম।

আসলেই শিশুরা ছবি ও ছব্দময় কবিতা ও ছবিযুক্ত ছোট ছোট শিক্ষানীয় গল্পের প্রতি বেশি মুগ্ধ থাকে। তারা বিনোদনের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী। তাদের চাই বিনোদন শিক্ষা উভয়টাই।


খুব সুন্দরভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আআলোকপাত করার জন্য ধন্যবাদ।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৩

করুণাধারা বলেছেন: আপনার মন্তব্য পেয়ে খুবই আনন্দিত হলাম, সৈয়দ তাজুল ইসলাম।

ভালো লাগলো খুব এটা দেখে যে, আপনি মেলায় গিয়ে ছোট ভাইয়ের উপযোগী বই খুঁজে বের করেছেন, এবং তাকে উপহার দিয়েছেন। আজকাল বই উপহার দেবার কথা মানুষের মনেই থাকে না। অথচ দেখুন, আমি যেমন এখনো আমার ছোটবেলায় দেখা বই এর ছবি মনে করতে পারি, মনে করতে ভালো লাগে, আপনার ছোটভাইও নিশ্চয়ই ভবিষ্যতে একসময় মনে করবে এই বলে বইয়ের কথা, ছোট বেলায় এই ছবিওয়ালা বই দেখতে সে কতটা আনন্দ পেয়েছিল সে কথা! এর সাথে সাথে আপনাকে মনে করবে, সেই আনন্দ দেবার জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ হবে!

আমার কেন যেন মনে হয়, আমরা যেমন একটা মানুষকে দেখে তার নামের সাথে মিলিয়ে তার সব কিছু মনে রাখতে পারি, তেমনি বই এ যদি ছবি থাকে, তাহলে সেটা মনে রাখা বাচ্চাদের জন্য সহজ হয়। হয়তো সেজন্যই বাচ্চারা ছবি আলা বই দেখে খুশি হয়।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনার জন্য শুভকামনা।

৪০| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৯

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
সৃুন্দর।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫০

করুণাধারা বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ, মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। আমার ব্লগে আপনাকে পেয়ে ভালো লাগলো।

ছোটদের গল্প বলার সময় তাদের মনে অনেক প্রশ্ন আসে। সেগুলোর উত্তর দিতেও কিন্তু ভালো লাগে!

আপনার প্রোপিকে যাকে দেখা যাচ্ছে, তার সুন্দর জীবনের জন্য শুভকামনা।

৪১| ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:৩৩

ওমেরা বলেছেন: ছোট বেলায় আমার আব্বু ছিল আমার গল্পের বই, কত গল্প যে আব্বুর কাছে শুনেছি । খুব ভালো হয়েছে লিখা আপু ।অনেক ধন্যবাদ আপু ।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: ওমেরা, বড় হয়ে যখন আমরা ছোটবেলার গল্প শোনার দিনগুলো মনে করি, তখন যে সেই গল্প শোনাতেন তার প্রতিটি কথা, ভঙ্গি সব মনে পড়ে যায়। অবশ্য সবার ভাগ্য হয় না বাবার কাছে গল্প শোনার। তোমার বাবার কাছে গল্প শোনার স্মৃতি আছে জেনে খুব ভালো লাগলো।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য ধন্যবাদ ওমেরা।

৪২| ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৬

রাকু হাসান বলেছেন:

করুণাধারা আপু মহার্ঘ লেখাটি অনেক আগেই লিখে রেখেছেন । প্রথম দিকেই বুঝার বাকি ছিল না কতটা মহামূল্যবাস পোস্ট করেছেন । ব্যস্ততা ,একমদ নিবিড় সময় সবকিছু মিলছিলো না । আজ নিজের সাথে জেদ করেই বসলাম । প্রথমে যারা এই পোস্টে সুন্দর মন্তব্য করে আরও আলোকিত করলেন তাঁদের নাম উচ্চারণ করতেই চাই । আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো । জুন,পদাতিক,ভূয়া মফিজ,নীল আকাশ, ও খায়রুল হাসান স্যার । বাকিরও খুব ভালো মন্তব্য করেছে। এবার আসা যাক আপনার পোস্টের কথায় ।

