নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ধুর!

বিকট

হাসান মাহবুব

আমার অপদার্থতাকে মাহাত্ম্য ভেবোনা...

হাসান মাহবুব › বিস্তারিত পোস্টঃ

মার্কেটিং সাইকোলজি- কী, কোথায় এবং কেন?

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৪


মার্কেটিং জিনিসটা মজার। বিপননের জন্যে যে কতরকম কৌশল এবং রিসার্চ তার ইয়ত্তা নেই। কোন পণ্যকে মার্কেটপ্লেসে একটা দারুণ জায়গায় নিয়ে যেতে মার্কেটিং এ্যানালিস্ট, কপিরাইটার, গ্রাফিক্স ডিজাইনার সবারই অবদান রাখতে হয়। একেক জনের কাজের ক্ষেত্র এবং দক্ষতা ভিন্ন হলেও একটি বিষয়ে অবশ্যই সবাইকে জ্ঞান রাখতে হবে। তা হলো মার্কেটিং সাইকোলজি। আসুন মার্কেটিং সাইকোলজি নিয়ে দারুণ কিছু রিসার্চ এবং তার ফলাফল জেনে রাখি। এটা পড়তে আপনাকে মার্কেটিংয়ের সাথে যুক্ত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। তবে পড়ার পর যদি আপনার লক্ষ্য ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার বদলে মার্কেটিং এক্সপার্ট হবার দিকে মোড় নেয় সেজন্যে আমাকে দায়ী করা যাবে না!

১। স্থৈর্য (Consistency Principle)
“ধর তক্তা মার পেরেক” এই যদি হয় আপনার বিজনেস পলিসি, তাহলে আপনি ভুল পথে আছেন। ধৈর্য ধরতে শিখুন, টার্গেটেড অডিয়েন্সকে তত্ত্বাবধান করুন। প্রিন্সটনে একবার কিছু গবেষক একটি এক্সপেরিমেন্ট করেন। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির জন্যে কিছু ভলান্টিয়ার প্রয়োজন পড়লো। তারা কিছু মানুষকে ফোন করলেন এ বিষয়ে কাজ করার আহবান জানিয়ে। রেসপন্স করলো মাত্র ৪ পার্সেন্ট। কয়েক দিন পর আবারো তারা অন্য কিছু মানুষকে ফোন করলেন। তাদেরকে জানালেন কিছুদিন পর আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির জন্যে ভলান্টিয়ারের দরকার পড়তে পারে। তাদেরকে প্রস্তুতি নেয়ার সুযোগ দিয়ে ৩ দিন পর ফোন করা হলো তারা ভলান্টিয়ার হিসেবে থাকতে পারবে কি না জানতে চেয়ে। এবারের রেসপন্স রেট হলো ৩১ পার্সেন্ট!
আপনার বর্তমান কাস্টমার এবং সম্ভাব্য কাস্টমারদের পরিচর্যার মধ্যে রাখুন। তাদের এক্সপেকটেশন লেভেলটা স্টাডি করুন। তাদের জন্যে বিভিন্ন কোর্স এবং মার্কেটিং স্পেশালিস্টদের প্রস্তাবিত টুলস তৈরি করতে পারেন। যোগাযোগের বিচ্ছিন্নতা মোটেও কাম্য নয়। এভাবে টেক কেয়ার করলে আপনার কোম্পানির প্রতি তারা একাত্মতা অনুভব করবে, আগ্রহী হবে।

২। ফ্রেমিং এফেক্ট (Framing Effect)

একটা বিষয় নিয়ে কে কীভাবে রি-এ্যাক্ট করবে তা নির্ভর করে প্রেজেন্টেশনের ওপর। এ্যামোস ভের্স্কি এবং ড্যানিয়েল কাহনেমান একবার একটা সমীক্ষা চালান। একটি প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসা এবং সারভাইভ করার সম্ভাবনা নিয়ে। গ্রুপ ১ কে বলা হলো,
ট্রিটমেন্ট-১, “দুইশ মানুষ বেঁচে যাবে”
ট্রিটমেন্ট-২, “৬০০ মানুষকে বাঁচানোর সম্ভাবনা এক তৃতীয়াংশ, এবং কারো বেঁচে না থাকার সম্ভাবনা দুই তৃতীয়াংশ।“
বেশির ভাগ মানুষ কোনটা বেছে নিলেন বলুন তো? হ্যাঁ, ট্রিটমেন্ট-১। সহজ এবং অকপট ভাবে বললে মানুষ সেটার প্রতি আকৃষ্ট হয়।
গ্রুপ-২ কে বলা হলো,
ট্রিটমেন্ট-১ “৪০০ মানুষ মারা যাবে”
ট্রিটমেন্ট-২ “কেউ মারা যাবে না, এই সম্ভাবনা এক তৃতীয়াংশ, এবং ৬০০ মানুষ মারা যাবার সম্ভাবনা দুই তৃতীয়াংশ”
এবার কিন্তু তারা বেছে নিলো ট্রিটমেন্ট ২। ট্রিটমেন্ট ১ কেন বেছে নিলো না? কারণ সেখানে নেগেটিভিটি ছিলো।
মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে এটা খুব বেসিক একটা তত্ত্ব। লিখতে হবে যথাসম্ভব পজিটিভ উপায়ে।

