নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

যাদুটোনা বিষয়ে ইসলামী আকিদা বা বিশ্বাস

২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ৯:৫১

যাদুটোনা বিষয়ে ইসলামী আকিদা বা বিশ্বাস

ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অন্তর্জাল।

আমার পূর্বের পোস্ট প্রিয় নবীজীর প্রিয় প্রসঙ্গ; তাঁর ক্ষমাশীলতার কিছু অনুপম এবং অতুলনীয় দৃষ্টান্তঃ -এ সহব্লগার নূর আলম হিরণ ভাইয়ের একটা প্রশ্নের উত্তরকে ঘিরেই মূলতঃ এই পোস্ট। যাদুটোনা বিষয়ে তিনি প্রশ্নটা রেখেছিলেন বলেই এ প্রসঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল তখন। এজন্য তার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং অভিনন্দন। তার মন্তব্যের প্রত্যুত্তরটা আরেকটু পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত আকারে উঠে এসেছে এখানে। পোস্টটি তাকেই নিবেদন করছি।

যাদুটোনার অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখতে হয় যাদেরঃ

স্রষ্টায় বিশ্বাসী, বিশেষভাবে, আব্রাহামিক রিলিজিয়ন বা ইবরাহিমী ধর্মে বিশ্বাসী, অর্থাৎ ইহুদী, খৃস্টান অথবা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী কিংবা অন্য কোনো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসীদেরকে যাদু-টোনায় বিশ্বাসী হতেই হবে। কারণ, আব্রাহামিক রিলিজিয়নের বিশ্বাস মতে শয়তান বলে একটা সত্বার অস্তিত্ব রয়েছে, আর এই যাদু-টোনার উৎস হচ্ছে সেই শয়তান। অবশ্য স্রষ্টায় অবিশ্বাসীদের কাছে এসব কথা নিছকই অর্থহীন।

ইবরাহীমী ধর্ম বলা হয় কোনগুলোকে?

আবরাহামিক রিলিজিয়ন অর্থাৎ, ইবরাহীমী বা আব্রাহামীয় ধর্ম বলতে মূলতঃ ইহুদি, খৃষ্টান এবং ইসলাম ধর্মকে বুঝায়। আমরা জানি, ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এর দুই পুত্র ছিলেন। দু'জনই নবী ছিলেন। তাদের দু'জনের মধ্যে ইসহাক আলাইহিস সালাম এর বংশে ইয়াকুব আলাইহিস সালাম এবং ঈসা আলাইহিস সালামসহ অন্যান্য অনেক নবীদের জন্ম হয় এবং তাঁদের মাধ্যমে ইহুদি ও খৃষ্টান ধর্মের আবির্ভাব ঘটে। অন্যদিকে ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর অপর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম এর বংশ হতে পৃথিবীতে আগমন করেন সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এবং তাঁর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম ধর্ম।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসলাম ইহুদি বা বনি ইসরাইলদের প্রতি প্রেরিত সকল নবী রাসূলকে স্বীকৃতি দেয়। এদের মধ্যে দাউদ আলাইহিস সালাম বা David এর প্রতি যাবুর, মুসা আলাইহিস সালাম বা Moses এর প্রতি তৌরাত বা Torah, ঈসা আলাইহিস সালাম বা Jesus এর প্রতি ইঞ্জিল বা বাইবেল অবতীর্ণ হয়। তারা ছিলেন নির্দিষ্ট স্থান বা নির্দিষ্ট সময়ের জন‍্য নবী। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নব‍্যুয়ত কেয়ামত পর্যন্ত এবং কেয়ামত পর্যন্ত অনাগত সকল মানুষ তার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত। তার প্রতি প্রেরিত সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ আল কুরআনুল কারিম। ইবরাহীমী বা আব্রাহামীয় ধর্মের একটি সাধারণ বিষয় হচ্ছে- এই ধর্মগুলোর প্রতিটির স্বতন্ত্র ঐশী গ্রন্থ রয়েছে।

যাদু সম্পর্কে ইসলাম কি বলে?

যাদুটোনা বিষয়টিতে আমরা ইসলামী আক্বিদা বা বিশ্বাস সম্পর্কে জানবো। কুরআন, হাদিস এবং ইসলামী পন্ডিতদের দৃষ্টিতে এর মূল্যায়ন দেখবো ইনশাআল্লাহ।

কুরআনুল কারিমের অনেক স্থানে যাদুর কথা আলোচিত হয়েছে। আল কুরআনে অন্তত ৩-৪ প্রকারের যাদুর কথা বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ এরও অধিক স্থানে! এর মাঝে অধিকাংশ আয়াতে এরকম এসেছে, কোনো নবী কওমের কাছে দাওয়াত নিয়ে গেছেন, আর তাঁরা নবীর ওপর যাদুকর হওয়ার অপবাদ দিয়েছে, অথবা বলেছে তোমাকে কেউ যাদু করেছে তাই তুমি এসব বকছো! (নাউযুবিল্লাহ)

এথেকে বুঝা যায়, মানব সভ্যতার শুরু থেকেই যাদু একটি ঘৃণিত বিষয়; একটি অভিশপ্ত শাস্ত্র!

