| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছেন এবং বলেছেন “নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে অশান্তি সৃষ্টি হবে। যে শান্তি দিতে পারবে, তাকেই নির্বাচিত করতে হবে“ । খুবই ভাল কথা, নীতির কথা এবং শান্তির কথা । কিন্তু ২০০৬ সালে বিএনপি সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সে সরকারের প্রধান হন জোট সরকারের আমলের রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এবং এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সহ সকল বিরুদ্ধি দল এক যোগে আন্দোলন শুরু করলে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্দোলন না করার পরামর্শ দিয়ে এবং বিএনপির পক্ষে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশে ২০০৬ সালের নবেম্বরে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই নির্বাচনের ফর্মুলা দিয়েছিলেন । সে সময় তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিবর্তে দুই জোটের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নির্বাচনী পরামর্শক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আবার প্রস্তাব করেন যে এক বছরের জন্য একটি সরকার গঠন করার জন্য । তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী সর্বশেষ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত জোট নেত্রী (বেগম খালেদা জিয়া) হবেন সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী। আর উপ-প্রধানমন্ত্রী হবেন সংখ্যালঘু আসনে বিজয়ী দল বা জোট থেকে। তখন সেই জোটের নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা। তবে দুই পক্ষ চাইলে সেই সরকার দুই বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলেও প্রস্তাব দেন ইউনূস। ইউনূসের প্রস্তাব অনুযায়ী মেয়াদ শেষে সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এবং তার ফল সব পক্ষকে মেনে নিতে হবে। ২০০৬ সালে জনগণ ডঃ ইউনুছের কথা শুনেনি । লম্বা ইতিহাস আমরা জানি । নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট ক্ষমতাসীন হল ।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন “নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে অশান্তি সৃষ্টি হবে। যে শান্তি দিতে পারবে, তাকেই নির্বাচিত করতে হবে”। “নির্বাচন সুষ্ঠু” মানেই বিএনপি-জমাত-হেফাজাতুল এর নির্বাচনে জিতা এবং সেই কারনেই আবার বলেছেন “যে শান্তি দিতে পারবে, তাকেই নির্বাচিত করতে হবে“– এর অর্থ হল “এই শান্তির জন্যই বিএনপি-জমাত-হেফাজাতুলকে ভোট দিতে হবে” । অতএব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তি কিরকম একটু বিশ্লেষণ করে দেখা যাকঃ
- বাংলাদেশের গার্মেন্টস এর জন্য জিএসপি চলে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করা এবং গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের জন্য কোন ধরনের ভুমিকা বা সহায়তা না করা । অতএব জিএসপি চলে যাওয়ার পর তাঁর কোন ধরনের ভুমিকা না নেওয়া, বরং নিজে অপপ্রচার করে এবং অন্যকে অপপ্রচারে সহায়তা বা উৎসাহিত করে ।
- কখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে কথা না বলা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ কথা না বলা । কখনো শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা না জানা্নো এবং কখনও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে বা স্মৃতিসৌধে না যাওয়া ইত্যাদি । আর তাই তার শান্তির বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সময়োপযোগী কিংবা জনগণরে স্বার্থে এর পক্ষে নয় ।
- একজন ড. ইউনুস ক্ষমতার জন্য পাগল, এটাকে আর যাহা হউক শান্তি বলা যায় না।
- ডঃ ইউনুছ কোন দিনই ধর্ম বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে মসজিদে নামাজ আদায় করতেও দেখা যায়নি । তাছাড়া তিনি সমকামিতায় বিশ্বাসী হয়ে এবং সম্মতি দিয়ে অন্য নোবেল বিজয়ীর সাথে বক্তব্যও দিয়েছিলেন । ডঃ ইউনুছ কোন দিন নামাজ আদায় না করে এবং সমকামিতায় বিশ্বাসী হয়ে কিভাবে শান্তির পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলে ? জনগণই বলুন ????
- ডঃ ইউনুছের শান্তির পক্ষে সমর্থন আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য গ্রামীণ ব্যাংকের লক্ষ লক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে জরিপ চালায়ে, এদের ১৫ শতাংশ মানুষও উনাকে সমর্থন করে কিনা দেখা যেতে পারে ।
- ডঃ ইউনুছের শান্তির পক্ষে সমর্থন আছে কিনা তা আমরা ২০০৭-২০০৮ সালেই দেখেছি "গনশক্তি" দল গঠনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ।
- ডঃ ইউনুছ শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে পদ্মা সেতু না হওয়া এবং গার্মেন্টস জিএসপি বাতিল এর জন্য যেখানে যা করার দরকার তাই করলো ।
- ডঃ ইউনুছের পূর্ব পুরুষও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কিন্তু বিশেষ ভাবাপন্ন বা দলের অনুগত ছিলেন, ১৯৭১ এ । তাই তাঁর মুখেও কখনো ১৯৭১ সাল নিয়ে কোন বাক্য আজ পর্যন্ত কেউ শুনেনি। এটা একপ্রকার রাজাকারি মানসিকতা । রাজাকারি মানসিকতা কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে এবং শান্তির পক্ষে ভোট দিতে বলে ????
