নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

করুণাধারা

করুণাধারা

জীবন যখন শুকাইয়া যায় করুণাধায় এসো

করুণাধারা › বিস্তারিত পোস্টঃ

গল্প গুচ্ছ

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:০০


ডক্টর সরিতা তিশনিওয়াল

গল্প ১:
টিস্যু দিয়ে মুছতে মুছতে অন্যমনষ্কভাবে সারিতা দুই হাত মেলে ওর আঙ্গুলগুলো দেখতে লাগলো। ওর আঙ্গুল সরু আর লম্বা, আঙ্গুলের মাথায় নখগুলোও সরু আর লম্বা। কোথায় যেন পড়েছিল আঙ্গুলের আকার অনুযায়ী নাম দেয়া যায়, যেমন ওর মতো লম্বা আঙ্গুলের নাম আর্টিস্টিক ফিঙ্গার- শৈল্পিক আঙ্গুল, সাধারণত চিত্র শিল্পীদের এমন আঙ্গুল দেখা যায়। সারিতা অবশ্য চিত্র শিল্পী হয়নি, ডাক্তার হয়েছে। কিন্তু বারো বছর বয়স থেকেই মা হাতের আঙ্গুলের নখের বিশেষ যত্ন নেয়া শিখিয়েছেন, সূচালো আগার নখগুলো সবসময় ঝকমক করে, একেবারেই শৈল্পিক আঙ্গুল! ভাগ্যিস মা শিখিয়েছিলেন...

অন্যমনষ্কতা কেটে গেল আইসিইউর মেঝেতে পড়ে থাকা ওয়ার্ড বয় বাবুলের কান্না মাখা চিৎকারে, "ম্যাডাম মাফ করে দেন, আমাকে বাঁচান"! একবার বাবুলকে দেখে নিয়ে সারিতা  দরজা দেখল, ঠিকমতো লক করা আছে কিনা; তখনই মনে পড়ে গেল আইসিইউতে ঢুকেই বাবুল দরজা লক করে দিয়েছিল, আপাতত এ ঘর থেকে বাবুলের আর্তনাদের শব্দ বাইরে যাবেনা। নিশ্চিন্ত হয়ে ভেজা টিস্যু দিয়ে ঘষে ঘষে নখ থেকে রক্তের দাগ মুছতে লাগলো।

অনেক দিন পর মনে পড়ল জাফর মামার কথা। মায়ের খালাতো ভাই, কী একটা কাজে ঢাকায় এসে ওদের বাসায় উঠেছিলেন। খুবই মজার মানুষ, অনেক রকম গল্প করে মাতিয়ে রাখতেন। সারিতা সারাদিন বই পড়ত দেখে বলতেন, "এত পড়িস না, বেশি পড়লে বদরুদ্দোজা হয়ে যাবি।" বদরুদ্দোজার গল্পটাও বলেছিলেন; বদরুদ্দোজা ছিল উনার ক্লাসের ফার্স্ট বয়, মেট্রিক পরীক্ষায় ফার্স্ট হবার এত পড়তে লাগলো যে পড়তে পড়তে পাগল হয়ে গেল। তখন সারিতা পড়ে মোটে ক্লাস সেভেনে, পড়ার বই যত পড়ে তার পাঁচ গুণ পড়ে গল্পের বই। বদরুদ্দোজার গল্প শুনে মোটেও ভয় পেল না, আগের মতই গোগ্রাসে গল্পের বই পড়তে লাগলো। সেদিন দুপুরেও সারিতা তন্ময় হয়ে একটা বই পড়ছিল বিছানায় শুয়ে, কোন কারণে স্কুল বন্ধ কিন্তু মা-বাবার অফিস খোলা, তারা দু'জনেই অফিসে, সব কাজ শেষ করে এই সময়টায় বুয়াও তার ঘরে ঘুম দেয়। হঠাৎ তন্ময়তায় ছেদ পড়ল, দেখল জাফর মামার তার ঘরে ঢুকেছেন। "কী মামা, কিছু লাগবে?" সারিতার প্রশ্নের উত্তরে মামা বললেন, "হ্যা, লাগবে তো...", বলতে বলতেই ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে সারিতার বিছানায় উঠে এলেন। "মামা মামা, কী করছ তুমি, সরে যাও, নাহলে মাকে বলে দেব..." জাফর মামা মনে হয় কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না, তার মুখটা একটা হিংস্র পশুর মতো দেখাচ্ছিল। সারিতা কিছু না ভেবেই সেই পশুর মুখে আক্রমণ করেছিল, একহাতে মাথার চুল ধরে আরেক হাতের লম্বা নখ সোজা চোখে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। একটা আর্তচিৎকার, জাফর মামা ওকে ছেড়ে হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরলেন, সারিতা দেখল জাফর মামার আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে নামছে। প্রচন্ড ভয়ে ও বুঝতে পারছিল না কী করা উচিত। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে চিৎকার করে বুয়াকে ডাকতে লাগলো...

সারিতার মা-বাবা যখন বাসায় পৌঁছালেন ততক্ষণে বুয়া মামাকে নিজের ঘরে পৌঁছে দিয়ে একটা বরফের পোঁটলা করে দিয়েছে চোখে চাপা দেবার জন্য। সেটা চোখে চেপে ধরে মামা মাঝে মাঝে আর্তনাদ করছিলেন। এই অবস্থায় সারিতার বাবা মামাকে নিয়ে হাসপাতালে গেলেন, আর মা গম্ভীর মুখ করে দীর্ঘ সময় সারিতাকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলেন। বুয়া একবার পানি দিতে এসে বলল, "নউখ যে এমুন কাজে লাগে..."

