নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

সৈয়দ কুতুব

নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সৈয়দ কুতুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ এবং সম্পৃক্ততা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ঘটে যাওয়া কূটনৈতিক বৈঠক এবং আলোচনাগুলো বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

ওয়াশিংটন পোস্ট আজ বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক এবং কয়েকজন নারী সাংবাদিকের মধ্যে হওয়া একটি ব্যক্তিগত আলোচনার অডিও উদ্ধৃত হয়েছে। ওই আলোচনায় মার্কিন কূটনীতিক বলেন যে বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকে গেছে এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পাবে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতে ইসলামীর সাথে বন্ধুত্ব করতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করা হয়। এমনকি ঢাকাভিত্তিক ওই কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন যে তারা ছাত্রশিবিরের নেতাদের টিভি অনুষ্ঠানে আনবেন কি না।

আলোচনায় মার্কিন কূটনীতিক জানান যে জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করবে না। তবে যদি কখনো শরীয়াহ আইন চালু করা হয় এবং নারীদের দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে না পারার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাকের আর কোনো অর্ডার নেয়া হবে না। তার মতে অর্ডার না থাকার মানে হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এবং উচ্চশিক্ষিত অনেক বাংলাদেশি রয়েছে যাদের জানিয়ে দেয়া হবে শরীয়াহ আইন করলে কী পরিণতি হতে পারে। এছাড়া তিনি পোশাক শিল্পের ওপর শুল্কারোপের কথাও উল্লেখ করেন।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই এই আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং জানান যে গত ডিসেম্বরে এই আলোচনা হয়েছিল। তিনি বলেন এটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা কথাবার্তা বলেন এবং এসব কথাবার্তা সাধারণত বাইরে প্রকাশ করা হয় না। তবে মোনিকা শিই জোর দিয়ে বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না এবং জনগণের ভোটে যে সরকারই নির্বাচিত হোক তার সঙ্গেই কাজ করবে।

জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানান যে ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের ব্যাপারে তারা কথা বাইরে বলেন না। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ওয়াশিংটনে জামায়াত এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চারবার বৈঠক হয়েছে এবং ঢাকায়ও বেশ কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে জামায়াতের ভার্চুয়াল বৈঠকও হয়।

এই প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার সকালে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তারেক রহমান তার বাসা থেকে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন ডিসি থেকে অংশগ্রহণ করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে যুগ্ম মহাসচিব এবং চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জ্যামিসন গ্রেয়ার। অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি এমিলি অ্যাশবি, ডেপুটি সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রিক সুইটজার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বৈঠকে তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সমঝোতামূলক শুল্ক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বাণিজ্য সম্পৃক্ততা গভীর করা এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডক্টর শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, পারস্পরিক শুল্ক এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ শুল্ক কাঠামো, বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। পোশাক, কৃষি এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া পরিচালক এমিলি অ্যাশবি এবং জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র অধ্যাপক মোহাম্মদ নকিবুর রহমানও এই বৈঠকে অংশ নেন।

শুরুতে শফিকুর রহমান অ্যাম্বাসেডর গ্রেয়ারকে এই ভার্চুয়াল আলোচনা শুরু করার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ সম্পর্কিত শুল্ক বিষয়ে তার সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শফিকুর রহমান জানান যে অ্যাম্বাসেডর গ্রেয়ার তাকে জানিয়েছেন যে তিনি গত সপ্তাহে ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের জন্য পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য গ্রেয়ারকে ধন্যবাদ দেন।

শফিকুর রহমান একশত শতাংশ মার্কিন তুলা বা মার্কিন উৎপাদিত কৃত্রিম ফাইবার ব্যবহার করে তৈরি বাংলাদেশি পোশাকের জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা প্রদানের একটি মার্কিন প্রস্তাবের প্রশংসা করেন। তিনি এই প্রস্তাবকে একটি উইন-উইন সমাধান হিসেবে বর্ণনা করেন যা বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারে এবং একই সঙ্গে মার্কিন কৃষি ও শিল্পকে উপকৃত করতে পারে।

তিনি বলেন যে পারস্পরিক শুল্ক কাঠামো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে চুক্তির মূল দিকগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠন করে তাহলে তার দল চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। শফিকুর রহমান মার্কিন ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন থেকে বাংলাদেশের তহবিল পাওয়ার বিষয়ে অ্যাম্বাসেডর গ্রেয়ারের সমর্থনকেও স্বাগত জানান। তিনি বলেন যে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য ডিএফসি অর্থায়ন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দ্রুত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

এই তিনটি ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে দেখা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ব্যক্তিগত আলোচনায় জামায়াতকে একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হলেও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলো থেকে বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং জামায়াত উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক রক্ষা করছে। তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমে বৈঠক করা এবং পরে জামায়াত আমীরের সঙ্গে আলোচনা করা কূটনৈতিক প্রোটোকলের ইঙ্গিত দেয় যেখানে প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা তাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যেখানে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে এবং অঞ্চলে তাদের প্রভাব নিশ্চিত করতে চায়। পোশাক শিল্পের ওপর শুল্ক এবং বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই খাত দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ অবদান রাখে। যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থনৈতিক leverage ব্যবহার করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

ডিসেম্বরের আলোচনায় শরীয়াহ আইন এবং নারী শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে যে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোন ধরনের সরকার দেখতে চায়। অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি এবং একই সঙ্গে বাণিজ্য সুবিধার প্রস্তাব একটি কার্যকর কূটনৈতিক হাতিয়ার যা যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে। মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দলকে সমর্থন করে না এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এই অবস্থান তাদের গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ তবে একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করতে চায় যে বাংলাদেশের নতুন সরকার যেন তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী না হয়।

https://www.ittefaq.com.bd/771460

মন্তব্য ৫ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৮

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন এবং ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
.....................................................................................................................................
আমি আপনার এই লেখার জন্য এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম ।
ইতি পূর্বে ট্রাম্পের বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলায় আপনি বলেছেন
ট্রাম্প কাকুর বাংলাদেশ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই ।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০১

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এখনো বলছি কোনো মাথা ব্যথা নেই। ট্রাম্প কাকু এখন বিজি দেশ দখল নিয়ে ।

২| ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৪

ক্লোন রাফা বলেছেন: ট্রাম্পের ব‍্যাক্তিগত মাথা ব্যথা নাই। কিন্তু আমেরিকার প্রচুর মাথা ব্যাথা আছে। ছিবরে খেয়ে ফেলছে বাংলাদেশ’কে। ইউনুসের সকল চুক্তির অনুমোদন দিয়ে বিএনপি/ জামাত নির্বাচন আদায় করতে পেরেছে।
তবে ৬-থেকে ১২ মাসের বেশি নিশ্চয়তা নেই পরবর্তী সরকারের।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমেরিকার কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

৩| ২৩ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪০

ক্লোন রাফা বলেছেন: এই ধ্বংসাত্মক কাজে আপানাদের মত মানুষের সহযোগিতা আছে বলে এই কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা। প্রতিটি ব‍্যাবসা গিলে খাওয়ার জন‍্য আমেরিকার ডিপ স্টেটের দালালরা মুখিয়ে আছে। ইউনুস তার হিস‍্যা পেয়ে গেছে। আমেরিকার বাইন্ডংস থেকে মুক্তি নাই এত সহজে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.