নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

হে মানব! আর নয়তো দেরী; জেগে তুলে বিবেকের তরী করো হিংসার বলিদান। জন্মান্ধ হয়ে থেকো নাকো তুমি;মানুষ বলে হও বলিয়ান ।

তুমি জীবন খুঁজো সুখের নীড়ে, আমি জীবন খুঁজি দুঃখের ভীরে।,,, রহমান লতিফ,,,,

› বিস্তারিত পোস্টঃ

ইমাম গাজ্জালীর সেরা দশ\'টি উদ্ধৃতি

২৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ৯:০৩


পণ্ডিত, আইনজ্ঞ, ধর্মতত্ত্ববিদ ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী ( c. 1058 – 19 December 1111)। হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর পর ইমাম গাজ্জালী ছিলেন অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম। সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক ও আলেমে দ্বীন ইমাম আবু হামেদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গাজ্জালী কে হুজ্জাত আল ইসলাম বা Proof of Islam (ইসলামের প্রমাণ), জাইন আল-দীন Ornament of Faith (ঈমানের অলঙ্কার) এবং মুজাজ্জোর The renewer of religion ( ধর্ম সংস্কারক) -এর মতো বিশেষণে প্রশংসিত হয়েছেন। ইমাম গাজ্জালী রঃ এর পিতার ও পিতামহ উভয়ের নামই মুহম্মদ। তিনি খোরাসানের অন্তর্গত তুস নগরের গাজালা নামক স্থানে জন্ম গ্রহন করেন। তাই সবাই উনাকে গাজ্জালী নামেই চিনে। পৃথিবী ব্যাপি জ্ঞানের আলো বিতরনের উদ্দেশ্যে হযরত ইমাম গাজ্জালী র: ঘুরে ফিরেছেন দেশ,থেকে দেশে। প্রায় দশ বছর পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে বিচরণ করে বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডারে যে অবদান রেখে গেছেন তা নিঃসন্ধেহে অতুলনীয়। এ মনীষি মাত্র ৫৫ বৎসরকাল জীবিত ছিলেন। শৈশব ও পাঠ্য জীবন বাদ দিলে মাত্র ৩৪/৩৫ বৎসর কর্মজীবনে তিনি অনেক অমুল্য গ্রন্থ রচনা করেন। বিজ্ঞান, ইসলাম দর্শন এবং সুফিবাদের উপর তার ৭০ টি বই ইউরোপে বেশ সমাদৃত হয়েছে। যাদের অন্যতম হলো-
১) দার্শনিকদের অসঙ্গতি (Incoherence of the Philosophers)
২) ধর্মীয় বিজ্ঞানের পুনর্জাগরণ (The Revival of Religious Science)
৩) জেরুজালেমর এলাকা (The Jerusalem Tract)
৪) হেদায়েতের শুরু (The Beginning of Guidance)

ইমাম গাজ্জালীর সেরা দশটি উদ্ধৃতি

১. তের'টি অদেখা শত্রুদের উপর আপনার জিহাদ ঘোষণা করুন-কাম,ক্রোধ,ঔদ্ধত্য,অহংকার,স্বার্থপরতা, লোভ, লালসা,অসহিষ্ণুতা,ভণ্ডামি, মিথ্যাচার, প্রতারণা,গালগল্প ও পরনিন্দা। যদি আপনি তাদেরকে দক্ষতার সহিত ধ্বংস করতে পারেন, তাহলে আপনি যে সমস্ত শত্রুদের দেখতে পারেন তাদের সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত হবেন।

২. মানুষের গুণকীর্তনে আপনার হৃদয়কে আনন্দ নিতে দেবেন না, তাদের নিন্দার মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করবেন না ।

৩. আপনি যা ভালবাসেন তা পেতে হলে, প্রথমেই আপনি যা ঘৃণা করেন তারজন্য ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে ।

৪. কর্ম ছাড়া জ্ঞান বিনষ্ট হয় এবং ক্রিয়া ছাড়া কর্ম হলো নির্বুদ্ধিতা|

৫. যারা ঝিনুক খুঁজছে তারা ঝিনুকই খুঁজে পাবেন, যারা এগুলো খোলে তারা মুক্তা খুঁজে পাবে।

৬. আমি কখনো আমার নিজের চেয়ে কঠিন কোনো কিছুর মোকাবেলা করিনি, যা কখনও কখনো আমাকে সাহায্য করে, কখনো বা আমার বিরুদ্ধাচরণ করে ।