ডাক্তারি পড়ার সময় হোস্টেলে বন্ধুরা হাসাহাসি করত নখ নিয়ে সারিতার বাড়াবাড়ি দেখে। পড়াশোনার চাপে যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, এরমধ্যেও দেখা যায় সারিতা সময় নিয়ে নখের পরিচর্যা করছে; নখ মজবুত রাখতে নাকি ওর মা আমেরিকা থেকে বায়োটিন নামের একটা ওষুধ আনিয়ে দেন! আসলে এভাবে নখের যত্ন করা সারিতার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেছে, কেন এটা শুরু করেছিল সেকথা হয়তো আর মনেই পড়তো না যদি না আজকে রোগী দেখতে আইসিইউতে আসত...

সারিতার নাইট ডিউটি পড়েছিল আইসিইউতে, কিন্তু আইসিইউতে কোনো রোগী না থাকায়  সারিতা আইসিইউর পাশে ডাক্তারদের রুমে টেবিলে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, ঘুম ভাঙল ওয়ার্ড বয় বাবুলের ডাকে, আইসিইউতে একজন রোগী এসেছে। আইসিইউতে ঢুকে দেখে সব বেড খালি, বাবুলকে জিজ্ঞেস করার জন্য পিছন ফিরতেই দেখে বাবুল দরজা বন্ধ করছে। প্রায় ভুলে যাওয়া জাফর মামার কথা অনেক দিন পর মনে পড়ল সারিতার; চুপ করে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো... ডাক্তারি পড়ার সুবাদে ও এখন জানে চোখের কোন জায়গাতে এক খোঁচা দিলেই চোখ গলে যাবে। হাসিমুখে বাবুল যখন এগিয়ে এলো ওর দিকে, ও হাত বাড়াবার আগেই সারিতা তার দুহাত বাড়িয়ে দিল বাবুলের চোখ বরাবর...

নখ পরিষ্কার করা শেষ। আড়মোড়া ভেঙ্গে সারিতা উঠল, এক কাপ চা খাওয়া দরকার।   
=================================

সারিতা কাল্পনিক চরিত্র। বাস্তবে ঢাকার এক হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয় ডিউটিরত ডাক্তারকে ধর্ষণের পর খুন করে। আমি সেই খবরটার জন্য সার্চ দিয়ে পাইনি, বদলে পেলাম ধর্ষণ করতে গিয়ে ডাক্তারের নখের আঁচড়ে আহত হয়ে ভারতের হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়  ডাক্তারকে খুন করেছিল, সেই কাহিনী। এই যে সেই কাহিনীর লিঙ্ক view this link আর ডাক্তার সরিতার ছবি উপরে দেয়া আছে। সরিতা ধর্ষণ ঠেকাতে গিয়ে ওয়ার্ড বয়ের হাতে খুন হয়েছিল, আমার গল্পের সারিতা ধর্ষণ ঠেকিয়ে ধর্ষককে ভালো মতন শাস্তি দিয়েছে... অবশ্য এটা কাল্পনিক...

গল্প ২:
এই ধর্ষনের ঘটনার কাল প্রায় ত্রিশ বছর আগের, ৪ঠা জানুয়ারি ১৯৯২, স্থান দুবাই। ভারতীয় ব্যাংক অফিসার রাজেশ সাগর সপরিবারে দুবাইতে থাকতেন। পরিবারে ছিল চাকুরিজীবী স্ত্রী রাজৌরী, তের বছরের মেয়ে জ্যোতি, এগারো বছরের ছেলে জয়েশ, রাজেশের মা মালিবাই আর বারো বছর যাবত কাজ করা বিশ্বস্ত কাজের লোক মনু পভর। একদিন জ্যোতি তখন স্কুল থেকে ফিরে এসেছে, মালিবাই তার ঘরে রামায়ণ পড়ছেন, সেসময় পভর জ্যোতিকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। জ্যোতি যখন বলে যে সে সবাইকে এটা বলে দেবে, তখন পভর জ্যোতিকে হত্যা করে। এরপর সে একটা ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে মাথার পিছনে বাড়ি মেরে মালিবাইকে হত্যা করে। জয়েশ স্কুল থেকে ফিরলে দরজা খুলে দিয়ে তাকেও মাথায় ব্যাট দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেলে। এরপর একইভাবে প্রথমে রাজৌরী আর তারপর রাজেশকে দরজা খুলেই মাথায় ব্যাটের বাড়ি মেরে হত্যা করে। পাঁচ জনকে খুন করে  পভর বাসা থেকে চলে যায়... দুবাই পুলিশ যখন রাজেশের পরিবারের এই পরিনতি জানতে পারে ততক্ষণে পভর ভারতে চলে গেছে। দুবাই পুলিশের অনুরোধে ভারতীয় পুলিশ পভরকে গ্রেফতার করে, তারপর দীর্ঘ বিচার কাজ শেষে এলাহাবাদ হাইকোর্ট পভরের মৃত্যু দন্ড দেন। সেটা কার্যকর হয়েছে সেই খবর পাইনি!! খবরের লিঙ্ক: view this link

গল্প ৩:
খেলার মাঠের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে কয়েকটা সিড়ি দিয়ে একটা গ্যালারির মত বানানো আছে, ক্লাস না থাকলে দিবা তার ক্লাসের বাকি ছয়জন মেয়ের সাথে এখানে বসে আড্ডা দেয়। সেদিনও সাত বান্ধবী বসে আছে, দেখে মাঠের পাশের রাস্তা দিয়ে হনহনিয়ে একজন হেঁটে আসছে, হাঁটার ভঙ্গি দেখে বুঝল এটা হেলাল।

- ও আবার এদিকে আসছে কেন?

