| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
চুক্তিতে সই করার একটা সুন্দর রীতি আছে। সাধারণত মানুষ আগে কাগজপত্র পড়ে বুঝে তারপর সই করে। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যাপারটা একটু উল্টো। আমরা সই করে ফেলি, তারপর দেখি ভেতরে কী লেখা আছে। মনে করুন, আপনি খুশি মনে একটা কাগজে নাম লিখে দিলেন আর পরক্ষণেই দেখলেন সেখানে শর্ত দেওয়া: আপনি চাইলেই অমুক দেশ থেকে কিছু কিনতে পারবেন না বা তমুক দেশের সাথে কথা বলতে পারবেন না। সাধারণ মানুষ এমন অবস্থায় চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চমকানোর মানুষের অভাব নেই ঠিকই, কিন্তু মূল জটটা কোথায় লেগে আছে তা তলিয়ে দেখার মানুষের অভাব রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার পর মিডিয়া শুধু শার্ট-প্যান্টের শুল্ক কমার খবর প্রচার করেছে। অথচ ৩২ পাতার চুক্তির বাকি ৩১ পাতা নিয়ে নীরবতা জনমনে নানা আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। কেউ বলছেন রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি বন্ধ হয়ে গেল, কেউ রূপপুর নিয়ে আতঙ্কিত। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় তথ্যগুলো সাজালে দেখা যায়, আমরা যেগুলোকে নতুন আপদ মনে করছি, তার অনেকগুলোই আসলে পুরনো ক্ষত।
প্রথমেই রাশিয়ার সস্তা ডিজেল কেনার বিষয়টি দেখা যাক। অনেকেই মনে করছেন চুক্তির কারণে আমরা রাশিয়ার তেল আনতে পারছি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা ডিজেল আনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে। রাশিয়ার ডিজেলে সালফারের মাত্রা আমাদের দেশের ইঞ্জিনের উপযোগী না হওয়া এবং পরিবহন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার কারণে ভারত বা চীনের মতো সুবিধা আমরা কখনোই নিতে পারিনি।
অর্থাৎ, রাশিয়ার তেল আমাদের তালিকায় আগে থেকেই ছিল না; এটা এই চুক্তির কারণে বাদ পড়েছে এমনটা ভাবা ভুল। এখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে যখন আমরা প্রথমবারের মতো রাশিয়া থেকে তেল আনার কথা ভাবছি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড় চাইছি, তখনই বোঝা যাচ্ছে যে আসল বাধাটা ছিল আগে থেকেই বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, নতুন কোনো চুক্তি নয়।
রূপপুরের বিষয়টাও একইভাবে পুরনো এবং জটিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার ব্যাংকগুলো যখন সুইফট (SWIFT) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তখনই রূপপুরের লেনদেনে জট লেগেছিল। শেখ হাসিনার আমল থেকেই সোনালী ব্যাংকের এসক্রো অ্যাকাউন্টে টাকা জমে আছে এবং সেই টাকা পাঠাতে আমাদের আগে থেকেই মার্কিন (OFAC)-এর ছাড় নিতে হতো।
নতুন চুক্তির Article 4.3.5 যেখানে "নন-মার্কেট ইকোনমি" থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম কেনায় বাধা দিচ্ছে, সেটি আসলে আগে থেকে চলে আসা সেই জটিলতাকেই একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে মাত্র। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী আগে নেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোতে ছাড় থাকার কথা, তাই এখনই রূপপুর বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কটা অমূলক।
তবে চুক্তির একটি দিক অবশ্যই নতুন করে ভাবার মতো। এটি কেবল বাণিজ্যের দলিল নয়, বরং একটি ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। যেখানে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের সাথে নতুন কোনো বড় বাণিজ্য চুক্তি করলে শুল্ক সুবিধা উঠে যেতে পারে। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সবার সাথে বন্ধুত্ব কৌশলের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু মনে রাখতে হবে-মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট নিজেই এই ধরনের শুল্ক আরোপের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তার মানে, চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর বা অকাট্য কোনো দলিল হয়ে ওঠেনি।
অন্ধকারের মধ্যে থাকলে সবকিছুকেই ভূত মনে হয়। আর সেই ভূতের গল্প যত ছড়ায়, নীতিনির্ধারকদের কাজ তত কঠিন হয়। রাশিয়ার তেল বা রূপপুর নিয়ে যে জটিলতা আমরা আজ দেখছি, তার বীজ বোনা হয়েছিল অনেক আগে। এই চুক্তি কেবল সেই পুরনো বাস্তবতাকে আমাদের সামনে আয়না ধরে দেখিয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো, লুকোচুরি না করে চুক্তির প্রতিটি ধারা বাংলায় অনুবাদ করে জনগণের সামনে রাখা। আলো জ্বললে যেমন ভূত পালায়, তথ্যের স্বচ্ছতা থাকলে তেমনি অমূলক আতঙ্কও কেটে যাবে।
রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের চিঠি-জাগো নিউজ
অন্তর্বর্তী সরকারের গোপন চুক্তির কারণে রাশিয়ার তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নিতে হচ্ছে-বাংলা নিউজ ২৪
২|
০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৩:৪০
মাথা পাগলা বলেছেন: তবুও দেশে ইউনুস তেলবাজের অভাব হবে না।
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:১৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আমরা সই করে ফেলি, তারপর দেখি ভেতরে কী লেখা আছে।
...........................................................................................
আমরা গোলামী করতে ভালবাসি,
বাপ দাদার আমল থেকে গোলামী করতে করতে
এর বাহিরে আর চিন্তা করতে পারছিনা ।