নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন বই পাঠক।

মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম

বই পড়তে ভালোবাসি, পেশাগত ভাবে একজন উন্নয়ন কর্মী

মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম › বিস্তারিত পোস্টঃ

নোয়াম চমস্কির "মিডিয়া কন্ট্রোল: দ্য স্পেক্টাকুলার অ্যাচিভমেন্ট অব প্রোপাগান্ডা" - একটি পর্যালোচনা ।

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:২১

বইটির সারমর্ম
নোয়াম চমস্কি, একজন বিশ্বখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী, দার্শনিক, এবং রাজনৈতিক ভাষ্যকার, তার ছোট কিন্তু গভীর বই "মিডিয়া কন্ট্রোল: দ্য স্পেক্টাকুলার অ্যাচিভমেন্ট অব প্রোপাগান্ডা"-তে মিডিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রোপাগান্ডার বিস্তৃতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মূলত, এই বইয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে কীভাবে গণমাধ্যম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

চমস্কির মতে, গণমাধ্যম মূলত কর্পোরেট এবং সরকারি ক্ষমতার একটি হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, যেখানে সত্যিকারের তথ্যকে গোপন করে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। বইটি মূলত দুটি বক্তৃতার উপর ভিত্তি করে লেখা, যা তিনি ১৯৯১ সালে "গালফ ওয়ার" চলাকালে দিয়েছিলেন, এবং এতে প্রোপাগান্ডা মডেলের তাত্ত্বিক কাঠামো এবং গণমাধ্যমের কাজের গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে।

বইটি লেখার প্রসঙ্গ
এই বইটির রচনার মূল প্রেক্ষাপট হলো ১৯৯১ সালের প্রথম গালফ যুদ্ধ, যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরাকের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। সেই সময়, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে সংশয় ছিল, এবং মিডিয়া ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল জনগণের মন পরিবর্তনের জন্য। চমস্কি দেখান কীভাবে মার্কিন সরকার মিডিয়াকে যুদ্ধের প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং কীভাবে সংবাদমাধ্যম জনগণকে সামরিক অভিযানের পক্ষে সমর্থন জানাতে বাধ্য করেছে। এটি ছিল মার্কিন মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা কৌশলের একটি বিস্ময়কর উদাহরণ, যা চমস্কির মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম।

চমস্কির বইটি এই আলোচনার উপর ভিত্তি করে, যে কীভাবে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র এবং কর্পোরেট শক্তি মিডিয়ার মাধ্যমে তথ্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং জনমতকে তাদের পক্ষে সাজিয়ে তোলে। চমস্কি তার বইয়ে দেখিয়েছেন যে মিডিয়া শুধু তথ্য সরবরাহ করে না, এটি এমন একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা জনগণকে রাষ্ট্রের স্বার্থে পরিচালিত করে।

লেখকের পরিচিতি
নোয়াম চমস্কি একাধারে একজন বিখ্যাত ভাষাবিজ্ঞানী এবং রাজনৈতিক কর্মী। ১৯২৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা চমস্কি ভাষাবিজ্ঞানে বিপ্লবী পরিবর্তন নিয়ে আসেন এবং আধুনিক ভাষাবিজ্ঞানের অন্যতম স্রষ্টা হিসেবে পরিচিত হন। তবে, তার রাজনৈতিক ভাষ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা তাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করে তোলে। চমস্কি তার সমগ্র জীবনব্যাপী মার্কিন সরকারের যুদ্ধ নীতি, কর্পোরেট সংস্থার দাপট, এবং মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

তার লেখা "ম্যনুফ্যাকচারিং কনসেন্ট" (এডওয়ার্ড এস. হারম্যানের সাথে যৌথভাবে রচিত) তাকে প্রোপাগান্ডা মডেলের তাত্ত্বিক ভিত্তি প্রদান করে এবং "মিডিয়া কন্ট্রোল" সেই একই চিন্তাধারার আরও গভীর এবং সহজবোধ্য রূপ। চমস্কির রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা সবসময় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকারের পক্ষে কথা বলে।

বইটির সারসংক্ষেপ
"মিডিয়া কন্ট্রোল: দ্য স্পেক্টাকুলার অ্যাচিভমেন্ট অব প্রোপাগান্ডা"-এ চমস্কি প্রথমে দুটি ধরণের গণতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন। একটি হলো সত্যিকারের গণতন্ত্র, যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ এবং মতামতের গুরুত্ব রয়েছে। অন্যটি হলো তথাকথিত গণতন্ত্র, যেখানে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করা হয়। চমস্কি এই দ্বিতীয় ধরণের গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা শক্তির কথা তুলে ধরেন।

