নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

হাদীস কাকে বলে? হাদীস কত প্রকার ও কি কি? সর্বোচ্চ সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী কয়েকজন সাহাবি এবং প্রধান প্রধান হাদীসগ্রন্থগুলো

২৬ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



প্রাককথন:
হাদীসের উপরে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বৃহত আকারের পুস্তকের প্রয়োজন। আর একথা জ্ঞানী ব্যক্তি মাত্রেরই জানা রয়েছে যে, শুধুমাত্র হাদীস এবং উসূলে হাদীস বিষয়ের উপরে অসংখ্য বহু মূল্যবান কিতাব বিগত প্রায় দেড় হাজার বছরে পৃথিবীজুড়ে বিভিন্ন ভাষায় রচিত, পঠিত এবং সমাদৃত হয়ে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ, কলেবর বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে অত্র নিবন্ধে শুধু হাদীস বিষয়ক মৌলিক ধারণা তুলে ধরারই চেষ্টা করা হবে ইনশাআল্লাহু তাআ'লা। প্রথমেই হাদীসের প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করার প্রয়াস পাব। বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে হাদীসের প্রকার-প্রকরণ বিবেচনা করেছেন মুহাদ্দিসীনে কিরাম।

হাদীসের সংজ্ঞা:
হাদীস (ﺣَﺪِﻳْﺚ ) এর শাব্দিক অর্থ- নতুন; প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্তু পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম (ﷺ ) আল্লাহর রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন।

হাদীসের সংজ্ঞায় কেউ কেউ বলেন- হাদিস (আরবিতে الحديث) হলো মূলত: ইসলাম ধর্মের সর্বশেষ ঐশীবাণীবাহক হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী ও জীবনাচরণ। হাদিসের উপদেশ মুসলমানদের জীবনাচরণ ও ব্যবহারবিধির অন্যতম পথনির্দেশ। আল কুরআন ইসলামের মৌলিক গ্রন্থ এবং অসংখ্য হাদিস সম্ভারকে তার ব্যাখ্যা হিসেবেও অভিহিত করা যায়।

আল্লামা হাফেজ সাখাবী (রহ) বলেন-
والحديث لغة ضد القد يم واصطلا حامااضيف الى النبى ﷺ قولا له اوفعلا له اوتقرير اوصفة حتى الحركات والسكنات فى اليقظة والمنام -
অর্থ : আভিধানিক অর্থে হাদীস শব্দটি কাদীম তথা অবিনশ্বরের বিপরীত আর পরিভাষায় বলা হয় রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। চাই তার বক্তব্য হোক বা কর্ম বা অনুমোদন অথবা গুণ এমন কি ঘুমন্ত অবস্থায় বা জাগ্রত অবস্থায় তাঁর গতি ও স্থির সবই হাদীস।

বুখারী শরীফের বিশিষ্ট ব্যাখ্যাগ্রন্থ عمدة القارى এর মধ্যে হাদীস সম্বন্ধে রয়েছে:
علم الحديث هو علم يعرف به اقوال النبى ﷺ وافعاله واخواله –
অর্থ : ইলমে হাদীস এমন বিশেষ জ্ঞান যার সাহায্যে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা, কাজ ও অবস্থা জানতে পারা যায়।

আর ফিক্হবিদদের নিকট হাদীস হল:
اقوال رسول الله ﷺ وافعاله –
অর্থ : হাদীস হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা ও কাজসমূহ।

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক হেড মাওলানা মুফতী সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.) এর মতে, 'হাদীস (حديث) এমন একটি বিষয় যা রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী, কর্ম ও নীরবতা এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবিঈনদের কথা, কর্ম ও মৌন সম্মতিকে বুঝায়।'

হাদীসের সংজ্ঞায় এককথায় বলা যায়, প্রিয়তম রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নবুয়াতী জীবনের সকল কথা, কাজ এবং অনুমোদনই হচ্ছে হাদীস।



--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

হাদীস সংরক্ষণ ও বর্ণনা করার ফযীলত:
হাদীস সংরক্ষণ করা বর্ণনা করা অত্যন্ত ফযীলতময়। কারণ এর মাধ্যমে প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র কালামের হেফাযত করা হয়। আর এরকম ব্যক্তির ব্যাপারে প্রিয়নবী বলেছেন:-
نضرالله امرأسمع مقالتى فوعاهاواداها كماسمع فرب حامل فقه غير فقيه ورب حامل فقه الى من هوافقه منه –
অর্থ : আল্লাহ পাক সেই ব্যক্তিকে সতেজ, ও সমুজ্জ্বল রাখুন, যে আমার কথাগুলো শুনেছে, সংরক্ষণ করেছে এবং অপরজনের নিকট তা পৌঁছে দিয়েছে। (আবু দাউদ)

