| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নতুন নকিব
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।
শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য
ছবি, সংগৃহিত।
সারসংক্ষেপ
রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের গভীর অধ্যয়নে প্রতীয়মান হয় যে বহু নৈতিক ও সামাজিক অপরাধ রোজা ভঙ্গ না করলেও রোজার সওয়াব, বরকত ও তাকওয়াভিত্তিক উদ্দেশ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই প্রবন্ধে রোজা রেখে মিথ্যা, গীবত, ঘুষ, দুর্নীতি, অশ্লীলতা, ঝগড়া-বিবাদ ও সামাজিক অনাচারের শরিয়াহগত অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
১. ভূমিকা
রোজা (সিয়াম) ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইবাদত নয় বরং মানব চরিত্র গঠনের একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। কুরআন মাজিদে রোজার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তাকওয়া অর্জনের কথা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং রোজা শুধু পানাহার বর্জনের নাম নয় বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিক সংযম ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনের একটি সমন্বিত ইবাদত। এই প্রবন্ধে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো রোজা রেখে নৈতিক অপরাধ সংঘটিত হলে তার ফিকহি ও আখলাকি পরিণতি কী।
২. রোজা ভঙ্গের ফিকহি সংজ্ঞা
চার মাজহাবের স্বীকৃত ফিকহি গ্রন্থসমূহে রোজা ভঙ্গের মৌলিক কারণগুলো প্রায় অভিন্নভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো হলো ইচ্ছাকৃত পানাহার, ইচ্ছাকৃত যৌন সংসর্গ বা এর সমপর্যায়ের কার্য এবং নির্দিষ্ট শর্তে শরীরের অভ্যন্তরে কোনো বস্তু প্রবেশ করানো।
এই সীমার বাইরে সংঘটিত অধিকাংশ পাপাচার রোজা ভঙ্গ করে না। তবে এসব কাজ রোজার সওয়াব ও কবুলিয়তকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখযোগ্য ইবনু কুদামার আল মুগনি ও আল কাসানির বাদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে।
৩. কুরআন ও হাদিসে রোজার নৈতিক উদ্দেশ্যঃ
কুরআনুল কারিমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা ইরশাদ করেন-
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ﴾
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। -সূরা আল বাকারা ১৮৩
হাদিসের দলিল
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ পরিত্যাগ করে না আল্লাহর কাছে তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই। -সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৩
এই আয়াত ও হাদিস স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে নৈতিকতা ছাড়া রোজা তার কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যে পৌঁছায় না।
৪. নৈতিক ও সামাজিক অপরাধসমূহ: ফিকহি অবস্থান
রোজা রেখে যে সকল কাজ ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা বলা, গীবত ও চোগলখুরি, ঘুষ গ্রহণ, মজুদদারি ও কৃত্রিম দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আমানতের খেয়ানত ও আত্মসাৎ, অশ্লীল কথা বলা বা অশ্লীল লেখা ও দৃশ্য উপভোগ করা এবং প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া।
ফিকহি দৃষ্টিতে এসব কাজ দ্বারা রোজা ভঙ্গ হয় না। নৈতিক দৃষ্টিতে এগুলো কবিরা গুনাহ। রূহানি দৃষ্টিতে এসব কাজ রোজার সওয়াব ধ্বংস করার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
গীবত সম্পর্কে হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ الْغِيبَةُ تُفْطِرُ الصَّائِمَ
গীবত রোজাদারকে ইফতার করিয়ে দেয় অর্থাৎ তার রোজার সওয়াব নষ্ট করে দেয়। -শুআবুল ঈমান, আল বায়হাকি
৫. জিহ্বা, দৃষ্টি ও ডিজিটাল যুগ
আধুনিক যুগে জিহ্বার গুনাহ কেবল মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্লগ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তা বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। রোজা রেখে গালাগালি, অনলাইন কুৎসা, চরিত্রহনন কিংবা লালসার দৃষ্টিতে তাকানো রোজা ভঙ্গ না করলেও তাকওয়ার চেতনাকে ধ্বংস করে।
