নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি মেহেদি হাসান, মি. বিকেল নামে পরিচিত। আমি একজন লেখক, অভিনেতা, সমাজকর্মী, রেডিও জকি, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপার, সম্পাদক, উপস্থাপক, রক্তদাতা, এবং নাট্য পরিচালক। মাইক্রোসফটে ডেভেলপার হিসেবে কর্মরত এবং গল্প বলা আমার প্রধান পরিচয়।

মি. বিকেল

আমি মোঃ মেহেদি হাসান, কলম নাম মি. বিকেল।

মি. বিকেল › বিস্তারিত পোস্টঃ

মার্কেটিং লেভেল অ্যান্ড দ্য এআই বাবল

৩১ শে আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৩:১৩



বর্তমান সময়ে ঘুম থেকে উঠে যদি নতুন আরো একটি ‘AI’ চ্যাটবট খুঁজে পান তাহলে আর অবাক হবেন না। গত প্রায় ২ বছরেও বেশি সময় ধরে আমি আমার অস্তিত্ব সংকট নিয়ে ভুগছি। বিশেষ করে আমার ‘লেখক’ পরিচয়ের অস্তিত্ব নিয়ে। কিছুটা ঐ মিথ্যাবাদী রাখালের মত, “বাঘ এসেছে… বাঘ এসেছে…” যদিও ঐ গল্পে (The Boy Who Cried Wolf) বাঘ সত্যিই একদিন এসে গেলেও ‘AI’ এর দুনিয়ায় আপাতত ‘AGI’ আসছে না। অন্তত এই আর্কিটেকচারে তো সম্ভব বলে মনে হচ্ছে না।

স্যাম অল্টম্যান হলেন ‘মিথ্যাবাদী রাখাল ও বাঘ’ গল্পের রাখালের চেয়েও বড় মিথ্যাবাদী একজন মানুষ। তিনি নেক্সট লেভেলের একটা মার্কেটিং আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমরা সবাই ‘GPT-5’ নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম, কারণ স্যাম অল্টম্যান। ‘GPT-5’ নাকি ‘AGI’ স্তরের কিছু হবে এবং আমাদের সবার চোখ ধাঁধানো অবস্থা হবে। ইতিমধ্যেই ‘GPT-5’ নিয়ে শুধু মানুষ হতাশ নয়, এই ‘AI’ প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। মানছি, GPT-5 বেশ উন্নত কিন্তু ‘AGI’, ‘ASI’... এজেন্ট ১… এজেন্ট ২… এজেন্ট ৩… এসব এখন পর্যন্ত সায়েন্স ফিকশনেই রয়ে গেছে।

দেখুন, এক যুগ ধরে গড়ে তোলা দক্ষতা মানে আমার কাছে এবং একসময়ের পৃথিবীর কাছে দক্ষতা মনে হলেও বর্তমানে সেটাকে দক্ষতা বিবেচনা করা হবে না। নতুন দক্ষতা লাগবে। কারণ এখন সবাই লেখক। শুরু শুরুতে এমন বক্তব্য অনেকেই দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন।

২০২২ সালের শেষের দিকে ‘ChatGPT’ বাজারে আসে আর এরপর অবিশ্বাস্য বিনিয়োগ দেখা যায় এই ‘AI’ ভিত্তিক চ্যাটবট মডেল তৈরিতে। শুরু শুরুতে ‘ChatGPT’ সহ Gemini, Claude, Copilot, DeepSeek, Perplexity, Qwen, KIMi সব মডেলেই নানান রকম সমস্যা দেখা দেয়। প্রশ্ন-ই ঠিকমতো বুঝতো না, উত্তরেও প্রচুর ভুল। যেমন: বাংলাদেশের জাতীয় ফুল হলো গোলাপ!

এরপর বলা হলো, AI এত বেশি তথ্য জানে যে, সে হয়তো ‘Hallucinate’ করছে। মানে হলো, এত তথ্য হজম করতে পারছে না ফলে বদহজম হওয়ায় বমি করছে। কিন্তু কেউ-ই বলে নাই যে, AI ভুল করছে, উল্টো AI এর এই ভুলের জন্য পুরো একটি নতুন শব্দ আবিষ্কার করেছে। একটু খেয়াল করুন, মানুষ এরকম ভুল করলে সেটাকে কি বলতেন? তিনি ‘Hallucinate’ করছেন!

