নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কংক্রিটের জঞ্জালে একজন সাধারণ মানুষ।

অগ্নিপাখি

প্রতিদিন হাজারো মানুষ হারিয়ে যায়, আমি সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষদেরই একজন। ভালবাসি বই পড়তে, বই সংগ্রহ করতে, স্ট্যাম্প জমাতে, ভাল চলচ্চিত্র দেখতে, মাঝে মাঝে লেখালেখি করতে, ভালবাসি কবিতা আর ভালবাসি একা একা পুরনো ঢাকায় ঘুরে বেড়াতে। হুমায়ুন আহমেদ আমার প্রিয় লেখক। এছাড়া অন্যান্য লেখকদের বইও ভালো লাগে। অন্যান্য লেখকদের মধ্যেঃ আহমদ ছফা, রশিদ করিম, মুনতাসির মামুন, মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, নিমাই ভট্টাচার্য, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, জাহানারা ইমাম, সৈয়দ মুজতবা আলী, শহীদ জহির রায়হান, সত্যজিৎ রায়, তারাশঙ্কর, বিভূতিভূষণ, সুনীল, সমরেশ , খূশবন্ত সিং, এলান পো, এরিখ মারিয়া রেমার্ক, মার্ক টোয়েন, ম্যাক্সিম গোর্কি, ভিক্টর হুগো, ফ্রাঞ্জ কাফকা, পাওলো কোয়েলহো, হারুকি মুরাকামির লেখাও অনেক বেশী ভালো লাগে। মন খারাপ থাকলে কবিতায় ডুবে যাই। আবুল হাসান, শহীদ কাদরি এবং জীবনানন্দ আমার খুব প্রিয় কবি। মুক্তিযুদ্ধ আমার অন্যতম পছন্দের একটা বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা যে কোন বই পেলে কিনে পড়ি। ঘৃণা করি যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের। এইতো এই আমি।

অগ্নিপাখি › বিস্তারিত পোস্টঃ

দি “এ” বোম্ব ঃ পরমাণু বোমার ইতিহাস

১৩ ই মে, ২০২০ রাত ১:৪১

“Now I become the death, the destroyer of the world.”
- Robert Oppenheimer

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল। হিরোশিমায় তখন স্নিগ্ধ ভোরের আলো। সমুদ্রের কোলঘেঁষা সকালটা সেইদিন ছিল অদ্ভুত সুন্দর।

আয়েশি ডাক্তার মাসাকাজু ফুজির সকালটা ছিল অন্যান্য দিনের মতই নিরুদ্বেগ। তাই সকালের নাস্তার পর পায়ের উপর পা তুলে রোয়াকে বসে পড়ছিলেন ওসাহি আসাকি নামের পত্রিকা। আলোর প্রচণ্ড তীব্র ঝলকটি তিনি তখনই দেখলেন। তার মনে হলো হলুদ আলোয় কাগজটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তিনি উঠে দাড়াতে চেষ্টা করলেন-কিন্তু ঠিক সেই সময়েই (হাইপো সেন্টার থেকে ১৫৫০ গজ দূরে) তার গড়ে তোলা প্রিয় হাসপাতালটি সশব্দে নদীতে ভেঙ্গে পড়লো। কিছু বুঝে উঠবার আগেই তিনি অনুভব করলেন পানির স্পর্শ।

১৯৪৫ এর ৬ আগস্ট, হিরোশিমা, সকাল ৮ টা। নীল আকাশে দৃষ্টিগোচর হলো ৩ টি বিমান। বিমান গুলোর মধ্য একটি ছিল মার্কিন বিমান বাহিনীর বি-২৯ যার কাব্যিক নাম ছিল এনোলা গে। রাত ২ টায় প্রশান্ত মহাসাগরের তিনিয়ান দ্বীপ থেকে যাত্রা শুরু করা এ বিমানের মধ্যই ছিল বিংশ শতাব্দীর ভয়াবহ আবিষ্কার পরমানু বোমা “লিটল বয়”।

