নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখক

মাহদী হাসান শিহাব

কৌতুহলী পাঠক ও লেখক

মাহদী হাসান শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

আপনি সত্য না, নিজের ইগোকেই শুনছেন

৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩

পাবলিক ইগো ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মনস্তত্ত্ব, সত্যের চেয়ে মজাদার গল্প কেন বেশি বিক্রি হয়!



ইউটিউব ভিডিও বা বিভিন্ন কনটেন্টের মাধ্যমে সরকারের প্রয়োজনীয় সমালোচনা বা কোন কিছুর ন্যয়সঙ্গত প্রতিবাদ করার প্রাক্কালে যদি ঐ ভিডিও বা কনটেন্ট থেকে কোন গেইন আসে, বা ডলার আসে, তাহলে ঐ ভিডিও বা কনটেন্টের উদ্দেশ্য আর প্রায়ই সমালোচনা বা প্রতিবাদ থাকে না।

তখন উদ্দেশ্য হয় ডলার।

যখন ডলার উদ্দেশ্য হয় তখন আবার খেয়াল রাখতে হয় কোন এঙ্গেলে বললে, কার বিরুদ্ধে বললে বা কাকে খোঁচা দিলে ভিউয়ার্সরা বেশি ইন্টারেস্টেড হয় বা বেশি মজা পায়। তার ভিত্তিতেই আস্তে আস্তে ভিডিও বা কনটেন্টের ধরণ পরিবর্তন হতে থাকে।

একটা পর্যায়ে কনটেন্ট যে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছিলো, সে উদ্দেশ্য থেকে পুরাপুরি বিচ্যুত হয়।

তখন ঐ কনটেন্টের একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে পড়ে পিপলের ইগোকে সার্ভ করা। যা বললে পাবলিক খুশি হয় তা বলতে থাকা। এমনভাবে ফ্রেমিং করে বলা যে, যা বলা হচ্ছে তা একেবারে মিথ্যা নয়, সত্য ও নয়, কিন্তু পাবলিক খুশি করার মত মশলা থাকবে প্রচুর।

সিঙ্গেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর থেকে মিডিয়া হাউজ সবাই এই ঘেরাটোপে আটকে থাকে।

এ অবস্থা অতীতকাল থেকেই বিরাজমান।

বলা হয়ে থাকে, ছক্কা গুটির মতো একটা ঘটনার ছয়টা পাশ থাকে। এইটা বোঝানোর জন্য বলা। কম বেশি অগণিত দিক থাকতে পারে কোন ঘটনার।

ঘটনার যে পাশটা আপনার পছন্দ বা যে পাশটা আপনার পারপাস সার্ভ করে, আপনি সবসময় সে পাশটাই বর্ণনা করেন। এই পাশটা এত বেশি চর্চা করেন যে ঘটনার অন্য যে আরো অনেক দিক আছে তা আপনি ভুলে যান। আপনাকে দেখায় দিলেও তা আপনি অস্বীকার করেন।

এটা একটা কগনিটিভ বায়াস। একটা রোগ।

.

পপুলার কনটেন্টের এক ভালো উদাহরণ হলো সরকার ও তার কর্মচারীরা। হালকা সরকারবিরোধী কনটেন্ট বা সরকারকে চাপে ফেলবে এমন কনটেন্টের চাহিদা সব সময় বেশি। সেই কনটেন্ট ভ্যালিড কিনা সেটা ধর্তব্য হবে না।

এটা শুধু সরকারের ক্ষেত্রে না। যে কোন শক্তিশালী এনটিটির বিরুদ্ধে বললে সেই কনটেন্ট মার্কেট পায়। সরকার যেহেতু শক্তিশালী এন্টিটি তাই এই সূত্র খাটে।

সাধারণ ফেসবুকার যেহেতু দূর্বল, সেহেতু যে কোন শক্তিশালী এনটিটিকে তারা ফেসবুকে ধুয়ে দিতে পারলে তাদের ইগো সেটিসফাই হয়। তাদের ইগোকে সেটিসফাই করার দায়িত্ব নেয় ইউটিউবার আর কনটেন্ট ক্রিয়েটররা।

আরেক উদাহরণ বলা যায়, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ। আপনি যদি বলেন, ইরান আমেরিকার সব বেজ আর সৈন্য নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে বা আমেরিকা চাপে পড়েছে, তাহলে পাবলিক খুশি। কারণ আমেরিকা শক্তিশালী।

আবার যদি বলেন আমেরিকার আক্রমণে ইরানের অবস্থা ভয়াবহ, তাহলে তা পাবলিক পছন্দ করবে না। সত্য হলেও না। সুতরাং মিডিয়া হাউজ সবসময় চেষ্টা করবে ইরানের পারফরমেন্সকে বড় করে দেখাতে।

সাধারণ জনগণ ফ্যব্রিকেটেড ও স্পাইসি সমালোচনা ও আক্রমণ পছন্দ করে। তারা ইগো সেটিসফ্যাক্টরি নিউজ পছন্দ করে।

সত্যের চেয়ে তাদের কাছে ইগোরে সেটিসফাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

তারা ফ্যাক্ট পছন্দ করে না। তারা সত্যকে ভয় পায়।

যেমন এই পোস্টের লেখা।



লেখা: নিউজলেটার থেকে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.