- নিশ্চয়ই মাথায় নতুন কোন আইডিয়া এসেছে, আমাদের শেখাতে আসছে।

ততক্ষণে হেলাল ওদের কাছে পৌঁছে গেছে। যা ভেবেছিল ঠিক তাই, কিছু একটা শেখানোর জন্য ওদের খুঁজতে খুঁজতে এখানে এসে পৌঁছেছে।

- এই যে মেয়েরা, এভাবে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট না করে ক্যারাটে শিখলে তো পারো। চলো, তোমাদের ক্যারাটে শেখাবো।

- ক্যারাটে!! ওটা শিখে কী হবে? তোমার মাথায় এত অদ্ভুত আইডিয়া আসে কেন হেলাল? খুব বিরক্ত হয়ে তাসনিম বলল। একটুও না দমে হাসিমুখে হেলাল বলল,

- আরে ক্যারাটে শেখা খুব সহজ। চলো এক্ষুনি দেখিয়ে দিচ্ছি কত সহজ! শেখা থাকলে দেশ বিদেশে কত কাজে লাগবে...

- দ্যাখো হেলাল, এমনিতেই সেসনালে হাবিজাবি অদরকারি জিনিস শিখতে শিখতে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এইপর আবার ক্যারাটে ম্যারাটের মত অদরকারি জিনিস শিখতে হবে? কেন বলতো??"

- কি যে বলো! অদরকারি জিনিস কেন হবে। আমার বড় আপা ডাক্তার আর ছোট আপা মেজিস্ট্রেট। ওদেরকেও তো ক্যারাটে শেখালাম, কখন কী কাজে লাগে ঠিক আছে নাকি!!

- এ্যাই!! আমরা কি তোমার বড় আপা না ছোট আপা?  আমরা তোমার ক্যারাটে শিখবো না... কিছুতেই শিখবো না। এখন ইচ্ছা হলে আমাদের সাথে বসে গল্প করতে পারো, না হলে ভাগো... নো ক্যারাটে ম্যারাটে।

হেলালের অবশ্য গল্প করার কোন ইচ্ছা দেখা গেল না। হাসিমুখে উঠে দাঁড়ালো, তারপর ফিরে গেল। মেয়েদের গল্প ঘুরে গেল হেলালকে নিয়ে।

- কয়দিন আগে সবাইকে কম্পিউটার শেখানোর বাতিক উঠেছিল। এখন উঠেছে ক্যারাটে শেখানোর বাতিক, পাগলা দাশু...

ক'দিন পর আবার হাসিমুখে হেলাল হাজির, এবার ক্লাসের সামনের বারান্দায়।

- এই শোনো, তোমাদের একটা দরকারি জিনিস শেখাবো, এক মিনিট লাগবে...

- এক মিনিট! আচ্ছা শেখাও দেখি।

- ধরো কেউ তোমাকে আক্রমণ করল, তুমি করবে কি, তার চোখের এই কোনায় এইভাবে বুড়ো আংগুল দিয়ে জোরে চাপ দেবে, চোখ কোটর থেকে বের হয়ে আসবে...

- আরে থামো থামো, কী বলছ এসব! মানুষের চোখ ওপড়াবো!! কেন? কে আবার আক্রমণ করতে যাবে? যত ফালতু ভাবনা তোমার মাথায় গিজগিজ করে... হিজিবিজবিজ...

- আহা, ফালতু ভাবনা কেন হবে! কেউ যদি আক্রমন করে তাহলে সোজা তার চোখে এইভাবে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিও!! আরেকবার হেলাল দেখিয়ে দিল।

- ভাগো তো হেলাল! অদ্ভুত কথা বলে মেজাজ টাই খারাপ করে দিলে...

হেলালের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন, আজ পত্রিকায় চার রকমের ধর্ষণের ঘটনা পড়ে ত্রিশ বছর পরে তাসনিম সুলতানার মনে পড়লো হেলালের কথা। হেলাল এখন অটোয়ায় থাকে। নিউরণের কোন্ কোণে স্মৃতি অনেক দিন লুকিয়ে থাকে, তারপর হঠাৎ কোনদিন জেগে ওঠে... চশমার কাঁচ মুছতে মুছতে তাসনিম সুলতানা ভাবলেন, হেলালের মতো ছেলেরা সবাই কি দেশ ছেড়ে চলে গেছে!!
















মন্তব্য ৪৬ টি রেটিং +১৮/-০

মন্তব্য (৪৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:১৯

আমি সাজিদ বলেছেন: তিনটা গল্পই ভালো হয়েছে আপি।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৭

করুণাধারা বলেছেন: প্রথম মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ, আমি সাজিদ।

ঢাকায় কোনো এক হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় ডাক্তারকে ধর্ষণ করে খুন করেছিল। সেই অসীম সাহসী ওয়ার্ড বয়ের কোন শাস্তি হয়েছে বলে শুনিনি। সেই ঘটনার খবরটা পর্যন্ত খুঁজে পেলাম না।

২| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:২০

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: হ্যাঁ সব মেয়েকেই এইভাবেই সচেতন হতে হবে। নিজের নখটাও অস্ত্র হতে পারে। নিজেকে দূর্বল অসহায় না ভেবে পাল্টা আঘাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতে হবে।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৮

করুণাধারা বলেছেন: শুনতে বিভৎস শোনালেও, চোখ গেলে দেয়া নাকি তেমন কঠিন কিছু না। এভাবে কয়েকজন ধর্ষকের চোখ গেলে দিলে ধর্ষণ ঠেকানো যাবে আর তাদের চোখের জন্য চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মূলত এই ধরনের লোক দুর্বল চিত্তের হয়ে থাকে। এদের নিজের হাতে শাস্তি দেয়া দরকার।

৩| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: খুব দরকার আসলেই খুব ই দরকার সচেতনতা আর সাহস।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৩৪

করুণাধারা বলেছেন: মৃত্যু দন্ড হলেই সবাই ভালো হয়ে যাবে তাতো না। আপনা মাংস হরিণা বৈরী- তাই মেয়েদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা তাই নিজেকেই করতে হবে।

৪| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৪

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: সময়টা বড় ভয়ংকর আপি, আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৩৭

করুণাধারা বলেছেন: আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমীন।

আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এই ভয়াবহ গজব থেকে বাঁচার উপায় নাই।

