নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কলমই শক্তি

সৎ ভাবে চলা। দেশের জন্য কাজ করা। অপরের সাথে শেয়ার করা।

কলম বক্তা

প্রকৌশলী ।

কলম বক্তা › বিস্তারিত পোস্টঃ

হেফাজতের ঘটনায় ১৩ জনের বেশি নিহত হয়নি অধিকারের প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত :ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:০২

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়ে যারাই মিথ্যা প্রচারণা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অতিরিক্ত আইজি এ কে এম শহিদুল হক। একই সঙ্গে ওই দিনের ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যে ৬ জন ছিলেন হেফাজতে ইসলামের কর্মী। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ বলপ্রয়োগ করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে। এর বাইরে অধিকারের প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে, তা পুরোটাই 'মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলেও দাবি করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পুলিশ সদর দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ডিএমপিরও কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।



হেফাজতের ৫ মে রাতের ঘটনার বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে জনসাধারণের সামনে পুলিশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি বিশেষ মহল বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শহিদুল হক। তিনি বলেন, ওইদিন হেফাজতে ইসলাম বেলা ২টা পর্যন্ত তাদের দোয়া পরিচালনা করে মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে চলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আর একারণেই পুলিশ তাদের সেখানে সভা করার অনুমতি দেয়। কারণ এর আগে ৬ এপ্রিল হেফাজত শান্তিপূর্ণভাবে মতিঝিলে সমাবেশ করেছিল। এবার ঢাকার ৬টি প্রবেশপথে তারা অবরোধ করবে এবং স্বল্পসংখ্যক লোক মতিঝিলের শাপলা চত্বরে দোয়া করে চলে যাবে- এমনটাই কথা ছিল। গোয়েন্দা তথ্যে আমরা জানতে পারি হেফাজতের সাথে স্বার্থান্বেষী বিশেষ মহল সেখানে অবস্থান করবে। পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যায় হেফাজতের প্রধান আল্লামা শফি লালবাগ শাহী মসজিদ থেকে শাপলা চত্বরে আসার পথে পলাশী মোড় থেকে ফিরে চলে যান। এ ঘটনায় পুলিশ বুঝতে পারে, শাপলা চত্বর আল্লামা শফির নিয়ন্ত্রণে নেই। এমন অবস্থায় জন নিরাপত্তা ও জনমনের আতংক দূর করতে শাপলা চত্বর থেকে তাদের সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।



শহিদুল হক বলেন, আমরা অভিযানের আগে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছি জান-মালের যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়। এজন্য তাদের মাইকিং করে শাপলা চত্বর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর আতংক সৃষ্টি করে তাদের সরানোর জন্য জলকামান, শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। 'চারটি ছাড়া আমরা আর কোনো লাশ পাইনি' উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'অভিযানের সময় সেখানে কাফন মোড়ানো ৪ টি মৃতদেহ পাওয়া যায়, যেগুলো জানাজার জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল বলে আমরা জানতে পারি। এই চারটি ছাড়া আমরা আর কোন লাশ পাইনি।' এছাড়াও দিনের সহিংসতায় নিহত আরও ২ জনের লাশ পাওয়া যায়। মতিঝিল ও পল্টন থানার হিসাব অনুযায়ী ৫ ও ৬ মে মোট ১৩টি মৃতদেহ পাওয়া যায়। ১২টি লাশ ১২টি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১টির পরিচয় না পাওয়ায় তা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়।



অধিকারের প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, ঘটনার পর 'অধিকার' নামে একটি সংগঠন নিহত ৬১ জনের যে নামের তালিকা প্রকাশ করেছে তা আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখেছি। এর মধ্যে ১৮ জনের নাম ও পরিচয়ের কোন অস্তিত্ব নেই, ৫ জনের নাম দুইবার করে লেখা হয়েছে, ৪ জন এখনো জীবিত এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের সাক্ষাত্কার প্রচার করা হয়েছে। অধিকারের তালিকা অনুযায়ী বাকি ২৬ জনের মধ্যে ১৩ জনের সন্ধান পুলিশ দিয়েছে আর বাকি ১৩ জনের কোন হদিস পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, হেফাজতের ঐ ঘটনায় কেউ আহত হয়ে দেশের বাড়িতে গিয়ে মারা গেলে তার দায়-দায়িত্ব পুলিশ নেবে না। তাদের কাছ থেকে তালিকা চাইলে নিহতদের আত্মীয়-স্বজনের নিরাপত্তাহীন হওয়ার অজুহাতে তারা পুলিশকে সেই তালিকা দেয়নি। বাকি যে সব নিহতের কথা বলা হয়েছে, তাদের ঠিকানা বা পরিচিতি পুলিশকে অবহিত করা হয়নি।



শহিদুল হক আরও জানান, ঐ দিনের ঘটনায় শুধু কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক হেফাজত জড়িত থাকলে এ ঘটনা ঘটতো না। তাদের সাথে একটি বিশেষ মহলের যোগসূত্র রয়েছে। কারা এই বিশেষ মহল- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। হেফাজতের ঐদিনের ঘটনার পরদিন সকালে আল্লামা শফি ভারপ্রাপ্ত আইজিপির কাছে সাহায্য চেয়েছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এরপর লালবাগ থেকে পুলিশ হেফাজতে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে তাকে পুলিশী পাহারায় হাট-হাজারীর মাদ্রাসায় পৌঁছে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশ জনগণের সেবায় নিয়োজিত, আমরা চাই না পুলিশী কোনো অভিযানে একটা লোক মারা যাক, কিন্তু জামায়াত-শিবির প্রতিবার পুলিশ সদস্যদের টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। সেখানেও পুলিশ ধৈর্যের সাথে তাদের হামলা মোকাবিলা করছে।



ব্রিফিংয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ১৩ জনের বেশি একজনও হেফাজতের ঘটনায় মারা যায়নি। ঐ ঘটনায় প্রমাণসহ আর একটি মৃত লোকের সন্ধান চেয়ে আমার চ্যালেঞ্জ কেউ গ্রহণ করেনি। অধিকার তাদের রিপোর্টে বলেছিল হেফাজতের লোক কোন অন্যায় করেনি, পুলিশ তাদের ওপর অত্যাচার করেছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উচ্চ পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। ধর্ম সম্পর্কে তিনি বলেন, ধর্মকে আমরা কখনই খাটো করে দেখি না। যে কোনো ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার চালালে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে কেউ বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার করলে তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান।



আদিল-এলানের বিচার সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে



বিডি নিউজ জানায়, অধিকার সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে গঠিত মামলার বিচার হবে নবগঠিত সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে।



ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন জানান, তাদের আদালত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে এই মামলার নথি বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী রবিবার ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের এজলাসের দরজার ওপরে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের সাইনবোর্ড লাগানো হবে। এ মামলা দিয়েই হবে এ এজলাসের উদ্বোধন। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক থাকবেন জেলা জজ সমমর্যাদার বিচারক একেএম শামসুল আলম। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে, ব্লগারদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে করা মামলার বিচারও সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে হবে।



২০০৬ সালের তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি আইন (সংশোধিত ২০০৯) আইনে এই ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়।



Click This Link

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.