নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লেখক

মাহদী হাসান শিহাব

কৌতুহলী পাঠক ও লেখক

মাহদী হাসান শিহাব › বিস্তারিত পোস্টঃ

রিজেকশন থেরাপি: ‘না’ শোনার মাধ্যমে টাফনেস বাড়ানো

০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


১.
কোন কিছু পাওয়ার প্রথম ও সহজ স্টেপ হচ্ছে "চাওয়া"।

কিন্তু আমরা যখন কোন কিছু পেতে চাই, তখন সেটা চাইতেই ভয় পাই। ভয়টা হচ্ছে, "যদি না পাই!"

চাওয়া বলতে, মনে মনে চাওয়া ও সেটা পাওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করা।

আরেকটা চাওয়া হলো, সরাসরি কারো কাছে কিছু চাওয়া।

আমরা মনে মনে অনেক কিছু চাইলেও বিশ্বাস করি না যে পাবো। সুতরাং চাওয়াটা উইশফুল থিংকিং হিসাবে থাকে। সেটা পাওয়ার জন্য সাধারণত প্রস্তুতি বা চেষ্টা করা হয় না।

সরাসরি চাওয়ার ক্ষেত্রে অবস্থা আরো খারাপ।

আমরা সাধারণত কারো কাছে কিছু চাইতেই পারি না। এটা মূলত ইগোর কারণে। চাইলে যদি না দেয় তাহলে ইগো আহত হবে।

কিছু ক্ষেত্রে চাওয়াচায়ি হয়, যেমন রিকশাওয়ালার সাথে ভাড়া কমানোর জন্য, বাসওয়ালার সাথে ভাড়া কমানোর জন্য, কাপড়ের দোকানের সেলসম্যানের সাথে লুঙ্গির দাম বিশ টাকা কম রাখার জন্য।

অর্থাৎ কেনাকাটা করার বেলায় দরকষাকষির ক্ষেত্রে চাওয়াচায়ি হয়। সেখানে চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হলে ইগো আহত হয় না। এজন্য আমরা চাইতে পারি।

২.
কারো কাছে কোন কিছু চেয়ে না পাওয়াটা হলো প্রত্যাখ্যাত হওয়া বা রিজেক্টেড হওয়া। চেয়ে না পাওয়া, এবং এই না পাওয়ার ব্যাপারটাকে হজম করার আইডিয়া থেকেই "রিজেকশান থেরাপি" আইডিয়াটা এসেছে।

এক লোক তার ছোটবেলার এক স্মৃতি বর্ণনা করছেন। তার স্কুল টিচার তাদের ক্লাসের সবার জন্য গিফট কিনে ক্লাস রুমের একপাশে রেখেছে। এই গিফট ক্লাসের সব বাচ্চারা পাবে।

নিয়ম হলো ক্লাসের চল্লিশ জনের সবাই মিলে তাদের নিজেদের মধ্যে একজনের নাম উল্লেখ করে কোন একটা প্রশংসা করবে, যার প্রশংসা করা হবে সে যেয়ে সামনে থেকে গিফট নিয়ে আসবে।

এ প্রক্রিয়ায় নিজেরা পরষ্পর প্রশাংসা করে গিফট পেল। কিন্তু শেষ যখন তিনজন বাকি, তাদের প্রশংসা কেউ করতে চাইলো না। এই তিনজনের একজনের নাম ছিলো জি জিয়াং।

জি জিয়াং একজন চায়নিজ আমেরিকান। সেই দিন তার ছয় বছর বয়সে সে কোন প্রশংসা না পেয়ে তার মাথার ভিতরে ঢুকেছিলো যে, মানুষ তাকে পছন্দ করে না। এ থেকে তার ভিতর রিজেক্টেড হওয়ার ভয় দানা বাধে। "মানুষ তাকে পছন্দ করে না, সুতরাং সবাই তাকে রিজেক্ট করবে।"

এই ভয় তাকে দীর্ঘদিন তাড়া করেছে।

এই ভয়ের চিকিৎসা হিসেবে একসময় তিনি রিজেকশ থেরাপি সম্পর্কে জানতে পারেন। রিজেকশন থেরাপি মূলত জ্যাসন কামলি নামে একজনের আবিষ্কার। আইডিয়াটা হচ্ছে কোন কিছু চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মাধ্যমে প্রত্যাখ্যানকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়া শেখা ও নিজের টাফনেস বাড়ানো।

