নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

রোদ্দুরে পথ চলা

১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১০

পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্য, কোন কিছুই আমি  অল্প কথায় শেষ করতে পারি না। তাই চাঁদগাজী একবার  আমার পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন, "আপনি অর্থহীন দীর্ঘ মন্তব্য করেন।" এই মন্তব্য পাবার পর চেষ্টা করেছিলাম অল্প কথায় মন্তব্য করতে, পারিনি। অথচ সেই দীর্ঘ মন্তব্য করা আমি কিছুদিন থেকে সহব্লগারদের পোস্ট পড়ার পর অনেক চেষ্টা করেও মন্তব্য করতে পারছি না, শব্দগুলো মাথায় কেমন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

এর কারণ আমার মায়ের মৃত্যুশোক। আমার মা গত ১৮ ই জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আমাদের ছেড়ে চলে যান। এ মাসের ১৮ তারিখে তার ৮৬ বছর পূর্ণ হত, যদি বেঁচে থাকতেন; অর্থাৎ আমার মা দীর্ঘদিন পাশে ছিলেন। হয়তো তাই প্রথমে মা হারানোর অনূভুতি তেমন কষ্টকর বলে মনে হয়নি, বন্ধু বান্ধব আত্মীয়-স্বজন যারা এসেছিলেন তাদের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে পেরেছি। তারপর যখন সবাই চলে গেলেন, তখন দেখলাম মায়ের বিছানা খালি, আমি অনুভব করলাম এক গভীর শূন্যতা আমাকে ঘিরে ধরেছে।

 নাবালক সন্তানদের নিয়ে অল্প বয়সে বিধবা হওয়া আমার মা জীবনভর সংগ্রাম করে গেছেন, নানা সংকটের মাঝেও কখনো কারো সাহায্য নিতে চাননি। শেষ বয়সে হাঁটুতে ভুল অপারেশনের জেরে তিনি চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন, তবু তিনি স্বাধীনভাবে নিজের সংসারে থাকতে চেয়েছিলেন, সন্তানদের কারো সাথে থাকতে চাননি। তাই দুজন গৃহকর্মী নিয়ে তিনি একা থাকতেন, আমার ডাক্তার বোন উনার নিচের তালাতে থেকে সব সময় দেখাশোনা করতো। আমি যেতাম প্রতিদিন, অনেকক্ষণ গল্প করতাম। গত পাঁচ মাস যাবত আমি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ায় কয়েকদিন পর পর যেতাম, হয়তো তিনি চাইতেন আমি আরো বেশি যাই, কিন্তু কখনো সেকথা বলতেন না। এটা বুঝতে পারলাম যেদিন তিনি মারা গেলেন, সেদিন। সেদিন সব শেষে  যখন মায়ের বাসায় যাই, তখন মায়ের সহায়তাকারী ট্রেতে করে কিছু খাবার এনে খেতে দিলো। বলল দু দিন আগে মা বলেছিলেন, আমি সেইদিন যাব, তখন আমাকে যেন খেতে দেয়। মা প্রতীক্ষায় ছিলেন, আমি যাইনি, তাই খাবার রয়ে গিয়েছিল...

 স্ট্রোক করার কয়েক ঘন্টা আগেও মায়ের সাথে ফোনে কথা হয়েছে, একবার যদি বলতেন তিনি আমার অপেক্ষায় আছেন... এই আফসোস জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার মনে থাকবে।

নিজের সংসার হবার আগে পর্যন্ত জীবনের সব কিছুতে মা জড়িয়ে ছিলেন;  তারপর নিজের সংসার, সন্তান- সন্ততি নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এলাম। ভেবেছিলাম এই জীবনে মায়ের ভূমিকা তেমন ছিল না। অথচ আজ দেখছি, আমার জীবনপথে ছায়াতরু হয়ে ছিলেন মা; এখন ছায়াতরু বিহীন পথে আমাকে একলা চলতে হবে...

আমি কিছুটা কঠিন সময় পার করছি এখন। তাই এখন আমার প্রিয় সামু ব্লগে পোস্ট পড়লেও মন্তব্য ঠিকমতো করতে পারছি না। এমনকি আমার নিজের পোস্টেও প্রতিমন্তব্য করা হচ্ছে না। তাই সব ব্লগারদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী, আপনাদের সুলিখিত পোস্ট পড়েও কোন মন্তব্য করতে না পারায়... আর আমার মায়ের জন্য আপনাদের সবার কাছে আমি দোয়াপ্রার্থী।

আগামীকাল ঈদ, সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই।









 

মন্তব্য ৯০ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (৯০) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারামাদের,




আপনার এই শোকাতুর লেখা পড়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু করার নেই আমার কিম্বা আমাদের।
প্রার্থনা, আপনার জীবনতরু সদৃশ্য মায়ের বেহশত নসিব হয় যেন!
সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সকল শোক-দুঃখ-কষ্ট সইবার শক্তি দান করুন।

দূরের এক দেশ থেকে আপনার জন্যেও পাঠালুম - ঈদের শুভেচ্ছা।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০১

করুণাধারা বলেছেন: দূরদেশে থেকেও যে গভীর সহানুভূতি আর সহমর্মিতা নিয়ে আপনি মন্তব্য করলেন, তা মন ছুঁয়ে গেল আহমেদ জী এস! আরেকবার আবেগাপ্লুত হলাম! ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।

মন্তব্যের উত্তর করতে এত দেরি করলাম, কারণ এই ঈদে কাজের ভার এমনই থাকে, ব্লগে বসার আর সময় পাইনি। আর মনের ভার তো কাটছেই না...

দেরি করে হলেও,আপনাকেও জানাই ঈদের শুভেচ্ছা।

২| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৩১

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমার মা গত ১৮ ই জুলাই বৃহস্পতিবার ভোরবেলা আমাদের ছেড়ে চলে যান।
এ মাসের ১৮ তারিখে তার ৮৬ বছর পূর্ণ হত, যদি বেঁচে থাকতেন;
অর্থাৎ আমার মা দীর্ঘদিন পাশে ছিলেন।

........................................................................................................
আমি শোকাহত এবং মঙ্গল কামনা করছি আপনি যেন এ শোক কাটিয়ে ওঠতে পারেন ।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৩

করুণাধারা বলেছেন: এই সহমর্মিতার জন্য ধন্যবাদ স্বপ্নের শঙ্খচিল। শোক কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি।

মন্তব্যের উত্তর দিতে দেরি করলাম, কারণ এই ঈদে অনেক কাজ করতে হয়। শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

৩| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা ,




সম্বোধনে বাড়তি তিনটি শব্দ অনিচ্ছাকৃতভাবে টাইপ হয়ে গেছে। ক্ষমাপ্রার্থী।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৫

করুণাধারা বলেছেন: এমন ভুল হতেই পারে। আপনি ফিরে না এলেও আমি বুঝতে পেরেছিলাম।

৪| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৩৫

জাহিদ অনিক বলেছেন: আপনার মায়ের বিদেহী আত্মার প্রতি অন্তর থেকে রইলো শুভ কামনা। আপনার লেখাটা খুবই টাচি-

ঈদের শুভেচ্ছা রইলো।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৭

করুণাধারা বলেছেন: জাহিদ অনিক, আপনার মন্তব্যটা আমি হৃদয় দিয়ে অনুভব করলাম; অনেক ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

ঈদ চলে গেল, তবু শুভেচ্ছা জানাই। এই ঈদে কাজের ভারে ব্লগে আসার সময় পাইনি।

৫| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৪৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:০৮

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। শুভকামনা রইল।

৬| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:১৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ে দারুণভাবে স্পর্শিত হ'লাম। আল্লাহ রাব্বুল 'আ-লামীন আপনার মমতাময়ী মায়ের জানা অজানা, ছোট বড় সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, তাঁঁকে শান্তিপূর্ণ ক্ববর দান করুন এবং রোজ হাশরের দিনে তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস এর সম্মানিত অধিবাসীদের সাথে একই কাতারভুক্ত করে নিন!
আমাদের মন্তব্যের জবাব আপাততঃ না দিলেও চলবে। মায়ের শোক কাটিয়ে ওঠা সহজ কথা নয়।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:১৭

করুণাধারা বলেছেন: আমার মায়ের জন্য আপনার দোয়া আমাকে আবেগাপ্লুত করে তুলল; আল্লাহ যেন এই দোয়া কবুল করে নেন।

দেরি করেই উত্তর দিলাম। মনের ভারের সাথে ঈদের ভার যোগ হয়ে ব্লগে আসার সময় পাচ্ছিলাম না!