এই হাদীস আমাদের নিকট তুলে ধরে হাদীস বর্ণনা করার গৌরব ও সম্মান। এজন্যে এই হাদীসের ব্যাখ্যায় কোন কোন মুহাদ্দিস বলেছেন, যে ব্যক্তি মূলত অর্থেই হাদীস সন্ধানী হয় তার চেহারা সজীব বা নূরানী হয়ে ফুটে উঠবে।

শুধু ফযীলত নয়, আল্লাহর রাসূল দোআ করেছেন হাদীস বর্ণনাকারীদের জন্য এবং তাদেরকে নিজের উত্তরসূরী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বলেছেন:
اللهم ارهم خلفائى قالو يارسوالله ومن خلفائك قال الذين يرؤون الاحاديث ويعلمونـها الناس –
অর্থ : হে আল্লাহ, আমার উত্তরসূরীদের প্রতি রহম কর“ন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুাল্লাহ! আপনার উত্তরসূরী কারা? তিনি বলেন, তারাই যারা আমার হাদীস বর্ণনা করে ও মানুষের নিকট শিক্ষা দেয়। হাদীস বর্ণনাকারীরা আরো একটি উপায়ে লাভবান হতে পারে। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, “নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তারাই আমার নিকটবর্তী হবে যারা অধিক হারে আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে।” (তিরমিযী)

এই হাদীসটি ইবনে হিব্বান ও তার হাদীসের গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন এবং বলেছেন এই হাদীস এর ফায়েজ ও বরকত লাভ করবে নিশ্চিতভাবে মুহাদ্দিসানে কেরাম ও হাদীসের শায়খগণ। কারণ তারাই তো অধিক হারে হাদীস পড়ে, লিখে। যতবার হাদীস লিখবে বা পড়বে ততবার তিনি প্রিয়নবীর প্রতি দরূদ সালাম পড়বেন ও লিখবেন। এর ফলে রোজ কিয়ামতে সহজেই তারা প্রিয়নবীর নিকটবর্তী হতে পারবেন।

--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

হাদীসের প্রকারভেদ:
হাদীসের মূল বক্তব্য হিসেবে হাদীস তিন প্রকার। যথা:
১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফে’লী হাদীস: মহানাবী (ﷺ )-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম (ﷺ )-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

রাবীদের সংখ্যা হিসেবে হাদীস তিন প্রকারঃ
১। খবরে মুতাওয়াতির: যে হাদীস এত অধিক সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন যাদেও মিথ্যার উপর একমত হওয়া অসম্ভব।
২। খবরে মাশহুর: প্রত্যেক যুগে অন্তত: তিনজন রাবী রেওয়ায়েত করেছেন,তাকে খবরে মাশহুর বলে, তাকে মুস্তাফিজ ও বলে।
৩। খবরে ওয়াহেদ বা খবরে আহাদ: হাদীস গরীব আজিজ এবং খবরে মাশহুর এ তিন প্রকারের হাদীদকে একত্রে খবরে আহাদ বলে, প্রত্যেকটিকে পৃথক পৃথকভাবে খবরে ওয়াহিদ বলে।

#আযীয হাদীসঃ যে হাদীস প্রত্যেক যুগে অন্তত: দুজন রাবী রেওয়ায়েত করেছেন, তাকে আযীয হাদীস বলে।

#গরীব হাদীসঃ যে হাদীস কোন যুগে মাত্র একজন রাবী বর্ণনা করেছেন। তাকে গরীব হাদীস বলে।

রাবীদের সিলসিলা হিসেবে হাদীস তিন প্রকারঃ
১। মারফু হাদীসঃ যে হাদীসের সনদ রাসুল(সঃ) পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মারফু হাদীস বলে।
২। মাওকুফ হাদীসঃ যে হাদীসের সনদ সাহাবী পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মাওকুফ হাদীস বলে।
৩। মাকতু হাদীসঃ যে হাদীসের সনদ তাবেয়ী পর্যন্ত পৌছাইয়াছে তাকে মাকতু হাদীস বলে।

