| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!

সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে অথবা আগের অবস্থান থেকে সরে আসছে। গত কয়েকদিন আগেই দেখা গেল বসুন্ধরা গ্রুপকে পরিশোধিত তেল আমদানি করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলো। আজ আবার নতুন এক ইস্যুতে সরকার চাকরিপ্রত্যাশী ভাইবোনদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে সরিয়ে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার একটা সিদ্ধান্ত হচ্ছে বলে নিউজ ভাইরাল হয়েছে । এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফেসবুকে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়ে গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আর সংগঠন বিবৃতি দিয়ে আর বিক্ষোভ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলে একটা পক্ষ আগেই আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, এখনো এমন কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি।
২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শুধু সনদ দেয় না, নিয়োগের সুপারিশও করে থাকে। একজন প্রার্থী এনটিআরসিএর পরীক্ষা দিয়ে সনদ পেলে শূন্যপদ থাকলে সরাসরি সুপারিশ পেয়ে শিক্ষকতা পেশায় ঢুকে যান। একসাথে ষাট সত্তর হাজার নিয়োগ এখান থেকেই হয়ে থাকে, তাই একে অনেকে গরিবের বিসিএস বলে থাকেন। এখন সরকার নাকি নতুন নিয়ম করতে চাইছে, যেখানে এনটিআরসিএ না বরং আগের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি চাকরিপ্রার্থীর ভাগ্য ঠিক করবে। তারা এখন থেকে সুপারিশ করবে, এনটিআরসিএ শুধু সনদ দেবে।
এই খবর ছড়াতেই হাজারো বেকার তরুণ ভাইবোন বলা শুরু করেছেন, নতুন করে শুরু হবে নিয়োগ বাণিজ্য। স্কুলের কমিটি যদি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পায়, তাহলে ঘুষ এবং লবিং ছাড়া কারো চাকরি হবে না। পাতি নেতারা এখন থেকে সুপারিশ করবে, টাকার বিনিময়ে চাকরি হবে। পুরো ইন্টারনেট জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছে, আম জনতা রেগে গেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটাররা ভিডিও বানিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে সরকারের দাবি এখনো এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রজ্ঞাপন জারির আগে এমন খবর মানুষকে বিভ্রান্ত করে। আসল ঘটনা কী তা সরকারই ভালো জানে। তবে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দিতে চায় বলে যা শোনা গিয়েছে , তাতেই সবখানে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে যে সরকারের বেকারদের নিয়ে আসলে কোনো ভালো পরিকল্পনা আছে কিনা।
২০১৫ সালের আগে স্কুল কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে প্রচুর টাকার খেলা হতো, গভর্নিং বডির লোকদের হাতে থাকতো সব ক্ষমতা। ২০১৫ সালে এনটিআরসিএকে সুপারিশের ক্ষমতা দেওয়ার পর এসব ঘুষ বাণিজ্য অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সত্যি মিথ্যা জানি না, কারণ এনটিআরসিএর বিরুদ্ধেও জাল সনদের প্রচুর অভিযোগ আছে। আর এমপিওভুক্ত স্কুল কলেজের পেছনে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে, কিন্তু তার ফলাফল তেমন দেখা যাচ্ছে না । অনেক প্রতিষ্ঠান ঘুষের বিনিময়ে এমপিওভুক্তি কিনে নেয়। সরকারের উচিত নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছভাবে সাজানো। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়; পেছনের দিকে গেলে সরকারের জন্য বড়ো বিপদের আশংকা রয়েছে ।
শিক্ষক নিয়োগ কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি : শিক্ষামন্ত্রী -দৈনিক শিক্ষা ডট কম
বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে নতুন সিদ্ধান্তের পথে শিক্ষা মন্ত্রণালয়- আমাদের সময়.কম
ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নি/য়োগের ক্ষমতা-ডেইলি ক্যাম্পাস
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:২৭
জ্যাক স্মিথ বলেছেন: ভালো।