৩। সামাজিক প্রভাব এবং অনুকরণ (Conformity and Social Influence)
ক্লাশের ফার্স্ট বয়কে একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হলো। সে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ভুল উত্তর দিলো। আপনি সঠিক উত্তরটা জানেন। কিন্তু ভাবছেন ফার্স্ট বয় কি ভুল উত্তর দিতে পারে! কনফিউজড হয়ে গেলেন এবং আপনি তাকে অনুসরণ করে ভুল উত্তর দিয়ে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকলেন! এরকমটা কিন্তু সবখানেই হয়।
সলোমান এ্যাশ্চ নামক একজন সোশ্যাল সাইকোলজিস্ট ১৯৫০ সালে একটি মজার এক্সপেরিমেন্ট করেন। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে আয়োজিত একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় আমন্ত্রণ জানান কিছু অভিনেতা-অভিনেত্রী কে। তাদেরকে বলা হয়েছিলো ভুল উত্তর দিতে। ফলাফল? বেশির ভাগ শিক্ষার্থীও তাদের দেখাদেখি ভুল উত্তর দিলো, যেগুলো তাদের জানার কথা!
মার্কেটিংয়ের জন্যে এটা এক অনন্য সূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সবসময়। সমাজে প্রভাব রাখে এমন ব্যক্তিত্বদের বেশি করে নিযুক্ত করুন আপনার পণ্যের মার্কেটিংয়ের জন্যে! মিথ্যা বলাটা এখানে এনকাউরেজড করা হচ্ছে না, মূল বিষয়টা হলো সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতাটি কে মার্কেট প্লেসে সূক্ষ্ণ চাতুর্যের সাথে ব্যবহার করা।

৪। নীরব বশ্যতা (Acquiescence Effect)
আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করা হলে সবসময় যে যৌক্তিক ভাবনা থেকে উত্তর দেবেন, এমন নাও হতে পারে। “এই উত্তরটা দিলে অন্যেরা আমাকে কী না কী ভাবে!” এই মানসিকতাও কাজ করে। আর সামাজিক গণমাধ্যম, যেমন ব্লগ বা ফেসবুক প্রভাবিত এই সমাজে তো এটা আরো বেশি সত্যি। “অমুক ফেসবুক সেলিব্রেটি যেহেতু তমুক কে ছাগু বলেছে, তাহলে আমারও তাই বলা উচিত, তাহলে আমি জাতে উঠেবো”। এই ভাবনা কি আপনাকে কখনই প্ররোচিত করে নি? সাইকোলজিকাল ওয়েবসাইট “Changing Minds” তাদের গবেষণায় এ সংক্রান্ত তিনটি উপাত্ত আবিষ্কার করেছেন। কেন মানুষ এমন উত্তর দেবে, যা নিয়ে তারা নিজেরাও সংশয়ে আছে? কারণ গুলো হলো,
১/ অন্যদের চেয়ে উৎকৃষ্ট হবার প্রবনতা।
২/ অন্যদের কাছ থেকে উপকৃত হবার ঝোঁক।
৩/ নিজের একটা নতুন আইডেন্টিটি তৈরি করা।
সুতরাং, বিভিন্ন সার্ভে অথবা প্রশ্নমালায় লিডিং কোশ্চেন গুলো এমন হওয়া উচিত, যাতে সে অনুধাবন করে যে এই জরীপের মাধ্যমে সে স্মার্ট মানুষদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারছে। নিজের প্রতি এই আত্মবিশ্বাস কে সে বিনিয়োগ করতে পারে আপনার প্রোডাক্টে।

৫। পুনঃপ্রদর্শন (Mere Exposure Theory)
রবার্ট জায়ঙ্ক একবার একটি চাইনিজ চরিত্রের ছবি কিছু অ-চাইনিজকে দেখালেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন এই চরিত্রটি দেখে তাদের কী মনে হচ্ছে? যত বেশিবার তিনি দেখালেন তত বেশি পজিটিভ রেসপন্স আসতে লাগলো।
পরবর্তীতে কান্সট এবং উইলিয়ামস একই রকম একটা এক্সপেরিমেন্ট করেন। পার্থক্য হলো, তারা একটি অষ্টভূজের ছবি দেখান, মাত্র এক মিলিসেকেন্ডের জন্যে। স্বাভাবিক ভাবেই কেউই বুঝতে পারলো না এটা আসলে কী। কিন্তু এর পুনরাবৃত্তিক ব্যবহারে তাদের মধ্যে একটা আগ্রহ এবং স্নেহ তৈরি হলো।
ব্যাপারটা অস্বস্তিকর ঠেকতে পারে আপনার কাছে। একই জিনিস যদি বারবার দেখাতেই থাকেন, দেখাতেই থাকেন, কে কী মনে করবে! এসব ঝেড়ে ফেলে দিন। কারণ এতে আসলেই কাজ হয়।

৬। তথ্যগত প্রভাব (Informational Social Influence)
আমরা যখন কী করতে হবে কিছুই বুঝে উঠতে পারি না, তখন অন্যদের কপি করি। এবং এভাবেই শ্রেয়তর হয়ে উঠতে চাই। এই ধারণাটি সম্পুর্নতা পায় এ্যালেক্স লাস্কির একটি সমীক্ষায়। তিনি ছিলেন একটি এনার্জি সেভিং কোম্পানির এক্সিকিউটিভ। ভোক্তাদের কাছে প্রডাক্ট সম্পর্কে ৪ রকম মেসেজ পাঠালেন।
১/ আপনি ৫৪ ডলার সেভ করতে পারবেন।
২/ এর মাধ্যমে পৃথিবী রক্ষা পাবে।
৩/ আপনি ভালো নাগরিক হয়ে উঠবেন
৪/ এটি ব্যবহার করে আপনার প্রতিবেশীরা ভালো ফল পাচ্ছে।
প্রথম তিনটি মেসেজ কোন রকম পাত্তাই পায় নি। শেষটি একদম কেল্লা ফতে করে দিয়েছে! এর ফলে ২% এর মত এনার্জি সেভিং বেশি হয়েছে।
এটি চমৎকার একটি ট্রিক, এবং এটা প্রমাণের জন্যে যে আপনাকে বিশাল কাগজপাতি জমা দিতে হবে তাও না।

