নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মৎস্য শিকারে মহারাজার সমুদ্র গমন আর ছাগলের আবহাওয়া বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠার পুরনো সেই গল্পটি!

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৮



মৎস্য শিকারে মহারাজার সমুদ্র গমন আর ছাগলের আবহাওয়া বিভাগের প্রধান হয়ে ওঠার পুরনো সেই গল্পটি!

সে অনেক অনেক কাল আগের কথা। এক দেশে ছিলেন এক রাজা। রাজা কি! মহারাজা তিনি। তো, একদা মহারাজার সখ জাগিলো মৎস্য শিকারে গমনের।

মহারাজার সখ বলিয়া কথা! যেই ভাবা সেই কাজ। মহারাজার সমুদ্র ভ্রমন তো আর যেনতেন বিষয় নহে! ভাবগতিক সকল কিছু দেখিয়া শুনিয়াই তো বাহির হইতে হইবে! আবহাওয়ার খোঁজ-খবরও তো লইতে হইবে! জলদগম্ভীর স্বরে মহারাজ তার প্রধান সেনাপতিকে বলিলেন- 'আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে তলব করুন।'

আবহাওয়া বিভাগের প্রধান কুর্নিশ করিয়া মহারাজার সম্মুখে দন্ডায়মান হইয়া অতি বিনম্র স্বরে বলিলেন- 'জো হুকুম জাহাপনা। অধমকে কি কারণে স্মরণ করিয়াছেন?'

মহারাজা সুধাইলেন, 'আমি মৎস্য শিকারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে গমন করিতে চাই, অদ্যকার আবহাওয়া কেমন থাকিবে, বলুন।'

আবহাওয়া বিভাগের প্রধান তো খুশিতে আটখানা! তিনি মনে মনে ভাবিলেন, মহারাজার যেহেতু সমুদ্র গমনের অভিপ্রায় জাগিয়াছে, তাহাকে না বলিব কোন সাহসে? আগপাছ বেশি কিছু না ভাবিয়া নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অতি উতসাহে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ (এটা কিন্তু 'বিশেষভাবে অভিজ্ঞ' নহে, বরং 'বিশেষ+অজ্ঞ!' ) মহোদয় বলিয়া উঠিলেন, 'মহারাজ! অদ্যকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস কিয়তকাল পূর্বে জনাবের দরবারে আগমনের প্রাক্কালে আমি অতি সন্তর্পনে পর্যবেক্ষন করিয়া আসিয়াছি। তাহাতে দেখিয়াছি, অদ্যকার দিবসটি অতি সুন্দর, আলো ঝলমলে, রৌদ্রকরোজ্জ্বল থাকিবে এবং অদ্য চমৎকার আবহাওয়া বিরাজমান থাকার সম্ভাবনাও স্পষ্ট। জাহাপনার সমুদ্র গমনে অদ্যকার দিবসটিই অতি উত্তম বলিয়া প্রতিভাত: হইতেছে। সেইহেতু আপনি স্বানন্দ্যে সমুদ্র ভ্রমন করিয়া মৎস্য শিকার করিতে পারেন। মহারাজার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আনন্দ-অভিলাষ আমাদের মত নালায়েগ-নাখান্দা প্রজাবৃন্দের জন্য নিরতিশয় আনন্দদায়ক বিষয় বৈকি! ধন্য ধন্য মহারাজা! জয়, সদাতিশয় মহারাজ, জয়!'

আবহাওয়া বিভাগের প্রধানের মুখে আবহাওয়ার এমন অসাধারণ পূর্বাভাসের বর্ণনায় বিমোহিত হইলেন মহারাজা। খুশিতে তার বগল বাজাইতে অভিলাষ জাগিলো! পাইক-পেয়াদা, উজির-নাজির-বরকন্দাজদের ডাকিয়া আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে হেনপ্রকার পূর্বাভাস প্রদানের কারণে খুশিতে ডগমগ হইয়া দশ সহস্র মুদ্রা বখশিশ প্রদানের হুকুম করিলেন!

রাজার হুকুম বলিয়া কথা! রাজ কোষাগার হইতে আবহাওয়া বিভাগের প্রধানকে নগদ দশ সহস্র মুদ্রা প্রদান করিয়া তাহাকে সসম্মানে বিদায় দেওয়া হইল।

অত:পর যথাসময়ে মহারাজ বাহির হইলেন। সামনে পেছনে লোক লস্করের বিশাল বহর। বিশাল শোরগোল। ঢোল, তবলা আর নানাবিধ বাদ্যযন্ত্রের গগনবিদারী আওয়াজে গোটা এলাকার মাটি-পানি কম্পমান!