যাদু বিষয়ে আল কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গিঃ

আসুন, এই বিষয়ে কুরআনুল হাকিমে বর্ণিত কিছু আয়াত দেখে নিই-

كَذَلِكَ مَا أَتَى الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا قَالُوا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُونٌ

'এমনিভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল এসেছে, তারা বলেছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ!' -সুরা যারিয়াত, আয়াত-৫২

وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا مِّنَ السَّمَاء فَظَلُّواْ فِيهِ يَعْرُجُونَ

'যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণও করতে থাকে।' -সুরা হিজর, আয়াত-১৪

لَقَالُواْ إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ

'তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের দৃষ্টির বিভ্রাট ঘটানো হয়েছে না বরং আমরা যাদুগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।' -সুরা হিজর, আয়াত-১৫

এই আয়াত দিয়ে কেউ কেউ ওয়ার্মহোলের দিকে ইংগিত দিতে চান। হতে পারে, আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। তবে যাই হোক না কেন, যাদু দ্বারা এমন অস্বাভাবিক কাজ করা যায়, যা বাহ্যদৃষ্টে অবিশ্বাস্য; এটা এই আয়াত থেকে স্পষ্টই বুঝা যায়। আয়াতটি গভীর মনযোগের সাথে আরেকবার দেখে নিতে পারেন।

এরপর মুসা আ. এর ঘটনা বিভিন্ন সুরায় এসেছে, যেমনঃ সুরা আরাফ, সুরা ইউনুস, সুরা ত্বাহা। সুরা আ’রাফের নিচের আয়াতগুলো দেখা যেতে পারে-

قَالُواْ يَا مُوسَى إِمَّا أَن تُلْقِيَ وَإِمَّا أَن نَّكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ

'তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি।' -সুরা আরাফ, ১১৫

قَالَ أَلْقُوْاْ فَلَمَّا أَلْقَوْاْ سَحَرُواْ أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ

'তিনি (মুসা আ.) বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলোকে বাধিয়ে দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল।' -সুরা আরাফ, ১১৬

وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ

'তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে।' -সুরা আরাফ, ১১৭

আমাদের রাসুল স. এর ওপরেও যাদু করা / বান মারা হয়েছিলো। তখন আল্লাহ দুআ শিখিয়ে দিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে। আল কুরআনে বর্ণিত হয়েছে-

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,

وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ

গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে। -সুরা ফালাক, ১-৫

রাসুল ﷺ এর ওপর যাদু করার কারণে তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যাদু দ্বারা মানুষের ক্ষতি করা যায় তা নিচে উল্লেখিত আয়াত থেকেও স্পষ্ট বুঝা যায়-

وَاتَّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولاَ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلاَ تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلاَ يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ

'তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।' -সুরা বাকারা, ১০২

এই আয়াত নিয়ে মুফাসসিরিনে কিরাম অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। লম্বাচওড়া তাফসির দেখতে চাইলে আগ্রহীদের জন্য বয়ানুল কোরআন এবং তাফসিরে ইবনে কাসির রয়েছে, আর সংক্ষিপ্ত আলোচনার তাওযিহুল কোরআন অথবা মা’রিফুল কোরআন তো আছেই।

তবে যাদু সম্পর্কে অধিকাংশের ধারণা হচ্ছে এটা আলাদীনের চেরাগের মত! ঘষা দিলেই যা খুশি পাওয়া যায়। সিনেমা, নাটক আর আলিফ লায়লার গাঁজাখুরি গল্প দেখে এই আজগুবি ধারনা জন্ম নিয়েছে হয়তো। এই ধারণা অনেক বড় ভুল, বরং যাদুর জন্য অনেক কিছু সেক্রিফাইস করতে হয়, আর চাইলেই সব কিছু হয়ে যাবে- বিষয়টা এমনও নয়। এরও রয়েছে অনেক সীমাবদ্ধতা।

এখানে সংক্ষেপে একটা আক্বিদা না বললেই নয়, ‘যাদুর শক্তি ইনভিজিবল, কিভাবে দড়ি দিয়ে সাপ বানিয়ে ফেললো তা আমাদের বোধগম্য নয়। তার মানে এটা নয় যে, যাদুর নিজস্ব ক্ষমতা আছে। বরং আর দশটা শক্তির মত যাদুও ঐশ্বরিক শক্তির উপরেই নির্ভরশীল।’

খেয়াল করুন উপরোল্লেখিত আয়াতেই আল্লাহ তাআ'লা বলেছেন যে- 'আল্লাহ না চাইলে যাদু দিয়ে তারা কারও অনিষ্ট করতে পারতো না।'

মহাগ্রন্থ আল কুরআনে যাদু বিষয়ে এত বেশি আলোচনা রয়েছে যে, এই বিষয়ে ইসলামী আক্বিদা বা বিশ্বাস প্রমানের জন্য এরপর অন্য কোনো উৎস থেকে রেফারেন্সের প্রয়োজনই থাকে না। তবুও আমরা এই বিষয়ক কিছু হাদিস দেখে নিবো ইনশাআল্লাহ।

হাদিসে যাদুটোনা প্রসঙ্গ নিয়ে আলোকপাতঃ

১. হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাতটি ধ্বংসকারী জিনিস থেকে দূরে থাকো। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে জিনিসগুলো কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করা, যাদু বিদ্যা শেখা ও তার চর্চা করা, যে জীবনকে হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে অবৈধভাবে হত্যা করা, সূদী লেনদেন করা, ইয়াতীমের ধন আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী মুমিন নারীর ওপর অপবাদ দেয়া। -বুখারী, মুসলিম

২. আবু বাকর ইবন আবি শায়বা রহ. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি করে আজওয়া খেজুর (মদীনা শরীফে উৎপন্ন এক জাতীয় উৎকৃষ্ট মানের খেজুর) আহার করে, সেদিন তাকে কোন বিষ বা যাদু ক্ষতি করতে পারে না। -মুসলিম

৩. এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাদু করার ব্যপারে বুখারীর দীর্ঘ হাদিসটি তো আছেই, হাদিসের সারকথা এরকম “আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, লাবীদ ইবনে আসাম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যাদু করে। একরাত্রে রাসুল স. বারবার দু‘আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে ‘আয়েশা! তুমি কি বুঝতে পেরেছ, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আমার নিকট দু’জন লোক এসেছিলো। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু‘পায়ের কাছে বসেন। একজন জিজ্ঞেস করলোঃ এ লোকটির কি ব্যথা? আরেকজন বললো, যাদু করা হয়েছে। প্রথমজন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয়জন বলেনঃ লাবীদ ইন আ‘সাম। প্রথমজন জিজ্ঞাসা করেনঃ কি দিয়ে? দ্বিতীয়জন উত্তর দেনঃ চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের খোসার মাধ্যমে….” -বুখারিতে বর্ণিত এই হাদিসটি বেশ দীর্ঘ