৭। ডিকয় এফেক্ট (Decoy Effect)
আপনার কাছে যে অপশন গুলো আছে সেগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করতে চাইলে, একটি অনাকর্ষণীয় এবং ম্যাড়ম্যাড়ে অপশনও রাখুন। এর সঠিক প্রয়োগ চমকে দিতে পারে আপনাকে। একবার একটি আইটি কোম্পানি এমআইটির শিক্ষার্থীদের কাছে একটি অফার পাঠালো।
Web Subscription – $59
Print Subscription – $125
Web and Print Subscription – $125
তিন নম্বর অপশনটি চোখ বুঁজে বেছে নেয়া যায়, তাই না? হ্যাঁ, ফলাফল দেখুন-
Web Subscription – $59 (16 students)
Print Subscription – $125 (0 students)
Web and Print Subscription – $125 (84 students)
Total revenue: $11,444
এবার দেখুন ম্যাজিক। দুই নম্বর অপশনটি গায়েব করে দিন। ছু মন্তর ছু! ফলাফল?
Web Subscription – $59 (68 students)
Web and Print Subscription – $125 (32 students)
Total revenue: $8,012
নিমিষেই রেভিনিউ কমে গেল ত্রিশ পার্সেন্ট!
এই থিওরি অনুসরণ করা এ্যাপলের একটি বিজ্ঞাপন দেখুন, এখানে ৩২ জিবি’র পণ্যটা কীভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে।

প্রাইসিং স্ট্র্যাটেজির ক্ষেত্রে এটা দারুণ একটি থিওরি।

৮। লভ্যতা অনুসন্ধান (Availability Heuristic)
আপনাকে একটি প্রশ্ন করা হলো, এবং চারটি বিকল্প উত্তর রাখা হলো। উত্তর দেবার সময় ধরুন ৩০ সেকেন্ড। তখন আপনি কী করবেন? আরে এটা তো আর বাঁচা-মরার লড়াই না, ভুল হলে হবে! এই ভাবনা থেকে আপনি বেছে নেবেন সেই উত্তরটি, যা আপনাকে আকৃষ্ট করেছে। এ্যালেক্স সাচম্যানের একটি সমীক্ষা দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করা যায়। তিনি তার কোম্পানি ‘কোরা’র একটি লিফলেট সরবরাহ করলেন কাস্টমারদের কাছে, এবং জিজ্ঞেস করলেন সেখানে কোন সাত অক্ষরের শব্দে ষষ্ঠ অক্ষর হিসেবে ‘n’, নাকি ‘ing’ দিয়ে শেষ হওয়া শব্দের সংখ্যা বেশি হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর কী ছিলো বলুন তো! হ্যাঁ, আপনি যা ভেবেছেন তাই। সবাই দ্বিতীয় অপশনটাই বেছে নিয়েছিলো। অথচ ভেবে দেখুন, প্রতিটা ing এর মধ্যে n থাকবেই। সুতরাং অবশ্যই লিফলেটটিতে ষষ্ঠ অক্ষর হিসেবে n এর থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এই সিম্পল পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাটাও সিম্পল, কিন্তু জরুরী। আপনার কাস্টমার কোনভাবেই জটিল বা গুরুতর অপশন বেছে নেবে না।

৯। বাফার এফেক্ট (Buffer Effect of Social Support)
আপনি যদি বন্ধু অথবা প্রিয়জনদের দ্বারা শক্ত সাপোর্ট পান, তাহলে বাড়তি স্ট্রেস নিতেও আপনার আপত্তি থাকবে না। অন্তস্বত্ত্বা মহিলাদের ওপর পরিচালিত এক রিসার্চে চমৎকার ভাবে বিষয়টি অনুধাবিত হয়েছে। দেখা গেছে, যাদের সাপোর্ট করার মত মানুষ কম এবং হাই স্ট্রেসের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে, এমন মহিলাদের ৯১ শতাংশই নানারকম জটিলতায় ভুগেছেন। অপর দিকে যারা সাপোর্ট পেয়েছেন, হাই স্ট্রেস থাকলেও তাদের মধ্যে তা তেমন একটা প্রভাব ফেলে নি। শতকরা অংকটা হলো মাত্র ৩৩ পার্সেন্ট।
এই শিক্ষার সফল প্রয়োগ করা যায় মার্কেটিংয়ে। কাস্টমার দের সাপোর্ট দিন। হতে পারে সেটা ই-মেইল, ব্লগ, এ্যাপস, ইত্যাদির মাধ্যমে। একটি ক্রেতা গোষ্ঠী তৈরি করতে হলে পর্যাপ্ত সময় এবং যত্ন নিতেই হবে।

৯। বেন ফ্রাংকলিন এফেক্ট (Ben Franklin Effect)
আপনি একজন মানুষকে অপছন্দ করেন। কিন্তু সে যদি আপনার কাছ থেকে কোন উপকার চায় তাহলে কিন্তু আপনার অপছন্দটা কিছুটা হলেও নাড়া খাবে। একই সাথে মানুষ কাউকে ঘৃণা এবং তার উপকার করতে পারে না। আপনি যেহেতু একজন সভ্য, সামাজিক মানুষ, না বলতে আপনার বাধবে। তার উপকার করতে গিয়ে কখন যে অপছন্দটা উধাও হয়ে যাচ্ছে টেরই পাবেন না! এটাই বেন ফ্রাংকলিন এফেক্ট হিসেবে পরিচিত।
এই থিওরির চমৎকার এক ইমপ্লিমেন্টেশন করেন জিম জেকার এবং ডেভিড লেন্ডি। তারা একটি কুইজ শো এর আয়োজন করলেন। বিজয়ীদের পুরষ্কার ছিলো অর্থ। একজন অভিনেতা বিজ্ঞানীর বেশে কুইজ শোটি পরিচালনা করলেন। তার উপস্থাপনা ছিলো মোটামুটি কাঠখোট্টা এবং কঠোর। যাকে পছন্দ করার কোন কারণ নেই। এর পরেই তারা একটি দারুণ মন্সতাত্ত্বিক চাল চাল্লেন! অনুষ্ঠানটি শেষে বিজ্ঞানী মহাশয় করুণ মুখ করে প্রতিযোগীদের এক তৃতীয়াংশের কাছ থেকে টাকা ধার চাইলেন। আরো এক তৃতীয়াংশের কাছে স্টাডিটির সেক্রেটারি জিজ্ঞেস করলেন তাদের কে টাকা ফেরত দিতে বলা হলে তারা কী করবে। বাকি এক তৃতীয়াংশের কাছে কিছুই চাওয়া হলো না।
এরপর তাদের ওপর একটা জরীপ করা হলো। প্রশ্নটি ছিলো, বিজ্ঞানী মহাশয় কে কার কেমন লেগেছে? দেখা গেলো যাদের কাছ থেকে তিনি টাকা চেয়েছিলেন তারাই তাকে বেশি পছন্দ করেছে।
তাই, আপনার কাস্টমার, অডিয়েন্স বা গ্রহীতাদের কাছ থেকে কোন ফেভার চাইতে দোনোমনা করবেন না মোটেও।