৭| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:২৩

দৃষ্টিসীমানা বলেছেন: আল্লাহতালা ওনাকে বেহেস্ত নসীব দান করুণ ।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:১৯

করুণাধারা বলেছেন: আমীন।

দোয়ার জন্য ধন্যবাদ দৃষ্টিসীমানা। শুভকামনা রইল।

৮| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: লেখাটা পড়ে মনটা বিষন্ন হয়ে গেল।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:২২

করুণাধারা বলেছেন: আমারও মন বিষণ্ন, কিন্তু আপনার মন্তব্য পেয়ে ভালো লাগলো। ভালো থাকুন সপরিবারে রাজীব নুর।

৯| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৪

ইসিয়াক বলেছেন: আল্লাহ আপনার মাকে বেহেস্ত নসীব করুণ ।
ঈদ মোবারক ।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:২৬

করুণাধারা বলেছেন: আমীন।
আপনার এই দোয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই ইসতিয়াক। ঈদ চলে গেছে, সময়মত উত্তর করতে পারিনি। আপনার জন্যও রইল শুভকামনা সতত।

১০| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





প্রিয় বোন করুণাধারা, আমি আম্মার জন্য দুহাত হাত তোলে দোয়া করছি “আল্লাহপাক আম্মাকে শান্তি দিন বেহেস্ত নসীব দান করুন”। ব্লগের আমরা সবাই আপনার সাথে সহমর্মিতায় দোয়া করছি, আপনার আম্মা অর্থ ব্লগের সকল ব্লগারদের আম্মা। আমরা প্রতিটি মানুষ চলে যাবো অজানার পথে, আমাদের থেকে যাবে উত্তরসূরী আর আমাদের কর্ম ও কথা।

আম্মার বলে যাওয়া কথাগুলো মনে করে করে আপনি নিজেকে শান্তনা দিতে পারবেন, আমরা সবাই আপনার পাশে আছি শান্তনা নয় সাহস ভালোবাসা আর মায়া মমতা নিয়ে আপনি আমাদের সকল ব্লগারদের “একজন বোন”।

আপনি ধর্য্যে ধরুণ, আমাদের মন্তব্যের প্রতিউত্তর দেওয়াটা এই মুহুর্তে জরুরী নয়, আপনি আমাদের সকলের মন্তব্য পড়বেন এটা আমরা সবাই জানি। আমরা জানি কতো কষ্ট করে এই সময়ে আপনি একটি পোষ্ট দিয়েছেন, তাই অনুরোধ করবো কষ্ট হলে এই মুহুর্তে মন্তব্যর প্রতিউত্তর না করলেও চলবে অথবা পরে কোনো একসময় প্রতিউত্তর দিলেও হবে। অবসরে ব্লগে লিখুন আপনার ভালো লাগবে।

বোনরে, ব্লগের সকলের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি রইলো অনেক অনেক ভালোবাসা আর মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আপনি ভালো থাকুন - সুস্থ্য থাকুন - ব্যাস্ত থাকুন।


১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪০

করুণাধারা বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ, প্রতিমন্তব্য যাই লিখি না কেন, আপনার এমন আন্তরিক মন্তব্যের যথোপযুক্ত জবাব লেখা সম্ভব না! এটুকু বলতে পারি, আমি অভিভূত, এবং গভীরভাবে কৃতজ্ঞ আপনার প্রতি; আপনি সহ ব্লগারদের প্রতি আমার মনে এই ধারণা সৃষ্টি করে তৈরি করে দিয়েছেন যে, ব্লগের এই ভার্চুয়াল জগতেও আমার কষ্ট এবং যন্ত্রণা ভাগ করে নেবার জন্য সহব্লগাররা আছেন!! ফেসবুকে আমি এক্টিভ নই, তাই ব্লগেই আমার যা কিছু লেখালেখি। এই পোস্টটা দেবার ব্যাপারে খুব দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম। কিন্তু পরে মনে হল, আমি কেন অনেকদিন যাবত ব্লগে মন্তব্য- প্রতি মন্তব্য করতে পারছি না এর কারণ সহব্লগারদের জানানো দরকার। তাই এই পোস্ট দেয়া। এখন মনে হচ্ছে, পোস্ট দেয়াতেই জানতে পারলাম যে, আমার এতজন সহমর্মী ব্লগার ভাই বোন আছেন!!!

আপনার মন্তব্য শক্তি এবং সাহস যুগিয়েছে আমাকে। আশা করি আবার আপনাদের মাঝে ব্লগে ফিরে আসতে পারব। ধন্যবাদ এবং শুভকামনা, ভালো থাকুন আপনিও।

১১| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২

বলেছেন: বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ঈদের সালাম ও শুভেচ্ছা।।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৩

করুণাধারা বলেছেন: আপনার এই প্রার্থনা যেন আল্লাহ শুনেন, ল। ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই।

ঈদ পার হয়ে গেছে, তবু আপনাকে সালাম আর শুভেচ্ছা জানাই, ভালো থাকুন।

১২| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: @ঠাকুরমাহমুদ,
আপনার ১০ নং মন্তব্যটি পড়ে প্রিয় বোন করুণাধারা তো হবেনই, আমি নিজেও ভীষণভাবে আবেগাভিভূত হয়ে পড়লাম। ধন্যবাদ, আপনার এ চমৎকার সহমর্মিতার জন্য।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: যেদিন মা মারা গেলেন, সেদিন আগত প্রত‍্যেকেই বলছিলেন, আমার মা তাদের কতটা ভালোবাসতেন। আমার মনে হচ্ছিল, পুরনো কালের মানুষের মনে যে দয়া- মায়া- মমতা ছিল আজকাল তার বড় অভাব। কিন্তু ঠাকুরমাহমুদের মন্তব্য পড়ে মনে হলো, মানুষের মন থেকে সহমর্মিতা আর দয়া- মায়া হারিয়ে যায়নি! এই মন্তব্য আপনার মত আমাকেও আবেগাভিভূত করে তুলেছে।

আপনার মন্তব্যও সহমর্মিতার কথা মনে করিয়ে দিল। অনেক ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

১৩| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪৬

রাকিব আর পি এম সি বলেছেন: লেখাটি পড়ে মনটা ভীষণ রকম বিষন্ন হয়ে গেল। মায়েদের ভালবাসার সাথে পৃথিবীর কোন কিছুর তুলনা হয় না। আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুক। আমিন।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: আমার মায়ের জন্য আপনার দোয়া আল্লাহ যেন পূর্ণ করেন, রাকিব আর পি এম সি। অসংখ্য ধন্যবাদ, ভালো থাকুন আপনি।শুভকামনা রইল।

১৪| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪৭

আরোগ্য বলেছেন: এমন বিয়োগান্তক ঘটনায় সমবেদনা জানানোর জন্য আমার কোন ভাষা নেই। মা তো মা ই, মায়ের মত রত্ন আর কোথাও পাওয়া যায় না।

কিছুদিন আগে আমার নানু হসপিটালে ভর্তি ছিলেন। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেক সুস্থ। উনার বয়স প্রায় আটাশি। যেহেতু নানুই আমাকে বড় করেছে তাই তিনি আমার কাছে মায়ের মতই।

আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ধৈর্য্য দান করুক। আর উনাকে পরকালে জান্নাত নসিব করুক ও বারযাখের জীবন সহজ করুক, আমীন।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:১১

করুণাধারা বলেছেন: আপনার মন্তব্য মনে অনেকটা শান্তি এনে দিল। অনেক ধন্যবাদ আরোগ্য।

যে মানুষটি কাছে আছেন, তাকে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়, কারণ পরে তিনি আর নাও থাকতে পারেন। এই কথাটা আমরা সব সময় ভুলে যাই এবং পরে আফসোস করি।

আপনার নানু সুস্থ হয়েছেন জেনে ভালো লাগলো। আপনার মায়ের এবং নানু সুস্থ থাকুন, দোয়া করি। আপনার মায়ের কথা আমার মাথায় আছে, তবে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ডাক্তারের সন্ধান পাই নি। পেলে জানাবো।

শুভকামনা রইল আরোগ্য।

১৫| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫৯

জুন বলেছেন: করুনাধারা আপনার ব্যাথায় ব্যাথিত আমি । এই শোকের কোন স্বান্তনা নেই । পরম করুনাময় আপনার মাকে বেহেশত নসীব করুন ।
আমার মা যখন দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে মারা গিয়েছিলেন তখন আমি বছর পনেরোর কিশোরী। লেখাপড়া সাথে ছোট দুটো ভাই বোন নিয়ে কেমন করে যেন দিন কেটে গেল । কিন্ত বাবা যখন পাচ বছর আগে মারা গেলেন সেই শোক ভুলতে পরিনত বয়সে আমার অনেক কষ্ট হয়েছিল । এখনো কত আফসোস এটা কেন করি নি ওটা কেন করি নি । যাবো বললে না খেয়ে জানালা ধরে দাঁড়িয়ে থাকতো । এখনতো কেউ বলে না আসো, এখনতো কেউ জানালা ধরে পথ চেয়ে থাকে না ।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৩১

করুণাধারা বলেছেন: মাকে আমি দীর্ঘদিন পাশে পেয়েছি, তারপরও চলে যাবার পর তার অভাব কেন এত তীব্র ভাবে অনুভব করছি বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু আপনার মন্তব্য পেয়ে তা অনেকটাই বুঝতে পারছি! আমার বাবা যখন ক্যান্সারে ভুগে চলে গেলেন, তখন আমার বয়স দশ বছরও হয়নি, তখন কিন্তু বাবার অভাব এভাবে বোধ করিনি। পরিণত বয়সে এমন হবার কারণ সম্ভবত, আমাদের মধ্যে যেন মৃত্যুচিন্তা আসে এবং যারা চলে গেছেন তাদের জন্য দোয়া করতে পারি...