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষ বিদ্যার কিছু শিক্ষা করলো, সে যেন যাদু বিদ্যার একটা শাখা আয়ত্ত করলো, এখন তা যত বাড়ায় বাড়াক। -আহমাদ, আবূ দাউদ

৫. ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে কুলক্ষণ নির্ণয় করে, আর যার জন্য নির্ণয় করা হয়।যে যাদু করে,আর যার জন্য যাদু করা হয়। এবং যে গণকের নিকট এলো এবং তাঁর কথা বিশ্বাস করলো..। এরা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। -মুসনাদে বাযযার, সনদ হাসান

এই হাদিস অনুযায়ী যাদুকর, গণক, ট্যারট কার্ডওয়ালা সবাই কুফরি করছে এবং তাদের কাছে যারা যাচ্ছে, সাহায্য চাচ্ছে তারাও। আসুন, আমরা সতর্কতা অবলম্বন করে নিজেদের ঈমান আকিদার হেফাজত করতে সচেষ্ট হই।

এই বিষয়ক আরও অনেক হাদিস রয়েছে- যার সবগুলো এখানে সংক্ষিপ্ত নিবন্ধে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে ইসলাম যাদুর অস্তিত্ব স্বীকার করে কি না, বা ইসলাম ধর্মালম্বীগণের এ বিষয়ে কি ধরণের বিশ্বাস থাকা উচিত- আশা করছি উপরের আলোচনা দ্বারা এ ব্যাপারটি সকলের নিকট স্পষ্ট হয়েছে।

এখন আমরা যাদুর প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া বিনষ্ট করে এর ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার উপায় সম্মন্ধে সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

যাদুটোনা থেকে মুক্তির উপায়ঃ

যাদুটোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। কিছু পদ্ধতি সম্মন্ধে এখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল:

এক: যাদুকর কিভাবে যাদু করেছে সেটা আগে জানতে হবে। উদাহরণতঃ যদি জানা গিয়ে থাকে যে, যাদুকর কিছু চুল নির্দিষ্ট কোন স্থানে অথবা চিরুনির মধ্যে অথবা অন্য কোন স্থানে রেখে দিয়েছে। আর এক্ষেত্রে যদি সেই স্থানটি সম্মন্ধেও অবগতি লাভ করা যায় তাহলে সে জিনিসটি পুড়িয়ে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলতে হবে যাতে যাদুর কার্যকারিতা বিনষ্ট হয়ে যায় বা, যাদুকর যা করতে চেয়েছে সেটা বাতিল হয়ে যায়।

দুই: যদি যাদুকরকে শনাক্ত করা যায় তাহলে তাকে যে কোনো উপায়ে রাজি করাতে চেষ্টা করতে হবে যেন সে যে যাদু করেছে সেটা নষ্ট করে ফেলে।

তিন: যাদু নষ্ট করার ক্ষেত্রে ঝাড়ফুঁকের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এর পদ্ধতি হচ্ছে- যাদুতে আক্রান্ত রোগীর উপর অথবা কোন একটি পাত্রে আয়াতুল কুরসি অথবা সূরা আরাফ, সূরা ইউনুস, সূরা ত্বহা এর যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়বে। এগুলোর সাথে সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়বে এবং রোগীর জন্য দোয়া করবে। বিশেষতঃ যে দুআটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে:

اللَّهُمَّ ربَّ النَّاسِ ، أَذْهِب الْبَأسَ ، واشْفِ ، أَنْتَ الشَّافي لا شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ ، شِفاءً لا يُغَادِرُ سقَماً

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।”

“Allaahumma Rabban-naas, adhhibil-ba’s, washfi antash-Shaafi laa shifaa’a illaa shifaa’uka shifaa’an laa yughaadiru saqaman”

“O Allaah, Lord of mankind, do away with my suffering. Heal (me) as You are the only Healer and there is no cure except that of Yours, it is that which leaves no ailment behind” -Al Bukhari (with Al-Fath 10/206) and Muslim 4/1721

অর্থ- হে আল্লাহ! হে মানুষের প্রতিপালক! আপনি কষ্ট দূর করে দিন ও আরোগ্য দান করুন। (যেহেতু) আপনিই রোগ আরোগ্যকারী। আপনার আরোগ্য দান হচ্ছে প্রকৃত আরোগ্য দান। আপনি এমনভাবে রোগ নিরাময় করে দিন যেন তা রোগকে নির্মূল করে দেয়।

জিব্রাইল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যে দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছেন সেটাও পড়া যেতে পারে। সে দুআটি হচ্ছে-

بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنٍ أَوْ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

“Bismillahi arqika, min kulli shay’in yu’dhika, min sharri kulli nafsin aw ‘aynin aw hasidin. Allahu yashfika, bismillahi arqika (In the Name of Allah I perform Ruqyah for you, from everything that is harming you, from the evil of every soul or envious eye, may Allah heal you. In the Name of Allah I perform Ruqyah for you)”. -Sunan Ibn Majah, Sahih Muslim

“বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন ইউযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”

অর্থ- আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। সকল কষ্টদায়ক বিষয় থেকে। প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।

এই দোয়াটি তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস তিনবার পড়ে ফুঁ দিবেন। আমরা যে দোয়াগুলো উল্লেখ করলাম এ দোয়াগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তি সে পানি পান করবে। আর অবশিষ্ট পানি দিয়ে প্রয়োজনমত একবার বা একাধিক বার গোসল করবে। তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় রোগী আরোগ্য লাভ করবে। আলেমগণ এ আমলগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন। শাইখ আব্দুর রহমান বিন হাসান (রহঃ) ‘ফাতহুল মাজিদ শারহু কিতাবিত তাওহিদ’ গ্রন্থের ‘নাশরা অধ্যায়ে’ এ বিষয়গুলো ও আরো কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন।

