নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এইসব শিশুরা: ২. অসহায়, অসুস্থ শিশু।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৪২



এইসব শিশু কঠিন রোগে আক্রান্ত। শুধু কঠিন রোগ বললে পুরোটা বলা হয় না, এমন রোগে আক্রান্ত যার নিরাময় সম্ভব, কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় সাধ‍্যের বাইরে। চিরকাল যে রোগাক্রান্ত ছিল তা কিন্তু না, অন্য শিশুদের মত এরাও হেসে খেলে বেড়াতো, তারপর হঠাৎ একদিন জ্বর বা অন্য কোন উপসর্গ থেকে ধরা পড়ে যে, তারা শরীরে কোন রোগ বয়ে বেড়াচ্ছে। এমন অবস্থায় ডাক্তার মা- বাবাকে বলেন, সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হবে যদি এই এই চিকিৎসা করা যায়!  চিকিৎসা ব্যয় সাধারণত অনেক বেশি হয়, (আমি উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানদের কথা বলছি না) তবু ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়কুটো আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে, তেমনি এমন শিশুদের মা বাবা সন্তানকে বাঁচাবার জন্য প্রবলভাবে চেষ্টা করতে থাকেন। প্রথমে নিজস্ব সঞ্চয় (যদি থাকে) শেষ করেন, তারপর ঘটি বাটি বিক্রি করতে থাকেন, তারপর ঋণ করে সন্তানকে বাঁচাবার যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন... অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হন। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান হয়না!

খেয়া (কাল্পনিক নাম) আমার পরিচিত ফুটফুটে প্রাণবন্ত একটা মেয়ে! ওর বয়স যখন ছয় বছর, তখন ধরা পড়ল এক কঠিন রক্ত-রোগ। দেশের নানা হাসপাতালে ঘুরে রোগের কোন সুরাহা না হওয়ায় খেয়ার বাবা-মা ধারদেনা করে পাঁচ/ছয় লক্ষ টাকা নিয়ে চেন্নাই গেলেন, সে টাকা শেষ হয়ে গেল কিন্তু চিকিৎসা শেষ হল না; আরো বারো লক্ষ টাকা দরকার, দুই মাসের মধ্যে অস্ত্রোপচার (বোন ম‍্যারো ট্র‍্যান্সপ্লান্ট) করতে হবে। নিরুপায় বাবা-মা অর্থ সংগ্রহের জন্য খেয়াকে নিয়ে দেশে ফিরলেন। এবার পত্রিকা, টিভি, ফেসবুকে খেয়ার জন‍্য সাহায্যের আবেদন জানান হল। ব‍্যাপক প্রচারণা আর সকলের আন্তরিক চেষ্টায় সাহায্য এলোও, পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে সত্তর হাজার টাকা পর্যন্ত; দেড় মাসে জমা হল আট লক্ষ টাকা। সেই টাকাসহ খেয়াকে নিয়ে বাবা-মা চেন্নাই গেলেন। একটাই ভাবনা তাদের, পুরো টাকা জোগাড় হলে মেয়ের অস্ত্রোপচার হবে, না হলে তাদের আদরের কন্যা টি মারা যাবে।

পুরো টাকা জোগাড় হয়নি, কিছুদিন পর খেয়া মারা গেল।

অহনের (সত্যিকারের নাম) ক‍্যানসার। ওর বয়স বোধহয় ১০/১১ বছর হবে, ফেসবুকে নিজেই কথা বলছিল যে, সে বাঁচতে চায়, সকলে যেন তাকে সাহায্য করেন। ওর দেয়া নাম্বারে ফোন করলাম। ওর মা জানালেন ছয় লক্ষ টাকা জমা হয়েছে, দরকার পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকা। আমার সাধ‍্য অতি সামান্য; আমি বুঝতে পারলাম না কি বলবো... ফোন রেখে দিলাম।

এমন আরও কত খেয়া, অহন আছে... নিরুপায় বাবা-মায়ের চোখের সামনে এরা দিনে দিনে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়।

"শুয়ে শুয়ে অশোক পাতায়
 মুমূর্ষু শিশির ভাবে হায়,
 কোন সুখ ফুরালো না যার
 তার কেন জীবন ফুরায়?"

 অনেক কাল আগে, বিটিভিতে প্রচারিত হত হুমায়ূন আহমেদের লেখা তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক, এইসব দিনরাত্রি। নাটকে একটা ছোট মেয়ে ছিল, নাম ছিল টুনি। সেই মেয়েটার ক্যান্সার ধরা পড়ায় মধ্যবিত্ত মা বাবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, বিদেশে কি করে চিকিৎসা করাবেন তাই ভেবে! তাদের এক উচ্চবিত্ত আত্মীয় টুনিকে চিকিৎসা করাতে জার্মানিতে নিয়ে যান। টুনিকে নিয়ে দর্শকদের প্রবল উৎকণ্ঠা শুরু হয়। এই পর্যায়ে কি করে জানিনা, জানা যায় যে টুনি মারা যাবে- অমনি সবাই (তাদের মধ্যে ছিল হুমায়ূন আহমেদের নিজের মেয়েরা) লেখককে অনুরোধ জানাতে থাকে, টুনিকে কে যেন বাঁচিয়ে রাখা হয়। হুমায়ূন আহমেদ অনুরোধ রক্ষা করেননি। টুনির মৃত্যু কাল্পনিক হলেও, সেসময় আমাদের দুঃখটা ছিল আসল। 

আজ নানারকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থাকায় এমন অনেক টুনির অসুস্থতার খবর পাই,  টাকার অভাবে এরা ঠিকমতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায়।

 দুঃখ হয় খুব... কেন যে এরা এদেশে শিল্পী হয়ে জন্মালো না!!