আপনাকে আমি শিশু সাহিত্য বিশেষজ্ঞ বলবো । কতটা জানেন,আর আপনার পড়ার পরিধি ! সব মিলিয়ে আপনার প্রতি শ্রদ্ধাপ্লুত আমি । !:#P বিশ্ব সাহিত্যের শিশু সাহিত্য বা গল্প নিয়ে আমার জ্ঞান খুবই নাজুক । আপনার পোস্টের মাধ্যমে আমি ভালো ধারণা পেলাম । বিশেষজ্ঞ সুলভ পোস্টটি আগেই সবার আগে আমার পড়ার উচিত ছিল । কেন উচিত ! সেই প্রশ্নে বলবো ,আমি এমন কিছু তথ্য কিছু খোঁজছি বিশেষ কারণে । কালও অনেক রাত এসব নিয়ে ঘাটতে হচ্ছে । অথচ আপনি এখানে অনেক কিছুই বলেছেন । যার সূত্রধরে অনেক কিছুই পাওয়া যায় ।

আমি ভাবি মাঝে মাঝে রায় পরিবার যদি শিশু সাহিত্য না লিখতো তাহলে কেমন হতো ? ভাবা যায়!! এখন শিশু সাহিত্যিকের বড্ড অভাব দেখি । আগামীর শিশুর জন্য রচিত হোক যুগোপযোগি শিশু সাহিত্য । আগের বেশ কিছু শিশু সাহিত্য আগ্রহ হারিয়েছে বলে আমারও মনে হয় । এবং তা স্বাভাবিকও লাগে । হালের হুমায়ূন ও জাফর ইকবাল প্রলেপ দেওয়ার কাজ করছে । শিশু সাহিত্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি । চীনদের কথা দারুণ বলেছেন । এই জন্যই হয়তো ওরা পৃথিবীর রুপটা একটু বেশিই চিনে । রুশ সাহিত্য ,বিশেষ করে রুশ শিশু সাহিত্যের জুড়ি নেই । আমারও প্রথম পছন্দ। ত্রিশের দশকে যখন রুশ সাহিত্য যখন স্বর্ণ যুগ পার করছে ভাগ্যক্রমে আমরাও সাহিত্যের স্বর্ণ যুগ পার করছিলাম । রুশদের লিখেছেন পুশকিন,লিকোলাই,ইভান তেমনি আমাদের লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ,নজরুল,জসীম উদ্দীন সহ সুনামধন্য সাহিত্যিক । নানা চরাই উৎরাইয়ে আমরা পিছিয়ে পড়ি । রুশদের বিশ্বব্যাপী দাপটের কর্তৃত্ব তাঁদের সরকারকেই দিতে হবে ।

যাক বেশি বকবক হয়ে যাচ্ছে । আপনার কাছে আমার একটি অনুরোধ । বিশেষ কারণে শিুশু সাহিত্যের সুষম একটা বইয়ের লিস্ট দরকার । মানে কেন কোন বইগুলো রাখবো ,বা কোন বিষয়ের । কিছু ইঙ্গিত দিলেও হবে । বা মাথায় এখন যা আছে সেইগুলোই বলুন দয়া করে । আপনি আমার উপকার করতে পারেন।যদিও আমি মোটামুটি এ নিয়ে ঘাটাঘাটি করেছি । তবুও তো পূর্ণতা নেই । তাই বলা আর কি । একদম ছোট থেকে ১৫ বছর ।
অনেক শুভকামনা আপনার জন্য । শ্রদ্ধা থাকছে । এ্ভাবেই মণিমুক্তা আমাদের উপহার দিবেন সেই কামনা ।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৩৩

করুণাধারা বলেছেন: রাকু হাসান, এত প্রশংসা পাবার মত কিছু তো লিখিনি!! তবু, প্রশংসা শুনতে ভালো লাগে। আমিও আপনার প্রশংসা পেয়ে আপ্লুত হলাম, অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই লেখাটা লেখার কারণ, কয়েকজন বাচ্চাকে দেখে আমার মন খারাপ হয়েছিল; কম্পিউটার আর মোবাইলের সাথে তাদের সব সখ্যতা। আমার মনে হয়, বড়দের কাছে ছোটদের গল্প শোনার একটা অন্যরকম প্রভাব আছে, ছোটরা নানা প্রশ্ন করে, তার উত্তর পায়; এই মিথস্ক্রিয়ার ফলে তাদের জ্ঞান,শব্দভাণ্ডার এবং সেইসাথে আত্মবিশ্বাসও বাড়ে ।

