| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
গত শুক্রবার রাতের অন্ধকারে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আকাশ হঠাৎ তীব্র আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দে পুরো শহর কেঁপে ওঠে এবং আমেরিকার আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো আকাশ চিরে এগিয়ে আসে। ভোর হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বকে জানিয়ে দেন যে, মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করে আমেরিকায় নিয়ে এসেছে। আজ সোমবার দুপুরে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টে দাঁড়াবেন মাদুরো। একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে জোর করে তুলে নিয়ে আসার ঘটনা ইতিহাসে নজিরবিহীন, যা পুরো বিশ্বকে হতবাক ও ক্ষুব্ধ করেছে।
এই ঘটনায় মস্কো ও বেইজিং প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাশিয়া একে "সশস্ত্র আগ্রাসন" বলছে এবং চীন একে "আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করছে। তবে তীব্র নিন্দার বাইরে পরাশক্তিগুলোর করার মতো তেমন কিছু নেই। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এখন ট্রাম্পের সাথে ইউক্রেন ইস্যুতে একটি বড় ডিল করতে চান, তাই বড় কোনো সংঘাতের ঝুঁকি নিতে তিনি নারাজ। অন্যদিকে, চীনের কাছেও তেমন কোনো শক্ত কার্ড নেই। লাতিন আমেরিকা তাদের সামরিক আওতার বাইরে হওয়ায় বিলিয়ন ডলার ঢেলে এবং গ্রেপ্তারের মাত্র ১০ ঘণ্টা আগে বৈঠক করেও তারা মাদুরোকে বাঁচাতে পারেনি।
ট্রাম্প এই অভিযানের পেছনে 'ডন-রো ডকট্রিন' নামক এক নতুন মতবাদ হাজির করেছেন, যা মূলত ১৯ শতকের কুখ্যাত 'মনরো ডকট্রিন'-এর আধুনিক সংস্করণ। এর মূল কথা হলো পশ্চিম গোলার্ধে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা এবং এই অঞ্চলের তেল, খনিজ ও রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। এটি চীনের জন্য সরাসরি আঘাত, কারণ লাতিন আমেরিকায় তাদের দীর্ঘদিনের বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরাশক্তিরা নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন ভাঙলেও এখন তারা একে অপরের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। চীন হয়তো এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের ন্যায্যতা খোঁজার চেষ্টা করবে।
মাদুরোর পতন রাশিয়ার জন্য কৌশলগত পরাজয় হলেও পুতিন একে ভিন্নভাবে কাজে লাগাতে চান। ভেনেজুয়েলার সংকট আমেরিকার মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেবে, যা ইউক্রেনে রাশিয়ার এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাড়তি সময় দেবে। তবে রাশিয়ার তৈরি এস-৩০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকার হামলা ঠেকাতে না পারায় তাদের অস্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, চীন এখন তাদের বিপুল পরিমাণ পাওনা টাকা আদায়ের চিন্তায় মগ্ন। তেলের ওপর নির্ভরতা কমে যাওয়ায় বেইজিং রাজনৈতিক পরাজয়ের বদলে অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের দিকেই বেশি মনোযোগী হবে।
মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা সহজ হলেও ভেনেজুয়েলা চালানো এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। আমেরিকার নিজস্ব সামরিক সিমুলেশন বলছে, দেশটিতে সামনে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা, শরণার্থী সংকট এবং গৃহযুদ্ধ আসতে পারে। একজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা আর একটি বিধ্বস্ত দেশ চালানো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। ট্রাম্প আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ভেনেজুয়েলা চালানোর কথা বললেও এর বাস্তব রূপরেখা এখনো অস্পষ্ট। তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই ত্রিমুখী লড়াই লাতিন আমেরিকায় দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দাবানল জ্বালিয়ে দিচ্ছে, যার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে গোটা বিশ্বে।
(সংক্ষেপিত)
লেখা ও ছবির মুল ক্রেডিট Dhaka Stream : Click This Link
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: লং লিভ আমেরিকা ! ![]()
২|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৫
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বিশ্লেষন যতার্থ । ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক হুমকি বা প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ আগ্রাসনের প্রশ্নে চীন ও
রাশিয়ার আপাত নীরবতা অনেকের চোখে বিস্ময়কর মনে হলেও, বাস্তবে এটি কোনো দুর্বলতা নয় বরং একটি
সুপরিকল্পিত কৌশল। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এখন আর ঠান্ডা যুদ্ধের যুগের মতো সরল মেরুকরণে চলে না;
এখানে নীরবতাও অনেক সময় শক্তিশালী বক্তব্যের সমান।
প্রথমত, চীন ও রাশিয়া উভয়ই জানে যে ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখালে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের
হাতে বৃহত্তর সংঘাতের অজুহাত তুলে দেবে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় সামরিকভাবে জড়ানো মানে যুক্তরাষ্ট্রের
