নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলহামদুলিল্লাহ! যা চেয়েছিলাম, তার চেয়েও বেশি দয়া করেছেন আমার পরম প্রিয় রব। যা পাইনি, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই—কারণ জানি, তিনি দেন শুধু কল্যাণই। সিজদাবনত শুকরিয়া।\n\nপ্রত্যাশার একটি ঘর এখনও কি ফাঁকা পড়ে আছে কি না, জানি না। তবে এটুকু জানি—

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইসরা ও মিরাজ: আল্লাহর কুদরতের মহিমান্বিত সাক্ষ্য

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩০

ইসরা ও মিরাজ: আল্লাহর কুদরতের মহিমান্বিত সাক্ষ্য

ছবি, অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ইসরা ও মিরাজ, এ নাম দু’টি শুনলেই মুমিনের অন্তরে এক অপার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আশার জোয়ার উঠে। এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জীবনের সেই বিশেষ মুজিজা, যা আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা এবং তাঁর প্রিয় হাবিবের মর্যাদার সাক্ষ্য বহন করে। নবুয়তের দশম বা একাদশ বছরে, রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে অর্থাৎ, ২৭ তারিখে, এই ঘটনা সংঘটিত হয়, যা ‘শবে মিরাজ’ নামে প্রসিদ্ধ হয়ে আছে। সশরীরে, জাগ্রত অবস্থায়, এক রাতের মধ্যে মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে জেরুজালেমের মসজিদুল আকসা, তারপর সপ্তম আসমান অতিক্রম করে সিদরাতুল মুনতাহা এবং আরশে আজিম পর্যন্ত যাত্রা! কল্পনা করুন, সেই রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অন্তর কতটা আলোকিত হয়েছিল, যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে সান্ত্বনা দেন, সৃষ্টির অজানা রহস্য প্রদর্শন করেন, জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য দেখান এবং উম্মতের জন্য নামাজের মতো অমূল্য উপহার প্রদান করেন। এ যাত্রা শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং আমাদের জীবনের প্রতিটি কষ্টের মধ্যে আল্লাহর সান্নিধ্যের আশ্বাস, ধৈর্যের পুরস্কার এবং ঈমানের শক্তির প্রতীক। এই লেখায় সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, তাফসির ইবনে কাসির, সুন্নাহ.কম, ইসলামকিউএ এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য ইসলামী সোর্সের সমন্বয়ে মিরাজের ঘটনার বিস্তারিত, হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়েছে। বস্তুতঃ মিরাজের অবিস্মরণীয় ঘটনা বিশ্বাসীদের অন্তরে ঈমানের নতুন আলো জ্বালিয়ে দেয়, পক্ষান্তরে অবিশ্বাসীদের অন্তরের অসার দোদুল্যমানতা শুধু বৃদ্ধিই পেতে থাকে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: দুঃখের বছর (আমুল হুজন), যখন অন্ধকারের পর আলো নেমে আসে

নবুয়তের ১০ম বা ১১তম বছর, এ সময়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর জীবনে ‘আমুল হুজন’ বা ‘দুঃখের বছর’ হিসেবে চিহ্নিত। তাঁর প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.), যিনি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় সমর্থক, প্রথম মুসলিম এবং আর্থিক-মানসিক সহায়ক, এবং চাচা আবু তালিব, যিনি তাঁকে কুরাইশের নির্যাতন থেকে রক্ষা করেছিলেন, দু’জনেই ইন্তেকাল করেন। মক্কার কুরাইশরা নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাঁকে অপমান করে, তাঁর দ্বীনের দাওয়াত তারা প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি তায়েফে দাওয়াত প্রচার করতে গেলে সেখানকার লোকেরা পাথর ছুড়ে তাঁকে আহত করে, তাঁর পায়ের রক্তে জুতা ভিজে যায়। কল্পনা করুন, সেই অন্ধকারময় দিনগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অন্তর কতটা ভারাক্রান্ত ছিল! তিনি বলেছেন, “আমি কখনো এতটা দুঃখ পাইনি যতটা তায়েফে পেয়েছি।” কিন্তু আল্লাহ তাআলা, যিনি সবকিছু দেখেন ও শোনেন, তাঁকে একাকী রাখেননি। মিরাজের এই অলৌকিক যাত্রা ছিল তাঁর জন্য সান্ত্বনার উৎস, ইসলামের ভবিষ্যত বিজয়ের সুসংবাদ এবং আধ্যাত্মিক শক্তির নতুন উৎস। এটি যেন আল্লাহর বাণী - “ইন্না মা‘আল উসরি ইউসরা” (নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, সুরা ইনশিরাহ: ৫-৬) -এর জীবন্ত প্রমাণ। -ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩/১৩৫; মুসলিমহ্যান্ডস.অর্গ.ইউকে

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা: ইসরা ও মিরাজ- এক হৃদয়গ্রাহী যাত্রা, যা সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করে

ইসরা ও মিরাজ দু’টি অংশে বিভক্ত, কিন্তু একই যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘ইসরা’ অর্থ রাত্রিকালীন ভ্রমণ, মক্কা থেকে জেরুজালেম পর্যন্ত। ‘মিরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমন, আকাশের স্তর অতিক্রম করে আল্লাহর নৈকট্যে। এ যাত্রা ছিল সশরীরিক, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মুজিজার সর্বোচ্চ উদাহরণ।

