নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নতুন নকিব

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দল-রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না- বিদ্রোহী রন-ক্লান্ত। আমি সেই দিন হব শান্ত।

নতুন নকিব › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৪

ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকদের বেতন বা সম্মানী গ্রহণের শরয়ী হুকুম

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মসজিদে ইমামতি করা, আযান দেয়া, কুরআন শিক্ষাদান করা কিংবা সাধারণভাবে দ্বীন প্রচারের কাজে বিনিময়, বেতন বা সম্মানী গ্রহণ করা শরীয়তসম্মত কি না- এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ইসলামের গভীর জ্ঞানহীন কিছু অজ্ঞ ও মূর্খ ব্যক্তি প্রায়ই এ বিষয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে বেড়ান। ফেইসবুক, ইউটিউবের মত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতাকে ব্যবহার করে তারা মুফতির দায়িত্বে অবতীর্ণ হয়ে সমাজে ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হন। তাঁরা দাবি করেন যে, ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক ও দ্বীন প্রচারকগণ হারাম উপার্জন করছেন এবং হারাম খাচ্ছেন। তাঁদের মতে, এঁদের উপার্জন সুদখোর বা ঘুষখোরদের উপার্জনের মতোই হারাম। দাঁতে দাঁত চেপে এই মিথ্যা অপবাদ প্রচার করতে তাঁরা যেন বিশেষ আনন্দ অনুভব করেন- তাঁদের কথা ও উপস্থাপনার ধরন দেখলেই তা স্পষ্ট হয়।

আশ্চর্যের বিষয়, এই শ্রেণির মিথ্যাবাদী ও ধোঁকাবাজরা নিজেরাই বেতনভোগী ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করেন। প্রশ্ন হলো- যদি ইমাম সত্যিই হারামখোর হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর পেছনে নামাজ পড়া কীভাবে জায়েয হয়?

আধুনিক যুগে মসজিদ, মাদরাসা ও দ্বীনী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিক্ষকদের পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য আর্থিক সহায়তা অপরিহার্য। এ বিষয়ে শরীয়তের স্পষ্ট দলিল এবং বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ফতোয়া প্রতিষ্ঠানসমূহের মতামতের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।

কুরআন ও হাদিসের দলিল

শরীয়তের মূল উৎস থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ

“যে সকল জিনিসের উপর তোমরা বিনিময় গ্রহণ করে থাক, তন্মধ্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সবচেয়ে বেশি হক রয়েছে আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে।” -সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৩৭

এ হাদিস স্পষ্টভাবে কুরআন শিক্ষাদানের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের অনুমোদন দেয়।

এ ছাড়া শরীয়তের তিনটি মৌলিক নীতি এ বিষয়টিকে আরও সুস্পষ্ট করে:

প্রথম নীতি: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনিমতের খুমুস (পঞ্চমাংশ) থেকে নিজ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন:

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، يَقُولُ كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي النَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِمَّا لَمْ يُوجِفِ الْمُسْلِمُونَ عَلَيْهِ بِخَيْلٍ وَلاَ رِكَابٍ وَكَانَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَالِصًا وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعْزِلُ نَفَقَةَ أَهْلِهِ سَنَةً ثُمَّ يَجْعَلُ مَا بَقِيَ فِي الْكُرَاعِ وَالسِّلاَحِ عُدَّةً فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ .

১৭২৫। ইবনে আবু ‘উমর (রাহঃ) ... মালিক ইবনে আওস ইবনে হাদছান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমি উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, বনু নাযির থেকে হস্তগত সম্পদ হল, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে যে, ‘‘ফায়” প্রদান করেছেন, যার জন্য মুসলিমরা ঘোড়া বা উটে আরোহণ পূর্বক যুদ্ধ করেনি অর্থাৎ বিনা যুদ্ধে যে সম্পদ মুসলিমদের হস্তগত হয়েছিল। এ ছিল বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য। এ থেকে তিনি তাঁর পরিবারের বছরের খোরাক আলাদা করে নিতেন। আর বাদবাকী তিনি ঘোড়া ও অস্ত্র ইত্যাদি আল্লাহর পথে জিহাদের উপকরণ সংগ্রহের জন্য ব্যয় করতেন। -জামে' তিরমিযী, হাদীস নং ১৭১৯ (আন্তর্জাতিক নং ১৭১৯), বর্ণনাকারী: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) (মৃত্যু ২৩ হিজরী)

দ্বিতীয় নীতি: খোলাফায়ে রাশেদীন বাইতুল মাল থেকে ভাতা গ্রহণ করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন:

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ لَمَّا اسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ قَالَ لَقَدْ عَلِمَ قَوْمِي أَنَّ حِرْفَتِي لَمْ تَكُنْ تَعْجِزُ عَنْ مَئُونَةِ أَهْلِي، وَشُغِلْتُ بِأَمْرِ الْمُسْلِمِينَ، فَسَيَأْكُلُ آلُ أَبِي بَكْرٍ مِنْ هَذَا الْمَالِ وَيَحْتَرِفُ لِلْمُسْلِمِينَ فِيهِ.

১৯৪০. ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-কে খলীফা বানানো হল, তখন তিনি বললেন, আমার কওম জানে যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের ভরণ-পোষণে অপর্যাপ্ত ছিল না। কিন্তু এখন আমি জনগণের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যাপৃত হয়ে গেছি। অতএব আবু বকরের পরিবার এই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে খাদ্য গ্রহণ করবে এবং আবু বকর (রাযিঃ) মুসলিম জনগণের সম্পদের তত্ত্বাবধান করবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৯৪০ (আন্তর্জাতিক নং ২০৭০), বর্ণনাকারী: উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা (রাঃ) (মৃত্যু ৫৭/৫৮ হিজরী)

তৃতীয় নীতি: খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে কুরআন শিক্ষকদের জন্য বাইতুল মাল থেকে সম্মানজনক ভাতা নির্ধারিত ছিল। ওয়াযীন ইবনে আতা (রহ.) বলেন:

عن الوضين بن عطاء أنه قال: (كان بالمدينة ثلاثة معلمين يعلمون الصبيان، فكان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يرزق كل واحد منهم خمسة عشر كل شهر)

ابن حزم، المحلى، ج9، ص15.
ابن أبي شيبة، المصنف، ج4، ص346، ك: البيوع والأقضية، ب: في أجر المعلم برقم 20828.

ওয়াযীন ইবনে আতা বর্ণনা করেন; মদিনা তাইয়্যিবাতে ৩০ জন মুআল্লিম (শিক্ষক) ছিলেন, যারা শিশুদেরকে পাঠদান করতেন। হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের প্রত্যেককেই প্রতিমাসে ১৫ দিরহাম করে ভাতা প্রদান করতেন। -আল মুহাল্লা খন্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৫, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ৪/৩৪৬,

উপরোক্ত তিনটি শরঈ মূলনীতির আলোকে প্রমাণ হয় যে, ইমাম ও কুরআনের শিক্ষকদের ভাতা বা সম্মানী শরীয়ত সম্মত।

বিশ্বের নির্ভরযোগ্য ফতোয়া প্রতিষ্ঠানসমূহের মতামত

ইসলাম কিউএ (islamqa.info): শায়খ উছায়মীন (রহ.)-এর ফতোয়া ও স্থায়ী ফতোয়া কমিটির মতে, কুরআন শিক্ষাদানের জন্য বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয। তারা হাদিস “ইন্না আহাক্কা মা আখাজতুম আলাইহি আজরান কিতাবুল্লাহ” উল্লেখ করে বলেন, এটি সবচেয়ে সঠিক মত। প্রয়োজনের কারণেও এটি অনুমোদিত।