রাবী বাদ পড়া হিসাবে হাদীস দুই প্রকার-
১। মুত্তাছিল হাদীসঃ যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা সর্বস্তরে ঠিক রয়েছে কোথা ও কোন রাবী বাদ পড়ে না তাকে মুক্তাছিল হাদীস বলে।
২। মুনকাতে হাদীসঃ যে হাদীসের সনদের মধ্যে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুনকাতে হাদীস বলে।

মুনকাতে হাদীস তিন প্রকারঃ
১। মুরসাল হাদীস: যে হাদীসে রাবীর নাম বাদ পড়া শেষের দিকে অথাৎ সাহাবীর নামই বাদ পড়েছে তাকে মুরসাল হাদীস বলে।
২। মুয়াল্লাক হাদীস: যে হাদীসের সনদের প্রথম দিকে রাবীর নাম বাদ পড়েছে অথার্ৎ সাহাবীর পর তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীর নাম বাদ পড়েছে তাকে মুয়াল্লাক হাদীস বলে।
৩। মুদাল হাদীস: যে হাদীসে দুই বা ততোধীক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বিলুপ্ত হয় তাকে মুদাল হাদীস বলে।

বিশ্বস্ততা হিসেবে হাদীস তিন প্রকারঃ
১। সহীহ হাদীসঃ যে হাদীসের বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ধারাবাহিকতা রয়েছে, সনদের প্রতিটি স্তরে বর্ণনাকারীর নাম, বর্ণানাকারীর বিশ্বস্ততা, আস্তাভাজন, স্বরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর কোনস্তরে তাদের সংখ্যা একজন হয়নি তাকে সহীহ হাদীস বলে।
২। হাসান হাদীসঃ সহীহ সবগুনই রয়েছে, তবে তাদের স্বরণ শক্তির যদি কিছুটা দুর্বলতা প্রমাণিত হয় তাকে হাসান হাদীস বলে।
৩। যায়ীফ হাদীসঃ হাসান, সহীহ হাদীসের গুন সমুহ যে হাদীসে পাওয়া না যায় তাকে যায়ীফ হাদীস বলে।

#হাদীসে কুদসীঃ "যে হাদীসের মুল বক্তব্য আল্লাহ সরাসরি রাসূল (সঃ) কে ইলহাম বা স্বপ্ন যোগে জানিয়ে দিয়েছেন, রাসূল (সঃ) নিজ ভাষায় তা বর্ণনা করেছেন তাকে হাদীসে কুদসী বলে।"