হাজারহোক মার্কেটিং টা অন্তত নেক্সট লেভেলের হওয়া জরুরী ছিলো। আবার একটা মানুষ কীভাবে এত নেতিবাচক চিন্তার হতে পারে? GPT-5 মুক্তির ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে স্যাম অল্টম্যান টুইটারে (X) একটি ছবি শেয়ার করেন। কোনও ক্যাপশন ছাড়াই। যেখানে স্টার ওয়ার্স-এর ‘Death Star’ ধীরে ধীরে একটি পৃথিবী-সদৃশ গ্রহের দিকে উঠে আসছে। পরে অবশ্য কথা ঘুরিয়েছেন কিন্তু সমালোচকদের মতে, ওটা কোনো কোনো স্টারের মৃত্যু নয়, পৃথিবীর মৃত্যু ছিলো।

আমার কোনো আপত্তি নাই যদি AI এক Prompt -এর মাধ্যমে একটি পুরো বই লিখে দেয়, এক Prompt -এর মাধ্যমে একটি পুরো ওয়েবসাইটের বাকেন্ড+ফ্রন্টেন্ড প্রস্তুত করে দেয়, এক Prompt -এর মাধ্যমে একটি পুরো সিনেমা/সিরিজ তৈরি করে দেয়, সাথে গান ও বাকগ্রাউন্ড সাউন্ড যুক্ত থাকুক। এক prompt-এ একজন মানুষের সমস্ত রোগ নির্ণয় এবং তার চিকিৎসা পর্যন্ত হয়ে যাক এবং নিজেই ফর্মুলা তৈরি করে ঔষধ দিয়ে সব ঠিক করে দেয়… কারো কোনো কাজ করার দরকার নাই, সবাইকে শুধু একটি AI -এর সাবক্রিপশন ক্রয় করতে হবে। তারপর মরার পরে ‘Black Mirror’ সিরিজের একটি এপিসোডের মত আমরা ক্লাউডে আমাদের পুরো কনশাস রাখবো, মানে সচেতনতা।

AI হয়তো কোনো একদিন অনেককিছু করতে পারবে কিন্তু হঠাৎ এমন চিন্তা মানুষদের মধ্যে বিরাট ভীতি ও শঙ্কার তৈরি করেছে। কিন্তু এই ভীতির বা অস্তিত্ব সংকটের কোনো অস্তিত্ব আপাতত বা অদূর ভবিষ্যতে আমি দেখতে পাচ্ছি না।

আমি নিয়মিত বিভিন্ন AI মডেল বা চ্যাটবট নিজের মত করে পরীক্ষা করি এবং এসব বিষয়ে একাধিক পডকাস্ট শুনি। মানে এখন ইউটিউব খুললেই কেউ না কেউ জ্ঞান দিচ্ছে, “AI আসছে… পৃথিবী ধ্বংস হতে যাচ্ছে… আপনি কি প্রস্তুত?” মানে কেন পৃথিবী এত তাড়াতাড়ি ধ্বংস করার প্রয়োজন পড়লো?

এক পডকাস্টে তো এরকম একটি শিরোনাম লিখা ছিলো, “কষ্টকরে শুধু ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকুন!” মানে হলো এরপর আপনি ‘অমর’ হয়ে যাবেন। ভাবা যায়? গালগল্পেরও একটা সীমা থাকে। আরেক পডকাস্টে বলছে, “এখন যেটুকু সময় আপনি বেঁচে আছেন শুধু সায়েন্স ফিকশন লিখুন।” কেন? কারণ ভবিষ্যতে AI এসে আপনার ঐ সায়েন্স ফিকশন পড়তে পারে এবং সে অনুযায়ী মানুষকে সে পৃথিবীতে রাখবে কি রাখবে না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গাজায় যেভাবে মানুষ মরছে বা মারছে সেটা থেকে মানবিকতার বাণী এমনিতেই আর শুনতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু পুরো পৃথিবীকেই ‘গাজা উপত্যকা’ বানানো এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো কেনো? তবে কি ইলন মাস্ক চাঁদকে কলোনি করেই ফেলেছেন! বেচারা গরীব আমি পৃথিবীতেই থেকে গেলাম। আমাকে এখন এখানে কীট-পতঙ্গের মত মরতে হবে। সর্বশেষ আমার লেখা দুটো সায়েন্স ফিকশন গল্প যদি AI কখনো পড়ে তাহলে নিশ্চয় সে আমার অমরত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।

