| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
#ক্ষনিকের_ডায়েরী ২৫তম পর্ব
ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগদানের পরের মাসেই অফিস থেকে তিনদিনের আরেকটা ছুটি পেয়ে গেলাম আলহামদুলিল্লাহ। জুম্মা'আর দিন অফিস শেষে তিনদিনের মোটামুটি লম্বা একটা ছুটি বলা চলে। বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে এটা বড় ছুটিই এক কথায়। জুম্মা'আর দিন এক কলিগের অনুপস্থিতির কারনে নিজের কাজসহ তার কাজ করতে যেয়ে বেশ ব্যাস্ততায় কাটল। নিজের সিটে বসার ফুরসতই পেলাম না সেভাবে। যাইহোক রুম থেকে আগেই ব্যাগ পত্র সব গুছিয়ে এনেছিলাম। অফিস শেষ হতেই ফিংগার পাঞ্চ করে বাস স্ট্যান্ডে দিকে ছুটলাম। এদিকে মাগরিবের আজানও প্রায় হয় হয়। গাড়িতে থাকার দরুন জামা'আতটা মিস করলাম। টিকিট কেটে কাউন্টারে অপেক্ষা করছি। যে সময়ে বাস আসবে বলল তার পাঁচ মিনিট পূর্বেই বাস এসে হাজির।
বাসে উঠে আগে মাগরিবের সলাত আদায় করলাম। রাস্তা ফাঁকা থাকায় মোটামুটি খুব অল্প সময়েই বাস পৌঁছে গেল। এখন বাসায় যাওয়ার জন্য অটো রিক্সা নিতে হবে। বাস থেকে নামার সাথে সাথে এক রিক্সাচালক এগিয়ে এসে জিজ্ঞাস করল, "কোথায় যাবেন?" আমি আমার বাসার এড্রেস দিতেই বলল চলেন। আমি ভাড়া জিজ্ঞাস করলে, যেটা ভাড়া সেটাই বলল। রাতের শুনশান নিরবতার ভিতর দিয়ে সোঁ সোঁ করে রিক্সা এগিয়ে চলছে। বাসার কাছে আসতেই ব্যাগ পত্র নামানোর আগে রিক্সাওয়ালার ভাড়া দিয়ে দিলাম। কারন রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করো তার ঘাম শুকানোর আগেই" (বায়হাকি, মিশকাত)।
ভাড়া পরিশোধ করার পর। ব্যাগ নামালাম সব। বেশ কয়েকটা ব্যাগ ছিল সাথে। এছাড়া মিষ্টির প্যাকেটও ছিল। সব নামানোর পরে মিষ্টির প্যাকেট থেকে রিক্সাওলাকে একটা মিষ্টি নেওয়ার অনুরোধ করলাম। লোকটা কিছুটা লজ্জা পেয়ে অনুরোধ ফিরিয়ে দিল। শেষে আমি প্যাকেট খুলে তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, " এখান থেকে আপনি একটা মিষ্টি তুলে নিন।" এবারও লজ্জায় না করলেন। শেষে বললেন, " আপনিই দেন।" আমি একটা মিষ্টি তুলে দিলাম এবং তার চোখে কৃতজ্ঞতার একটা ঝিলিক দেখতে পেলাম। আমি যতক্ষন গেটে না ঢুকেছি ততক্ষন তিনি রিক্সা না ঘুরিয়ে আমার পথের দিকে চেয়ে থাকলেন। হয়তো বিষ্ময়ে কিছুটা অবাকও হয়েছিলেন তিনি।
আমার মত বা এই রিক্সাচালকের মত প্রান্তিক মানুষগুলোর বেঁচে থাকতে খুব বেশী কিছুর প্রয়োজন হয়না। একটু সহানুভূতি, একটু মমতা। লক্ষ কোটি টাকা অর্থ পাচারকারী যখন মিতব্যয়ীতার সবক দেয় তখন তাদেরকে দেখাতে ইচ্ছে হয়। আমরা বাসায় থাকাকালীন কারেন্ট চলে গেলে মনে মনে খুশীই হই, যাক ফ্যান চলবেনা, কারেন্ট বিল কম আসবে। কারেন্ট থাকলেও ফ্যান অফ করে নিজেকে বুঝ দেই, আরে আজকে তেমন গরম পরেনি ফ্যান ছাড়াও চলবে। সেই রিক্সাচালককে দেখাতে ইচ্ছা করে। যিনি ভাবেন আধা কেজি চিড়া ৩৫ টাকা। আধা কেজি চিড়ায় মোটামুটি ৩-৪ দিন দুপুরের খাবার হয়ে যায়। যেখানে ভাত খেতে গেলে, শুধুমাত্র ডিম দিয়ে খেলেও একবেলা ৪৫ টাকা লেগে যায়। সেখানে তিনি চিড়া এবং সামান্য লবন বা চিনি দিয়ে ৩৫ টাকায় ৩-৪ দিন দুপুরটা পার করে দিতে পারে। আপনি জুলুম দেখে চুপ করে আছেন, জুলুমকারীর প্রতি মনে মনে প্রচন্ড ঘৃনা পুসে রেখেছেন এটা ঠিক আছে। কিন্তু কখনও ভুলেও যেন, জুলুমকারীর সাথে সহমত পোষন করবেন না। আল্লাহর পাঁকড়াও বড়ই ভয়ংকর।
#ক্ষনিকের_ডায়েরী_২৫
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪
মেঠোপথ২৩ বলেছেন: আসলেই আমাদের দেশের দরিদ্র মানুষেরা যে কি অল্পতে খুশি হয়ে যায়। এরা জানেই না যে এরা কি পরিমান জুলুমের শিকার। সভ্য দেশে আসলে বোঝা যায় যে , একটা দেশের নাগরিকের কত কি প্রাপ্য রাস্ট্রের কাছে।