--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

ইলমে হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিভাষা:
সুন্নাহ (ﺍﻟﺴﻨﺔ): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (ﺍﻟﺴﻨﺔ) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম (ﷺ ) অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ ( ﺃُﺳْﻮَﺓٌ ﺣَﺴَﻨَﺔٌ ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।
খবর (ﺧﺒﺮ): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (ﺧﺒﺮ ) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।
আসার (ﺃﺛﺮ ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।
সাহাবী (ﺻﺤﺎﺑﻰ): যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ ( ﷺ) এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ )-এর সাহাবী বলা হয়।
তাবেঈ (ﺗﺎﺑﻌﻰ) : যিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ )-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।
তাবে-তাবেঈ ( ﺗﺎﺑﻌﻰ ﺗﺎﺑﻊ ) : যিনি কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।
মুহাদ্দিস (ﻣﺤﺪﺙ) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।
শাইখ (ﺷﻴﺦ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।
শাইখান (ﺷﻴﺨﺎﻥ ) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়।
হাফিয (ﺣﺎﻓﻆ ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।
হুজ্জাত (ﺣﺠﺔ ) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।
হাকিম ( ﺣﺎﻛﻢ ) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।
রিজাল (ﺭﺟﺎﻝ) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।
রিওয়ায়াত (ﺭﻭﺍﻳﺔ ): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।
সনদ (ﺳﻨﺪ ): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।
মতন (ﻣﺘﻦ ): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।
মারফূ ( ﻣﺮﻓﻮﻉ): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে মারফূ হাদীস বলে।
মাওকূফ (ﻣﻮﻗﻮﻑ ) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।
মাকতূ (ﻣﻘﻄﻮﻉ): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।
তা’লীক ( ﺗﻌﻠﻴﻖ): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।
মুদাল্লাস (ﻣﺪﻟﺲ ): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।
মুযতারাব (ﻣﻀﻄﺮﺏ ): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
মুদ্রাজ (ﻣﺪﺭﺝ): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।
মুত্তাসিল (ﻣﺘﺼﻞ ): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।
মুনকাতি (ﻣﻨﻘﻄﻊ ): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।
মুরসাল (ﻣﺮﺳﻞ): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ (ﷺ ) এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।
মু’আল্লাক ( ﻣﻌﻠﻖ ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।
মু‘দাল (ﻣﻌﻀﻞ ): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।
মুতাবি ও শাহিদ ( ﻣﺘﺎﺑﻊ ﻭ ﺷﺎﻫﺪ ): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।
মা‘রূফ ও মুনকার ( ﻣﻌﺮﻭﻑ ﻭ ﻣﻨﻜﺮ ): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।
সহীহ (ﺻﺤﻴﺢ ) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।
হাসান (ﺣﺴﻦ ) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ করেন।
যঈফ (ﺿﻌﻴﻒ ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।
মাওযূ‘ ( ﻣﻮﺿﻮﻉ ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ (ﷺ )-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।
শায (ﺷﺎﺫ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।
কিয়াস (ﻗﻴﺎﺱ ): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।
তাক্বলীদ ( ﺗﻘﻠﻴﺪ): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।
ইজতিহাদ (ﺍﺟﺘﻬﺎﺩ ): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।
শরীয়াত ( ﺷﺮﻳﻌﺔ) অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।
মাযহাব (ﻣﺬﻫﺐ ): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।
নাযর (ﻧﺬﺭ ): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।
আম (ﻋﺎﻡ ): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।
খাস (ﺧﺎﺹ ): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
ইজমা (ﺍﺟﻤﺎﻉ ): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।
মুসনাদ (ﻣﺴﻨﺪ ): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।
ফিক্বহ (ﻓﻘﻪ ): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।
আসল বা মূল (ﺍﺻﻞ ): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।
ফারা বা শাখা (ﻓﺮﻉ ): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।
ওয়াজিব (ﻭﺍﺟﺐ ): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।
মানদূব (ﻣﻨﺪﻭﺏ ): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।
মাহযূর (ﻣﺤﻈﻮﺭ ): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।
মাকরূহ (ﻣﻜﺮﻭﻩ ): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।
ফাৎওয়া (ﻓﺘﻮﻯ ): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।
নাসিখ ( ﻧﺎﺳﺦ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।
মানসূখ (ﻣﻨﺴﻮﺥ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।
মুতলাক্ব (ﻣﻄﻠﻖ ): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।
মুকাইয়্যাদ (ﻣﻘﻴﺪ): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।
হাক্বীকাত (ﺣﻘﻴﻘﺔ ): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।
মাজায (ﻣﺠﺎﺯ): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

------------------------------------------
========================
------------------------------------------

প্রশ্নঃ সহীহ হাদীছ কাকে বলে?
উত্তরঃ মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় যে হাদীসের মধ্যে ৫টি শর্ত পূরণ হয়েছে তাকে সহীহ হাদীস বলা হয় -
১) আদালত : হাদীসের সকল রাবী পরিপূর্ণ সত ও বিশ্বস্ত বলে প্রমাণিত ।
২)যাবত : সকল রাবীর “নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা’ পূর্ণরুপে বিদ্যমান বলে প্রমাণিত
৩)ইত্তিসাল : সনদের প্রত্যেক রাবী তাঁর উর্দ্ধতন রাবী থেকে স্বকর্ণে শুনেছেন বলে প্রমাণিত ।
৪)শুযুয মুক্তি বা শায না হওয়া : হাদীসটি অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণিত ।
৫)ইল্লাত মুক্তি : হাদীসটির মধ্যে সূক্ষ্ণ কোন সনদগত বা অর্থগত ত্রুটি নেই বলে প্রমাণিত।