এনোলা গে এর আরোহী ক্যাপ্টেন পারসন্স হিরোশিমা নগরী চোখে পড়তেই সবাইকে কালো চশমা পরে নিতে বললেন। সকাল তখন ৮ঃ১০ মিনিট। বৈমানিক বিমানটি শহরের ঠিক মাঝ বরাবর নামিয়ে আনলেন। সকাল ৮ঃ১৫ মিনিট- মেজর ফেরবি ৩১,৬০০ ফুট উঁচু থেকে পরমানু বোমা লিটল বয় নিক্ষেপ করলেন হিরোশিমার উপর। বৈমানিক কর্নেল টিবেটস দ্রুত নিক্ষেপস্থল ত্যাগ করলেন।

এরপর শুধু অপেক্ষার পালা। ৩০ সেকেন্ড... ৪০ সেকেন্দ...এবং হঠাৎ মনে হলো প্রচণ্ড তীব্র এক আলোর ঝলকানি বিমানের ভেতর ঢুকে আবার বের হয়ে গেল। পারমানবিক বোমার ভয়াবহতা দেখে আরোহীদের একজন অজান্তেই বলে ফেললেন- Oh, my God... what have we done.....what have we done....। আগুনের ভয়ঙ্কর কুণ্ডলীটি কিছুক্ষণ পর Mushroom Cloud এ রুপান্তরিত হয়ে ঢেকে ফেললো পুরো হিরোশিমা নগরীটি। বিশ্ব প্রথম অবলোকন করলো পরমানু বোমার ধ্বংসলীলা- যে বোমা নির্মিত হয়েছিল খ্যাতনামা পদার্থ বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন এর তত্ত্ব এর উপর ভিত্তি করে


আলবার্ট আইনস্টাইন


হামলার পরে হিরোশিমা


এনোলা গে এর আরোহীরা


বক্সকার এর আরোহীরা

অনেক বিজ্ঞানীর মতে পরমানুর ধারনা প্রথম জন্মলাভ করে এই ভারতীয় উপমহাদেশে যার উদ্ভাবক ছিলেন ঋষি কণাদ। তেজ এবং আলো যে একই মূল পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা তাও তিনিই প্রথম ব্যাখ্যা করেন। পরমানুর স্পষ্ট ধারনা প্রথম বিস্তারিত বলেন গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (৪৬০-৩৭৯ খ্রিঃ পূঃ)। তিনি বলেছিলেন সকল পদার্থই অতি ক্ষুদ্র কণা দিয়ে তৈরি- আর তা এতোটাই ছোট যে অবিভাজ্য। তাই গ্রীক শব্দ ATOMOS থেকে এর নামকরন হয় ATOM।

পরমানু যুগের আদি পর্ব বলা চলে উনবিংশ শতাব্দীর শেষ নাগাদ হতে। বিভিন্ন বিজ্ঞানীর গবেষণা ও আবিষ্কার এ ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিল ঃ উইলিয়াম কনারড রনজেন এর এক্স রে, জে জে থম্পসন এর ইলেকট্রন আবিষ্কার, হেনরি বেকারেল এর বেকারেল রশ্মি, কুরি দম্পতির রেদিয়াম,আরনেসট রাদারফোর্ড এর আলফা বিটা এবং গামা রশ্মি, ইউজিন গোল্ডস্টাইন এর চ্যানেল রশ্মি, জেমস চ্যাডউইক এর নিউট্রন আবিষ্কার, নিয়েল বোর এর পরমানুর নিউক্লিয়াস কে কেন্দ্র করে প্রোটন এবং নিউট্রন কে আটকে রাখার পেছনে কাজ করা বিরাট এর শক্তির ধারনা, এনরিকো ফার্মীর পরমানু দ্বিখণ্ডিত করবার পরীক্ষা, অটো হান ফ্রিৎস স্ত্রাসম্যান এবং লিজ মাইটনার এর পরমানু বিভাজন এর ধারনা ইত্যাদি পরমানু যুগের প্রাথমিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

