নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার কথা

আমি সত্যের এবং সুন্দরের পুজারী। কজন মানুষের সাথে হাসিমুখে মিষ্টি ভাষায় যারা কথা বলে তাদের প্রতি আমার অপরিসীম শ্রদ্ধা । আর যারা নিজেদের অনেক বড় ভাবে, তাদের প্রতি আমার রয়েছে করুণা ।

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭

আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। জীবনটাকে সহজ করে ই দেখতে পছন্দ করি ।

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্রষ্টা কোন ধর্মের ??? আলোচনা বিতর্ক ; কেন্দ্র Queens Library, NEWYORK

০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ১:৫৩

সেদিন কি বার ছিল, নিশ্চিত করে বলতে পারব না। তবে সেদিন ও সামনের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি চলছিল লাইব্রেরীতে। সারা সকাল, দুপুর গড়িয়ে যখন বিকেল হয়ে আসল, তখন লাইব্রেরীর ঐ টেবিল এ বসা জনা কয়েক মানুষ ক্লান্তি দূর করতেই হোক, বা পরীক্ষার দুশ্চিন্তা ঢাকতেই হোক স্রষ্টা কে নিয়ে হালকা আলোচনা শুরু করে দিলাম। শুরুটা হালকা ভাবে হলেও তাতে কিছুটা উত্তেজনা যোগ হতে সময় বেশি নেয় নাই ।



আলোচনার শুরুটা হয় আসলে খুব ই হঠাত করে। টেবিল এ বসা একজন বলে উঠেন, “আমাকে এ পরীক্ষায় পাশ করাতে পারে একমাত্র আমার সৃষ্টিকর্তা ই।“

তার উত্তরে কলাম্বিয়ান কোঁকড়াচুলো কৃষ্ণবর্ণ মধ্যবয়স্কা রমণী, যিনি ৩৫-৩৮ বছর বয়সী এবং কলাম্বিয়া থেকে মাইগ্রেট করে আসছেন আমেরিকায়, Social care giver বা Social worker এ ধরণের একটা কাজ এর জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তিনি বলে উঠলেন, “সৃষ্টিকর্তা বলে মানুষ যাদের উপাসনা পৃথিবীতে করে, আসলে তারা কেউ বাস্তবে নেই” ।







টেবিল এ বসা আর ২ জন ব্যক্তি। একজন অত্যন্ত শক্তিশালী গড়নের বাদামী বর্ণের মেক্সিকান খ্রিস্টান ডাক্তার তরুণী আর আরেকজন আমি, বাংলাদেশি মুসলিম ডাক্তার । আমরা পরের ২ জন ব্যাপক ভাবে অসম্মতি জানালাম। মধ্যবয়স্কা আমাদের জিজ্ঞাসা করলেন মুচকি হেসে, কেন আমাদের এই অসম্মতি ! আমরা ২ জন ই তাকে বুঝালাম, আমাদের ২ জন কেই পেশাগত কারণেই এমন বিষয়ের উপর পড়াশুনা করতে হয়েছে, যে স্রষ্টার মহিমা আর কেউ আমাদের চেয়ে বেশি বুঝতে পারবেন না। মায়ের পেটে থাকা অবস্থা থেকে শুরু হয় স্রষ্টার মহিমা , যা সারা জীবন ব্যাপী চলতে থাকে। যারা এটা বিশ্বাস করে না,তারা যে চরম বোকা। কারণ সত্য কে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই !







মায়ের পেটে প্রতি ঘন্টায়, প্রতি দিন, প্রতি সপ্তাহে, একটা শিশু যেভাবে একটা নিয়ন্ত্রিত কিন্তু সিস্টেমিক উপায়ে বেড়ে উঠে, যেভাবে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটা অংগ, ব্রেইন ম্যাচিউর হয়, পেট থেকে বের হওয়ার পরেও এই যে আমরা বসে আছে, শ্বাস নিচ্ছি, অক্সিজেন টাকে ব্যবহার করে যেভাবে শক্তি আমরা উতপাদন করে যাচ্ছি, এবং সবার জন্য যে নিয়মের কোন ব্যত্যয় নেই, তার পেছনে রয়েছে এক অসম্ভব সায়েন্স। যে সায়েন্স হঠাত করে আসতে পারে না, বা কাকতালীয় হতে ই পারে না। অবশ্য ই একজন অনেক জ্ঞানী, অনেক ক্ষমতাধর এই পুরা বিশ্বজগত নিয়ন্ত্রণ করছেন এটা মিথ্যা হতে পারেনা। তাঁর উপর বিশ্বাস রাখা উচিত।





এবার ও কলাম্বিয়ান ভদ্রমহিলা বললেন, “তোমরা যা যা বললে, তা কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু কোন ধর্ম অনুযায়ী তাকে ডাকলে আসলেই পাওয়া যাবে তা কি তোমরা বলতে পারবে ? তোমরা যে যেই ধর্মের সেই ধর্ম ই সত্য এটাই বলবে , এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি যে নিশ্চিত নই !” এবার আমার আর মেক্সিকান ডাক্তারের পালা । আমরা একে অন্যের দিকে তাকালাম, আর একটা বিষয়ে মত প্রকাশ করলাম, সৃষ্টির আদিযুগ থেকে মানুষ বুঝতে পারছে যে, স্রষ্টা আছে, না হলে এ বিশ্বজগত তৈরি হয় না। কাকতালীয় হতে পারে, কিন্তু এক সাথে এত কিছু কাকতালীয় হতে পারেনা। স্রষ্টা কে পাওয়ার অনেক চেষ্টা মানুষ করে আসছে। বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী হয়েছেন। স্রষ্টা কে পাওয়ার জন্য কোন ধর্ম টা সঠিক, সেটা বুঝতে হলে সম্ভবত মৃত্যুর পরেও আরো অনেক বছর অপেক্ষা করতে হবে। তবে স্রষ্টা উপর ভরসা রাখলে ভেতর থেকে একটা ভরসা, একটা শক্তি পাওয়া যায় যেটা খুব ই দরকার। আর সম্ভবত যে যেভাবে স্রষ্টাকে ডাকে, তার সেই বিশ্বাস কে নিয়ে অন্য কোন ধর্মের মানুষদের উপহাস , ঠাট্টা করা উচিত না। কারণ অমোঘ নিয়মে আমরা তৈরি হয়েছি, এটা সত্য। যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, যিনি আমাদের এই জগত সৃষ্টি করেছেন, তিনি কোন ধর্মের তা জানি না, তবে তিনি আছেন। তার অসম্ভব জ্ঞানের খুব সামান্য নজির আমরা আমাদের চারপাশে দেখতে পাই, যা দেখি , যা বুঝতে পারি, তা থেকে ধারণা করা ও কষ্টকত তিনি কতটা জ্ঞানী !









আমার এই লেখাটা কি ছোটগল্প বলা যায় কিনা জানি না, তবে এটা একটা আলোচনার সারসংক্ষেপ। যে ধরণের আলোচনা হোস্টেল এ , আড্ডায় , বিভিন্ন সময় হয়। আমার নিজের বিশ্বাস , স্রষ্টা আছেন, তাকে থাকতেই হবে। তবে আমি যে নিয়মে তাকে ডাকি, তার প্রতি কারো অশ্রদ্ধা যেমন আমি চাই না, তেমনি অন্যেরা যেভাবে তাকে পেতে চান, তার প্রতি কোন উপহাস ঠাট্টা আমি করতে চাই না। এই পৃথিবী তে আসছি মাত্র অল্প কিছুদিনের জন্য। এ কয়টা দিন একটু ভালভাবে, হিংসা বিদ্বেষ দূরে সরিয়ে রেখে সম্মান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্প্রীতি র মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করাটা ই সম্ভবত শ্রেয়। আর হ্যাঁ, অবশ্য ই স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:০৯

