নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মরহুম চিন্তিত মিতুল

টুকটাক লেখালেখি করি। তবে সমস্যা হচ্ছে, নিজের লেখা পড়ে নিজেই মুগ্ধ হই.. মুগ্ধ হওয়ার ক্ষমতাটা একটু বেশিই কিনা...!!

মরহুম চিন্তিত মিতুল › বিস্তারিত পোস্টঃ

আলু-ভা-জি বাংলা..

০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:১০

নায়ক বাজার করিয়া আনিয়াছে। হাসিমুখে ঘরে ঢুকিয়া নায়িকার খোঁজ করিতে গিয়া হঠাৎ নায়ক তাহার মাতার সামনে পড়িয়া গেল।

তাহার মাতা ইদানীং তাহাকে কোনও এক কারণে সহ্য করিতে পারেন না। তাহার ধারণা, পুত্র বিবাহ করিয়া স্ত্রী-বশীভূত হইয়া গিয়াছে.. মাতার প্রতি তাহার কোনই আগ্রহ নাই।

মাতা মুখ কালো করিয়া পুত্রকে পাশ কাটাইয়া চলিয়া গেলেন। এমন সময় নায়িকা ঐ ঘরে প্রবেশ করিল। নায়ক-নায়িকা পরস্পরের দিকে তাকাইলো.. তাহাদের চেহারা কয়েকবার এমনভাবে দেখানো হইল যেন তাহারা জীবনে প্রথম কোন গরিলা দেখিতেছে.. এভাবেই পাঁচ মিনিট পার হইয়া গেল..



নায়কের বাবা অতি ভদ্রলোক। শান্তশিষ্ট মন বিশিষ্ট। স্ত্রীর ভয়ে সবসময় চুপ থাকিলেও ইনি খুব আমুদে একজন মানুষ.. পুত্রের হাতে বাজারের থলি দেখিয়া তিনি হাসিমুখে জিজ্ঞেস করিলেন, "তা আজ কি বাজার করে আনলে?"

"বাবা, সস্তায় ঝিঙ্গে পেলাম, নিয়ে নিলাম। পটল, সীম, কাঁকরোল আর আলুও সাথে করে নিয়ে এসচি.."

"বাব্বাহ!! আজ তো তাহলে জম্পেশ খাওয়া হবে, অ্যাঁ?" :D

নায়িকা বলিল, "বাবা, আজ কি খাবেন? বলুন, আমি রান্না চড়িয়ে দিচ্ছি.."

"তোমার পছন্দই আমার পছন্দ বৌমা!"

"তাহলে বাবা আজ পটল ভাজি আর মাছের চচ্চড়ি করি.."

"বেশ তো! বানাও তাহলে!!"



এমন সময় নায়কের মাতা পুনরায় সেইখানে প্রবেশ করিলেন। মুখখানা হাঁড়ির মতো করিয়া বলিলেন, "বৌমার কি জানা নেই যে আমার পটলে অ্যালার্জি আছে? আর..আমার ছেলেই বা তা কিভাবে ভুলে গেল..??" :/

ব্যাকগ্রাউন্ডে মন কাঁদানো সঙ্গীত। সবার চেহারা দুই-তিনবার করিয়া দেখাইতেছে.. মনে হইতেছে, এ যেন ডারউইনের "বাঁদর হইতে মানুষে রূপান্তর"-এর নকল করিয়া নায়ক-নায়িকার হাসিমুখ থেকে কালো মুখে পরিবর্তিত হইবার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বর্ণনা দেখানো হইলো..!!



"না মা.. আসলে হয়েছে কি--"

"ব্যস্! আর কিচ্ছু বলতে হবে না.. আমি আজ এমনিতেই উপবাসে রয়েছি। আমার চিন্তা তোমাদের না করলেও চলবে.."

এই বলিয়া মাতা চলিয়া গেলেন। তাহার স্থানত্যাগের শোকে আরও দুই মিনিট নিরবতার সহিত শোক পালন চলিল। অতঃপর নায়কের পিতা বলিলেন, "আচ্ছা, আজ নাহয় আলু ভাজিই করো। কি বলো বৌমা?"



ইনি নায়িকা। নায়িকাগণ মূলত পুরোপুরি স্ত্রী প্রজাতির কোনও সদস্য নন। কারণ তাহাদের মধ্যে স্ত্রীজাতির খুব কম বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। তাহারা চোখ বুজিয়া শাশুড়ির অপমান সহ্য করিতে পারেন। আচ্ছা, সে অন্য কথা..

নায়িকা বলিল, "আচ্ছা বাবা। এই! বাজারের ব্যাগটা দাও। যাও স্নান করে এসো! আমি রান্না বসাই গিয়ে.."



অতঃপর নায়ক, নায়কের পিতা এবং নায়িকার প্রস্থান.. পরিশেষে কি দাঁড়াইলো?? আজ বাড়িতে আলু ভাজি রান্না হইবে। জ্বি, ইহাই গতকাল আধা ঘন্টা বসিয়া বসিয়া জি বাংলায় দেখিলাম.. আবেগে কাঁন্দিয়ালাইচিলাম!!



বিশেষ দ্রষ্টব্য: যাহারা এতো বড় বোরিং লেখা পুরোটা পড়িয়া আমাকে মনে মনে গালি দিতেছেন আর বলিতেছেন- "এইডা কিসু হইলো?? এইডা কোনও কাহীনি হইলো..??".. তাহাদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা.. "আররে ভাইজান.. আপনার পইড়া এই অবস্থা, আর আমি যে আধাঘণ্টা ধইরা এইগুলা দেইখা দেইখা সহ্য করসি.. ওইডার কি হইবো..??" >_<



জি বাংলা 'জি'-ন্দাবাদ... -_-

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.