| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
রাকিবের বোন প্রসব বেদনায় কাতরাচ্ছিল। সামর্থ্য নেই বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার, তাই শেষ ভরসা ছিল সরকারি ফেনী জেনারেল হাসপাতাল। মনে মনে সান্ত্বনা ছিল, "সরকারি হলেও তো আর ভূতের বাড়ি নয়!" কিন্তু হাসপাতালের করিডোরে পা দিতেই রাকিবের ভুল ভাঙলো। শুনলো এক অদ্ভুত খবর—সেখানে নাকি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়মিত পিঠা বানানো হয়! লোকে বলছে, দুই বছর ধরে ওটি এখন ‘অপারেশন ক্যাটারিং সার্ভিস’ হয়ে গেছে। যেখানে সিজারের চেয়ে নাকি পিঠা আর বিরিয়ানির সুগন্ধই বেশি পাওয়া যায়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, অপারেশন থিয়েটার হবে শতভাগ জীবাণুমুক্ত। কিন্তু হাসপাতালের নার্সদের নিজস্ব থিওরি আছে: "জীবাণুমুক্ত জায়গায় রান্না করলে তো খাবারও জীবাণুমুক্ত হবে!" নার্সিং সুপারভাইজারদের নেতৃত্বে গ্যাসের চুলায় পিঠা ভাজা হচ্ছে, আর পাশের কক্ষেই একজন মায়ের সিজার চলছে। একদিকে অপারেশন টেবিলে ছুরি চলছে পেটে, অন্যদিকে সিঙ্কে ছুরি চলছে সবজিতে। কী এক অপূর্ব আর রোমহর্ষক সমন্বয় !
চিকিৎসকরা শুধু যে এই অনিয়ম জানতেন তাই নয়, বরং সেই রান্না করা খাবার দিয়ে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত আয়োজন’ সারতেন। কল্পনা করা যায়—ডাক্তার সাহেব নার্সকে জিজ্ঞেস করছেন, "আজ ওটিতে কী রান্না?" নার্স উত্তর দিচ্ছে, "বিরিয়ানি স্যার, তবে একটা সিজার বাকি, ওটা শেষ করেই পরিবেশন করছি।" তারা শপথ নিয়েছিলেন "প্রথমে ক্ষতি করো না" (First, do no harm), কিন্তু বাস্তবে যেন শপথটা ছিল— "আগে খেয়ে নাও, তারপর রোগীর চিন্তা !"
সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা। দুই বছর ধরে ওটির ধোঁয়া আর সুগন্ধ ওনার নাকে পৌঁছায়নি! হয়তো উনি সকালে সরকারি গাড়ি দিয়ে সন্তানকে স্কুলে পৌঁছাতে এতই ব্যস্ত থাকেন যে, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দেখার ফুরসত পান না। ওনার ভাষায়, তিনি "অবগত নন"! প্রশাসনের এই গাফিলতি প্রমাণ করে যে, সাধারণ রোগীর চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাই তাদের কাছে বড়।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জুনিয়র কনসালটেন্টের অনুরোধ: "সংবাদ প্রকাশ করবেন না, আমাদের কয়েকটা দিন সময় দিন।" এটা যেন চোর ধরা পড়ার পর বলছে, "টাকাটা ফেরত রাখার জন্য একটু সময় দিন !" তদন্ত কমিটির নামেও চলছে প্রহসন। হাসপাতালের লোক দিয়েই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ দিনের এই সাজানো নাটকে সম্ভবত শেষ দিনে রিপোর্ট আসবে: "সামান্য অনিয়ম পাওয়া গেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তারপর সব আবার আগের মতো!