চার: সাতটি কাঁচা বরই পাতা সংগ্রহ করে পাতাগুলো গুড়া করবে। এরপর গুড়াগুলো পানিতে মিশিয়ে সে পানিতে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। তারপর সে পানি পানি করবে; আর কিছু পানি দিয়ে গোসল করবে। যদি কোন পুরুষকে স্ত্রী-সহবাস থেকে অক্ষম করে রাখা হয় সেক্ষেত্রেও এ আমলটি উপকারী। সাতটি বরই পাতা পানিতে ভিজিয়ে রাখবে। তারপর সে পানিতে উল্লেখিত আয়াত ও দোয়াগুলো পড়ে ফুঁ দিবে। এরপর সে পানি পান করবে ও কিছু পানি দিয়ে গোসল করবে।

যাদুগ্রস্ত রোগী ও স্ত্রী সহবাসে অক্ষম করে দেয়া ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য বরই পাতার পানিতে যে আয়াত ও দোয়াগুলো পড়তে হবে সেগুলো নিম্নরূপ:

১- সূরা ফাতিহা পড়া।

২- আয়াতুল কুরসি তথা সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত পড়া।

اَللّٰهُ لَآ اِلٰهَ اِلَّا ھُوَۚ اَلْـحَيُّ الْقَيُّوْمُ لَا تَاْخُذُهٗ سِـنَةٌ وَّلَا نَوْمٌۭ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْاَرْضِۭ مَنْ ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِنْدَهٗٓ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ۭ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَھُمْ ۚ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖٓ اِلَّا بِمَا شَاۗءَۚ وَسِعَ كُرْسِـيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا يَـــــُٔـــوْدُهٗ حِفْظُهُمَاۚ وَھُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

(আয়াতটির অর্থ হচ্ছে-“আল্লাহ্; তিনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা কিছু রয়েছে ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সবই তাঁর। কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে সে সবকিছু তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। তিনি সুউচ্চ সুমহান।)

৩- সূরা আরাফের যাদু বিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সে আয়াতগুলো হচ্ছে-

قَالَ إِنْ كُنْتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ (106) فَأَلْقَى عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُبِينٌ (107) وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ (108) قَالَ الْمَلَأُ مِنْ قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ (109) يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ (110) قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ (111) يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (112) وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِنْ كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ (113) قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ (114) قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ (115) قَالَ أَلْقُوا فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ (116) وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ (117) فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (118) فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانْقَلَبُوا صَاغِرِينَ (119) وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ (120)قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (121) رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ (122)

(অর্থ- সে বলল, তুমি যদি কোন নিদর্শন নিয়ে এসে থাক, তাহলে তা পেশ কর যদি তুমি সত্যবাদী হয়ে থাক। তখন তিনি নিজের লাঠিখানা নিক্ষেপ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ তা জলজ্যান্ত এক অজগরে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর বের করলেন নিজের হাত এবং তা সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের চোখে ধবধবে উজ্জ্বল দেখাতে লাগল। ফেরাউনের সাঙ্গ-পাঙ্গরা বলতে লাগল, নিশ্চয় লোকটি বিজ্ঞ-যাদুকর। সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বের করে দিতে চায়। এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত কি? তারা বলল, আপনি তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দান করুন এবং শহরে বন্দরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দিন। যাতে তারা পরাকাষ্ঠাসম্পন্ন বিজ্ঞ যাদুকরদের এনে সমবেত করে। বস্তুতঃ যাদুকররা এসে ফেরাউনের কাছে উপস্থিত হল। তারা বলল, আমাদের জন্যে কি কোন পারিশ্রমিক নির্ধারিত আছে, যদি আমরা জয়লাভ করি? সে বলল, হ্যাঁ এবং অবশ্যই তোমরা আমার নিকটবর্তী লোক হয়ে যাবে। তারা বলল, হে মূসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর অথবা আমরা নিক্ষেপ করছি। তিনি বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা বান নিক্ষেপ করল তখন লোকদের চোখগুলো যাদুগ্রস্ত হয়ে গেল, মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং মহাযাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা যাদুর বলে বানিয়েছিল। এভাবে সত্য প্রকাশ হয়ে গেল এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের প্রতিপালকের প্রতি। যিনি মূসা ও হারুনের প্রতিপালক।)[সূরা আরাফ, আয়াত: ১০৬-১২২]

৪- সূরা ইউনুসের যাদুবিষয়ক আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُونِي بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ (79) فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالَ لَهُمْ مُوسَى أَلْقُوا مَا أَنْتُمْ مُلْقُونَ (80) فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُمْ بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ (81) وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ

(অর্থ- আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে। তারপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বললেন:নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক। অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বললেন, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।)[সূরা ইউনুস, আয়াত: ৭৯-৮২]

৫- সূরা ত্বহা এর আয়াতগুলো পড়া। সেগুলো হচ্ছে-

قَالُوا يَا مُوسَى إِمَّا أَنْ تُلْقِيَ وَإِمَّا أَنْ نَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَلْقَى (65) قَالَ بَلْ أَلْقُوا فَإِذَا حِبَالُهُمْ وَعِصِيُّهُمْ يُخَيَّلُ إِلَيْهِ مِنْ سِحْرِهِمْ أَنَّهَا تَسْعَى (66) فَأَوْجَسَ فِي نَفْسِهِ خِيفَةً مُوسَى (67) قُلْنَا لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنْتَ الْأَعْلَى (68) وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى (69)

(অর্থ-তারা বললঃ হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ কর, না হয় আমরা প্রথমে নিক্ষেপ করি। মূসা বললেনঃ বরং তোমরাই নিক্ষেপ কর।তাদের যাদুর প্রভাবে হঠাৎ তাঁর মনে হল, যেন তাদের রশিগুলো ও লাঠিগুলো ছুটাছুটি করছে। অতঃপর মূসা মনেমনে কিছুটা ভীতি অনুভব করলেন। আমি বললামঃ ভয় করো না, তুমি বিজয়ী হবে। তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর।এটা তারা করেছে যা কিছু সেগুলোকে গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তাতো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।) [সূরা ত্বহা, আয়াত: ৬৫-৬৯]