মন্তব্য ৫৬ টি রেটিং +১৮/-০

মন্তব্য (৫৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:০২

চাঁদগাজী বলেছেন:


হিউম্যান ফিজিওলোজী অনুসারে, ১ জন বয়স্ক থেকে একজন শিশুকে কঠিন রোগ থেকে বাঁচানো কিছুটা সহজ; ভারতে শিশুদের যেসব চিকিৎসা হচ্ছে, এসব চিকিৎসা বাংলাদেশে অর্গেনাইজ করা সম্ভব; সমস্যা হচ্ছে, মুহিত, ক্রিকেট কামাল, আবদুল হামিদ সাহেব, নাহিদদের বাচ্চারা আজকে আর শিশু নয়; এদের মগজে শিশু নেই!

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

করুণাধারা বলেছেন: ইচ্ছা থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা করা সম্ভব। মাত্র কয়েকশো কোটি টাকা খরচ করেই অত্যাধুনিক হাসপাতাল বানানো, এবং ডাক্তারদের ট্রেনিং দিয়ে আনা সম্ভব। যেহেতু এদেশের হর্তাকর্তাদের সর্দির চিকিৎসাও বিদেশে হয়, তাই তারা এদেশে উন্নত হাসপাতাল এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী হন না। গতকাল খবরে দেখলাম, চাঁদ দেখার জন্য কয়েকশো কোটি টাকা ব্যয় করে থিওডোলাইট কেনা হবে গ্রামে গ্রামে দেবার জন্য, অথচ মাত্র ২২ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি মাত্র টেলিস্কোপ কিনে নাকি চাঁদ দেখা সম্ভব!! এই কয়েকশো কোটি টাকায় হাসপাতাল বানিয়ে দেয়া যেত...

সমস্যা হচ্ছে, মুহিত, ক্রিকেট কামাল, আবদুল হামিদ সাহেব, নাহিদদের বাচ্চারা আজকে আর শিশু নয়; এদের মগজে শিশু নেই! ঠিক!

২| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:০৫

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: কষ্ট লাগে খুব এসব অসহায় মা বাবা আর শিশুদের অসুখের কথা শুনলে :(

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪

করুণাধারা বলেছেন: যে যতদিন হায়াত নিয়ে এসেছে সে ততদিনই থাকবে, একথা জানি। কিন্তু তারপরও এই কচি মুখগুলো দেখলে খুব কষ্ট হয়। আমি যে মেয়েটির কথা বলেছি, খেয়ার, বাঁচবার এত ইচ্ছা ছিল তার...

মন্তব্য এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হলাম, অসংখ্য ধন্যবাদ কাজী ফাতেমা ছবি। ভালো থাকুন সবসময় পরিবারের সবাইকে নিয়ে।

৩| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:১৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা কিছু হলেই বিদেশে যায় চিকিৎসা করাতে। এরা টাকা পায় কই? হারামের কামাই দিয়ে এইসব পরগাছাগুলো ভালো চিকিৎসা নিয়ে বেচে থাকে, আর সাধারন মানুষ ধুকে ধুকে মারা যায়। এরা দেশের চিকিৎসাখাতকে উন্নত করার কোন চেষ্টাই করে না। X(

এদের জন্য অভিশাপও কম হয়ে যায়।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২০

করুণাধারা বলেছেন: আমার মনে হয় বাংলাদেশের ডাক্তারদের কোন আত্মসম্মানবোধ নেই, না হলে অতি সামান্য রোগ হলেও রাজনীতিকরা যখন এই ডাক্তারদের উপেক্ষা করে ছোটেন আশেপাশের অথবা দূরের দেশে, তখন এই ডাক্তারদের কোন লজ্জা হয় না কেন!!। ক'দিন পরপর চেকআপের জন্য যে বড় পদের অধিকারীরা ছোটেন সিঙ্গাপুরে, তারা সহজেই সিঙ্গাপুরের মতো একটা হাসপাতাল বানিয়ে নিতে পারেন এ দেশে। সেই হাসপাতাল খরচ উঠে আসবে, কারণ দেশের মাথারা যদি এখানে চিকিৎসা করেন, তবে অন‍্যরাও চিকিৎসা করতে ভরসা পাবে আর মধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে চিকিৎসার খরচ।

সাধারণ মানুষ যখন ধুঁকে ধুঁকে মরে, তখন বিখ্যাত সাহিত্যিকদের শিল্পীদের রাষ্ট্রীয় খাত থেকে চিকিৎসা ব‍্যয় বহন করা হয়, কোটি টাকা, যদিও তাদের তার প্রয়োজন থাকে না। সৈয়দ শামসুল হকের গুলশানে বিলাসবহুল বাড়ি, অর্থের অভাব নেই, অথচ তার লন্ডনে চিকিৎসার জন্য টাকা দিলেন দেশের জনগণ। যখনই যে শিল্পী অসুস্থ হন তখনই তিনি রাষ্ট্রীয় খাত থেকে চিকিৎসা ব্যয় লাভ করেন।

এদের জন্য অভিশাপও কম হয়ে যায়। X(

৪| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৭

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক অনেক ভুয়া সাহায্যের আবেদন থাকে।
সঠিক ভাবে যাচাই করে সাহায্য করা উচিত।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

করুণাধারা বলেছেন: ঠিক বলেছেন, এমন হতে শুনেছি আমিও। তবে আমি যৎ সামান্য যা সাহায্য করতে পারি, তা যাচাই করেই দেই। এদের মধ্যে মাত্র একজন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পেয়েছিল, সুস্থ্যও হয়েছে। বাকি সবারই কিছু টাকা বাকি থেকে গেছে... তাই তারা চিকিৎসা করতে পারেনি।

৫| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৪২

রাজীব নুর বলেছেন: আহারে---
প্রভু তুমি এইসব শিশুদের ভালো করে দাও। আর যে সমস্ত শিশু আগামী দিনে পৃথিবীতে আসবে তাদের সবল সুথ করে পাঠাও।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

করুণাধারা বলেছেন: আপনার প্রিয় রবীন্দ্রনাথের থেকেই বলি:

ইহাদের করো আশীর্বাদ
ধরায় উঠেছে ফুটি শুভ্র প্রাণগুলি
নন্দনের এনেছে সংবাদ...

