| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রমজান শেষ হল এবং ঈদ চলে আসল । সবাইকে ঈদ মোবারক এবং ঈদের শুভেচ্ছা। বাঙ্গালীরা মহা-উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়েই ঈদ পালন করবে । কোন রকম ভয় ভীতি না করেই সারা দেশের মানুষ ঈদ পালন করার পুরাদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে । অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অথবা যে যেখানে ঈদ করতে চায়, সেই গন্তব্যেই চলে গেছে অতবা যাচ্ছে । এই ঈদ যেমনি আনন্দের তেমনি উৎসবের । অন্য দিক দিয়ে দেখলে বুঝা যাবে যে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতির চাকাও সচল রাখার একটা মাধ্যম এই ঈদ ।
এখন প্রশ্ন হল বাংলাদেশের মানুষ ঈদের আগে রমজানটা কেমন কাঁটাল, তা একটু খতিয়ে দেখা যাক । বহু অপপ্রচারের ও আশংকার পরও নিত্য দিনের খাদ্যদ্রব্যের দাম সহনশীল অবস্থায় ছিল। আমরা অতীত ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখব যে প্রতি বছর, ঠিক ঈদের পূর্ব মুহূর্তে ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যদ্রব্যকে নিয়ে বিভিন্ন সিণ্ডিকেট গড়ে উঠত। এবার এরকম কোন সিণ্ডিকেট গড়ে তুলার কোন সুযোগই দেওয়া হয়নি । নিত্য দিনের খাদ্যদ্রব্যের দুটা ভাগ আছে। যেমন একটা আমদানি যোগ্য খাদ্যদ্রব্য (শুধু মাত্র রমজানের জন্য), যার মধ্যে আছে – ছোলা, খেজুর, ডাল, পিয়াজ, রসুন ইত্যাদি এবং আরটা হল নিত্য দিনের শাক সবজি জাতিয় (কাচা মাল) খাদ্যদ্রব্যের মদ্যে আছে কাচা মরিচ, বেগুণ, বিনিন্ন শাক সহ সব ধরনের সবজি, মাছ, মাংস, মুরগী, ডিম ইত্যাদি ।
প্রতি বছর আমদানি কারকরা একটা সিন্ডিকেট করে আমদানিক্ত নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যে দাম অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যেত । এবার অত্যন্ত দক্ষতার সহিত এই সিন্ডিকেটকে কন্ট্রোল করা হয়েছে । এক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয় যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন । যা প্রশংসার পাওয়ার যোগ্য । এবং প্রশংসার করতেই হবে । অন্য দিকদিয়ে দেশীয় উৎপাদিত নিত্য দিনের শাক সবজি জাতিয় খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে বলতে হয় যে, চলমান দিন বা মাসে শাক সবজির কোন সিজন বা সময় না হওয়া সত্ত্বেও যে পরিমাণ শাক সবজি পুরা রমজান মাসে যোগান দেওয়া হয়েছে, তা হল আমাদের এগ্রিকালচার / কৃষি মন্ত্রণালয় বা বর্তমান সরকারের গৃহীত বাস্থব ধর্মী কর্মসূচীর প্রতিফলন, যা চোখে দেখা যায় না। শুধু অনুভব করতে হয়। তাও আবার অনুভব করার মতো মানসিক শক্তি বা মানসিকতা থাকতে হয় । যা বাংলাদেশের একটা অংশের কোনদিনই ছিল না এবং হবেও না। তাই বর্তমান সরকার জনগণকে বুঝতেই দিল না কিভাবে সব ধরনের নিত্য দিনের খাদ্যদ্রব্যের যোগান দিয়ে শান্তি পূর্ণভাবে রমজান মাস পার করিয়ে দিল । এখানেই জননেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চোঁধুরির সাফল্য ।
আরও একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয় – এই প্রথম আমরা রমজানে হরতাল ফেলাম দুইদিনের হরতাল । হরতাল কারা করল – জমায়েত ইসলাম, যারা ইসলাম ধর্ম নিয়ে বা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশে কায়েক করতে চায়, তবে তারা স্বাধীনতা বিরুধি এবং ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধা চলা কালীন মানবতা বিরুধি ও যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দলীয় ভাবে ও তাঁদের সেই সময়ের প্রধান প্রধান সব নেতাই অভিযুক্ত । তাহলে হরতাল কেন – কারন হাইকোর্টের বা স্পেচিয়াল কোর্ট এর বিচারে তারা তাদের অপকর্মের জন্য অভিযুক্ত, একারনে হরতাল, যা কোনভাবেই মেনা নেওয়া যায় না। তাই প্রশ্ন হচ্ছে রমজানের মত পবিত্র দিনে হরতাল দিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে ও রমজানে মানুষকে কষ্ট দিয়ে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে ও ঈদের কেনাকাটায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে কিভাবে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েক হবে – এই বিষয়টাই সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভেবে দেখতে হবে।