আজমান আন্দালিব বলেছেন: স্রষ্টা আছেন এই সত্যটি মেনে নিলে আর কোনো ঝামেলা থাকে না তা যে ধর্মেরই হোক না কেনো।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫৫

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: সহমত। তবে পরকালে বিচার হবে এ বিশ্বাস টা না থাকলে মানুষ পশুতে রুপান্তরিত হতে সময় নেয় না ।

২| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:২৪

সজীব আকিব বলেছেন:
স্রষ্টার মহিমা আসলেই বুঝা ভার। তা না হলে তিনি এত এত বিকলাঙ্গ নবজাতকের জন্ম দেন কিভাবে? একটিমাত্র ব্যর্থতাই ঈশ্বরের অক্ষমতার প্রমাণ তথা তার অনস্তিত্বের প্রমাণ।

কিভাবে সুনামি, ভূমিকম্পের মত দুর্যোগ দ্বারা শিশুদের নিপাত করেন?

ধর্ম অনুসারে, এরকম নির্দয়, অশুভ ঈশ্বরের অস্তিত্ব থাকতে পারে না।

আর ঈশ্বর বলতে কেউ থাকলেই সে মানুষের কাছে উপাসনা চাইবে কেন? এর কি মাথা খারাপ?


অর্থাৎ ধর্মে বর্ণিত পরম শুভ ঈশ্বরের অস্তিত্ব বাস্তবে নেই।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫৩

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: আসলে আমি প্রতিমুহূর্তে স্রষ্টার অসামান্য জ্ঞানে মুগ্ধ হই, আর তাই প্রতিমুহূর্তে নিজের মত করে তাকে বুঝতে চেষ্টা করি।

৩| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:২৬

bangal manus বলেছেন: যত মত তত পথ।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫৭

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: তবে আমি যে পথে চলি সেটা ই একমাত্র ভাল পথ এ রকম চিন্তা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে !

৪| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ দুপুর ২:২৬

bangal manus বলেছেন: যত মত তত পথ। লক্ষ একটাই, স্রষ্টাকে পাওয়া।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৫১

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: স্রষ্টা কে খুঁজতে চাওয়ার এ প্রচেষ্টায় স্রষ্টা নিজে কখনো রুষ্ট হবেন বলে মনে হয় না।

৫| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:১৬

কবিরনি বলেছেন: ভদ্রলোকেরা খুব সুন্দর করে কথা বলে। এটা করোনা, ওটা কোরনা। এটা খারাপ, ওটা খারাপ। কিন্তু যখন দেখে কেউ একজন খারাপ কাজ করছে তখন সাহস করে এগিয়ে যায় না তাকে নিবৃত্ত করতে। দূর থেকে কবিতার লাইন আওরাই –
“”কুকুরের কাজ কুকুর করেছে
কামড় দিয়েছে পাই
তাই বলে কি কুকুরে কামড়ানো মানুষের শোভা পাই”

মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে অনেক কথা। কিন্তু মৌলবাদীতার জন্ম যে ধর্মীয় কুসঙ্কারের মধ্যে, কুসঙ্কারকে প্রথমে প্রতিহত করলেই যে পড়ে আর তা মৌলবাদীতায় রূপ নেই বোমা হামলায় পর্যুদস্ত হবে না সেকথা কেউ স্বীকার করে না। যার যার ধর্ম তার কাছে বলে একটা গাছাড়া ভাব সবার মধ্য। কিন্তু যখন তা ভয়াবহ রূপ নেই তখনই দেশ গেল, সমাজ গেল বলে আর্তচিতকার। তবু চিতকারই সার। কেউ আর পথে নামবে না। জানের মায়ায়।

