নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\'এম এল গনি\' cut & paste করে Google-এ search করলে আমার সম্পর্কে জানা যাবে। https://www.facebook.com/moh.l.gani

এমএলজি

এমএলজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

\'Take it easy দোস্ত\'

১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

শেখ হাসিনা আমলের কথা। এক পুরোনো বন্ধু হঠাৎই আমাকে ফোন দিলো। বন্ধুর নাম খোকন। বুয়েটের সহপাঠী।

আমার লেখালেখির প্রশংসা করে বললো, 'দোস্ত, তোর লেখা চোখে পড়লেই পড়ি, ভালো লাগে, তবে রিয়েক্ট খুব একটা করিনা। চমৎকার লিখিস তুই।'

নিজের প্রশংসা শুনতে কার না ভালো লাগে? আমি মনে মনে বেশ খুশি হলেও বলি, 'কি যে বলিস দোস্ত, কি এমন লিখি?'

তারপর বিভিন্ন বিষয়ে আলাপচারিতা।

এক সময় সে বললো, 'দোস্ত, কবিসাহিত্যিকরা নিজেদের ভিনগ্রহের মানুষ মনে করে কেন?'

আমি বলি, 'যা বলার খুলে বল, হঠাৎ এ প্রশ্ন কেন?'

সে বলে, 'একবার সরকারি এক অনুষ্ঠানে বুয়েটের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দাওয়াত পেয়েছিলাম। সেখানে দেখা আমাদের সহপাঠী কুদ্দুসের (ছদ্মনাম) সাথে। একবার নয়, দুবার সে আমার সামনে দিয়ে হেটে গেছে, চোখাচোখিও হয়েছে, কিন্তু, অপরিচিতের ভাব করেছে।'

- তাই নাকি? তো, তুই তাকে কিছু বললি না?

- বলেছি; তাকে এক সুযোগে কাছে গিয়ে বলেছি, 'তুমি কি আমাকে মনে করতে পারছো, আমি খোকন?'

- তারপর?

- সে তখন হেসে বললো, চিনেছি দোস্ত, কেমন আছ?

খোকনকে আমি বলি, 'না চেনার তো কথা নয়, এরশাদ ভ্যাকেশনসহ প্রায় অর্ধযুগের বুয়েট লাইফ এতো সহজে কি ভোলা যায়?'

সে বলে, 'আমি কিন্তু খুব বিব্রতবোধ করেছিলাম সে আমাকে দুবার এড়িয়ে গেছে দেখে। ঘটনাটা একদমই ভুলতে পারিনা।'

আমি তখন বলি, 'দোস্ত, বুয়েটে তুই কয়েকদশক ধরে পড়াচ্ছিস, তোকে তো লাখো ছাত্র এমনিতেই চেনে। তাছাড়া, বুয়েট শিক্ষক হিসেবে আলাদা একটা সম্মান তো আছেই। তোকে কুদ্দুসদের মতো দুচারজন না চেনার ভান করলে তাতে তোর কি কিছু আসে যায়? Take it easy দোস্ত।'

বন্ধু আমাকে তখন বলে, 'কুদ্দুস কিন্তু প্রাইম মিনিস্টারকে 'বড়ো আপা', আর, তাঁর বোনকে 'ছোট আপা' ডাকে; জানিস তো?'

- জানবো না কেন, সে তো ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েই সম্পর্কটা প্রচার করে? তাই, কেবল আমি কেন, দেশের কোটি মানুষ বিষয়টা জানে।

তারপর আরো অনেক কথা, সেসব এখানে লেখা নিষ্প্রয়োজন।

বর্তমান সময়টা আমার সেই পুরোনো বন্ধু, অতি সজ্জন, সরলমনা খোকনদের। সেই খোকন আর কেউ নন, তিনি বুয়েটের নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর স্বনামধন্য অধ্যাপক ডঃ একরামুল হক। ছবিটি তাঁর।

বন্ধু খোকন, তোমাকে সুদূর কানাডা হতে অভিনন্দন, প্রানঢালা অভিনন্দন, হৃদয় নিংড়ানো অভিনন্দন!