দেওবন্দ দারুল ইফতা: হানাফী মাযহাবের প্রাথমিক মত ছিল নিষেধাজ্ঞা, কিন্তু পরবর্তী আলেমগণ (মুতাআখখিরীন) প্রয়োজনের কারণে এটি জায়েয বলেছেন। বর্তমানে বাইতুল মাল না থাকায় এবং পূর্ণকালীন দায়িত্বের জন্য জীবিকার প্রয়োজন হওয়ায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কুরআন শিক্ষকদের বেতন গ্রহণ অনুমোদিত।

আল-আজহার ইউনিভার্সিটি ও দারুল ইফতা মিসর: মিশরে সরকারি মসজিদে ‘ইমাম আল-রাতিব’ (নিয়োগকৃত ইমাম) হিসেবে বেতনভোগী ইমাম নিয়োগ করা হয় এবং দারুল ইফতা মিসর এটিকে স্বীকৃতি দেয়। তারা ইমামতির দায়িত্বকে রাষ্ট্রীয় ও ওয়াকফভিত্তিক কাজ হিসেবে গণ্য করে বেতনের বৈধতা স্বীকার করেন। এটি শাফেয়ী ও অন্যান্য মাযহাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: জর্ডানের দারুল ইফতা ও ইসলামওয়েবের মতো সূত্রও ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য বেতনকে জায়েয বলে।

বিরোধী হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা

কিছু হাদিসে কুরআন শিক্ষকদের ছাত্রের কাছ থেকে হাদিয়া গ্রহণে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু এগুলোর ব্যাখ্যা হলো: যখন বাইতুল মাল থেকে ইতোমধ্যে ভাতা দেওয়া হয়েছে, তখন ছাত্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া দ্বৈত পারিশ্রমিকের মতো হয়। আধুনিক যুগে যেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় বা ওয়াকফ ফান্ড থেকে বেতন দেওয়া হয় না, সেখানে প্রয়োজনভিত্তিক সম্মানী গ্রহণে কোনো বাধা নেই।

প্রত্যেক সমাজেই কিছু হিংসুক লোক থাকে

কিছু লোকের কাজ থাকে না। তারা অপরের ঘাড়ে চড়ে পৃথিবীতে বসবাস করে। হয় বাবার লুটের সম্পত্তি, নয়তো ভাই বেরাদর আত্মীয় স্বজনের সম্পদ জবর দখল করে নেয়, অথবা দেশের কিংবা জনগনের সম্পদ কেড়ে নিয়ে এরা বিলাসী জীবন যাপন করে। এই হতভাগারা নিশ্চিতভাবেই হিংসুটে হয়। কারণ, হারাম খেয়ে, হারাম পড়ে এদের অন্তরে জাহান্নামের আগুনের স্পর্শ এই পৃথিবীতেই এরা অনুভব করতে শুরু করে। এরা উপরে উপরে লোক দেখানো নামাজ পড়ে। মসজিদের প্রথম কাতারে এদের জন্য নির্ধারিত স্থান থাকে। এরা ইমাম, মুয়াজ্জিন, মাদরাসার শিক্ষক, হাফেজ আলেম প্রমুখের সামান্য সুখ শান্তি সহ্য করতে পারেন না। হিংসায় জ্বলে ওঠেন। জ্বলতে জ্বলতে আবোল তাবোল বকতে থাকেন। তখনই এইসব অর্বাচীনদের মুখ থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন, কুরআনের শিক্ষক প্রমুখের বেতন ভাতা হারাম হওয়ার মত উদ্ভট ফতোয়া বেরিয়ে আসে। আমার মতে, হারামখোরের জন্য এটাই স্বাভাবিক। এটাই ওদের পার্থিব শাস্তি। শাস্তিটা চমৎকার। অন্তরের অনল। অশান্তি। অপরের সুখ দেখে হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরা। বেশ শাস্তি। আমি এমন মসজিদের সভাপতিকেও দেখেছি, যার মাসিক উপার্জন কয়েক লক্ষ টাকা কিন্তু তার মসজিদের ইমামের বেতন ৮/১০ হাজার টাকা। সেই বেতনও কয়েক মাস পর্যন্ত বাকি পড়ে থাকে। যেন এটা কোন বিষয়ই নয়। ইমামের বেতন বৃদ্ধির কথা সভাপতি কিংবা দায়িত্বশীলরা পারতপক্ষে কখনও বলেন না, মুসল্লিদের কেউ উত্থাপন করলে বিভিন্ন বাহানায় তাদেরকে থামিয়ে দেওয়া হয়। এগুলো আমাদের দেশের সাধারণ কালচারে পরিনত হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। জাতীয় পর্যায়ে সকল মসজিদের রক্ষণাবেক্ষনের জন্য, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং মসজিদের খাদেমদের জন্য সরকারিভাবে ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থাপনা হওয়া দরকার। কথায় কথায় ইমাম, মুয়াজ্জিনদের চাকরিচ্যুতির মত ঘটনা বন্ধ হওয়া দরকার।