সবারই চিন্তা করার ক্ষমতা আছে কিন্তু সবার চিন্তা সমান ভাবে বিকশিত নয়। এখন আপনি যদি দেখেন কেউ মল ত্যাগ করে সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে খাবার খাচ্ছে আপনি একজন সচেতন হিসাবে নিশ্চয় তাকে ছেড়ে দিতে পারেন না সে যা ইচ্ছা তাই করুক। ক্ষতি তো আর আপনার হচ্ছে না। কিম্বা একজন বাসে সিগারেট খাচ্ছে আপনি শুধু তাকে নিষেধ করেই থেমে যেতে পারেন না। কারন সে নিজের ক্ষতি’র পাশাপাশি আরেক জনেরও ক্ষতি করে চলছে। প্রয়োজন হলে আপনাকে তাকে নিবৃত্ত করতে বল প্রয়োগও করতে হতে পারে।

তাই কেউ যদি সঠিক পথে সন্ধান পাই তবে অবশ্যই তার উচিত অন্যকে সেই পথে ধাবিত করা। সেটা জোর করে, লোভ দেখিয়ে বা ভয় দেখিয়েও হতে পারে। ক্লাশের টিচার যেমন ভয় দেখিয়ে ছাত্রকে পড়ান। কিম্বা বাবা যেভাবে সন্তানকে পরীক্ষায় ফাস্ট হলে এটা ওটা কিনে দেবেন বলে লোভ দেখান। আপনি সত্য পথের অনুসারী হলে যারা ভ্রান্তিতে আছে তাদের কেন আপনি সেখানে আনবেন না। সচেতন হিসাবেই তো আপনার এটা কর্তব্য।

ধর্মের ব্যাপারে একটা প্রচ্ছন্নতা সবার মধ্য। সবাই নিজ নিজ ধর্মে অটল কিন্তু বুকে হাত দিয়ে বলতে পারে না তার ধর্মই সঠিক। কারন হিসাবে মনে করে তার হাতে কোন ডেমো নেই – যে তার ঈশ্বরই সঠিক। আপনার সন্তান বড় হয়ে চোর হবে না সাধু হবে তার কোনো ডেমো কিন্তু আপনার হাতে নেই। আপনার বিশ্বাস একটু ভাল পরিবেশ এ রাখলে সে সাধু হবে তার উপর ভিত্তি করেই কিন্তু আপনি তাকে সু-শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আপনি বুকে হাত দিয়ে গ্যারান্টি দিতে পারেন না সে বড় হয়ে যুদ্ধাপরাধী হবে না। তাই সব সময় ডেমো’র দরকার হয় না। আমরা চেষ্টা করি কিন্তু ফলাফল নাও আসতে পারে। ক্লাশে সবাই ফাস্ট হয় না কেউ কেউ হয়। কিন্তু সবারই প্রচেষ্টা থাকে। যার সবচেয়ে সঠিক পথে প্রচেষ্টা থাকে সেই ফাস্ট হয়। আর যার কোনো চেষ্টাই নেই সে ফেল করে। তাই সঠিক পথের অনুসন্ধান করা নিতান্তই দরকার। আপনার কাছে ডেমো নেই বলে আপনি হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারেন না। গ্যালিলিও’র কাছে ডেমো ছিল না। তাই বলে সে তার মত থেকে সরে আসে নি। আপনাকে প্রবলভাবে অনুসন্ধান করতে হবে সঠিক পথের।