৭. আপনার সমসাময়িক যারা চলে গেছে তাদের স্মরণ করুন এবং যারা তোমার সমবয়সী ছিলো। তারা যে সম্মান ও খ্যাতি অর্জন করেছিল, যে উচ্চ পদ,এবং সুন্দর দেহের অধিকারী ছিল তা কেউ মনে রাখবে না। আজ সব কিছু ধূলিসাৎ হয়ে গেছে । তারা তাদের পেছনে রেখে গেছে এতিম ও বিধবা। তাদের ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের বাড়ী-ঘর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে । আজ তাদের কোন নিদর্শন নেই এবং তারা পৃথিবীর তলদেশে অন্ধকারে পড়ে আছে। আপনার মনের চোখের সামনে তাদের মুখের চিত্র অংকন করুন এবং চিন্তা করুন।

৮. পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের অর্ধেক মানুষ তাদের খারাপ আচরণ ও অজ্ঞতার কারণে ধর্মকে কুৎসিত মনে করে।

৯. আপনার সময়কে অবহেলা করে না, এবং এটি অযথা ব্যবহার করে না; বিপরীতভাবে আপনি নিজেকে জবাবদিহিতায় আনা উচিত. প্রতিদিন এবং রাতে আপনার জবাবদিহিতা এবং অন্যান্য অভ্যাস গঠন করুন । এভাবেই প্রতিটি সময়কালে আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ (বারাকাহ) নিয়ে আসা যায়। আপনার প্রতিটি শ্বাস যদি একটি অমূল্য রত্ন হয়, প্রতারিত বোকা যারা আনন্দিত হয় তাদের মত হয়ো না, কারণ প্রত্যেক দিন তাদের সম্পদ বৃদ্ধি হয় যখন তাদের জীবন ছোট থেকে ছোটই হচ্ছে |

১০. আপনার হৃদয়ে কোন একজন মুসলমান সম্পর্কে খারাপ সন্দেহ হলে তার প্রতি আপনার বিবেচনা বৃদ্ধি করো এবং তার জন্য দোয়া করো। এভাবে তুমি শয়তানকে রাগান্বিত হতে দেখবে এবং তাকে তাড়িয়ে দিতে পারবে। এই কারণে শয়তান আপনার অন্তরে অসৎ চিন্তা-ভাবনা ঢুকাতে অনিচ্ছুক থাকবে,শয়তান ভয় পাবে যে, আপনি আপনার ভাইয়ের প্রতি আপনার বিবেচনা বৃদ্ধি করবেন এবং আবারো তার জন্য দোয়ার দরিয়ায় পরিণত হবেন ।

এই মহান দার্শনিকের অর্থনৈতিক দর্শন আজোও বিবেকবান হৃদয়কে নাড়া দেয়। তিনি অর্থনৈতিক কার্যকলাপের তিনটি লক্ষ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা তিনি বিশ্বাস করেছিলেন একজন ব্যক্তির নিজের জন্য উপকারী এবং ধর্মীয় দায়বদ্ধতার অংশ হিসাবে, তা হলো- ক) "বেঁচে থাকার জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন; খ) একজন ব্যক্তির নিজ বংশধরদের সুবিধার বিধান করা গ) যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ তাদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা। এমন ভাবানা থেকে হয়তো জৈনৈক ইউরোপীয় পন্ডিত বলেছেন, ইমাম গাজ্জালী ও ইবনে রুশদের জন্ম না হলে মুসলমানগন নিউটন ও এরিষ্টটলের জাতি হয়েই থাকতো। বস্তুত পাশ্চাত্যের জড়বাদী ভ্রান্ত দার্শনিক মতবাদের মোকাবিলায় খটি দর্শনকে বলিষ্ঠ যুক্তিতে প্রকাশ করে ইমাম গাজ্জালী বিশ্ব মানবের মুল্যবোধ ও চিন্তাধারায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেন। অপরিনামদর্শী আধ্যাতিক জ্ঞান ও চিন্তাধারার মাধ্যমে দিকভ্রান্ত মানুষকে সঠিক পথের সন্দ্ধান দিয়ে মানব ইতিহাসে অমরত্বের স্বাদ গ্রহন করছেন। এ মহান দার্শনিকের কর্ম ও জীবন হাজারো মানুষকে আলোকিত করেছে দেশে-দেশে, যুগে যুগে।

মন্তব্য ৩২ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৩২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ৯:২৮

পবিত্র হোসাইন বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় লতিফ ভাই, উনাকে নিয়ে একটা পোস্ট দেয়ার জন্য।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

বলেছেন: ধন্যবাদ প্রিয় ভাই,


মুসলিম মনিষী সমন্ধে আমাদের জানা উচিৎ।।

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।।

২| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:১৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সুন্দর পোস্ট

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২২

বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।।।


ভালো থাকুন।।

৩| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:৫০

নীল আকাশ বলেছেন: খুব ভাল লেখা হয়েছে। উনার সর্ম্পকে আমি আগে একবার পড়েছিলাম।
আজকের পর থেকে আমি ব্লগে আর নাও ফিরে আসতে পারি।
আপনার সাথে তো যোগাযোগ থাকবেই।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩

বলেছেন: আপনার অনুপস্থিতি মেনে নেয়া যায় না।।।

আপনি কোথাও যাবেন না।।।

৪| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৪৫

মুক্তা নীল বলেছেন:
ল'ভাই ,
প্রতিটি কথাই খুব ভালো লেগেছে।
নীল আকাশ ভাইয়ের কথাগুলো মানতে পারছি না। কিছুই কি
করা যায় না ?