পরমানুর গঠন আবিষ্কারেরও ৩০ বছর আগে আইনস্টাইন তার Special Theory of Relativity তে বলেছিলেন- বস্তু এবং শক্তি একই জিনিসের বিভিন্ন রূপ এবং তারা সমভাবে বিনিমেয় (Equivalent)।

বিজ্ঞানী জুলিও কুরী এর মস্তিষ্কেই সর্বপ্রথম পরমানু বোমার ধারনা উদয় হয়েছিলো। ১৯৩৫ এ নোবেল পুরষ্কার গ্রহনের সময় তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তাতে পরমাণুর রূপান্তর এবং বিস্ফোরণের সুস্পষ্ট আভাস ছিলো। তিনি সে বক্তব্য বলেছিলেনঃ

“Scientists who can construct and demolish elements at will may also be capable of causing nuclear transformation of an explosive character.”

ইউরোপের উগ্র জাতীয়তাবাদ তখন তুঙ্গে। জার্মানির রাজনৈতিক মঞ্চে তখন আবির্ভূত হলেন পপুলিস্ট নেতা এডলফ হিটলার। হিটলার এর ক্ষমতা গ্রহনের পর নাৎসিদের অত্যাচারে দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন ইহুদি বিজ্ঞানী লিজ মাইটনার, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন, এডওয়ার্ড টেলর, রুডলফ পিয়ারস, ক্লাউস ফুকস, লিও শিলার্ড সহ অনেক প্রথিতযশা বৈজ্ঞানিক। মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে যে সকল বিজ্ঞানী আমেরিকায় আশ্রয় নিয়েছিলো তাদের মধ্যে লিও শিলার্ড, এনরিকো ফার্মী, ইউজিন ভিগনার, এডওয়ার্ড টেলর, ভিক্টর ভাইসকাফ কে তাদের বন্ধুত্ব এর জন্য ডাকা হতো ফার্মী ফাইভ।

১৯৩৯ এর ১৬ ই মার্চ, হিটলারের চেকোস্লোভাকিয়া আক্রমন দারুন রেখাপাত করে লিও শিলার্ড এর মনে। ঐ দিনই কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর গ্র্যাজুয়েট ফ্যাকাল্টির ডীন জর্জ পেগরাম শিলার্ড এর অনুরোধে একটি চিঠি লিখেন নেভাল অপারেশন এর টেকনিক্যাল ডিভিশনের পরিচালক এম সি হুপারকে। চিঠিটি সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন এনরিকো ফার্মী। চিঠির মূল বক্তব্য ছিল ঃ

“Experiments in the physics laboratory at Columbia University mean the possibilities that Uranium might be used as an explosive that would liberate a million times as much energy per pound as any known explosive.”

এম সি হুপার এর সাথে সেদিন দেখা হয়নি এনরিকো ফার্মীর বরং চিঠির বিষয়বস্তু জানবার পর উপস্থিত একজন নেভাল অফিসার ফার্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলঃ

“That guy is crazy!”

উপায় না দেখে ফার্মী ফাইভ দ্বারস্থ হলেন আইনস্টাইনের। প্রথমে অমত হলেও পরবর্তীতে সব বুঝিয়ে বলবার পর তিনি সহায়তার আশ্বাস দিলেন। ১৯৩৯ এর ২ আগস্ট আইনস্টাইনের স্বাক্ষরিত সে চিঠিটি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এর কাছে পৌছিয়ে দেবার দায়িত্ব অর্পিত হয় শিলার্ড এর পরিচিত মার্কিন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অ্যালেকজান্ডার স্যাশ এর উপরে। পরমানু বোমার ইতিহাসে এই চিঠিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।









১৯৩৯ এর ১১ ই অক্টোবর স্যাশ এর হাত থেকে অনেকটা অনিচ্ছুক হয়ে চিঠিটা নিয়ে তিনি বলেছিলেন ঃ

“Alex, what you are after is to see that Nazis don’t blow us up”

জবাবে স্যাশ বলেছিলেনঃ

“Precisely.”