--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

প্রশ্নোত্তরে হাদীস বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কিছু টার্মস:
প্রশ্নঃ হাদীছ কাকে বলে?
উত্তরঃ নবী (সাঃ)এর কথা, কাজ ও সমর্থনকে হাদীছ বলে।
প্রশ্নঃ হাদীছ কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ হাদীছ দুপ্রকারঃ মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) হাদীছ ও (মারদূদ) অগ্রহণযোগ্য হাদীছ।
প্রশ্নঃ মাকবূল হাদীছ কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ মাকবূল হাদীছ দুপ্রকারঃ ছহীহ ও হাসান।
প্রশ্নঃ মারদূদ বা অগ্রহণযোগ্য হাদীছ কত প্রকার ও কি কি?
উত্তরঃ দুপ্রকারঃ যঈফ (দুর্বল) ও জাল (বানোয়াট)।
প্রশ্নঃ সহীহ হাদীছ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে হাদীছটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন, উহার সনদ পরস্পর সম্পৃক্ত, তার মধ্যে গোপন কোন ত্রুটি নেই এবং উহা শাযও (তথা অন্য কোন অধিকতর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিরোধী) নয় তাকে সহীহ হাদীছ বলে।
প্রশ্নঃ প্রসিদ্ধ হাদীছ গ্রন্থ কয়টি ও কি কি?
উত্তরঃ ৬টি। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ।
প্রশ্নঃ সিহাহ সিত্তা বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ হাদীছের ছয়টি গ্রন্থকে বুঝানো হয়। সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে ইবনে মাজাহ। (বুখারী ও মুসলিমের সবগুলো এবং অন্য কিতাবগুলোর অধিকাংশ হাদীছ বিশুদ্ধ, তাই এগুলোকে একসাথে সিহাহ সিত্তা বা ছয়টি বিশুদ্ধ হাদীছ গ্রন্থ বলা হয়)
প্রশ্নঃ হাদীছ গ্রন্থগুলোর মধ্যে কোন কিতাবে সবচেয়ে বেশী হাদীছ সংকলিত হয়েছে?
উত্তরঃ মুসনাদে আহমাদে (হাদিস সংখ্যা ২৭৭৪৬টি)।
প্রশ্নঃ ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদীছ গ্রন্থ ছাড়া আরো ৫টি হাদীছ গ্রন্থের নাম উল্লেখ কর?
উত্তরঃ মুসনাদে আহমাদ, মুআত্ত্বা মালেক, দারাকুত্বনী, সুনানে দারেমী, সুনানে বায়হাক্বী।
প্রশ্নঃ রিয়াযুস্ সালেহীন কিতাবটির লিখক কে?
উত্তরঃ ইমাম নববী।
প্রশ্নঃ জাল হাদীছ কাকে বলে?
উত্তরঃ যে কথাটি মানুষে তৈরী করেছে, অতঃপর তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নামে চালিয়ে দেয়া হয়েছে, তাকে জাল হাদীছ বলে।
প্রশ্নঃ আল্লাহর কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধতম গ্রন্থ কোনটি?
উত্তরঃ সহীহ বুখারী (বুখারির হাদিস সংখ্যা ৭০০৮টি। মতান্তরেঃ ৭৫৬৩টি)।
প্রশ্নঃ সহীহ বুখারীর একটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভাষ্য (ব্যাখ্যা) গ্রন্থের নাম কি?
উত্তরঃ হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) প্রণীত ফাতহুল বারী।
প্রশ্নঃ কোন দুটি হাদীছ গ্রন্থকে সহীহায়ন বলা হয়?
উত্তরঃ সহীহ বুখারী (হাদিস সংখ্যা ৭০০৮টি। মতান্তরেঃ ৭৫৬৩টি) ও সহীহ মুসলিম (হাদিস সংখ্যা ৩০৩৩টি)
প্রশ্নঃ মুত্তাফাকুন আলাইহে বলতে কি বুঝানো হয়?
উত্তরঃ যে হাদীছটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম নিজ নিজ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সে হাদীছ সম্পর্কে বলা হয় মুত্তাফাকুন আলাইহে।

--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

বেশী সংখ্যক হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবীগনের কয়েকজন:
১। হযরত আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ৫৩৭৪ টি, ইনতিকাল: ৫৭ হিজরী, বয়স: ৭৮ বছর।
২। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ২২১০ টি, ইনতিকাল: ৫৮ হিজরী, বয়স: ৬৭ বছর।
৩। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ১৬৬০ টি, ইনতিকাল: ৫৮ হিজরী, বয়স: ৭১ বছর।
৪। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ১৬৩০ টি, ইনতিকাল: ৭০ হিজরী, বয়স: ৮৪ বছর।
৫। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ১৫৪০ টি, ইনতিকাল: ৭৪ হিজরী, বয়স: ৯৪ বছর।
৬। হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ১২৮৬ টি, ইনতিকাল: ৯৩ হিজরী, বয়স: ১০৩ বছর।
৭। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ১১৭০ টি, ইনতিকাল: ৪৬ হিজরী, বয়স: ৮৪ বছর।
৮। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ৮৪৮ টি, ইনতিকাল: ৩২ হিজরী।
৯। হযরত আমর ইবনুল আস রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু, বর্ণিত হাদীস সংখ্যা: ৭০০ টি, ইনতিকাল: ৬৩ হিজরী।