প্রত্যেক ধর্ম মূল সমস্যা’র সমাধান দিতে ব্যার্থ। মূল সমস্যাটা কি? ঈশ্বর কোথায় থাকেন? কি করেন? কিভাবে পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। আরজ আলী মাত্ববরের প্রশ্ন ছিল ঈশ্বর কোন স্থানে, কোন সময়ে, কোন শক্তি বলে বিশ্ব সৃষ্টি করলেন যদি তখন সৃষ্ট জগতই না থাকে। তাহলে সময়,স্থান,শক্তি সৃষ্টির আগেই ইশ্বর কিভাবে তা পেলেন? যে পৃথিবী’র মানুষ এখনো জানে না আটলান্টিকে’র তলদেশে কি আছে, যারা মঙ্গলে ল্যান্ড করতে পেরেই মহাখুশি এত বিশাল মহাকাশে’র অনাবৃস্কিত রহস্যে’র মধ্যে তাদের কাছে সব সমস্যা’র সমাধান আশা করাটা কি বোকামী না। হয়ত একদিন আমরা সব রহস্য সব সমাধান পেয়ে যাবেন। পরকালে’র অনন্ত সুখ কথাটি তখন সত্যি বলে সত্যিই দেখা দিল। এবং তা মাত্র একটি ধর্মের জন্য। তখন কি আমাদের আফসোস হবে না। কিম্বা দেখা গেল কোনও ধর্মই সঠিক না। খামখাই আমরা পন্ডশ্রম করেছি। তাহলেও কি আফসোস হবে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের দৌদূল্যমান অবস্থায় না থেকে যে কোন একটি পথেরই সন্ধান করা উচিত নয়। যেটা আপনাকে সবচেয়ে কাছাকা্ছি সমাধানের দ্বারপ্রান্তে পৌছায়। যেখানে গোড়ামী-অন্ধত্বতা কম।

“উদারনীতির একটি বড় দূর্বলতা তার নিজ্বস্ব কোন সুনিদির্ষ্ট মানদন্ড নেই। সে আপোস করে, নম্র স্বরে সমালোচনা করে। কিন্তু একটা স্থির মানদ্বন্ড তুলে ধরে না। এই জন্যই প্রবল ভালবাসা বা প্রচন্ড ঘৃণা কোনটাই আসে না। …উদারনীতি’র নিয়ম এই, সে দয়া, দান, দক্ষিণা, সংশোধন-সবকিছুকেই সর্মথন করতে পারে, সমর্থন করতে পারে না, বিপ্লবকে। বিপ্লবকে সে বরং ঠেকিয়ে রাখতে চাই।”- কথা্টি ওই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীরই। আমরা কেন জানি ঠিক এভাবেই সবাই চিন্তা করতে ভালবাসি। রাজনীতিতে যেমন আওয়ামীলীগে’র বিকল্প বি.এন.পি, বি.এন.পি’র বিকল্প আওয়ামীলীগ। মন্দের ভালোতে অভস্ত হতে হতে ভালো’র সংজ্ঞা ভুলে যায়। সাহস করে বলতে পারি না আমি দৌদূল্যমান না বরং আমি যেটা বলছি সেটাই সঠিক। আমি ঈশ্বরকে নিয়ে ভাবনায় দৌদূল্যমান কিন্তু এক কথায় বিশ্বাসও করতে পারি না আবার অবিশ্বাসও করতে পারি না। এখান থেকে বেরোনো দরকার। আমি এটা বিশ্বাস করি। এর বিপক্ষে কেউ ভালো যুক্তি দেখাতে পারে নি। তাই আমি এটাই প্রতিষ্ঠিত করব। কেন এমন দ্বীপ্ত শপথ নিতে পারব না। কোথাই যেন ভয়? একটু ইউটোপিয় চিন্তা। সংগ্রাম করতে ভয়। অথচ

“সংগ্রামই সত্য, সংগ্রামই সুন্দর”

আপনি আপনার মত প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করবেন আমি আমার মত প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করব। সংগ্রামে সংগ্রামেই একদিন সত্য বেরিয়ে আসবে। ভয় কি মরনে?

“সব মরন নয় সমান”

সব ধর্মেই কিছু Prophetic সত্বার মানুষ আছে। তারা পথ দেখিয়েছেন। ধর্মের অনুসারীরা সেই পথেই চলবে। আমার সামর্থ্য নেই বলে যে আমি অন্যর জন্য চেষ্টা করতে পারব না তাতো না। আমি সমাধান খুজেঁ পেতে না পারি কিন্তু ভবিষ্যতের মানুষ যেন দ্রুত খুজে পাই সেই প্রচেষ্টা তো করে যেতে হবে।“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে” – এই একলা চলো নীতি পরিহার করতে হবে। কারন-
“একলা মানুষ মাতৃগর্ভে একলা মানুষ চিতায়”
আমি খুজ করব আর একজন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে তা হতে পারে না। তাকেও খুজতে হবে। এবং সে যেন সঠিক নিয়মে পথে খুজতে পারে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও থাকতে হবে।