আমার, আপনার এবং আর যাদের মা- বাবা চলে গেছেন, তাদের যেন আল্লাহ বেহেশত নসিব করেন। ধন্যবাদ জুন, সুন্দর এই মন্তব্যের জন্য।

১৬| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৩৯

মাহের ইসলাম বলেছেন: আল্লাহ্‌ আমাদের যে সকল আত্নিয় স্বজন কবরে আছে, তাদের কবরের আজাব মাফ করুন।
আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের সারাজীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করুন।

আল্লাহ্‌ সকলকে পরকালে বেহেশত নসীব করুন।
আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের সমস্ত দোয়া, মোনাজাত, ইবাদত কবুল করুন।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৩৫

করুণাধারা বলেছেন: আল্লাহ্‌ আমাদের যে সকল আত্নিয় স্বজন কবরে আছে, তাদের কবরের আজাব মাফ করুন।
আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের সারাজীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করুন।

আল্লাহ্‌ সকলকে পরকালে বেহেশত নসীব করুন।
আল্লাহ্‌ আমাদের সকলের সমস্ত দোয়া, মোনাজাত, ইবাদত কবুল করুন।


আমিন।
আমিন।
আমিন।
আমিন।

ধন্যবাদ মাহের ইসলাম। ভালো থাকুন।

১৭| ১১ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৩

শায়মা বলেছেন: আপু সান্তনার ভাষা নেই আমার। তবে কিছুদিন আগে আমার মনে আসা প্রশ্নের উত্তর আজ পেলাম! ভেবেছিলাম তুমি কি নিজেই অসুস্থ্য কিনা। আজ বুঝতে পারলাম কি ঝড়টাই বয়ে গেছে তোমার উপর দিয়ে।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: আমার ভার লাঘব করি নাই বা দিলে সান্ত্বনা, বহিতে পারি এমনি যেন হয়...

আশা করছি মনের ভার আস্তে আস্তে হালকা হয়ে আসবে; সামু ব্লগ আছে, তোমরা আছো...

১৮| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাহে রাজেউন। আল্লাহ আপনার মাকে বেহেস্তে যাবার তৌফিক দান করুন। আপনার কষ্ট আমি কিছুটা হলেও অনুভব করতে পারছি। কিছুদিন পূর্বেই আমার আব্বা ইন্তিকাল করেছিলেন।

অনেক সন্তানই মনে করে পিতা মাতা মারা যাবার সাথে সাথে সব দায়িত্ব শেষ। এটা ঠিক না। নীচে সহী ইসলামিক পদ্ধতিতে বাবা মার জন্য মৃত্যুর পর কি কি করা যায় সেটা তুলে দিলাম। আমার কাছে কপি করা ছিল। সাইট কোন টা মনে নেই।

সমাজে প্রচলিত বিদআতগুলো পরিহার করে সহিহ সুন্নাহ সমর্থিত ও প্রমাণিত আমলগুলো করতে পারি। নিম্নে তা বিবৃত করা হল:


১. বেশী বেশী দু‘আ করা 

মা-বাবা দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর সন্তান মা-বাবার জন্য বেশী বেশী দু‘আ করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দু‘আ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কী দু‘আ করবো তাও শিখিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে এসেছে-  رَبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا ٢٤ 

“হে আমার রব, তাদের উভয়ের প্রতি রহম কর, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন” (সূরা বানী ইসরাঈল- ২৪)

কুরআনে আরও এসেছে- رَبَّنَا ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ يَوۡمَ يَقُومُ ٱلۡحِسَابُ ٤١ “হে আমাদের রব, রোজ কিয়ামতে আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন।” (সুরা ইবরাহীম -৪১)

এছাড়া আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার জন্য দুআ করার বিশেষ নিয়ম শিক্ষা দিয়ে বলেন-  رَّبِّ ٱغۡفِرۡ لِي وَلِوَٰلِدَيَّ وَلِمَن دَخَلَ بَيۡتِيَ مُؤۡمِنٗا وَلِلۡمُؤۡمِنِينَ وَٱلۡمُؤۡمِنَٰتِۖ وَلَا تَزِدِ ٱلظَّٰلِمِينَ إِلَّا تَبَارَۢا 

“হে আমার রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে, যে আমার ঘরে ঈমানদার হয়ে প্রবেশ করবে তাকে এবং মুমিন নারী-পুরুষকে ক্ষমা করুন এবং ধ্বংস ছাড়া আপনি যালিমদের আর কিছুই বাড়িয়ে দেবেন না।” (সূরা নুহ: ২৮)

মা-বাবা এমন সন্তান রেখে যাবেন যারা তাদের জন্য দোয়া করবে। আবু হুরায়রা রা.  থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثَةٍ إِلاَّ مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ

অর্থ: মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে ৩ টি আমল বন্ধ হয় না-১. সদকায়ে জারিয়া ২. এমন জ্ঞান-যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ৩. এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দু‘আ করে। (সহিহ মুসলিম: ৪৩১০)

মূলত: জানাযার নামায প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির জন্য দু‘আ স্বরূপ। 

২. দান-ছাদকাহ করা, বিশেষ করে সদকায়ে জারিয়াহ প্রদান করাঃ

মা-বাবা বেচে থাকতে দান-সাদকাহ করে যেতে পারেন নি বা বেঁচে থাকলে আরো দান-সদকাহ করতেন, সেজন্য তাদের পক্ষ থেকে সন্তান দান-সদকাহ করতে পারে। হাদীসে এসেছে-

عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبِىَّ صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّىَ افْتُلِتَتْ نَفْسَهَا وَلَمْ تُوصِ وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ أَفَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا قَالَ « نَعَمْ »

অর্থ: আয়েশা রা. আনহা বলেনঃ “জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল আমার মা হঠাৎ মৃতু বরণ করেছেন। তাই কোনো অছিয়ত করতে পারেন নি। আমার ধারণা তিনি যদি কথা বলার সুযোগ পেতেন তাহলে দান-ছাদকা করতেন। আমি তাঁর পক্ষ থেকে ছাদকা করলে তিনি কি এর সাওয়াব পাবেন? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন হ্যাঁ, অবশ্যই পাবেন।” (সহীহ মুসলিম:২৩৭৩)

তবে সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে সদকায়ে জারিয়াহ বা প্রবাহমান ও চলমান সদকা প্রদান করা। যেমন পানির কুপ খনন করা, (নলকুপ বসানো, দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, কুরআন শিক্ষার জন্য মক্তব ও প্রতিষ্ঠান তৈরী করা, স্থায়ী জনকল্যাণমূলক কাজ করা। ইত্যাদি।

৩. মা-বাবার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন

মা-বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যদি তাদের কোনো মানতের সিয়াম কাযা থাকে, সন্তান তাদের পক্ষ থেকে সিয়াম পালন করলে তাদের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে। আয়েশা রা. আনহা হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- مَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ صِيَامٌ صَامَ عَنْهُ وَلِيُّهُ অর্থ: “যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে তার উপর রোযা ওয়াজিব ছিল। তবে তার পক্ষ থেকে তার ওয়ারিসগণ রোযা রাখবে।” (সহীহ বুখারী:১৯৫২) অধিকাংশ আলেমগণ এ হাদীসটি শুধুমাত্র ওয়াজিব রোযা বা মানতের রোযার বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে নফল সিয়াম রাখার পক্ষে দলীল নাই।

৪. হজ্জ বা উমরাহ করা

মা-বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ বা উমরাহ করলে তা আদায় হবে এবং তারা উপকৃত হবে। ইবনে আববাস রা. মা হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে-

أَنَّ امْرَأَةً مِنْ جُهَيْنَةَ جَاءَتْ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ إِنَّ أُمِّي نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَلَمْ تَحُجَّ حَتَّى مَاتَتْ أَفَأَحُجُّ عَنْهَا قَالَ نَعَمْ حُجِّي عَنْهَا أَرَأَيْتِ لَوْ كَانَ عَلَى أُمِّكِ دَيْنٌ أَكُنْتِ قَاضِيَةً اقْضُوا اللَّهَ فَاللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ

অর্থ: “জুহাইনা গোত্রের একজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে আগমণ করে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা হজ্জ করার মানত করেছিলেন কিন্তু তিনি হজ্জ সম্পাদন না করেই মারা গেছেন। এখন আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায় করতে পারি? রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, “তুমি তোমার মায়ের পক্ষ থেকে হজ্জ কর। তোমার কি ধারণা যদি তোমার মার উপর ঋণ থাকতো তবে কি তুমি তা পরিশোধ করতে না ? সুতরাং আল্লাহর জন্য তা আদায় কর। কেননা আল্লাহর দাবী পরিশোধ করার অধিক উপযোগী” (সহীহ বুখারী: ১৮৫২) । তবে মা-বাবার পক্ষ থেকে যে লোক হজ্জ বা ওমরাহ করতে চায় তার জন্য শর্ত হলো সে আগে নিজের হজ্জ-ওমরাহ করতে হবে।

৫. মা-বাবার পক্ষ থেকে কুরবানী করা

মা-বাবার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তার ছাওয়াব দ্বারা তারা উপকৃত হবে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে- عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَمَرَ بِكَبْشٍ أَقْرَنَ يَطَأُ فِى سَوَادٍ وَيَبْرُكُ فِى سَوَادٍ وَيَنْظُرُ فِى سَوَادٍ فَأُتِىَ بِهِ لِيُضَحِّىَ بِهِ فَقَالَ لَهَا « يَا عَائِشَةُ هَلُمِّى الْمُدْيَةَ » ثُمَّ قَالَ « اشْحَذِيهَا بِحَجَرٍ ». فَفَعَلَتْ ثُمَّ أَخَذَهَا وَأَخَذَ الْكَبْشَ فَأَضْجَعَهُ ثُمَّ ذَبَحَهُ ثُمَّ قَالَ « بِاسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ وَمِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ ». ثُمَّ ضَحَّى بِهِ