১০। ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার দোলাচল (Reciprocity Principle)
কাউকে যদি কিছু দেন, সেটা যত সামান্যই হোক, তার মনে বিরাট প্রভাব ফেলে। কিছুই না, ধরুন একটা শুভেচ্ছা স্মারক দিলেন, সেটাও তারা মনে রাখবে। অর্থমূল্য এখানে কোন ব্যাপার না। আপনার পজিটিভ ইনটেনশনটাই মুখ্য। কী দিতে পারেন তাদের? আপনার ওয়েব সাইটের ফ্রি ট্রায়াল, ফ্রি বুকলেট বা গাইড, বিশেষ দিবস উপলক্ষ্যে সারপ্রাইজ গিফট ইত্যাদি।
১১। ফিৎজের সূত্র (Fitt’s Law)
অনলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ফিৎজের সূত্র এক দারুণ দিক নির্দেশনা। বারাক ওবামার ই-মেইল ক্যাম্পেইন; যা এই ক্ষেত্রের সর্বকালের অন্যতম সফল উদাহরণ, পরিচালিত হয়েছিলো এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে। আপনি যখন নেটে সময় কাটাচ্ছেন, তখন আপনার সবচেয়ে বড় সহায় কী? মাউস। আপনি, আমি, আমরা কীভাবে মাউস ব্যবহার করি তার কিন্তু একটি ফর্মেশন আছে। কখন কোন বাটনে ক্লিক করবেন তার পেছনে রয়েছে সাইকোলজি। এটা নিয়ে গবেষণাও কম হয় নি। ফিৎজের সূত্র অনুযায়ী আপনি আপনার মাউস কীভাবে রোটেট করবেন, কোথায় ক্লিক করবেন, তা নির্ভর করে দুটো বিষয়ের ওপর।
১/ আইকনের দূরত্ব
২/ আইকনের আকার।
সাদা কথায়, যদি আপনি কাঙ্খিত ফল চান, তাহলে আইকন গুলোর দূরত্ব কমিয়ে আনুন, অথবা আইকন বড় করুন। আর উলটো ফল চাইলে (যেমন আনসাবস্ক্রাইব বাটন) ঠিক এর বিপরীত কাজটি করুন। একটি ছবির মাধ্যমে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। দেখুন বারাক ওবামার ই-মেইল ক্যাম্পেইনের একটি স্ক্রিনশট।

১২। হ্রাস্ব বানিজ্য (Reduce Options)
ধরুন একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেন। সেখানে মেনুতে হাজার হাজার খাবার দাবার! বিচিত্র তাদের নাম, বিচিত্র চেহারা, বিচিত্র সাজ! এত কিছু দেখতে গিয়ে কনফিউজড হয়ে অর্ডার দিলেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর কর্ন স্যুপ। এতে কি রেস্তোরাটা খুব লাভবান হলো?
এতক্ষণে আপনি নিশ্চয়ই রিসার্চ লদ্ধ ফলাফলের অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন! তবে তাই সই। মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ শিনা লিংগার তার কোম্পানিকে কিছু ফ্রি জ্যামের স্যাম্পল দেয়ার পরামর্শ দিলেন। প্রথম দিন ২৪টি ফ্লেভারের অফার দেয়া হলো। পরের দিন দেয়া হলো ৬টি ফ্লেভার। ফলাফলে পার্থক্য প্রকটভাবে উন্মোচিত হলো!
প্রথম দিন- ২০% মানুষ দাঁড়ালো। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৩% ক্রয় করলো।
দ্বিতীয় দিন- স্যাম্পল চেখে দেখার পর কিনলো ৩০%!
এখানে স্বাদ কোন ফ্যাক্টর না। ফ্যাক্টর হলো মার্কেটিং সাইকোলজি। নবীন উদ্যোক্তাদের উচিত প্রথম দিকে বিকল্পের সংখ্যা যথাসম্ভব কম রাখা। পরে না হয় ধীরে সুস্থে বাড়াবেন।
এবং সবশেষে এটাই মূল সূত্র। ধীরতা, স্থিরতা। মার্কেট স্টাডি করে গ্রাহক বাড়ানো এক দিনে হয় না। দিনের পর দিন কাজ করতে হয়, সাইকোলজি বুঝতে হয়, চলতি ট্রেন্ডের সাথে নিজেদের আপগ্রেড করে নিতে হয়, তবেই আসে কাঙ্খিত সাফল্য।

শুভ পণ্যায়ন!

