| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো বলাই বাহুল্য। ভারতে যেমন টাটা, আমাদের তেমনই বসুন্ধরা। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এমন মানবতাবাদী কোম্পানি আর একটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এইসব গুণাবলীর কারণেই বোধহয় বাংলাদেশের যেকোনো রাজনৈতিক কিংবা সরকারি দলের ভীষণ প্রিয় পাত্র আমাদের এই আনভীর ভাইয়া। প্রতিটি সরকারই দুই হাত প্রসারিত করে দাড়িয়ে থাকে , কখন আনভীর ভাইয়া তাদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেবেন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তো চাইলে ভেবেই দেখতে পারে, আনভীর সোবহানকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বানানো যায় কি না। এমনিতেও যিনি সব সময় সবার ওপর ছড়ি ঘোরান, রাষ্ট্রপতি পদে তো তিনিই সবচেয়ে বেশি যোগ্য!
ইউনূস সরকারের আমলের কথাই ধরা যাক। আনভীর ভাই তখন শুধুই একটু ছুটির মেজাজে বিদেশে হাওয়া খেতে গিয়েছিলেন। যদিও নিন্দুকেরা সেটাকে অহেতুক আওয়ামী লীগের পালিয়ে যাওয়ার সাথে তুলনা করতে ছাড়েনি। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই ভাইয়া আবার বীরদাপটে দেশে ফিরে এসেছেন। আনভীর ভাইয়ার এখন একটাই প্ল্যান, শুধুই জনগণের সেবা করা। মনে হচ্ছে বিদেশ থেকে যেন একপ্রকার আল্লাহর ওলি হয়েই তিনি ফিরেছেন।
ভাইজান এখন সরকারের কাছে অনুমতি চান, তিনি নিজে বিদেশ থেকে রিফাইন করা তেল আমদানি করে দেশে বিক্রি করবেন। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ভাইয়া এ নিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে প্রায় সফল হয়েই এসেছিলেন, কিন্তু মাঝখান থেকে বাধা হয়ে দাঁড়াল ছাত্রদের কোটা আন্দোলন। ফলে সে যাত্রায় এই জনসেবামূলক প্রজেক্ট থেকে তাঁকে একটু পিছিয়ে আসতে হয়েছিল। তবে এবার নতুন করে ভাইয়া আবার জোর চেষ্টা চালিয়ে সাফল্যের মুখ দেখতে যাচ্ছেন বলেই ধরে নেয়া যায় ।
সরকারকে তো আনভীর ভাইয়া প্রায় রাজি করিয়েই ফেলেছেন। এখন থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (BPC) পাশাপাশি প্রাইভেটভাবে বসুন্ধরাও রিফাইন্ড অয়েল বিক্রি করবে। খবর রটেছে, সরকার ভাইয়ার প্রস্তাবে এতটাই খুশি হয়েছে যে এর বিরোধিতা করার অপরাধে বিপিসি চেয়ারম্যানকে নাকি পদত্যাগ করতে হয়েছে।
আনভীর ভাইয়া সরকারকে দারুণ এক প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রথম ৩ বছর আমদানি করা তেলের ৬০ পার্সেন্ট বিক্রি করবেন সরকারের কাছে, আর বাকি ৪০ পার্সেন্ট বিক্রি করবেন লোকাল মার্কেটে। ৩ বছর পর এটা হয়ে যাবে ফিফটি ফিফটি। সরকারও তো দীর্ঘদিন ধরে এমন এক ত্রাণকর্তা খুঁজছিল, যিনি প্রাইভেটভাবে এগিয়ে এসে সরকারের ভর্তুকির বোঝা কিছুটা হালকা করবেন। ভাইয়ার প্ল্যান কিন্তু এখানেই শেষ নয়। সরকারের যত ডিস্ট্রিবিউটর আছে তাদের আস্তে আস্তে কিনে নেওয়া এবং দেশজুড়ে নিজস্ব ৪০০টি ফিলিং স্টেশন বসানো। সরকারও সানন্দে তা মেনে নিয়েছে।
এখন আসল বিষয়টা যা দাঁড়াবে তা হলো, আনভীর ভাইয়ার যখনই টাকার দরকার পড়বে, তিনি রিফাইন্ড অয়েলের দাম বাড়িয়ে দেবেন। আর ভাইয়া দাম বাড়ালে সরকার যেসব তেল সাপ্লাই দেয় সেগুলোর দামও অটোমেটিক বেড়ে যাবে। সরকার এখন দয়া করে জনগণকে কম দামে রিফাইন্ড অয়েল দিচ্ছে, সামনে আর এই দয়াটুকুর দরকার পড়বে না ।
অনেকে হয়তো না বুঝে ভয় পাচ্ছেন, এলপিজি গ্যাসের মতো রিফাইন্ড অয়েলের বাজারও সিন্ডিকেটের পেটে চলে যাচ্ছে কি না। তারা আসলে বুঝতেই পারছেন না, সাপ্লাই ঠিক থাকলে দাম বাড়াটা তো কোনো ব্যাপারই না। মূল্যস্ফীতি যতই বাড়ুক না কেন, সরকারকে তো আর লিটারপ্রতি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে না। সেই বেঁচে যাওয়া টাকায় সরকার আরও বেশি করে এডিপি বাস্তবায়ন করতে পারবে, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা নতুন পে স্কেলের পেছনে খরচ করতে পারবে।
সব মিলিয়ে, আনভীর ভাইয়া সরকারের জন্য যেন এক স্বর্গীয় দূত হয়ে এসেছেন। এমন মানুষকে দেশের রাষ্ট্রপতি বানালে যে পুরো দেশের মানুষ চরম উপকৃত হবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
©somewhere in net ltd.
১|
০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র।
...............................................................................................
আহা ! কি ফুল পদ্ম ফুল / নাকি গাদা ফুল ??
ভূমিদস্যু আর মানুষ হত্যাকারীরা যখন টাকার দাপট দেখায়
আমরা তখন গদ গদ । কারন আমরাও তো মীরজাফরের অনুসারী ।
বে-ঈমান , পা চাটার দেশে ভালো মানুষ পাবেন কোথায় ?