অর্থ: আয়েশা রা. আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. এমন একটি শিংযুক্ত দুম্বা উপস্থিত করতে নির্দেশ দিলেন, যার পা কালো, চোখের চতুর্দিক কালো এবং পেট কালো। অতঃপর তা কুরবানীর জন্য আনা হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সা. আয়েশা রা. আনহাকে বললেন, হে আয়েশা! ছুরি নিয়ে আস, তারপর বললেন, তুমি একটি পাথর নিয়ে তা দ্বারা এটাকে ধারালো কর। তিনি তাই করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ সা. ছুরি হাতে নিয়ে দুম্বাটিকে শুইয়ে দিলেন। পশুটি যবেহ্ করার সময় বললেন, বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ তুমি এটি মুহাম্মাদ, তাঁর বংশধর এবং সকল উম্মাতে মুহাম্মাদীর পক্ষ থেকে কবুল কর”। এভাবে তিনি তা দ্বারা কুরবানী করলেন। (সহীহ মুসলিম: ৫২০৩)

৬. মা-বাবার ওসিয়ত পূর্ণ করা

মা-বাবা শরীয়াহসম্মত কোন ওসিয়ত করে গেলে তা পূর্ণ করা সন্তানদের উপর দায়িত্ব। রাশীদ ইবনে সুয়াইদ আসসাকাফী রা.  বলেন-

قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ أُمِّي أَوْصَتْ أَنْ نُعْتِقُ عَنْهَا رَقَبَةً ، وَعِنْدِي جَارِيَةٌ سَوْدَاءُ ، قَالَ : ادْعُ بِهَا ، فَجَاءَتْ ، فَقَالَ : مَنْ رَبُّكِ ؟ قَالَتِ : اللَّهُ ، قَالَ : مَنْ أَنَا ؟ قَالَتْ : رَسُولُ اللَّهِ ، قَالَ : أَعْتِقْهَا ، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ

অর্থ: আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে বললাম হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা একজন দাসমুক্ত করার জন্য ওসিয়ত করে গেছেন। আর আমার নিকট কালো একজন দাসী আছে। রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাকে ডাকো, সে আসল, রাসূলুল্লাহ সা. তাকে প্রশ্ন করলেন, তোমার রব কে ? উত্তরে সে বলল, আমার রব আল্লাহ। আবার প্রশ্ন করলেন আমি কে? উত্তরে সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসুল। তখন রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, তাকে মুক্ত করে দাও; কেন না সে মু’মিনাহ। (সহীহ ইবনে হিববান :১৮৯)

৭. মা-বাবার বন্ধুদের সম্মান করা

মা-বাবার বন্ধুদের সাথে ভাল ব্যবহার করা, সম্মান করা, তাদেরকে দেখতে যাওয়া,তাদেরকে হাদিয়া দেয়া। এ বিষয়ে হাদীসে উল্লেখ আছে,

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَعْرَابِ لَقِيَهُ بِطَرِيقِ مَكَّةَ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ وَحَمَلَهُ عَلَى حِمَارٍ كَانَ يَرْكَبُهُ وَأَعْطَاهُ عِمَامَةً كَانَتْ عَلَى رَأْسِهِ فَقَالَ ابْنُ دِينَارٍ فَقُلْنَا لَهُ أَصْلَحَكَ اللَّهُ إِنَّهُمُ الأَعْرَابُ وَإِنَّهُمْ يَرْضَوْنَ بِالْيَسِيرِ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّ أَبَا هَذَا كَانَ وُدًّا لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ « إِنَّ أَبَرَّ الْبِرِّ صِلَةُ الْوَلَدِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ ».

অর্থ: আব্দুল্লাহ ইবনে দীনার রা. আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণনা করেন, একবার মক্কার পথে চলার সময় আব্দুল্লাহ রা. এর এক বেদুঈন এর সাথে দেখা হলে তিনি তাকে সালাম দিলেন এবং তাকে সে গাধায় চড়ালেন যে গাধায় আব্দুল্লাহ রা. উপবিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর (আব্দুল্লাহ) মাথায় যে পাগড়িটি পরা ছিলো তা তাকে প্রদান করলেন। আব্দুল্লাহ ইবান দীনার রাহেমাহুল্লাহ বললেন, তখন আমরা আব্দুল্লাহকে বললাম: আল্লাহ তোমার মঙ্গল করুক! এরা গ্রাম্য মানুষ: সামান্য কিছু পেলেই এরা সন্তুষ্ট হয়ে যায়-(এতসব করার কি প্রয়োজন ছিলো?) উত্তরে আব্দুল্লাহ রা. বললেন, তার পিতা, (আমার পিতা) উমার ইবনে খাত্তাব রা. এর বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি “পুত্রের জন্য পিতার বন্ধু-বান্ধবের সাথে ভাল ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ” (সহীহ মুসলিম:৬৬৭৭)।

মৃতদের বন্ধুদের সাথে রাসূলুল্লাহ সা. এর আমলও আমাদেরকে উৎসাহিত করে। আয়েশা রা. আনহা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে- إِذَا ذَبَحَ الشَّاةَ فَيَقُولُ أَرْسِلُوا بِهَا إِلَى أَصْدِقَاءِ خَدِيجَةَ

অর্থ: রাসূলুল্লাহ সা. যখনই কোন বকরী যবেহ করতেন, তখনই তিনি বলতেন, এর কিছু অংশ খাদীজার বান্ধবীদের নিকট পাঠিয়ে দাও (সহীহ মুসলিম: ৬৪৩১)

৮. মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক রাখা

সন্তান তার মা-বাবার আত্নীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা.  থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصِلَ أَبَاهُ فِي قَبْرِهِ ، فَلْيَصِلْ إِخْوَانَ أَبِيهِ بَعْدَهُ ‘যে ব্যক্তি তার পিতার সাথে কবরে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে ভালবাসে, সে যেন পিতার মৃত্যুর পর তার ভাইদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখে’ (সহীহ ইবনে হিববান:৪৩২)

৯. ঋণ পরিশোধ করা

মা-বাবার কোন ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা সন্তানদের উপর বিশেষভাবে কর্তব্য। রাসূলুল্লাহ সা. ঋণের পরিশোধ করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আবু হুরায়রা রা.  হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهً حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ  “মুমিন ব্যক্তির আত্মা তার ঋণের সাথে সম্পৃক্ত থেকে যায়; যতক্ষণ তা তা তার পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হয়”। (সুনানে ইবনে মাজাহ:২৪১৩)

ঋণ পরিশোধ না করার কারণে জান্নাতে যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়; এমনকি যদি আল্লাহর রাস্তায় শহীদও হয় । হাদীসে আরো এসেছে- «مَا دَخَلَ الْجَنَّةَ حَتَّى يُقْضَى دَيْنُهُ» অর্থ: যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দার ঋণ পরিশোধ না করা হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। (নাসায়ী ৭/৩১৪; তাবরানী ফিল কাবীর ১৯/২৪৮; মুস্তাদরাকে হাকিম ২/২৯)

১০. কাফফারা আদায় করা

মা-বাবার কোন শপথের কাফফারা,ভুলকৃত হত্যাসহ কোন কাফফারা বাকী থাকলে সন্তান তা পূরণ করবে। আল-কুরআনে বলা হয়েছে-

﴿وَمَن قَتَلَ مُؤۡمِنًا خَطَ‍ٔٗا فَتَحۡرِيرُ رَقَبَةٖ مُّؤۡمِنَةٖ وَدِيَةٞ مُّسَلَّمَةٌ إِلَىٰٓ أَهۡلِهِۦٓ إِلَّآ أَن يَصَّدَّقُواْۚ ﴾ 

অর্থ: যে ব্যক্তি ভুলক্রমে কোন মুমিনকে হত্যা করবে, তাহলে একজন মুমিন দাসকে মুক্ত করতে হবে এবং দিয়াত (রক্ত পণ দিতে হবে) যা হস্তান্তর করা হবে তার পরিজনদের কাছে। তবে তারা যদি সদাকা (ক্ষমা) করে দেয় (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা)। (সূরা আন-নিসা:৯২)

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন- مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينٍ فَرَأَى غَيْرَهَا خَيْرًا مِنْهَا فَلْيَأْتِهَا وَلْيُكَفِّرْ عَنْ يَمِينِه অর্থ: “যে ব্যক্তি কসম খেয়ে শপথ করার পর তার থেকে উত্তম কিছু করলেও তার কাফফারা অদায় করবে।” (সহীহ মুসলিম: ৪৩৬০)

এ বিধান জীবিত ও মৃত সবার ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। দুনিয়ার বুকে কেউ অন্যায় করলে তার কাফফারা দিতে হবে। অনুরূপভাবে কেউ অন্যায় করে মারা গেলে তার পরিবার-পরিজন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কাফফারা প্রদান করবেন।

১১. ক্ষমা প্রার্থনা করা

মা-বাবার জন্য আল্লাহর নিকট বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা গুরুত্বপূর্ণ আমল। সন্তান মা-বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় আল্লাহ তা‘আলা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। হাদীসে বলা হয়েছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : تُرْفَعُ لِلْمَيِّتِ بَعْدَ مَوْتِهِ دَرَجَتُهُ . فَيَقُولُ : أَيْ رَبِّ ، أَيُّ شَيْءٍ هَذِهِ ؟ فَيُقَالُ : وَلَدُكَ اسْتَغْفَرَ لَكَ