ফিরছি ‘ChatGPT’ -এর ‘GPT-5’ মডেলে। শুরু শুরতে ‘ChatGPT’ সদ্যজাত শিশু থেকে 4.o ভার্সন পর্যন্ত মানুষের মন জয় করেছে। কিন্তু GPT-4.5 থেকে GPT-5 -এ আপডেট হলেও এখন পর্যন্ত একটি ঠিকঠাক আর্টিকেল লিখতে পারছে না। প্রবন্ধ বাদ দেন, একটা ঠিকঠাক নিবন্ধ লিখে দিতে পারছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে লেখায় প্রাণ নাই, তাও মেনে নিছি। সবাই তবুও লেখক হতে পারছেন। কিন্তু এরপর লক্ষ্য করলাম তথ্যের বিভ্রান্তি। যদি আউটলাইন দেখে সব তথ্যই যাচাই করতে হয় তাহলে AI ব্যবহার করার কি দরকার?

আমি নিজে খেয়াল করে দেখেছি, আমার স্বাভাবিক টাইপিং গতিতে একটি আর্টিকেল দাঁড় করাতে সর্বোচ্চ ২-২.৫ ঘন্টার মত সময় লাগে। ক্ষেত্রবিশেষে সেটা ৩-৫ ঘন্টা; যদি পড়াশোনা করে লিখতে হয়। কিন্তু AI অনেক দ্রুত উত্তর দিলেও এবং প্রয়োজনীয় ধারণা দিলেও একটি আউটলাইন উপহার দেয়। মানে সেটা তথ্যবহুল নিষ্প্রাণ প্রবন্ধ বা গল্প হোক। অতিরিক্ত আরো ১ ঘন্টা বা ক্ষেত্রবিশেষে তারও বেশি সময় লাগে তথ্য যাচাই-বাছাই করতে।

এরপর যখন ঐ লেখা ব্লগ, সাইট, কন্টেন্ট, গল্প বাংলা/ইংরেজি যে কোনো ফর্মে জমা দিতে বা বিক্রয় করতে গেলে মানুষ/নির্দিষ্ট প্লাটফর্ম সাড়া দিতে চান না। মন্তব্যও শূন্যের কাছে চলে যায়। মানে হলো, মানুষ ঐ টাইপের লেখা পড়তেই আগ্রহী নন। ৯০% পাঠক ঐ ধরণের লেখা আমলেই নিচ্ছেন না, ব্লগে নির্বাচিত লেখার মধ্যে যেতেই পারছি না, সাইটে ডলার সাইনে নতুন নম্বর দেখছি না!

এই হলো জনাব স্যাম অল্টম্যানের ‘AGI’ বা ‘GPT-5’। তাইলে ভাবুন, ASI কি ভয়ানক হতে পারে? আর এজেন্ট ১ এসে কী কী উদ্ধার করতে পারে? একটু গভীর প্রশ্ন হলেই সে সার্চ করে করে সকল বিশ্বস্ত প্লাটফর্ম থেকে তথ্য নিয়ে উত্তর দিচ্ছে। একদিন ChatGPT -এর কথামতো ল্যাপটপের গতি বাড়াতে গিয়ে ভুল CMD দিয়ে সব অ্যাপ্লিকেশন উড়িয়ে দিয়েছিলাম। ভাবা যায়!

তবুও মানি এখন পর্যন্ত প্রযুক্তি জগতে AI চ্যাটবট অনেক বড় অর্জন। জ্ঞান বা তথ্য এখন অনেক বেশি গণতান্ত্রিক। আর আমি নিজেও চাই, AI অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমাদের সাহায্য করুক, পৃথিবী ধ্বংস না করে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ুক। আর মার্কেটিং এর কালো ছায়ার কারণে মানুষের মধ্যে এই অযাচিত ভূত প্রবেশ না করুক। “সব চলে যাবে… সব শেষ হয়ে যাবে… মানুষের দাম থাকবে না…” তাইলে এমন প্রযুক্তির কি দরকার?

জনাব স্যাম অল্টম্যানের একটি উক্তি দিয়েই আজ শেষ করছি, খুব সম্ভবত তিনি নিজেই নিজেকে ব্যঙ্গ করেছেন,

“When bubbles happen, smart people get overexcited about a kernel of truth … Are we in a phase where investors as a whole are overexcited about AI? My opinion is YES.”

ছবি: Gemini

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৩:৫৬

অপলক বলেছেন: আশাবাদী লেখা... ভাল লাগল।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.