| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
২৯ জুন ২০১৪ ইসলামিক ওয়েবসাইটে এবং টুইটারে প্রকাশিত এক বিবৃতির মাধ্যমে সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অংশ দখল করে নেয় ইরাকের সুন্নী বিদ্রোহীদের সংগঠন ‘ইসলামি স্টেট(IS)’। নিজেদের দখলকৃত এলাকাকে তারা ইসলামী খেলাফত হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং স্বীকৃতির জন্য মুসলিম বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানায়। IS এর জন্ম অবশ্য আরও আগে। ২০১৩ সালে আলকায়েদা থেকে পৃথক হয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দ্য ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ত(ISIL)’ যার অন্য নাম ‘ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া(ISIS) । পরবর্তিতে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইসলামিক স্টেট(IS)’
সৌদি আরবে আঠার শতকে বিকশিত সুন্নিপন্থী ওহাবি মতাদর্শের অনুসারী এই সংগঠনের সদস্যরা। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ধনী জিহাদী সংগঠন এটি। হাজার হাজার বিদেশী যোদ্ধা থাকা গোষ্ঠীটি অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের কলাকৌশলের দিক থেকেও বেশ অগ্রসরমান। সংগঠনটির প্রধান আবু বকর আল বাগদাদি, যিনি ‘আবু দুয়া’ নামে পরিচিত।
সম্প্রতি দুজন মার্কিন সাংবাদিকের শিরশ্ছেদের ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে জঙ্গি সংগঠনটি। ইসলামিক স্টেট তাদের যোদ্ধাদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলার প্রতিশোধ সরূপ এমনটি করছে বলে জানা যায়। তারা হুশিয়ার করে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসলামিক স্টেট এর উপর হামলা অব্যাহত রাখে তবে এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি তারা ঘটাবে। ওদিকে বুধবার আলকায়েদার প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন যে উপমহাদেশে আলকায়েদার জিহাদের পতাকা বিস্তৃত করা হবে। জাওয়াহিরি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে আলো কায়েদার এ শাখা মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম, গুজরাট, জম্মু ও কাশ্মীরের মুসলমানদের অন্যায় অবিচার থেকে রক্ষা করবে। বিশ্লেষকেরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, আলকায়েদা নতুন করে আবারো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার জন্যই এমন কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে। আলকায়েদা থেকে আলাদা হয়ে গঠিত হওয়া সংগঠন ইসলামিক স্টেট সেই আলকায়েদাকেই ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে প্রভাবশালী জঙ্গি সংগঠন যেটা আলকায়েদার জন্য চক্ষুশূল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলকায়েদা চাইছে মূলত এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে ত্রাসের জগতে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দবিন্দুতে থাকতে। এদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আলকায়েদা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার জন্যই হোক কিংবা আগ্রাসী মনোভাব ব্যক্ত করার জন্যই হোক তাদের এই হুমকি কোন ভাবেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই বাংলাদেশের সরকারের। ভারতীয় উপমহাদেশে জঙ্গিবাদের মূল অনেক আগেই জন্ম নিয়ে ফেলেছে। এখন আলকায়েদার মত জঙ্গি সংগঠনের সরাসরি কার্যক্রম যদি শুরু হয়েই যায় তবে তা একই সাথে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং বাংলাদেশের জন্য নিয়ে আসবে চরম বিপর্যয়।
©somewhere in net ltd.