নিষ্পাপ বাচ্চাদের কষ্ট, অসহায়ভাবে চেয়ে দেখার মত কষ্টকর আর কিছু নেই।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, রাজীব নূর।

৬| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৭

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন কামনা কর। এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করতে না পারার যন্ত্রণা অসহনীয় লাগে আমার কাছে।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩০

করুণাধারা বলেছেন: এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করতে না পারার যন্ত্রণা অসহনীয় লাগে আমার কাছে।

আমার কাছেও অসহনীয় লাগে। প্রয়োজনের তুলনায় সাধ্য অতি সামান্য...

৭| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৫

নজসু বলেছেন:




দিন চলে যায়
রাতের পর আলো ‌আসে।
আমাদের হাহাকারগুলো আলো হয়ে ফোটেনা।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩২

করুণাধারা বলেছেন: দিন চলে যায়
রাতের পর আলো ‌আসে।
আমাদের হাহাকারগুলো আলো হয়ে ফোটেনা।


চমৎকার বলেছেন! হয়তো কখনো হাহাকারগুলো আলো হয়ে আসবে, কিন্তু সেই দিনটা মনে হয় আমার দেখা হবে না। :(

৮| ১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:১৪

মা.হাসান বলেছেন: তেলাপোকা হয়ে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে মানুষ হতে ইচ্ছে করে, হয়তো এই ইচ্ছেও একদিন মরে যাবে।
খোদার কাছে প্রার্থনা , যেন তিনি আমাদের রাজনীতিবিদদের হাজার বছর পরমায়ু দেন , তারা আরো হাজার বছর ধরে উন্নয়ন ঘটাতে থাকুক।

১২ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: উন্নয়ন তো বটেই! প্রতিদিন নব নব উন্নয়নের আইডিয়া মাথায় আসছে! গতকালের আইডিয়া: প্রতিটি ৫০ লক্ষ টাকা দামের থিওডোলাইট কেনা হবে চাঁদ দেখার জন্য, গ্রামে গ্রামে তা দেয়া হবে। ৬৪০০০ গ্রামের মধ্যে অন্তত ৫০০০০ গ্রামে দেওয়ার পরিকল্পনা নিশ্চয়ই চূড়ান্ত হবে...

তেলাপোকার জীবন! ভালোই বলেছেন। :(

৯| ১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


"লুনার ইয়ার" ভুল পরিমাপ, ইহা ত্যাগ করার দরকার; চাঁদ দেখার দরকার হবে না।

১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৮

করুণাধারা বলেছেন: দেখেন এই কথাটা সরকারকে বোঝাতে পারেন কিনা! তাহলে থিওডোলাইট কেনার টাকা বাঁচিয়ে দিয়ে আপনার প্রস্তাবিত অনেকগুলো আধুনিক স্কুল এবং হাসপাতাল বানাতে পারবেন।

১০| ১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৬

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কিছু অসাধু মানুষ মিথ্যা সাহায্যের আবেদন করে মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে ফেলেছে এখন প্রকৃত ভুক্তভোগীরাও সাহায্য পাচ্ছে না। এমনকি সামুর একজন সাবেক ব্লগারও এ কাজ করে এখন পালাতক।

১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

করুণাধারা বলেছেন: আমার এখন মনে হচ্ছে, এই পোস্ট দিয়ে আমার একটা বড় লাভ হয়েছে- এটা জানতে পারলাম যে, এই ধরনের ব্যাপারেও কেউ মিথ্যা কথা বলতে পারে। সামাজিক মাধ্যমের সাথে আমার তেমন পরিচয় নেই, অল্প কাল যাবৎ প্রিয়জনদের ছবি দেখার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছি, তাই হয়তো এমন প্রতারণার কথা কানে আসেনি। ধন্যবাদ বিষয়টা শেয়ার করার জন্য।

১১| ১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৭

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: কষ্ট দিনদিন বেড়েই চলে.....

এদেশের সবার সবকিছু যেন খুবই চেনা,

দুই দিন হইচই, তৃতীয়দিন লোক কই !!

ভালো একটা বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। গ্রামে তো ভূল চিকিৎসার কারনে বহু রোগী মারা যায়। এসব শিশুদের নিয়ে কিছু করা দরকার।


তবে ব্লগে একসময় মিথিলা নামের এক কাল্পনিক মেয়েকে সাহায্য করা নিয়ে নানান নাটক হয়েছিল। পরে সেই মিথিলার খোঁজ আর পাওয়া যায় নি।


তাই সহায়তা চাই তার,
আছে যার দরকার।

এরপর আশাকরি অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কিছু লিখবেন।

১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৩

করুণাধারা বলেছেন: মাঝে মাঝে কয়েকজন ব্লগারকে সাহায্য চাইতে দেখেছি, আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি তাই সাহায্য করি নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে এমন প্রতারণা হয় এটা আমি জানতাম না। যখনই দেখেছি কোন ছোট শিশুর চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন করা হয়েছে, তখনই আমার খেয়ার কথা মনে হয়ে গেছে আর আমি নিজের কাছে টাকা না থাকলেও অন্যদের কাছ থেকে নিয়ে সাহায্য পাঠিয়েছি। এখন থেকে তাহলে এই জিনিস যাচাই করে নেব। ধন্যবাদ আর্কিওপটেরিক্স এমন তথ্য শেয়ার করার জন্য

অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে ব্লগে লেখা হয়েছে অনেক। একজন ব্লগার তার অটিস্টিক শিশু নিয়ে কিভাবে জীবন সংগ্রাম চালাচ্ছেন, সেটা
বিস্তারিত লিখেছিলেন। তবে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে আমার পড়া সেরা পোস্ট এটি। view this link

ভালো থাকবেন আর্কিওপটেরিক্স।

১২| ১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০১

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বুকচাপা কষ্ট নিয়ে তাদের বাবা মায়ের বেঁচে থাকা কতই না পীরাদায়ক। আহ্ ভিতরটা ফেটে যাচ্ছে আমার।

১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৬

করুণাধারা বলেছেন: ঠিক তাই, মেঘ প্রিয় বালক। আদরের সন্তান যন্ত্রনা পাচ্ছে, যন্ত্রনা পেতে পেতে মারা যাচ্ছে, অথচ অর্থের অভাবে মা বাবা কিছু করতে পারছেন না- এটা খুবই বড় কষ্টের ব্যাপার।

মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

১৩| ১২ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৫

সায়ন্তন রফিক বলেছেন: শিশুমৃত্যু বিশেষ করে এরকম মৃত্যু মেনে নেয়া কষ্টকর।
পোস্টের শেষ বাক্যটা তাৎপর্যময়।

১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:৫৮

করুণাধারা বলেছেন: অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় এভাবে মৃত্যু সত্যি কষ্টকর।

শেষ বাক্যটি লক্ষ্য করায় ধন্যবাদ সায়ন্তন রফিক। এদেশে শিল্পী সাহিত্যিক অসুস্থ হলে চিকিৎসা সহায়তার নামে বড় অঙ্কের টাকা পেয়ে থাকেন, অন‍্যরাও যদি এভাবে পেত...

১৪| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:০১

সুমন কর বলেছেন: এসব লেখা এবং কথা, মনটাকে ভারী করে তোলে।

১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:০৮

করুণাধারা বলেছেন: আমারও মন ভারী হয়ে এসেছিল লিখতে গিয়ে; ক্যান্সার আক্রান্ত একটি একটা মেয়ের মৃত‍্যুর কথা মনে পড়ছিল। কিন্তু "সত্য যে কঠিন..." তাই কঠিন কথা গুলো লিখে ফেললাম।

মন্তব্য এবং প্লাসের মাধ্যমে অনুপ্রেরণা দেয়ায় অসংখ্য ধন্যবাদ, সুমন কর। শুভকামনা রইল।

১৫| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:৪৭

মনিরা সুলতানা বলেছেন: শেষ লাইনে অনেক কথা বলা হয়ে গেলো :(

১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:১৮

করুণাধারা বলেছেন: শেষ লাইনে বলা কথাটাই আসল কথা, এটা বলার জন্যই এত কথা বলা! বহুদিন থেকে রাগ মনে চেপে রেখেছি X(

মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য ধন্যবাদ, মনিরা।

১৬| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:৫৩

মুক্তা নীল বলেছেন:
আপা ,
এবার মানবিক একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।কষ্ট লাগে এই ধরনের কথা যখন শুনি টাকার অভাবে কেউ মারা যায়।যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসুক এটাই কামনা করি। খুব আবেগ ও বিবেক দিয়ে লেখাগুলো পড়ে মনটা জানি কেমন হয়ে গেল ।

১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:২২

করুণাধারা বলেছেন: ধন্যবাদ মুক্তা নীল, এমন চমৎকার মন্তব্যের জন্য।

টাকার অভাবে চিকিৎসা হয় না, আর এই কারণে মৃত্যু। এটা বড় দুঃখজনক।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য ধন্যবাদ, মুক্তা নীল। শুভকামনা রইল।

১৭| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা,




একেবারে শেষের লাইনটি, আপনার আগের পর্বের বিষয়টাকে মিলিয়ে নিলে করুন এক হিউমার।

কোন সুখ ফুরালো না যার
তার কেন জীবন ফুরায়!


সহায় সম্পদ বিক্রী করে, ধার দেনা করে অসহায় বাবা-মায়ের শত চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে আসলেই এই সব অসুস্থ্য শিশুদের জীবন কেন যে ফুরায়......................

বিশাল উপন্যাস "দ্য মাগাস" বইটিতে ঈশ্বরের খোঁজে দিনমান আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে তাকে ডাকতে ডাকতে অন্ধ হয়ে যাওয়া লোকটির মতোই বলতে ইচ্ছে করে ----" ওহ গড! হোয়্যার আর য়্যু? "

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:২৪

করুণাধারা বলেছেন: একেবারে শেষের লাইনটি, আপনার আগের পর্বের বিষয়টাকে মিলিয়ে নিলে করুন এক হিউমার।

মিলাতে যাচ্ছিলাম, তখন মনে পড়ল শুধু শিল্পী হলেই হবে না, শিল্পীকে চেতনাসম্পন্ন হতে হবে। তাই মেলানো গেল না:( কিছুই করার নেই; শিশুদের কষ্টকর মৃত্যু দেখতে কষ্ট হলেও সইতে হবে...

