| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মায়ারাজ
আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। মানবতাই আমার বড় ধর্ম। মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।
অনেক দিন হলো তুমি বিদায় হয়েছো। তোমার বিদায়ের কারন, বিরহ- বেদনা, মান- অভিমান সব’ই প্রায় ভুলতে বসেছি। আর যা মনে আছে তার সব’ই এখন ঝাপসা। তোমার আমার অধ্যায় অনেক আগে’ই ক্লোজড হয়ে গেছে। চাকরি আমার কখন’ই ভাল লাগে না। পেটের দায়ে চাকরি করি, সকাল সন্ধ্যা অফিস, তারপর এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াই, ভবঘুরে জীবন বেশ কেটে যাচ্ছিলো।
সেদিন ছিল শনিবার।
অর্ধ বেলা অফিস শেষ করে উড়ু মন ভার্সিটির দিকে হাটতে শুরু করলো। রাস্তায় নেমে’ই টের পেলাম আকাশ বেশ মেঘলা। আর যাই হোক মেঘের আনাগোনা দেখলে আমি আমার সকল ক্লান্তি ও হতাশা সব ভুলে যাই মুহূর্তে। আমার শরীরের সবগুলু স্নায়ু এক সাথে সক্রিয় হয়ে উঠল। ভার্সিটিতে পৌঁছে গেছি অনেক্ষন। ডিপার্টমেন্টের কয়েকজন বন্ধু, কয়েকজন ইয়ারমেটের সাথে দেখা ও কয়েক কাপ চা শেষ ইতোমধ্যে। আকাশে মেঘরাজার তর্জন গর্জন চলছে সমানে। বিদ্যুৎ হাঁসি হেঁসে এই আসছি এই আসছি ভাব। রোদ পরে গেছে, বাতাস থমকে গেছে, আকাশ ভরা কালো মেঘ। টের পাচ্ছিলাম মেঘ রাজা যখন নামবে জোরে সোরে‘ই নামবে। কেম্পাসে আমার অবস্থান দির্ঘায়ীত না করে আমার প্রিয় প্রাক্তন আবাসিক হলের দিকে হাটা শুরু করলাম। আমার কেম্পাসে যাওয়া মানে একটু বেশী’ই Nostalgic হয়ে যাওয়া। এদিক ওদিক তাকাই- কলা ভবন, কেম্পাস সেডো, হাকিম চত্বর, মিলন চত্বর, আর আমৃত্যু প্রিয় লাইব্রেরী প্রাঙ্গন। সব’ই ঠিক আছে জানি......তবু’ও মনে হয় কি যেন নেই, আগের মতো নেই। কি এক শূন্যতা আর হাহাকার আমাকে ঘিরে ধরে। আমি জানি আমার সব শূন্যতা আমি আর এই কেম্পাসের কেউ নই। যাই হোক, কলা ভবন পেরিয়ে মল চত্বরে পা দেবো আর অমনি ঝুমঝুম করে নামল বৃষ্টি। মুহুরতে’ই মনস্থির করে নিলাম কেম্পাসের দিকে যাবো না ভিজে হলে’ও হলের দিকে’ই দৌড়াবো। দৌড়ের গতি বারিয়ে মল চত্বরে পা দেওয়ার গেটে পা রাখতে’ই উল্টো পাশ থেকে আসা একজনের গায়ে সজোরে ধাক্কা খেয়ে ছিটকে পরলাম। কোনরকমে নিজেকে সামলে খেয়াল করলাম আমার প্রতিপক্ষ বেচারা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। দুজনে’ই মোটামোটি কাঁদায় যতোটুকু সম্ভব মাখামাখি হয়ে গেছি। আর এদিকে বৃষ্টি মুষলধারে ঝরছে। দুঃখ প্রকাশ করতে একটু এগিয়ে গেলাম......থমকে দাঁড়ালাম। শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসলো, মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না। দুজনে তাকিয়ে থাকলাম ধীর্ঘক্ষন একে অপরের দিকে। হাঁটতে শুরু করলাম মল চত্বরের মাঝ বরাবর। বৃষ্টি অবিশ্রাম ঝরে’ই চলেছে। আমরা দুজন কাকভেজা হেঁটে চলেছি পাশাপাশি। নির্বাক যেন অনন্তকাল শুধু পাশাপাশি হেঁটে বেড়াবো বলে প্রতিজ্ঞা করেছি। আঙ্গুলে আঙ্গুল ছুঁয়ে হাত ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। সেই প্রিয় হাত, হাতের আঙ্গুল, হাতের তালু, এমনকি হাতের পরিচিত প্রতিটা ভাঁজ। সেই পরিচিত শিউলি ফুলের ঘ্রান টের পেলাম,বুঝতে পারলাম তার ভেজা চুল থেকে আসছে। আমরা দুজন তন্ময় হয়ে ভিজতে থাকলাম পাশাপাশি। আশেপাশে কেউ নেই, সুনসান নিরবতা আর কেবল বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দ। মল চত্বরের বড় বড় গাছগুলি বিস্ময় নিয়ে আমাদের দেখলো। আমি তাকিয়ে দেখছি তাকে। আমার ভেতরটা মোচর দিয়ে উঠলো। কতকাল পর তোমায় দেখলাম। কতো দিন শুনতে পাইনি তোমার কণ্ঠস্বর। আমি চিৎকার করে জানতে চাইলাম তার কাছে, “তুমি কোথায় ছিলে, কেন চলে গেলে” কোন উত্তর পেলাম না। চোখ ফেটে আমার কান্না আসলো। কান্না আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে ঝরতে লাগলো।
বৃষ্টি থামতে’ই আমার ঘোর কেটে গেলো। আমি অনুভব করলাম আমার আসে পাসে কেও নেই। আমি একা দারিয়ে আছি। মাথায় একটু বেথা অনুভব করছি। পাশ থেকে কেউ একজন বলল “ভাই দেখে শূনে রাস্তা পার হবেন, অল্পের জন্য গাড়ির নিচে পরতেন।” আমার ভাবনায় কে যেন নাড়া দিলো- সমস্ত বর্ষণের সময়টা আমি একা’ই ছিলাম নাকি আমার পাশে কেউ ছিল।।
©somewhere in net ltd.