রুজভেল্ট তার সামরিক অ্যাটাশে জেনারেল “পা” উইলসন কে তখনি ডেকে আইনস্টাইনের চিঠিটি দেন এবং বলেনঃ

“Pa, this requires action.”


ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট

অ্যালেকজান্ডার স্যাশ- রুজভেল্ট এর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা


জেনারেল "পা" উইলসন

১৯৩৯ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে যা পারমানবিক বোমা সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিলোঃ

o ইউরেনিয়াম কমিটি গঠন করা হয় ১৯৩৯ সালে। কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন লি ম্যান ব্রিগস এবং কো অরডিনেটর ছিলেন গ্রেগরি ব্রেইট।
o মার্কিন সরকারের এক সময়কার বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ভ্যানেভার বুশ এর নেতৃত্বতে The National Defense Research Committee গঠিত হয় যার অনুমোদন দেয়া হয় ১৯৪০ এর জুন এ।
o ইউরেনিয়াম কমিটিকে The National Defense Research Committee এর একটি সাব কমিটিতে রুপান্তরিত করা হয়।
o The National Defense Research Committee এর এই সাব কমিটির অধীনে ১৬ টি ইউরেনিয়াম প্রকল্প চালু হয়।
o ইউরেনিয়াম কমিটিকে The National Defense Research Committee থেকে সরিয়ে Office of Scientific Research and Development এর অধীনে নিয়ে আসা হয় ১৯৪১ সালে।

Office of Scientific Research and Development এর অধীনে ভ্যানেভার বুশ এর নেতৃত্বতে S-1 নামে নতুন একটি কমিটি গঠন করা হয় যার পরিচালক নিযুক্ত হলেন আর্থার কম্পটন।

সেনেকটাডিতে অবস্থিত জেনারেল ইলেকট্রিক এর গবেষণাগারে অনুষ্ঠিত সভায় রবার্ট ওপেনহাইমার একটি কার্যকরী বোমা প্রস্তুতে কতটুকু ইউরেনিয়াম ২৩৫ প্রয়োজন তা গানিতিক ভাবে বুঝিয়ে বলেন। ১৯৪১ এর ১৬ ডিসেম্বর পরমানু বোমা নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় সামরিক প্রকৌশল বিভাগকে। প্রেসিডেন্টের নীতি নির্ধারনী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১৯৪২ এর জুন মাসে ভ্যানেভার বুশ এর একটি প্রতিবেদন যেটি প্রেসিডেন্ট কতৃক অনুমোদিত হয়- সেখানে বলা হয় পারমানবিক বোমার যুদ্ধ জয় এবং সুদূরপ্রসারী ভূমিকার কথা।

বিশাল এ প্রকল্পটির নামকরনের জন্য সামরিক কর্মকর্তাগণ একটি বৈঠক এ মিলিত হন। প্রথমে এই পারমানবিক বোমা বানানোর এ প্রকল্পটির নাম দেয়া হয় Laboratory for the development of Substitute Materials। কিন্তু এই নাম সাধারণ জনগণের মাঝে কৌতূহল সৃষ্টি করতে পারে এ বিবেচনায় ১৯৪২ এর ১১ আগস্ট আরেকটি সভায় প্রকল্পটির নামকরন করা হয়- ম্যানহাটন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসট্রিক্ট বা সংক্ষেপে ম্যানহাটন প্রজেক্ট।

১৯৪২ এর ২৩ শে সেপ্টেম্বর লেসলি গ্রোভস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদোন্নতি নিয়ে যোগ দেন ম্যানহাটন প্রকল্পে মূলত প্রসাশনিক প্রধান হিসেবে। আর তিনি এ প্রকল্পের সুপার ল্যাবরেটরির প্রধান হিসেবে বেছে নিলেন ডঃ রবার্ট ওপেনহাইমারকে। বয়সে তখনও তরুন অসাধারণ মেধাবী এ পদার্থবিজ্ঞানীকে প্রখ্যাত নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী এবং তার শিক্ষক নাম দিয়েছিলেন- Wunder Kind বা Wonder Child।