আমি মোটেও শিশু সাহিত্য বিশেষজ্ঞ নই, আমার শৈশবের দিনগুলোর বেশিরভাগ কেটেছে ঘরের মধ্যে, অসুস্থতায়। সেই সময় আমি যে গল্প শুনতাম, তাই বারবার মনে করতাম। তাই এভাবে অনেক গল্পই আমার মনে রয়ে গেছে। সেগুলো থেকেই আমি কিছু উল্লেখ করেছি।

বাংলা ভাষায় ছোট শিশুদের জন্য খুব কম লেখা হয়েছে। আসলে শিশুদের জন্য লেখা খুব সহজ কাজ নয়, প্রথমত তারা বড়দের মতো চিন্তা করে না, (এই পোস্টে আমার মামাতো বোনকে গল্প বলার ঘটনায় আমি সেটা বলেছি) দ্বিতীয়তঃ তাদের শব্দ ভান্ডার সীমিত, তৃতীয়তঃ এমন কিছু বলতে হবে যা তাদের একইসাথে আনন্দ দেবে ও শেখাবে। এটা করা একটু কঠিন, সেজন্যই বাংলা ভাষায় শিশু সাহিত্য তেমন নেই। রূপকথার গল্প  ঠিক শিশুদের উপযোগী বলে আমার মনে হয় না, যদিও শিশুরা এসব শুনতে পছন্দ করে। একটা ছোট ৩ বছরের শিশুকে দেখি সাত ভাই চম্পা গান গাইছে, গল্পটাও অনেকখানি জানে টিভির সিরিয়ালে দেখে! এই গল্প পুরোটা মানুষের ষড়যন্ত্র- শঠতার গল্প। তাই এগুলোকে আমার মোটেও ছোটদের উপযোগী মনে হয় না। রাশিয়ান সাহিত্য আমি ভালোবাসি এই জন্য যে সেগুলো সব মানুষের গল্প;  মানুষের মনের শুভ দিক প্রকাশ করা গল্প, গল্প শেষ হয় শিক্ষণীয় কোন বাক্য দিয়ে। একটা গল্পের শিক্ষা ছিল "যদি হয় সুজন, তেঁতুল পাতায় ন'জন।" একবার এক ছোট বাসায় আমরা অনেক মানুষ গাদাগাদি করে ছিলাম, একটু বিরক্ত লাগছিল। এর মধ্যে একজন ছোটবেলায় শোনা সেই বাক্যটি বলল, "যদি হয় সুজন, তেঁতুল পাতায় ন'জন" অমনি আমাদের মনে হল, "তাইতো!"

 শিশু সাহিত্য নিয়ে আমার জ্ঞান আসলে ততবেশি নেই, তবু যেটুকু জানি তাই বলার চেষ্টা করছি। আমার মতে এপার বাংলায় শিশু সাহিত্য (এক থেকে দশ বছরের বাচ্চাদের উপযোগী সাহিত্য) তেমন নেই। অবশ্য ইদানীংকালে কি লেখা হয়েছে জানিনা। বেশ কিছুদিন আগে ধ্রুব এষের কয়েকটা বই পড়ছিলাম, এই বয়সীদের(১-৫) জন্য। ভালো কিশোর সাহিত্য যথেষ্ট আছে, আপনার উল্লেখিত মুহম্মদ জাফর ইকবাল, হুমায়ূন আহমেদ এরা তো লিখেছেনই, এদের অনেক আগে শাহরিয়ার কবির লিখেছিলেন। এনার একটা বই শুধু মনে আছে, "নূলিয়া ছড়ির সোনার পাহাড়।" আর কাউকে মনে পড়ছে না...........