চমৎকার মন্তব্য আর প্লাসে অনুপ্রাণিত করায় অনেক ধন্যবাদ, আহমেদ জি এস।

১৮| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ১১:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপনার পরপর দুটি পোস্ট খেয়াল করিনি আপু। এই পোস্টটি কালকে পড়াশোনা করে আবার মন্তব্যে আসবো।
আপাতত পোস্টে লাইক।

শুভ রাত্রি।

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:২৬

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্য আর প্লাস দিয়ে অনুপ্রাণিত করার অনেক ধন্যবাদ পদাতিক চৌধুরী, শুভকামনা।

১৯| ১২ ই জুন, ২০১৯ রাত ১১:৩৯

শায়মা বলেছেন: শিশুদের হঠাৎ এমন আকস্মিক অসুস্থতা বা দূরারোগ্য ব্যাধি মা বাবার জন্য কতখানি কষ্টের তা ভাবনারও বাইরে..

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:২৯

করুণাধারা বলেছেন: শিশুদের হঠাৎ এমন আকস্মিক অসুস্থতা বা দূরারোগ্য ব্যাধি মা বাবার জন্য কতখানি কষ্টের তা ভাবনারও বাইরে..

আসলেই!! একটা পরিবারের সমস্ত সুখ-শান্তি-আনন্দ যেন এক ফুৎকারে নিভে যায়!!

মন্তব্য আর প্লাস দিয়ে অনুপ্রাণিত করেছে শায়মা, ভালো থেকো।

২০| ১৩ ই জুন, ২০১৯ রাত ১২:২১

আরোগ্য বলেছেন: হৃদয় ভারাক্রান্ত। মন্তব্য করার ভাষা নেই আপু।

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৩৩

করুণাধারা বলেছেন: জানিনা কেন হৃদয় ভারাক্রান্ত হল আরোগ্য, কারোর কথা মনে পড়ল কি?

একটা ছোট মেয়ের কথা মনে করে এটা লিখেছি। অবশ্য সে ছাড়াও আরো অনেক ছোট বাচ্চাদের দেখেছি, ঠিক এই ছবির শিশুটার মত, কেমোর প্রভাবে সব চুল পড়ে গেছে!!

শুভকামনা রইল, আরোগ্য।

২১| ১৩ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৬:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: শিশুদের এমন অসুস্থতা একটা পরিবারের জন্য যে কত কষ্টের..........

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৩৫

করুণাধারা বলেছেন: শিশুদের এমন অসুস্থতা একটা পরিবারের জন্য যে কত কষ্টের..........

ঠিক তাই। তাই সব সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, সব শিশু যেন সুস্থ ভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

২২| ১৩ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৮:৫৩

জুন বলেছেন: করুনাধারা
বড় মর্মান্তিক একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন । ছোট ছোট শিশুদের অকাল মৃত্যু শুধু তার বাবা মা আত্মীয় স্বজনাই নন যারা শুনে তাদেরও অনেক কষ্ট হয় মেনে নিতে । আমার এক আত্মীয়র বারো বছরের ছেলে ক্যান্সার ধরা পরার খুব অল্প সময়ের মাঝেই মারা গিয়েছিল । তার বাবার অগাধ সম্পত্তি আর আমেরিকার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ চিকিৎসায়েও তাকে বাচিয়ে তুলতে পারে নি । সেই ফুটফুটে সুন্দর ছেলেটাকে যারাই দেখেছিল তারাই আফসোস করেছে ।
কষ্টকর ভালোলাগা লেখা ।
+

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪৬

করুণাধারা বলেছেন: সত্যি খুব মর্মান্তিক! আমি যদিও লিখেছি সেই সব শিশুদের কথা, অর্থের অভাবে যাদের চিকিৎসা পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায় না এবং মারা যায়। কিন্তু কোটি কোটি টাকা আছে এমন মা-বাবার শিশু সন্তান সব রকমের চিকিৎসা ব্যর্থ করে মারা যায়, যেমন আপনি বললেন; সেটাও খুব দুঃখজনক। আমি এখানে একটা কবিতার চার লাইন উদ্ধৃত করেছি, এটা প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক তার ক্যান্সারের মৃত্যুবরণকারী ছয় বছরের ছেলের মৃত্যু দিবসের শোক বার্তায় লিখেছিলেন, মন খারাপ করে পড়তেই মুখস্থ হয়ে গিয়েছিল। এই সব মৃত্যুই খুব দুঃখজনক।

মন্তব্য ও প্লাসে অনুপ্রাণিত করায় ধন্যবাদ জুন।

২৩| ১৩ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৯:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের সুন্দর উত্তর দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪৭

করুণাধারা বলেছেন: আবার ফিরে আসায় ধন্যবাদ, রাজীব নুর।

২৪| ১৩ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪৯

গড়ল বলেছেন: শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য জনমত গঠন করা উচিৎ, অন্তত ১০-১২ বছর পর্যন্ত অবাধ চিকিৎসা সুবিধা থাকা উচিৎ এবং নিয়ম করে ছয় মাস অন্তর অন্তর চেক-আপ বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। খুবই হৃদয়গ্রাহী বিষয় নিয়ে পোষ্ট দিয়েছেন।

১৪ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৩

করুণাধারা বলেছেন: শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, তাই এদের শিক্ষার সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন। আমাদের দেশের শিশু হাসপাতাল শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে, কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিশুর জন্য এই একটি হাসপাতাল যথেষ্ট নয়। বেসরকারি পর্যায়ে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত শিশুদের জন্য হাসপাতাল স্থাপনের জন্য। কয়েকজন বিত্তবান অবশ্য ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন, অন্যদেরও এগিয়ে আসা উচিত।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ গড়ল। শুভকামনা রইল।

২৫| ১৩ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৯

নীল আকাশ বলেছেন: ভাল বিষয় নিয়ে লিখেছেন।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে এইসব চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য হাস্পাতাল না করে আসমানে আবার সাটেলাইট পাঠানো হবে ঈদের চাঁদ দেখার জন্য।
যার বাচ্চার এই রকম হয় তারাই জানে এটা কতটুকু কষ্টকর এটা বাবা মার জন্য সহ্য করা!
ধন্যবাদ।