চমস্কি দেখান কীভাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম যুদ্ধের সময় জনগণকে তথ্য থেকে বিচ্ছিন্ন রাখে এবং প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে জনমত গঠন করে। তিনি ওয়াল্টার লিপম্যানের মতো বিশিষ্ট চিন্তাবিদদের ধারণা থেকে উদাহরণ দিয়ে দেখান যে কীভাবে "ম্যনুফ্যাকচারিং কনসেন্ট" অর্থাৎ, ‘সুবিধাজনক সমর্থন তৈরি করা’র মাধ্যমে মিডিয়া কাজ করে। চমস্কির মতে, সংবাদমাধ্যম জনগণকে শাসকের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যেখানে বাস্তবিক তথ্যকে আড়াল করা হয়।

বইয়ের একটি বড় অংশজুড়ে চমস্কি আলোচনা করেছেন "ডেমোক্রেসি" বা গণতন্ত্রের ভেতরে থাকা এই কৃত্রিমতা। এই ভুয়া গণতন্ত্রে জনগণকে নিয়ন্ত্রণের একটি সূক্ষ্ম কিন্তু জোরালো পদ্ধতি হিসেবে মিডিয়াকে ব্যবহার করা হয়, যেখানে জনগণকে সঠিক তথ্য প্রদান না করে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা হয়। গালফ যুদ্ধের সময়, মার্কিন সরকার এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সফলভাবে জনগণের সমর্থন আদায় করে। চমস্কির মতে, এটি আধুনিক সমাজে গণমাধ্যমের বৃহত্তম বিপর্যয় এবং প্রোপাগান্ডার স্পষ্ট উদাহরণ।

প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু
১. প্রোপাগান্ডার প্রকৃতি এবং কার্যপদ্ধতি: চমস্কির মতে, প্রোপাগান্ডা হল জনগণকে নির্দিষ্ট একটি মতাদর্শে পরিচালিত করার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া। তিনি দেখান, কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে জনগণের চিন্তাভাবনা এবং মনোভাবকে সরকার এবং কর্পোরেট স্বার্থে রূপান্তর করা যায়। এটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি, কারণ জনগণের কাছে সব সময় সত্যিকারের তথ্য পৌঁছায় না।

২. কর্পোরেট মিডিয়া এবং ক্ষমতার সম্পর্ক: চমস্কি আলোচনা করেন কীভাবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মিডিয়ার মালিক এবং নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। এই সম্পর্কের ফলে মিডিয়া জনগণের পক্ষে না থেকে বড় কর্পোরেট এবং সরকারের পক্ষাবলম্বন করে। চমস্কি দেখান, কীভাবে মিডিয়া কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষা করে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করে।

৩. জনমত এবং গণতন্ত্রের সঙ্কট: চমস্কি তর্ক করেন, সত্যিকারের গণতন্ত্রে জনমতের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বর্তমান গণমাধ্যমের প্রোপাগান্ডার প্রভাবে জনমত কৃত্রিমভাবে নির্মিত হয়। মিডিয়া মূলত জনমতকে পরিবর্তন করতে এবং সরকারের ইচ্ছা পূরণে ব্যবহৃত হয়, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনাকে ধ্বংস করে।

৪. যুদ্ধ এবং মিডিয়ার ভূমিকা: গালফ যুদ্ধের সময় চমস্কি দেখিয়েছেন, কীভাবে মিডিয়া যুদ্ধের প্রচারণা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। মিডিয়া শুধু তথ্য প্রদান করেনি, বরং প্রোপাগান্ডার একটি অংশে পরিণত হয়েছিল। মার্কিন সরকার এবং তার মিত্ররা যুদ্ধের জন্য সমর্থন অর্জন করতে মিডিয়াকে সফলভাবে ব্যবহার করেছে।

৫. রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব: চমস্কি দেখিয়েছেন, প্রোপাগান্ডা শুধু যুদ্ধের সময়ই ব্যবহৃত হয় না, এটি প্রতিদিনের সামাজিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক ইস্যুগুলির ওপর জনগণের চিন্তাভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে মিডিয়া একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

