নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রগতিশীলতায় বিশ্বাসী।কূপমণ্ডুকতা ঘৃণা করি।ভালোবাসি সাহিত্য।

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল

বলার মত কিছুই নই আমি।একজন মহামূর্খ।

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্কুলের দ্বিতীয় দিন

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:৩০



ছবিঃ সমকাল পত্রিকা।

শিরোনাম পড়ে মনে হতে পারে "দ্বিতীয় দিন কেন? প্রথম দিন কেন নয়? " আসলে স্কুলে আমার প্রথম দিন গতানুগতিকই ছিলো।প্রায় সবার সাথেই মিলে যাবে।বাবার আঙুল ধরে এক কিলো হেঁটে স্কুলে গিয়ে ক্লাসে ঢুকলাম, একজন ম্যাডাম স্বাগত জানিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে দিলেন, কিছু পড়লাম,কিছু লিখলাম তারপর বাবার সাথে আবার চলে এলাম। আমার প্রথম দিন বেশ বোরিং ছিলো। যদিও তখন বোরিং জিনিসটা যে কী সেটা বোঝারই বয়স হয় নি। তাই বুঝতে পারিনি।

এবার আসি দ্বিতীয় দিনে। আম্মু রেডি করিয়ে দিলেন সকাল সাড়ে ৬ টার মধ্যে।খুব সুন্দর করে চুলে তেল দিয়ে বা দিকে সিঁথি করে চুলগুলো পরিপাটি করে আঁচড়ে দিলেন।আমার চুল ঘন ও বড় হওয়ায় সামনের অংশের চুলে আমার চোখ ঢেকে গেছে।তখনকার প্রায় সব বাচ্চাদের মতোই আমার পরনে ঢোলা সাদা হাফহাতা শার্ট, যা আমার কনুই পার হয়ে গেছে আর নেভি ব্লু হাফপ্যান্ট, সেটা আবার আমার হাঁটু পার হয়ে গেছে।শার্ট আবার ইন করা ছিলো। সাথে হাঁটু পর্যন্ত লম্বা সাদা মোজা আর কালো শু। বেশ কিম্ভুত একটা লুক। এই লুকে আমি বেশ গাম্ভীর্যের সাথে পেছনে হাত বেঁধে উঠোনে পায়চারী করছি বাবার অপেক্ষায়। তাঁর সাথে স্কুলে যাবো বলে। দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি একটু পরপর ঘড়ি দেখার ভান করছি। কারণ আমি তখন ঘড়ি চিনতাম না। বাবা কিনে দিয়েছিলেন প্রথম স্কুলে যাচ্ছি এই উপলক্ষে। ' উডি উডপেকার' কার্টুনের ছবিওয়ালা ঘড়ি। আমি ঘড়ি দেখে যাচ্ছি কিন্তু বাবা আসেন না।বেরই হন না ঘর থেকে।

সাড়ে সাতটায় ক্লাস শুরু। আমি উঠান থেকে ঘরে ঢুকে বাবার কাছে গেলাম।

"আব্বু, ইস্কুলে যাবা না?"

"না।তুই একলা যা।সোজা রাস্তা তো। কালকেই তো চিনিয়ে দিলাম।"

আমি চুপ করে ছিলাম। কিছু বলিনি। এটা দেখে বাবা ধমক দিলেন জোরে।

"ভীতুর ডিম কোথাকার। একা যা স্কুলে।কিছু হবে না।"

এবার আমি বিরক্তিকর ভ্যাঁ ভ্যাঁ শব্দে কেঁদেই ফেললাম। আম্মু বের হয়ে এলেন ঘর থেকে। আম্মু কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করার পর আব্বু বললেন "গাঁধার বাচ্চাকে বলছি একা একা স্কুলে যা। কান্নাকাটি শুরু করছে। খাবে খরাত করে।"

তখন আম্মু এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, "একাই যাও আব্বা।বাইরে দেখবা তোমার মতো আরো কয়েকজন স্কুলে যাচ্ছে।তাদের সাথে চলে যাবা।"

এবার ভয় কেটে গেলো কিছুটা। যদিও পুরোপুরি যায় নি। বাড়ি থেকে বের হয়েই দেখি আম্মুর কথা সত্যি। আরো কয়েকজন যাচ্ছে স্কুলে। অবাক হয়ে গেলাম,"আম্মু জানলো কিভাবে?" অন্য যারা যাচ্ছিলো স্কুলে তাদের পিছু পিছু যাওয়া শুরু করলাম।তারা কী মনে করে, কী ভাববে এসব সংকোচের কারণে তাদের আর ডাকতেই পারলাম না।