সূত্র- Click This Link

https://blog.bufferapp.com/psychological-studies-marketing

মন্তব্য ৫৫ টি রেটিং +১৩/-০

মন্তব্য (৫৫) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৫

গেম চেঞ্জার বলেছেন: এই ব্যাপারটার সাথে সততা ও নৈতিকতার যোগাযোগ কম বলেই মনে হয়। গিনিপিগদের(!) ব্যাপারে গবেষণা করে তাদেরকে বিষ খাইয়ে দেওয়া হয় পুঁজির স্বার্থে। গিনিপিগরাও নিজেদের নিয়ে সচেতন থাকে না বললেই চলে।

আর আসলে বাঙালিরা নিজেদের মগজ ব্যবহার করতে অভ্যস্ত না। কোন একটা ব্যাপার নিয়ে সুর ওঠলে নিজের মষ্তিষ্ক ব্যবহার করে যাচাই করতে গ্রহণ করতে চেষ্টা মোটেও হয় না।

মার্কেটিং সাইকোলজির পেছনে পাবলিকের ছাগলামির পেছনের অনেক কারণ তুলে এনেছেন। সায়েন্টিফিক মাইন্ডসেট ডেভলপ করতে এইসকল এফেক্ট বুঝা দরকার আছে।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২৬

হাসান মাহবুব বলেছেন: বাঙালির মধ্যে ব্যবসা, বাজার, পণ্য ইত্যাদি ব্যাপার গুলো নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার প্রবনতা আছে। আমরা ব্র্যান্ডের পণ্য ছাড়া চলতে পারি না, আবার ব্র্যান্ডিং কে বাঁকা চোখে দেখি। এই মানসিকতা আমারও ছিলো। এখন ধীরে ধীরে ইন্টারেস্ট জাগছে। এই জায়গাটায় ক্রিয়েটিভিটির দারুণ সুযোগ আছে।

২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৪

শামছুল ইসলাম বলেছেন: অসাধারণ ।
পড়া শুরু করলাম এবং কিছুক্ষণ পর দেখলাম শেষ ।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: আসলেই খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার। ধন্যবাদ শামসুল ভাই।

৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩২

নীলপরি বলেছেন: বেশ ইন্টারেসটিং করে লিখেছেন । ভালো লাগলো ।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:২৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ নীলপরি।

৪| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩

জনৈক অচম ভুত বলেছেন: মার্কেটিং সাইকোলজি সম্পর্কে জানলাম। এখন এইগুলা প্রয়োগ করি কই? :P
সহজভাবে লেখা, এক নিঃশ্বাসেই পড়ে ফেলা গেল। এবং ভাল লাগল।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩০

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ। ভূতেদের সাইকোলজি সম্পর্কে কিছু লেইখেন! :-B

৫| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৩৯

ঢাকাবাসী বলেছেন: অজানা বিষয় মাগার পড়ে ভাল লাগল, কিছু জানলুম।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০০

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ ঢাকাবাসী ভাই। বাসি না এক্কেরে তাজা পুস্ট! B-)

৬| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৩

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:

মার্কেটিং হল একটা পেন্সিল বিক্রি করার প্রতিভা আরকি! তবে এটাও যে একটা আর্ট হতে পারে সেটা নিজে যখন ইউনিভার্সিটিতে স্টল দিলাম তখন বুঝেছি। নো ওয়ান উইল বাই ইয়োর গুড ইফ ইউ নট ক্যাচ দ্যা এটেনশ্যান। রাস্তার মাছওয়ালা থেকে সুপারমলের ব্যান্ডিং ডন, সবাই এইটা করে।


ক্যাচ দ্যা ফিস!! ( পজেটিভলি বলছি) মাছ ধরাও একটা আর্ট। কাস্টমার জিনিস কিনবে সেরাটা খুঁজবে।মাছ ও খাবার খুঁজবে, সহজ খাবারটাই বেছে নেবে। এটা সাধারণ সাইকোলজি। আর এই জায়গাটায় চলে আসে মার্কেটিং সাইকোলজির ব্যাপারটা।


দারুণ বিষয় নিয়ে বিশদভাবে জেনে গেলাম। অনেক ধন্যবাদ হামা ভাই!

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:২৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: হ্যাঁ, ঘরে-বাইরে-অন্দরে-পানশালায় কোথায় নেই মার্কেটিং! আপাত সরল একটা ডিজাইন অথবা ট্যাগলাইনেও গভীর চিন্তা থাকে। বেশ ইন্টারেস্টিং ব্যাপার।

ধন্যবাদ পড়ার জন্যে।

৭| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪৪

সুমন কর বলেছেন: ভাই, পোস্ট কিন্তু পড়িনি !

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: তাহলে বলা যায় আমার মার্কেটিং পলিসি ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু আপনি আউটলুক দেখে পড়তে আগ্রহী হন নি।

৮| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩০

সুমন কর বলেছেন: আরে তা নয়, আজ সারাদিন বাইরে ছিলাম তাই বড় আর বিষয় ছাড়া পোস্টগুলো এড়িয়ে গেলাম। ;)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৫৮

হাসান মাহবুব বলেছেন: চান্সে আমি দুইডা ফাউ কমেন্ট পাইলাম ;)

৯| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:২২

আলভী রহমান শোভন বলেছেন: অসাধারণ পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

বাই দ্য ওয়ে, আমি মার্কেটিং-এর স্টুডেন্ট। :)

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৩৩

হাসান মাহবুব বলেছেন: মার্কেটিং এর স্টুডেন্ট যখন ভালো বলেছে, তাহলে লেখাটা আসলেই ভালো হয়েছে B-)

থেংকিউ।

১০| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৩

মাহমুদ০০৭ বলেছেন: ১ , ১১ ছাড়া বাকিগূলো আমার জন্য কমন ।
প্রথমিক অবস্থায় ডেল কার্নেগীর বিক্রয় সংক্রান্ত বই গুলো ও যথেষ্ট কাজের। গাইড বই ও এমএল এম কোম্পানি তে ডেল কার্নেগীর টিপসের অনেক সফল প্রয়োগ আছে ।
আপনি যখন প্রথম মার্কেটিং পোস্ট ( মোবাইলে দেখেছিলাম ) তখন বেশ চমৎকৃত হয়েছি ।মার্কেটিং আমি মনে করি এই যুগে সবারই অল্পবিস্তর জানা দরকার। নানাভাবে কাজে আসে এগুলো ।
মার্কেটিং নিয়ে আমজনতার সাধারণ নেতিবাচক ভাবনার পেছনে- এ জগত সম্পর্কে বেসিক ধারণা না থাকা অন্যতম । ফলে ভোক্তাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে । ভুল জায়গায় বিশ্বাস স্থাপন ঘটছে ।
পোস্ট উপভোগ করলাম । এ সংক্রান্ত আরো পোস্ট চাই ।
শুভকামনা রইল ।