অর্থ: আবু হুরায়রা রা.  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মৃত্যুর পর কোন বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো।” (আল-আদাবুল মুফরাদ:৩৬)

মা-বাবা দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার বিষয়ে উসমান রা.  বর্ণিত হাদীসে এসেছে- عَنْ عُثْمَانَ ، قَالَ : وَقَفَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَبْرِ رَجُلٍ وَهُوَ يُدْفَنُ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهُ قَالَ : اسْتَغْفِرُوا لأَخِيكُمْ وَسَلُوا اللَّهَ لَهُ بالثَّبَاتِ ؛ فَإِنَّهُ يُسْأَلُ الآنَ অর্থ: উসমান রা.  বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. কোন এক মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের পার্শ্বে দাঁড়ালেন এবং বললেন “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার জন্য ঈমানের উপর অবিচলতা ও দৃঢ়তা কামনা কর, কেননা এখনই তাকে প্রশ্ন করা হবে।” (মুসনাদুল বাজ্জার :৪৪৫)

তাই সুন্নাত হচ্ছে, মৃত ব্যক্তিকে কবরে দেয়ার পর তার কবরের পার্শ্বে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার জন্য প্রশ্নোত্তর সহজ করে দেয়া, প্রশ্নোত্তর দিতে সমর্থ হওয়ার জন্য দো‘আ করা।

১২. মান্নত পূরণ করা

মা-বাবা কোন মান্নত করে গেলে সন্তান তার পক্ষ থেকে পূরণ করবে। ইবনে আববাস রা. মা থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে- أَنَّ امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَصُومَ شَهْرًا فَمَاتَتْ فَأَتَى أَخُوهَا النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ :« صُمْ عَنْهَا অর্থ: কোন মহিলা রোযা রাখার মান্নত করেছিল, কিন্তু সে তা পূরণ করার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করল। এরপর তার ভাই এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট আসলে তিনি বলরেন, তার পক্ষ থেকে সিয়াম পালন কর। (সহীহ ইবনে হিববান:২৮০)

১৩. মা-বাবার ভাল কাজসমূহ জারী রাখা

মা-বাবা যেসব ভাল কাজ অর্থাৎ মসজিদ তৈরী করা, মাদরাসা তৈরী করা, দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরীসহ যে কাজগুলো করে গিয়েছেন সন্তান হিসাবে তা যাতে অব্যাহত থাকে তার ব্যবস্থা করা। কেননা এসব ভাল কাজের সওয়াব তাদের আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। হাদীসে এসেছে- مَنْ دَلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ فَاعِلِهِ  “ভাল কাজের পথপ্রদর্শনকারী এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে”। (সুনান আততিরমীযি : ২৬৭০)

হাদিসে আরও এসেছে-مَنْ سَنَّ فِى الإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَىْءٌ “যে ব্যক্তির ইসলামের ভাল কাজ শুরু করল, সে এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সাওয়াব পাবে। অথচ তাদেও সওয়াব থেকে কোন কমতি হবে না।” (সহীহ মুসলিম:২৩৯৮)

১৪. কবর যিয়ারত করা  

সন্তান তার মা-বাবার কবর যিয়ারত করবে। এর মাধ্যমে সন্তান এবং মা-বাবা উভয়ই উপকৃত হবে। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন- كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ فَقَدْ أُذِنَ لِمُحَمَّدٍ فِى زِيَارَةِ قَبْرِ أُمِّهِ فَزُورُوهَا فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الآخِرَةَ অর্থ: আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলাম, অত:পর মুহাম্মাদের মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন তোমরা কবর যিয়রাত কর, কেননা তা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। (সুনান তিরমীযি :১০৫৪)

কবর যিয়ারত কোন দিনকে নির্দিষ্ট করে করা যাবে না। কবর যিযারত করার সময় বলবে-

السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لاَحِقُونَ ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ অর্থ: কবরবাসী মুমিন-মুসলিম আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক । নিশ্চয় আমরা আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমরা আল্লাহর কাছে আপনাদের এবং আমাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (সুনান ইবনে মাজাহ :১৫৪৭)

১৫. ওয়াদা করে গেলে তা বাস্তবায়ন করা

মা-বাবা কারো সাথে কোন ভাল কাজের ওয়াদা করে গেলে বা এমন ওয়াদা যা তারা বেচে থাকলে করে যেতেন, সন্তান যথাসম্ভব তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কুরআন মাজীদে বলা হয়েছে- وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسۡ‍ُٔولٗا অর্থ: আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ( সূরা বনী ইসরাঈল:৩৪)

১৬. কোন গুনাহের কাজ করে গেলে তা বন্ধ করা

মা-বাবা বেচে থাকতে কোন গুনাহের কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বন্ধ করবে বা শরীয়াহ সম্মতভাবে সংশোধন করে দিবে। কেননা আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন-  وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلاَلَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لاَ يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا “এবং যে মানুষকে গুনাহের দিকে আহবান করবে, এ কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ গুনাহ তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ তাদের গুনাহ থেকে কোন কমতি হবে না।” (সহীহ মুসলিম:৬৯৮০)

১৭. মা-বাবার পক্ষ থেকে মাফ চাওয়া

মা-বাবা বেচে থাকতে কারো সাথে খারাপ আচরণ করে থাকলে বা কারো উপর যুলুম করে থাকলে বা কাওকে কষ্ট দিয়ে থাকলে মা-বাবার পক্ষ থেকে তার কাছ থেকে মাফ মাফ চেয়ে নিবে অথবা ক্ষতি পূরণ দিয়ে দিবে। কেননা হাদীসে এসেছে-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : أَتَدْرُونَ مَنِ الْمُفْلِسُ ؟ قَالُوا : الْمُفْلِسُ فِينَا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ لاَ دِرْهَمَ لَهُ ، وَلاَ مَتَاعَ لَهُ ، فَقَالَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْمُفْلِسُ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلاَتِهِ وَصِيَامِهِ وَزَكَاتِهِ ، فَيَأْتِي وَقَدْ شَتَمَ هَذَا ، وَأَكَلَ مَالَ هَذَا ، وَسَفَكَ دَمَ هَذَا وَضَرَبَ هَذَا ، فَيَقْعُدُ ، فَيُعْطَى هَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، وَهَذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ ، فَإِنْ فَنِيَتْ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُعْطِيَ مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ ، فَطُرِحَ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ

“আবু হুরায়রা রা.  থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি জান নিঃস্ব ব্যক্তি কে? সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যে যার সম্পদ নাই সে হলো গরীব লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে হলো গরীব, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আসবে অথচ সে অমুককে গালি দিয়েছে, অমুককে অপবাদ দিয়েছে, অন্যায়ভাবে লোকের মাল আত্মসাৎ করেছে, সে লোকের রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে। কাজেই এসব নির্যাতিত ব্যক্তিদেরকে সেদিন তার নেক আমল নামা দিয়ে দেয়া হবে। এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।” (সুনানে তিরমিযি :২৪২৮)

সুতরাং এ ধরনের নিঃস্ব ব্যক্তিকে মুক্ত করার জন্য তার হকদারদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া সন্তানের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে আমাদের পিতা-মাতার জন্য আমলগুলো করার তাওফীক দিন। আমীন

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে আমাদের পিতা-মাতার জন্য আমলগুলো করার তাওফীক দিন। আমীন

আমীন।

নীল আকাশ, আপনি অনেক পড়াশোনা করেন সেটা বুঝতে পারি, কিন্তু আপনার এই মন্তব্য পেয়ে বুঝতে পারছি যতটা পড়াশোনা করেন বলে ধারণা করেছিলাম আপনি তার চাইতে অনেক বেশিই পড়াশোনা করেন!!! আমার জানা দরকার ছিল যে জিনিসগুলো, আপনি ঠিক সেগুলোই জানিয়েছেন এই বিশাল মন্তব্যে। চেষ্টা করব এটা প্রিন্ট করিয়ে রাখতে, যেন অন‍্যদের দেয়া যায়। ইচ্ছে করলে এটা নিয়ে আপনি একটা পুরো পোস্ট দিতে পারতেন!!