বাংলা শিশুসাহিত্যের ভান্ডার অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছেন রায় পরিবার- আপনি ঠিকই বলেছেন। সুকুমার রায়ের লেখা পড়ে আমি এখনো অবাক হই, সেই যুগে তিনি শিশুদের জন্য লেখা বিদেশি সাহিত্য থেকে গল্প অনুবাদ করেছেন, একই সাথে পাগলা দাশু লিখেছেন, আবার এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের বাংলা সংস্করণ হযবরল লিখেছেন। আর ছবিসহ যে ছড়া লিখতেন, তার সাথে তুলনীয় আর কিছু দেখি নি!!বুড়ো হয়েও আমি আজও সুকুমার সমগ্র পড়ে আনন্দ পাই। সত্যজিৎ রায়ের লেখাগুলোকে বলা চলে কিশোর সাহিত্য। কিন্তু তার চরিত্র গুলো একেবারে অনবদ্য। প্রফেসর শঙ্কু, ফেলুদার মত গল্প লেখার লেখক আবার কত দিনে পাওয়া যাবে কে জানে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু, (সম্ভবত) সমরেশ মজুমদারের অর্জুন সিরিজ, এইগুলো কিশোরদের পড়তে ভালো লাগার কথা। আমাদের কৈশোরের সঙ্গী ছিল টেনিদা, ঘনাদা .......... 

ভুলে গিয়েছিলাম, আমাদের একজন ভালো শিশু সাহিত্যিক ছিলেন, মোহাম্মদ নাসির আলী। তার গল্প খুব মনে করতে পারছিনা একটা দুটো বাদে- ভিনদেশী এক বীরবল এবং লেবু মামার সপ্তকাণ্ড। ভিনদেশী এক বীরবল ছিল নাসির উদ্দিন হোজ্জার গল্প, খুবই মজা পেতাম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম- কত বড়  কবি! এরাও কিন্তু ছোটদের কথা ভুলে যাননি। তারা অনেক চমৎকার কবিতা লিখেছেন ছোটদের জন্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শৈশব আনন্দময় ছিল; তিনি কিন্তু মাত্র নয় বছর বয়সে পিতৃহারা, পৃথিবীর কঠোর জমিনে পা ফেলা নজরুল ইসলাম কিভাবে শিশুদের সমান হয়ে কাঠবিড়ালি, লিচু চোরের মত কবিতা লিখলেন, সেটা আমার কাছে এক বিস্ময়।

অনেক কথা বললাম কিন্তু আপনার দরকারি কিছু বলতে পারলাম কি!!!!

ভালো থাকুন, শুভকামনা।

৪৩| ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যের জন্য (৪২ নং) রাকু হাসান এবং আপনাকে, উভয়কে ধন্যবাদ। দুটোই ভাল লেগেছে।

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০২

করুণাধারা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই, আবার ফিরে এসে এমন মন্তব্য করার জন্য।

৪৪| ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৬

মুক্তা নীল বলেছেন: যুগোপযোগী পোস্ট।
এখনকার বাচ্চাদের হাতে ট্যাব, মোবাইল ল্যাপটপ ব্যবহার যেন সাধারণ বিষয় । এটা বিজ্ঞান ও সময়ের স্বীকার মাত্র। যার ভালোর দিক থেকে খারাপের দিকটা-ই বেশী। মেধাবিকাশতো হচ্ছে ই না বরং চোখের ক্ষতি ।

অনেক দিন পর উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর লেখা টোনাটুনির বই, ছোট ছোট (হারিয়ে যাওয়া ছড়া), ঠাকুরমার ঝুলি, গোপাল ভাঁড় এর নামগুলো পড়লাম ।
আপনার এই পোস্টের মাধ্যমে আমিও আবার অনেক বছরের পুরনো গল্পগুলো পড়লাম । এই প্রজন্ম কত-ই না অভাগা!!!
জাপানি পাখা আর লুন্ঠন এর গল্প উপভোগ্য। ইউক্রেনের লোককথা বইয়ের গল্পগুলো আমার ভালো লেগেছিল ।আর আপনিতো
দেখছিল অনেক দেশের গল্প জানেন। আপনার মাধ্যমে আমারও জানা হলো।
ধন্যবাদ, আপা ভালো থাকবেন আর শুভ কামনা রইলো।

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৫

করুণাধারা বলেছেন: মুক্তা নীল, ছোটবেলায় আমি একবার কোন গল্প শুনলে বারবার সেটা মনে করতাম; কারণ গল্প শোনা ছাড়া আমার কোন বিনোদন ছিল না, খেলাধুলা ও করতে পারতাম না। এভাবেই আমি ছোটবেলায় শোনা অনেক গল্প এখনো মনে করতে পারি.......