৫| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: শিক্ষণীয় গল্প। আল্লাহ সবার সহায় হউন

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৩৯

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি। আল্লাহ সবার সহায় হউন

৬| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২২

রাজীব নুর বলেছেন: মেয়েদের সম্মান করতে হবে। ভালোবাসতে হবে। হক সে মা, বোন। হোক সে অন্যের মা বোন। অথবা কাজের বুয়া।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪৪

করুণাধারা বলেছেন: মেয়েদের সম্মান করতে হবে। ভালোবাসতে হবে। হক সে মা, বোন। হোক সে অন্যের মা বোন। অথবা কাজের বুয়া।

কাজের বুয়ার উল্লেখ করেছেন দেখে খুব ভালো লাগলো। অনেক আপাদমস্তক ভদ্রলোকও নির্দ্বিধায় কাজের বুয়ার দিকে হাত বাড়ায়, কোন অপরাধ বোধ ছাড়াই।

৭| ১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৩৬

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: আমি হলেও সেটাই করতাম। না পারলে ছলে বলে কৌশলে তার তেরোটা না বাঁজিয়ে ছাড়তাম না।

মেয়েরা আসলে নিজেরাই পারবে। আমার জানা মতে কেউ ধর্ষন হতে চললে সে মানে মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সে ধরেই নেয় সে পারবেনা। তাই সাধারণ বুদ্ধির সাথে সাথে তার শাররিক শক্তিটুকুও তখন কাজ করে না। তাই অন্যজন তাকে সহজেই কাবু করে ফেলতে পারে।


ভয় না পেয়ে, ভেঙ্গে না পড়ে যদি নখ দাঁত বা পাকেও চালানো যায় ধর্ষনকারী কই বাপ বাপ করে পালাবে দেখতেও কেউ যাবেনা।

তবে হ্যাঁ খুব ছোট বাচ্চারা পারবে কিনা জানিনা তবুও শিখিয়ে দিতে হবে।

মেয়েরা পারবেনা তাদের শক্তি কম এ কথাটি ধরেই নিয়ে ধর্ষকেরা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে তোলে।

লাত্থি মারি এই শক্তি ও ধর্ষক মনোবৃত্তিকে।

১৪ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৫৫

করুণাধারা বলেছেন: মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই নিজেকে দুর্বল ভাবতে ভাবতে বড় হয়। কিন্তু তাদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হবে। শ্লোগান দিয়ে আর ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ করা যায়, কাজ হয়না, মৃত্যু দন্ডও ধর্ষণ কমাতে পারবে কি!!

প্রতিটা ধর্ষণ হবার পর গবেষণা করা দরকার, ধর্ষকদের সামাজিক আর পারিবারিক শিক্ষা জানতে হবে, সাথে সাথে সম্ভাব্য কি কি উপায়ে ধর্ষণ ঠেকানো যেত সেটা স্টাডি করা দরকার। সব তথ্য নিয়ে গবেষণা করলে নিশ্চয় একটা প্যাটার্ণ বের করা যাবে।

আবার ফিরে আসায় অনেক ধন্যবাদ কবিতা পড়ার প্রহর।

৮| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ২:০৫

ওমেরা বলেছেন: মৃত্যুদন্ডও ধর্ষন ঠেকাতে পারবে না যদি না মানুষের মনে আল্লাহভীতি থাকে । মানুষের মনে আল্লাহর ভয় না থাকলে মানুষ যেকোন খারাপ কাজ করতে পারে। ধন্যবাদ আপু।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৪৭

করুণাধারা বলেছেন: মানুষের মনে আল্লাহর ভয় না থাকলে মানুষ যেকোন খারাপ কাজ করতে পারে।

এটাই মূলকথা ওমেরা, কারণ তাদের মনে পরকালের শাস্তির কোনো ভয় থাকে না। তারা দুনিয়ায় ক্ষমতাশালী হয়ে নির্ভয়ে পাপ করতে থাকে। সমস্যা হচ্ছে পারিবারিক বাঁধন শিথিল হয়ে যাওয়ায় এখন আর পারিবারিক শিক্ষা বলে কিছু নেই।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ ওমেরা।

৯| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৪:২৭

সোহানী বলেছেন: বাংলাদেশের সে ডাক্তার মেয়েটিকে নিয়ে আমার একটা লিখা ছিল। মেয়েটির নাম সম্ভবত সাজিয়া ছিল। ও ব্রেকের হাসপাতালে কাজ করতো। ব্রেক বিরাট শক্তিশালী তাই নিউজটা ধামাচাপা পড়ে গেছিল তাদের শক্তির আড়ালে।

আপু, আপনি কয়টা ঘটনা বলবেন, এরকম ঘটনা ঘরে ঘরে। আমি কানাডার নারীদের নিয়ে একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে ইনভল্ব। সেখানের বেশ কিছু মেয়ে তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া এরকম বিভৎস কাহিনী শেয়ার করেছে। এবার বুঝে হাই ক্লাস সোসাইটির এ হাল। তাহলে লো বা মিডল ক্লাস সোসাইটির কি অবস্থা।

আমি হয়তো বলেছি, দেশে আমি জেন্ডার নিয়ে কাজ করতাম। এরকম ঘটনা প্রায়ই চোখের সামনে আসতো।

ভালো নেই এ দেশের মেয়েরা কোনভাবেই ভালো নেই। ওদেরকে ভালো রাখার কোন সম্ভাবনাও দেখি না। কারন যারা অপরাধ করে ও সেটাকে অপরাধ হিসেবে নেয় না। মেয়েদেরকে অত্যাচার করাকে পৈারষত্ব মনে করে। এটাতে আনন্দ পায়। সেখানে সমাধান কিভাবে আশা করবো!!!!!!!!!

