নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\'এম এল গনি\' cut & paste করে Google-এ search করলে আমার সম্পর্কে জানা যাবে। https://www.facebook.com/moh.l.gani

এমএলজি

এমএলজি › বিস্তারিত পোস্টঃ

হার্ডওয়ার্ক বা কঠিন পরিশ্রমই কি শেষ কথা?

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৫

নিজে ছাত্র হিসেবে কতটা ভালো বা মন্দ জানিনা, তবে, জীবনে অনেক ভালোছাত্র দেখার সুযোগ আমার হয়েছে। যেমন, আমাদের সময়ের চার শিক্ষাবোর্ডে প্রথম স্থান দখল করা সবাই ছিল বুয়েটে আমার ক্লাসমেট। তাছাড়া, আমার সহধর্মিনীও শিক্ষাবোর্ডে দুই-দুইবার প্রথম হওয়া ছাত্রী (কুমিল্লা বোর্ড, মানবিক বিভাগ)।



যাক, এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।



বুয়েটে পড়ার সময় কিছু ছাত্র দেখেছি যাঁরা রাতে-দিনে ১৪-১৫ ঘন্টা পড়াশোনা করেও ঠিকমতো পরীক্ষা পাশ করতে পারছিলেন না। বিশ্বাস হবে না হয়তো, আমার ৮-৯ বছর আগে বুয়েটে ভর্তি হয়েছিলেন, তেমন ভাইদেরকেও আমরা ক্লাসমেট হিসেবে পেয়েছিলাম। তাঁদের কয়েকজনের নাম এখনো মনে আছে যদিও বোধগম্যকারনেই তা এখানে উল্লেখ করছিনা। আবার এমন ছাত্রও দেখেছি, যারা দৈনিক মাত্র ৪-৫ ঘন্টা পড়াশোনা করে ক্লাসে টপ পাঁচ পার্সেন্টে স্থান করে নিয়েছেন।



এদিকে, আমাদের ছোট ছেলে আয়মান পড়াশোনা বলতে খুব কিছু করেনা। তার বেশি সময় ব্যয় হয় পড়ালেখার বাইরের বিষয়, যেমন, প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট বা এজাতীয় কাজে। কয়েকমাস আগে একদিন স্কুলের অংকের বই খুলে দেখি সে প্রতি দশটা অংকেও একটা করেনি। আমার কথায় সে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছিলো না দেখে বিষয়টা আমাদের কন্যা অয়ন বেড়াতে এলে তাকে বললাম। সে তার ভাইয়ের সাথে কথা বলে আমাকে বললো, 'আয়মানের পড়াশোনা নিয়ে টেনশন করোনা আব্বু, লেটেস্ট রিপোর্ট কার্ডে তার এভারেজ দেখলাম নিরানব্বই শতাংশ।'



কন্যাকে আমি তখন বলি, 'সে কিন্তু বইয়ের টেন পার্সেন্ট অঙ্কও করেনি; তুমি দেখেছো?'



অয়ন উত্তর দিলো, 'যা করেছে তাতেই সে অংকে ৯৯ শতাংশ পেয়েছে, তাকে তার মতো করে লেখাপড়া করতে দাও - দরকার না হলে সে অযথা হার্ডওয়ার্ক করবে কেন?'



[প্রসঙ্গত বলে রাখি, আয়মান সেপ্টেম্বরে কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ আন্ডারগ্রেড প্রোগ্রাম শুরু করছে, যেখানে গ্রেড টুয়েলভে ৯৮ শতাংশের নিচে পাওয়া কেউ ভর্তি হতে পারেনি। আর, অয়ন একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।]



কি বুঝা গেল বন্ধুরা উপরের তথ্য হতে?



আমি যা বুঝেছি তা হলো, আপনি দৈনিক কত ঘন্টা কাজ করলেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজটি কতটা মনোযোগ দিয়ে বা ইফিশিয়্যান্টলি (efficiently) করলেন।

তাই বলবো, আপনি দিনে ১৮ ঘন্টা কি ২০ ঘন্টা অফিস করছেন কি না তার চেয়েও বড়ো কথা আপনার কাজের কোয়ালিটি, আউটপুট বা ফলাফলটা আসলে কি? প্রয়োজনীয় জ্ঞান বা দক্ষতা থাকলে আপনি এই একই কাজ হয়তো যা সময় নিয়েছেন তার অর্ধেক বা তারও কম সময়ে করতে পারতেন।



শেষকথা হলো, আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মী হয়ে থাকেন, তাহলে দিনশেষে আপনি কতটা হার্ডওয়ার্ক বা কঠিন পরিশ্রম করেছেন তা আপনার নিয়োগকর্তার তেমন কাজে লাগবে না, কাজে লাগবে আপনি আসলে আপনার নিয়োগকর্তার জন্য কতটা কাজের কাজ করতে পেরেছেন তা।

https://www.facebook.com/moh.l.gani/


মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.