নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বলবো না

মাইনষের খোয়াব দেহি

মোয়াজ্জেম আজিম

মোয়াজ্জেম আজিম › বিস্তারিত পোস্টঃ

চাঁদের গন্তব্যে হাঁটি

১৯ শে জুন, ২০১৩ বিকাল ৩:৫১

আকাশ অন্ধকার হয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। পাখি ও চাষীরা বৃষ্টি পতনের অপেক্ষায়। ওরা বরাবরই প্রকৃতিজীবি পতঙ্গ। নদীর মুখও আকাশের দিকে। বালুদের হাহাকার কেবল পাখিরাই শুনতে পায়। অনেকদিন হলো পাখিদের স্বর নামতে নামতে ফিসফিসানিতে রূপ নিয়েছে। হঠাৎ কয়েক ফোটা বৃষ্টি সমস্ত চরাচরে স্বপ্রের কোলাহল তৈরী করে। আমরা সবাই ঘরের বাইরে আসি হাজার বছর পর। আকাশ নাই কেবল এক নক্ষত্রহীন অন্থকারে কয়েকটি সোনালী ডানার চিল মেঘের প্রত্যাশায় একটু এগিয়ে গেলে কী এক অজানা অচমবিতে তাদের চোখ ফেটে রক্ত ঝরে পড়ে। আমরা খুশিতে চনমনে মন নিয়ে দৌড়ে গিয়ে রক্ত বৃষ্টির ফ্যাসাদে পড়ে হাবুডুবু খাই। আমাদের মাঝে অনেকেই কেউ কিছু বলে না, যারা বলে তাদের কথা কিছুই বুঝি না। কেবল হাবুডুবু খায়। এবং একটি অজানা আশঙ্কায় চুপচাপ বসে থাকি। কারো চোখে চোখ রাখার দায়মুক্তির বাসনায় চোখ রাখি নিজের চোখে। তবুও চোখ যায়, আকাশের নীল খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়। চিলের রক্ত চক্ষু আমাদের অন্তরে গেঁথে থাকে কয়েশ বছর। আমরা ভুলে যেতে চাই, ভুলেও যাই, যাওয়ার প্রক্ষালে আরেক বার হানা দেয়; আরো একটি রক্ত বৃষ্টি। আমাদের জমিনে বুনন করে প্রিয় শোকগাঁথা।

আমরা শোকগাঁথার প্রেমে পড়ি। গোল হয়ে বসে নন্দিনীর বাসায় আমরা শোকগাঁথা শুনি। আমরা বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যার কথা শুনি। রূপালী রোদের কথা শুনি, সোনালী ধানের কথা শুনি। লজ্জাবতী বউটির কথা শুনি। দুধেল গাই গরুটার কথা শুনি। নানীবাড়ির বিড়ালটা যে দুধেরসরে ঘুমাতো তার কথা শুনি। আমরা কৃষ্ণের বাঁশীর কথা শুনি, রাধার আকুলতার কথা শুনি। ঘুঘুর কান্নায় ঘুম থেকে জেগে উঠার কথা শুনি। শালুকের পাতায় চাঁদ মুড়িয়ে রাখার কথা শুনি। জোনাকীর আলোয় শিয়ালের বিয়ের কথা শুনি। হুতুম পেঁচার কন্ঠে সরষে ফুলের গন্ধ ঝরে পড়ার কথা শুনি। বোয়াল মাছের পেট থেকে নোলক ছিনিয়ে আনার কথা শুনি। তেলের শিশি ভেঙ্গে ভাগ করার কথা শুনি। রাখাল কর্তৃক রাজ্য উদ্ধারের কথা শুনি। কেবল শুনি। তার কিছুই আর দেখি না। দেখার বাসনায় আমাদের মধ্যে শোকাবিভূতির জন্ম হয়। আমরা শোকগাঁথা রচনায় মনোনিবেশ করি। আমরা আমাদের শোকগাঁথাকে চমত্কার রুমালে পুটলা করে সোনার সিন্দুকে তুলে রাখি।

অতপর আমরা তা খুলে খুলে দেখি ও দেখাই। আমাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনে একটা বাড়তি জাগৃতি হিসাবে তা চেতনে অবচেতনে ক্রিয়াশীল থাকে। আমাদের যা কিছু অর্জন তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলে যেমন চলি আমরা জ্যোত্স্না রাতের চাঁদের সাথে। নদীর পাড় ধরে হাঁটি, হাঁটতে হাঁটতে বুড়া হয়ে যায়। তাও চাঁদ যে পেছন ছাড়ে না। আমরা চাঁদকে পেছনে রেখে চাঁদের গন্তব্যে হাঁটি।

দিন য়ায়, মাস যায় বছর পেড়িয়ে রাত্রি নামে। আমরা রাত্রির সাথে কথা বলার অপেক্ষায় থাকি। নিজের ব্যাপারে ও নিশ্চয় ভাল বলতে পারবে। চাদেঁর আলো কবে সূর্যের চাইতে জ্যোর্তিময় হবে তা আর ওর চাইতে বেশী জানে কে? আমাদের মাঝে যারা কৈ মাছের প্রাণ নিয়ে জন্মেছে তারা রাত্রির মুখ খুঁজে ফেরে। আমরা তাদের সাথে চলি অথবা চলি না। আমরা দূরে দূরে থাকি কিন্তু বিযুক্ত হইনা। রাত্রির অচমবিত ঢেউয়ে ভেসে আসে সোনালী মাছ। তারা ডাঙ্গায় এসে বসবাস শুরু করে। আমরা তাদের সাথে কিছুতেই পেরে উঠি না। অতপর আমরা চুনোপুটির দলে ভীড়ে যাই। এখন আর আমাদের সাথে তাদের কোন যুদ্ধ হয়না। শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান। সোনালী মাছরা আমাদের দেখভাল করে। মাছে মধ্যে ভুল করে দু'একটা খেয়েও ফেলে। তাতে আমরা আনন্দিত হই। নিজের সৌভাগ্যের শুকরিয়া আদায় করতে উঠে পড়ে লাগি। আমরা সারাদিন কী কী দূর্ভাগ্য কার জুটলো তার তথ্য তালাশ করি। আমরা আমাদের খাবার টেবিলে দৈনিক দুঃসংবাদ পরিবেশন করি। খাবারের বদলে খবরের পাহাড় বানাই। আমরা দেখি বিশাল একটা ডুবো জাহাজ পানির নিচে ডুবে গিয়ে ১১৮ জনকে মেরে ফেলে। বিয়ের মুরগীর সাথে রোস্ট হয়ে যায় ১৫০ জন। যুদ্ধের প্রথম রাতেই বাগদাদের বুকে বোমা পড়ে ১৫০০, গনতন্ত্র প্রতিষ্টায় বোমার কোন বিকল্প নাই বলেই বিশ্বনেতাদের ধারণা। আকাশে উড়তে গিয়ে পানিতে ডুবে মরার সংখ্যা ও কম না। আমরা সমুদয় খবরে বড়ই তৃপ্তি নিয়ে যারতার উপর উপগত হই। প্রেয়সীর যুগল চাঁদের অলিতে গলিতে হাঁটাহাঁটি করি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.