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: থ্যাংকস মাহমুদ। আশা করি এ বিষয় নিয়ে আরো পোস্ট লিখটে পারবো। লিখে ফেললে মনে থাকে ভালো ভাবে। ভাবছি এই বছর আর তেমন সিরিয়াস কোনো ফিকশন লিখবো না।

মার্কেটিং সবারই অল্প বিস্তর জানা দরকার। ঠিক বলেছো।

শুভরাত্রি।

১১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:১৫

রক্তিম দিগন্ত বলেছেন:
মার্কেটিং সম্পর্কে জ্ঞান যতটা আছে তার সবই ব্যবহারিক ক্ষেত্রে। সেইটাও অল্প পরিসরের ক্ষেত্রই।
তবে, ঐটুকেই আমি বুঝছি - মার্কেটিং সাইটে দাঁতে দাঁত চেপে থাকা বেশি জরুরী। সেই সাথে উপস্থাপনায় চরম পরিমাণে আত্নবিশ্বাসী হওয়া লাগে। সাথে সাথে সিঙ্গেল ট্রেডের ক্ষেত্রে হালকা লোকসানের ঝুঁকিও নেওয়া লাগে, তাতে কালেক্টিভ ট্রেডে কিছুটা প্রফিট পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় দিকটা হল - ভোক্তার সাথে একদম ফ্রেন্ডলী হয়ে যাওয়া লাগে - সে গাইলাইলেও নিজের পন্যের বিজ্ঞাপন সহজ ভাষায় করে যাওয়া লাগে।

আপনার পোস্টের সবগুলো পয়েন্টের সাথে মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানীগুলোর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজীর শতভাগ মিল পাইলাম।
মার্কেটিং নিয়ে একটা কোর্স করেছিলাম মনে হয় - তখন অবশ্য এইসবকে খুব একটা পাত্তা দেই নাই। :(

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:১৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: সুন্দর অনুধাবন। শুভেচ্ছা।

১২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০৬

পুলহ বলেছেন: ইন্টারেস্টিং পোস্ট। প্রিয়তে যুক্ত করলাম।
মনে হচ্ছে- ইট ইজ নাথিং, বাট এ সাইকোলজিক্যাল গেইম
শুভকামনা

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২২

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ পুলহ।

১৩| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪৬

মোটা ফ্রেমের চশমা বলেছেন: মার্কেটিং মেজর নিয়ে পড়লেও মার্কেটিং আমাকে কেনও যেন টানে না। নিজেকে ভোক্তা হিসেবে দেখতেই পছন্দ করি, মার্কেটার হওয়ার চাইতে। তবে মার্কেটিং এর ট্যাক্টিস গুলো জানতে খুবই মজা লাগে। কিভাবে মানুষের মাইন্ডে নিজের জায়গা করে নেয়া যায়।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৩

হাসান মাহবুব বলেছেন: হ্যাঁ, আমার ক্ষেত্রেও তাই।

১৪| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫০

অরুনি মায়া অনু বলেছেন: আমার জন্য কঠিন, তবে বোঝার চেষ্টা করছি :)

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: আগ্রহ থাকলে কঠিন লাগতো না।

শুভেচ্ছা।

১৫| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:২২

আলোরিকা বলেছেন: বাণিজ্য বড়ই অপছন্দ করি -----------কিন্তু সব জায়গায় এটার বড়ই প্রয়োজন :(

বিজ্ঞাপন চমৎকার হয়েছে :)

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:২৬

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ আলোরিকা।

১৬| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫২

বাবুরাম সাপুড়ে১ বলেছেন: মার্কেটিং সাইকোলজির ওপর অসাধারণ লিখেছেন।
আমি একটা উদাহরণ দিই:
২০০৮-০৯ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়। আমেরিকাতে প্রচুর লোক বেকার হয় এবং যাদের চাকরী টিকে ছিল আরও অত্যন্ত ভীত ছিল চাকরী /রোজগারের নিরাপত্তার ব্যাপারে। গাড়ীর বিক্রি কমেছিল ২০% ।
জেনারেল মোটর ,টয়োটা ,অডি ইত্যাদি কোম্পানী গুলোর ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।হুন্ডাই তখন আমেরিকাতে একটি ছোট গাড়ী প্রস্তুতকারক সংস্থা।
এই কোম্পানি আঁচ করলো আমেরিকানদের হটাৎ করে গাড়ী কেনা কমিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ চাকরী খোয়ানো নয় , মাত্র ৮% আমেরিকান চাকরী খুইয়েছে।কিন্তু বাকি ৯২% যারা চাকরী /রোজগার করছে তাদের ভবিষ্যতে চাকরী খোয়ানোর "ভয়" গাড়ী কেনা কমিয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ। আমেরিকাতে গাড়ী ছাড়া জীবন প্রায় অচল , কিন্তু ভয় ভীতি তে মানুষ কমনসেন্স হারায়।
হুন্ডাই কি করলো?
জানুয়ারী ২০০৯ সালে হুন্ডাই চালু করলো Hyundai Assurance --এক অসাধারণ মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি : গাড়ী কেনার পর ক্রেতা যদি চাকরী /রোজগার হারায় , হুন্ডাই গাড়িটি ফেরত নেবে , ক্রেতা গাড়ীর মূল্য ফেরত পাবে।একদম সহজ সরল হিসাব।
হুন্ডাই এই মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালালো ৩ বছর ,পাঁচ লাখের ওপর গাড়ী বিক্রি হলো।
কতজন চাকরী হারিয়ে গাড়ী ফেরত দিল ? মাত্র ৩৫০ জন।

Hyundai Assurance এক অসাধারণ সাইকোলজিক্যাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হয়ে রইলো। হাভার্ড ,ইয়েল এবং এবং আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটিকে কেস স্টাডি হিসাবে পড়ানো হয়।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:০০

হাসান মাহবুব বলেছেন: দারুণ একটা উদাহরণ। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

১৭| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৪:০৪

কানিজ ফাতেমা বলেছেন: হাসান ভাই কিছুদিন আগে যদি এ পোষ্টটা দিতেন ! ব্যাংকারদের যমদূত, ব্যাংকিং ডিপ্লোমা নামক একটি পরীক্ষা আছে । মার্কেটিং নামক সাবচেক্টে আমি ৫ বার ফেল মেরেছিলাম ।

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০০

হাসান মাহবুব বলেছেন: আহা! আগে বলবেন না!