সে এক এলাহি কান্ড! একজন ঘোষনাকারী মহারাজার বহরের সামনে ঘন্টাধ্বনি বাজাইয়া উচ্চস্বরে বারংবার ঘোষনা করিয়া চলিয়াছে- 'সাবধান! মহারাজ সমুদ্র ভ্রমনে বাহির হইয়াছেন! তিনি সদয় হইয়া মৎস্য শিকার করিতে মনস্থ করিয়াছেন! সাবধান! সাবধান!!'

চলিতে চলিতে সাগরতটে উপনীত হইলেন মহারাজা। ঠিক সেই সময়টায় সাগরের কিনারে সেইস্থানে ছাগল চড়াইতেছিলেন ছিন্নভূষন এক জেলে। মহারাজের সমূহ বিপদ হইতে পারে ভাবিয়া জেলে দৌড় দিয়া মহারাজার একেবারে সম্মুখে আসিয়া হাপাইতে হাপাইতে বলিলেন, 'মহারাজ! আজকে কেন আপনি সাগরে যাইতেছেন? একটু পরেই তো বৃষ্টি হইবে!'

মহারাজ কঠিন এক ধমক দিয়া বলিলেন, 'যাহ, বেটা জেলের বাচ্চা, জেলে! তুই আবহাওয়ার কি বুঝিস? আমি আবহাওয়ার খবর জ্ঞাত হইয়াই তো সমুদ্রে মৎস্য শিকার করিতে বাহির হইয়াছি।'

মহারাজের কঠিন মূর্তিদর্শনে হতবিহ্বল জেলের পিলে চমকাইয়া যায়। কোনোমতে তাহার সম্মুখ হইতে জান লইয়া সরিয়া পড়েন তিনি। স্বহস্তে নিজের দুই কর্ণস্পর্শ করিয়া 'তওবা', 'তওবা' বলিতে বলিতে পেছন দিকে লোকের ভীড়ের মধ্যে হারাইয়া গেলেন লজ্জিত অনুতপ্ত জেলে।

মহাআড়ম্বরে সমুদ্রে চলিলেন মহারাজ। তখন মাঝ সমুদ্রে মহারাজার নৌবহর। মৎস্য শিকার করিতে উদ্যত রাজাসহ তার পাইক বরকন্দজগন। ঠিক তখনই শুরু হইল বৃষ্টি। বৃষ্টি তো বৃষ্টি। ঝুম বৃষ্টি। একটানা বর্ষন। যাহাকে বলে কলসের মুখে পানি ঢালা! সাথে মেঘের প্রচন্ড গর্জন আর বিদ্যুতের মুহূর্মুহু চমকানি!

মহারাজের স্বপ্নভঙ্গ হইল! অগত্যা সমুদ্রডুবির হাত হইতে বাঁচিতে সসৈন্যে অতিসত্বর প্রাসাদে ফিরিয়া আসিলেন তিনি! দশ সহস্র মুদ্রা বখশিশপ্রদত্ত আবহাওয়া বিভাগের সেই প্রধানকে বিনা নোটিশে বরখাস্ত করিলেন। শুধু বরখাস্তই নহে, তাহাকে কারারুদ্ধ করিতেও নির্দেশ প্রদান করিলেন! পক্ষান্তরে সাগর পাড়ের সেই ছিন্নভূষন জেলে লোকটিকে ধরিয়া আনিয়া আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানাইয়া দিতে হুকুম করিলেন মহারাজা!

মহারাজার হুকুম বলিয়া কথা! জেলেকে ধরিয়া আনিয়া আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানাইয়া দেওয়া হইলো।

বেচারা জেলে পড়িয়াছে মহাবিপদে! সে তো আবহাওয়ার 'আ' -ও জানে না! সে কিভাবে আবহাওয়ার সংবাদ দিবে? ভাবিয়া কুল পাইতেছিল না সে! নিজের নির্বুদ্ধিতাকে বারবার ধিক্কার দিতে দিতে নিজেকেই বলিতে লাগিল, হায় হায়, সাগর পাড়ে সেই দিন কেনইবা এমন বোকামি করিতে গেলাম! কেন মহারাজার সম্মুখে এমন পান্ডিত্য জাহির করিতে গিয়াছিলাম! কেরামতি তো এইবার শেষ! তখন তো প্রাণ নিয়া বাঁচিতে পারিয়াছিলাম, এইবার ধরা খাইলে আর উপায় দেখিতেছি না, নির্ঘাত মৃত্যুদন্ড! বাঁচার তাহা হইলে উপায় কি?

