| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সৈয়দ কুতুব
নিজের অজ্ঞতা নিজের কাছে যতই ধরা পড়ছে প্রচলিত বিশ্বাসের প্রতি ততই অবিশ্বাস জন্মাছে!
বিগত দিনগুলোতে আমরা ডাকসুর নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি ছাড়া তেমন কিছুই দেখতে পাইনি। বাংলাদেশপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোকে দেখেছি আধিপত্য বিস্তার, গেস্টরুম নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে জর্জরিত হতে। সবশেষ ডাকসুতে একটি নতুন ছাত্রসংগঠন ইসলামিক ছাত্রশিবির নীলক্ষেতের ভিসির ম্যাজিকেই হোক কিংবা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের দুর্বলতার কারণেই হোক, বিশাল জনসমর্থন নিয়ে উঠে এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ডাকসু চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় একটি জব ফেয়ারের আয়োজন করেছে। ৩০ থেকে ৪০টি চীনা প্রতিষ্ঠান সেখানে অংশ নেবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৪৩০টি চাকরির সুযোগ থাকবে। সংখ্যাটা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তারপরও এমন একটি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ ছাত্রসংগঠনের কাজ শুধু মিছিল, স্লোগান আর রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও ভূমিকা রাখা।
ছাত্রদল কী করছে? ডাকসু চায়না দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমন একটি জব ফেয়ারের আয়োজন করতে পারলে ছাত্রদল কেন এমন কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না? সাদিক কাইয়ুম গং চীনের আমন্ত্রণে সফরে যাওয়ার কিছুদিন পর ছাত্রদলও চীনের আমন্ত্রণে সফরে গিয়েছিলো। তাহলে সেই সফরের ফলাফল কী? ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন হিসেবে তাদের কাছ থেকে বরং আরও বড় ও দৃশ্যমান শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগই প্রত্যাশিত ছিল।
মাঝেমধ্যে কিছু মারামারি কিংবা সংঘর্ষের খবর ছাড়া ছাত্রদলের তেমন কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মনে হচ্ছে তারা যেন ডাকসু জেতার ব্যাপারে অনেকটাই হাল ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে, ডাকসু এবারও হয়তো শিবিরের দখলেই থাকবে।
ডাকসুর এই চাকরি মেলা থেকে যারা চাকরি পাবেন, তারা সবাই আসলেই সাধারণ শিক্ষার্থী নাকি রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থী, সেটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। আমাদের দেশে এমন অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী আছেন, যারা দেখতে পুরোপুরি সাধারণ। পরে দেখা যায় তারা আসলে নিরপেক্ষ সাধারণ শিক্ষার্থী!
সব মিলিয়ে ঢাবিতে ডানপন্থী রাজনীতির জয়রথ যেন থামছেই না। সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে জাল কায়েদার বিস্তার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত জাল-কায়েদা মতাদর্শের অ্যাক্টিভিস্ট সাবেক ঢাবিয়ান আসিফ আদনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সেমিনারে অংশ নিয়েছেন। তার কথা শুনতে প্রায় ২২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছিল ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কি এসব পরিবর্তন নিয়ে চিন্তিত? ক্যাম্পাসে কোন ধরনের রাজনৈতিক শক্তি জনপ্রিয় হচ্ছে, কারা শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করছে এবং ভবিষ্যতে এর প্রভাব কী হতে পারে, এসব নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। কারণ ডাকসু শুধু কয়েকটি পদ কিংবা একটি নির্বাচনের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম জায়গা। আর সেই জায়গায় কোন ধরনের রাজনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি।
ডাকসুর উদ্যোগে ঢাবিতে সিনো-বাংলা ডে, চীনা প্রতিষ্ঠানে ৪৩০ চাকরির সুযোগ-ঢাকা পোস্ট
শিবির সমর্থিত এক নেতার অনুষ্ঠান ঘিরে নানা আলোচনা -সমকাল ।
©somewhere in net ltd.