ব্রিগেডিয়ার জেনারেল লেসলি গ্রোভস


ডঃ রবার্ট ওপেনহাইমার

নিউ মেক্সিকোর লস আলামস অধিত্যকা কে বেছে নেয়া হল সুপার ল্যাবরেটরির আদর্শ স্থান হিসেবে। পরবর্তীতে সামরিক তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার প্রকৌশলী ও হাজার কর্মীর নিরলস প্রচেষ্টায় এখানে ল্যাবরেটরি, যন্ত্র কারখানা, বসবাসের উপযোগী দালান কোঠা নির্মিত হয়।

এডগার সেনগিয়ের এর আগমন পরমানু বোমার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার । তিনি ছিলেন তৎকালীন বেলজিয়ামের উপনিবেশ কঙ্গো এর Union Miniere Du Haut Katang যা সংক্ষেপে Union Miner নামে পরিচিত ছিল- তিনি এ প্রতিষ্ঠানের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

১৯৪০ এ প্রতাপশালী নাৎসি বাহিনী যখন কঙ্গো আক্রমনের পরিকল্পনা করে তখন এডগার সেনগিয়ের কঙ্গোর সিনকোবেই খনি থেকে উত্তোলিত সমস্ত অত্যন্ত উচ্চমানের ইউরেনিয়াম আকরিক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১২৫০ টন ইউরেনিয়াম আকরিক লোহার ড্রামে ভরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যাটেন দ্বীপ এ নিয়ে যাওয়া হয়।

পরবর্তীতে বিভিন্ন নাটকীয়তার পর সেনগিয়েরের কাছ থেকে পুরো ১২৫০ টন ইউরেনিয়াম ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। মূল্য নির্ধারণ হলো প্রতি পাউণ্ড ১ ডলার ৬০ সেন্ট। আগেই বলা হয়েছে এই ইউরেনিয়াম এর মান ছিল অসাধারণ যাতে ইউরেনিয়াম অক্সাইড এর পরিমাণ ছিল ৬৫% যা অন্যান্য আফ্রিকান দেশের ইউরেনিয়াম এ ছিল ১% এরও কম।

পরমানু বোমার ইতিহাসে আরও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল রোজেনবার্গ দম্পতির মৃত্যুদণ্ড। ইথেল রোজেনবার্গ এর ভাই ডেভিড গ্রিনগ্লাস ছিলেন ম্যানহাটন প্রকল্পের একজন ড্রাফ্টসম্যান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডেভিড গ্রিনগ্লাস কমিউনিস্ট পার্টির নিবেদিতপ্রান কর্মী রোজেনবার্গ দম্পতিকে বোমার নকশা ও বিভিন্ন তথ্য গোপনে দেন সোভিয়েত ইউনিয়ন এ পাচার করবার জন্য। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে যায় বিশ্বযুদ্ধের পর এবং ডেভিড গ্রিনগ্লাস, ক্লাউস ফুকস সহ অনেকে গ্রেফতার হন। ১৯৫৩ সালে এ দম্পতিকে ইলেকট্রিক চেয়ার এ বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।


রোজেনবার্গ দম্পতি


১৯৪৪ সালে রবার্ট ওপেনহাইমার নিউ মেক্সিকোর আলমাগোরডোর বিমান ক্ষেত্রের নিকটবর্তী ২০ মাইল লম্বা ও ১৮ মাইল চওড়া মরু অঞ্চল পরমানু বোমার পরীক্ষাস্থল হিসেবে বেছে নেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই সেখানে পরীক্ষার উপযোগী নির্মাণ কাজ আরম্ভ হয়। এই পরীক্ষাস্থলের কোড নাম ছিল T R I N I T Y এবং ইউরেনিয়াম আর প্লুটোনিয়াম নির্মিত বোমা দুটোর নাম ছিল লিটল বয় এবং ফ্যাট ম্যান।