উপসংহার

উপরোক্ত কুরআন-হাদিসের দলিল, সাহাবী ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আমল এবং বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া প্রতিষ্ঠানসমূহের (ইসলাম কিউএ, দেওবন্দ, আল-আজহারসংশ্লিষ্ট দারুল ইফতা) মতামতের আলোকে স্পষ্ট যে, ইমামতি, মুয়াজ্জিনি, কুরআন শিক্ষাদান ও দ্বীন প্রচারের জন্য বেতন, ভাতা বা সম্মানী গ্রহণ করা জায়েয। বরং দায়িত্ব পালনকারীর প্রয়োজন মেটানো জনগণ ও সমাজের দায়িত্ব। তবে নিয়ত খাঁটি রাখা, অতিরিক্ত লোভ পরিহার করা এবং শরীয়তসম্মত উপায়ে গ্রহণ করাই উত্তম। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সকলকে দ্বীনের খাঁটি খিদমত করার তাওফীক দান করুন। মিথ্যুক, ধোঁকাবাজ ও প্রতারকদের প্রতারনা এবং অন্যের কল্যান সহ্য করতে না পারা হিংসুকদের হিংসার অনল থেকে আল্লাহ তাআ'লা আমাদের রক্ষা করুন। আমীন।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

আলামিন১০৪ বলেছেন: কাফেররা গনীমত হতে রাসুল (সঃ) অংশ নেয়ার বিষয়টিকে খারাপভাবে উপস্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আমি যতদূর জানি রাসুল (সঃ) নিজের কাছে ধন-সম্পদ পুঞ্জিভুত করাকে অপছন্দ করতেন এবং মানুষদের অকাতরে বিলিয়ে দিতেন। ওফাতের সময় দেখা গেল তাঁর নিকট বিশেষ কিছু ছিল না তথাপি তিনি তা দান না করে আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়া ভালো মনে করেন নি। এটা সবার জানা দরকার।
রাসুল(সঃ) নবুয়্যতের পর থেকে সমগ্র জীবন ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন। এমনকি যখন রাসুল পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর তখনও তিনি দাওয়াতী দায়িত্বের কারণে তার নিকট উপস্থিত হতে পারেন নি। খুমসের বিষয়টিকে আপনি বেতনের পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না। ইহা রাসুল (সঃ) এর প্রতি আল্লাহর উপহার স্বরূপ আর আল্লাহ ভালো করেই জানতেন তার প্রিয় রাসুলের ধন-সম্পদের প্রতি মোহ নেই।

আমার মনে হয় ইমাম মুয়াজ্জিন নামায পড়ানোর পারিশ্রমিক হিসােবে বেতন না নিয়ে সদাকা-হাদিয়া হিসেবে একটা এমাউন্ট নিতে পারেন যদি তিনি অবস্থাপন্ন না হোন। নামাজের পারিশ্রমিক তো দিবেন আল্লাহ। তবে মসজিদের দেখভাল ও ব্যবস্থপনার জন্য বেতন দেয়া যেতে পারে, নামাজের জন্য না।