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, দোয়া করি আল্লাহ যেন আপনার এই কাজের উত্তম প্রতিদান দেন। আপনার বাবার জন্য দোয়া করি।

১৯| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৩৩

নীল আকাশ বলেছেন: আল্লাহ আপনাকে এই ভয়ংকর কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা দান করুন, আমীন।
আপনাকেও পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা রইল।
ধন্যবাদ।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০১

করুণাধারা বলেছেন: সহৃদয় মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ নীল আকাশ, ভালো থাকুন সতত।

২০| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১২:৫৫

আনমোনা বলেছেন: এ শোকে সান্তনা দেবার ভাষা নেই। প্রার্থনা করি আপনার মায়ের আত্মা শান্তি পাক।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০৩

করুণাধারা বলেছেন: সদয় মন্তব্যর জন্য অনেক ধন্যবাদ আনমোনা। ভালো থাকুন আপনিও।

২১| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:১৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


মায়ের শোক কমে আসতে সময় লাগবে, আপনি ভালো থাকুন।

ঈদের শুভেচ্ছা রলো।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০৪

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ চাঁদগাজী। আপনার জন্যেও শুভেচ্ছা রইল।

২২| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:০৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: পিতৃ-মাতৃবিয়োগের যন্ত্রণা অতীব বেদনার। আর তা যদি সদ্য হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই। সন্তানের জীবনে মাতা পিতা বট বৃক্ষের ন্যায় স্তম্ভ স্বরূপ । 18 নম্বর কমেন্ট দাতা নীল আকাশ ভাইয়ের কমেন্টটি অসম্ভব সুন্দর হয়েছে। পুরোটা না হলেও এই তরিকা গুলোর কিছু কিছু পালনের মধ্যে আশাকরি আপনি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। সামনের সেপ্টেম্বরে 15 তারিখে আমার মায়েরও আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়া 4 বছর পূর্ণ হবে। নিজ অভিজ্ঞতা থেকেই জানি এ ক্ষত জীবনে অপূরণীয়।
আপনার মায়ের মাগফিরাত কামনা করি।
ঈদুলআযহার শুভেচ্ছা নিয়েন আপু।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:১১

করুণাধারা বলেছেন: আপনার চমৎকার মন্তব্য মনে অনেকটা শান্তি এনে দিল পদাতিক চৌধুরী। ঠিকই বলেছেন নীল আকাশের মন্তব্য আমাকে অনেকটা সাহায্য করবে।

আপনার মায়ের জন্য দোয়া করি। মা বাবা চিরদিন থাকেন না, কিন্তু চলে যাবার পর শূন্যতা তৈরি হয় তা কোন কিছু দিয়েই ভরাট করা যায় না...

আপনার জন্য শুভেচ্ছা রইল।

২৩| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১০:১২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: যে কথাটি উল্লেখ করতে ভুলে গেছি আপু,
এমন পোস্ট পড়ে সামুর লাইক বাটনে লাইকের পরিবর্তে sad অপশনের খুব অভাব অনুভব করছি।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:১৪

করুণাধারা বলেছেন: ভালো কথা বলেছেন, একটা স‍্যাড বাটন থাকলে ভাল হত।

২৪| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ২:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: ঈদ মোবারক।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:১৬

করুণাধারা বলেছেন: ঈদ পার হয়ে গেছে রাজীব নুর, তাই আপনাকে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা জানাই।

২৫| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৩

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: কিভাবে শান্তনা দিতে হয় সেটা আমার জানা নেই, আল্লাহ উনাকে জান্নাতবাসী করুন।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:১৮

করুণাধারা বলেছেন: সান্তনা দেবার দরকার নেই তারেক- মাহমুদ। আপনাদের দোয়া চেয়েছিলাম, আপনি দোয়া করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ সে জন্য।
শুভকামনা রইল আপনার জন্য।

২৬| ১২ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:২৮

কাতিআশা বলেছেন: আল্লাহ আপনার মাকে বেহেস্ত নসীব করুণ!..

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:২০

করুণাধারা বলেছেন: অনেকদিন পর আপনাকে পেয়ে ভালো লাগলো কাতিআশা।

আপনার দোয়া যেন আল্লাহ কবুল করেন। ভালো থাকুন আপনিও সব সময়।

২৭| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:০৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: আপনার মায়ের জান্নাতবাস কামনা করছি।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:২২

করুণাধারা বলেছেন: আপনার এই দোয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই গিয়াস লিটন।

শুভকামনা রইলো।

২৮| ১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ১১:৩৯

মুক্তা নীল বলেছেন:
আপা ,
আল্লাহ আপনাকে শোক কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা দিন । "বই থেকে ব্লগ"আপনার ঐ পোস্টে এই খবরটি যখন শুনেছিলাম মন্তব্য করেছিলাম এবং প্রতি মন্তব্য না করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম একটু কষ্ট করে পড়ে নিয়েন আপা ।
ভালো থাকুন ও আপনার আম্মার জন্য দোয়া রইলো আমার ।

২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:১৩

করুণাধারা বলেছেন: ওই মন্তব্য দেখেছি মুক্তা নীল। আপনাদের সহানুভূতি আর আল্লার রহমতে শোক ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছি।

আমার মায়ের জন্য দোয়া করায় অনেক ধন্যবাদ।

২৯| ১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১২:৫৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমরা মানতে চাই বা না চাই, এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, একে একে আমাদের সব প্রিয়জনই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। আমরাও আমাদের সব প্রিয়জনকে পিছনে ফেলে একদিন চলে যাবো। কাজেই মন খারাপ করবেন না আপা।

আমাদের এখানের ইমাম সাহেব একবার বলেছিলেন, প্রিয়জন কেন, কারো মৃত্যুতেই মন খারাপ বা কান্নাকাটি করা উচিত না। কারন এটা একমাত্র আল্লাহর সিদ্ধান্ত। আর এই সিদ্ধান্তে মন খারাপ করা মানে, আল্লাহর সিদ্ধান্তে প্রকারান্তরে অসুন্তুষ্টি প্রকাশ করা....যা কিনা একেবারেই অনুচিত। তাই, আমাদের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয়া আর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করা।

আমার উনার এই কথাগুলো খুবই ভালো লেগেছিল। তাই আপনার সাথে শেয়ার করলাম।

আল্লাহ আপনার শোককে শক্তিতে পরিণত করার আর দ্রুত স্বাভাবিক জীবন-যাপনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৬

করুণাধারা বলেছেন: আমরা মানতে চাই বা না চাই, এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, একে একে আমাদের সব প্রিয়জনই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। আমরাও আমাদের সব প্রিয়জনকে পিছনে ফেলে একদিন চলে যাবো।
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর, এবং নিশ্চয়ই তার কাছেই ফিরে যাব- জানি, তবু মেনে নেয়াটা খুব সহজ হয়না...

তবে আপনার ইমাম সাহেবের কথাটা শেয়ার করায় অনেক উপকার হলো! পড়ার পর বুঝলাম, এভাবে মনখারাপ করা মানে আল্লাহর সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হওয়া, তাই এরপর যখনই মনখারাপ হয়েছে তখনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছি, এবং সাথে সাথেই মন শান্ত হয়ে গেছে। "ইন্নাল্লাযিনা আমানু ও তাতমাইন্নু কুলুবুহিম বি যিকরিল্লাহ, আলা বি জিকরিল্লাহি তাতমাইন্নুল কুলুব"- "যাহারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়; জানিয়া রাখ, আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়"... আপনার ইমাম সাহেব খুবই দরকারি কথা বলেছেন।

জবাব দিতে দেরি করে ফেললাম, দুঃখিত। সুচিন্তিত এই মন্তব্য আমার জন্য অনুপ্রেরণা। অনেক ধন্যবাদ ভুয়া মফিজ। ভালো থাকুন আপনিও।

৩০| ১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৮

ইসিয়াক বলেছেন: লেখক বলেছেন: আমীন।
আপনার এই দোয়ার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই {{ইসতিয়াক }}ঈদ চলে গেছে, সময়মত উত্তর করতে পারিনি। আপনার জন্যও রইল শুভকামনা সতত।
ইসতিয়াক
ধন্যবাদ

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৭

করুণাধারা বলেছেন: আরেকবার ফিরে আসায় অনেক ধন্যবাদ ইসিয়াক।

আপনার বেশ কয়েকটি পোস্ট পড়েছি, কিন্তু মন্তব্য করা হয়নি যেহেতু নিজের পোস্টের প্রতিমন্তব‍্য করা বাকি ছিল, তাই। এগুলো শেষ করে ইনশাল্লাহ আপনার পোস্টে যাব। ভালো থাকুন।

৩১| ১৫ ই আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:২৩

সোহানী বলেছেন: প্রতিদিনই মেয়েটি তার মাকে ফোন করতো অসংখ্যবার সামান্য এ ঢাকা থেকে মফস্বলের এ দূরত্বে। সামান্য কিছু জানা থেকে শুরু করে কি খেয়েছো, কি রান্না করেছো, কিভাবে এটা রাঁধতে হবে, সারাদিনে বাবুগুলি কি যন্ত্রনা দিচ্ছে, অফিসে আজ কি ঝামেলায় পড়েছে..... সব কিছু শেয়ার না করলে দিনই শেষ হতো না। তারপর সে মেয়েটি যখন হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অনেক দূরে চলে গেল সেখানেও ফোন চলতো দিন রাত। জীবনে কখনো রাঁধতে না জানার কারনে ভাত রান্না থেকে বিরানী সব মূহুর্তেই ফোন। ...... তারপর এক সময় সে মেয়েটির আর কোন ফোন করতে হলো না কারন ওপারে ফোন রিসিভ করার মতো কেউই নেই। মেয়েটি এখনো রাঁধতে জানে না, কোন কিছুই ঠিকভাবে সামলাতে পারে না.... কোন কিছুই শিখে উঠতে পারেনি ভালোভা্বে। তারপরও তার কেউই রইলো না ওপাশের ফোনে সমস্যার সমাধান দেবার জন্য।...... এখনো মেয়েটি অপেক্ষায় থাকে সেই ফোনের।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৩

করুণাধারা বলেছেন: এই মন্তব্য পড়ে নতুন করে মনখারাপ হলো, সোহানী। মা যে কতবড় সহায়, সেটা আমরা সময় থাকতে বুঝতে পারি না কেন!! জন্মের পর থেকেই মায়ের  সাহায্য আর দান পেয়েই গেছি, মাকে কোন প্রতিদান না হয় নাই দিলাম, কিন্তু কৃতজ্ঞতাটুকুও কেন জানাইনি!!