সময়ের সাথে সাথে সব কিছু বদলে যায়, আমারও সেটা মেনে নেওয়া উচিত। কিন্তু আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না, ছোট একটা বাচ্চা একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বসে আছে!! আমার মনে হয় ৩/৪ বছর পর্যন্ত বাচ্চারা একা বসে গল্প না শুনে (স্ক্রিনে) বড় কারো কাছে গল্প শুনলে, প্রশ্ন করতে এবং প্রশ্নের জবাব পেতে পারে। এটা তার মানসিক উৎকর্ষের জন্য সহায়ক হয়।

সুন্দর মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ, অনেক শুভকামনা রইল মুক্তা নীল।

৪৫| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:০৮

সোহানী বলেছেন: এতো চমৎকার একটা লিখা মিস করলাম???? আবার আসবো অনেক কিছু নিয়ে কারন শিশুদেরকে নিয়ে আমার অনেক অনেক চিন্তা মাথায় গিজ গিজ করে। এই সময়টা আমার জীবনের সব রস চুষে নিয়ে যাচ্ছে.................. :(( :((

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৮

করুণাধারা বলেছেন: চমৎকার লেখা!!!! এমন মন্তব্যে খুশি হবার কথা, খুব খুশিও হলাম। :D

আমরা, বেশিরভাগ মানুষই ছোট শিশুদের শিশু হিসেবে না দেখে, দেখতে চাই বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত একজন মানুষ হিসেবে। তাই তার জন্য নানা আয়োজন করি, কম্পিউটারে কতটুকু দক্ষ হলো, ক্লাসে কতটুকু ভালো রেজাল্ট করলো, তার হিসাব করতে থাকি। এর মাঝে পুরনো দিনের সেই ছড়া কবিতা গল্প শোনাবার সময় কই....... কিন্তু তবুও মনে হয় মাঝে মাঝে ছুটির দিনে মা যদি সন্তানকে পাশে শুইয়ে বই পড়ে শোনান......

জানি প্রবাসী জীবনের ব্যস্ততা অনেক, তবু আপনার মাথায় শিশুদের নিয়ে যে চিন্তাগুলো গিজগিজ করছে সেগুলো লিখে ফেলতে পারলে খুব ভালো হয়, শিশুদের বিকাশ নিয়ে আমরা চমৎকার কিছু লেখা পেতাম!!

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ, সোহানী।

৪৬| ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২৬

জুন বলেছেন: হলদে ঝুটি মোরগটি গল্পের ছড়াগুলো করুনাধারা :)

"মোরগ ভায়া, মোরগ ভায়া,
মাথায় ঝুটি হলুদ ছায়া।
তেল চুক চুক তোমার গা,
রেশিমী তোমার দাড়িটা।
জানলা দিয়ে মুখ বাড়াও,
মটর শুটি খেয়ে নাও"।

"কোঁকোর কো কোঁকোর কো,
মুরগীরা সব খুটে খেলো
পায়না কেন মোরগগুলো"!

অনেক উপকথার শেষে থাকতো চার লাইনের এই ছড়াটি।

"আমিও ছিলাম বটে
মধু তুলেছি ঠোটে
দেখেছি গোফে চেটে
যায়নি কিছুই পেটে "

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৪

করুণাধারা বলেছেন: জুন, ছড়াগুলো খুবই ভালো লাগলো। পড়ার সাথে সাথে অনেকদিন পর চোখে ভেসে উঠলো জানলা দিয়ে মাথা বানানো মোরগের ছবি.........