স্কুল আমার বাড়ি থেকে এক কিলো দূরে। মেঠোপথে যেতে সুবিধা হতো।হেঁটে যাওয়া যেতো। ঐ পথে কোনো যানবাহন চলতো না। মাঝে মাঝে ঠেলাগাড়ি চলতো।অন্য দিকে একটা পাকা রাস্তা ছিলো।সেখানে ট্রাক, রিকশা,প্রাইভেটকার মোটরসাইকেল সব চলতো। এজন্য স্কুলগামী বাচ্চারা মেঠোপথ দিয়েই হেঁটে যেতো। আমিও যথারীতি সে পথেই যাচ্ছি। বাড়ির সামনে থেকে যেসব বাচ্চার পিছু নিয়েছি তাদের গতির সাথে পেরে উঠছিলাম না।ফলে তারা আমার থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছিলো। আগেরদিন বাবার সাথে যাওয়ার সময় কিছু জিনিস মনে ছিলো। সেটা হচ্ছে যাওয়ার পথে, প্রথমে দুটো কলাগাছ, এরপর পুকুরের মধ্যে দিয়ে একটা রাস্তা, এরপর দুটো তালগাছ। যদিও রাস্তা একেবারেই সোজা ছিলো। তারপরও প্রথমে কলাগাছ দেখে মনে হলো নাহ! ঠিক পথেই যাচ্ছি। বাচ্চারা গেলে যাক। হেলেদুলে আস্তে আস্তে হেঁটে যাচ্ছি।হঠাৎ দেখি আমার পাশে একটা ছায়া দেখা যাচ্ছে। এই ছায়াটা আমার না। আমি হাঁটলে ছায়াটা হাঁটে।আমি থামলে থেমে যায়। ভয়ে গতি বাড়িয়ে দিলাম। ভয়ে পেছনে তাকালাম না।দেখলাম ছায়ারও গতি বাড়ছে। হাঁটতে হাঁটতে দুই পুকুরের মাঝের রাস্তায় উঠলাম। তখন দেখলাম দূরে কচুরিপানার ওপর একটা বক বসে আছে। দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম কী করে বকটা!! হঠাৎই একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম, "এই বাবু! এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন? স্কুলে চলো তাড়াতাড়ি। দেরি হয়ে যাবে তো।"

এরপর আমি বক নীরিক্ষণ প্রোজেক্ট বাদ দিয়ে পুকুরের রাস্তা পার হয়ে আগন্তুকের পেছনে পেছনে যাচ্ছিলাম। যেই না তালগাছের রাস্তায় এসেছি আবার সেই ছায়া। স্কুল বেশি দূরে নয়। এবার দিলাম ভোঁ-দৌড়। দেখলাম ছায়াটা নেই।স্কুলের গেটের ভেতরে ঢুকেই হাঁপাতে লাগলাম।রাস্তায় থাকার সময় ভয়ে পেছনে তাকাই নি। কিন্তু এবার সাহস করে স্কুলের গেটের পেছন থেকে তাকিয়ে দেখলাম রাস্তার দিকে। স্কুলের পাশেই একটা পুরনো জমিদার বাড়ি আছে। খুবই নাজুক অবস্থা। যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।তবুও কিছু লোক থাকে সেখানে। দেখলাম সেই বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাবা বেশ আরাম করে সিগারেট টানছেন। তাঁর সোনালি ফ্রেমের বড় চশমাটা চকচক করছে রোদের আলো পড়ে। তিনি তাকিয়ে আছেন স্কুলের গেটের দিকে। আমি খুশিতে গদগদ হয়ে বাইরে বের হয়ে দেখি বাবা নাই। "এর মধ্যে কোথায় গেল? তাহলে কি সেটা ভূত ছিলো? ছায়াটাও কি ভূতের?"