সব ধর্মেই ব্যর্থ প্রতীয়মান হয় তবে তা তা আপত দৃষ্টিতে। সব কিছুই আপেক্ষিক। আপনি ধর্মগ্রন্থ পড়ে সমাধান পান নি সেই ব্যার্থতা আপনার ধর্মগ্রন্থের নয়। আপনার জ্ঞান বুদ্ধি প্রজ্ঞা দিয়ে খুজে পেতে হবে।বিজ্ঞানের অনেক সূত্রই কিন্তু আমরা আক্ষরিক অর্থে প্রমান না পেয়েও মেনে নিয়েছি। কারন বিজ্ঞানের প্রথম কথা কিন্তু প্রমান নয় – মতবাদ। আপনি যতক্ষন পর্যন্ত না সেই মতবাদকে মিথ্যা প্রমান করতে না পারছেন ততক্ষন পর্যন্ত আপনাকে সেই সূত্র মেনে চলতেই হবে। আপনি প্রমান করুন অমুক গ্রন্থে’র এই কথাটি মিথ্যা তাহলেই আপনি বলতে পারেন অমুক গ্রন্থটি ভূয়া। অনথ্যায় আপনাকে মেনে নিতেই হবে।

অনেকে বলে থাকেন সবকিছুই ঐশিগ্রন্থে যখন আছে তখন আমরা তা বুঝি না কেন? কেন সব সমস্যার সমাধান পাই না। ঐশী গ্রন্থে সমাধান নিশ্চয় আছে যদি তা কালের বির্বতনে বিকৃত না হয়ে থাকে। এবং সত্যি সত্যি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসে থাকে। আর সেই ঐশী গ্রন্থ থেকে সত্যকে মানুষকেই বের করে আনতে হবে। “সোনার তরী” কবিতায়

“ঠাই নাই ঠাই নাই
ছোট সে তরী”
বলতে রবীন্দ্রনাথ কি বুঝিয়েছেন সেটা না বুঝতে পারা আপনার সমস্যা রবীন্দ্রনাথের না।

আমাকেই যদি আবিষ্কার করে সব করতে হয় তাহলে আপাতত কোন ঐশী গ্রন্থের বা ধর্মের তো প্রয়োজন দেখি না।- এ কথার উত্তরে শুধু একটি কবিতাই বলতে ইচ্ছা করছে -

‘বসুমতি! কেন তুমি এতই কৃপণা?
কত খোঁড়াখুঁড়ি করি পাই শস্য কণা।
দিতে যদি হয় দে মা প্রসন্ন সহাস;
কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস?
বিনা চাষে শস্য দিলে কী তাহাতে ক্ষতি?
শুনিয়া ঈষৎ হাসি, কন বসুমতী-
‘আমার গৌরব তাতে সামান্যই বাড়ে
তোমার গৌরব তাতে একেবারে ছাড়ে।’

১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এর সময় কেউ নিজের ইচ্ছায় সম্পদের মায়াতে উপকূলে থেকে গেলে তাকে থাকতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে জোর করে উঠিয়ে আনতে হবে নিরাপদ আশ্রয়ে। অনেকে ভয় করেন – যদি সে অন্যকে জোরাজুরি করে তবে মৌলবাদীরাও একি সুযোগ নেবে। তারাও জোরাজুরি শুরু করবে। ফলে দাঙ্গা ফ্যাসাদ লাগবে। কিন্তু-
জাল কহে, পঙ্ক আমি উঠাব না আর।
জেলে কহে, মাছ তবে পাওয়া হবে ভার।