আমি হতাশ চরম হতাশ।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: আপনার থেকে সাজিয়া নাম পেয়ে আবার খুঁজে দেখলাম। এবার পেয়েছি, পুরো নাম সাজিয়া আফরিন ইভা, ব্রাক খবরটা এমন ভাবে দিয়েছে যেন মেয়েটি দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ঠিকই বলেছেন, ব্রাক ধামাচাপা দিয়েছে খবরটা। কিন্তু কেন তা বুঝতে পারিনি।

তবে খুবই অদ্ভুত লাগলো এই খবর খুঁজতে গিয়ে হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় কর্তৃক রোগী ধর্ষণের অনেক গুলো খবর দেখলাম, এগুলো নিয়মিত হয়েই চলেছে, এই করোনা কালেও করোনা আক্রান্ত রোগী ধর্ষিত হচ্ছে, ডাক্তার আর ওয়ার্ড বয় কর্তৃক।


ভালো নেই এ দেশের মেয়েরা কোনভাবেই ভালো নেই। ওদেরকে ভালো রাখার কোন সম্ভাবনাও দেখি না।
:((

১০| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ ভোর ৪:৩০

সোহানী বলেছেন: আমার অনেক লিখার মাঝে একটি শেয়ার করলাম মেয়েদের নিয়ে।

ধর্ষন বা তেতুল তত্ত্ব বিতর্ক আর মাঝখানে শিশুদের পান্না বা পরিমলদের হাতে বর্গা .......

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ দুপুর ১:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: সাত বছর আগের লেখা, অথচ বর্তমান সময়ের সাথে কী দারুণ প্রাসঙ্গিক!! আমি সেখানে একটা মন্তব্য রেখে এসেছি।

১১| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:০৫

ভুয়া মফিজ বলেছেন: চমৎকার গল্পগুচ্ছ। বাস্তবে সব সময়ে যদি এমনটা হতো, তাহলে কতোই না ভালো হতো। মেয়েদেরকে শুধু একটু সাহসী হতে হবে। বর্তমানের ধর্ষণ মহামারী নিয়ে একটু লিখবো ভেবেছিলাম একবার, কিন্তু ইচ্ছা করলো না আপা। কি হবে লিখে? আমাদের সমাজের বর্তমানে যেই অবস্থা, তাতে এর থেকে উত্তোরনের কোন সম্ভাবনা সহসা দেখছি না।

প্রশাসনের যদি বিচারের সদিচ্ছা থাকে, আর পশুগুলাকে ধরে ধরে খোজা করে দেয়া হয়, তাহলে মনে একটু হলেও শান্তি পেতাম। আমাদের শের শায়েরী ভাইয়ের দেখা নাই বহুদিন। এ'ব্যাপারে ওনার ভালো ধারনা ছিল।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫১

করুণাধারা বলেছেন: আমাদের সমাজের বর্তমানে যেই অবস্থা, তাতে এর থেকে উত্তোরনের কোন সম্ভাবনা সহসা দেখছি না। উত্তরণ না, আমার মনে হচ্ছে একটা ঢাল বেয়ে ক্রমাগত অবতরণ চলছে আমাদের, এটা থামবার কোন আশা দেখছি না।

শুধু খোজা করা না, সাথে সাথে এদের কপালে লোহার সিল গরম করে "ধর্ষক" কথাটা দেগে দেয়া দরকার, যেন দেখামাত্র চেনা যায়।

আমারও এসব নিয়ে লিখতে ভালো লাগে না, কিন্তু ব্র্যাকের ক্লিনিকের ডাক্তার হত্যার কথা ভাবছিলাম, ওয়ার্ড বয় যাকে ধর্ষণ চেষ্টার পর খুন করে। ভাবছিলাম কেমন হতো যদি মেয়েটা এভাবে আক্রমণ ঠেকাতে পারত! সেটা কল্পনা করতে করতে লিখলাম। কাল্পনিক তাই গল্প, বাস্তবের খবরটা তখন খুঁজে না পেয়ে ভারতীয় খবরের লিঙ্ক দিয়েছি।

জানি না এর শেষ কোথায়, কয়েকটা ধর্ষকের  মৃত্যু দন্ড হলে হয়ত আশাবাদী হতে পারতাম।

শের শায়রীর অনুপস্থিতিতে আমিও ভাবিত। অনেক দিন পর কিছুদিনের জন্য কেন যে এলেন। :(

১২| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৩:৩০

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন। গল্প হলেও অনেককিছু শেখার আছে। তবে আমি চাই, কোনো মেয়েকেই যেন কাউকে আহত করার মত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৭

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ সম্রাট ইজ বেস্ট।

অনেক দিন পর আপনাকে আমার ব্লগে পেয়ে খুব ভাল লাগল। এটা আসলে গল্প না, যে ডাক্তার মেয়েটির ছবি দিয়েছি তাকে খুন করা হয়েছে কিন্তু আমার ইচ্ছা হলো মেয়েটার জয় দেখতে, তাই এই কল্পনা। কোন মেয়ে শখ করে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়না, কিন্তু যখন হয় তখন প্রতিপক্ষকে আহত না করলে তো তার বাঁচার উপায় থাকে না। তাই আমার মনে হয় ধর্ষককে আহত করে হলেও নিজেকে বাঁচাতে হবে।

আশাকরি ব্লগে নিয়মিত হবেন।

১৩| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:১৩

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: মেয়েদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য কারাতে শেখা যেতে পারে। ধর্ষণের ক্ষেত্রে মনোবল ভেঙ্গে যায় বলে ধর্ষিতা সহজেই হার মানে বিনা প্রতিবাদে। তবে আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে গ্যাং রেপ হচ্ছে যেটার জন্য সরকারকে কঠোর হতে হবে। ধর্ষণ বন্ধের জন্য সামাজিক ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন। এসিড নিক্ষেপ বন্ধ করা গেছে। তাই ধর্ষণও পুরোপুরি না হলেও কমানো সম্ভব।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০১