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২৩

বলেছেন: নীল আকাশ ভাই কিছুতেই যেতে পারে না।
এটা মানা যাবে না।।।

৫| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:৪৯

করুণাধারা বলেছেন: চমৎকার পোস্ট দিয়েছেন। তবে উদ্ধৃতিগুলোর মাঝখানে গ্যাপ থাকলে পড়তে সুবিধা হয়।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:২৪

বলেছেন: ধন্যবাদ আপা,

গ্যাপ দিলে কেমন যেন এডসেন্স এসে যায়৷


সময় করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।।

৬| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৩৯

এমজেডএফ বলেছেন: আইনবেত্তা, দার্শনিক, মরমীবাদী, সংশয়বাদী, সংগীত অনুরাগী এবং নীতিবিজ্ঞানী ইমাম গাজ্জালীর মতে আত্মা ও সৃষ্টির রহস্য এবং আল্লাহর অস্তিত্ব যুক্তি তর্কের বিষয় নয় এগুলো অনূভূতির বিষয়। অনন্ত সত্তাকে যুক্তি দিয়ে বিচারের সুযোগ নেই। এমন চেষ্টাকেও তিনি অন্যায় বলে দাবি করেন। অনন্ত সত্তাকে যুক্তির বাইরে রাখলেও তিনি বিজ্ঞান ও দর্শনের বিরোধী ছিলেন না। তাই তাঁর দর্শন ধর্মের সীমানা পেরিয়ে সার্বজনীনতা লাভ করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, আজকাল মৌলবাদী ভাবধারায় আচ্ছন্ন কিছু তরুণ-যুবক ইমাম গাজ্জালীদের মতো দার্শনিকদের মতবাদকে অনুসরণ না করে ধর্মীয় বিশ্বাস দিয়ে বিজ্ঞানকে হঠানোর হাস্যকর তর্কযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪১

বলেছেন: আপনার ধারণাগুলো আনার ভালো লাগে - আপনাকে একটা প্রস্তাবনা দেই।।
আমাদের প্রজন্ম এখন আইডল হলো - জিরো মলম, আই ম্যান ছ্যা, চুলাইমান চু, বেলেছটাল সুউ, এদেরকে মুসলিম মুনিষদের জীবনী জানানো জরুরি।

১) আপনি দ্যা হান্ড্রেড মুসলিম মনিষীর জীবনী, কর্ম, দর্শন নিয়ে লিখুন পরে যা বই আকারে প্রকাশ করা যায়। আমি ব্যাক্তিগতভাবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সাহায্য করবো।

২) দশজনের একটা গ্রুপ নিয়ে যেমন, ডঃ আলী, নতুন নকীব, নীল আকাশ, মেঘ প্রিয় বালক, হাবিব স্যার, আরোগ্য,
আপনি, আমি, আরো অনেকে এ লিস্টে এড হতে পারেন যারা গবেষণা করে একশ জন মুসলিম মনিষীর জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করবে। ।।


আমাকে জানাবেন।।। ধন্যবাদ।।

৭| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট টি ভালো লাগলো।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২

বলেছেন: সময় নিয়ে পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।।

ভালো লাগলো আপনার মন্তব্য।।।


ধন্যবাদ নিরন্ত।।

৮| ২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) ছিলেন একাদশ শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেম আবু হামিদ আল গাজ্জালী, যিনি আজ পরিচিত “حجة الإسلام‎” (হুজ্জাতুল ইসলাম – ইসলামের সাক্ষ্য) নামে। সেসময়কার ইসলামের নামে প্রচলিত যেসব ভয়ংকর মতবাদ ও ভ্রান্ত দর্শন মুসলমানদেরকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেসবের বিরুদ্ধে কার্যকর বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের কারণে তাঁকে এই উপাধি দেয়া হয়। সর্বব্যাপী গ্রীক দর্শন থেকে শুরু করে শিয়া মতবাদের উত্থান এবং জোয়ার; সবকিছুর বিরুদ্ধেই তিনি ছিলেন সোচ্চার। ইমাম গাজ্জালী ক্ষমতাসীনদের হুমকীর মুখেও প্রকৃত ইসলামী দর্শন ও জ্ঞানের পুনরুজ্জীবনের জন্য সম্ভাব্য সকল উপায়ে চেষ্টা করেছেন। খুবি ভালো লাগলো ব্লগে তাহার দশটি মূল্যবান উদ্ধৃতি পড়ে।

২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

বলেছেন: বাহ!!

