| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ঘর আলোকিত করে তার জন্ম হয়। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সাহসী, মানবিক ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময়ই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তাকে প্রথম কারাবরণ করতে হয়। ছাত্রজীবনে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়াকালীন তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো প্রখ্যাত নেতাদের সান্নিধ্য লাভ করেন। সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের ভিত আরও মজবুত হয়। ১৯৪৬ সালে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়া ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্ব বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। তার সেই বজ্রকণ্ঠের আহ্বানে সমগ্র জাতি মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। তবুও তার ঘোষিত স্বাধীনতার চেতনায় বাঙালি নয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় অর্জিত হয়। তখনো বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি স্বাধীন স্বদেশে ফিরে আসেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি মোট ৪ হাজার ৬৮২ দিন কারাগারে কাটিয়েছেন, যা তার আত্মত্যাগের উজ্জ্বল প্রমাণ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাদামাটা ও বিনয়ী মানুষ। জন্মদিন পালনে তিনি কখনো আড়ম্বর পছন্দ করতেন না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরোয়া পরিবেশেই দিনটি কাটাতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তার জীবনাবসান ঘটে। তবে তার আদর্শ ও সংগ্রাম আজও বাঙালি জাতিকে পথ দেখায়। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।
--সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোলন,বাংলাদেশ। 
©somewhere in net ltd.