শেষের চার লাইনের ছড়া টা অবশ্য আমার মনে আছে। এই ছড়াটার সাথে সাথে নিজেই একটা ছবি বানিয়ে ছিলাম, একটা সাদা টেবিল ক্লথ ঢাকা লম্বা টেবিল ঘিরে কয়েকজন বসে আছে, আর একটা বোতল থেকে চামচ দিয়ে নিয়ে মধু খাচ্ছে। সেই ছবিটাও মনে পড়ল অনেকদিন পর।

ছড়াসহ আবার ফিরে আসায় অনেক ধন্যবাদ জুন।

৪৭| ১৮ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:০২

মলাসইলমুইনা বলেছেন: প্রিয় ব্লগার করুণাধারা,

সবাইতো দেখি সব বলে ফেলেছে এই লেখা নিয়ে ।আমি লেট্ লতিফের জন্য কেউতো কিছুই বলার বাকি রাখেনি কি মুশকিল ! তাও কয়েকটা কথা বলি ।এই লেখায় নিজের কমেন্ট না থাকা একটা ব্লগীয় পাপ । আপনার নিচের অবজারভেশনটা খুব ভালো হয়েছে ।

আসলে এত ছোট শিশুদের জন্য যে বই লেখা যায়, লেখা দরকার, এই বোধটাই হয়তো আমাদের নেই। বাংলাপিডিয়ায় শিশুসাহিত্যর সংজ্ঞা কেন দেয়া আছে এভাবে:

"শিশুসাহিত্য শিশুদের উপযোগী সাহিত্য। সাধারণত ৬-১০ বছর বয়সী শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিবেচনায় রেখে এ সাহিত্য রচনা করা হয়। এই বয়সসীমার ছেলেমেয়েদের শিক্ষামূলক অথচ মনোরঞ্জক গল্প, ছড়া, কবিতা, উপন্যাস ইত্যাদিকেই সাধারণভাবে শিশুসাহিত্য বলে।" তাহলে ছয় বছরের কম বয়সীরা কি শিশু না! তাদের উপযোগী সাহিত্যর দরকার নেই!!


বাংলা পিডিয়া আশাকরি খানিকটা সংশোধন করবে তাদের বক্তব্য আপনার লেখার পরে ।আপনার ভাবনার মতো করে আমাদের দেশের প্রধান , শিল্পী, সাহিত্যিকরা হয়তো কখনোই ভাবেননি (সবেধন নীলমনি বরীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকুমার রায় ছাড়া খুব বেশি কেউ) । বাংলা সাহিত্যের (আমাদের দেশীয়) এদিকটা খুব রিচ না এখনো । বাচ্চাদের না থাকার ব্যাপারে আরেকটা দিক আছে বলে আমার কাছে মনে হয় সেটা সিনেমার দিকটা । যদি ভুল না হয় তাহলে এই ২০১৯ সালেও কিন্তু শিশুদের (দশ/বারো বছর পর্যন্ত ধরি ) জন্য কিন্তু আমাদের দেশে এখনো সিনেমা হয় না ।টেলিফিল্মও নিশ্চই হয়নি তেমন । অথচ আমেরিকায় আমাদের শহরের সিনেমা হলগুলো স্প্রিং আর সামারে সকালে সব সময়ের সকাল এগারোটার ওপেনিংয়ের বদলে দশটায় ওপেন করে ফার্স্ট শো বাচ্চাদের মুভির জন্য ! ভিজুয়ালটা কিন্তু খুব ইম্পরট্যান্ট বুঝবার জন্য, ভাববার জন্য আর অনুভব করার জন্য । যাহোক এটা আপনার লেখার বিষয় না ।তাও এটা দরকার মনে হয় আমার কাছে সেজন্যই বলা।আমার ছোট বেলায় আপনার বলা অনেকগুলো বইই আপনার বলা অকর্মার চিঠি, কুটকুটে বিছানা, লাল ঝুঁটি মোরগটি....... বোকা আইভানের গল্প খুব প্রিয় ছিল ।অনেকবার করে পড়তাম ।তখন না বুঝলেও এখন মনে হয় সেই গল্পগুলোর সাথে মনে মনে একাত্মতা গড়ে উঠেছিল বলেই এতো বার করে পড়া হয়েছিল । ওগুলো আমার চিন্তার সুযোগ অনেক বাড়িয়েছে সেটা আমি নিশ্চিত ভাবেই জানি ।আমার খেয়াল আছে অনেক ছোট বেলায় আমরা যখন জয়দেবপুরে থাকতাম তখন ওখানকার আঠালো লাল মাটি দিয়ে আমরা অনেক কিছু বানাতাম । সেই মাটি দিয়ে একবার একটা বিরাট প্লেন বানিয়েছিলাম রাশিয়ান একটা বইয়ের থেকে ফটো দেখেই ।