১৪ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫১

করুণাধারা বলেছেন: বহুদিন পর আপনাকে ব্লগে দেখতে পাচ্ছি, তাই আনন্দিত বোধ করছি। আশা করি নিয়মিত হবেন এখন থেকে।

আপনার নিশ্চয়ই থিওডোলাইট দেখা আছে, এটা সার্ভেতে ব্যবহার হয়। সেই থিওডোলাইট নাকি এখন চাঁদ দেখার কাজে কেনা হবে প্রতিটি ৫০ লক্ষ টাকা করে! ৬৪ হাজার গ্রামের জন্য যদি ১০০০০ এমন থিওডোলাইট কেনা হয়, তবে তার খরচ ৫০০০ কোটি টাকা!! এই টাকায় অনেকগুলো উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি করা যেত, যেখানে এমন শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পেত। চাঁদ দেখার জন্য একটি মাত্র টেলিস্কোপই যথেষ্ট, তার দাম ২২ লক্ষ টাকা।

এসব ভেবে কি আর হবে! ভালো থাকুন, শুভকামনা রইল।

২৬| ১৪ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৭:৫২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: অতি মুল্যবান সমাজ সচেতনতামুলক পোষ্ট । পোষ্টে যে সকল তথ্য চিত্র তোলে ধরা হয়েছে তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবী রাখে । অসহায় শিশুদেরে যে করুন চিত্র তোলে ধরা হয়েছে তা যে কোন হৃদয়বান মানুষের চোখকে অশ্রু সজল করবে । শিশুরা ফুলের মতো স্নিগ্ধ, পবিত্র ও নিষ্পাপ। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। ভবিষ্যৎ শান্তি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা নির্ভর করে আজকের শিশুদের ওপর। সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়বে এ শিশুরাই। পৃথিবীর হাসি-গান-আনন্দের নিরন্তর উৎস হলো তারা। আজকের অবুঝ শিশুরাই হবে আগামীর স্বপ্নময় ভবিষ্যতের দিশারি। এদের মধ্যে কেউ হবে বিজ্ঞানী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাষ্ট্রনায়ক। আবার কেউ ঝরে যাবে ভবিষ্যতের ক্রুর, বৈরী পৃথিবীর ক্ষুধা দরিদ্র, পুষ্টিহীনতা, নিরাপত্তাহীনতার আবর্তে। কোন সুখ ফুরালো না যার, তার কেন জীবন ফুরায়! অল্প এ কটি কথায় আপনি সুন্দর করে বলে দিয়েছেন তাদের অসহায়ত্বের করুন গাথা ।

আমরা ভুলে যাই মানব জাতির সর্বোত্তম যা কিছু দেওয়ার আছে, শিশুরাই তা পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বড়ই দুর্ভাগ্যের বিষয়, লাখ লাখ শিশু অসহায় হয়ে পড়ে আছে আমাদের সমাজে, কেও হত দরিদ্র ঘরে জন্ম নিয়ে আবার কেও শারিরিকভাবে বিবিধ ধরনের প্রতিবন্দী হয়ে পরিনামে তারা মানবেতর জীবনযাপনে হয়ে পরে বাধ্য । তাদের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য কিছু কার্যক্রম ও কর্মসুচী থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত । এর ফলে দেশের সব শিশুদের জন্য সমাজের সকলের সচেতনতা প্রয়োজন । শিশুদের প্রতি হৃদয়বান মানুষের সহানুভূতি বৃদ্ধি পাওয়াটাও খুবই জরুরী । কিন্তু কিছু সুযোগ সন্দানীদের কারনে তাও আজ প্রশ্নের সন্মুখীন । এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্য জনক ।

আমরা সকলেই জানি শিশুদের জন্য পৃথিবী জুরেই রয়েছে বেশ কিছু স্বিকৃত অধিকার যা বিশ্বের সব দেশের সকল শিশুর ক্ষেত্রেেই সমানভাবে প্রযোজ্য । এক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র, সাদা-কালো তথা বর্ণবৈষম্যের কোনো প্রভাব পড়ার কথা না । জাতি, ধর্ম, বর্ণ অথবা জাতীয়তা নির্বিশেষে শিশুদের সমান অধিকার ভোগ করারই কথা। স্বাধীন, মুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ সুষ্ঠু এবং স্বাভাবিক বিকাশে শিশুরা বিশেষ নিরাপত্তা ও অবাধ সুযোগ ভোগ করবে এটাই সকলের কাম্য। জন্মসূত্রে প্রতিটি শিশুর একটি নাম ও জাতীয় পরিচয় থাকবে। আবাসিক সুবিধা, প্রচুর পুষ্টি, বিনোদন ও স্বাস্থ্য পরিচর্যাসহ সামাজিক সুবিধা থাকবে। পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের শুশ্রুষা, শিক্ষা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। যতদূর সম্ভব মা-বাবার আশ্রয়ে ও তত্ত্বাবধানে প্রীতি ও সমঝোতা এবং নিরাপত্তার স্নেহময় পরিবেশে শিশুরা থাকবে। স্বকীয় সত্তা বিকাশে সমান সুযোগ এবং বিনা ব্যয়ে শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। দুর্যোগের সময় শিশু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপত্তা ও ত্রাণ পাবে। অবজ্ঞা, নিষ্ঠুরতা এবং শোষণের বিরুদ্ধে শিশুরা পাবে নিরাপত্তা । ধর্ম-বর্ণ বা অন্য যেকোনো ধরনের বৈষম্য থেকে নিরাপত্তা এবং শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের পরিবেশে শিশুকে গড়ে তোলার বিষয়ে রয়েছে বিশ্ব রাস্ট্রসংঘের স্বীকৃত কর্মপন্থা ও নীতিমালা । শিশু অধিকারগুচ্ছের মধ্যে তার বেঁচে থাকার জন্য স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের অধিকার অন্যতম। তার বিকাশের জন্য শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান, অবসর ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার , সমাজ পরিবার ও সকলের ।

