নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কলমই শক্তি

সৎ ভাবে চলা। দেশের জন্য কাজ করা। অপরের সাথে শেয়ার করা।

কলম বক্তা

প্রকৌশলী ।

কলম বক্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার। এবং অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের জবাব।

০৬ ই আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১:৫৯

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে উন্নয়ন মুল্লুক কার্যাবলী সম্পাদন করেই যাচ্ছে । বাংলাদেশকে কি অবস্থা থেকে কি অবস্থায় নিয়ে গেছে, অথবা কি পরিমাণ উন্নয়ন করতে পেরেছে বলে আওয়ামী লীগ মনে করে, তার প্রধান প্রধান প্রোজেক্ট সমূহ বা কাজ সমূহ আংশিক ভাবে, ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে ঢাকা শহরে প্রচার করার বিশেষ ব্যবস্থা করেছে । যা প্রশংসার দাবী রাখে। আমরা জানি যে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর এর মধ্যে এ সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সে হিসাবে চলতি বছরের শেষপ্রান্তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই কারনে সরকার ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে নিজস্ব মূল্যায়নে সম্পাদিত উন্নয়ন কাজ সমূহ প্রচার করতেই পারে, যা উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে এবং যেখানে গণতন্ত্র স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সে সব দেশে এভাবে ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার করেই থাকে। অতএব আওয়ামী লীগও এভাবে ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার করেতেই পারে। কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেছেন, বিলবোর্ডের মাধ্যমে সরকারের এই প্রচারকে বা উন্নয়ন মুল্লুক কাজ সমূহেকে অর্ধসত্য ও মিথ্যা প্রচার বলে অবহিত করছেন। এম কে আনোয়ার আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের মিথ্যাচার জনগণ বিশ্বাস করে না”। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণকে যে আহবান জানিয়েছেন, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নয়ন নয়, হল-মার্ক, পদ্মা সেতু, ডেসটিনি ও ব্যাংক লুটের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় যেতে চায়” ।

বিএনপি – জমাতের অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উচিৎ যে সব নীতিবাচক বিষয়ে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে, বা মিথ্যা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, সেসব বিষয়ে আলাদা ভাবে ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচার করা উচিৎ । সে সব গুরুত্বপূর্ণ অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের কয়েকটি পয়েন্ট নিম্নরূপ তুলে ধরলামঃ

একঃ বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডঃ বর্তমানে এই হত্যাকাণ্ড-র মামলার সব এবং প্রধান ৮ আসামির সবাই গ্রেফতার হয়েছে এবং জেলে আছে। অভিযোগ পত্র জমা হয়েছে ৫ই মার্চ এবং বিচারের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে, গত ৮ই জুলাই থেকে। মামলাটি অতি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বর্তমানে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ বদলির প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে । প্রজ্ঞাপনটি গত ৩০ জুন আদালতে এসে পৌছায়। গত ২৫শে জুলাই পর্যন্ত ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এবং বর্তমানে চলমান । আশা করছি খুব শীঘ্রই এ মামলার বিচার কাজ শেষ হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে।

দুইঃ পদ্মা সেতুর দুর্নীতিঃ এই অভিযোগের ভিত্তি অনেক দুর্বল । সত্যটা হল এই পদ্মা সেতু প্রকল্পে আজ পর্যন্ত কোন বৈদেশিক সাহায্য পাওয়া যায়নি অথবা নেওয়া হয়নি । এমনকি - একটা টাকাও না । তাছাড়া যে পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছিল, সেক্ষেত্রেও আজ পর্যন্ত কোন ধরনের আর্থিক সহায়তা বা একটি টাকাও ছাড় যেওয়া হয়নি । এই পদ্মা সেতুর ইস্যুকে আমরা মুলত "দুর্নীতির ষড়যন্ত্র" বললেই অবহিত করতে পারি । এখানে দুর্নীতিটা কিভাবে হল তার একটা উপামা দিই, যেমন ধরেইনি আমি এক ব্যক্তিকে খুন করার কথা ভাবছি-এইটাই আমার দোষ, যদিও আমি তখনও পর্যন্ত হাতে ছুরি-চাকু বা অন্য কিছুই নেইনি। এরপরেও বর্তমান সরকার পদ্মা সেতুর বাস্থবায়নের স্বার্থে, শুধু মাত্র বিশ্ব ব্যাংক-কে খুশি করবার জন্য আবুলকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হল । তারপরও পদ্মা সেতুকে নিয়ে তথাকথিত "দুর্নীতির ষড়যন্ত্র" শেষ হয়নি ।