বর্তমান বিশ্বের প্রাসঙ্গিকতা
চমস্কির এই বইটি বর্তমান যুগের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সামাজিক মাধ্যমের উত্থান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির বিস্তৃত ব্যবহার প্রোপাগান্ডার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আজকের দিনে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল নিউজ পোর্টালগুলির মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য এবং প্রোপাগান্ডা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বব্যাপী COVID-19 মহামারির সময়, আমরা দেখেছি কীভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং মিথ্যা সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এবং ভুল তথ্যের কারণে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সঠিক পদক্ষেপ নিতে অনেকের ইচ্ছা ছিল না। এই ঘটনার মাধ্যমে চমস্কির প্রোপাগান্ডা তত্ত্ব আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রোপাগান্ডার প্রভাব অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা তথ্য এবং প্রোপাগান্ডা সাধারণ জনগণের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষত, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচন প্রচারণার সময় সামাজিক মাধ্যম যেমন ফেসবুক এবং টুইটারের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, কীভাবে প্রোপাগান্ডা ব্যবহার করে জনগণের ব্যক্তিগত ডেটা ম্যানিপুলেট করা হয়েছে এবং তাদের ভোটাভুটি প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে মিডিয়ার প্রোপাগান্ডার অন্যতম বড় উদাহরণ হলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। রাশিয়ার প্রোপাগান্ডা মেশিনারি রাশিয়ার আক্রমণকে সমর্থন জানাতে এবং যুদ্ধকে বৈধতা দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছে। একইভাবে, ইউক্রেনের পক্ষে পশ্চিমা গণমাধ্যমেও অনেক প্রচারণা চালানো হয়েছে, যেখানে অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দেখায় যে, আধুনিক সময়ে যুদ্ধের সময় প্রোপাগান্ডা কীভাবে জনগণের চিন্তাধারাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সমর্থন আদায় করতে পারে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে, চমস্কির চিন্তাভাবনা আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ধনী ব্যক্তিরা তাদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় কর্পোরেশন বা পুঁজিপতিরা নিজেদের পক্ষের অর্থনৈতিক নীতি প্রচার করতে এবং শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে বিতর্ককে ধামাচাপা দিতে প্রোপাগান্ডা চালায়। পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনকে দুর্বল করতে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ফসিল ফুয়েল কোম্পানিগুলোও প্রোপাগান্ডার কৌশল ব্যবহার করেছে।

একইভাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতেও প্রোপাগান্ডার ব্যবহার লক্ষণীয়। বৃহৎ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ককে প্রভাবিত করতে এবং সত্যিকারের তথ্য আড়াল করতে মিডিয়াকে ব্যবহার করে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য প্রচার করে যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এতটা গুরুতর নয়, যা বৈজ্ঞানিক তথ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। এই ধরনের প্রোপাগান্ডা শুধু জনগণের ভুল ধারণা তৈরি করে না, এটি নীতিনির্ধারকদেরও প্রভাবিত করে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চমস্কির লেখা বইটির শিক্ষা ও বাস্তবতা
চমস্কির বইটি বর্তমান বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আজকের সমাজে, যেখানে প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে, সেখানে প্রোপাগান্ডার প্রভাব আরও বেশি মারাত্মক হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে দেয়া হচ্ছে না; বরং মিডিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত করে তাদের চিন্তাভাবনাকে অন্য দিকে মোড়ানো হচ্ছে।

চমস্কি আমাদের এই শিক্ষা দেন যে, গণমাধ্যমের প্রোপাগান্ডা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণ জনগণকে কেবলমাত্র মিডিয়ার প্রদত্ত তথ্যের উপর নির্ভর না করে নিজেদের চিন্তাভাবনা এবং বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। মিডিয়া যদি কেবলমাত্র একটি মতাদর্শ বা সরকারের স্বার্থে কাজ করে, তবে গণতন্ত্রের মূল চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়া হবে।

উপসংহার
নোয়াম চমস্কির "মিডিয়া কন্ট্রোল: দ্য স্পেক্টাকুলার অ্যাচিভমেন্ট অব প্রোপাগান্ডা" একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী গ্রন্থ। এই বইটি আমাদের শেখায় যে, গণমাধ্যম কেবলমাত্র তথ্য প্রদানকারী নয়, এটি একটি শক্তিশালী প্রোপাগান্ডা যন্ত্র। বইটি আমাদেরকে সতর্ক করে যে, গণতান্ত্রিক সমাজেও ক্ষমতাসীনরা মিডিয়াকে ব্যবহার করে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং সঠিক তথ্য আড়াল করতে পারে।

আজকের যুগে, যখন ডিজিটাল মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা আরও দ্রুত এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন চমস্কির এই চিন্তাভাবনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আমাদেরকে মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং তথ্যকে ক্রিটিক্যালভাবে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

চমস্কির বইয়ের মূল বার্তাটি হলো: যদি আমরা সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে চাই, তবে আমাদের মিডিয়া এবং প্রোপাগান্ডার প্রভাব থেকে সতর্ক হতে হবে এবং নিজেদের চিন্তাশক্তি ও স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করতে শিখতে হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.