কিন্তু দুর্ভাগ্যেরে বিষয় হলো শুধু অসহায় কেন, সমাজের কোন শিশুই তাদের অধিকার সম্পর্কে কিছুই জানে না। শিক্ষার আলো থেকে অসহায় ও হতদরিদ্র শিশুরা হয়ে আছে বঞ্চিত। অনেকেরই যদিও বা একটু-আধটু স্কুল-মাদরাসায় যাওয়ার সুযোগ হয়, তারাও দারিদ্র্যের কশাঘাতে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে জীবিকার তাগিদে কাজে নামতে বাধ্য হয়। যে বয়সে তাদের হাতে স্কুল-মাদরাসার বই-খাতা থাকার কথা, সেই বয়সে কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ কাগজ কুড়াচ্ছে, কেউ ইট-পাথর ভাঙছে, আবার কেউ বাসের হেলপার হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এমনিভাবে আমাদের দেশে শিশুশ্রম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর প্রধান কারণ দারিদ্র্য। দারিদ্র্য দূর করতে না পারলে শিশুশ্রম বন্ধ হবে না। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই এ শিশুদের জীবনে বিকাশ এবং শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বেশির ভাগ পথশিশুই খাদ্যের বিনিময়ে কাজ করছে বা অন্নসংস্থানের উপায় হিসেবে কাজ করছে। শিশুদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবারই সচেতন হওয়া জরুরি। তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা উচিত প্রত্যেকেরই। চমৎকার লেখনি ও হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা সমৃদ্ধ
সমাজ সচেতনতা সৃজনমুলক মুল্যবান এই পোষ্টটি প্রিয়তে গেল ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

১৪ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: পোস্টে আপনার মন্তব্য পেয়ে আমি অত‍্যন্ত আনন্দিত, ডঃ এম এ আলী। আমি আপনার করা সব মন্তব্যই মনোযোগ দিয়ে পড়ি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনার মননশীল মন্তব্য মূল পোস্টকে সমৃদ্ধ করে, যেমন এখন আমার পোস্টকে করেছে। আমি আপনার মত কোন বিষয়কে নানা ভাবে বিশ্লেষণ করতে পারিনা, কেবল অসুস্থ শিশুদের কথা মনে করে পোস্ট দিয়েছিলাম। আপনার মন্তব্য থেকে এই পোস্টের সাথে  সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে জানতে পারলাম, সে জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

শিশুদের প্রতি হৃদয়বান মানুষের সহানুভূতি বৃদ্ধি পাওয়াটাও খুবই জরুরী । কিন্তু কিছু সুযোগ সন্দানীদের কারনে তাও আজ প্রশ্নের সন্মুখীন । এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্য জনক ।
এই অসহায়, অসুস্থ শিশুদের কষ্টকে পুঁজি করে কেউ ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করে, এটা আমি ভাবতেও পারিনি; অথচ দুজনের মন্তব্য থেকে জানতে পেলাম এই ব্লগেই এমন হয়েছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। মানুষতো মানুষেরই জন্য....

আপনার মন্তব্য থেকে শিশুদের অধিকারের কথা জানতে পারলাম, আশাবাদী হচ্ছি একদিন আমাদের শিশুরাও সেই সব অধিকার লাভ করবে, অসহায় শিশুরা সাহায্যের জন্য আর আমাদের অপেক্ষায়  থাকবে না।

 কিছুদিন আগে আমি এক মুচির কাছে ব্যাগ সেলাই করতে গেছি। বিষন্ন মুচি আমার কাছে জানতে চাইলো, আমি সরকারি চাকরি করি কিনা। করি না, উত্তর দিয়ে জানতে চাইলাম কেন সে এ কথা জিজ্ঞেস করছে। সে জানালো তার ছয় বছরের মেয়ের হার্টে ফুটা ধরা পড়েছে, হৃদ রোগ ইনস্টিটিউটে (সরকারি হাসপাতাল) এর অপারেশন করতে দেড় লক্ষ টাকা লাগবে। এই টাকা দেওয়া তার অসাধ্য, তাই এখন সে যাকে পাচ্ছে তাকেই জিজ্ঞেস করছে, তিনি সরকারি চাকরি কি না। এই মুচির ধারণা, একজন সরকারি চাকুরে হাসপাতালে গিয়ে বললেই হাসপাতাল অপারেশনের খরচ কমাবে। বাস্তব তো এমন নয়! হয়তো কোনদিন এই মুচি কোন সরকারি চাকুরেকে পাবে, কিন্তু এতে হাসপাতালের খরচ কমান যাবে না। অসুস্থ শিশুটার কথা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে এলাম।

শিশুদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। তাদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সবারই সচেতন হওয়া জরুরি। তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতি প্রদর্শন করা উচিত প্রত্যেকেরই। আশাবাদী হলাম, আপনার মত করে ভাববো আমরা সকলেই, একদিন সুখী সব শিশুতে ভরে উঠবে আমাদের দেশ।