আবার ভয় পেলাম। ভয়ে ভয়ে স্কুলের বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। ক্লাস কোনটা ভুলে গেছি। হঠাৎ দেখি আগের দিনের ম্যাডাম আমার সামনে দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে ক্লাসরুমের কথা জিজ্ঞাসা করার জন্য মাথা তুললাম,কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না। কিন্তু ম্যাডাম হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন। মুচকি হেসে বললেন, "মিঞাসাহেব কি ক্লাসরুম ভুলে গেছেন? আসেন আপনাকে নিয়ে যাই।" বলেই আমার হাত ধরে আমাকে ক্লাসে ঢুকিয়ে দিলেন। আমি গিয়ে একেবারে শেষের বেঞ্চে বসলাম। ক্লাসের একপাশে সব মেয়ে আর অন্যপাশে ছেলেরা ছিলো। আমি ওদিকে তাকালামই না। একটু পরেই একটা ছেলে এলো কথা বলতে, "তোমার ঘড়িটাতো খুব সুন্দর!!" বলেই ঘড়ির পাশের বোতামগুলো চাপতে শুরু করলো। "ওমা!! কী সুন্দর লাইট জ্বলে!!" তার চোখে রাজ্যের বিস্ময়। বলেই সে দৌড় দিলো। গিয়ে আরেকজনকে ডেকে নিয়ে এলো। পরের জন তো ঘড়ির আলো দেখে হাততালি দিয়ে লাফাতে শুরু করলো। এটা দেখে বাকি বাচ্চারা কৌতুহলী হয়ে আমাকে ঘিরে ধরলো।যখন দেখলাম ক্লাসে আমি একাই ঘড়ি পরেছি আর সেটাতে লাইটও জ্বলে, তখন তো আমি ভাবের চোটে চোখেই দেখি না কিছু। কারো সাথে কথাই বললাম না ভাবের চোটে।

যথারীতি ক্লাস করলাম। দুই পিরিয়ড পরেই ছুটি হয়ে গেল। এবার আবার ভয় পেলাম। আগের দিন তো সাথে বাবা ছিলো, এখন কেউ নেই। তারপর আবার সকাল বেলার ভূত। বাড়ি যাবো কিভাবে? তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হলো সকালের সেই ছেলেদুটো। এসে বললো, "তোমার আম্মু আসে নাই?"

"আসবে না।"

"কেন? আমাদের তো আসে।তুমি বাড়ি যাবা কিভাবে?"

"একা একা যাবো।"

"তোমার কী সাহস!! আমরা তো একা যেতেই পারি না।আম্মু এখনো আসে নাই। চলো তোমাকে এগিয়ে দিয়ে আসি।"

আমি হ্যাঁ-না কিছুই বললাম না। ওরা আমার সাথে চলতে শুরু করলো। গল্প করতে করতে কলাগাছের সামনে আসার পর বললাম,
"আর যাওয়া লাগবে না। এখন আমি যেতে পারবো।তোমরা যেতে পারবা?"

তখন ওরা একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।কারণ ওরা গল্প করতে করতে আমার সাথে চলে এসেছে।পথের কথা মনে নেই। তখন আমি বললাম, "চলো।আমি এগিয়ে দিয়ে আসি। "

ওদের সাথে হেঁটে হেঁটে আবার তালগাছ পর্যন্ত গেলাম। এখান থেকে স্কুলের ভবনটা দেখা যেত তখন। ওটা দেখেই ওরা আমাকে বিদায় দিয়ে চলে গেল। আমি বাড়িতে ফিরে এলাম।

বাড়িতে গিয়ে আম্মুর কাছে সব ঘটনা বললাম। দেখি, আম্মু সবই জানে। ছায়া দেখে দৌড় দেয়া, পথে দাঁড়িয়ে বক দেখা,স্কুলে ঢুকে আবার বের হয়ে আসা, বন্ধুদের এগিয়ে দেয়া সবকিছু জানে। মাথাটাই ঘুরে গেলো পুরো। "আম্মু সবকিছু কিভাবে জানে?" আমার উৎসাহে একটু ভাটা পড়লো। যখন দেখলাম আম্মু ঘড়ির ব্যাপারে কিছু জানে না তখন একটু খুশি হলাম। বাড়িয়ে বাড়িয়ে অনেক কিছু বললাম।বললাম, ম্যাডামদেরও আমার ঘড়ি পছন্দ হইছে জানো?

