নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিরক নিকৃষ্টতম মহাপাপ: শিরক থেকে বাঁচতে যে দুআ পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

১৭ ই মার্চ, ২০২১ বিকাল ৩:৩০

ছবিঃ অন্তর্জাল।

শিরক নিকৃষ্টতম মহাপাপ: শিরক থেকে বাঁচতে যে দোয়া পড়তে বলেছেন বিশ্বনবি

কবিরা গোনাহ বা মহাপাপ অনেক রয়েছে। সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআ'লার অবাধ্য হওয়া, তাঁর নাফরমানি করা কবিরা গোনাহ। মাতা পিতার অবাধ্যতাও কবিরা গোনাহ। অন্যের অধিকার কেড়ে নেয়া, কারও প্রতি জুলূম করাও কবিরা গোনাহ। এমনিভাবে মিথ্যা বলা, গিবত করা (কারও পেছনে তার দোষ বর্ণনা করা), কারও নামে মিথ্যে অপবাদ দেয়া, চোগলখুরি করা, চুরি করা, ব্যভিচার করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা ইত্যাদিও কবিরা গোনাহর শামিল। এমন কবিরা গোনাহ আরও অনেক রয়েছে কিন্তু সবচেয়ে বড় এবং জঘন্য কবিরা গোনাহ হচ্ছে শিরক। শিরকের মত ভয়াবহ অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআ'লার ঘোষনা-

إِنَّ اللّهَ لاَ يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاء وَمَن يُشْرِكْ بِاللّهِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلاَلاً بَعِيدًا

নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। সূরা আন নিসা, আয়াত ১১৬

শিরক একটি মারাত্মক জুলূমও বটে। কারণ, জুলূম মানে হচ্ছে, অবিচার করা। আল্লাহ তাআ'লা নিরঙ্কুশভাবে এক ও একক। তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক বা অংশি সাব্যস্ত করা নিশ্চিতভাবে নিকৃষ্টতম একটি অবিচার। কুরআনুল কারিমের এক স্থানে শিরককে সবচেয়ে বড় জুলুম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত লুকমান আলাইহিস সালাম তার ছেলেকে শিরক করা থেকে বিরত থাকার নসিহত দেয়ার সময় যা বলেছিলেন আল্লাহ তাআ'লা কুরআনে হাকিমে তা আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন। বর্ণিত হয়েছে-

وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ

যখন লুকমান উপদেশচ্ছলে তার পুত্রকে বললেন- হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয় আল্লাহর সঙ্গে (কাউকে) শরিক করা মহা জুলুম। -সুরা লুকমান, আয়াত ১৩

এমনিভাবে কুরআনুল কারিমের অনেক স্থানে এবং বিভিন্ন হাদিসে শিরক না করার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এই অপরাধ থেকে মুক্তির পথ একটিই। খাঁটি অন্তরে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে কান্নাকাটি করে তাওবাহ করা। ইহা ব্যতিত শিরকের গোনাহ ক্ষমাপ্রাপ্তির আর কোনো উপায় নেই।

আর ভবিষ্যতের দিনগুলোতে ছোট-বড় জানা-অজানা সকল প্রকার শিরক থেকে বেঁচে থাকতে আল্লাহ তাআ'লার কাছে আশ্রয় কামনার চমৎকার একটি দুআ শিখিয়েছেন বিশ্বনবি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ اَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَ اَنَا أَعْلَمُ وَ اَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ

বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা- আলামু। -মুসনাদে আহমাদ, আদাবুল মুফরাদ

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার জানা অবস্থায় আপনার সঙ্গে শিরক করা হতে আপনারই কাছে আশ্রয় চাই। আর অজানা অবস্থায়ও আপনার সঙ্গে শিরক করা থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।‘

হাদিসের আরবি ভাষ্য-

لحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه، أما بعـد:

فهذا الدعاء يقال إذا خاف العبد على نفسه شيئا من الرياء، أو أراد أن يتقي أبواب الشرك كبيرها وصغيرها، فعن أبي موسى الأشعري قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم فقال: يا أيها الناس اتقوا هذا الشرك، فإنه أخفى من دبيب النمل. فقال له من شاء الله أن يقول: وكيف نتقيه وهو أخفى من دبيب النمل يا رسول الله ؟ قال: قولوا: اللهم إنا نعوذ بك من أن نشرك بك شيئا نعلمه، ونستغفرك لما لا نعلمه. رواه أحمد، وحسنه الألباني.

وروى البخاري في الأدب المفرد عن معقل بن يسار قال: انطلقت مع أبي بكر الصديق رضي الله عنه إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا أبا بكر ! للشرك فيكم أخفى من دبيب النمل. فقال أبو بكر: وهل الشرك إلا من جعل مع الله إلهاً آخر؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: والذي نفسي بيده، للشرك أخفى من دبيب النمل، ألا أدلك على شيء إذا قلته ذهب عنك قليله وكثيره؟ قال: قل: اللهم إني أعوذ بك أن أشرك بك وأنا أعلم، وأستغفرك لما لا أعلم. وصححه الألباني.

বিশ্বাসী প্রত্যেকেরই উচিত, সবসময় আল্লাহ তাআ'লার কাছে হাদিসে বর্ণিত এ দুআর মাধ্যমে প্রার্থনা করা। যাতে জানা-অজানা উভয় অবস্থার শিরক থেকে বাঁচা যায়। কোনো কারণে যদি ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় শিরক হয়েও যায়; তাতেও যেন ক্ষমা পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে ইচ্ছা-অনিচ্ছায়, জানা অজানা, ছোট বড় সকল ধরণের শিরকের ভয়াবহ গোনাহ থেকে মুক্ত রাখুন। মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসে উল্লেখিত দুআটির উপর বেশি বেশি আমল করার মাধ্যমে ভয়াবহ এই অপরাধ থেকে বেঁচে থাকার কিসমত নসিব করুন।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:৫৯

আহসানের ব্লগ বলেছেন: আমীন ।

২| ১৭ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১১:০৯

এভো বলেছেন: আপনি জানেন কি আই এস আই কাবা ঘর এবং কাবা ঘরের কালো পাথর হজরে আওশাদকে ধবংস করতে চেয়েছিল, শিরক করার অজুহাতে।
সহি হাদিসে আছে, কাবা ঘরের ওই কালো পাথর দুধ সাদা ছিল এবং মানুষের গুণা শোষণ করে কালো হয়ে গেছে, এই পাথরের মানুষের গুণা মাপ করার ক্ষমতা আছে, তাই সবাই ঐ পাথরকে চুমু খায়।

এখানেই আই এস আইদের আপত্তি। মানুষের গুণা মাপ করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহতালার অন্য কারো নহে, তাহোলে ওই কালো পাথরের যদি গুণা মাপ করার ক্ষমতা থাকে, তাহোলে ঐ পাথরকে আল্লাহর ক্ষমতার সাথে শরিক করা হোল না?
ঐ কালো পাথরকে চুমু খাওয়া কেন শিরক নহে ব্যাখা করলে উপকৃত হবো।

৩| ১৮ ই মার্চ, ২০২১ রাত ১২:০১

রাজীব নুর বলেছেন: আমার খুব দুঃখ লাগে, কাউকে দেখি না নবিজির দেখানো পথে চলতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.