হাদিসের দলিল
الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَإِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ صَائِمًا فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ
রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে। -সহিহ মুসলিম, হাদিস ১১৫১
৬. সামাজিক আচরণ ও পারিবারিক নৈতিকতা
বাসে ঝগড়া করা, সহযাত্রীকে কষ্ট দেওয়া, ইফতারের খাবার নিয়ে দাম্পত্য কলহ কিংবা তারাবি আট না বিশ রাকাত নিয়ে বিবাদ রোজার আত্মসংযমী শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ফিকহি বিচারে রোজা বহাল থাকলেও এসব আচরণ রোজার বরকত ও রূহানি উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৭. চুরি, দুর্নীতি ও রোজার কবুলিয়ত
রোজা রেখে চুরি, দুর্নীতি ও অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা রোজা ভঙ্গ না করলেও এমন রোজার কবুলিয়ত গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
হাদিসের দলিল
رُبَّ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الْجُوعُ وَالْعَطَشُ
অনেক রোজাদার আছে যাদের রোজা থেকে প্রাপ্তি শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা। -ইবনু মাজাহ, হাদিস ১৬৯০
৮. উপসংহার
এই গবেষণাধর্মী আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে রোজা ভঙ্গ হওয়া এবং রোজা ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। নৈতিকতা ও তাকওয়া ছাড়া রোজা কেবল শারীরিক উপবাসে পরিণত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে রোজার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাকওয়াভিত্তিক চরিত্র গঠন। সুতরাং রোজা আমাদের পেট নয় বরং চরিত্র শুদ্ধ করার ইবাদত।
তথ্যসূত্র (References)
১। আল কুরআনুল কারিম
২। সহিহ আল বুখারি
৩। সহিহ মুসলিম
৪। ইবনু মাজাহ
৫। আল বায়হাকি,
৬। শুআবুল ঈমান ইবনু কুদামা,
৭। আল মুগনি আল কাসানি,
৮। বাদায়েউস সানায়ে আল নওয়াবি,
৯। আল মাজমু’
এই পোস্টটি ব্লগার গোবিন্দলগোবেচারা -কে উৎসর্গ করছি। মূলতঃ তার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের প্রেক্ষিতেই এই পোস্টটির অবতারনা। তার সেই প্রশ্নগুলোর আলাদা করে উত্তরও নিচে যুক্ত করা হলো-
প্রশ্নগুলোর শরিয়াহভিত্তিক সারসংক্ষেপ
উল্লিখিত ১ থেকে ২৪ নম্বর প্রশ্নে আলোচিত অধিকাংশ কাজ যেমন মিথ্যা বলা, ঘুষ গ্রহণ, গীবত ও চোগলখুরি, মজুদদারি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আমানতের খেয়ানত, আত্মসাৎ, কটু ও অশ্লীল কথা বলা, অন্যের হক নষ্ট করা, প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া, ঝগড়া-বিবাদ, লালসার দৃষ্টি, উপহাস, পারিবারিক কলহ কিংবা চুরিদারি - এসব কাজ ফিকহি দৃষ্টিতে রোজা ভঙ্গ করে না। তবে শরিয়াহর নৈতিক মানদণ্ডে এগুলো স্পষ্টতই কবিরা গুনাহ বা মারাত্মক অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এসব গুনাহ রোজার বাহ্যিক কাঠামো বহাল রাখলেও রোজার সওয়াব, বরকত ও তাকওয়াভিত্তিক উদ্দেশ্যকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
একইভাবে উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া, সেহরির অনেক আগে অযথা চেঁচামেচি করে ঘুম নষ্ট করা, অনলাইনে গালাগালি, সারাদিন খেল-তামাশায় সময় নষ্ট করা, নাপাক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে গোসল বিলম্বিত করা, অতিরিক্ত ও অপচয়মূলক ইফতার, কিংবা তারাবি আট না বিশ রাকাত নিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া - এসব কাজ রোজা ভঙ্গ না করলেও রোজার রূহ ও নৈতিক শিক্ষার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। বিশেষত যেসব আচরণে মানুষের কষ্ট, অহংকার, লোভ বা আত্মসংযমের অভাব প্রকাশ পায়, সেগুলো রোজার প্রকৃত লক্ষ্যকে ব্যর্থ করে দেয়।