- ডঃ ইউনুছ কী নির্দলীয় সরকারের প্রধান সেজে জামাত-বিএনপিকে ক্ষমতায় এনে দেশটাকে পাকিস্তান স্টাইলে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য তারেকের সঙ্গে জয়েন্ট ভেন্চারে আমেরিকান অস্ত্রের নতুন ব্যবসা খুলতে চান । আর তাই ঢাকা ও বগুড়ায় অনেক অস্ত্র সহ জঙ্গি গ্রেফতার করার পর বা জঙ্গি প্রশিক্ষনের আস্তনা সনাক্ত করার পরও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নাই । তাই জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে বলেই কিভাবে শান্তির জন্য বিএনপি-জমাত-হেফাজাতুল এর নির্বাচনে জিতার পক্ষে বানী দিলেন । তাহলে শান্তির ধরনটা কি জঙ্গিবাদ ???
- ডঃ ইউনুছ শান্তির পক্ষে বিএনপি-জমাত-হেফাজাতুল তথা জঙ্গিদের জন্য ভোট চাইলেন । খুবই ভাল কথা । কিন্তু আইলা, নার্গিস, সাভার দুর্ঘটনা, ঝড়, সাইক্লোন, গনহত্যা, সংখ্যালঘু নিপিড়ন, এতো প্রাকৃতিক বা মানব রচিত দুর্যোগ,মানবতার এতো লাঞ্চনা, কখনো কী উনাকে জনগণ পাশে পেয়েছে ???
"আমরা শান্তি চাই। শান্তির শুরু হয় নির্বাচন দিয়ে।" আমি মনে করি এটা ঠিক না , অন্তত ২০০১ সালের নির্বাচনের পরের ঘটনা তা প্রমান করেনা। এক মহা অশান্তির সৃষ্টি হযেছিল নির্বাচনের পরে। আপনি তখন নির্যাতিতদের পাশে দাড়াননি এমন কি কোনো বিবৃতি দেন নি ।এখন যেমন অহরহ দিচ্ছেন। আমার মনে হয় আপনি জঙ্গিবাদকে, তেঁতুল তত্ত্বকে, সমকামিতাকে সমর্থন করে, এই মুহুর্তে একজন নিজে বিতর্কিত ব্যক্তি ।
ডঃ ইউনুছ কি করে মনে যে বিএনপি-জমাত-হেফাজত ক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে ? গত বিএনপি আমলে জেএমবি, বাংলা ভাইদের মত মৌলবাদী সংগঠনগুলো সরকারের চত্রছায়ায় থেকে কি করেছে তা কি আমরা ভূলে গেছি ? হাওয়া ভবনের দূর্নীতির কথা কি আমরা ভূলে গেছি ?
ডঃ ইউনুছ গ্রামীণফোন থেকে পাওয়া ১০ হাজার কোটি টাকার হিসাবটা কিন্তু জনগণ কে দিলেন না! তাছাড়া ৫৪ টা গ্রামীণ ব্যাংকের কোম্পানীর মালিক কি ডঃ ইউনুছ ? নাকি গ্রামীন ব্যাংকের দরিদ্র সদস্যগন??...শান্তির শুরু কিন্তু নিবাচন দিয়ে নয়, শান্তির শুরু হয় মানবাধীকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে । আবার মানবাধীকার প্রতিষ্ঠা আর মানবাধীকারের নামে মিথ্যাচার এককথা নয় ।
আস্তে আস্তে খোলস খুলে ডঃ ইউনুছের আসল চেহারা বেড়িয়ে আসতে শুরু হয়েছে । জনগণকে অনুরধ করবো অপেক্ষা করুন আর কয়েকটা মাস। ডঃ ইউনুছকে সবাই চিনতে পারবেন । অর্থনীতি রেখে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার শান্তিটা দেশের জনগণ বুঝতে পারবে। আগের চেয়ে মানবাধিকারদের অবস্থা খারাপ ?? ২০০১-২০০৬ সালের দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। ডঃ ইউনুছের কাছে মানবাধিকার ভাল ছিল । সারা দেশ ব্যাপী জঙ্গিদের স্বর্গ রাজ্য ছিল, সংখ্যালঘুদের উপর নেমে আসছিল খড়গ, এক ভোলাতে এক রাত্রে ২০০ সংখ্যালঘুর নারীকে রেপ করা হয়েছিল । বিনা বিচারে মানুষকে ৫৪ ধারায় জেলে আটকে রেখেছিল দিনে পর দিন। শান্তির বিষ পোড়া ইসরাইলের প্রধান মন্ত্রী শিমুন প্যারেস শান্তিতে নোবেল পেয়েছে। কিন্তু মহাত্ন গান্ধী কিংবা মার্টিন লুথার কিং পাইনি।
ড. ইউনূসের সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, আমরা একটি অবাদ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আগামী সংসদ নির্বাচন চাই । এটাই আমাদের আসল কাজ । এই অবাদ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে এমন কোন কারন নেই । আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যেই ৮০০০ হাজারের বেশী নির্বাচন করে পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে । বিএনপির খালেদার গত দুই শাসনামলে এরকম নির্বাচনে চরম ব্যর্থতার স্বাক্ষর রেখেছে । ২০০৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ যে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছেন তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটা মাইল ফলক হয়ে থাকবে । এখান থেকেই আমরা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মত করেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে পারি । তাই বর্তমান বিশ্বে মিডিয়ার যে সাফল্যের সেখানে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোন প্রয়োজন নেই।
©somewhere in net ltd.