আম্মুর ঐদিনের সবকিছু জানার রহস্য অনেকদিন পরে জানতে পেরেছিলাম। পেছনের ঐ ছায়াটা ছিলো আমার বাবার। আমার বোকাসোকা, মনভোলা স্বভাবের ওপর তাঁর ভরসা ছিলো না মোটেও। তাই তিনি দূর থেকে আমাকে অনুসরণ করেছিলেন সেদিন। স্কুলে যাওয়ার পথে আবার আসার পথেও।আমি সেদিন ভয়ে পেছনে তাকাইনি। তাকালে হয়তো তাকে দেখতে পেতাম। পরে যখন জানতে পারলাম, তখন অবিশ্বাসের সুরে বাবাকে বলেছিলাম, "সব মিথ্যা কথা।"

তখন বাবা বলেছিলেন, "ভূতের তো ঠ্যাকা পড়ছিলো যে, তোর মতো গাঁধার পিছু নেবে। আর সেদিনের সেই ছেলেদুটো আমার স্কুলজীবনের একেবারে শুরুর দিকের বন্ধু। তখন থেকে শুরু।এরা এখনো আমার বন্ধু।

মন্তব্য ৩৮ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (৩৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০০

আরাফআহনাফ বলেছেন: ছেলেবেলা কথন - ভালো লাগলো।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১৭

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনাকে স্বাগত জানাই আমার ব্লগে। ছেলেবেলার স্মৃতি আনন্দদায়ক। আপনার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০৯

আলমগীর সরকার লিটন বলেছেন: পড়তে পড়তে স্কুলের কথা মনে পরে গেলো অনেক শুভেচ্ছা রইল

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১৮

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার স্কুলের কথা মনে পড়েছে জেনে আনন্দিত হলাম। আপনিও শুভেচ্ছা নেবেন ভাই। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:০৯

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: আবেগপূর্ণ কথন খুবই ভালো লাগলো
শুভেচ্ছা

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:২০

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত হলাম আপু। ছোটবেলার গল্পগুলো নির্মোহ হয়ে লেখা যায় না। কত আবেগ মেশানো থাকে। সেগুলো পুরোপুরি ভাষায়ও প্রকাশ করা যায় না। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

৪| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:১১

মনিরা সুলতানা বলেছেন: আনন্দময় স্মৃতি !! কত সহজ নির্ভার জীবন ছিল আমাদের। তবে আপনি ভাগ্যবান স্কুলের শুরুর বন্ধু এখন ও আপনার বন্ধু। আমার বাবার সরকারি চাকরির বলদি আর স্কুল পাল্টানোর কারনে প্রাইমারির কারো সাথে যোগাযোগ ই নেই।

অনেক সুন্দর স্মৃতিময় লেখা।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৪:২৫

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। আমার প্রাইমারি, হাইস্কুল একই কম্পাউন্ডে পাশাপাশি ছিলো। ফলে প্রাইমারির বেশির ভাগ সহপাঠীদের হাইস্কুলেও পেয়েছি। আবার কলেজেও পেয়েছি অনেককে। এদিক দিয়ে আমি আসলেও ভাগ্যবান। আমার প্রাইমারির দুজন বন্ধু আপনার মতো বদলির কারণে স্কুল পরিবর্তন করেছে। তাদের সাথে যোগাযোগ নেই আর। ছেলেবেলাটা সবারই আনন্দে কাটে। নতুন জগতের হাতছানি সামনে, সমবয়সীদের সাহচর্য। এগুলো কখনো ভোলা যায় না।

৫| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:০৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: চমৎকার স্মৃতিকথন

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জলদস্যু ভাই।

৬| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনার বাড়ী থেকে স্কুল কোনদিকে?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৬

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার স্কুলের রাস্তা আমার বাড়ি থেকে সোজা পশ্চিমে গিয়ে হালকা উত্তর পশ্চিমে বাঁক নিয়েছে। এটা সোজা পশ্চিমেও থাকে নি, আবার উত্তর পশ্চিমও হয় নি।

৭| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:০৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আপনার বাবার কথা পড়ে খুব ভালো লেগেছে। বাবা এমনই হোন ছায়ার মতো সন্তানকে অনুসরণ করেন। পোস্টে +++

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৯

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
"বাবা এমনই হোন ছায়ার মতো সন্তানকে অনুসরণ করেন।" আপনার এই কথার সাথে একমত। বাবা এখনো প্রতি ঘন্টায় ফোন করে খবর নেন, যখন বাইরে থাকি। শুভেচ্ছা নেবেন।

৮| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩০

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনার স্কুল কয়টায় শুরু হয়েছিলো?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৩৭

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: ৭.৩০ এ।

৯| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:০৫

ফারহানা শারমিন বলেছেন: পড়ে খুব ভালো লাগলো।এতকিছু কিভাবে মনে রাখলেন!