১৮| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯

গোফরান চ.বি বলেছেন: অতুলনীয় । মার্কেটিং এর পোলাপান সাইকোলোজি না পড়ে মুখ আর চোখ দেখে নানু বাড়ি কোথায় বলে দিতে পারে :)

দারুণ লেখায় অনেক কিছু জানলাম।

+

৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০১

হাসান মাহবুব বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ গোফরান।

১৯| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৩৩

বিলিয়ার রহমান বলেছেন: দারুন পোস্ট ।

প্রিয়তে রেখে দিলাম ভাই।

০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:৩৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। শুভরাত্রি।

২০| ০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ ভোর ৬:৫৬

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: বেশ ইস্টারেস্টিং বিষয়, এটার উপর গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের লিটারেচার দেখছিলাম , সামুর ধীরগতির জন্য লিখাটি দৃস্টি এড়ায় । লিখাটি আমার জন্য অনেক কাজে দিবে , প্রিয়তে নিয়ে গেলাম ।
শুভেচ্ছা রইল ।

০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯

হাসান মাহবুব বলেছেন: কাজে লাগলে লেখা সার্থক।

শুভেচ্ছা রইলো।

২১| ০১ লা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১০:৫৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: হাসান মাহবুব ,




যদিও মজার মজার উদাহরন দিয়ে শিক্ষনীয় একটি বিষয়ের মার্কেটিং করেছেন ! :(
কিন্তু আপনার এই প্রোডাক্টটি আমার কোনও কাজে আসবেনা । আমি মার্কেটিংয়ের লোক নই বরং তাদের খদ্দের , মাস গেলে তাদের বেতন ভাতা নিশ্চিত করি । :P

[ বাই দ্য ওয়ে -- আপনার পোস্টের মার্কটিংয়ে আপনি ফেল্টুস । এ ব্যাপারে মার্কেটিং সাইকোলজির কী, কোথায় এবং কেন বুঝতে আপনার আরও সময় লাগবে । B:-/ দেখুন না, আজ পাঁচদিন শেষ হতে চললো আর শিক্ষনীয় বিষয় নিয়ে ঘাম ফেলে লেখা আপনার এমন একটি পোস্টে পাঠক সংখ্যা মাত্তর ২২০ । আর যদি বরাবরের মতো " হাসান মাহবুব" ব্রান্ডেড কোনও পোস্ট হতো তবে এ্যাদ্দিনে পাঠক সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়ে যেতো । বইয়ে যেতো কমেন্টের বণ্যা ।
এক কাজ করতে পারেন, এই রকম পোস্টের শুরু আপনার গল্পগুলোর ষ্টাইলে করতে পারেন আর শেষটাতে পাঠককে একটা ধাঁধাঁর মধ্যে রাখতে পারেন .............
কাজ না দিলে মূল্য ফেরত :D ]

০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:০৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: হ্যাঁ, আমার মার্কেটিং স্ট্রাটেজিতে ভুল ছিলো। নোটিশবোর্ড মারফত পরদিন প্রায় সারাদিন ব্লগ বন্ধ থাকবে জানার পরেও পোস্টটি দেই। এর ফলে হিট এবং কমেন্ট খরা। তবে এখানে কিছু টেকনিক্যাল ব্যাপারও আছে, যাতে আমার কোন হাত নেই। ব্লগ যখন আবার ফিরে এলো, দেখি যে প্রায় ১০০-১৫০ এর মত হিট গায়েব। প্রিয়তে নিয়েছিলো ৬ জন, সেটা কমে হয়েছে ২টি।

মার্কেটিং এর ওপর গবেষণার জন্যে ব্লগ আর ফেসবুকের মত ভালো জায়গা আর নাই! পরীক্ষন চলতে থাকবে। স্টে টিউনড!

২২| ০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৩:১১

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: মন্তব্যের উপর নোটিফিকেশন ০ দেখা যাওয়ায় এখানে আসা হয়ে উঠেনি । এখন কোতুহল বশে ০ এর উপরে ক্লিক করে দেখতে পাই আপনার পক্ষ থেকে একটি প্রতিউত্তর আছে । এ লিখাটি আমার অনেক কাজে লাগছে বিশেষ করে 'ডিকয় থিউরী যার উপরে এখন নিরন্তর গবেষনা চলছে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে এবং এর প্রয়োগ চলছে পৃথিবীর অনেক বড় বড় কোম্পানীর প্রডাক্ট মার্কেটিং এ , এর প্রসার ক্রমে বেড়েই চলেছে । মার্কেটিং বিষয়ে অধ্যয়নরত কিছু ভাষাভাষী পরিচিত ছাত্রদের নিকট আপনার এই লিখাটি রেফার করেছি । যদিও ইংরেজীতে এ বিয়য়ের উপর আপনার দেয়া লিংক হতেই অনেক কিছু জানা যায় তাহলেও বাংলা ভাষীদের নিকট বাংলার আবেদন অনেক বেশী । জটিল বিষয় বুঝতে অনেক সহায়ক হয় । এধরণের তাত্বিক একটি বিষয় যার অনেক টার্ম এর উপযুক্ত বাংলা নেই তাকে বাংলায় তুলে ধরা বেশ পরিশ্রমী কাজ , তাছাড়া বিষয়টির উপর ভাল দখল না থাকলে সাবলিল বাংলা করাও বেশ কঠীন কাজ । কষ্টসাধ্য এই দুরুহ কর্মটি করার জন্য রইল অভিনন্দন ।
আশা করি বাংলায় বিষয় ভিত্তিক এরকম লিখা আরো পাব আপনার কাছ হতে ।
শুভেচ্ছা রইল ।

০২ রা অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:০৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: এমন রেসপন্স পেলে লেখার কষ্ট কষ্টই মনে হয় না। আরো লেখার অনুপ্রেরনা পেলাম। অনেক ধন্যবাদ!