--------------------------------------------
=========================
--------------------------------------------

সিহাহ্ সিত্তা হাদীস গ্রন্থগুলো এবং সংকলকদের নামঃ
১। সহীহ বুখারী- ইমাম বুখারী (রহঃ)- হাদীস সংখ্যা ৭৩৯৭
২। সহীহ মুসলিম - ইমাম মুসলিম (রহঃ) হাদীস সংখ্যা- ৪০০০
৩। জামি তিরমিযী- ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীস সংখ্যা ৩৮১২
৪। সুনানে আবুদাউদ (রহঃ) ইমাম আবুদাউদ (রহঃ) হাদীস সংখ্যা ৪৮০০
৫। সুনানে নাসায়ী – ইমাম নাসাই (রহঃ) হাদীস সংখ্যা ৪৪৮২
৬। সুনানে ইবনে মাজাহ ইমাম ইবনে মাজাহ (রহঃ) হাদীস- ৪৩৩৮

সমাপ্তিতে চাওয়া:
হাদীসের বিশাল ভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় হাদীস সঠিকভাবে অধ্যয়ন করে তার মর্ম অনুধাবন করে তা থেকে ব্যক্তি জীবন, সমাজ জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে ফায়দা হাসিলের তাওফিক আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে দান করুন। গোটা বিশ্ববাসীকে দান করুন। প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিমূর্ত আদর্শের অনন্য দলিল এই হাদীস সম্ভার পরকালে আমাদের নাজাতের উসিলা হিসেবে কবুল করুন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা। ওয়াল হামদুলিল্লাহি। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র মহান প্রতিপালকের জন্য। শুরুতে এবং শেষে।

ছবি: অন্তর্জাল।

সূত্র: অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন রিসোর্স, হাদিসের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি এবং বিখ্যাত মুহাদ্দিসীনে কিরাম প্রনীত উসূলে হাদীসের আলোকে সংকলিত।

মন্তব্য ১১ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (১১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার পোষ্ট পড়লেই বুঝা যায়, খুব খাটাখাটনি করে পোষ্ট তৈরি করেন।

আচ্ছা, ধরুন আমার ৩০ টা রোজা রাখার পর, এই রোজা গুলো কি আমি আমার মাকে দিয়ে দিতে পারবো। মা অসুস্থ। রোজা রাখতে পারছেন না।

২২ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১০:১৯

নতুন নকিব বলেছেন:



অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মন্তব্য রেখে যাওয়ায়। পবিত্র মাহে রমজান আমাদের জন্য নিশ্চয়ই রহমত, বরকত এবং নাজাতের এক মহান মাস। রমজান মাসের এই পোস্টে মন্তব্যের উত্তরে আসতে পারিনি সময়মত। অনেকটা বিলম্ব হওয়ায় সকলের নিকট আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে-

রোজা নিজে রেখে তা কাউকে দিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। আর এটা করার প্রয়োজনও নেই। বরং আপনার সম্মানিত মা যদি রোজা রাখতে নিতান্তই অপারগ হয়ে থাকেন, তাহলে তার জন্য শরিয়াতের বিধান হচ্ছে- ফিদিয়া আদায় করে দিতে হবে। আর এর পরিমান হচ্ছে- প্রতিদিনের বিনিময়ে একজন করে মিসকীনকে দুই বেলার খাদ্য খাওয়াতে হবে বা এর সমমূল্য দান করে দিবে। খাদ্য দেয়ার পদ্ধতি হচ্ছে, উক্ত মিসকীনকে পরিমাণমত (যা অর্ধ সা' অথবা প্রায় দেড় কেজির মত হয়ে থাকে) চাউল অথবা গম কিংবা আটা প্রদান করা। তবে এর সাথে মাছ, মাংস ইত্যাদি তরকারী হিসেবে দেয়া উত্তম। মনে রাখতে হবে, এই বিধান শুধুমাত্র ঐ রুগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার সুস্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