আপনার মন্তব্যটি ভালো লাগলো হয়তো অনেকেই এ মন্তব্য থেকে অনেক কিছু জানতে পারবে।।


সময় নিয়ে পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।।।

৯| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৯

আরোগ্য বলেছেন: বড় ভাই এরকম পোস্ট আরো চাই।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:১৯

বলেছেন: ব্লগ ফিরে আসায় ভালো লাগলো।।



আআার জমবে মেলা।।।।

ভালোবাসা অবিরাম।।।

১০| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি যে ১০টি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তারমধ্য থেকে ৭ নম্বর উদ্ধৃতি পুরোপুরিভাবে প্রমাণ করে যে, উনি "দার্শনিক" ছিলেন না: ্তিনি ততকালীন সময়ের ধর্মীয় চিন্তাবিদ ছিলেন না; উনি মৃতদের ব্যাপারে যা বলেছেন, সেটা ধর্মীয় ভাবনা; দর্শন মানুষের মৃত্যুকে দেখে প্রকৃতি নিয়ম অনুসারে; মানুষের মৃত্যু জীব জগতের অংশ, সেটার সঠিক ব্যাখ্যা আছে; মানুষের মৃত্যুর পর, নতুন প্রজন্ম ষেই স্হান পুরণ করছে ও মানব সমাজ ক্রমেই ভালো দিকে যাচ্ছে।

দর্শনের সংজ্ঞা ও দর্শনের বিষয় সম্পর্কে আপনার ধারণা দরিদ্র; না হয়, আপনি উনাকে দার্শনিক হিসেবে তুলে না ধরে, ধর্মীয় চিন্তাবিদ হিসবে দেখতেন।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:১৯

বলেছেন: ৮ নাং উদ্ধৃতি নিয়ে কিছু বলুন।।

১১| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি যে, ১০টি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, এগুলো যে কোন সাধারণ মানুষ দিতে পারবেন; এগুলো শ্বাসত সমাজ বিজ্ঞানের প্যাটার্ণ নয়; মানব সমাজ ক্রমাগতভাবে বিবর্তিত হচ্ছে, উনি এর ছোট একটা অংশকে উপদেশ দিয়েছেন, যেসব উপদেশ ধর্মীয়দের জন্য নতুন কিছু নয়।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২০

বলেছেন: সাধারণের মধ্যে কেউ কেউ অসাধারণ হয়ে যায়।।।। যেমন হয়েছেন আপনি।।।।

১২| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় লতিফ ভাই,

ওনার সম্পর্কে পড়ার সুযোগ হয়নি। যেটুকু জেনেছি লোকমুখে।আজ সরাসরি আপনার পোস্টের মাধ্যমে অনেক কিছু জানতে পারলাম। নিঃসন্দেহে খুব বড় মাপের একজন দার্শনিক। ধন্যবাদ আপনাকে বিষয়টিকে সামনে আনার জন্য।

শুভকামনা ও ভালোবাসা জানবেন।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২১

বলেছেন: প্রিয় ব্লগার,,

আপনার তীক্ষ্ণ মন্তব্য সবসময় অনুপ্রেরণা যোগায়।।।

সময় করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।।।

ভালো থাকুন।।।

১৩| ২৯ শে জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি বলেছেন, "২) দশজনের একটা গ্রুপ নিয়ে যেমন, ডঃ আলী, নতুন নকীব, নীল আকাশ, মেঘ প্রিয় বালক, হাবিব স্যার, আরোগ্য, আপনি, আমি, আরো অনেকে এ লিস্টে এড হতে পারেন যারা গবেষণা করে একশ জন মুসলিম মনিষীর জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করবে। "

-সুন্দর ভাবনা; ড: আলীর বাকী জীবনটা কেটে যাবে বাকী ৯ জনকে "গবেষনা কাকে বলে" ব্যাখ্যা করতে করতে; হয়তো, গবেষণা কি, ওউহা কিভাবে করতে হয়, সেটা ৯ জনকে শিখা্তে উনার ১৮ বছর লাগবে।

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২৪

বলেছেন: হা হা --
ক্ষুদ্র আালুজার কণা বিন্দু বিন্দু জল -

গড়ে তুলে মহাদেশ সাগর অতল।।

আলা যায় না কখন কে কি দিতে পারে।।।
এই নয়জনের মধ্যে দু একজনের দু চারটি গবেষণা পেপার আছে বলে মনে হয়,।।।