ব্যাকইয়ার্ড এ ঢুকে পড়া যা কৌশলগতভাবে তাদের জন্য লাভজনক নয়।
দ্বিতীয়ত, চীন এই মুহূর্তে সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বেশি আগ্রহী। ভেনেজুয়েলার তেল,
ঋণ ও অবকাঠামোতে চীনের বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি। সরকার বদলালেও রাষ্ট্র থাকে,এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই
বেইজিং প্রকাশ্য উত্তেজনা এড়িয়ে চলছে।
রাশিয়ার ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। মস্কো জানে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে উচ্চস্বরে কথা বলার চেয়ে ইউক্রেন,
ন্যাটো ও ইউরেশীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে শক্ত অবস্থান নেওয়াই তাদের জন্য বেশি জরুরি। ফলে তারা কূটনৈতিক
সমর্থন দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সরাসরি সংঘাতে যাচ্ছে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীন ও রাশিয়া দু’দেশই এখন প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি নয়, বরং অপেক্ষমান শক্তি
হিসেবে খেলছে। তারা জানে, মার্কিন একতরফা আগ্রাসন যত বাড়বে, বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান
তত দুর্বল হবে। সেই ফাঁকটাই তারা ধীরে, নীরবে কাজে লাগাতে চায়।
অতএব, চীন-রাশিয়ার নীরবতা কোনো অসহায়ত্বের পরিচয় নয়; এটি আধুনিক ভূ-রাজনীতির এক ঠান্ডা, হিসেবি
এবং ধৈর্যশীল কৌশলের প্রতিফলন বলেই বিভিন্ন মিডিয়া বিশ্লেষন ও সংবাদ ভাষ্য হতে দেখা যাচ্ছে ।
শুভেচ্ছা রইল
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার কথাই হয়তো সঠিক ।
৩|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৩:০২
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: মার্কিন একতরফা আগ্রাসন যত বাড়বে, বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান
তত দুর্বল হবে। সেই ফাঁকটাই তারা ধীরে, নীরবে কাজে লাগাতে চায়।
...........................................................................................................
অত্যন্ত মূল্যবান পর্যবেক্ষণ,
নিরাপত্তা প্রশ্নে শক্ত অবস্থান নেওয়াই তাদের জন্য বেশি জরুরি।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঠিক বলেছেন ।
৪|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:১৬
মুনতাসির বলেছেন: কেনো কিছু বলবে? কারণ হয়তো এরা নিজেরাই ঠিক করে নেয় তুমি ওই দেশ নাও, আমি এটা। এমন উদাহরণ পারেন। এই তিন বড় শক্তিই কিন্তু কোনা কোনো দেশ নিয়েছে। সবাই আওয়াজ উঠাবে কিন্তু কোন কাজ করবেনা। চেতনার মতন।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সুপার পাওয়ারেরা নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে খায় ।
৫|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:১৬
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার লেখায় ছোটখাট কিছু ভুল এবং অস্পষ্টতা আছে। তা ছাড়া ভালো লিখেছেন।
একদম শেষ লাইনে, তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটন, বেইজিংয়ের ত্রিমুখী লড়াই। দুটো মুখ উল্লেখ করেছেন, আরেকটা কে? তেল এখন আর স্ট্র্যাটেজিক কমোডিটি নয়। হ্যাঁ, তারপরও ভেনেজুয়েলার আক্রমণ তেল সম্পদ দখলের আক্রমণ, এটা দেশের ক্যাপিটালিস্টদের স্বার্থে, ত্রিমুখী লড়াই নয়।
লাতিন আমেরিকায় আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, এটা শুনিনি। আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ টেক্সাসের রিফাইনারিতে, যেগুলো খুব ঘন আর অপরিশোধিত তেল শোধন করে। আমেরিকার ভিতরেই বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে। আমেরিকার বাইরে আমেরিকার বিনিয়োগে, বিশেষ করে তেলে কোন ঝুকি নেই, ভয়াবহ মুনাফা করে সেখানে।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আপনার সুন্দর ও দিকনির্দেশনামূলক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। লেখাটি যেহেতু অন্য একটি লেখার ধারণা থেকে নেওয়া, তাই লিঙ্কে ক্লিক করলে যেসব জায়গায় বিভ্রান্তি হয়েছে সেগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে আশা করি। নিজে বিস্তারিত লিখতে গেলে লেখাটি অনেক বড় হয়ে যেত। মূলত রাশিয়া–চীনের বিষয়টি তুলে ধরাই ছিল আমার উদ্দেশ্য, যা অনেকেই এড়িয়ে যাচ্ছেন। ধন্যবাদ।
৬|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭
রাজীব নুর বলেছেন: চীন আমেরিকার উপর বিরক্ত। আর রাশিয়া কিছুটা চাপের মধ্যে আছে। ইউক্রেন সমস্যার সমাধান এখনও হয়নি।
ভেনেজুলার থেকে চীন নিয়মিত তেল কিনছে। আমেরিকা ব্যাঘাত ঘটালো। চীন এখন আমেরিকার উপর বিরক্ত।
তবে চীন ভবিষ্যতে বিশ্ব মোরল হবে।
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:০০
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চীন ভবিষ্যতে বিশ্ব মোরল হবে
এই কথা আপনার গুরুকে কমেনটস আকারে লিখেন । আপনি আদার বেয়ারি জাহাজের খবর নেয়া থেকে বিরত থাকুন ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ভেনেজুয়েলার পর আরও ৫টি দেশ টার্গেটে আছে
আপনার মতামত কি ???