পক্ষান্তরে অসুস্থ ব্যক্তি যদি রমজান মাস অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাহলে তার উপর উক্ত রোজাগুলো কাযা করা ওয়াজিব। এক্ষেত্রে তিনি যতটি রোজা রাখতে পারেননি, অথবা ছুটে গেছে, ততটি রোজা তাকে রাখতে হবে।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন,

]شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنْ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمْ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمْ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمْ الْعُسْرَ[

'রমজান হচ্ছে সেই মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ অথবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করে নিবে। আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য কঠিন কামনা করেন না।' (সূরাহ আল বাক্বারাহ: আয়াত- ১৮৫)

পক্ষান্তরে যদি অসুস্থ ব্যক্তির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে, আর এভাবে ফিদিয়া দেয়ার মত সক্ষমতাও তার না থাকে, অর্থাৎ নিজেই যাকাত খাবার যোগ্য দরিদ্র হয়ে থাকেন, তাহলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনাই যথেষ্ট হবে।

أَيَّامًا مَّعْدُودَاتٍ ۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۚ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ ۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ ۚ وَأَن تَصُومُوا خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ [[٢:١٨٤]

'গণনার কয়েকটি দিনের জন্য অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে, অসুখ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তার পক্ষে অন্য সময়ে সে রোজা পূরণ করে নিতে হবে। আর এটি যাদের জন্য অত্যন্ত কষ্ট দায়ক হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশীর সাথে সৎকর্ম করে, তা তার জন্য কল্যাণ কর হয়। আর যদি রোজা রাখ, তবে তোমাদের জন্যে বিশেষ কল্যাণকর, যদি তোমরা তা বুঝতে পার। [সূরা আল বাকারাহ: আয়াত-১৮৩-১৮৪]

(وَلِلشَّيْخِ الْفَانِي الْعَاجِزِ عَنْ الصَّوْمِ الْفِطْرُ وَيَفْدِي) وُجُوبًا وَلَوْ فِي أَوَّلِ الشَّهْرِ وَبِلَا تَعَدُّدِ فَقِيرٍ كَالْفِطْرَةِ لَوْ مُوسِرًا وَإِلَّا فَيَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

وفيه ايضا: الْمَرِيضُ إذَا تَحَقَّقَ الْيَأْسُ مِنْ الصِّحَّةِ فَعَلَيْهِ الْفِدْيَةُ لِكُلِّ يَوْمٍ مِنْ الْمَرَضِ (رد المحتار، كتاب الصوم، فصل فى العوارض-2/163

২| ২৬ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

মা.হাসান বলেছেন: নকিব ভাই আল্লাহ আপনার পরিশ্রম কবুল করুন । আমিন। অনেক কষ্ট করেছেন এই পোস্টের জন্য।
আমার জানা মতে হাদিসের সবচেয়ে অথেনটিক গ্রন্থ ইমাম মালিকের মুয়াত্তা। শুদ্ধতায় এর অবস্থান অন্য সব হাদিস গ্রন্থের উপরে। বাকি আল্লাহ ভালো জানেন।

৩| ২৬ শে মে, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

নতুন বলেছেন: রাসুল সা: মারা যাবার কত বছর পরে ইমাম বুখারী হাদিস সংগ্রহ শুরু করেছিলেন?


ইমাম বুখারী জন্ম গ্রহন করেছিলেন ১৯৪ হি: আর উপরে যেই বেশি সংখক হাদিস বনি`তার লিস্টি আছে তাদের মাঝে শেষে মারা গেছেন ৯৩ হিজরি....

তার অথ` হইলো.... ইমাম বুখারী তাদের থেকে ১০০ বছর পরে জন্ম গ্রহন করেছিলো।

এখন ইমাম বুখারী রাসুল সা: মারা যাবার প্রায় ২০০ বছর পরে হাদিস সংকলন শুরু করেছিলেন.....

তাই এই হাদিসের নিভ`রতা নিয়ে কিভাবে সবাই এতো বিশ্বাস করে বুঝিনা।

মানুষের মুখ থেকে কথা অন্য মুখে গেলে পরিবত`ন হয়.... আর এখানে আমরা দেখছি ২০০ বছরের ফারাক...যেটা ২/৩ জেনারেসনের দুরত্ব....

তাই হাদিসের বিষয়গুলু এতো অথেনটিক ভাবা ঠিক কি?