চূড়ান্তভাবে বলা যায়, এসব কাজ রোজা ভাঙে না, কিন্তু রোজাকে ধ্বংস করে দেয়। বহু মানুষের রোজা কেবল ক্ষুধা ও পিপাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কারণ চরিত্র, জিহ্বা, দৃষ্টি ও আচরণে রোজার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। অথচ ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজার আসল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন ও নৈতিক চরিত্র গঠন। সুতরাং রোজা কেবল উপবাসের নাম নয়, বরং নিজেকে গুনাহ থেকে সংযত রাখার এক পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ।
আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে সহিহ আমল করার তাওফিক দান করুন। ইখলাসের সাথে প্রতিটি আমল আমরা যাতে করতে পারি, সেই সৌভাগ্য আমাদেরকে নসিব করুন।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৬
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনি যেন এবারের রমজানে আপনার বক্তব্য অনুযায়ী অনেক অনেক বাজার করতে পারেন, একান্তভাবে এই প্রার্থনা রাখছি। আর এটাও চাচ্ছি, যেন আমার আত্মশুদ্ধির জন্য আপনার প্রার্থনা আল্লাহ তাআ'লা কবুল করে নেন।
আর আপনার ওস্তাদকে আপনি বলে দিবেন, তিনি যেন ব্লগারদের বিষয়ে অভদ্র, অবান্তর এবং কটাক্ষপূর্ণ বাজে মন্তব্য না করেন। কুরআন এবং ইসলাম ধর্মকে তিনি যেন সামন্ত যুগের মানব রচিত বিষয় বলে উপহাস না করেন।
২|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৮
সাহাদাত উদরাজী বলেছেন: আমিন।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৪
নতুন নকিব বলেছেন:
মন্তব্যে আমিন বলে যাওয়ার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ তাআ'লা আমাদেরকে আসন্ন রমজানে সুস্থ থেকে রোজা পালন করার তাওফিক দান করুন। আমাদের সকল নেক আমল তিনি যেন কবুল করে নেন। আমিন।
৩|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: রানুর কাছে রমজান মানেই কেবল খানা পিনা ; আবার বলবে এসব পালন করলে লাভ নেই । ![]()
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২
নতুন নকিব বলেছেন:
উনি আমার একটি পোস্টে জানিয়েছেন, এই মাসে তিনি অনেক বেশি বাজার করবেন। এতেই বুঝা যায়, উনার কাছে রমজান মানেই প্রচুর পরিমানে বাজার করার মাস, ইবাদত বন্দেগীর নয়।

৪|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ পরিত্যাগ করে না আল্লাহর কাছে
তার পানাহার ত্যাগের কোনো প্রয়োজন নেই। -সহিহ বুখারি, হাদিস ১৯০৩
.......................................................................................................
সে কারনে নির্বাচন রোজা চলাকালীন হওয়া উচিৎ ছিল ।
নির্বাচণী প্রচারনায় দেখছি সবাই মাথায় টুপি পড়ে
এবং নানান রকম প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ।
নিদেন পক্ষে এই সময় কম মিথ্যাচার হতো ।
পরবর্তীতে তাহারা ওয়াদা ভঙ্গকারী হিসাবে চিহ্নিত করা যেত ।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০
নতুন নকিব বলেছেন:
বাস্তবতা হলো, রোজা একটি ব্যক্তিগত ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির অনুশীলন, আর নির্বাচন একটি সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। রোজার সময় হলেও যদি নৈতিকতা, সত্যবাদিতা ও আমানতদারির চর্চা না থাকে, তাহলে শুধু সময় নির্বাচন করলেই মিথ্যাচার কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সমস্যা সময়ে নয়, সমস্যাটি চরিত্রে ও জবাবদিহিতার অভাবে।
অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভকামনা আপনাকে।
৫|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪
বিষাদ সময় বলেছেন: রোজা/সিয়াম কোনটি বলা আমাদের জন্য উত্তম/
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৯
নতুন নকিব বলেছেন:
দুটি শব্দই শুদ্ধ। সিয়াম কুরআনের পরিভাষা, তাই তা বেশি উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ। রোজা, নামাজ, বেহেশত, ফিরিশতা ইত্যাদি ফারসি-উর্দু শব্দ আমাদের বাংলা ভাষায় ব্যাপকভাবে প্রচলিত, ব্যবহার বৈধ। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিতে কুরআন হাদিসে ব্যবহৃত পরিভাষা হিসেবে সিয়াম, সলাত, মালাইক, জান্নাত শব্দগুলোই অগ্রাধিকারযোগ্য।