কিছু কিছু দুঃখ বুকের ভেতর রেখে জীবন কাটাতে হয়, এটা এমনই দুঃখ...

সব সময় ভাল থাকুন সোহানী, শুভকামনা রইল।

৩২| ১৮ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৯:০১

শামছুল ইসলাম বলেছেন: আপনার সংগ্রামী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মায়ের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ খালাম্মাকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন। আমিন।

মার জন্য আরো কিছু করতে না পারার বেদনা আপনাকে প্রতি মুহূর্তে ব্যথিত করছে - আমার মনে হয় এটাই উনার জন্য বিরাট পাওয়া। আপনার স্মরণ বোধ করি ওপারেও তিনি অনুভব করছেন।

আমার মার কোন স্মৃতি আমার কাছে নেই। তবুও তিনি আছেন প্রতিনিয়ত আমার সাথে গত ৫১ বছর ধরে। আমি উনার জন্য কিছুই করতে পারলাম না, এই দু:খবোধ থেকে আমি চেষ্টা করেছি উনার জন্য কিছু করার। তারপর যখন কুরআন শরীফ পড়া শিখলাম, তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিন কুরআন থেকে কিছু আয়াত পাঠ করে উনাকে স্মরণ করি।

যারা চলে যায় তারা আরো বেশী জীবন্ত হয়ে ওঠে তার একান্ত প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে। ছোট ছোট স্মৃতি গুলো অনুক্ষণ কাঁদায়।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১

করুণাধারা বলেছেন: শামছুল ইসলাম, অনেকদিন পর ব্লগে ফিরে আপনি আমার পোস্টে মন্তব্য করেছেন- আপনার আন্তরিকতা মন ছুঁয়ে গেল।

মার জন্য আরো কিছু করতে না পারার বেদনা আপনাকে প্রতি মুহূর্তে ব্যথিত করছে - আমার মনে হয় এটাই উনার জন্য বিরাট পাওয়া। আপনার স্মরণ বোধ করি ওপারেও তিনি অনুভব করছেন।
তাই যেন হয়। আপনার কথাটা খুব ভালো লাগলো। আল্লাহ আমাদের সকল প্রিয়জনকে জান্নাতে দাখিল করুন।

আপনি খুব ছোট বেলায় মাকে হারিয়েছেন জেনে দুঃখ পেলাম। কিন্তু আমার এটাও মনে হয়, আমরা যারা শৈশবে বাবা কিংবা মাকে হারিয়েছি, মা-বাবার সাথে  আবার মিলিত হবার উপায় আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন। সেজন্য আমাদের চেষ্টা করতে হবে ঈমানের সাথে সৎ জীবন যাপন করবার। আপনি নিয়মিত কোরআন পড়েন, আপনি নিশ্চয়ই আয়াতগুলো জানেন, তবুও আমি আরেকবার আয়াতগুলো উল্লেখ করছি, আয়াত গুলো পড়তে আমার খুব ভালো লাগে বলে।

...এবং যারা ঈমান আনে, আর তাদের সন্তান- সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করব তাহাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল আমি কিছু মাত্র হ্রাস করব না; প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী।
সুরা আত তূর, আয়াত ২১

......এদের জন্য শুভ পরিণাম- স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের পিতা- মাতা, পতি- পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তারাও, এবং ফেরেশতাগণ তাদের নিকট উপস্থিত হবে প্রত্যেক দ্বার দিয়ে, এবং বলবে, "তোমরা ধৈর্য ধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি; কত ভালো এই পরিনাম!" সুরা রা'দ আয়াত ২২-২৪

আল্লাহ আপনার মাকে জান্নাত বাসী করুন। ভালো থাকুন আপনিও, শুভকামনা রইল।

৩৩| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!

আল্লাহ আপনাকে এ শোক সইবার শক্তি দিন! এ শুন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়। কোন শব্দ দিয়ে কোন ভাষায় এর সান্তনা দেয়া অসম্ভব! এ কেবলই অনুভবের। আর প্রার্থনার। মায়ের জন্য। বিদেহী আত্মার জন্য। -
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।
রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।

আল্লাহ গো আমার মাকে ভাল রেখো, সূখে রেখো
যেমনি রেখেছে সর্বদা আমাদেরে
তুমি ছাড়া কে আছে আর, তাই তোমাতেই আরজি
জান্নাতে রেখো তারে খুব আদরে।

অনেক দেরীতে চোখে পড়ল। এ জন্য ক্ষমা প্রার্থী।
অন্তর থেকে দোয়া রইল- মায়েরিআত্মার মুক্তি ও শান্তির।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:০০

করুণাধারা বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু, আপনার আন্তরিকতায় অভিভূত হলাম; এই ভার্চুয়াল জগতে আপনাকে কখনো দেখিনি, তবু আপনি যেভাবে সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আমার মায়ের জন্য দোয়া করেছেন, তার খাঁটিত্ব অনুভব করতে পেরেছি সহজেই। আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

দুঃখিত বরং আমিই, আপনার সুন্দর মন্তব্যের উত্তর দিতে এত দেরি করলাম দেখে। ভালো থাকুন আপনিও সব সময়, দোয়া রইল।

৩৪| ২০ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:২৫

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সবসময় শব্দ দিয়ে সবকিছু বলা যায় না। শব্দরা অনেক সময় বোবা হয়ে যায় !
যার সাথে এত বছরের আনাগোনা, সে হঠাৎ করে চলে গেলে সময়টা থমকে যায়। আমি আছি, কিন্তু.... আমি নেই।

জীবন ট্রেনের লাস্ট স্টপেজ বোধহয় অসীমে.....

আপনার মায়ের জন্য দোয়া রইলো....

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:০৯

করুণাধারা বলেছেন: যার সাথে এত বছরের আনাগোনা, সে হঠাৎ করে চলে গেলে সময়টা থমকে যায়

চমৎকার এক্সপ্রেশন আর্কিওপটেরিক্স! সময়টা থমকে যাবার সাথে সাথে শূন্যতা ঘিরে ধরে...

চমৎকার মন্তব্য, আর মায়ের জন্য দোয়া করায় অনেক ধন্যবাদ আর্কিওপটেরিক্স। আপনার জন্যেও শুভেচ্ছা।

৩৫| ২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:০৪

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: মফিজ ভাই বলেছেন: আমরা মানতে চাই বা না চাই, এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, একে একে আমাদের সব প্রিয়জনই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। আমরাও আমাদের সব প্রিয়জনকে পিছনে ফেলে একদিন চলে যাবো। কাজেই মন খারাপ করবেন না আপা।....

"মায়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি, আপু।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৪৯

করুণাধারা বলেছেন: আমার মায়ের জন্য দোয়া করায় অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই জুনায়েদ বি রাহমান।

ভুয়া মফিজের মন্তব্য আমারও ভালো লেগেছে। এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি।

ভালো থাকুন আপনিও, সবসময়।

৩৬| ২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১০:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: ১৮ নং মন্তব্যটির জন্য নীল আকাশ কে জানাচ্ছি আন্তরিক মোবারকবাদ!

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৮:৫০

করুণাধারা বলেছেন: আরেকবার ফিরে আসায় আপনাকেও জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

৩৭| ২৬ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

আখেনাটেন বলেছেন: ভুয়া মফিজ বলেছেন: আমরা মানতে চাই বা না চাই, এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, একে একে আমাদের সব প্রিয়জনই আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। আমরাও আমাদের সব প্রিয়জনকে পিছনে ফেলে একদিন চলে যাবো। কাজেই মন খারাপ করবেন না আপা। --- আমারও একই কথা।

আমিও নিজেও হারিয়েছি তাঁদের অনেক আগে। এ ব্যথা ভোলার নয়।

২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:০৩

করুণাধারা বলেছেন: আমিও নিজেও হারিয়েছি তাঁদের অনেক আগে। আপনি তাহলে আমার আগেই এই কষ্টকর সময় পার করেছেন!! এই সময়টা সবাইকে পার করতে হয়, সকলের অভিজ্ঞতাও মোটামুটি একই রকম। সৃষ্টিজগতের নিয়ম আমাদের সকলকে মেনে চলতে হবে...