৪| ২৬ শে মে, ২০১৯ রাত ৮:০৮

কানিজ রিনা বলেছেন: আমার মনে প্রশ্ন জাগে হযরত মোহাঃ সাঃ
জীবন আদর্শের সহীহ হাদীস আবুহুরাইরা রাঃ
আঃ আয়সা রাঃ আঃ বা অন্যান্য সাহাবা ও
খালিফাতুন মুমিনিন থেকে পাই। কিন্তু খুব
নগন্য অথবা অল্প পাই মোহাঃ সাঃ আঃ
অতি আদরের আলি রা আঃ হাসান রাঃ আঃ
ওয়াল হুসেইন রাঃ আঃ মা ফাতেমা রাঃ আঃ
খাদীজা রাঃ আঃ উনাদের হাদীস এত অল্প
কেন? জানলে শান্তনা পেতাম।
সবচেয়ে কাছের আপন মহব্বতের মানুষের
হাদীস কি এত অল্প ছিল। নাকি হুসেইন রাঃ
আঃ কারবালায় সহীদ করার পর উনাদের
হাদীস গুলও ধ্বংস করা হয়েছিল।

৫| ২৬ শে মে, ২০১৯ রাত ৯:৩৮

বলেছেন: কেউ কেউ হাদিস না জেনে নামের আগে শায়েখ লেখলে তার ব্যাপারে কোথায় অভিযোগ করা যায়!!!

৬| ২৭ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:২৪

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন:

খুবই তথ্যপূর্ন পোষ্ট। আপনাকে ধন্যবাদ হাদিস নিয়ে এই পোষ্টটি লিখবার জন্য। পোষ্ট প্রিয়তে রাখলাম।

৭| ২৭ শে মে, ২০১৯ সকাল ৭:০২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: জাযাকাল্লাহ খায়রান নকিব।

৮| ২৮ শে মে, ২০১৯ ভোর ৬:০৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:

কানিজ রিনা বলেছেন: আমার মনে প্রশ্ন জাগে হযরত মোহাঃ সাঃ
জীবন আদর্শের সহীহ হাদীস আবুহুরাইরা রাঃ
আঃ আয়সা রাঃ আঃ বা অন্যান্য সাহাবা ও
খালিফাতুন মুমিনিন থেকে পাই। কিন্তু খুব
নগন্য অথবা অল্প পাই মোহাঃ সাঃ আঃ
অতি আদরের আলি রা আঃ হাসান রাঃ আঃ
ওয়াল হুসেইন রাঃ আঃ মা ফাতেমা রাঃ আঃ
খাদীজা রাঃ আঃ উনাদের হাদীস এত অল্প
কেন? জানলে শান্তনা পেতাম।
সবচেয়ে কাছের আপন মহব্বতের মানুষের
হাদীস কি এত অল্প ছিল। নাকি হুসেইন রাঃ
আঃ কারবালায় সহীদ করার পর উনাদের
হাদীস গুলও ধ্বংস করা হয়েছিল।

সম্ভবতঃ হজরত আলী ও হজরত আয়েশা এর মাঝে কোন কিছু নিয়ে বিরোধ ছিল।

৯| ২৮ শে মে, ২০১৯ সকাল ১০:১৬

বঙ্গভূমির রঙ্গমেলায় বলেছেন:
অসাধারণ কাজ।

১০| ২১ শে জুন, ২০১৯ রাত ১২:৪২

নীল আকাশ বলেছেন: কানিজ রিনাকে বলছি-
বেশ কিছু সহী হাদীস গ্রন্থ সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে গেছে। যেমন হযরত আলী [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর হাদীস সংকলন। উনি এটি উনার তরবারীর খাপের মধ্যে রাখতেন।
আবু হুরাইরা [রাদিয়াল্লাহু আনহু] এর হাদীস গ্রন্থটি এখন জার্মানীতে মিউজিয়ামে আছে।
আপনি এই ব্যাপারে জানতে চাইল প্রচুর স্ট্যাডি করতে হবে।

নকীব ভাই, দারুন কাজ করেছেন। আল্লাহ আপনাকে এর জন্য উত্তম পুরষ্কার দান করুন।
আমি ঠিক এই বিষয়ের উপর আরও বিস্তারিত ভাবে লেখার জন্য কাজ করছি। আপনার এই লেখাটা আমার কাজে লাগবে।

ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা রইল!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.