আশা করি ভবিষ্যতেও এমন মন্তব্য দিয়ে আমার পোস্টকে সমৃদ্ধ করবেন।

শুভেচ্ছা আপনাকেও, ভালো থাকুন।




২৭| ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রথম অনুচ্ছেদের শেষের কয়েকটা লাইন বুকে ধাক্কা দিয়ে গেল!
পুরো টাকা যোগাড় হয়নি, কিছুদিন পর খেয়া মারা গেল! - মর্মান্তিক, সত্যি খুবই মর্মান্তিক!
যে শিশুটির ছবি দিয়েছেন, তার দিকে তাকাতে ভয় হয়। কারণ, যতবারই তাকাই, ততবারই আমার চোখদুটো ঝাপসা হয়ে যায়!
সত্যি, আমাদের সাধ্য আর কতটুকুই বা! আপনার এ পোস্ট পরে একটা তাৎক্ষণিক উপলব্ধি হলো- এমন সব শিশুকে (চেনা অচেনা সবাইকে) এর পর থেকে আমার প্রার্থনায় যোগ করতে হবে!!!!!
পোস্টে প্লাস + +

১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

করুণাধারা বলেছেন: এমন সব শিশুকে (চেনা অচেনা সবাইকে) এর পর থেকে আমার প্রার্থনায় যোগ করতে হবে!!!!! ঠিক এই কথাটাই একজন আমাকে বলেছিলেন, এদের জন্য আমরা সবসময় প্রার্থনা করতে পারি, আল্লাহ আমাদের সুস্থ রাখার মাধ্যমে সেই প্রার্থনা টুকু করার তৌফিক দিয়েছেন।

পোস্টের ছবিটা অন্তর্জাল থেকে পাওয়া, কিন্তু ছবিটা দেখে আমি খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ছবির মেয়েটা দেখতে হুবহু খেয়ার মত শুধু, খেয়ার মাথা ভরা চুল ছিল (কেমোথেরাপি দেয়া হয়নি)। খেয়া গলির ধারের একটা একতলা বাসায় থাকতো, চুরির ভয়ে তার দরজা-জানলা সব সময় বন্ধ থাকতো, বাইরের পৃথিবী দেখার জন্য ছোট মেয়েটা উন্মুখ হয়ে থাকতো। আমি একবারই তাকে দেখেছি, তখন সে একটা মস্ত বারান্দা ওয়ালা বাসায় এসেছে আর বারান্দায় বসে অপার বিস্ময় আর আনন্দ দিয়ে রাস্তার মানুষ দেখছিল, চলমান জীবন দেখছিল। তার সেই অসুস্থ কিন্তু আনন্দিত মুখ আমি আর ভুলতে পারিনা...

তবে আজকে আমি একটা খবর দেখে খুবই আনন্দিত, আপনার সাথে সেটা শেয়ার করার জন্য লিঙ্ক দিচ্ছি। ক্যান্সার জয় এই ছেলেটার চিকিৎসার জন্য প্রায় এক কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। আমি ভেবেছিলাম এত টাকা সংগৃহ করা অসম্ভব, ছেলেটার চিকিৎসা হবে না। কিন্তু দেখলাম ছেলেটার চিকিৎসা সহায়তায় কলেজের বর্তমান- সাবেক, দেশে- বিদেশে থাকা সমস্ত ছাত্ররা এগিয়ে এসেছিল। এটুকুই জানতাম, তারপর কয়েক বছর পার হয়ে গেছে, ছেলেটির কথা আর মনে ছিল না। কিন্তু সত্যি যে ছেলেটি সুস্থ হয়ে যাবে ভাবি নি- আজ খবরটা পড়ে খুবই ভালো লাগছে...সবার বেলায় যদি এমন হতো!!

পোস্টে প্লাস দিয়ে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন সপরিবারে।

২৮| ১৬ ই জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:২৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্টে কবিতার যে চারটি চরণ লিখেছেন, খুব চমৎকার হয়েছে। প্রতিমন্তব্যে যেগুলো লিখেছেন, সেগুলোও।
আমি যে মেয়েটির কথা বলেছি, খেয়ার, বাঁচবার এত ইচ্ছা ছিল তার... (২ নং প্রতিমন্তব্য) - আবার ব্যথিত হ'লাম!
তেলাপোকা হয়ে বেঁচে আছি। মাঝে মাঝে মানুষ হতে ইচ্ছে করে, হয়তো এই ইচ্ছেও একদিন মরে যাবে - @ব্লগার মা. হাসান, আপনি আমার মনের কথাটাই লিখেছেন।
২৬ নং মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যের জন্য ডঃ এম এ আলী কে এবং আপনাকে, উভয়কে ধন্যবাদ।

১৬ ই জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে মনে হয়, নিজের এবং প্রিয়জনদের সুস্বাস্থ্য আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত। পরিবারের একজন যদি অসুস্থ হয়, তাহলে হাজার অর্থবিত্ত থাকলেও মনের সুখ চলে যায়।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছয় বছরের ছেলে ক্যান্সারে মারা যাবার পর প্রতিবছর তার মৃত্যু দিবসে তার বাবা-মা পত্রিকায় তার হাসিমুখের ছবিসহ একটা লেখা দিতেন, সেখানে চমৎকার কিছু কবিতার লাইন থাকতো। যেটা আমি পোস্টে দিয়েছি, সেটা ছাড়া আরেকবার দিয়েছিলেন:

"তোমারে পেয়েছি কোন প্রাতে
তারপর হারায়েছি রাতে
তারপর অন্ধকারে, অগোচরে তোমারেই লভী
নও ছবি, নও শুধু ছবি।"

এই কথাগুলোর মধ্যে হাহাকার স্পষ্ট বোঝা যায়, সন্তান হারাবার বেদনা বিত্তবান- বিত্তহীন, শিক্ষিত- অশিক্ষিত নির্বিশেষে সবারই একই রকম হয়।

আরেকবার ফিরে এসে মন্তব্য করায় অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.