করুণাধারা বলেছেন: প্রথম গল্পটা কল্পনা- যদি সত্যি হতো তবে ছবির মেয়েটার জীবন এভাবে শেষ হতো না যেটা লিঙ্কে বলা আছে। দ্বিতীয় গল্প সত্যি, লিঙ্ক দেয়া আছে। আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম মেয়েরা যদি প্রতিরোধ করতে পারত... গ্যাঙ রেপের বেলায় অবশ্য মেয়েদের বাঁচার উপায় থাকে না।

এই অবস্থার পরিবর্তন কি করে করা যায় তা নিয়ে গবেষণা করা দরকার। এসিড নিক্ষেপের মতো এটা বন্ধ করা এত সহজ হবে বলে মনে হয় না।

১৪| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:৩০

শাহ আজিজ বলেছেন: কারো কারো দুর্ভাগ্য যে আলুও গেছে বস্তাও সাথে । দুইজন মহিলা বিবাহিত ভিন্ন সময়ে ধর্ষকদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল । তারা উভয়েই বুঝতে পেরে হাতে ছুরি বা বিছানার নিচে ছোট ছুরি রেখে আহবান জানিয়েছিল ধর্ষকদের । আদর সোহাগে মাতিয়ে রেখে ছুরি দিয়ে পুরো অঙ্গে পোঁচ দিয়ে কেটে ফেলেছিল । একজন সেই কাটা অঙ্গ ড্রেনে ফেলতে উদ্যত হলে কি করুন আকুতি 'ফালাইয়েন না আমারে দেন সেলায়া লমু' । দারুন চমৎকার শাস্তি হয়েছিল ।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:০৭

করুণাধারা বলেছেন: আপনাকে আমার ব্লগে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আপনি যেমন সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে লেখেন তাতে আমার গল্প ধাঁচের এই লেখায় একেবারেই আশা করি নি। তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে আপনি আসায় আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি, অসংখ্য ধন্যবাদ।

সব সময় মেয়েদের হেরে যাবার ঘটনা দেখতে দেখতে খারাপ লাগে, তাই কল্পনায় একটা মেয়েকে জিতিয়ে দিলাম। আপনি একজন ধর্ষককে শাস্তি দেবার যে ঘটনার কথা বললেন, এমন ঘটনা ঘটাবার মতো মহিলা বাংলাদেশে কয়েকজন থাকলেই ধর্ষণ অনেক কমে যেত!!

দারুন চমৎকার শাস্তি হয়েছিল নিঃসন্দেহে!!

১৫| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৩

মা.হাসান বলেছেন: শুধু ভারত না, বাংলাদেশেও এই ধরণের ঘটনা আছে। বাসের হেলপার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রিকে ধর্ষন করেছে। এরকম একটা মামলা এখন বিচারাধিন। পত্রিকাতে কিছুদিন আগে এসেছিলো শতকরা ২৫ জন মহিলা স্বামীর হাতে নিয়মিত পিটুনি খান। ছেলেরা এসব দেখে বড় হয়। মহিলদের সম্পর্কে শ্রদ্ধা বোধ কখনোই তৈরি হয় না।

নিকটাত্মীয়দের দ্বার যৌন নিপীড়নের সংখ্যা আমরা যা ভাবি তার চেয়ে অনেক বেশি। জাফর মবিন ওনার শেষ পোস্টে (আপনার কমেন্ট আছে ওখানে) যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন তাতে দেখা যায় ৩০% যৌন নিপীড়নের ঘটনা আত্মীয়দের দ্বারা ঘটে।

যেখানে এখনো সবার জন্য স্কুলিং নিশ্চিত করা যায় নি, সবাইকে কারাতে শেখানো কতোটা বাস্তব সম্মত বলা মুশকিল। আমি যে স্কুলে পড়েছি একটা সময়ে সেখানে শেখানো হতো, বাধ্যতামূলক ছিলো না। আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রির সংখ্যা এত কম ছিলো যে ইন্সট্রাকটরের খরচ পোষাতে না পেরে পরে বন্ধ করে দিতে হয়। যার যার পক্ষে সম্ভব, হেলালের অপেক্ষায় না থেকে নিজে নিজেই শেখা উচিৎ।

অপরাধ নির্মূল করা অসম্ভব। তবে সরকার বিচারে আন্তরিক হলে ভিক্টিমের পক্ষে বিচার পাওয়া সহজ হয়। কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:১৪

করুণাধারা বলেছেন: আমি তো বাংলাদেশের ঘটনা খুঁজতে গিয়ে না পেয়ে অসংখ্য ভারতীয় ঘটনা পেলাম তাই তার একটা লিখলাম। সোহানীর থেকে নাম পেয়ে শেষে বাংলাদেশের খবরটাও পেলাম, এই যে লিংক view this linkপত্রিকাতে কিছুদিন আগে এসেছিলো শতকরা ২৫ জন মহিলা স্বামীর হাতে নিয়মিত পিটুনি খান। ছেলেরা এসব দেখে বড় হয়। মহিলদের সম্পর্কে শ্রদ্ধা বোধ কখনোই তৈরি হয় না। আমাদের এই ব্লগে ২০১৭ সালে একজন ডাক্তার স্বামীর হাতে তার নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন পরামর্শ চেয়ে, তারপর তার সব পোস্ট উঠিয়ে নেন... ঘরে ঘরে এমন নির্যাতক থাকলে ধর্ষণ বাড়বেই।

তবে নিকটাত্মীয়ের দ্বারা ধর্ষণ খুব সাধারণ ঘটনা, যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন। আর এগুলো চেপে যাওয়া হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই।

বাংলাদেশে যেখানে সাধারণ শিক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই সেখানে  সব মেয়েদের কারাতে শেখানো অসম্ভব। কারাতের উল্লেখ করেছি বলেই আমি সরকারি পর্যায় থেকে কারাতে শেখানোর কথা বলিনি। আমি একটা আধ পাগলা ছেলের কথা বলেছি, যে নানাভাবে মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখাতে চাইত। এমন কিছু ছেলে থাকলে অনেক মেয়েই আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতো, ধর্ষকেরা ভয় পেত ...