ধন্যবাদ মহাশয়।।। আপনিও আসতে পারেন এই লিস্টে।।।

১৪| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ রাত ২:১৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: মুল্যবান কথাসমৃদ্ধ পোষ্টটি সরাসরি প্রিয়তে গেল ।
গভীর মনোনিবেশ সহকারে পোষ্টটি পাঠ করলাম ।
পোষ্টটি পাঠের পর মন্তব্যের ঘরে আসার পথে দেখলাম আমিসহ আরো অনেক সহগুণী ব্লগার সমন্বয়ে ইসলামী দার্শনিকদের কর্মসম্ভারের উপরে আরো বিস্তারিত গবেশনার জন্য মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যের ঘরে কিছু কথামালা রয়েছে । এ সম্পর্কে বলতে চাই যে যুগশ্রেষ্ট ইসলামী দার্শনিকদের রচনা সম্ভার ও তাঁদের কর্মময় জীবনের গুরুত্বপুর্ণ অবদান ও ইসলামী জগতে তার প্রভাব সম্পর্কে বলতে গেলে আমি একেবারেই অজ্ঞদের কাতারভুক্ত । ইসলামী দর্শনের মূল উপিজব্য বিষয় তথা জীবন, বিশ্বজগৎ, নৈতিকতা, সমাজ এবং মুসলিম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত আরও অনেক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সমস্যার উপরে নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা, অনুসন্ধান ও পর্যালোচনায় আমার যোগ্যতা একেবারেই সীমিত । তবে আমাকে ছাড়া অন্য যাদের নাম বলা হয়েছে তাঁরা এ বিষয়ে সচেষ্ট হলে আমি খুবই খুশী হব । আরো একটি বিষয় উল্লেখ্য, জনাব চাঁদগাজীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি কাওকে গবেষনা শিক্ষা দেয়াতো দুরের কথা আমার বাকী জীবন সাধনা করেও গবেষনার গ ও শিখতে পারবনা বলে মনে হয় । তবে গুণী ব্লগারদের নিকট হতে গবেষনা কর্ম সম্পর্কে শিক্ষা নিতে পারলে নীজকে ধন্য মনে করব ।

ইসলামী দর্শন নিয়ে কাজ করতে হলে সকলকেই যে মুসলিম হতে হবে তাতো নয় । ইসলামী দার্শনিকদের মধ্যে সকলেই মুসলিম নন। ইয়াহিয়া ইবন আদির মত খ্রিষ্টান ও মাইমোনিডিস এর মত ইহুদীরাও ইসলামী দর্শন ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন । অপরদিকে ইবনে আল-রাওয়ান্দি ও মুহাম্মাদ ইবন জাকারিয়া আল-রাযীর মত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ ইসলামকে আক্রমণ করার জন্য দর্শনশাস্ত্রকে ব্যবহার করেছিলেন। ইসলামী দর্শনের সাথে ধর্মীয় বিষয়াবলীর সম্পৃক্ততা থাকলেও এর মধ্যে একচেটিয়াভাবে মুসলমান কর্তৃক তৈরীকৃত বিষয়াবলীসমূহ অন্তর্ভুক্ত নেই ।

যাহোক, গ্রিক এবং মুতাজিলা দর্শনের প্রভাবে মুসলিম চিন্তাশীল সমাজ যখন বিভক্ত, বিক্ষিপ্ত হয়ে ধর্মের কোমল বিশ্বাস থেকে সরে যেতে শুরু করে তেমনি একসময়ে হুজ্জাতুল ইসলাম উপাধি নিয়ে মুসলিম দর্শনের প্রবাদপুরুষ হিসেবে আগমন ঘটে আবু হামিদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ গাজ্জালীর ।