আপনার এই লেখাটা ব্লগ ইতিহাসের সেরা লেখাগুলোর মধ্যে সবাই বলবে বলে বিশ্বাস রাখি ।চমৎকার হয়েছে আপনার সব লেখার মতোই শুধু একটু বেশি ভালো লাগলো এটা। ভালো থাকবেন ।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৫

করুণাধারা বলেছেন: দুঃখিত! খুবই দুঃখিত মলা........, এই চমৎকার মন্তব্যটির এত দীর্ঘদিন প্রতিউত্তর করায়। আসলে নোটিফিকেশন এসেছিল কিনা জানিনা, চোখ এড়িয়ে গেছে। তাই এই ত্রুটি, প্রতিমন্তব্য করতে।

এই লেখাটা মূলত স্মৃতির পথে পিছু যাত্রা। আপনিও সেই পথে কিছুটা হেঁটে এলেন..... চমৎকার লাগলো, বই নিয়ে আপনার শৈশবের স্মৃতিচারণ। আপনি ঠিকই বলেছেন, কেন জানি আমাদের দেশে শিশুদের জন্য কোন সিনেমা তৈরি হয়নি এই ২০১৯ সালেও!! নাটক, গল্পের বই, কিছুই তেমন নেই! শিশু একাডেমী বলে একটা প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের কাজ মূলত শিশুদেরকে নাচ গান শেখানো।

আপনার প্রশংসা পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হলাম, অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন সবসময়।

৪৮| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:০৭

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: এই নিন কিছু রাশিয়ান শৈশব :

কল্পতরু

মোরগ ভাইটি

সাতরঙা ফুল


২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:১৯

করুণাধারা বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ স্বপ্নবাজ সৌরভ, ছবিগুলো দেখে খুব ভালো লাগলো। একটা বিশেষ ধন্যবাদ এই জন্য যে, শেষের ছবিটি দেখে আমার একটা ভুল ভাঙলো....... আমার ধারণা ছিল গল্পটার নাম বুদ্ধিমতী মাশা, এখন দেখছি সাতরঙা ফুল! তবে ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে যে মন্ত্র (বা কবিতা) বলতে হতো, সেটা মোটামুটি মনে আছে। মেয়েটার নাম সম্ভবত মাশাই ছিল........

অনেক শুভকামনা রইল স্বপ্নবাজ সৌরভ।

৪৯| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:২৬

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: কয়েকটা বইয়ের নাম সাজেস্ট করুন তো :)

২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২০

করুণাধারা বলেছেন:   এটাতো আমারও কায়দা আর্কিওপটেরিক্স, একটা মানুষের বইয়ের রুচি কেমন জানবার জন্য তার কাছে কিছু বইয়ের নাম জানতে চাই!!
যাই হোক, এই মুহূর্তে যে সব বই মনে হচ্ছে সেগুলো বলছি:

১) সুকুমার সমগ্র: হাসবার জন্য আর ভাবার জন্য। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে একটা মানুষ এত বই কি করে লিখতে পারে ভেবে পাই না।

২)রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ: যদিও ভাষাটা সেকেলে, কিন্তু প্রতিটা গল্প পড়ার পরে বুঝি ছোট গল্প কি জিনিস! আর জীবনকে ভীষণ ভাবে দেখা!

৩) ডঃ আনিসুজ্জামানের "বিপুলা পৃথিবী"

৪) অলকানন্দা প্যাটেলের "পৃথিবীর পথে হেঁটে"। এটা ঢাকার ইতিহাস, আত্মজীবনী সব মিলেমিশে চমৎকার বই। বেঙ্গল পাবলিকেশন্স এর।

৫) "আগুন মুখার মেয়ে", নূরজাহান বোসের বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রাপ্ত বই । প্রত্যন্ত এলাকার এক মেয়ের সংগ্রামী জীবনের গল্প। এর সাথে অনেক ইতিহাস জানা হয়ে যায়।