২৩| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১২:৪২

রোদেলা বলেছেন: সেলস এন্ড মার্কেটিঙ্গে কোর্স করেছিলাম র‍্যাংস গ্রুপে।আজ আপ্নিতো পুরো পড়া মুখস্ত করায় দিলেন।

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ১:২৩

হাসান মাহবুব বলেছেন: আরো দিমু সামনে। আর এখন থিকা আমার পুস্ট পড়তে টাকা দিতে হবে।

২৪| ০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ২:০৪

অদৃশ্য বলেছেন:




দারুন... তবে কথা হলো এই মার্কেটিং এর কাজটা মোটেও সহজ কোন বিষয়না... কোন একটি প্রডাক্ট নিয়ে ফিল্ডে নামবার চিন্তা করলেই তা বুঝা যায়... পাবলিককে কিভাবে খাওয়াবো এই চিন্তা করতে করতেই দিন শেষ... কয়েকবার চেষ্টা করে এখন পকেটে হাত দিয়ে বসে আছি... আরামে না দুঃশ্চিন্তায়... তবে কথা হলো, বিজনেস আমার বরাবরই পছন্দের বিষয়... মৃত্যুর আগমুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করে যাব একটি বিজনেস দাড় করবার... আর এটা করতে গেলেতো অবশ্যই মার্কেটিং এর বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে...

মার্কেটিং এ্যাডভাইজর হাসান ভাইয়ের জন্য
শুভকামনা...

০৩ রা অক্টোবর, ২০১৬ দুপুর ২:২৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: আমি মোটেও মার্কেটিং এ্যাডভাইজার না। কেবল শিখছি। যা পড়ছি তা যেন মনে থাকে, এজন্যে ব্লগে দিচ্ছি। পড়তে তো মজাই লাগে। কিন্তু ফিল্ডে নামলে বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল!

শুভকামনা।

২৫| ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:০২

কল্লোল পথিক বলেছেন:




বাহ!চমৎকার।

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৯:৪১

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভ সকাল।

২৬| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:৪০

শিপন মোল্লা বলেছেন: দারুন পোস্ট , উপকারে আসবে আমারও

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৮:৪৬

হাসান মাহবুব বলেছেন: জেনে খুশি হলাম। ধন্যবাদ।

২৭| ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৩

আমি তুমি আমরা বলেছেন: প্রিয়তে :)

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪০

হাসান মাহবুব বলেছেন: থ্যাংকিউ!

২৮| ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:১২

কালীদাস বলেছেন: প্রাইভেট ইউনিতে যখন পড়াতাম (বা খেপ মারতাম ;)), দেখতাম যে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের লোকজনই সবচেয়ে বেশি। তারপরও আমাদের মার্কেটিং সেক্টরগুলোর অবস্হা দেখলে মাঝে মাঝে বিরক্তি লাগে। মাইক্রো লেভেলে যা দেখি- কাস্টমার কি চায়, কেন চায় সেটার চেয়ে বড় হল একটা জিনিষ গছিয়ে দেয়া কোনভাবে। পাবলিক!

২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ৯:০৭

হাসান মাহবুব বলেছেন: আসলেই। একটা সত্যি কথা কী জানেন? মার্কেটিং পেশায় যারা এ বিষয়ে পড়াশোনা করেছে, তাদের চেয়ে অন্য সাবজেক্টের ছেলে-মেয়েরাই বেশি ভালো করছে। কিতাবের চেয়ে ক্রিয়েটিভিটি অবশ্যই বেশি প্রায়োরিটি পাওয়া উচিত।

২৯| ২৪ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১২:৪২

রাতুল_শাহ বলেছেন: আমার দ্বারা মার্কেটিং করা সম্ভব না । আমার অল্পতে বিরক্ত চলে , মেজাজ গরম হয়ে যায়। প্ল্যান্টের এক্সেন স্যার কে ক্যাটালগের প্রোডাক্টগুলো বুঝাইতে গিয়ে খুব বিরক্ত হইছিলাম, একটার পর একটা প্রশ্ন। হাসিমুখে বুঝাইতে বাধ্য ছিলাম। এক্সেন স্যার ব্যাপারটা বুঝলেন।
আমার কারণে অর্ডার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিলো, পরে বসের হস্তক্ষেপে অর্ডার টা পাওয়া গিয়েছিলো।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৮

হাসান মাহবুব বলেছেন: দেরীতে চোখে পড়লো মন্তব্যটা। স্যরি।

শুভরাত্রি।

৩০| ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:২০

আমি সুফিয়ান বলেছেন: অনেকদিন পর ব্লগে ঢুকে ভালো একটা লেখা পড়লাম।
এর মাঝে (Ben Franklin Effect) টা হিস্টোরি চ্যানেলে হাউ টু উইনে দেখেছিলাম !

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:৪১

হাসান মাহবুব বলেছেন: ধন্যবাদ সুফিয়ান। শুভেচ্ছা রইলো।

৩১| ১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫

দীপংকর চন্দ বলেছেন: মুগ্ধপাঠ!!!

প্রিয়তে পুনরায়।

আমার শুভকামনা অনিঃশেষ জানবেন।

ভালো থাকবেন। সবসময়।

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৮:০৫

হাসান মাহবুব বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.