| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজধানীর মগবাজারে গত ১৯ আগস্ট সাতজনকে গুলি করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩০ লাখ টাকা ছিনতাই করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার দুদিন আগে মিরপুরে এক ব্যবসায়ী ছিনতাই এর শিকার হন এবং ছিনতাইকারীদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন। গত ২৮ আগস্ট মগবাজারে সোনালীবাগে বাসায় ঢুকে নারীসহ তিনজনকে গুলিকরে হত্যা করা হয়। প্রত্যেকটি অপরাধ সংঘটনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করতে পারলেও অপরাধ কার্যে ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। শুধুমাত্র মগবাজার, মিরপুর কিংবা সোনালীবাগ নয়; গত তিন মাসে রাজধানীতে শতাধিক ছিনতাই এবং হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। গত আগস্ট মাসে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জেই খুন হন ২৭ জন। ৩০ আগস্ট প্রকাশ্যে আধাননগর নদীধারা আবাসিক এলাকায় খুন হন আবদুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর উপর গুলিবর্ষন করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিহত হন তার ছেলে । এর এক দিন পরেই অর্থাৎ গত শুক্রবারে বাড্ডায় বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে গুলিবিদ্ধ করে সন্ত্রাসীরা।
রাজধানীতে খুন, ছিনতাইয়ের মত অপরাধকর্মে ব্যবহার হয় মূলত ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র। একের পর এক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে অপরাধের সংখ্যা দিনদিন বাড়লেও প্রশাসন যেন সেসব অস্ত্র উদ্ধারে একেবারেই নির্লিপ্ত। পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ এবং র্যাবব নিয়মিতই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাফল্য দেখায় বেশ। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব বিশেষ অভিযানের সংখ্যা ধীরে ধীরে বেশ কমে আসতে থেকে, যার ফলাফল সরূপ রাজধানী হয়ে ওঠে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের এক স্বর্গরাজ্য। সম্প্রতি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া এবগ সেসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া প্রসঙ্গে র্যা বের মুখপাত্র একটি সংবাদ মাধ্যমে বলেন, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা র্যাজবের মৌলিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে র্যাববের সাফল্যও রয়েছে। তবে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে সাম্প্রতিক এমন কয়েকটি ঘটনাও র্যািব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
গোয়েন্দা মাধ্যমগুলো বলছে, বেশিরভাগ অবৈধ অস্ত্র ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অপরাধকর্মে সেগুলো ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়ে একসময় ঠিকই ফিরে আসে মূল মালিকের কাছে। এসব অস্ত্রের মূল মালিক অনেক ক্ষেত্রে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়াতে প্রশাসনের নজরের আড়ালেই থেকে যায় খুন, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত সেসব অবৈধ অস্ত্র। সেই সাথে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা তো আছেই। অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তাতে ঢাকাকে মসজিদের শহর না বলে অবৈধ অস্ত্রের শহর বলাই শ্রেয় হবে।
©somewhere in net ltd.