৬) কেরী সাহেবের মুন্সী। ইতিহাস জানার জন্য।

৭) সৈয়দ মুজতবা আলীর যেকোনো বই; রম‍্য আর জীবনবোধ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এসব বইতে।

৮) নবনীতা দেবসেনের "স্বজন সকাশে", অনেক লেখকদের সম্পর্কে জানা যায়, অবশ্য তারা ভারতীয় লেখক।

৯) শওকত আলীর "দলিল"।

১০) টলস্টয়ের অনুবাদ আর রাশিয়ান যেকোনো অনুবাদ। রাশিয়ান সাহিত্য যা পড়েছি, সবই আমার ভালো লেগেছে।

যথেষ্ট হলো, না? B-)

৫০| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪১

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: আরও চাই। তা এগুলো কেমন?

১/ ন হন্যতে
২/ শিবরামের যেকোনো বই
৩/ আ ব্রিফ হিস্ট্রি অফ টাইম
৪/ উত্তরাধিকার,কালবেলা,কালপুরুষ,মৌষলকাল
৫/ জরাসন্ধ রচনাবলি
৬/ কড়ি দিয়ে কিনলাম
৭/ প্রথম আলো
৮/ Physics of the Impossible
৯/ জাপানি রূপকথা
১০/ No Easy Day

আমারও এই মূহুর্তে এই কয়টাই মনে পড়ছে B-))
আপনি দশটা লিখলেন আমিও ;)

শেষে যথেষ্ট হলো, না B-)

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১০

করুণাধারা বলেছেন: আশ্চর্য! আমিও জরাসন্ধকে পাঁচ নাম্বারে রাখতে চাচ্ছিলাম। তারপর বেমালুম ভুলে গেছি। ন হন্যতে ভালো, কিন্তু সাথে লা নুই বেঙ্গলি পড়লে ভালো বোঝা যায়। Physics of the The Impossible আর No easy day পড়িনি, পড়েছি কিন্তু সবগুলোর নাম বলতে ইচ্ছে করেনি। ইংরেজি বইই যদি হবে, তাহলে আমার খুব পছন্দের The Vinci Code আর Lost symbol।

২৭ নম্বর রোডের মিনাবাজারের পিছনে বেঙ্গল এর একটা বইয়ের দোকান আছে। যেখানে চা কফি খেতে খেতে, অথবা না খেতে খেতে বই পড়া যায়। অনেক জায়গায় আছে, ইচ্ছামত বসে বই পড়া যায়, আর বেছে কেনাও যায়।


৫১| ২১ শে এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৫

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: বই কথা বলে, জীবনে জীবন যোগ করে। সুকুমার সমগ্র পড়িয়াছি B-))
রাশিয়ান দস্তয়েভস্কি'র কোনো বই পড়েছেন? রাশিয়ান সাহিত্য হলো মধু......
বিপুলা পৃথিবী টেবিলে পড়ে আছে, পুরোটা পড়িনি।

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৬

করুণাধারা বলেছেন: দস্তয়েভস্কির কোন বই পড়েছি বলে মনে পড়ছে না।

সুকুমারের Wit and Humor আমার খুব পছন্দ।

"গাধাটার বুদ্ধি দেখো, চাট মেরে সে নিজের গালে
কে মেরেছে দেখবে বলে চড়তে গেছে গাছের ডালে।"

এসব পড়তে আমার এখনো ভালো লাগে।

একটু ভুল করেছি, বিপুলা পৃথিবী আসলে বুড়োদের গল্প। :(

৫২| ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২৮

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: ড্যান ব্রাউনের বই দুটো পড়েছি :) অসাধারণ লেখার হাত উনার।

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: ঠিক! এই ধরনের লেখা আমার পছন্দ।

৫৩| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১:৪১

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: আপু , আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস।
বুদ্ধিমতী মাশা

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৭

করুণাধারা বলেছেন: : এই ক্ষুদ্র প্রয়াস কিন্তু বিশাল ফল বয়ে এনেছে। অনেকেই পোস্ট পড়ে বিমলানন্দ লাভ করেছেন, আমিও তাদের একজন। অনেক ধন্যবাদ পোস্টের জন্য, স্বপ্নবাজ সৌরভ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.