প্রস্তুতি: অন্তরের পবিত্রতা এবং অলৌকিক বাহন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে হানি (রা.)-এর বাড়িতে বা হাতিমে অর্ধনিদ্রায় ছিলেন। জিবরাইল (আ.) এসে তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করেন, গলা থেকে নাভি পর্যন্ত, জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে, ঈমান ও হিকমত দিয়ে ভরে দেন। এটি যেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অন্তরকে যাত্রার জন্য প্রস্তুত করা, যাতে তিনি আল্লাহর নিদর্শনসমূহ দেখতে পারেন। তারপর ‘বুরাক’ নামক অলৌকিক বাহন আনেন, শ্বেতশুভ্র, খচ্চরের চেয়ে ছোট, গাধার চেয়ে বড়, প্রতি পদক্ষেপে দৃষ্টির শেষ সীমানায় পৌঁছে যায়। এটি আল্লাহর কুদরতের এক ছোট্ট নমুনা, যা মানুষের বোঝার সীমা অতিক্রম করে। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪

ইসরা: পবিত্র ভূমির যাত্রা এবং নবীদের ইমামতি: বুরাকে চড়ে মক্কা থেকে জেরুজালেমে পৌঁছেন। পথে মদিনা (যেখানে হিজরতের সুসংবাদ পান), সিনাই পর্বত (মুসার ওহী স্থান), বাইতুল লাহম (ঈসার জন্মস্থান) ইত্যাদি স্থানে থামেন, যেখানে পূর্ববর্তী নবীদের স্মৃতি জাগ্রত হয়। মসজিদুল আকসায় সকল নবী-রাসুল একত্রিত হন, এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের ইমামতি করেন, এটি ইসলামের অন্যান্য ধর্মের উত্তরাধিকার এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক। কল্পনা করুন, সেই মুহূর্তে নবী (সা.)-এর অন্তর কতটা আলোকিত হয়েছিল, যখন সমস্ত নবী তাঁর পেছনে নামাজ আদায় করেন! -সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪; সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭

মিরাজ: আকাশের স্তর অতিক্রম এবং নবীদের সাক্ষাৎ, যেখানে কথোপকথন ঈমান বাড়ায়: জিবরাইল (আ.)-এর সাথে সাত আকাশ অতিক্রম। প্রত্যেক আকাশের দ্বারে জিবরাইল (আ.) বলেন, “জিবরাইল, সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”, এবং স্বাগত জানানো হয়। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পূর্ববর্তী নবীদের সাক্ষাৎ পান, তাঁদের অবস্থা দেখেন এবং কথোপকথন হয়, যা তাঁর ঈমানকে আরও মজবুত করে। বিস্তারিত:

প্রথম আকাশ: আদম (আ.): তিনি ডান দিকে তাকিয়ে হাসেন (জান্নাতবাসী সন্তানদের দেখে) এবং বাম দিকে তাকিয়ে কাঁদেন (জাহান্নামবাসী সন্তানদের দেখে)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, আদম (আ.) উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান পুত্র ও পুণ্যবান নবী।” এটি মানুষের স্বাধীনতা এবং পরকালের ফলাফলের স্মরণ করিয়ে দেয়। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭

দ্বিতীয় আকাশ: ঈসা (আ.) ও ইয়াহইয়া (আ.): ঈসা (আ.) কোঁকড়া চুল, মাঝারি উচ্চতা, লালচে চামড়া; ইয়াহইয়া (আ.) সাদা চামড়া। তাঁরা কাজিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তাঁরা উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী।” কোনো বিশেষ কথোপকথন নয়, কিন্তু এটি নবীদের ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৯৫; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪

তৃতীয় আকাশ: ইউসুফ (আ.): তিনি চাঁদের মতো সুন্দর, অর্ধেক সৌন্দর্য যেন আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তিনি উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী।” এটি সৌন্দর্য এবং ধৈর্যের স্মরণ। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭

চতুর্থ আকাশ: ইদরিস (আ.): তিনি উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তিনি উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী।” -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭

পঞ্চম আকাশ: হারুন (আ.): তিনি দাড়ি বুক পর্যন্ত লম্বা, সুন্দর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তিনি উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী।” -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭

ষষ্ঠ আকাশ: মুসা (আ.): তিনি লম্বা, শক্তিশালী, গাঢ় বাদামী চামড়া, শানু'আ গোত্রের মতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তিনি উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নবী।” যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চলে যান, মুসা (আ.) কাঁদেন। কারণ জিজ্ঞাসায় বলেন, “এই যুবক (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার পরে প্রেরিত, কিন্তু তাঁর উম্মতের বেশি লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে।” পরে নামাজ কমানোর কথোপকথন: মুসা (আ.) বলেন, “তোমার উম্মত ৫০ ওয়াক্ত সহ্য করতে পারবে না, আমি বনি ইসরাইলকে পরীক্ষা করেছি। ফিরে গিয়ে কমানোর অনুরোধ করো।” এভাবে ৫০ থেকে ৫ হয়। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৯৫, ৩৮৮৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪

সপ্তম আকাশ: ইবরাহিম (আ.): তিনি কাবার দিকে হেলান দিয়ে বসে আছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর মতো দেখতে (নবী বলেন, “আমি সবচেয়ে বেশি ইবরাহিমের মতো”)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম দেন, তিনি উত্তর দিয়ে বলেন, “স্বাগতম, পুণ্যবান পুত্র ও পুণ্যবান নবী।” ইবরাহিম (আ.) বলেন, “হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার সালাম দিও এবং বলো, জান্নাতের মাটি ভালো, পানি মিষ্টি, সমতল ভূমি; এর গাছ লাগানো হয় সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার দিয়ে।” -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭; রিয়াদুস সালিহিন, হাদিস: ১৪৪০

বায়তুল মামুর: তারপর বায়তুল মামুর, যেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফিরিশতা ইবাদত করেন, দ্বিতীয়বার আর কখনো ফিরেন না। সিদরাতুল মুনতাহা, সৃষ্টির শেষ সীমা, যার ফল হাজরের জারের মতো বিশাল, পাতা হাতির কানের মতো। এখান থেকে জান্নাতের চার নদী উৎসারিত: দু’টি অদৃশ্য (জান্নাতী), দু’টি দৃশ্যমান (নীল ও ফুরাত)। এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন, যেখানে জিবরাইল (আ.) পর্যন্ত থেমে যান। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪

মিরাজে জান্নাত-জাহান্নামের সচক্ষে দর্শন: পাপ-পুণ্যের জীবন্ত ছবি: হ্যাঁ, মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাত ও জাহান্নাম সচক্ষে দর্শন করেছেন, যা হাদিসসমূহে বিস্তারিত বর্ণিত। এটি উম্মতকে সতর্ক করার জন্য এবং ঈমান বৃদ্ধির জন্য।

জান্নাত দর্শন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জান্নাতে প্রবেশ করে তার অপরূপ সৌন্দর্য দেখেন। তিনি বিলাল (রা.)-এর কণ্ঠ শোনেন, যিনি আজান দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করেছেন। জান্নাতের মাটি ভালো, পানি মিষ্টি, সমতল; গাছ লাগানো হয় জিকির দিয়ে। হাদিসে:

لَقِيتُ إِبْرَاهِيمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَقْرِئْ أُمَّتَكَ مِنِّي السَّلَامَ، وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ الْجَنَّةَ طَيِّبَةُ التُّرْبَةِ، عَذْبَةُ الْمَاءِ، وَأَنَّهَا قِيعَانٌ، وَأَنَّ غِرَاسَهَا: سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ

(ইবরাহিম (আ.) বলেন: হে মুহাম্মদ, তোমার উম্মতকে আমার সালাম দিও এবং বলো, জান্নাতের মাটি ভালো, পানি মিষ্টি, সমতল; এর গাছ সুবহানাল্লাহ ইত্যাদি দিয়ে।) (রিয়াদুস সালিহিন, হাদিস: ১৪৪০; তিরমিজি) জান্নাতের নদী দেখেন, যা অনন্ত সুখের প্রতীক। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২০৭

জাহান্নাম দর্শন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহান্নামে দৃষ্টিপাত করেন এবং পাপীদের ভয়াবহ শাস্তি দেখেন, যা অন্তরকে কাঁপিয়ে দেয়। উদাহরণস্বরূপ:

لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ، فَقُلْتُ: مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ

(আমি এমন লোক দেখলাম যাদের নখ তামার, তারা নিজেদের মুখ ও বুক আঁচড়াচ্ছে। জিজ্ঞাসায় জিবরাইল বলেন: এরা গীবতকারী এবং সম্মানহানিকারী।) (রিয়াদুস সালিহিন, হাদিস: ১৫২৬; আবু দাউদ) আরেক: أَتَيْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى قَوْمٍ بُطُونُهُمْ كَالْبُيُوتِ فِيهَا الْحَيَّاتُ تُرَى مِنْ خَارِجِ بُطُونِهِمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا جِبْرَائِيلُ قَالَ هَؤُلَاءِ أَكَلَةُ الرِّبَا

(পেট ঘরের মতো বড়, ভিতরে সাপ, বাইরে থেকে দেখা যায়। জিবরাইল বলেন: রিবা খোর।) -ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৭৩

জাহান্নামের রক্ষক মালিক (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি হাসেন না। এসব দর্শন নবী (সা.)-কে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, যা উম্মতকে পাপ থেকে বিরত রাখার জন্য বর্ণনা করেন। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩৯৫; উইকিপিডিয়া

নামাজের উপহার: উম্মতের জন্য রহমতের দরজা: আল্লাহ ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেন। মুসা (আ.)-এর পরামর্শে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বারবার অনুরোধ করে ৫ ওয়াক্তে কমানো হয়, কিন্তু পুণ্য ৫০-এর সমান। এটি উম্মতের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত, এবং নামাজকে ‘মুমিনের মিরাজ’ বলা হয়। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৯

প্রত্যাবর্তন: বিশ্বাসের পরীক্ষা এবং প্রমাণ: সকালে ঘটনা বর্ণনা করলে কুরাইশ অবিশ্বাস করে, তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে। আবু বকর (রা.) বিশ্বাস করে ‘সিদ্দিক’ উপাধি পান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকসার দরজা, কাফেলার বর্ণনা দিয়ে প্রমাণ করেন। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭

কুরআনে হাকিমে মিরাজের প্রসঙ্গ: আল্লাহর বাণীতে অটুট সত্য

কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে:

: سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাতারাতি মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় নিয়ে যান, যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর শ্রোতা এবং সব কিছুর জ্ঞাতা। -সুরা ইসরা (১৭:১)

: وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَىٰ مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمۡ وَمَا غَوٰى​ۚ‏۝ ... لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَىٰ

কসম নক্ষত্রের, যখন তা পতিত হয়। (হে মক্কাবাসীগণ!) তোমাদের সঙ্গী পথ ভুলে যায়নি এবং বিপথগামীও হয়নি। সে তার নিজ খেয়াল-খুশী থেকে কিছু বলে না। এটা তো খালেস ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়। তাকে শিক্ষা দিয়েছে এক প্রচণ্ড শক্তিমান (ফেরেশতা)। যে ক্ষমতার অধিকারী। ৩ সুতরাং সে আত্মপ্রকাশ করল, যখন সে ছিল ঊর্ধ্ব দিগন্তে। তারপর সে নিকটে আসল এবং ঝুঁকে গেল। এমনকি দুই ধনুকের দূরত্ব পরিমাণ কাছে এসে গেল, বরং তার চেয়েও বেশি নিকটে। এভাবে নিজ বান্দার প্রতি আল্লাহর যে ওহী নাযিল করার ছিল তা নাযিল করলেন। সে যা দেখেছে, তার অন্তর তাতে কোন ভুল করেনি। তবুও কি সে যা দেখেছে তা নিয়ে তোমরা তার সঙ্গে বিতণ্ডা করবে? বস্তুত সে তাকে (ফেরেশতাকে) আরও একবার দেখেছে। সিদরাতুল মুনতাহা (সীমান্তবর্তী কুলগাছ)-এর কাছে। তারই কাছে অবস্থিত জান্নাতুল মাওয়া। তখন সেই কুল গাছটিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল সেই জিনিস যা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। (রাসূলের) চোখ বিভ্রান্ত হয়নি এবং সীমালংঘনও করেনি। বাস্তবিকপক্ষে, সে তার প্রতিপালকের বড়-বড় নিদর্শনের মধ্য হতে বহু কিছু দেখেছে। -সুরা নাজম (৫৩:১-১৮)

হাদিসের আলোকে মিরাজ:

সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৪: خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي لَيْلَةِ الْإِسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ عَلَى دَابَّةٍ بَيْضَاءَ فَوْقَ الْحِمَارِ وَدُونَ الْبَغْلِ تَقَعُ حَافِرُهَا عِنْدَ مُنْتَهَى طَرْفِهَا

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ইসরা ও মিরাজের রাতে বের হলাম। আমরা একটি সাদা বাহনের উপর আরোহণ করেছিলাম, যা গাধার চেয়ে বড় কিন্তু খচ্চরের চেয়ে ছোট। এর খুর স্থাপিত হতো ঠিক যতদূর তার দৃষ্টি পৌঁছাতো। -সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৮৮৭: বক্ষ বিদীর্ণ, নবীদের সাক্ষাৎ, নামাজ।