আর, আমাদের সেই কমন ফ্রেন্ড কুদ্দুসকে বলবো, সুযোগমতো একবার খোকনের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিও। আমি বিশ্বাস করি, ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চাইতে যে বিশাল মনের দরকার, সে মাপের মন তোমার আছে।

আজকের এ আনন্দঘন মুহূর্তে তোমাদের দুজনের জন্যই শুভকামনা।

আমরা যে যেখানেই থাকি বন্ধুতা যেন অটুট থাকে।

- এম এল গনি, এডমন্টন, আলবার্টা, কানাডা - https://www.facebook.com/moh.l.gani/

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৫১

ঢাকার লোক বলেছেন: অভিনন্দন আপনার বন্ধু ডক্টর একরামুল হক কে ! আশা করবো দল মতের উর্ধে উঠে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসাবে এ বিশ্ববিদ্যালরের সর্বাঙ্গিন উন্নয়নই হবে তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২| ১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:১৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: কবিসাহিত্যিকরা নিজেদের ভিনগ্রহের মানুষ মনে করে কেন?'
..........................................................................................
ক্ষমতা আর অর্থ সকল মানুষকে অন্ধ করে তুলে ,
সময় এসছে আমাদের এইসব থেকে বেড়িয়ে
এসে , সহজ জীবন যাপন করা ।

৩| ১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২৩

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অভিনন্দন আপনার বন্ধু ডক্টর একরামুল হক কে !

৪| ১৪ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

করুণাধারা বলেছেন:
কতজনকে সুপারসিড করে ইনাকে ভিসি করা হলো সেটা বললেন না?

সদ‍্য সাবেক উপাচার্য বুয়েটের উন্নয়নের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার মধ্যে শুধু দুটি বলি।সরকার থেকে গবেষণার জন্য অর্থ পাওয়া যায় না তাই বুয়েট গবেষণায় পিছিয়ে ছিল, ভিসি এলামনাইদের আহ্বান জানিয়েছিলেন ফান্ড দিতে। অল্প সময়ে ফান্ড সংগ্রহ হয় তার আহ্বানে এবং অন্তত তিনটি ল‍্যাব চালু হয় গবেষণার জন্য। ডঃ বোরহানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েকদিন আগে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ল‍্যাব তৈরির জন্য এক কোটি টাকা দান করেন।

বুয়েটে একটি কেরিয়ার সেন্টার তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি, যেখানে সারা বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন যেসব বুয়েট এলামনাইরা, তারা তাদের শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন বর্তমান বুয়েট শিক্ষার্থীদের সাথে। নিচে ছবি দিলাম ।

এমন একজন ভিসি, যিনি বুয়েটের উন্নয়ন করছিলেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো!

ডঃ বোরহান পাস করেছেন ১৯৮৪ তে। তারপর ১৯৮৫, ১৯৮৭,(১৯৮৬ এরশাদ ভেকেশন ছিল) এবং ১৯৮৮ তে পাস অসংখ্য যোগ্য শিক্ষক আছেন বুয়েটে, তাদের সুপার সিড করে ১৯৮৯ তে পাস করা একজনকে যখন ভিসি করা হয়, তখন বোঝা যায় দলীয় আনুগত্য তার প্রধান যোগ্যতা। এরপর বুয়েটে আসবে ছাত্রদল, ফিরিয়ে আনবে ছাত্র রাজনীতি ।

ভবিষ্যত বাণী করে রাখলাম, মিলিয়ে নেবেন ।

৫| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:০২

গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: আপনার বন্ধু ঠিকই বলেছেন, আসলেই আপনি চমৎকার লেখেন। খুব পাকা হাত। আঙ্কেল কি আগে 'হাসান কালবৈশাখী' আইডি থেকে লিখতেন নাকি? সেই রকম প্রখর যুক্তি আর ক্ষুরধার স্টাইল।

১৭ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:২৪

এমএলজি বলেছেন: জি না; ধন্যবাদ আংকেল।

৬| ১৫ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৭

নিমো বলেছেন: আপনার মত রত্ন থাকতে খোকম ফোকন কেমনে উপাচার্য হয়।?দেশে দেড় যুগ লীগীয় ডিআইজি, উপাচার্য দেখেছে, ১৮ মাস জা-শি জারজীয় ছ্যাঁচড়া ডিআইজি, উপাচার্য দেখলো, এখন জাতীয়তাবাদী ডিআইজি, উপাচার্য দেখার সময়।

৭| ১৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৮:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: ছবিটা কি আপনার? না আপনার বন্ধুর?

১৭ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:২২

এমএলজি বলেছেন: ওই আর্টিকেলেই উত্তর আছে। আরেকবার পড়ে দেখুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.