১৬| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:০৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা,




গুচ্ছ গল্পের মাঝেও মনে হলো একটা মেসেজ দিতে চেয়েছেন- আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে মেয়েদের।
নারী নির্যাতন এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে প্রতিকার ও প্রতিরোধের রাস্তাটা আর বোধহয় সরল নেই।

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৪

করুণাধারা বলেছেন: মেয়েদের আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে এই কথাটাই বলতে চেয়েছিলাম। মাঝখানে দুবাইয়ের ঘটনা মনে পড়লো, আমি তখন সেখানে ছিলাম আর তারপর দীর্ঘ কাল এর ফলো আপ দেখে গেছি, কিন্তু খুনির ফাঁসি হলো কিনা সে তথ্য পাইনি কোথাও। তাই সেই ঘটনারও উল্লেখ করলাম।

মেয়েরা ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। নারী নির্যাতন এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে প্রতিকার ও প্রতিরোধের রাস্তাটা আর বোধহয় সরল নেই। :((

১৭| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৪০

জাফরুল মবীন বলেছেন: আমরা যৌন সহিংসতার মহামারীতে প্রবেশ করেছি।সামনে হয়ত আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

আপনি কি ডাঃসাজিয়া আফরিন ইভার ঘটনাটা সার্চ করছিলেন? One to die for Dr Eva murder

১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৩১

করুণাধারা বলেছেন: আমরা যৌন সহিংসতার মহামারীতে প্রবেশ করেছি।সামনে হয়ত আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে।

এ থেকে রক্ষা পাবার উপায় কী!! অপেক্ষা করে আছি আপনার পোস্টের, নিশ্চয়ই আপনার পোস্টে কোন উপায় বলবেন...

ডাঃসাজিয়া আফরিন ইভার ঘটনাটা মনে করার চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু নাম মনে না থাকায় সার্চে কাঙ্খিত ফল পাইনি। অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা এই খবরের লিঙ্ক দেবার জন্য।

১৮| ১৫ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:৪০

ইসিয়াক বলেছেন: পোস্টে ভালো লাগা রইলো আপু।
অবশ্যই আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে হবে মেয়েদের।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৪০

করুণাধারা বলেছেন: মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ ইসিয়াক।

অবশ্যই আত্মরক্ষার কৌশল নিজেকেই ঠিক করতে হবে। মৃত্যু দন্ডের ভয়ে ধর্ষণ কমাতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি থেকেই যাবে। সেই জন্য নিজেকে রক্ষার উপায় জানতে হবে।

১৯| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১২:০৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বেক বোনের লোয়ার পার্টে সিভিয়ার পেইন এর যন্ত্রনা নিয়েও শুধু গল্প গুচ্ছের শিরোনাম দেখে এর ভিতরে প্রবেশ
করি । সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষন সংক্রান্ত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে নারীদের প্রতিরোধের শক্তি সামর্থ প্রয়োগের
কৌশল প্রকাশের সরস প্রকাশ দেখে মোহাচ্ছন্নের মত গল্পগুলি পাঠ করলাম । কামনা করি ধর্ষকের বিপক্ষে
নারীদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাক বিবিধ প্রকারে।

দোয়া চেয়ে গেলাম ।

শুভ কামনা রইল ।

১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১০:৫৯

করুণাধারা বলেছেন: আলী ভাই, আপনার অসুস্থতার খবর জেনে উদ্বিগ্ন বোধ করছি, আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন আপনাকে দ্রুত সুস্থ করে তোলেন।

আপনি এতো কষ্ট করে এসে মন্তব্য করেছেন এবং প্লাস দিয়েছেন, অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। আসলে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের সাথে সাথে দেখা যাচ্ছে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। কিছুদিন আগে রূপা নামের এক মেয়েকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করার পর ওর ঘাড় ভেঙে হত্যা করে। ডাঃসাজিয়া আফরিন ইভার মত ডাক্তারকে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করল। এইসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে মনে হলো মেয়েরা যদি কিছুটাও আত্মরক্ষা মূলক ব্যবস্থা নিতে পারত। আমার মনে হয় সময় এসেছে কিছু কেস স্টাডি করে দেখা যে কোনো ব্যবস্থা নিলে মেয়েরা বাঁচতে পারত কিনা। শুধু মৃত্যু দন্ড দিয়ে অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না...

সুস্থ্য হয়ে তাড়াতাড়ি আমাদের মধ্যে ফিরে আসুন- আরেকবার প্রার্থনা আল্লাহর কাছে।

২০| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৪২

রামিসা রোজা বলেছেন:
এক : সারিতা'র মত ধর্ষণ ঠেকিয়ে আপনার কাল্পনিক
গল্পের মতো প্রতিটি মেয়েই নিজেকে আত্মরক্ষা করতে
শিখুক এটাই চাই ।

দুই : কতটা হিংস্র হলে একটা লোক তিরিশ বছর আগে
একসাথে পাঁচজনকে একাই খুন করে ।

তিন : হেলালের বুদ্ধিটা দারুন ছিল পেশীশক্তিতে মেয়েরা
দুর্বল কিন্তু চোখে আঘাত এর ব্যাপারটা জানা ছিল না ।

আপনার জন্য শুভকামনা ।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:৫৮

করুণাধারা বলেছেন: রামিসা রোজা, গল্পগুলো লিখে অনেক সময় নিয়ে ভেবেছি, গল্পের মূলকথা কী বলা যায় সেটা নিয়ে। কিন্তু কোনটা পছন্দ হচ্ছিল না, আপনি চমৎকার ভাবে সেটা বলেছেন। দুই নম্বর গল্পে আপনার সাথে আরেকটু রোগ করতে চাই, বাবা- ভাই- স্বামী ছাড়া মেয়েদের জন্য কোন পুরুষ নিরাপদ নয়, এভাবে ঘরের ভেতর পুরুষ কাজের লোক রাখা এই পরিবারের একেবারেই উচিত হয়নি।

