| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মেডিকেল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৪/৫ মাস পূর্বে । এবার মুম্বাইয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন একটি ইংরেজি সাময়িকীতে কর্মরত একজন নারী আলোকচিত্র-সাংবাদিক। আজ শুক্রবার ২৪/০৮/২০১৩ ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’, এনডিটিভি ও জি নিউজের প্রতিবেদনে এই তথ্য আমরা জানতে পেরেছি । বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই সাময়িকীর জন্য দায়িত্ব পালনকালে এ নৃশংস ঘটনার শিকার হন এই সাংবাদিক। পুলিশকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পাঁচজন দুর্বৃত্ত প্রথমে ওই নারী সাংবাদিককে উত্ত্যক্ত করে। প্রতিবাদ জানালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে মারধর করে। বাধা দিতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গীকে তারা বেঁধে নির্যাতন চালায়। এরপর পাঁচজন মিলে নারী সাংবাদিককে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
এরকম নারী সাংবাদিককে ধর্ষণ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক । এরকম দুঃখজনক ঘটনা মেনে নেওয়া সহজ নয় । যারা ভারতে গিয়েছেন, তারা নিশ্চয় দেখেছেন, তাদের ব্যবহার এবং আন্তরিকতায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছনে। নারীদের প্রতি সন্মান কিভাবে দিতে হয়, তা যে তারা জানে না, এটার কয়েকটা ঘটনা মাত্র, আমরা জানলাম । এরকম অনেক নজীর আছে । ভারতে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পিছনে নারীরাও সমান দায়ী । কারন ইন্ডিয়ান মেয়েরাও মানুষের সাথে কিভাবে ভদ্র ভাবে কথা বলতে হয়, তা ঠিক ভাবে জানে না। অথবা করে না। ইন্ডিয়ানরা নিজেদের মধ্যেও না । আবার বাহিরের বা বিদেশীদের সাথেও না। ছেলে - মেয়ে কেউ না। সাংবাদিক ও তাঁর সহকর্মীর বর্ণনা থেকে জানা যায়, ঘটনাস্থলে পাঁচজন দুর্বৃত্ত প্রথমে ওই নারী সাংবাদিককে উত্ত্যক্ত করে। প্রতিবাদ জানালে দুর্বৃত্তরা তাঁকে মারধর করে। বাধা দিতে গিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গীকে তারা বেঁধে নির্যাতন চালায়। একজন নারী সাংবাদিক হিসাবে তার জানা উচিৎ- কোন পরিবেশ – পরিস্থিতিতে দুর্বৃত্তরা বা যে কোন লোক উত্ত্যক্ত করলে, তা ওভার-কাম বা সামলে নিতে হবে । সব জায়গায় ও পরিস্থিতিতে মাস্তানি চলে না। আবার একহাতে তালিও বাজে না । অতএব নারী সাংবাদিক হিসাবে অতিরঞ্জিত আচরণের কারনেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। অতি আধুনিকতাও ভাল না। আবার অতি সাহসী হওয়াটাও ভাল না । এসব আচরণ অনেকটা নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার সামিল । তাই আমি বলি ভাল ব্যবহারের দামই আলাদা । আবার ভাল ব্যবহারে পয়সা লাগে না। অতএব ভদ্র হউন, এবং ভাল ব্যবহার করুন । ভাল ফলাফল পাবেন । নিরাপদে থাকবেন এবং বিপদে পড়বেন না । নিজে ভাল থাকবেন, পরিবার ভাল থাকবে, সমাজ ভাল থাকবে, নিজের জীবনের উপর কালো দাগ পড়বে না। অতএব উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং নিজের ছেলে-মেয়েকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করুন । সমাজের জন্য কাজ করুন । আপনি ভাল থাকবেন, সমাজ ভাল থাকবে, দেশ ভাল থাকবে। তাতেই সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে।
এবার সামান্য উপদেশ - চিকিৎসা বা বেড়াতে যারা ইন্ডিয়ায় যাবেন তাদের কাছে উপদেশ রইল সব দিক দিয়েই সাবধানে থাকবেন । বিশেষ করে যারা মেয়েদের নিয়ে যাবেন। ভারতে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সর্বস্থরের মানুষের (বিশেষ করে মেয়েদের) উচিৎ আগামী ছয় মাসের জন্য সব ধরনের ইন্ডিয়ান সিনেমা, টি ভি সিরিয়াল বন্ধ রাখা বা না দেখা। কারন নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন সব চেয়ে নিম্ন মানের একটা কাজ। আর এই কাজটাই ইন্ডিয়ানরা বার বার করে যাচ্ছে । আমাদের প্রতিবাদ করা উচিৎ । আর সে প্রতিবাদ ইন্ডিয়ান সিনেমা, টি ভি সিরিয়াল বর্জন করেই করতে পারি । আমরা এটা মানবিক কারনেই করবো । তাছাড়া নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন সামাজিক ব্যাধি বা সামাজিক ক্যান্সার । এই সামাজিক ব্যাধি বা সামাজিক ক্যান্সার বর্তমান বিশ্বের মানচিত্রের সীমারেখা অতিক্রম করে সহজেই সরিয়ে পড়তে পারে । তাই আমাদের উচিৎ জনগণকে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন নামক সামাজিক ব্যাধি বা সামাজিক ক্যান্সারএর বিষয়ে আরও সচেতন করা ।
ইন্ডিয়ানরা অতিমাত্রায় ধর্মীয় গোঁড়ামিতে বিশ্বাসী বা হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার কারনে এভাবে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে । একই ভাবে বাংলাদেশেও সাম্প্রদায়িক শক্তি ও উগ্র জঙ্গি বাদকে প্রতিরোধ করতে পারলে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা কমে যাবে । নারী শিক্ষার হার বাড়বে এবং নারীরা বেশী বেশী কর্ম জীবী হবে । তাদের আয় বাড়বে এবং আত্ন-নির্ভরশীল হবে এবং ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার কম হবে । দেশ সুন্দর হবে । বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে ।
©somewhere in net ltd.