এই থেরাপিতে, কোন কিছু চাওয়ার পর "না" শোনা বা প্রত্যাখ্যাত হওয়াটাই জেতা।

মানে আপনি ইচ্ছা করে মানুষের কাছে এমন কিছু চাবেন, যেটা তিনি দিবেন না বা দেওয়া স্বাভাবিক না।

এই যে কারো কাছে কোন কিছু চাওয়া, এবং সেটা না পাওয়া, এটার মাধ্যমে বারবার ইগোকে আহত করা, এবং একটা সময় এটাকে জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে ধরে নেওয়া, এটাই রিজেকশন থেরাপির উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে টাফনেস বাড়বে, সহ্যক্ষমতা বাড়বে। জীবনের যে কোন পর্যায়ে রিজেক্টেড হলে মন খারাপ হবে না।


৩.
জি জিয়াং তার এই কাহিনী বর্ণনা করেছেন টেড টকের এক বক্তৃতায়

তিনি তার এই রিজেক্ট হওয়ার ভয়কে জয় করার জন্য রিজেকশন থেরাপি ট্রাই করার সিদ্ধান্ত নেন।

জ্যাসন কামলির রিজেকশন থেরাপিতে ৩০ দিন রিজেক্টেড হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, জি জিয়াং সিদ্ধান্ত নেন, তিনি এটা ১০০ দিন ট্রাই করবেন, এবং ১০০ দিনই ভিডিও করবেন, যাতে তিনি নিজের এটিচিউট, বডি ল্যাংগুয়েজ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পরবর্তীতে বিশ্লেষণ করতে পারেন।

সে মোতাবেক তিনি শুরু করেন।

এই থেরাপি তার জীবন পাল্টে দেয়। ইউটিউবে তার ১০০ দিনের সেই ভিডিও পাওয়া যায়। তিনি এই ব্যাপারে পরবর্তীতে বই লিখেছেন ও এই ব্যাপারে বিভিন্ন লেকচার দিয়ে বেড়ান।


৪.
মানুষের কাছে চাইলে সেটা সাধারণ কোন জিনিস হোক বা অদ্ভূত কোন জিনিস হোক, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অপ্রত্যাশিত রেসপন্স করে। আমরা সাধারণত ধরেই নিই, এটা চাইলে পাবো না বা দিবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ও তাই।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সেটা পাওয়া যায়, অনেক ক্ষেত্রে বেশি পাওয়া যায়, অনেক ক্ষেত্রে এই চাওয়ার কারণে, অনেক বড় বড় অপরচুনিটি আনফোল্ড হয়।

জি জিয়াং এর ভিডিওগুলো দেখলে ও তার লেকচার শুনলে এ ব্যাপারে ধারণা পাবেন।


৫.
আমাদের বাংলাদেশে রিজেকশন থেরাপির ক্ষেত্রে একটু হিসাব করতে হবে মনে হয়। সবার কাছে সবকিছু চাওয়া যাবে না। কারণ আমাদের একটা এটিচিউড আছে, "এই জিনিস ও আমার কাছে চাইলো কীভাবে?" পরিচিতের ক্ষেত্রে এটা পরবর্তীতে জীবনে জটিলতা তৈরী করতে পারে।

রিজেকশন থেরাপি অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিত লোকের কাছে চাইলে ভালো হয়। এতে থেরাপি ভালো কাজ করবে।

জি জিয়াং অপরিচিত বা স্বল্পপরিচিত লোকদের কাছে বেশি চেয়েছেন।

মূলকথা হলো, চাইতে দোষ নেই। চান। রিজেক্টেড হলে টাফনেস বাড়বে। আবার অপ্রত্যাশিত সুযোগ ও তৈরী হবে।

.

ক্রেডিট: রিজেকশন থেরাপি সম্পর্কে আমি প্রথম জানতে পারি মুরাদুল ইসলামের লেখা থেকে।

মুল লেখা: আমার নিউজলেটারে

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.