৬- সূরা কাফিরুন পড়া।

৭- সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩ বার করে পড়া।

৮- কিছু দোয়া দরুদ পড়া। যেমন-

“আল্লাহুম্মা, রাব্বান নাস! আযহিবিল বা’স। ওয়াশফি, আনতাশ শাফি। লা শিফাআ ইল্লা শিফাউক। শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।” [৩ বার]

এর সাথে যদি এ দোয়াটিও পড়াও ভাল “বিসমিল্লাহি আরক্বিক মিন কুল্লি শাইয়িন য়ুযিক। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন; আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরক্বিক।”[৩ বার] পূর্বোক্ত আয়াত ও দোয়াগুলো যদি সরাসরি যাদুতে আক্রান্ত ব্যক্তির উপরে পড়ে তার মাথা ও বুকে ফুঁক দেয় তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার ইচ্ছায় নিরাময় হবে।

শেষের কথাঃ

প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয় আল্লাহ পাক আমাদের সঠিকভাবে জানার তাওফিক দান করুন। আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ এবং প্রসারিত করুন। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত অনেক মুসলিমকেও এই বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়। এসব বিষয়ে ইসলাম ধর্মের আকিদা, বিশ্বাস ও মর্মবাণী সঠিকভাবে অবহিত না থাকার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে বলে প্রতীয়মান হয়। এই লেখা কারও সামান্য উপকারে এলেই শ্রম স্বার্থক মনে করবো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লার অনিঃশেষ প্রশংসা এবং দরূদ ও সালাম তাঁর প্রিয়তম রাসূল সরওয়ারে আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি; শুরুতে এবং শেষে।

সকলের প্রতি অশেষ দুআ এবং শুভকামনা। সাথে সাথে একান্ত অনুরোধ- পরিবার পরিজন নিয়ে সাবধানে থাকুন। মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ নির্দেশনা মেনে সতর্কতার সাথে জীবন অতিবাহিত করুন। নিজে নিরাপদে থাকুন। অন্যদেরও নিরাপদে থাকতে সাহায্য করুন।

পুনশ্চঃ

এই নিবন্ধে মূলতঃ যাদুটোনা বিষয়ে ইসলামী আকিদা বা বিশ্বাস তুলে ধরা হয়েছে। কাউকে কিংবা কোনো ধর্মকে কটাক্ষ করে কিছু বলা হয়নি। ইসলাম ধর্ম নিয়ে যারা মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা রেখে বলছি, তাদের থেকেও আমরা এমন কোনো আচরণ প্রত্যাশা করি না, যাতে ইসলাম ধর্মকে কটাক্ষ করা হয় এবং তার ফলে কেউ মর্মাহত হতে পারেন।

মন্তব্য ২৩ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:০৯

নীল আকাশ বলেছেন: খুব সুন্দর পোস্ট। মানুষ এখন নফসের ঢোকায় পরে বিভিন্ন বকবিরাজ তান্ত্রিক দের কাছে যেয়ে স্বার্থের জন্য জাদূটোনা। এই ধরণের ব্যক্তিদীর কোন দোয়াই আল্লাহ কবুল করবেন না।

২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ৯:২৮

নতুন নকিব বলেছেন:



লাইকসহ চমৎকার প্রথম মন্তব্যে অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতা। ভালো থাকবেন, প্রার্থনা সবসময়।

২| ২২ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: ইসলাম ধর্মের অনেক সহি তথ্য দিয়েছেন। আপনি যা বলেছেন তা সঠিক। অদৃশ্য ও অসীম শক্তিশালী সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করলে এগুলি বিশ্বাস করা, ফেরেশতা, জীন ইত্যাদি বিশ্বাস করা সহজ। স্রষ্টায় বিশ্বাস না করলে সে এগুলির কিছুই মানবে না। তবে আপনার শেষ প্যারার সতর্কতা বাণী সত্ত্বেও অনেক অবিশ্বাসী/ সংশয়বাদীই এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করবে। তৈরি থাকেন।

২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ৯:৩১

নতুন নকিব বলেছেন:



অদৃশ্য ও অসীম শক্তিশালী সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস করলে এগুলি বিশ্বাস করা, ফেরেশতা, জীন ইত্যাদি বিশ্বাস করা সহজ। স্রষ্টায় বিশ্বাস না করলে সে এগুলির কিছুই মানবে না।

-সেটাই।

তবে আপনার শেষ প্যারার সতর্কতা বাণী সত্ত্বেও অনেক অবিশ্বাসী/ সংশয়বাদীই এর বিরুদ্ধে মন্তব্য করবে। তৈরি থাকেন।

-কাহাতক আর! ঝগড়াঝাটি আর নয়, ভালোবাসা সকলের তরে!

ভালো থাকবেন, প্রার্থনা।

৩| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১১

রাজীব নুর বলেছেন: এই সমাজের মানুষ কোরআন হাদীস পড়ে না। মানেও না। তাদের যেমন ইচ্ছা তেমন চলছে।
ধর্মের দোহাই দিয়ে ঝাড় ফুক তাবিজ কবচ আজও চলছে। বহু মানুষ এসবে বিশ্বাস রাখে।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:১৭

নতুন নকিব বলেছেন:



ধন্যবাদ আপনাকে মন্তব্যে আসায়।

৪| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:২৪

মা.হাসান বলেছেন: নকিব ভাই গালিগালাজ এবং সুস্থ আলোচনার পার্থক্য যারা বোঝে না তাদের কমেন্টে বিচলিত হবেন না। এ ধরনের লোক সব যুগেই ছিল, থাকবে।

এই বিষয়ে শরীয়ত এপ্রুভড আমল ব্যাখ্যা করায় অনেক ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:২২

নতুন নকিব বলেছেন:



শুকরিয়া ভাই, পাশে থাকার জন্য। সুন্দর পরামর্শ রেখে যাওয়ার জন্য। আসলে আপনি সঠিক বলেছেন, তাদের কথায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। কুরআন হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা তাদের প্রয়োজন না হলেও আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। সেজন্য এ্ই ধরণের পোস্টেরও প্রয়োজন। তারা চাইলেই কি আর না চাইলেই কি!