আইরিন, কানিজ ফাতেমা কিংবা ফাহমিদা তাসনিম: এরা শুধু নাম নয়, এরা একেকজন অসহায় মানুষের প্রতিনিধি। কানিজ ফাতেমা ঠিকই বলেছেন, "যাদের কাছে স্বাস্থ্য সুরক্ষার আশা ছিল, তাদের কাছেই আমরা অনিরাপদ।" ধনীরা বিদেশে যায়, আর গরিব-মধ্যবিত্তরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ‘ক্যাটারিং সেন্টারে’ চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়। এটি শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে এক চূড়ান্ত তামাশা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের এই ঘটনা শুধু একটি জেলা হাসপাতালের চিত্র নয়, এটি আমাদের পুরো ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি। যেখানে মানুষের জীবনের চেয়ে পিঠা আর বিরিয়ানির গুরুত্ব বেশি, সেখানে ‘সেবা’ শব্দটি এক বিশাল পরিহাস ছাড়া আর কিছুই নয়।
ভিডিও দেখুন : Click This Link
-
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমাদের নৈতিক চরিত্র ঠিক করতে হবে ।
২|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭
আলামিন১০৪ বলেছেন: সরকারী হাসপাতালে অব্যবস্থাপনা নতুন কিছু নয়...কিছু দিন আগে স্বাস্থের ডিজি ওটিতে চেয়ার টেবিল/বেঞ্চ থাকার জন্য ওখানকার এক সার্জনকে প্রশ্ন করলে ওল্টা ধমক খেতে হযেছিল আর তার জন্য সার্জনকে বাহবা দিয়ে ফেসবুকে প্রচুর পোস্ট দেয়া হয়....
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৪
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এসব নতুন ঘটনা না । দুইদিন আগে খতনা করাতে গিয়ে এক ছেলেকে মেরে ফেলেছে ঢাকার কোনো এক হাসপাতালে । ফেনীর সাথে আমার গভীর রিলেশন । আমার বহু রিলেটিভ ফেনীতে ভালো চিকিতসা না পেয়ে ঢাকায় এসেছে এবং আামাদের বাসায় থেকেছে । তাই শেয়ার করেছি।
৩|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১১
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
জেনারেল হাসপাতাল সমুহকে সার্বিকভাবে সিসি ক্যমেরার আওতাও আনা হোক ।
এই সিসি ক্যমেরার মনিটরিং নিয়ক্রন করবেন হাসপাতালের পরিচালক.'
যেন কোন অনিয়ম ধরা পড়লে তিনি যেন বলতে না পবরেন বিষয়টি
াআমি জানতাম না , এখন জেনেছি এখন প্রতিকার করব।
কিন্তু সিসি ক্যমেরায় মনিটরং ক্ষমতা তার হাতে ন্যস্ত থাকলে
তিনি বলতে পারবেন না যে বিষয়টি তিনি জানতেন না ।
তাই ভনিয়মের দায় নিয়ে তাকেই আইনের আওতায়
আনা হলে পরিচালকেরা সচেতন থাকবেন
যে কোন অনিয়মের বিষয়ে ।
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এসব ঠিক হবে না কখনো ।
৪|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫
রাজীব নুর বলেছেন: সরকারি সব হাসপাতাল গুলোর অবস্থাই একই রকম। সব সরকারের আমলেই একই অবস্থা।
হাসপাতালের ভিতরে কুকুর বিড়ালও আছে। আর রাতে বেলা হয় লাখ লাখ তেলাপোকা।
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: শেখ হাসিনা নাকি সব ঠিক করে ফেলেছেন ?
৫|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৯
সত্যপথিক শাইয়্যান বলেছেন:
ভালো লিখেছেন। কাব্যিক হয়েছে।
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:২৫
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, অপারেশন থিয়েটার হবে শতভাগ জীবাণুমুক্ত।
...................................................................................................
এটাই হলো আমাদের বিবেক ?
আমি প্রা:য়শই ভাবি কি করে ব্যাঙের ছাতার মতো " জেনারেল হাসপাতাল"
লেখার সার্টিফিকেট পায় ?
আমাদের নৈতিক চরিত্র ঠিক করতে হবে
এবং এইসব জঞ্জাল অনতিবিলম্বে উপড়ে ফেলা উচিৎ ।