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:২৩

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনাকে স্বাগত জানাই আমার ব্লগে। সব আমার নিজের মেমরি থেকে লেখা না। ছায়া,রাস্তার ব্যাপারগুলো আমার মনে আছে। কারণ ছায়ার ভয়টা আমার অনেক দিন ছিলো। ক্লাসরুমের ব্যাপারটা বন্ধুরা মনে রেখেছে। বাকিগুলোর সাপ্লাইয়ার বাবা-মা। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

১০| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১০:২৮

ইসিয়াক বলেছেন: অসম্ভব মুগ্ধতা নিয়ে পড়লাম আপনার স্মৃতিকথা প্রিয় তমাল ভাই। পড়ার পর মনে হলো আরেকটু থাকলে ভালো হতো। আসলে মনের খায়েশ মেটেনি। এত সুন্দর স্মৃতি কথা কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন এতদিন?

আপনার ছোটবেলার সেই একমাথা তেল দেওয়া বা পাশের সিঁথি, সাদা শার্ট নেভী ব্লু কালারের হাফ প্যান্ট পরা ছোট্ট তমালের ছবিটা এখনও চোখে ভাসছে। ছোট্ট বেলার একটা ছবি দিলে আরও ভালো হতো হা হা হা।


শুভকামনা রইল।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:২২

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ইসিয়াক ভাই। স্মৃতি ঐটুকুই আছে। আর নেই। তাই দিতে পারলাম না। গতকাল রাতে আমার স্কুল লাইফের কথা বলতে গিয়ে এই দ্বিতীয় দিনের কথা তুললেন। তখন মনে হলো লিখে ফেলি।

ভাই, দুর্ভাগ্যবশত ঐ লুকের কোনো ছবি নেই আমার। থাকলে দিতাম। চোখ পর্যন্ত চুল নেমে আসায় চিনতে পারতেন না এমনিতেও। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

১১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:১০

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১২:৪৭

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা নেবেন।

১২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১:৪০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ইস স্কুলের সেইসব দিন । ইস সোনালি অতীত

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫১

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ নেওয়াজ আলী ভাই। আপনার স্মৃতিকথা মনে হয় আরো জমজমাট হবে। শুভেচ্ছা নেবেন।

১৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:১৪

কলাবাগান১ বলেছেন: ডেভিলস এডভোকেট:

চাদগাজীর প্রশ্নের সুত্র ধরে: সকাল ৭:৩০ মিনিটে পূর্ব দিক থেকে সূর্য উঠে পশ্চিমে যাওয়ার পথে পিছন থেকে নিজের ছায়া নিজেই দেখতে পারেন আপনার সাথে চলাচল করছে....

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৫৫

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: ছায়ার ব্যাপারটা খুবই ভীতিকর ছিলো আমার জন্য। আমার মনে আছে যে ছায়ার শেষ অংশটা আমার পায়ের কাছে ছিলো। হয়তো পেছনের কারো ছায়া। আবার আমার বাবা আমাকে অনুসরণ করেছিলেন। তাঁর ছায়াও হতে পারে। আমি ভয়ে পেছনে তাকাই নি। তাকালে হয়তো সব ক্লিয়ার হতো। আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।শুভেচ্ছা রইলো।

১৪| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৮

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: তমাল, অনেক সুন্দর স্মৃতিচারন(আজকে কেন জানি তুমি বলতে ইচ্ছে হল আপনাকে) আর আপনার লিখা পড়েই লগইন করলাম । কদিন ধরে সামুতে পড়েই যাচ্ছি কিন্তু শরীর ভাল না বলে মন্তব্য করছিনা।

তুমি আসলেই ভাগ্যবান ছেলেবেলার বন্ধরা আজও আছে।

বাবার সরকারী চাকরীর কারনে ৪টা প্রাইমারী স্কুলে পড়েছি। গ্রামে যাদের সাথে পড়েছিলাম কেবল তাদের সাথেই যোগাযোগ আছে।

ছেলেবেলার দিনগুলো কত ভাল কেটেছে। ভাল থাকবেন।

+++++

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:০০

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: ইচ্ছা হলে অবশ্যই বলবেন।আমার কোনো আপত্তি নেই।
আমার ঐ দুই বন্ধুর সাথে আমি একেবারে শিশুশ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়েছি। আমাদের প্রাইমারি,হাইস্কুল সব একই কম্পাউন্ডে থাকায় আলাদা হতে হয় নি। তাই আমার ভাগ্য খুবই ভালো। আমারও দুজন বন্ধু বাবার বদলির কারণে চলে গেছে। তাদের সাথে যোগাযোগ নেই।
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ মাইদুল সরকার ভাই। আপনার শরীর কি বেশি খারাপ? এখন কেমন আছেন আপনি?