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫১

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ আপনার চিন্তাশীল, ভারসাম্যপূর্ণ এবং দলিলভিত্তিক এই মূল্যবান মন্তব্যটি শেয়ার করার জন্য।

আপনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন; বিশেষ করে গনীমতের খুমুস প্রসঙ্গে রাসুল ﷺ –এর অবস্থান এবং তাঁর দুনিয়াবিমুখতা। বাস্তবিকই, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনোই ধন-সম্পদ সঞ্চয়ের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না; বরং যা কিছু তাঁর নিকট আসতো, তা উম্মাহর কল্যাণে অকাতরে ব্যয় করতেন। তাঁর ইন্তিকালের সময়কার ঘটনাবলীই এ সত্যের জ্বলন্ত প্রমাণ।

খুমুসকে আপনি যেভাবে “আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মাননা” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, এটি যথার্থ উপলব্ধি। একইভাবে, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের পারিশ্রমিক প্রসঙ্গে আপনার পরিমিত দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসনীয়। ইবাদতের মূল প্রতিদান যে আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, এটি ঈমানের মৌলিক শিক্ষা। পাশাপাশি, বাস্তব জীবনের প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য সম্মানজনক সহায়তার বিষয়টিও আপনি যুক্তিসঙ্গতভাবে উপস্থাপন করেছেন। বিশ্বের প্রায় সকল আলেম ওলামাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকেই পৃথিবীজুড়ে দেশে দেশে লক্ষ লক্ষ মসজিদ বেতনভুক্ত ইমাম মুয়াজ্জিনদের দ্বারাই শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে দ্বীনের বিষয়গুলো বুঝার তাওফিক দান করুন এবং বিভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন। আপনার এমন গঠনমূলক মতামত নিঃসন্দেহে আলোচনা সমৃদ্ধ করে। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

২| ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৫

মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন: পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৩

নতুন নকিব বলেছেন:



জাজাকুমুল্লাহু খাইরান। সুচিন্তিত এবং উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।

৩| ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬

রাজীব নুর বলেছেন: হুজুরদের ইনকাম খারাপ না।
অনেক মানুষের চেয়ে হুজুরদের ইনকাম বেশি।
রমজানে হুজুরদের ইনকাম সব সময় বেশি হয়ে থাকে। জাকাত, ফেতরা থেকে শুরু করে অনেক টাকা হুজুররা পায়। আমাদের এলাকার মসজিদের হুজুররা এক লাখ টাকার উপরে পেয়েছে। তবে গ্রামের হুজুরদের ইনকাম কম।

কোরআন, হাদিস সম্বল করে বেশির ভাগ হুজুররা বেচে আছে। একটা প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষকের চেয়ে হুজুরদের ইনকাম বেশি।

২৭ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭

নতুন নকিব বলেছেন:



আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার পর্যবেক্ষণ জানানোর জন্য। তবে রমজান মাসে কিছু ইমাম ও খতিবদের আয় সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পেলেও এটাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, এই আয়টা সারা বছরের জন্য সমানভাবে স্থিতিশীল থাকে না, এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা অনিয়মিত ও অনিশ্চিত।

এছাড়া শহর ও গ্রামের মধ্যে এই আয়ের পার্থক্যও বেশ স্পষ্ট, শহরের বড় মসজিদে ইমামদের আয় তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামের অনেক হুজুরই এখনও সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেন। তারা শুধু কোরআন-হাদিস শিক্ষা নয়, সমাজে নৈতিকতা, ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও আধ্যাত্মিক নেতৃত্বও প্রদান করেন, যা অর্থমূল্যে পরিমাপ করা কঠিন।

ধর্মীয় সেবার মূল্যায়ন ও এর অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে আরও ভারসাম্যপূর্ণভাবে চিন্তা করা দরকার। আবারও ধন্যবাদ, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.