চমৎকার প্রশ্নটির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
৬|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৩
গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: আমার কমেন্টের প্রেক্ষিতে একটি পোস্ট লিখে আমাকে উৎসর্গ করায় বিব্রত বোধ করছি।
কিছুদিন আগে পর্যন্ত সকাল আটটায় ক্লাসের জন্য বের হতে হতো, ফজরের নামাজের পর ঘুমানোর সুযোগ থাকতো না।
রোজায় রাতের খাবার এবং অন্যান্য কাজ সারতে সারতে সাড়ে এগারোটার আগে ঘুমাতে যাওয়া সম্ভব হতো না। রাত ২ টা থেকে উচ্চস্বরে মাইকে ডাকাডাকি, কাফেলার ডাকাডাকি, দুটার পরে ঘুমানোর সুযোগ হতো না। রমজানের গড়ে দিনে তিন চার ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ হয় না। পেটে ক্ষুধা, ঘুমের অভাব, এসব মিলিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে থাকে, এবং মানুষের সাথে সে কারণে খারাপ ব্যবহার করে ফেলি।
সন্দেহ করি জীবনে একটা রোযাও ঠিকমতো করতে পেরেছি কিনা।
আপনার আগের পোস্টে না খেয়ে থাকাটাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এরকম উপবাস আস্তিক নাস্তিক পৌত্তলিক একেশ্বরবাদী সকলেই করতে পারে। না খেয়ে থাকার দ্বারা শরীর পরিশুদ্ধ হয়। কিন্তু আত্মার পরিশুদ্ধি আনা দুরূহ। সেই প্রেক্ষিতেই আগের পোস্টে কমেন্ট করেছিলাম।
মাঝে মাঝে মনে হয় রোজার মাসটাতে নির্জনবাসে চলে যাই; কিন্তু কোথায় যাব? মসজিদে এতেকাফে যাব? জুম্মার নামাজের খুতবায় রাজনৈতিক বক্তৃতা, কুৎসা, খতিবদের ভাড়া করে আনা হয় কন্ট্রাক্টে; খতিবের কাজ মানুষকে আলোড়িত করে দানের বাক্স ভরে তোলা। যেই খতিব যত বেশি দান বাক্স ভরাতে পারবে, তার পারিশ্রমিক তত বেশি। কিছু পলিটিক্যাল ফিগার আছে মসজিদকে বাপের সম্পত্তি ভাবে। কমিটিতে উশৃংখল লোক। কোথাও শান্তি নাই। জঙ্গলে যাওয়ার সুযোগ নাই। পাহাড়ে যাবো ভেবেছিলাম, ওখানেও বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপের টহল। রোজা রাখা ভীষণ দুরূহ।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪১
নতুন নকিব বলেছেন:
আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ, এত খোলামেলাভাবে আত্মসমালোচনামূলক অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য।
আপনার কথাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বরং এগুলো একজন সংবেদনশীল, সচেতন মানুষের ভেতরের অনুভূতিকে তুলে ধরে। রোজা যে কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং আত্মসংযম, ধৈর্য ও চরিত্র গঠনের এক কঠিন সাধনা, এই উপলব্ধিটা আপনার লেখায় ভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে। বাস্তব জীবনের ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, ধর্মীয় পরিসরের রাজনীতিকরণ এবং মসজিদে অসৎ কমিটি ও স্বার্থপর খতিবদের কারণে শান্তিপূর্ণ ইবাদতের পরিবেশ না থাকা, এসবের ভেতরেও আপনি আত্মশুদ্ধির প্রশ্নটা তুলেছেন, এটিই প্রমাণ করে আপনার নিয়ত ও প্রচেষ্টা কতটা সৎ এবং সহিহ।
ইবাদতের পরিবেশ আদর্শ না হলেও আল্লাহ মানুষের সামর্থ্য ও পরিস্থিতিই বিবেচনায় নেন, এটাই ইসলামের মৌলিক ন্যায়নীতি। হয়তো সব রোজা “পরিপূর্ণ” হয় না, কিন্তু চেষ্টা, অনুশোচনা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝাটাই ইবাদতের অংশ। এই উপলব্ধি যাদের নেই, তাদের তুলনায় আপনি অনেকটাই এগিয়ে।
আবারও ধন্যবাদ, এই কথাগুলো শেয়ার করার জন্য। আল্লাহ তাআ'লা আপনার নিয়তকে সহজ করুন, চাপকে হালকা করুন, এবং এইসব অস্বস্তি দূর করে দিয়ে তিনি যেন অর্থপূর্ণ শান্তির পথ খুলে দেন। আমিন।
৭|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৬
ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
বেশ মুল্যবান কথা সমৃদ্ধ পোস্ট ।
সত্যিইতো
রোজা কেবল ক্ষুধা নয়, আর তৃষ্ণারও নয়
রোজা শেখায় তাকওয়া, আত্মশুদ্ধির পথ।
মিথ্যা, গিবত, অহংকার এ সব বর্জন করা