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّ نَبِيَّ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَهُمْ عَنْ لَيْلَةِ أُسْرِيَ بِهِ بَيْنَمَا أَنَا فِي الْحَطِيْمِ وَرُبَّمَا قَالَ فِي الْحِجْرِ مُضْطَجِعًا إِذْ أَتَانِيْ آتٍ فَقَدَّ قَالَ وَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ فَشَقَّ مَا بَيْنَ هَذِهِ إِلَى هَذِهِ فَقُلْتُ لِلْجَارُوْدِ وَهُوَ إِلَى جَنْبِيْ مَا يَعْنِيْ بِهِ قَالَ مِنْ ثُغْرَةِ نَحْرِهِ إِلَى شِعْرَتِهِ وَسَمِعْتُهُ يَقُوْلُ مِنْ قَصِّهِ إِلَى شِعْرَتِهِ فَاسْتَخْرَجَ قَلْبِيْ ثُمَّ أُتِيْتُ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مَمْلُوءَةٍ إِيْمَانًا فَغُسِلَ قَلْبِيْ ثُمَّ حُشِيَ ثُمَّ أُعِيْدَ ثُمَّ أُتِيْتُ بِدَابَّةٍ دُوْنَ الْبَغْلِ وَفَوْقَ الْحِمَارِ أَبْيَضَ فَقَالَ لَهُ الْجَارُوْدُ هُوَ الْبُرَاقُ يَا أَبَا حَمْزَةَ قَالَ أَنَسٌ نَعَمْ يَضَعُ خَطْوَهُ عِنْدَ أَقْصَى طَرْفِهِ فَحُمِلْتُ عَلَيْهِ فَانْطَلَقَ بِيْ جِبْرِيْلُ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَاسْتَفْتَحَ فَقِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيْلَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفَتَحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا فِيْهَا آدَمُ فَقَالَ هَذَا أَبُوكَ آدَمُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلَامَ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالِابْنِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الثَّانِيَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيْلَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفَتَحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا يَحْيَى وَعِيْسَى وَهُمَا ابْنَا الْخَالَةِ قَالَ هَذَا يَحْيَى وَعِيْسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِمَا فَسَلَّمْتُ فَرَدَّا ثُمَّ قَالَا مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ إِلَى السَّمَاءِ الثَّالِثَةِ فَاسْتَفْتَحَ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيْلَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ إِذَا يُوْسُفُ قَالَ هَذَا يُوْسُفُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الرَّابِعَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ أَوَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيْلَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَفُتِحَ فَلَمَّا خَلَصْتُ إِلَى إِدْرِيْسَ قَالَ هَذَا إِدْرِيْسُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ الْخَامِسَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قِيْلَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا هَارُونُ قَالَ هَذَا هَارُونُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ حَتَّى أَتَى السَّمَاءَ السَّادِسَةَ فَاسْتَفْتَحَ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ مَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا مُوْسَى قَالَ هَذَا مُوْسَى فَسَلِّمْ عَلَيْهِ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ ثُمَّ قَالَ مَرْحَبًا بِالأَخِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ فَلَمَّا تَجَاوَزْتُ بَكَى قِيْلَ لَهُ مَا يُبْكِيكَ قَالَ أَبْكِيْ لِأَنَّ غُلَامًا بُعِثَ بَعْدِيْ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِهِ أَكْثَرُ مِمَّنْ يَدْخُلُهَا مِنْ أُمَّتِيْ ثُمَّ صَعِدَ بِيْ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَاسْتَفْتَحَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ مَنْ هَذَا قَالَ جِبْرِيْلُ قِيْلَ وَمَنْ مَعَكَ قَالَ مُحَمَّدٌ قِيْلَ وَقَدْ بُعِثَ إِلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ مَرْحَبًا بِهِ فَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ فَلَمَّا خَلَصْتُ فَإِذَا إِبْرَاهِيْمُ قَالَ هَذَا أَبُوكَ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ قَالَ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَرَدَّ السَّلَامَ قَالَ مَرْحَبًا بِالِابْنِ الصَّالِحِ وَالنَّبِيِّ الصَّالِحِ ثُمَّ رُفِعَتْ إِلَيَّ سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى فَإِذَا نَبْقُهَا مِثْلُ قِلَالِ هَجَرَ وَإِذَا وَرَقُهَا مِثْلُ آذَانِ الْفِيَلَةِ قَالَ هَذِهِ سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى وَإِذَا أَرْبَعَةُ أَنْهَارٍ نَهْرَانِ بَاطِنَانِ وَنَهْرَانِ ظَاهِرَانِ فَقُلْتُ مَا هَذَانِ يَا جِبْرِيْلُ قَالَ أَمَّا الْبَاطِنَانِ فَنَهْرَانِ فِي الْجَنَّةِ وَأَمَّا الظَّاهِرَانِ فَالنِّيلُ وَالْفُرَاتُ ثُمَّ رُفِعَ لِي الْبَيْتُ الْمَعْمُوْرُ ثُمَّ أُتِيْتُ بِإِنَاءٍ مِنْ خَمْرٍ وَإِنَاءٍ مِنْ لَبَنٍ وَإِنَاءٍ مِنْ عَسَلٍ فَأَخَذْتُ اللَّبَنَ فَقَالَ هِيَ الْفِطْرَةُ الَّتِيْ أَنْتَ عَلَيْهَا وَأُمَّتُكَ ثُمَّ فُرِضَتْ عَلَيَّ الصَّلَوَاتُ خَمْسِيْنَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ فَمَرَرْتُ عَلَى مُوْسَى فَقَالَ بِمَا أُمِرْتَ قَالَ أُمِرْتُ بِخَمْسِيْنَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ قَالَ إِنَّ أُمَّتَكَ لَا تَسْتَطِيْعُ خَمْسِيْنَ صَلَاةً كُلَّ يَوْمٍ وَإِنِّيْ وَاللهِ قَدْ جَرَّبْتُ النَّاسَ قَبْلَكَ وَعَالَجْتُ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيْفَ لِأُمَّتِكَ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنِّيْ عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوْسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنِّيْ عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوْسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَوَضَعَ عَنِّيْ عَشْرًا فَرَجَعْتُ إِلَى مُوْسَى فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَأُمِرْتُ بِعَشْرِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ فَقَالَ مِثْلَهُ فَرَجَعْتُ فَأُمِرْتُ بِخَمْسِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ فَرَجَعْتُ إِلَى مُوْسَى فَقَالَ بِمَ أُمِرْتَ قُلْتُ أُمِرْتُ بِخَمْسِ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ قَالَ إِنَّ أُمَّتَكَ لَا تَسْتَطِيْعُ خَمْسَ صَلَوَاتٍ كُلَّ يَوْمٍ وَإِنِّيْ قَدْ جَرَّبْتُ النَّاسَ قَبْلَكَ وَعَالَجْتُ بَنِيْ إِسْرَائِيْلَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ التَّخْفِيْفَ لِأُمَّتِكَ قَالَ سَأَلْتُ رَبِّيْ حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ وَلَكِنِّيْ أَرْضَى وَأُسَلِّمُ قَالَ فَلَمَّا جَاوَزْتُ نَادَى مُنَادٍ أَمْضَيْتُ فَرِيْضَتِيْ وَخَفَّفْتُ عَنْ عِبَادِي