অনেক বুদ্ধি শুদ্ধি করিয়া বেচারা জীবন বাঁচাইতে শেষ পর্যন্ত মহারাজের সমীপে হাজির হইয়া বিনীতভাবে বলিলো, 'মহারাজ! দয়া করিয়া আমাকে মার্জনা করুন! আমার প্রাণ ভিক্ষা চাই! মেহেরবানি করিয়া আমাকে যাইতে দিন! আমি আসলে আবহাওয়ার কিছুই জানি না।'

মহারাজ সাগর পাড়ের সেদিনের তুলনায় আরও কয়েকগুন ক্ষেপিয়া, অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করিয়া ঝাঁঝালো স্বরে বলিলেন, 'রে ব্যাটা! কিছুই যদি না জানিস, তাহলে ঐদিন আমার আবহাওয়া বিভাগের চাইতেও সঠিক খবর তুই কি করিয়া দিয়াছিলি!'

ভয়ে থরথর কম্পমান জেলের অস্পষ্ট উত্তর, 'মহারাজ! ক্ষমা করিবেন, সেইখানে আমার কোন কৃতিত্ব ছিলনা! সব কৃতিত্ব আমার ছাগলের! বৃষ্টি আসার আধা ঘন্টা পূর্ব হইতে আমার ছাগলটা ঘনঘন মুতে! ইহা হইতে আমি বুঝিতে পারি যে, একটু পরেই বৃষ্টি হইবে!'

এতদশ্রবণে মহারাজা তো একেবারেই 'থ'! নির্বোধ জেলের উপরে বিরক্ত হইলেন! তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া তাহার ছাগলটাকে ধরিয়া আনিয়া আবহাওয়া বিভাগের প্রধান বানাইয়া দিতে হুকুম করিলেন!

মহারাজার হুকুম বলিয়া কথা! যাহা হুকুম, তাহা কাজ! রাজ্যের বনজঙ্গল খুজিয়া ধরিয়া আনা হইলো জেলের সেই ছাগলটিকে!

অত:পর আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলিতে অক্ষম বেকুব জেলেকে ছাড়িয়া দেওয়া হইলো! আর তাহার পরিবর্তে তাহার পদে সমাসীন করা হইলো তাহারই আদরের ছাগলটিকে! মহারাজার অনির্ণেয় জ্ঞান আর বেনজির বিচক্ষনতায় ছাগলটি অলঙ্কৃত করিলো আবহাওয়া বিভাগের প্রধানের পদ!

মহারাজার চতুর্পাশ্বে থাকা পাইকপেয়াদাগনের তখন সে কি আনন্দ! সমস্বরে তাহারা উচ্চবাক করিয়া ধ্বনি তুলিলেন, 'ধন্য, ধন্য মহারাজা! ধন্য ধন্য ছাগল!!'

সেই দিন হইতেই বড় বড় পদগুলোতে ছাগল নিয়োগ দেওয়ার রীতি চালু হইয়াছে!

বি: দ্র: ইহা নিছকই একটি গল্প। গল্পকে গল্প হিসাবেই ভাবিতে অনুরোধ করা যাইতেছে। বাস্তবতার সহিত এই গল্পের কোনো সম্পর্ক নাই। বাস্তবতার সহিত গল্পটির কোনো কথা কিংবা চরিত্র মিলিয়া গেলে তাহা কাকতাল মাত্র এবং তাহার জন্য আগাম দু:খ প্রকাশ করিতেছি।

ছবি পরিচিতি এবং কৃতজ্ঞতা: প্রশান্ত মহাসাগরের ছবিটি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত।

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:৪২

মোঃ ফখরুল ইসলাম ফখরুল বলেছেন: ছাগলের আবহাওয়া বিভাগের প্রধান

২| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৪

রাজীব নুর বলেছেন: গল্পটি পাথ করলাম।
আগে কোথাও পড়েছি হয়তো।

৩| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৫৬

মা.হাসান বলেছেন: ছাগলের চিন্তা দুধ দেয়া, প্রজনন আর নিজের খাবার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এর পরে আসলো গাধার যুগ। দুধ-বাচ্চা সহ সব সুবিধা বন্ধ হয়ে গেল, মাঝে মাঝে গাধার হাঁসি শুনতাম। আয়নার সামনে দাড়ায়ে হাসতো, আমিও নাকি মন্ত্রী। এর পরে এসেছে শুয়োরের জামানা-- ঘোৎঘোৎ করে খালি। বাংলাদেশে আমরা বড় ভালো আছি। আমাদের নেতারা ফুলের মতো।

৪| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৬

ওমেরা বলেছেন: গল্পটাকে গল্প হিসাবেই নিলাম, ক্লাবের মাঝের বাস্তবতা আছে সেই নাইবা মনে করলাম। ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.