প্রার্থনা, আল্লাহ পাক আপনাকে ভালো রাখুন সবসময়।

৫| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:১৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




যাদুটোনা আছে নাকি নাই, সত্যি নাকি মিথ্যা তা অনেক তর্ক বিতর্কের বিষয় তবে বাংলাদেশের মানুষ যাদুটোনা বিস্বাস করেন ভালোভাবেই বিস্বাস করেন। পুলিশ সার্চ ওয়ারেন্টে কারো বাসা বাড়ি তল্লাশী করে আর কিছু পাক না পাক তাবিজ - তন্ত্র - মন্ত্র - যাদুটোনা - বান পাবেই পাবে। আল্লাহু আকবর এই দেশের সব মানুষ কামরূপ কামাখ্যা ফেরক যাদুটোনার কারিগর।

আল্লাহপাক সবাইকে মাফ করুন।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪০

নতুন নকিব বলেছেন:



প্রিয় ঠাকুর মাহমুদ ভাই,
মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা। ঠিক বলেছেন, এটা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক আছে।

আসলে জেনে কিংবা না জেনে অনেকেই তর্কে লিপ্ত হন। শুধু এসব বিষয়ে কেন? তারা তো আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ব্যাপারেও তর্ক-বিতর্ক করেন! কুরআনুল কারিমের ব্যাপারে করেন! আরও কত কিছু নিয়েই তো তাদের আপত্তি। তাতে কি!

তবে তর্ক-বিতর্ক তারা যতই করুন, করতে পারেন। এটা তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। কিন্তু আমরা যারা আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী, কুরআনে বিশ্বাস রাখি, কুরআনের প্রতিটি আয়াতের প্রতি আমাদের বিশ্বাস রাখতে হয়। কুরআন যেখানে যাদুটোনার ব্যাপারে স্পষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছে, তা জানার পরে বুঝার পরে, সেই বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে যাওয়ার সুযোগ আমাদের আর থাকে না। এটা বিশ্বাসের প্রশ্ন। আশা করছি, আপনাকে বুঝাতে পেরেছি।

আর পোস্টে মূলতঃ যাদুটোনা বিষয়ে কুরআন হাদিসে বর্ণিত বিশ্বাস নিয়েই সামান্য আলোকপাত করা হয়েছে। পোস্ট একটু বড় হওয়ায় আপনি পুরোটা পড়তে পেরেছেন কি না জানি না। দয়াপূর্বক সময় করে আদ্যোপান্ত পোস্টটি পুনরায় পাঠ করে আরেকবার পোস্টের আলোকে এই বিষয়ে আমাদের করণীয় বা বিশ্বাস কি হওয়া উচিত এই সম্মন্ধে আপনার মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করলে খুশি হব।

অনেক অনেক শুভকামনা।

৬| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:২৪

নীল প্রজাপ্রতি বলেছেন: তথ্য বহুল ও অনেক কিছু জানানোর জন্য ধন্যবাদ। পোস্ট প্রিয়তে ।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৩

নতুন নকিব বলেছেন:



শুকরিয়া। পোস্ট ভালোলাগায় এবং প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞতা।

অনেক অনেক ভালো থাকবেন, প্রার্থনা সবসময়।

৭| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:৪০

করুণাধারা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্য। যাদু-টোনা সত্যি, আপনি কুরআনের আয়াত দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়ে পোস্ট দিলে অনেকেই প্রচন্ড আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। সাহায্য চেয়ে পোস্ট দেয়ার এই পোস্ট দাতার জন্য আমার খুব দুঃখ হয়।view this link আশাকরি আপনি আক্রমণাত্মক মন্তব্য অগ্রাহ্য করবেন।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৭

নতুন নকিব বলেছেন:



কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতি। আপনার দেয়া লিঙ্কযুক্ত পোস্টে গিয়েছি। তার পোস্টে একটি মন্তব্যও রেখে এসেছি। সত্যিই তার জন্য দুঃখ হয়! বেচারা নিতান্ত সাহায্যের জন্য পোস্ট দিয়েও তীব্র বাক্যবাণের হাত থেকে রক্ষা পাননি।

পোস্টে মূলতঃ আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাস আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। যাদের ভালো লাগবে না, তারা তাদের অভিমত শালীনতার সাথে তুলে ধরতে পারেন অথবা এই পোস্ট এড়িয়ে যেতে পারেন। সুপরামর্শের জন্য আবারও ধন্যবাদ।

অনেক অনেক ভালো থাকুন, প্রার্থনা সবসময়।

৮| ২২ শে জুন, ২০২০ দুপুর ২:৪১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: মুসলিম হয়ে এইসব যাদুটোনা বিশ্বাস করা উচিত না l

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:৪৯

নতুন নকিব বলেছেন:



জ্বি, ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই।

আপনি কি পোস্টটি পড়েছিলেন? দয়া করে একটু পড়ে আবার যদি আপনার মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেন অনেক খুশি হব।

অনেক অনেক ভালো থাকুন ভাই।

৯| ২২ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:১১

সুপারডুপার বলেছেন:



যাদুটোনা মানসিক ভাবে দুর্বল রোগীদের জন্য কাজ করে, বিশেষ করে দুর্বল মনের মহিলাদের জন্য বেশ ভালো কাজ করে। মানসিক ভয় থেকে দুর্বল মনের মানুষরা প্রায়ই গুরু পীরবাবা মোল্লা- মৌলভীর দরবারে শরণাপন্ন হন। আর পীর বাবারাও যাদুটোনা তদবীর দিয়ে তার সুযোগ নেয়। কারণ ভ্রান্ত বিশ্বাসে মানুষকে বন্দী করে শাসন করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ারের নাম ' ভয় '