একজন ধর্ষক ধর্ষন করে যাচ্ছে। সে ধর্ষনটাকে সংগ্রাম মনে করছে। আপনার তখন কি উচিত হবে? ধর্ষন করতে দেওয়া নাকি প্রতিহত করা। অবশ্যই প্রতিহত করা। সে ধর্ষনের সংগ্রাম করবে আর আপনি প্রতিহত করার সংগ্রাম করবেন। দুই সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই সত্য বেরিয়ে আসবে। ধর্ষন করা ভাল না খারাপ। এক পর্যায়ে ধর্ষক ক্ষ্যান্ত দেবে আপনার বিজয় হবে। সত্য’র বিজয় হবে।

কেউ তার ভূল ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকলে তাকে অবশ্যই থাকতে দেওয়া যাবে না। যেমন সহমরন, কণ্যাশিশু হত্যা এসব কিন্তু দূর করা হয়েছে। অনেকই বলবেন এগুলো ক্ষতিকারক ডেমো আছে তাই দূর করা হয়েছে। কিন্তু যদি ক্ষতিকারক না হয়েও থাকে তবেও কি প্রতিহত করা ঠিক নয়। ধরেন আপনি বাংলাদেশের মত গরীব একটি দেশের বহু কষ্টের ট্যাক্সের টাকায় পড়ালেখা করে একটা ভূল ধর্মে সময় নষ্ট করছেন কারও কোনও ক্ষতি না করে। তবুও তো আপনাকে বাধা দেওয়া উচিত। কারন যে সময়টা আপনি ওই ভূল ধর্মে অতিবাহিত করবেন সেটা দেশের মঙ্গলে চিন্তা করলে দেশ ও জাতির অনেক উপকার হবে।

ডেমো’র চেয়ে, মূল সমস্যা’র চেয়েও দেখা দরকার কোনটা সবচেয়ে নির্ভূল। কারন আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি আছে এ কথা শিকার করতে হবেই। ২০১১ সালেই আমরা সব সমস্যা’র সমাধান করব তা নাও হতে পারে, ৩০১১ সালেও এই সমস্যা’র সমাধান হতে পারে। ততদিন আমরা নির্ভূলতা নিয়েই থাকি।

আমাদের সামনে পুরো একটা বিশ্ব ব্রক্ষান্ড পড়ে আছে। আর যুক্তি দিয়েই বলতে হবে কোন কিছু কখনো আপনা আপনি সৃষ্টি হয় নি। তাহলে অবশ্যই এর পিছনে একজন স্রষ্টা বা ঈশ্বর আছেন। আর এক খাপে যেমন ৭টা তরবারী থাকতে পারে না তেমনি একাধিক ঈশ্বরও থাকতে পারে না। তাহলে অবশ্যই একাধিক ধর্মও হতে পারে না। যেকোনো একটি ধর্মই তাহলে সত্য অথবা সত্য ধর্ম হয়ত এখনো আসেই নি। তাহলে আমরা এই স্বিধান্তে উপনীত হতেই পারি সব ধর্মই সত্যি কথাটি ঠিক না। এখন আমাদের বের করতে হবে সবচেয়ে নির্ভূল ধর্মটিকে। কেউ কোনও ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকলেই তাকে থাকতে দেওয়া যেতে পারে না। আমাদের সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তাহলে দেরী হয়ে যাবে ওই ব্যক্তি অযথা সময় ক্ষেপনে।

একটা উদাহরন দিই। ধরেন একজন লোক একটা পাহাড়কে পূজা করছে। আমরা তাকে ছেড়ে দিলাম সে করছে কুরুক সেতো কারও কোনও ক্ষতি করছে না। কিন্তু এই লোকটাই হয়ত ওই পাহাড়টাকে পূজা করাতে যে সময় নষ্ট করছে তা সে বিজ্ঞানের কোন সূত্র সমাধানে ব্যয় করলে আমরা আরেকজন আইনস্টাইন পেতে পারতাম। আর তা যদি হয় আমাদের দেশের মত গরীব দেশের টাকায় পড়ালেখা করা লোক তাহলে তো অবশ্যই আমাদের তার প্রতি জোর করা উচিত। তাকে বিমুখ করা উচিত।

