| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মায়ারাজ
আমি স্বাধীনচেতা মানুষ। নারী-পুরুষের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। মানবতাই আমার বড় ধর্ম। মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।
১০ মে,২০১৪
আমার খুব ছোটবেলার তেমন কোন স্মৃতি মনে নেই। এতো ছোটবেলার স্মৃতি কারো মনের থাকার’ও কথা না। আমার বয়স তখন কতো হবে, সাত কি আট। আমার আর কিছু’ই মনে পরে না কিন্তু একটা স্মৃতি কিভাবে যে আমার মাথায় রয়ে গেছে পাথরে খোঁদায়ের মতো আমি আমার নিজেকে’ই বিশ্বাস করতে পারিনা। এই স্মৃতি আমি আর আমার মায়ের মমতার বন্ধনকে বার বার কয়েকশো ধাপ এগিয়ে দেয়। আমি বার বার নতুন করে সমগ্র মা জাতিকে স্রদ্ধা করতে শিখি। ভাবতে শিখি মা কতোটা কষ্ট সয়েছেন আমাকে এই অনিন্দ সুন্দর পৃথিবী দেখাতে গিয়ে।
স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফিরে’ই তরিঘরি করে খেয়ে ফুটবল হাতে বেরুচ্ছি এমন সময় আম্মা কিছুটা আর্ত চিৎকার করে ডাকলেন মাহিন বাবা শুন......আমি একটু বিরক্তি নিয়ে তাকালাম (মনে মনে ভাবলাম, উফ বন্ধুরা সব অপেক্ষা করছে খেলার জন্য আর এই সময় আম্মা...) উত্তর দিলাম কি, বল।
আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা তোর দাদুকে একটু ডাকবি?
কি হয়েছে তোমার?
তুই বুঝবি না, তোর দাদুকে ডাক।
আমি এক দৌরে দাদুর কাছে গিয়ে, “দাদু আম্মা তোমাকে ডাকে” বলে’ই মাঠের দিকে ভোঁ দৌড়...।
মাঠে গিয়ে ঘণ্টা দেরেক খেলা হতে না হতে’ই ঝগড়াঝাঁটি করে বাড়ি ফিরে এলাম।
বাড়ির দেউরি (সদর দরজা অর্থাৎ গেট) দিয়ে ডুকতে’ই টের পেলাম কেমন একটা নীরবতা।
ঘরের বাইরে দাদা, বড়ভাই আপু, ছোটচাচা সবাই দাড়িয়ে- বসে কিসের জন্য যেন অপেক্ষা করছে। আমি সবার মুখের দিকে একবার করে তাকিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করার আর সাহস পেলাম না। আমি’ও সবার মতো দাড়িয়ে নিরবে অপেক্ষা করতে লাগলাম। অর্থাৎ শুনতে পেলাম নতুন কারো আগমনী চিৎকার। সবাই নরে চড়ে বসলো, আমি’ও উৎসুক জনতার সাথে তাল মিলালাম। একটু পরে’ই খেয়াল করলাম দাদুর কোলে আমার ছোট ভাই।
কিছুটা বিরতি নিয়ে আমি ঘরে ঢুকলাম। আম্মা উপুর হয়ে একপাশ ফিরে লেবার ব্যাডে শুয়ে আছে। আমি একটু ঘুরে আম্মুর বিছানায় দুইহাতে ভর করে মাটিতে হাতপা ছড়িয়ে দিয়ে আম্মার মুখু-মুখি বসলাম। আম্মার ক্লান্ত-স্রান্ত মুখখানি কষ্টে অনেক ছোট হয়ে গেছে। দু’চুখ গরিয়ে তখনো লোনা পানি ঝরছিলো। কিছুক্ষণ আম্মার পাশে থেকে ঘর ছেরে বেরিয়ে এলাম।
সেদিন হয়ত বুঝতে পারিনি মার চোখের পানির রঙ, স্বাদ, পঠভুমি।
আজ প্রাপ্ত বয়সে টের পাই মার অনুভুতি, কতটা কষ্ট মা সেদিন পেয়েছেন আমাকে আপনাকে পৃথিবীর রঙ-রুপ ভোগ করার সুযোগ দিতে গিয়ে।
আমায় ধন্য করো মা তোমার পদতলে.........
২|
১৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৪৫
মাটি আমার মা বলেছেন: আমরা বর্তমানকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে ভুলে যাই মূল সত্যটা। সবার উপর মা সত্য, তাহার উপরে নাই।
৩|
১৬ ই মে, ২০১৪ রাত ১২:০৭
শুঁটকি মাছ বলেছেন: সুন্দর লেখা!
৪|
১৬ ই মে, ২০১৪ রাত ২:৩৭
আরজু মুন জারিন বলেছেন: মাকে নিয়ে যে কোন লেখা চমৎকার হয়।আপনার লেখা মন স্পর্শ করে গিয়েছে।ধন্যবাদ এবং আপনাকে সালাম এই লেখার জন্য।
অনেক শুভেচ্ছা আপনার জন্য।ভাল থাকবেন কেমন।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই মে, ২০১৪ সকাল ১১:২৮
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: চমৎকার অনুভূতি ..... সুন্দর লিখেছেন