তবে ঘরের ভেতর এমন ঘটনা অনেক ঘটে, সেগুলো সাধারণত চেপে যাওয়া হয়। এই ঘটনাগুলো বাইরে আসা দরকার।

দুবাইয়ের ঘটনায় পভর সাথে সাথেই পুলিশের কাছে সব স্বীকার করেছিল, কিন্তু বিচার শেষে রায় আসতে প্রায় বিশ বছর লেগেছে, কার্যকর হয়েছে কিনা জানিনা। তাই আমার মনে হয় ধর্ষণ হবার পর বিচার হবে এই আশায় বসে না থেকে ধর্ষণ ঠেকাতে উপায় বের করা উচিত।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ রামিসা রোজা। আপনার জন্যও শুভকামনা রইল।

২১| ১৬ ই অক্টোবর, ২০২০ রাত ১০:২৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: আপু তিনটি গল্পে পড়েছি। কিন্তু এই পাশবিক শক্তির হাত থেকে নারীর নিষ্কৃতি কি করে সম্ভব? আজ শিলিগুড়িতে একনামী স্কুলশিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছেন যিনি কুড়ি বছর ধরে স্কুলের বাচ্চাদেরকে যৌন হেনস্থা করতেন কিন্তু কেউ মুখে বলতে সাহস পেত না। সমাজের একজন শিক্ষক যদি মেয়েদেরকে এই চোখে দেখে তাহলে মেয়েদের আর মুক্তি কি করে সম্ভব?

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:০৬

করুণাধারা বলেছেন: কিন্তু এই পাশবিক শক্তির হাত থেকে নারীর নিষ্কৃতি কি করে সম্ভব? সেই কথা আমি সবসময়ই ভাবি... :(

অদ্ভুত লাগে শুনে, করোনায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীনিকে ডাক্তার বা ওয়ার্ড বয় ধর্ষণ করে!!! আপনি যে কাহিনী বললেন তা আরো মর্মান্তিক, একজন শিক্ষক বিশ বছর যাবত এই ঘৃণ্য কাজ করে চললেন? একবার দুবার হলে রিপুর তাড়না বলতে পারতাম।

জানি না মেয়েদের মুক্তি কীভাবে সম্ভব!!

অসুস্থ অবস্থায় এসে সুন্দর মন্তব্য আর প্লাস দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ পদাতিক চৌধুরী। সেরে উঠুন তাড়াতাড়ি, শুভেচ্ছা রইল।

২২| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ সকাল ১১:৩৬

জুন বলেছেন: কি ভয়ংকর কিন্ত বাস্তব গল্পগুলো করুনাধারা। দুবাই এর ঘটনাটি তো লোমহর্ষক। কাউকে বিশ্বাস নেই এই জগতে। ভালোলাগা রইলো ।
মেয়েদের আত্নরক্ষার কথাই আমি লিখেছি আমার এক সাহসীনির গল্পে। ছবির মেয়েটিই শুধুমাত্র প্রাথমিক লেভেলে ভালো ছাত্রী হওয়ার জন্য ক্লাশের ছেলেদের হাতে সত্যিকারের নির্যাতিতা। ছবিটি দেখলে মনে হয় একে মেরে মাটিতে শুইয়ে দিতে পারে কেউ !! কি হিংস্র পশু দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১০

করুণাধারা বলেছেন: জুন, আপনার "এক সাহসীনির গল্প" পড়ার পর থেকেই আমার মাথায় ঘুরতে থাকে মেয়েদের প্রতিরোধের বিষয়টা। প্রথম ঘটনা নিয়ে আমি ভাবলাম এটা এভাবে প্রতিরোধ করা যেত, যদিও বাস্তবে ধর্ষণ করতে না পারলেও ভিকটিম মেয়েটির গলা কেটে হত্যা করা হয়। আর গল্পের মামার মতো ঘটনা বারবার ঘটে চলেছে, ১২/১৩ বছরের মেয়েরা সচেতন হতে পারে না বুঝি কিন্তু মায়েরা কেন হয় না? দুবাইয়ের মা কীভাবে ঘরের ভেতরে এমন একজন পুরুষ কাজের লোক রাখলেন?

কি হিংস্র পশু দেশে দেশে জাতিতে জাতিতে। এই পশুদের সম্পর্কে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ জুন।

২৩| ১৭ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:৩৯

ঢুকিচেপা বলেছেন: গল্পটা ভালো হয়েছে এভাবে না বলে বলি শিক্ষা নেয়ার বিষয়টা খুব সুন্দর বোঝাতে পেরেছেন।
কিছুদিন আগে জুন আপুর একটা পোস্টে বলেছিলাম, বাবা-মা’র উৎসাহে মেয়েরা মার্শাল আর্ট শিখবে এটা এখন সময়ের দাবী।

১৮ ই অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৫:১৮

করুণাধারা বলেছেন: আসলেই আমি বলতে চাচ্ছিলাম মেয়েদের যেভাবে হোক প্রতিরোধ করা উচিত, আঁচড়ে কামড়ে বা চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে। নিজ ঘরে নিকটাত্মীয়ের দ্বারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ধর্ষিত হয় তখন মনে হয় সে কেন প্রতিরোধ করে নি!! সম্ভবত খুব ঘাবড়ে এমন হয়।

মেয়েদের কারাতে শেখা এখন খুবই দরকার। তবে আজকে জাফরুল মুবীন আত্মরক্ষার যে উপায় বর্ণনা করেছেন সেগুলো কার্যকরী বলে মনে হয়।

মন্তব্য আর প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ ঢুকিচেপা, ভালো থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.