১৫| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৪৩

অপু তানভীর বলেছেন: চমৎকার স্মৃতিচারণ !

আমার বেশ কয়েকবার নতুন স্কুলে যেতে হয়েছে বাবার বদলির চাকরির কারণে । আমার কোন মনে রাখার মত অভিজ্ঞতা নেই । আমি নতুন জায়গাতে মানিতে পারি না সহজে । তাই খুব অস্বস্তি লাগতো প্রথম কয়েকদিন !

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৩

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ অপু তানভীর ভাই।
বারবার স্কুল বদলানোর ফলে হয়তো আপনি খাপ খাওয়ানোর সময় পাননি কোথাও৷ এটা খুবই দুঃখজনক। আমারও এই সমস্যাটা আছে। মানিয়ে নিতে হালকা সময় লাগে। শুভেচ্ছা রইলো।

১৬| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:১৩

রানার ব্লগ বলেছেন: স্কুলের প্রথম দিন খুবই ভয়াবহ ছিলো আমি প্যান্টের ভেতর কিছু একটা করে ফেলেছিলাম, দোষ অবশ্য আমার ছিলো না বারংবার অনুমুতি চাওয়া সত্বেও অনুমতি না পেলে যা হয় আমারও তাই হয়েছিলো। আম্মার হাতে উতপটাং মাইর আর আব্বার খিকখিক হাসি সেই সাথে অদ্যাবদি স্কুল ফ্রেন্ডদের টিটকারি সহ্য করতে হয়েছে ও হচ্ছে।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:৫৮

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: :) বাচ্চারা ভয় পেয়েও এই কাজ করে ফেলে। আমার কয়েক ক্লাসমেট এই কাজ করেছে বিভিন্ন সময়ে। যদিও অন্যদের ক্ষেত্রে এটা মজার বিষয়, কিন্তু যে করে সে লজ্জায় মরে যায়। আপনার স্মৃতি শুনে মজা লাগলো বেশ। :D
মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা নেবেন।

১৭| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৫০

সোহানী বলেছেন: ছোলেবেলার গল্প দেখলেই হাত নিশপিশ করে লিখার জন্য। "আহা সুন্দর দিন কাটাইতাম..........."।

তবে অবিশ্বাস্যভাবে সত্য যে আমার প্রথম স্কুলের দিনের কথা এখনো মনে আছে এই বুড়া বয়সেও। লিখবো কোন একদিন।

চলুক আপনার স্মৃতিচারন। খুব ভালো লাগছে এরকম বোকাসোকা বাচ্চার স্কুলের ভাব দেখে।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৪৯

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু। স্কুলের দিনগুলো আসলেই খুব সুন্দর ছিলো।
আপনার স্কুলের প্রথম দিনের কথা কি ব্লগে আছে? থাকলে পড়ে নেবো। যদি না থেকে থাকে তাহলে অপেক্ষায় রইলাম।
শুভেচ্ছা নেবেন আপু।

১৮| ২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:১৮

শায়মা বলেছেন: অনেক সুন্দর একটা লেখা।

একদম মুগ্ধ হলাম ভাইয়া।

২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:২৬

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপু।
এই পোস্ট করার আগের দিনই স্কুলের কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছিলেন আম্মু। তখনই মনে হলো এগুলো লিখে জমা করে রাখি। কখন ভুলে যাই কে জানে?

১৯| ২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৫১

শায়মা বলেছেন: হ্যাঁ আমিও এমন ভাবি প্রায়ই আমাকেও লিখতে হবে ভাইয়া!!!!!!

২২ শে অক্টোবর, ২০২১ রাত ১২:৫৭

মোঃমোস্তাফিজুর রহমান তমাল বলেছেন: তাহলে খুব তাড়াতাড়ি লিখে ফেলুন আপু। অপেক্ষায় থাকলাম। আপনার ঐ সময়ের ঘটনা নিশ্চয়ই খুব আনন্দদায়ক ছিলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.