যাদুটোনা বান যদি কাজই করতো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী বান মারতো চীনের রাষ্ট্রপতিকে। ডোনাল্ড ট্র্যাম্পুকে বান মারতো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী।

তার মানে কি দাড়ায়, শক্তিশালী মনে যাদুটোনা কোনো ধোকা দিতে পারে না।

১০| ২২ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২১

সুপারডুপার বলেছেন:


ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: পুলিশ সার্চ ওয়ারেন্টে কারো বাসা বাড়ি তল্লাশী করে আর কিছু পাক না পাক তাবিজ - তন্ত্র - মন্ত্র - যাদুটোনা - বান পাবেই পাবে। আল্লাহু আকবর এই দেশের সব মানুষ কামরূপ কামাখ্যা ফেরক যাদুটোনার কারিগর।

হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেল। :-) :-) :-). দেশের মানুষগুলো কতটা দুর্বল মনের! দেশে বিশেষ করে অসৎ মানুষরা বেশি দুর্বল মনের হয়।

১১| ২২ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: সঠিক।

১২| ২৩ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:১৭

নতুন বলেছেন: যাদুটোনায় বিশ্বাস প্রমান করে মানুষ কতটা অন্ধবিশ্বাসী।

আপনি যেমন মানেন সৃস্টিকতা সকল ক্ষমতার উতস। তাহলে আমি আপনাকে যাদু করার জন্য মন্ত্র পড়লে আপনার অনিস্ট করার জন্য ক্ষমতাটা কোথা থেকে আসে?

রাসুল সা: কে যাদু করা হয়েছিলো সেই ক্ষমতাটা আল্লাহের চেয়েও বেশি ক্ষমতাসালী ছিল যে বিশ্বব্রমান্ডের সৃস্টিকতার রাসুলের ক্ষতি করলো?

যারা যাদুটোনা করে তারা কেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, জজ`বুশের মতন মানুষকে যাদুটোনা করেন না?

সুরা ফাতিহা, সুরা এখলাস, সুরা নাসের কথায় সৃস্টিকতার প্রসংসা আছে তাতে আপনার উপরে যে যাদু করেছে সেই যাদুর প্রভাব নস্ট হয়ে যাবে?

আগে ম্যাজিসিয়ানের অনেক নাম ডাক ছিলো এখন কেন নাই বলতে পারেন?????

১৩| ২৪ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:১৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: @নতুন ভাই
সূরা নাসে কি বলা হয়?

বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি
মানুষের পালনকর্তার,
মানুষের অধিপতির ।
মানুষের মা’বুদের ।
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে ।
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে ।

এর নাজিলের কারণ বা শানে নুযুল কি?
শানে নুযূল
সূরা ফালাক ও পরবর্তী সূরা আন নাস একই সাথে একই ঘটনায় অবতীর্ণ হয়েছে। মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে, জনৈক ইহু্দী রসূলুল্লাহ্‌- এর উপর জাদু করেছিল। ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। জিবরাঈল আগমন করে সংবাদ দিলেন যে, জনৈক ইহু্দী জাদু করেছে এবং যে জিনিসে জাদু করা হয়েছে, তা অমুক কুপের মধ্যে আছে। রসূলুল্লাহ্‌ লোক পাঠিয়ে সেই জিনিস কূপ থেকে উদ্ধার করে আনলেন। তাতে কয়েকটি গিরু ছিল। তিনি এই সূরা দুটি পড়ে ফুক দেওয়ায় গিরুগুলো সাথে সাথে খুলে যায় এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে শয্যা ত্যাগ করেন।[৬]

হযরত আয়েশা থেকে বর্ণিত আছে, রসূলুল্লাহ্‌ - এর উপর জাদু করলে তার প্রভাবে তিনি মাঝে মাঝে দিশেহারা হয়ে পড়তেন এবং যে কাজটি করেননি, তাও করেছেন বলে অনুভব করতেন। একদিন তিনি হযরত আয়েশা -কে বললেনঃ আমার রোগটা কি, আল্লাহ্ তা'আলা তা আমাকে বলে দিয়েছেন। (স্বপ্নে) দুব্যক্তি আমার কাছে আসল এবং একজন শিয়রের কাছে ও অন্যজন পায়ের কাছে বসে গেল। শিয়রের কাছে উপবিষ্ট ব্যক্তি অন্য জনকে বলল, তাঁর অসুখটা কি? অন্যজন বললঃ ইনি জাদুগ্রস্ত। প্রথম ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলঃ কে জাদু করেছে? উত্তর হল, ইহুদীদের মিত্র মুনাফিক লবীদ ইবনে আ'সাম জাদু করেছে। আবার প্রশ্ন হলঃ কি বস্তুতে জাদু করেছে? উত্তর হল, একটি চিরুনীতে। আবার প্রশ্ন হল, চিরুনীটি কোথায়? উত্তর হল, খেজুর ফলের আবরণীতে 'বির যরোয়ান' কূপে একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। অতঃপর রসূলুল্লাহ্‌ তিনি কূপে গেলেন এবং বললেনঃ স্বপ্নে আমাকে এই কূপই দেখানো হয়েছে। অতঃপর চিরুনীটি সেখান থেকে বের করে আনলেন।

রাসূলের উপরে সবকিছু উনার ব্যক্তিক কারণে নয়, উম্মতের শীক্ষার জন্যও অনেক কিছূ ঘটেছে, যাতে ভবিষ্যতের
উম্মতেরা তা থেকে সচেতন হতে পারে, জ্ঞানার্জণ করতে পারে। সর্তক হতে পারে।

যাদু শক্তির ক্ষতিও কার্যকর হয়, এবং তা আল্লাহর শক্তি নয়। নেগেটিভ ফোর্স বা শয়তানের শক্তি!
যা কার্যকর রাখা হয়েছে মানুষের বিশ্বাসকে পরীক্ষা করার জন্য
ভালর জন্য শুভর জন্য সে ধৈর্য ধারন করে সঠিক পথে চলে? না কুমন্ত্রনায় ভালমন্দ হিতাহিত জ্ঞান লোপ পায়!