লিটল বয় ইউরেনিয়াম ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা

১৯৪৫ এর ১৬ জুলাই, ট্রিনিটির বিস্তীর্ণ মরু প্রান্তর। তখন ভোর ৫ টা ১০ মিনিট। সকলে যে যার যার ট্রেঞ্চে আশ্রয় নিলেন। ওপেনহাইমার প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় নীরব হয়ে বসে ছিলেন। তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রকল্প যাতে জড়িত রয়েছে শত শত বিজ্ঞানীর অক্লান্ত পরিশ্রম আর কোটি কোটি ডলারের অর্থায়ন। আজ সেই পরীক্ষার ফলাফল দেখার পালা। বিস্তীর্ণ মরু প্রান্তরে কিছুক্ষণ পরেই পরীক্ষামুলক বিস্ফোরণ ঘটানো হবে পৃথিবীর প্রথম পরমানু বোমার। সব নীরবতা ভেঙ্গে শুরু হলো কাউণ্টডাউন। দশ……নয়……আট…সাত…তিন…দুই…এবং……

মরুভূমির আবছা অন্ধকারের মধ্যে যেন হাজারো সূর্য নেমে আসলো এবং চতুর্দিক প্রকম্পিত করে ভয়ঙ্কর এক আওয়াজ শুনতে পেলেন সবাই। নিজের আবিষ্কারের ভয়াবহতা দেখে ওপেনহাইমারের স্বগতোক্তি লেখার একদম শুরুতেই বলা হয়েছে ঃ

“Now I become the death, the destroyer of the world.”
যাত্রা শুরু হলো পরমাণু যুগের।


ফ্যাট ম্যান- প্লুটোনিয়াম ভিত্তিক পারমাণবিক বোমা









পরবর্তী ঘটনাগুলো খুব দ্রুত ঘটে যায়। হিরোশিমা ও নাগাসাকির পরমাণু বোমা হামলার জন্য মার্কিন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে দক্ষ বৈমানিকদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় 509 Composite Group। হিরশিমায় পরমাণু বোমা লিটল বয় পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট বিমানটির নাম ছিল “এনোলা গে” এবং নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফ্যাটম্যান পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট বিমানটির নাম ছিল “বক্সকার”।

লক্ষ লক্ষ মানুষ নিমেষেই করুণ মৃত্যুবরণ করেছিলো এই ভয়াবহ হামলায়। হিরোশিমায় বোমা বিস্ফোরণের দশ হাজার ভাগ এর একভাগ সময়ে অগ্নিকুণ্ডলীর তাপমাত্রা ছিলো ৫০০,০০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। দুটো শহরেরই প্রায় ৯১% মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলো ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তায়। অবর্ণনীয় শারীরিক কষ্ট নিয়ে এদের অনেকে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকেন জাপানী ভাষায় এদেরকে বলা হয় “হিবাকুশা”।



তথ্যসূত্রঃ
১। হিরোশিমা- জন হারসে
২। এটম বোমার গোপন কথা- মিয়া মুঃ সিরাজুল হক

ইমেজ কার্টেসিঃ
১। এটম বোমার গোপন কথা- মিয়া মুঃ সিরাজুল হক
২। Click This Link
৩।ইন্টারনেট

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০২০ রাত ৩:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো পোষ্ট।

১৩ ই মে, ২০২০ সকাল ১০:৫৮

অগ্নিপাখি বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

২| ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ৯:৫১

শের শায়রী বলেছেন: দারুন এক পোষ্ট লিখছেন। অভিনন্দন।

১৪ ই মে, ২০২০ রাত ১০:৩৮

অগ্নিপাখি বলেছেন: ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
এই বিষয়টা নিয়ে আরও আগে লিখবার ইচ্ছা ছিল।
কর্মজীবনের ব্যাস্ততায় হয়ে উঠে নি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.