ইসলামী দর্শন , ফিকাহ, ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে গুরুত্বপুর্ণ অবদানের জন্য ইমাম গাজ্জালীর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলী।ইসলামী দর্শন, ফিকাহ, ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে তার মত এত বিপুল রচনা সম্ভার আ্রর কোন ইসলামিক চিন্তাবিদ রেখে গেছেন কিনা তা এখনো সুবিধিত নয় । আমাদের চারিধারে বিবিধ প্রকারের যুক্তি তর্কের বেড়াজালে ঘূর্ণায়মান ধর্মবিশ্বাসের এই যুগ সন্ধিক্ষনে ইমাম গাজ্জালির কর্মসম্ভার ও তাঁর উপযোগীতা নিয়ে একটি আলোচনা অতীব গুরুত্বপুর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইমাম গাজ্জালি (রঃ) চারশ’র ও অধিক গ্রন্থ রচনা করেন বলে জানা যায় যার অধিকাংশই ধর্মতত্ব, ও সুফিবাদ সংক্রান্ত। তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলির মধ্যে এহইয়া উলুমিদ্দীন, তাহাফাতুল ফালাসিফা,. কিমিয়ায়ে সা’আদাত, হাকিকাতুর রুহু, দাকায়েকুল আখবার, আসমাউল হুসনা, ফাতাওয়া, মিশকাতুল আনোয়ার, বিদায়াহ ওয়া হিদায়াহ, আসরার আল মোয়ামেলাতুদ্দিন, মিআর আল ইলম, মুনক্বীয, মুকাশাফা'তুল কুলুব, আল ইক্বতিসাদ ফিল ই'তিক্বাদ ইত্যাদি আন্যতম ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি । আমরা সকলেই জানি যে ইসলামী জীবন ও ধর্মবিধানের সকল বিষয় পবিত্র আল কোরান ও হাদিস তথা রসুলুল্লাহর (সঃ) কথা ও আচরন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত । পবিত্র কোরান ও হাদিসের একটি অক্ষরও পরিবর্তন, পরিশোধন কিংবা পরিমার্জনের কোন সুযোগ নেই, তাই এর সংস্কারেরও কোন অবকাশ নেই। কেননা কোন কিছুর সংস্কার বলতে বুঝায় ক্ষেত্র বিশেষে এর মধ্যে পরিবর্তন, পরিশোধন কিংবা পরিমার্জন করা । তবে কোরান ও হাদিস নিয়ন্ত্রিত বিধি বিধানের মধ্যে ক্ষেত্র বিশেষে তার যথাযথ প্রয়োগ ও বোধগম্যতার বিষয়ে যুক্তিগ্রাহ্য ব্যখ্যা বিশ্লেষন করা যেতেই পারে কিন্তু তাই বলে তাকে কোন মতেই সংস্কার বলা যাবেনা । তাই কোন ইসলামী চিন্তাবিদ তথা দার্শনিককে ইসলামী সংস্কারক এর অভিধায় বিভুষিত করার পক্ষে আমি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিমত পোষন করি । সে হিসাবে ইমাম গাজ্জালিকে একজন ইসলামী সংস্কারক হিসাবে অভিধায় আমি বেশ দ্ধিধাগ্রস্থ ।

যাহোক, আলোচনায় ফিরে আসি, ইমাম গাজ্জালির সময়কালে বিরাজমান তত্ত্বগত নৈতিক ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও প্রশ্নবিদ্ধ ইসলামিক জীবনধারাগুলি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন ও অনুধাবনের ফলশ্রুতিতে তাঁর মধ্যে একটি চিন্তাচেতনা জেগে উঠেছিল । তাই তাঁর স্বল্পকালীন কর্মময় জীবনের মধ্য লগনে অর্জিত সমস্ত রাজকীয় মর্যাদা, ও হাই ভেলুড প্রফেশনাল কার্যসমূহেকে দূরে ঠেলে দিয়ে বেশ অনটনের মাঝেই দেশ পর্যটনে বেরিয়ে পরেন। বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মুসলমানদের সংগে মেলামেশা করে তাদের জীবনধারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দীর্ঘকাল মোজাহাদা ও সাধনার মাধ্যমে নিজের আত্মাকে করেন পরিশুদ্ধ ।
সে সময়কালের প্রবল প্রতাপশালি গ্রিক দর্শন গভীরভাবে অধ্যয়ন করেন এবং জবরদস্ত সমালোচানা করে গ্রীক দর্শনের যে সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তিমত্তা মুসলমানদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল তা ম্রিয়মান করতে সহায়তা করেন । গ্রীক দর্শনের উপর ইমামের সমালোচানার প্রভাব শুধু মুসলিম বিশ্বেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং ইউরোপে উপনীত হয় এবং সেখানে গ্রিক দর্শনের কর্তৃত্ব এর উপরেও প্রভাব ফেলে ।

তিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে অযৌক্তিক বিষয়সমুহের ওপর ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাসের প্রমাণ নির্ভরশীল নয় বরং এর পেছনে উপযুক্ত যৌক্তিক প্রমাণ আছে বলে জানান। তাই অযৌক্তিক বিষয় গুলোর ওপর জোর দেয়া এক অর্থহীন বিষয় বলেও অভিমত রাখেন ।