মালিক ইব্‌নু সা’সা’ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ আল্লাহ্‌র নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রাতে তাকেঁ ভ্রমণ করানো হয়েছে সে রাতের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এক সময় আমি কা’বা ঘরের হাতিমের অংশে ছিলাম। কখনো কখনো রাবী (কাতাদাহ) বলেছেন, হিজরে শুয়েছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার নিকট এলেন এবং আমার এস্থান হতে সে স্থানের মাঝের অংশটি চিরে ফেললেন। রাবী কাতাদাহ বলেন, আনাস (রাঃ) কখনো কাদ্দা (চিরলেন) শব্দ আবার কখনো শাক্‌কা (বিদীর্ণ) শব্দ বলেছেন। রাবী বলেন, আমি আমার পার্শ্বে বসা জারূদ (রহঃ) - কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দ্বারা কী বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, হকলূমের নিম্নদেশ হতে নাভি পর্যন্ত। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ) - কে এ-ও বলতে শুনেছি বুকের উপরিভাগ হতে নাভির নীচ পর্যন্ত। তারপর আগন্তুক আমার হৃদপিণ্ড বের করলেন। তারপর আমার নিকট একটি সোনার পাত্র আনা হল যা ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তারপর আমার হৃদপিন্ডটি ধৌত করা হল এবং ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ করে যথাস্থানে আবার রেখে দেয়া হল। তারপর সাদা রং এর একটি জন্তু আমার নিকট আনা হল। যা আকারে খচ্চর হতে ছোট ও গাধা হতে বড় ছিল। জারুদ তাকে বলেন, হে আবূ হামযা, এটাই কি বুরাক? আনাস (রাঃ) বললেন, হাঁ। সে একেক কদম রাখে দৃষ্টির শেষ সীমায়। আমাকে তার উপর সওয়ার করানো হল। তারপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল (আঃ) চললেন। প্রথম আসমানে নিয়ে এসে দরজা খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হল, ইনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আবার জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠান হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। তখন বলা হল, মারহাবা, উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর আসমানের দরজা খুলে দেয়া হল। আমি যখন পৌঁছলাম, তখন সেখানে আদম (আঃ) - এর সাক্ষাৎ পেলাম জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি আপনার আদি পিতা আদম (আঃ) তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিলেন এবং বললেন, নেক্‌কার পুত্র ও নেক্‌কার নবীর প্রতি খোশ আমদেদ। তারপর উপরের দিকে চলে দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে দরজা খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হল কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ। তারপর বলা হল - মারহাবা! উত্তম আগমনকারীর আগমন ঘটেছে। তারপর খুলে দেয়া হল। যখন সেখানে পৌঁছলাম তখন সেখানে ইয়াহ্‌ইয়া ও ‘ঈসা(আঃ) - এর সাক্ষাৎ পেলাম। তাঁরা দু’জন ছিলেন পরস্পরের খালাত ভাই। তিনি (জিবরাঈল) বললেন, এরা হলেন, ইয়াহ্‌ইয়া ও ঈসা (আঃ)। তাদের প্রতি সালাম করুন। তখন আমি সালাম করলাম। তাঁরা জবার দিলেন, তারপর বরলেন, নেক্‌কার ভাই ও নেক্‌কার নবীর প্রতি খোশ - আমদেদ। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানের দিকে চললেন, সেখানে পৌঁছে জিবরাঈল বললেন, খুলে দাও। তাঁকে বলা হল কে? তিনি উত্তর দিলেন, জিবরাঈল (আঃ)। জিজ্ঞেস করা হল আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ। বলা হল, তাঁর জন্য খোশ - আমদেদ। উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তারপর দরজা খুলে দেয়া হল। আমি তথায় পৌঁছে ইউসুফ (আঃ) - কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল বললেন, ইনি ইউসুফ (আঃ) আপনি তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম, তিনিও জবাব দিলেন এবং বললেন, নেক্‌কার ভাই, নেক্‌কার নবীর প্রতি খোশ-আমদেদ। তারপর জিবরাঈল (আঃ) আমাকে নিয়ে উপর দিকে চললেন এবং চতুর্থ আসমানে পৌঁছলেন। আর দরজা খুলে দিতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। তখন বলা হল, তাঁর প্রতি মারহাবা। উত্তম আগমনকারীর আগমন ঘটেছে। তারপর খুলে দেয়া হল। আমি ইদ্রীস (আঃ) - এর কাছে পৌঁছলে জিবরাঈল বললেন, ইনি ইদ্রীস (আঃ)। তাকেঁ সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনিও জবার দিলেন। তারপর বললেন, নেক্‌কার ভাই ও নেক্‌কার নবীর প্রতি মারহাবা। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে উপর দিকে গিয়ে পঞ্চম আসমানে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হল আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি উত্তর দিলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। বলা হল, তাঁর প্রতি মারহাবা। উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। তথায় পৌঁছে হারূন (আঃ) - কে পেলাম। জিবরাঈল বললেন, ইনি হারূন (আঃ) তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম; তিনিও জবাব দিলেন, এবং বললেন, নেক্‌কার ভাই ও নেক্‌কার নবীর প্রতি মারহাবা। তারপর আমাকে নিয়ে যাত্রা করে ষষ্ঠ আকাশে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কে? তিনি বললেন, জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। প্রশ্ন করা হল, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হাঁ। ফেরেশ্‌তা বললেন, তার প্রতি মারহাবা। উত্তম আগন্তুক এসেছেন। তথায় পৌঁছে আমি মূসা (আঃ) - কে পেলাম। জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি মূসা (আঃ)। তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি জবাব দিলেন এবং বললেন, নেক্‌কার ভাই ও নেক্‌কার নবীর প্রতি মারহাবা। আমি যখন অগ্রসর হলাম তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কিসের জন্য কাঁদছেন? তিনি বললেন, আমি এজন্য কাঁদছি যে, আমার পর একজন যুবককে নবী বানিয়ে পাঠানো হয়েছে, যাঁর উম্মত আমার উম্মত হতে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারপর জিবরাঈল (আঃ) আমাকে নিয়ে সপ্তম আকাশের দিকে গেলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন, জিজ্ঞেস করা হল এ কে? তিনি উত্তর দিলেন, আমি জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। জিজ্ঞেস করা হল, তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে কি? তিনি বললেন, হাঁ। বলা হল, তাঁর প্রতি মারহাবা। উত্তম আগমনকারীর আগমন হয়েছে। আমি সেখানে পৌঁছে ইব্‌রাহীম (আঃ) - কে দেখতে পেলাম। জিবরাঈল (আঃ) বললেন, ইনি আপনার পিতা তাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবার দিলেন এবং বললেন, নেক্‌কার পুত্র ও নেক্‌কার নবীর প্রতি মারহাবা। তারপর আমাকে সিদ্‌রাতুল মুনতাহা [১] পর্যন্ত উঠানো হল। দেখতে পেলাম, তার ফল ‘হাজার’ অঞ্চলের মটকার ন্যায় এবং তার পাতাগুলি হাতির কানের মত। আমাকে বলা হল, এ হল সিদরাতুল মু্‌নতাহা। সেখানে আমি চারটি নহর দেখতে পেলাম, যাদের দু’টি ছিল অপ্রকাশ্য দু’টি ছিল প্রকাশ্য। তখন আমি জিব্‌রাঈল (আঃ) - কে জিজ্ঞেস করলাম, এ নহরগুলি কী? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য, দু’টি হল জান্নাতের দু’টি নহর। আর প্রকাশ্য দু’টি হল নীল নদী ও ফুরাত নদী। তারপর আমার সামনে ‘আল-বায়তুল মামুর’ প্রকাশ করা হল, এরপর আমার সামনে একটি শরাবের পাত্র, একটি দুধের পাত্র ও একটি মধুর পাত্র রাখ হল। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তখন জিবরাঈল বললেন, এ-ই হচ্ছে ফিতরাত। আপনি ও আপনার উম্মতগণ এর উপর প্রতিষ্ঠিত। তারপর আমার উপর দৈনিক ৫০ ওয়াক্ত সলাত ফরয করা হল। এরপর আমি ফিরে আসলাম। মূসা (আঃ) - এর সম্মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনাকে কী আদেশ করেছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমাকে দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের আদেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত আদায় করতে সমর্থ হবে না। আল্লাহ্‌র কসম। আমি আপনার আগে লোকদের পরীক্ষা করেছি এবং বানী ইসরাঈলের হিদায়াতের জন্য কঠোর শ্রম দিয়েছি। তাই আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের (বোঝা) হালকা করার জন্য আরয করুন। আমি ফিরে গেলাম। ফলে আমার উপর হতে দশ হ্রাস করে দিলেন। আমি আবার মূসা (আঃ) - এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি আবার আগের মত বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। ফলে আল্লাহ তা’আলা আরো দশ কমিয়ে দিলেন। ফিরার পথে মূসা (আঃ) - এর নিকট পৌঁছলে, তিনি আবার আগের কথা বললেন, আমি আবার ফিরে গেলাম। আল্লাহ তা’আলা আরো দশ হ্রাস করলেন। আমি মূসা (আঃ) - এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি আবার ঐ কথাই বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম। তখন আমাকে প্রতিদিন দশ সলাতের আদেশ দেয়া হয়। আমি ফিরে এলাম। মূসা (আঃ) ঐ কথাই আগের মত বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম, তখন আমাকে পাঁচ সলাতের আদেশ করা হয়। তারপর মূসা (আঃ) নিকট ফিরে এলাম। তিনি বললেন, আপনাকে কী আদেশ দেয়া হয়েছে। আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচবার সলাত আদায়ের আদেশ দেয়া হয়েছে? মূসা (আঃ) বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পাঁচ সলাত আদায় করতেও সমর্থ হবে না। আপনার পূর্বে আমি লোকদের পরীক্ষা করেছি। বনী ইসরাঈলের হিদায়াতের জন্য কঠোর শ্রম দিয়েছি। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরো সহজ করার আরযি করুন। রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি আমার রবের নিকট আরজি করেছি, এতে আমি লজ্জাবোধ করছি। আর আমি এতেই সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তা মেনে নিয়েছি। এরপর তিনি বললেন, আমি যখন অগ্রসর হলাম, তখন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন, আমি আমার অবশ্য প্রতিপাল্য নির্দেশ জারি করে দিলাম এবং আমার বান্দাদের উপর হালকা করে দিলাম। -সহিহ বুখারী, আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৬০০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৬০৫