তিনঃ RAB র গুলিতে লিমন হোসেন পা হারানো । তার বিরুদ্ধে করা সকল মামলা প্রত্যাহার করা হল । তবে এক্ষেত্রে সরকার একটু বেশী সময় নিয়ে ফেলেছে, এবং RAB র দোষী সদস্যদের বিরুদ্ধে করা মামলাসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং চলমান। তবে এক্ষেত্রে সরকার কাল ক্ষেপণ করেছে বেশী, ফলে প্রচার মাধ্যম অপপ্রচারের সুযোগ পেয়েছে বেশী, এবং আশা কয়েছি এক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবেই ।

চারঃ হলমার্ক ইস্যু। হলমার্ক ব্যাংক থেকে লোণ নিয়েছে । ভাল কথা, ব্যবসা করলে ব্যাংক থেকে লোণ নিবেই । হলমার্ক ব্যাংক লোণের বিষয়ে সরকারের অন্তত একজন নেতার নাম প্রকাশিত হয়নি, যাকে এই লোণের ব্যাপারে দায়ী করতে পারেন। ডকুমেন্টস সহকারে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে হলমার্ক এর প্রতিটা লোণ অথবা ওভার ড্রাফ্ট (যেগুলি দিয়ে প্রতারনা করা হয়েছে এবং ৪ হাজার কোটি টাকা সরানো হয়েছে) ইস্যু করা হয়েছিল তা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখানে বর্তমান সরকার কে দায়ী করার কোন সুযোগই নেই । হলমার্কের বিষয়ে কিভাবে বর্তমান সরকার দায়ী তা আজ পর্যন্ত বোধগম্য হল না। যাই হউক, এখানেও সরকারের সাফল্য আছে। হলমার্কের মালিক পক্ষের সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক জন কে জামিন দেওয়া হয়ে (চেয়ারম্যন জেস্মিন রহমান) এই শর্তেই যে তাকে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা করে ব্যাংক লোণ শোধ করতে হবে । এটা খুবই চমৎকার সিদ্ধান্ত । ভালো কথা, এই "দুর্নীতি" সোনালী ব্যাঙ্কের দুর্নীতি হিসাবেও পরিচিতি পেয়েছে। এবং তৎকালীন ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যতাযত ও আইনানুক ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যেই আইনের আওয়াতায় আনা হয়েছে ।

পাঁচঃ ডেস্টিনি ঃ ডেস্টিনি কবে চালু হয়েছিলো আমরা কেউ জানতে চেয়েছি ? ২০০১ সালের ৫ই জানুয়ারি। এই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে দুর্নীতি গ্রস্ত প্রকল্প হচ্ছে "বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী" । এই "বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচী"-এর অনুমোদন কারা দিয়েছিল ? তৎকালীন বিএনপি-জমাত জট সরকার । যে কেউ অনুসন্ধান করতে পারেন অথবা ইতিহাস জেনে নিতে পারেন। এখানে এই সরকারের ব্যর্থতা হল, “ডেস্টিনিকে তাদের মত করে ভুয়া প্রোজেক্ট চালু করে জায়গা-জমিন সহ লুটপাট করতে না দেওয়া”। এখানেও সরকার যতাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছ । যেমন এই প্রতিষ্ঠানের সকল আর্থিক (ব্যাংক একাউন্ত জন্দ) ও জমি-জমা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে যেটাকে আমরা ডেস্টিনির দুর্নীতি বা অনিয়ম বলেই জানি । এখানে কিভাবে সরকারের দুর্নীতি হল, এই বিষয়টা বিবেচনা বা ভেবে দেখতে হবে । অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়াকে যদি দুর্নীতি বলি, তাহলে ভবিষ্যতে কোন সরকারই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস করবে না। অতএব এখানে আওয়ামী লীগের দুর্নীতির বিরুদ্ধেই অবস্থান ।