তিনি ইসলামের আকিদা-বিশ্বাস ও মুলনীতি সমূহের যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা পেশ করেন । শরিয়তের নির্দেশাবলী এবং ইবাদতের গূঢ় রহস্য ও যৌক্তিকতাও বর্ণনা করেন , যার ফলে ইসলাম যুক্তি ও বুদ্ধির পরীক্ষার বোঝা বহন করতে পারবে না বলে যে ভুল ধারণা মানুষের মনে স্থানলাভ করেছিল, তা অনেকাংশেই বিদূরিত হয়। সমকালীন সকল মযহাবী ফেরকা এবং তাদের মতবিরোধ পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে পারস্পরিক বিবদমান ফেরকা সমুহের মধ্যে থাকা বারুদ বের করে দিতে সহায়তা করেন । এর ফলে মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গীতে ব্যাপকতা সৃষ্টি হয়। দ্বীনের জ্ঞানকে সঞ্জীবিত ও সতেজ করে সে যুগের প্রায় প্রত্যেকটি দলের ভ্রান্তি ও দূর্বলতার সমালোচনা করে তাদেরকে ব্যাপকভাবে সংশোধনের আহবান জানান।

পুরাতন জরাজীর্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে একটি নয়া শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনাও তিন পেশ করেন। সে সময় মুসলমানদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে দু ধরনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছিল বলে তাঁর কাছে প্রতীয়মান হয়। প্রথমত দ্বীন ও দুনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা পৃথক ছিল, ফলস্বরূপ দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে পৃথকীকরণ দেখা দেয়। দ্বিতীয়ত শরিয়তের জ্ঞান হিসাবে এমন অনেক বিষয় পাঠ্য তালিকাভুক্ত ছিল, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ন ছিল না, ফলে দ্বীন সম্পর্কে জনগনের ধারণা ভ্রান্তিতে পরিপূর্ন হয়ে যায় এবং কতিপয় অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুরুত্ব অর্জন করার কারণে ফিরকাগত বিরোধ শুরু হয়। ইমাম গাজ্জালী (র) এই গলদগুলো দূর করে একটি সুসামঞ্জস্যপুর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর সমকালীন লোকেরা অবশ্য তাঁর এই মহান কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধিতা করে এবং এখনো অনেকে করে আসছেন যার যার দৃস্টিকোন হতে ।

তিনি মুসলমানদের প্রত্যেকটি শ্রেণীর নৈতিক অবস্থারও সমালোচনা করেন, প্রত্যেকটি দুষ্কৃতির মূল এবং তার মনস্তাত্ত্বিক ও তমুদ্দুনিক কারণসমুহ অনুসন্ধান করেন এবং ইসলামের নির্ভুল ও সত্যিকার নৈতিক মানদণ্ড তাঁর এহইয়া -উল-উলুম কিতাবটির মাধ্যমে প্রকাশ করেন। সমকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থারও অবাধ সমালোচনা করে শাসক গোষ্ঠীকেও সরাসরি সংশোধনের জন্য অআহ্বান করেন । বিভিন্ন প্রকাশ মাধ্যম সুত্র হতে জানা যায় একবার বাধ্য হয়ে রাজ দরবারে গিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বাদশাহর মুখের ওপর তিনি বলেছিলেন “স্বর্ণ অলংকারের ভারে তোমার ঘোড়ার পিঠ ভাঙেনি তো কি হয়েছে, অনাহারে -অর্ধহারে মুসলমানদের পিঠতো ভেঙে গেছে” ।

ইমাম গাজ্জালী জ্ঞান বিষয়ক আলোচনাতেও মুল্যবান অবদান রেখে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে পরম সত্যের জ্ঞান লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ ইন্দ্রিয়ানুভূতি ও প্রজ্ঞার জ্ঞান সঠিক নাও হতে পারে। তার মতে মানুষের হৃদয়ে এমন একটি শক্তি আছে যার মাধ্যমে সে সত্যের জ্ঞান লাভে সমর্থ হয়। তিনি দ্বার্থহীন কন্ঠে ঘোষণা করেন যে, একমাত্র স্বজ্ঞার মাধ্যমেই পরম সত্ত্বার জ্ঞান লাভ সম্ভব। কাজেই স্বজ্ঞাই হলো জ্ঞান লাভের প্রকৃত উৎস ও পথ।

আত্মা সম্পর্কে আল গাজ্জালীর আলোচনাও লক্ষণীয়। আত্মা সম্পর্কে অনেক দার্শনিক আত্মাকেই কেবল অমর বলেছেন। কিন্তু গাজ্জালী আত্মা ও দেহ-উভয়কে অমর বলেছেন। জন্মের সময় খোদা আদি আত্মার সাথে দেহের পূনঃ মিলন ঘটিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করতে পারেন। তার মতে আত্মা হলো আধ্যাতিক দ্রব্য। আল গাজ্জালীর প্রচেষ্টায় সুফীতত্ত্ব মজবুত ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব। তিনি শরীয়তের সাথে মারেফতের সংযোগ সাধন করেন এবং যথার্থ জীবন ধারার রূপায়ন করেছেন। গাজ্জালীর প্রভাবে সুফীবাদ ইসলামের জ্ঞানভান্ডারে মূল্যবান অবদান রাখতে সমর্থ হয় ।