সকল মানুষের সাথে নূন্যতম একজন অশরীরি থাকে।
মানুষ যত বড় হয় তার শিষ্য চেলা যেমন বাড়ে, রাজণৈতিক ব্যক্তি বা প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের তেমনি
অশরীরি চেলাও বাড়ে। তাই ছোট্ খাট যাদু তাদের উপর ক্রিয়াশীল হয়না।
আবার সেইরকম শক্ত শক্তিশালী ব্যক্তি, ঠিকই তা পারে। কিন্তু সেই ব্যাক্তি আবার বিধির বিধান জ্ঞানে বাঁধা!

কুন, ফাইয়াকুনের মানে যদি উপলদ্ধি করেন অনেক কিছূ ক্লিয়ার হয়ে যাবে।
তিনি বলেন হও, অমনি তা হয়ে যায়!
সর্বোচ্চ ক্ষমতার চূড়া বিন্দু

আপনি যদি অফিসের বড় বস/সিইও হন, আপনি যেমন ইচ্ছা প্রকাশ মাত্রই কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়
তেমনি আরকি!
মানুষের কথাতেই শক্তি!
বিশ্বাস না হলে- আপনার সামনে যে আছে তাকে একটা গালি দিন! (গালীও একটা কথা বৈকি ;)
দেখেন কেমন তেড়ে মেরে আসে। আবার ভাল কথার প্রভাবে মানুষ কিভাবে বদলে যায়!
আবেগী কথায় মানুষ কেঁদে ফেলে বা মনটা বিষাদাক্রান্ত হয়! - সবই কথার প্রভাব
আরবী কলেমা মানেও কিন্তু কথা বা বাক্য।

এইবার ভাবনার ঘরে অংক মিলিয়ে দেখুন :)


১৪| ২৪ শে জুন, ২০২০ রাত ১১:২৯

নতুন বলেছেন: @ বিদ্রোহী ভৃগু ভাই সুরা নাসে সৃস্টিকতার কাছে যাদুটোনা হতে বাচার জন্য প্রাথনা করা হয়েছে।

এটা পড়ে যদি যাদু নস্ট হয় তবে সেটা সৃস্টিকতা করে দেন।

এখন আধুনিক বিজ্ঞানে মানুষ বুঝতে পাচ্ছে মানুষের রোগ ব্যাধির পেছনে দায়ী জীবানু।

আমি মুখে শয়তানের কাছে চাইলাম যে আপনার অনিস্ট হউক আর শয়তান সেটা করে দিলো? ( উদাহরন দিতে আমি/আপনি ব্যবহার করছি আশা করি কিছু মনে করবেন না)

আপনার শরীর খারাপ হলো, তাহলে আপনার শরিরে কোন জীবানু আক্রমন বা অন্য কোন পরিবতন হলো, এখন এই পরিবত`শয়তান করে দেবে আমার মন্ত্র পড়াতেই?

এই সব কিছু্র পেছনে সেই অলৌকিকত্বই উত্তর।

কিন্তু দুনিয়াতে আজগুবি কিছুই হয় না। আগে মানুষকে বোকা বানানো অনেক সহজ ছিলো এখন মানুষ অনেক বেশি শিক্ষিত তাই

আগে ম্যাজিক দেখানো একটা বিরাট কিছু ছিলো। ডেভিড কপারফিল্ড, পিসি সরকার অনেক নামকরা ছিলেন। বত`মানে মানুষ এইসব যাদুর ট্রিক্স জানে তাই বত`মানে তেমন বিখ্যাত যাদুকর নেই।

আগের দিনে তান্ত্রিকরা জাদু করে মানুষকে ক্ষতি করতো বলে দাবি করতো। কিন্তু সেটার সবটাই ভুয়া কারন তারা আসলে মানুষের আগোচরে কিছু প্রযুক্তি বা বিষ ব্যবহার করতো যেটা মানুষ অলৌকিক যাদুর ফল মনে করতো।

বত`মানে আধুনিক শহরে কেন যাদুমন্ত্র, তন্ত্র মন্ত্রের মানুষ নেই? কারন মানুষ এইগুলি বিশ্বাস করেনা।

আর যেহেতু বিশ্বাসীদের প্রথম ও শেষ যুক্তি হলো কুন, ফায়া কুন তাই বিশ্বাসীদের কাছে অবশ্যই যাদু বলে জিনিস থাকতেই পারে। :)

অন্ধ বিশ্বাসীরা প্রতিদিন যেই সব কাজ করছে প্রতি মুহুতে তার সবকিছুই কিন্তু ব্যক্ষা করা যায়। কিন্তু বিশ্বাস করছে যাদু আছে, সম্ভব।

এইযে আমরা ইন্টারনেটে ব্লগিং করছি সেটাও এক রকমের ম্যাজিক। যদি এই জিনিসটা আমাজনের আদীবাসিকে বলা হয় যে আমি মন্ত্রবলে এই সব করছি সেটা তারা বিশ্বাস করবে।

কিন্তু আমি আপনি করবো না। কারন আমরা জানি কিভাবে ইন্টারনেটে ব্লগিং করা হয় সেই ধাপগুলি জানি।

তাই অজ্ঞতাই এই সব অন্ধবিশ্বাসের প্রান ভোমরা।

১৫| ২৭ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: উন্নত বিশ্বেও ব্ল্যাক ম্যাজিক আছে। খারাপ একটি অদৃশ্য সত্তার কথা অনেক ধর্মেই আছে। এদেরকে কাজে লাগিয়ে মানুষের ক্ষতি করা হয়। আমাদের দেশের ভণ্ড পীরেরা জীনের সাহায্য নিয়ে কিছু অবিশ্বাস জিনিস দেখায়। মুসলমানদের জীন বিশ্বাস করতে হবে। কারণ কোরআনের একটি সুরার নাম সুরা জীন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.