ছয়ঃ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড ঃ হ্যাঁ এক্ষেত্রে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানে সরকার এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই হত্যারবিচার এবং খুনিদের শাস্তির ব্যবস্থা করা এ সরকারের প্রধানতম ইস্যু হওয়া উচিৎ ।

সাতঃ শেয়ার বাজার কেলেংকারিতে এ সরকারের ব্যর্থতা আছে । সরকারের উচিৎ ছিল, আরও সতর্কতার সহিত শেয়ার বাজার পরিচালনা করা । তবে এটাও সত্যিই যে শেয়ার বাজার একপ্রকার জুয়া খেলা। এখেলায় সবাই জিতে চায়। এর ভিতর দিয়ে কেউ না কেউ লাভবান হয়েছে । এখন প্রশ্ন হল, শেয়ার বাজার একটা গেইম । গেইমের নিয়ম-কানুন না বুঝে একজন খেলোয়াড়ের যেমন মাঠে খেলতে নামা ঠিক নয় , তেমনি টিম ম্যানেজমেন্ট এর উচিৎ টিম, কোর্স, খেলোয়াড় এবং সম্পর্কযুক্ত সবাইকে যতাযত প্রশিক্ষন প্রাপ্ত না করেই গেইমের সাথে সংযুক্ত হতে দেওয়া । তার আগে এভাবে শেয়ার বাজার সাথে সবাইকে সংযুক্ত হতে দেওয়া ঠিক হয়নি । সে দিক দিয়ে ধরতে গেলে “শেয়ার বাজার” নামক গেইম বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ৯০-এর দশক থেকেই । তখন থেকেই এই “শেয়ার বাজার” নামক “গেইমটা” কন্ট্রোল করা সরকারের উচিৎ ছিল। তাই শেয়ার বাজার কেলেংকারি জন্য সরকার অবশ্যয় দায়ী এবং পাশাপাশি কোম্পানি, শেয়ার হোল্ডার, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ সবাই কমবেশি দায়ী । কারন শেয়ার হোল্ডারা একপ্রকার ব্যবসা করতেই শেয়ার কিনেছিল । প্রত্যেকেরই উচিৎ ছিল নিজস্ব মূলধনের সিকিউরিটি কতটুকু তা বিবেচনা নেওয়া বা অনুমান করা । উচিৎ ছিল অত্যন্ত সতর্কতার সহিত শেয়ার কিনা। এখানে অতি লোভে তাতি নষ্ট হয়েছে । এই প্রসঙ্গে একটা গল্প উপস্থাপন করলাম নীচে ঃ

“একটা গল্প বলি, এক গ্রামে এক দরবেশ এসে ঘোষণা দিলেন তিনি গ্রামের সব বানর পিস প্রতি এক টাকা করে কিনবেন, কিন্তু কেউ আগ্রহ দেখাল না বানর বিক্রির জন্য। এর পড়ে তিনি ঘোষণা দিলেন, ৫ টাকা করে কিনবেন। কিছু মানুষ বানর ধইরা বিক্রি করল। কিছু দিনপরে সেই বানর তিনি ৪টাকা করে বিক্রি করে দিলেন, সেই একই গ্রামের মানুষের কাছে। এইভাবে বেশি দামে কিনে অল্প দামে বিক্রি কইরা কইরা একদিন তিনি ঘোষণা দিলেন, প্রতি পিস বানর ৫০০০০ তাকায় কিনবেন, মানুষে বানর ধইরা পুরায়ে ফেলল। এরই মধ্যে কিছু মানুষ দরবেশের কাছে থাকা বানর গুলারে ৫০০০০ টাকা কইরা কিনেও ফেলল। এবং এক দিন সকালে সেই শেষ বানর কিনা মানুষ গুলা দেখল দরবেশের আস্তানা খালি। এইখানে দোষ কার?বিচারের ভার আপনাদের উপরে দিলাম”।

খুব শীঘ্রই আরও কিছু দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে উপস্থাপন করবো ।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.