ধৈর্য আর আত্মনিয়ন্ত্রণে বন্ধ হয় দোষের ধারা।
অন্তর আল্লাহর স্মরণে, কুপ্রবৃত্তি নষ্ট
সহমর্মিতা জন্মে, দানশীলতা প্রস্ফুট।
পার্থিব বাসনা ত্যাগ করে, আর নৈকট্য খুঁজে আল্লাহর
মনুষ্যত্ব জাগে, দোযকের আগুন হতে রক্ষা করে প্রাণ।
রোজা ঢাল আমাদের অন্তর করে সুস্থ আর শুদ্ধ
আলোর পথে ডাকে, নষ্ট করে ভিতরের পশুত্ব।
শুভেচ্ছা রইল
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪
নতুন নকিব বলেছেন:
ডঃ এম এ আলী ভাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ, এত সুন্দর এবং গভীরভাবে রোজার প্রকৃত অর্থ তুলে ধরার জন্য।
আপনার কথাগুলো সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। রোজা কেবল ক্ষুধা ও তৃষ্ণার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহমর্মিতা এবং দানশীলতার পথ প্রদর্শন করে। আপনার বর্ণনায় স্পষ্ট হয়েছে কিভাবে রোজা অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে স্থির রাখে, কুপ্রবৃত্তিকে বন্ধ করে, এবং মানুষের মধ্যে মানবিক গুণাবলী প্রস্ফুটিত করে।
আবারও ধন্যবাদ, আপনার এই মূল্যবান উপলব্ধি শেয়ার করার জন্য। আল্লাহ তাআ'লা আপনার অন্তরকে সুস্থ, শুদ্ধ এবং আলোর পথে পরিচালিত করুন।
৮|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:১১
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।নফসের উপর আরোহন করে রুহের ঘাঁটিতে অবতরন করা চন্দ্রে অবতরন করার থেকেও কঠিন।কিন্তু রোজার দ্বারা আল্লাহ এই পথ সহজ করে দিয়েছেন।আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রোজা রাখার তৌফিক দিন।বিজ্ঞানীরা চন্দ্রে অবতরন করার জন্য যত কষ্ট করেছে,এবং বাহ্যিক জ্ঞানবুদ্ধি খাটিয়েছে,বাহ্যিক জ্বালানী খরচ করেছে,রুহের এবং জান্নাতের ঘাটিতে অবতরন করতে হলে আমাদেরকে তার থেকেও বেশি কষ্ট করতে হবে।চমৎকার পোস্ট লেখার জন্য ধন্যবাদ
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৭
নতুন নকিব বলেছেন:
নফসকে জয় করা হিমালয় জয় করার থেকেও কঠিন।নফসের উপর আরোহন করে রুহের ঘাঁটিতে অবতরন করা চন্দ্রে অবতরন করার থেকেও কঠিন।কিন্তু রোজার দ্বারা আল্লাহ এই পথ সহজ করে দিয়েছেন।
সঠিক কথা বলেছেন।
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে রোজা রাখার তৌফিক দিন।
আমিন। আল্লাহ তাআ'লা আপনার দোয়া কবুল করুন।
বিজ্ঞানীরা চন্দ্রে অবতরন করার জন্য যত কষ্ট করেছে,এবং বাহ্যিক জ্ঞানবুদ্ধি খাটিয়েছে, বাহ্যিক জ্বালানী খরচ করেছে, রুহের এবং জান্নাতের ঘাটিতে অবতরন করতে হলে আমাদেরকে তার থেকেও বেশি কষ্ট করতে হবে।
-আশ্চর্য কথা তো! চমৎকার! অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।
৯|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪
সুলাইমান হোসেন বলেছেন: @গোবিন্দগোবেচারা চমৎকার মন্তব্য করেছেন
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৭
নতুন নকিব বলেছেন:
জাজাকুমুল্লাহু খাইরান।
১০|
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৭
রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৮
নতুন নকিব বলেছেন:
ধন্যবাদ, কিন্তু সেটা জেনে আপনার লাভ কী?
১১|
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬
খায়রুল আহসান বলেছেন: সময়োপযোগী পোস্ট। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। + +
আমাদের দেশের অধিকাংশ রোযাদারের ধারণা, রোযার মাসে সকাল সন্ধ্যা উপবাস করতে হবে এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে হবে। ব্যস, এটুকুই। চারিত্রিক দোষ-ত্রুটিগুলো সংশোধন করে মন্দ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার বিষয়টি অনেকের কাছে মোটেই গুরুত্ব পায় না। অনেক শহুরে রোযাদারগণের মূল লক্ষ্য থাকে ইফতার পার্টি দেওয়া ও খাওয়া।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫
রাজীব নুর বলেছেন: আপনার যেন আত্মশুদ্ধি হয়।
এই প্রার্থনা আমার। ওস্তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন। আর ওস্তাদের পোষ্টে ভদ্র সভ্য মন্তব্য করিবেন।