| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমরাই প্রজন্ম । এই প্রজন্মের জননী জাহানারা ইমাম। তাই প্রজন্ম চত্ত্বর নয় , অসুন আমরা মায়ের নামে এই চত্ত্বরের নাম রাখি 'জাহানারা ইমাম চত্ত্বর'। জাহানারা ইমাম নামটা উচ্চারণ করলেই বুকের ভেতর কেমন যেন একটা অনুরণন হয় । বুকের ভেতর তীব্র এক হাহাকার উঠে মা ডাকার জন্য । মা, মা গো আমরা তরুণ প্রজন্ম তোমার শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে ঘর ছেড়েছি । রাজপথ আমাদের দখলে । তোমার অসম্মান আমরা কখনোই হতে দেবো না :
''আম্মা , দেশের এই রকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও,আমি হয়তো যাব শেষপর্যন্ত। কিন্তু তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে।
আমেরিকা থেকে হয়ত বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো; কিন্তু বিবেকের ভ্রুকুটির সামনে কোনদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও আম্মা ?'
কলেজে,বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার উজ্জ্বল তারকা রুমী কোনদিনই বিতর্কে হারে নি প্রতিপক্ষের কাছে, আজই বা সে হারবে কেন?
আমি জোরে দুই চোখ বন্ধ করে বললাম । 'না, তা চাই নে । ঠিক আছে, তোর কথাই মেনে নিলাম। দিলাম তোকে দেশের জন্য কোরবানি করে । যা, তুই যুদ্ধে যা ।''
এই হচ্ছে জাহানারা ইমাম । ইনি আমার মা । আপনার মা । শাহবাগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিটি মানুষের মা । নব্বই দশকে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে এই মা-ই প্রতিবাদ তোলেছিলেন । মার নেতৃত্বেই গড়ে উঠে ১৯৯২ এর ১৯ জানুয়ারি 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি'। আজকের দেশব্যাপী জনতার স্রোত সে তো মায়ের আত্মার হাহাকার থেকে উঠে আসা সন্তানের ক্ষোভ । আমরা তরূণরা কি আমাদের নামে চাইব এই চত্ত্বরের নাম নাকি আমাদের চাওয়া হওয়া উচিৎ আমাদের মায়ের নামে ? আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি রাজাকাদেরর ফাসি দিয়েই আমরা জাহানারা ইমাম চত্ত্বর থেকে ঘরে ফিরবো । তার আগে পায়ে পিষ্ট করবো সাম্প্রদায়িকতার সব চিহ্ন । মহল্লা-গলি-গ্রাম আর জনপদ পুরো বাংলাদেশটাকে অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়েই ঘরে ফিরবো ।
©somewhere in net ltd.