তার বিখ্যাত কিছু উক্তি আপনার এই পেস্টে গ্রথিত করে আমাদের জানার ও অনুভবের জগতকে সমৃদ্ধ করার জন্য ধন্যবাদ । বিভিন্ন সুত্র হতে প্রাপ্ত এই জ্ঞানী মনিষীর আরো ১০টি মুল্যবান কথামালা এখানে যুক্ত করে গেলাম সকলের সাথে শেয়ার করার মানসে ।

১) তিনটি বস্তু মানুষকে ধ্বংস করে দেয়; লোভ, হিংসা ও অহংকার ।
২)তিনটি অভ্যাস মানুষের জন্য সর্বমুখী কল্যাণ ডেকে আনে; আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, বিপদের সময় দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং যে কোন সংকটে ধৈর্য ধারণ করা।
৩) মানব জীবনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে তার মন এবং জবানকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সমর্থ হওয়া।
৪) দুই ধরনের লোক কখনও তৃপ্ত হতে পারে না- জ্ঞান অম্বেষী এবং সম্পদ লোভী।
৫) আয়নায় নিজের চেহারা দেখ, যদি সুদর্শন হও তবে পাপের কালিমা লেপন করে ওকে কুৎসিত করো না, আর যদি কালো-কুশ্রী হয়ে থাক, তবে ওকে পাপ-পঙ্কিলতা মেখে আরও বীভৎস করে তুলো না।
৬) আল্লাহর প্রত্যেকটি ফয়সালাই ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তিশীল। সুতরাং কোন অবস্থাতেই অভিযোগের ভাষা যেন তোমার মুখে উচ্চারিত না হয়।
৭) ক্রোধ মনুষ্যত্বের আলোকশিখা নির্বাপিত করে দেয়।
৮) সাফল্যের অপর নামই অধ্যবসায়।
৯) কোন দেশের জনগণ তখনই দুর্নীতিপরায়ণ হয় যখন তার শাসক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়। শাসক তখনই দুর্নীতিপরায়ণ হয় যখন রাষ্ট্রের বুদ্ধিজীবিদের নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয় এবং বুদ্ধিজীবীদের নৈতিক অবক্ষয় তখনই হয় যখন তারা ধনসম্পদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে।
১০) যে বিশ্লেষণ করেনা সে বিচার করেনা, যে বিচার করেনা সে উপলব্ধি করেনা আর যে উপলব্ধি করেনা সে অন্ধকার ও ভুলের বেসাতিতেই পুড়ে মরে।

অনেক অনেক শভেচ্ছা রইল

০৭ ই জুলাই, ২০১৯ ভোর ৬:২৬

বলেছেন: স্যার,
আপনার মন্তব্যটি যদি একটু কষ্ট করে পোস্ট আকারে দিতেন তাহলে অনেকেই জানতে পারতো।।


প্লিজ।।।


অনেক কৃতজ্ঞতা আমার আনখোড়া লেখায় আপনার বিদগ্ধ মন্তব্য ও প্রিয়তে নেওয়ার জন্য।।।
টুপিখোলা অভিবাদন গ্রহন করুন।।।

১৫| ২০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:১৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, সারা বিশ্বে সম্মানিত এ দার্শনিক সম্বন্ধে কিছুটা আলোকপাত করার জন্য। আশাকরি, এ আলোচনার সূত্র ধরে তাঁর সম্বন্ধে আমরা আরো অনেক কিছু জানতে পারবো।
"আল্লাহর অস্তিত্ব যুক্তি তর্কের বিষয় নয় এগুলো অনূভূতির বিষয়। অনন্ত সত্তাকে যুক্তি দিয়ে বিচারের সুযোগ নেই" - এমজেডএফ এর ৬ নং মন্তব্যের এ অংশটুকু ভাল লেগেছে।
ডঃ এম এ আলী কে তাঁর সুচিন্তিত ও সুব্যাখ্যাত মন্তব্যটির জন্য (১৪ নং) অনেক ধন্যবাদ।
পোস্টে প্লাস +

২০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:০২

বলেছেন: স্যার,
সনয় করে পোস্টে এসে আপনার বিদগ্ধ মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা।।
ভালো থাকুন।।

১৬| ২০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:০৫

সেতুর বন্ধন বলেছেন: চমৎকার পোস্ট, উক্তিগুলো মানব জীবনের জন্য উন্নত চিন্তা যা কি না পথ প্রদর্শণ করে থাকে।

২০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:০৮

বলেছেন: পলা ভাই,

পুরাতন পোস্টে আপনার পাওয়ারফুল মন্তব্যে ভালো লাগলো।।
পোস্টটি ভালোলাগায় লেখার সার্থকতা পেলাম।।


ভালোবাসা অবিরাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.