| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল
বলার মত কিছুই নই আমি।একজন মহামূর্খ।

ছবিসূত্র: Freepik.com
পড়ন্ত বিকেলে যখন গাছের পাতা ভেদ করে নরম রোদ অনেক কষ্টে মাটির রাস্তার উপর পতিত হয় অথবা যখন আওলাদের মায়ের রূপা ও বাতাসী নামক ছাগল দুটো তার দলবল নিয়ে ঘাস খেয়ে বাড়ি ফেরে আওলাদের মায়ের ডাক শুনে কিংবা আমরা বলতে পারি যখন শিশুরা রাস্তায়, মাঠে খেলা করে এবং প্রৌঢ় ও বয়স্করা রাস্তায় ক্লান্ত ভঙ্গিতে হাঁটতে থাকে এবং যুবকের দল চায়ের দোকানে বসে দাঁড়িয়ে হেলান দিয়ে আড্ডা দেয় কিংবা নিন্দা করে ঠিক তখনই দূরের আবছা সীমারেখা হতে আমাদের চোখের সামনে আস্তে আস্তে তিনটি মূর্তি প্রকট হয়ে উঠতে থাকে।
আমরা একজন লোককে দেখতে পাই। তার দুপাশে দুটি ফুটফুটে কোমল ফুল তার হাত ধরে হাটছে। তাদের মুখে একটু পরপর বাবা ডাক শুনে আমরা বুঝতে পারি লোকটি তাদের পিতা। তারা দৃষ্টিসীমার মধ্যে আসতেই সকলে বুঝতে পারে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে তাদের পিতার হাত ধরে হেটে চলেছে। ছেলেটির বয়স হয়তো দুই, তিন, চার। এর বেশি হতেই পারে না। আর মেয়েটির বয়স হয়তো পাঁচ, ছয়, সাত। তাদের দুজনের দুই রকম স্বভাব সকলের চোখের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ছেলেটি একটু পরপর প্রবল উৎসাহে ডাকছে, ‘বাবা!’ এতে বাবা বিরক্ত না হলেও মেয়েটির বিরক্তি কারও চোখ এড়ায় না।
ছেলেটি ডানদিকের গাছের ডালে তাকিয়ে প্রবল বিস্ময়ে ডেকে উঠলো, ‘'বাবা! বাবা! ঐ পাখিটার নাম কী??’’ বাবা বললেন, ‘'বুলবুলি’। ছেলেটির চোখে মুখে একটা তৃপ্তির আভা ফুটে উঠতে দেখি আমরা।
আবার ঘাসের দিকে তাকিয়ে দ্বিগুণ উৎসাহে বলে বসলো, ‘বাবা দেখো!! একটা কতবড় বিড়াল।’ বাবা তার কথায় সায় দিয়ে বললেন, হ্যাঁ বাবা। এটা আসলেই অনেক বড় বিড়াল। বাবার সম্মতি পেয়ে নেচে ওঠে তার মন। তার বাবা সব জানে পৃথিবীর।
তখন ছেলেটি আবার বললো, বাবা!! বিড়ালটা এত বড় হলো কেন?’’ তখন বাবা বললেন, ‘'ও ঠিকঠাক খাওয়াদাওয়া করে। মায়ের কথা শোনে। তাই!!’’ একথা শুনে প্রবল চিন্তায় ডুবে যায় ছেলেটি। সে ঠিকঠাক খায় না এটা ঠিক। কিন্তু বাবা এটা জানলো কেমন করে? তিনি তো বাসায় থাকেন না।
মেয়েটি প্রচণ্ড বিরক্ত হচ্ছিলো তার ভাইয়ের উপর। তার ছোট ভাইটা অতিরিক্ত বাচাল। খালি তার বাবাকে এটা সেটা প্রশ্ন করে বিরক্ত করতেই থাকে, করতেই থাকে। বাবাকে একটুও বিশ্রাম দেয় না। হাটঁতে এসেছিস হাঁট না!! এটা কী ওটা কী করে বাবার মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। বদ একটা। এই বিরক্তির সাথে সাথে তার মুখে একটা বিস্ময়ের ভাবও ফুটে উঠতে দেখি আমরা। তার বদ ভাইটার প্রত্যেকটি প্রশ্নের জবাব দিয়েছে তার বাবা। বদটা বাবাকে কোনোভাবেই আটকাতে পারে নি। তার কাছে মনে হয় তার বাবা পৃথিবীর সকল জ্ঞান তার মস্তিষ্কে ধারণ করে আছে। তার বাবার মতো এত জ্ঞানী মানুষ সে জীবনেও দেখেনি। তার এই জ্ঞানী বাবাটিকেই তার ভাই একটু শান্তিতে হাঁটতে দিচ্ছে না। সে বাড়িতে ফিরেই তার মায়ের কাছে ভাইয়ের বিরূদ্ধে অবশ্যই নালিশ করবে।
চায়ের দোকানে বসে, দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে আড্ডারত জনতার সামনে দিয়ে চলে যায় তারা। আড্ডায় মশগুল জনতার মধ্যে থেকে একজন বহু আগে থেকেই তাদের লক্ষ করছিলো। তাদের মধ্যে একজন আওলাদ। এই দৃশ্যটিকে তার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য বলে মনে হয়। তারা চায়ের দোকানটি অতিক্রম করা মাত্র আওলাদ কাওকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে, “আচ্ছা কাকা! আমার বাপেরও কি এত জ্ঞান আছিলো??”
©somewhere in net ltd.