রমজানে দ্বিতীয় যে বিষয়টা সরকার ভালভাবে কন্ট্রোল করেছে তা হচ্ছে চাঁদা বাজি, ছিনতাই, যাতায়ত ব্যবস্থা ইত্যাদি । প্রতি বছর রমজানে ও ঈদের পূর্বে মার্কেট ও সাধারন দোকানদার, ফুটফাটের দোকান সর্বক্ষেত্রে চাঁদা বাজীর খবর আমরা পেতাম। আর এবার সরকার প্রথম থেকেই ভালভাবে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় চাঁদা বাজীর কোন সুযোগই পায়নি । এফ বি সি সি আই এর ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব হেলাল উদ্দিন টি ভির টক শোতে বলেছেন গত বিশ্ব বছরের মধ্যে এত নিরাপদে এবং নিশ্চিতে ব্যবসা করার সুযোগ তারা পাননি । জনাব হেলাল উদ্দিন আবার দোকান মালিক সমিতির সভাপতিও । অতএব এমুহূর্তে এটা নিশ্চিতেই বলতে পারি যে বর্তমান সরকারের বিশেষ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে চাঁদা বাজীর কালচার থেকে আমরা বের হচ্ছি । এটাও বাংলাদেশের উন্নয়ন । এবার বলি ছিনতাই নিয়ে – এবার মানুষ রাতের ২ টা পর্যন্ত অবাধে রিক্সা নিয়ে মার্কেটে যাতায়ত করেছে এবং মার্কেটিং এর কাজ সেরেছে এবং নিশ্চিতে বাসায় ফিরেছে । ছিনতাই হয়নি বললেই চলে । এক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে RAB ও পুলিশের ভুমিকার পাশাপাশি সি সি টি ভি র ভুমিকাও আছে । অতএব ভবিষ্যতে ঢাকা সহ বাংলাদেশের সব জেলা ও উপজেলা শহর সহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থাপনে সি সি টি ভি স্থাপন করা দরকার । তাহলে খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জ্বালাও পুঁড়াও সহ যে কোন অপরাধী কাজ কমে যাবে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বললে বলতে হয় যোগাযোগ মন্ত্রী ওবা্যদুল কাদের দায়িত্ব নেওরার পর থেকে সীমাহীন ও অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে বর্তমানে সারাদেশের হাই-ওয়ায়ের রাস্তা খুবই ভাল । তাঁর পরিশ্রমের ও মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচীর বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত টি ভি ও পত্রিকায় দেখেছি । ঈদের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে যাত্রীদের টিকেট নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ায় কোনরকম টিকেটের দাম বাড়াতে পারেনি এবং প্রতিটি গাড়ি, ট্রেন ও লঞ্চ যতাযত সময়ে গন্তব্য স্থলে রওয়ানা দিয়েছে । এক্ষেত্রে RAB ও পুলিশের ভুমিকার ছিল প্রশংসনীয় ।
৩য় যে বিষয়ে জনগণ কষ্ট পায়নি তা হল বিদ্যুৎ । এবার সারা দেশে অন্তত নামাজের সময়, ইফতারের সময়, সেহেরীর সময় মানুষ বিদ্যুৎ এর পুরাপুরি সুবিধা পেয়েছে । এই সুবিধা ঢাকা শহর থেকে জেলা, উপজেলা, ও প্রত্যয়ান্ত গ্রাম পর্যন্ত এই পেয়েছে । তাই মানুষ এবার নিশ্চিতে নিরাপদে যেমন রোজা রেখেছে, তেমনি নামাজও কায়েম করেছে মনের মতো করে ।
কিন্তু এত কিছুর পরও প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে পত্রিকা ও প্রাইভেট টি ভি চ্যানেল সমূহ যতাযত ভাবে প্রচার করেনি । কি কারনে প্রচারিত হল না – প্রধানত দু’টা কারন আছে। এক- বাংলাদেশের জনগণ নেগেটিভ সংবাদ বেশী পছন্দ করে অর্থাৎ সরকার বিরুধি সংবাদে অভ্যস্ত । ফলে সব পত্রিকা ও প্রাইভেট টি ভি চ্যানেল সমূহ নেগেটিভ সংবাদ খুজে বেড়ায় এবং প্রচার করে । দুই – এই সংবাদ সমূহ যতাযত ভাবে প্রচার না হওয়ার পিছনে সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রচার সেলের বিশাল একটা ব্যর্থতা আছে । তারা সংবাদ মাধ্যম বিশেষ করে পত্রিকা ও প্রাইভেট টি ভি চ্যানেল সমূহে যতাযত মনিটরিং করতে পারলে এই সংবাদ সমূহের বিষয়ে জনগণ জানতে পারতো এবং জনগণ সচেতন হতো ।
৭১-এ মুক্তিযুদ্ধা চলা কালীন মানবতা বিরুধি ও যুদ্ধাপরাধী হিসাবে জমায়েত ইসলামকে দলীয় ভাবে ও তাঁদের সেই সময়ের প্রধান প্রধান সব নেতাই অভিযুক্ত প্রমাণিত হওয়ায় কোর্ট রায় দিয়েছে । সেই কোর্টএর রায়ের বিরুদ্ধে হরতাল দেওয়ায় আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে কোর্টএ হাজির হতে বলেছে- জমাতের দুনেতাকে । তারপরও ঈদের পর যেদিন অফিস চালু হচ্ছে তারপর দিন থেকেই দুইদিনের হরতাল দিয়েছে জমাত । তারপরও স্রোতের মতো মানুষ ঈদ করার জন্য গ্রামে গেছে এবং যাচ্ছে । সাধারন মানুষ জমাতের হরতালকে আমলে নেয়নি । জনগণ সরকারের উপর আস্থা রেখেছে ও কোর্টএর রায়ের প্রতি সন্মান দেখিয়ে গ্রামে ঈদ করতে গেছে এবং যাচ্ছে । অতএব এক্ষেত্রে সরকারকে জনগণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে, যেন জনগণ হরতালের মধ্যেও নিজ নিজ কর্মস্থলে হাজির হতে পারে। তাহলেই জনগণ যে সরকারের উপর আস্থা রেখেছে এবং কোর্টএর রায়ের প্রতি সন্মান দেখিয়েছে তার উপযুক্ত প্রতিধান হবে। আর তাই সবাই শান্তিতে ঈদ করুক এবং ঈদ শেষে নিজ নিজ কর্মস্থলে নিরাপদে ও সুস্থভাবে ফিরে আসুক একামনা করছি।
©somewhere in net ltd.