অনেক দিন পর সামুতে এসে আমার পুরানো পোস্টে এসেছেন- সেজন্য অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, আখেনাটেন।

ভালো থাকুন, সব সময়।

৩৮| ২৭ শে আগস্ট, ২০১৯ ভোর ৬:৪৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আপনার ব্যাথায় ব্যাথিত আমি । এই শোকের কোন শান্তনা নেই । পরম করুনাময় আপনার মাকে বেহেশত নসীব করুন ।
আপনার মায়ের অসুস্থতা ও অসুস্থতা জনিত কারণে দীর্ঘদিন চলতশক্তি হারিয়ে শয্যাসায়ী হয়ে থাকা এবং সবশেষে মায়ের সময় ঘনিয়ে আসার কথা শুনে অফিসের কাজ ফেলে ঘরে মায়ের কাছে যাওয়ার খানিক পুর্বেই সব শেষ হয়ে যাওয়ায় মনের মাঝে যে কি কষ্ট তা বলে বুঝাবার মত নয় । আপনার এ লেখা পাঠে মনের অজান্তেই আজ এত বছর পরেও চোখের অশ্রুসংবরন করা কঠিন হয়ে পরেছে । এত মিল কি করে হয় সে কথাই শুধু ভাবছি । এ লেখাটির অনুরনন দীর্ঘ দিন মনের মনিকোঠায় জমে থাকবে । যাবার বেলায় লেখাটি প্রিয়তে নিয়ে গেলাম ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫২

করুণাধারা বলেছেন: ডঃ এম এ আলী, মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে আপনার আন্তরিক সমবেদনার স্পর্শ পেয়ে আমার কষ্টের সময়টা পার করা অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু এই কথাটা জানাতে অনেক দেরী করে ফেললাম;  কি কারনে জানিনা, হঠাৎই ভিপিএন এ সমস্যায় হচ্ছিল, তাই ব্লগে আসতে পারছিলাম না। এখন কিছুটা ঠিক হয়েছে। 

আপনার মায়ের কথা জেনে ব্যথা বোধ করছি। মায়ের শেষ সময়ে কাছে থাকতে না পারার দুঃখ কখনোই মুছে যাবার নয়। আল্লাহ উনাকে জান্নাতের শান্তিতে রাখুন, দোয়া করি।

 আমার এই সামান্য লেখা আপনি প্রিয়তে স্থান দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ভালো থাকুন আপনিও, শুভেচ্ছা রইল।


৩৯| ২৮ শে আগস্ট, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: পরিবারের সদস্য হারানোর কষ্ট এখনও হয় নি। তাই হয়তো আপনার দুঃখও পুরোপুরি বুঝতে পারবো না। তারপরও সমবেদনা রইলো

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫৪

করুণাধারা বলেছেন: ডার্ক ম্যান, পরিবারের সকলকে নিয়ে সবসময় ভালো থাকুন, দোয়া করি।

সমবেদনা জানিয়ে মন্তব্য করায় অসংখ্য ধন্যবাদ, ভালো থাকুন।

৪০| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯

মা.হাসান বলেছেন: আপনার আগের লেখা থেকে অনুমান করেছিলাম আপনার বিষন্নতার কথা। ধারণা করেছিলাম আপনার আত্মজার দূরে থাকার কারণে ঐ লেখার সুত্রপাত। এত কষ্টকর বিষয়ের কথা চিন্তায় আসে নি।

আমার জম্মের অনেক আগে আমার দাদা মারা যান। মৃত্যু কি বোঝার আগে দাদী চলে যান। খুব ছোট বেলায় ওনাদের সমবয়সীদের চলে যেতে দেখেছি। একটু বড় হয়ে দেখেছি বাবার বড় ভাই-বোনদের মৃত্যু। বাবা চলে গেছেন ছয় বছর হলো। সম্প্রতি দেখছি চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনদের চলে যাওয়া। আমার জেনারেশনের অনেক জন গত কয় বছরে বিদায় নিয়ে গেছে।
স্রষ্টার কাছে এটাই বড় কামনা, আমার সন্তান যেন আমার আগে না যায়, আর আমার সন্তান সাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত যেন আমাকে না নেন।
সর্বকল্যানময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, উনি আপনার মায়ের প্রতি সে রকম সদয় হোন যেরকম আচরন সব মা তাদের বাচ্চাদের সাথে করেন। আমিন।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৩

করুণাধারা বলেছেন: স্রষ্টার কাছে এটাই বড় কামনা, আমার সন্তান যেন আমার আগে না যায়, আর আমার সন্তান সাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত যেন আমাকে না নেন।

আমি ঠিক এই প্রার্থনাই সব সময় আল্লাহর কাছে জানাই। সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতের অংশটুকু আমি নিয়মিত দোয়া হিসেবে পড়ি, আর সুরা ইব্রাহিমের ৪০ নম্বর আয়াত।

মা চলে গেছেন- আল্লাহর নির্ধারিত সময়ে। এই শূন্যতা মানিয়ে নেবার চেষ্টা করছি। ভালো লাগলো আপনার সহানুভূতিপূর্ণ মন্তব্য পেয়ে। অনেক ধন্যবাদ।

৪১| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:০৫

আরোগ্য বলেছেন: করুনাধারা আপু,
ব্লগে এখন কম দেখা যায়। আশা করি ভালো আছেন এবং শোক খানিকটা স্বাভাবিক হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের ধৈর্য্য দান করুন।

আম্মুকে নতুন করে সাইকোলজিস্ট ও সাইক্রায়াটিস্ট দুজনই দেখানো হয়েছে। সাইক্রায়াটিস্ট বলেছে এটা সাইকোলজিস্টের কাজ না। এবং সমস্যাটা এপিসোডিক সিজোফ্রেনিয়া তাই একেবারে সুস্থ হবে না কিন্তু ঔষধ চালাতে হবে। উনি নাকি বাংলাদেশের নামকরা ডাক্তারদের একজন, হেলাল উদ্দিন।
যতটুকু বুঝলাম আমাদেরই অধিক সহনশীল হতে হবে, অধৈর্য হলেই অবস্থার অবনতি ঘটে। তাছাড়া লিভার সিরোসিস তো আছেই। দোয়া করবেন আপু। আল্লাহ যেন আমাদের চলার পথ সহজ করেন।

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২১

করুণাধারা বলেছেন: আরোগ্য, সব সময় মনে রাখবেন আল্লাহ বিপদ আপদ দেন পরীক্ষা নেবার জন্য। ধৈর্য ধারণ করার পুরস্কার অনেক বেশি পাওয়া যায়। আল্লাহ যেন আপনাদের সেই ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেন।

কিছু কিছু রোগ আছে যেগুলো কখনোই সারে না, সব সময় ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। কখনো বাড়ে, কখনো নরমাল থাকে। আপনার মায়ের অসুখটাও তেমন। এমন একজন মানুষের পরিচর্যা করা খুব কষ্টকর। আমার পরিচিত এক পরিবার আছে, মায়ের সিজোফ্রেনিয়া, মূলত নানীই তাদের বড় করে তুলেছেন।

মা সহ আপনারা সবাই ভালো থাকুন, দোয়া করি।

৪২| ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১০

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন: আজ দুটো পোস্ট পরে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। বিষণ্ণ হয়ে গেলো।তার মধ্যে এই পোস্ট একটা। আল্লাহ নিশ্চয় মা কে ভালো রাখবেন। দোয়া করবেন অনেক।

'' মৃত্যুর পর কোন বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো।''

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬

করুণাধারা বলেছেন: স্বপ্নবাজ সৌরভ, লেখাটা পড়ে আপনার মন খারাপ হয়েছে, কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে আমার মন ভালো হয়ে গেছে...

'' মৃত্যুর পর কোন বান্দাহর মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। তখন সে বলে হে আমার রব, আমি তো এতো মর্যাদার আমল করিনি, কীভাবে এ আমল আসলো ? তখন বলা হবে, তোমার সন্তান তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করায় এ মর্যাদা তুমি পেয়েছো।''

এই কথাটা আমার জানা ছিলনা। সবসময় মা বাবার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি, এটা জানার পর ভালো লাগছে। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

৪৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:১২

বিজন রয় বলেছেন: !!!

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: অনেকদিন পর ব্লগে আপনাকে পেয়ে ভালো লাগলো। কিন্তু এসেই আবার উধাও হয়ে গেলেন মনে হচ্ছে। কষ্ট করে হলেও থাকুন। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

৪৪| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৮

বিজন রয় বলেছেন: না, উধাও হইনি! হয়তো হবো না কখনো।

ব্লগ ব্লক হওয়ার পর লগইন হতে পারতাম না, এখন পারি।

সেদিন আপনার এখানে এসে এই পোস্ট পড়ে কোন কথা বলতে পারিনি। তাই শুধু বিস্মিত হয়ে চলে গিয়েছিলাম।
জীবন থেকে সবচেয়ে প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলার কোন ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা মানুষের জানা আছে কি না জানিনা।

শূন্যতার স্পর্শ যতই প্রগাঢ়, স্থির আর নিঃশব্দ হয়, ততই হৃৎপিন্ড কেঁপে ওঠে! যা কেবল ধাবিত হয় এক নশ্বর অসীম গন্তব্যে............!!

আশাকরি সময়ের সাথে সাথে আপনি সামলে উঠছেন সব কিছু।
আমি আপনার কেউ না, তবুও মনে রাখবেন আপনার বিপদ বা মন্দ সময়ে আমি আপনার পাশে আছি।

অনেক শুভকামনা রইল। ভাল থাকুন।

৪৫| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৬

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: যার মা নেই তার যেন পৃথিবী অন্ধকার।

সময়ের সাথে শোকের নদীও স্তমিত হয়ে আসে। ধৈর্য ধরুণ।

কে কি বলল তা না ভেবে। আপনার মতামত ছোট, বড়, মাঝারি যেটা মন চায় সেভাবে প্রকাশ করুন।

ভাল থাকুন।

৪৬| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৪৭

বলেছেন: আশাকরি ভালো আছেন ..........
১৮ নাং ঐতিহাসিক comments .....

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:০৭

করুণাধারা বলেছেন: আপনাকে ব্লগে পেয়ে খুব ভালো লাগলো ল। আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি, যদিও গত দুরাত ঘুমাতে পারছি না আরেক মায়ের যন্ত্রণা কথা ভেবে ভেবে।

১৮ নম্বর কমেন্ট সত্যি ঐতিহাসিক। আমি ওনাকে অনুরোধ করেছি এটা পোস্ট আকারে দিতে, অনেকেই তাতে উপকৃত হবেন।

ভালো থাকুন সতত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.