তাৎপর্য ও শিক্ষা:

ইসরা ও মিরাজের ঘটনা নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের এক অতুলনীয় মুজিজা এবং উম্মতের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিদর্শন। এই যাত্রা শুধু একটি অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণীয় গভীর তাৎপর্য ও শিক্ষা বহন করে।
তাৎপর্য ও শিক্ষা: জীবনের আলো এবং অনুপ্রেরণা

১. ধৈর্যের অসাধারণ পুরস্কার

ইসরা ও মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল নবীজীর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে, ‘আমুল হুজন’ বা দুঃখের বছরে, যখন প্রিয় চাচা আবু তালিব ও স্ত্রী খাদিজা (রা.) ইন্তেকাল করেন, তায়েফবাসীরা পাথর মেরে রক্তাক্ত করেছিল। এমন কষ্টের পর আল্লাহ তাঁকে এই মহা সম্মান ও সান্নিধ্য দান করেন। এটি সুরা ইনশিরাহের ঘোষণার জীবন্ত প্রমাণ:

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” -সূরা ইনশিরাহ: ৫-৬

শিক্ষা: যত বড় কষ্টই আসুক, আল্লাহর রহমতের দ্বার সবসময় খোলা। ধৈর্য ধরলে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে সান্ত্বনা ও মর্যাদা দান করেন।

২. নামাজ: মুমিনের মিরাজ ও আল্লাহর সাথে সরাসরি সংযোগ

মিরাজের সবচেয়ে বড় উপহার হলো উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ। নবীজী (সা.) সিদরাতুল মুনতাহার কাছে আল্লাহর সাথে কথা বলে এই হুকুম নিয়ে আসেন। হাদীসে এসেছে: “নামাজ মুমিনের জন্য মিরাজ।”

নামাজের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করি, অন্তর পবিত্র হয়, পাপ থেকে বিরত থাকি এবং জীবনের সকল কষ্টের প্রতিকার পাই।

৩. জেরুজালেম (বাইতুল মুকাদ্দাস)-এর পবিত্রতা ও গুরুত্ব

ইসরার মাধ্যমে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত যাত্রা এবং সেখানে সকল নবীদের ইমামতি করে নামাজ আদায়, এটি প্রমাণ করে যে বাইতুল মুকাদ্দাস প্রথম কিবলা (প্রায় ১৬-১৭ মাস) এবং সকল নবীর আমানত। এটি মুসলিমদের জন্য তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং আজও এর মর্যাদা ও সুরক্ষা আমাদের ঈমানের অংশ।

৪. আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও ঈমানের দৃঢ়তা

নবীজী (সা.) জান্নাত-জাহান্নামের দৃশ্য দেখেন, বিভিন্ন নবীদের সাক্ষাৎ পান, পাপের শাস্তি ও নেক আমলের প্রতিফল দেখেন। এতে ঈমান অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়, পাপ থেকে বিরত রাখে এবং নবীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। এটি সশরীরে ঘটে যাওয়া ঘটনা, বিজ্ঞানের সীমা অতিক্রম করে আল্লাহর অসীম কুদরত প্রমাণ করে। -ইমাম নববী, শারহু মুসলিম, ২/২১০

৫. আল্লাহর কাছে কিছুই অসম্ভব নয়

মক্কা থেকে জেরুজালেম, তারপর সপ্তাকাশ পাড়ি দিয়ে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত, এই অসম্ভব যাত্রা দেখিয়ে দেয় যে আল্লাহর কুদরতে কোনো সীমা নেই। এটি আমাদেরকে তাওহীদের গভীর বিশ্বাস, আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা এবং অলৌকিকতায় বিশ্বাস করতে শেখায়।

উপসংহার

ইসরা ও মিরাজ আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবনের যত কষ্ট, দুঃখ, অসহায়ত্বই আসুক, আল্লাহর রহমতের দরজা সবসময় উন্মুক্ত। এই যাত্রা আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর সান্নিধ্য অনুভব করতে, নামাজকে আঁকড়ে ধরতে, ধৈর্য ধরতে, পাপ থেকে দূরে থাকতে এবং নেক আমলের প্রতি উদ্যমী হতে অনুপ্রাণিত করে।

এটি শুধু এক রাতের ঘটনা নয়, বরং চিরন্তন বার্তা, আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। তিনি যখন চান, তখন কষ্টের পর স্বস্তি দেন, অন্ধকারের পর আলো দেন এবং বান্দাকে তাঁর নৈকট্যের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন।

আসুন, এই মহান ঘটনার শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে নামাজে আরও মনোযোগী হই, ধৈর্য ও তাকওয়ার সাথে জীবন যাপন করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকি। আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসরা-মিরাজের নূরে আলোকিত করুন এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের তাওফিক দান করুন। আমীন।

রেফারেন্সসমূহঃ

১। সহিহ বুখারি ও মুসলিম
২। তাফসির ইবনে কাসির
৩। Al-Isra' wal-Mi'raj: The Story – muslimhands.org.uk
৪। Isra' and Mi'raj – en.wikipedia.org
৫। Riyad as-Salihin (sunnah.com)
৬। The Miracle of Isra and Miraj – dar-alifta.org
৭। Ahadith on Mi'raj – al-islam.org
৮। Sunan Ibn Majah (sunnah.com)
৯। Isra and Miraj – islamicity.org
১০। Isra wal Miraj – islamonweb.net
১১। Sahih al-Bukhari 3207 – sunnah.com
১২। Search Results on Miraj Hell – sunnah.com
১৩। Hadith on seeing paradise and hell during Isra Miraj – en.wikipedia.org,
১৪। reddit.com, islam.stackexchange.com

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.