কেউ চাইলেই একটা ভ্রান্তি ধারনা নিয়ে পড়ে থাকতে পারবে না। প্রয়োজনে তাকে জোর করতে হবে। আমরা সত্য’র অন্বেষন করবো অথচ সত্য পথে আনতে মানুষকে জোরাজুরি করব। পাছে আমাদের কাদা লেগে যাই। এক ধরনের উদারনীতি ভদ্রলোকদের আলোচনায় প্রচন্ড ভাবে আসে। উদারনীতি ভদ্রলোকদের নীতি বটে কিন্তু নীতি হিসাবে ভদ্র নয় মোটেও।শেষ মেষ এ কোন কিছুর স্হির মানদন্ড তুলে ধরে না।

তাই আমাদের বিশ্বাস বা যুক্তিতে একটি জায়গায় আসতে হবে। ঈশ্বর র্গীজাও থাকতে পারে, মন্দিরেও পারে এরকম ভ্রান্ত ধারনা থেকে বেরিয়ে আসাই কাম্য।

আপোষকামীতায় আপাতদৃষ্টিতে আপনি মহান হলেও ভবিষ্যত খুব অন্ধকার। আপোষপন্থিরা সহবস্থান চান। গরু আর বাঘ সহবস্থানে মারামারি না করে গনতান্ত্রিক ভাবে খাবার খাবে আশা করাটাই তো বোকামী। আপনি র্ধামিক কুসঙস্কারের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। অথচ আপনি নিজেই আছেন দোদূল্যমান ঈশ্বর সঙ্ক্রান্ত জটিলতায়। সুতীব্র চিতকার করে উঠবেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে। এতে আপনিই পরিশ্রান্ত হবেন। এক সময় নিজেই ইস্তফা দিয়ে অন্ধকারের কাছে আত্বর্সমপন করতে বাধ্য হবেন। আপনাকে তাই বেছে নিতেই হবে আপনি আস্তিক থাকবেন না নাস্তিক হবেন। আস্তিক হলে কোন ধর্মকে বেছে নিবেন। সব র্ধমই সত্য, ভাল, সবাই যে যা খুশি করুক তা চলতে দেওয়া যাবে না।

অনেকে বলেন “মানব ধর্ম পালন করলেই আর কোন ধর্ম লাগে না। এত মতবাদ লাগে না।” এটাই যদি বিশ্বাস হয়ে থাকে তবে এটিকেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মানুষকে আনতে জোরাজুরি করতে হবে। ভদ্রতা দেখিয়ে শুধু বলেই ক্ষ্যান্ত দেওয়া ঠিক হবে

অসম্ভব যুক্তিবাদী একজন র্দাশনিক হেগেল বলেছিলেন :

“আবেগ ব্যতিত পৃথিবীর কোন মহত র্কমই সাধিত হত না”

ঈশ্বর আমাদের কাছে ঠেকা না যে আপনাকে সে ডেমো দেখাতে বাধ্য। একটা স্থুল উদাহরন দিই বুঝানোর জন্য। মালিকের বউ ঘি দিয়ে ভাত খাই কিনা সেই গল্প তার কোম্পানির তৃতীয় শ্রেনীর কোন র্কমচারির কাছে করতে সে বাধ্য নয়। বরঙ র্কমচারিটি সেই খোজ নেবে যাত একদনি খাট ঘি নিয়ে মালিকের বাসায় উপস্থতি হয়ে নিজের প্রমোশনের ব্যাপারে দেন দরবার করতে পারে। স্রষ্টা আমাদরে সৃষ্ট করছেনে এই নয়েই তো সন্তুষ্ট থাকা উচিত, স্রষ্টা কি করে, কি খায় আদিার ব্যাপিরীর এত জাহাজরে খবরের দরকার আছে কি? ইশ্বর র্ধম গ্রন্থ পাঠয়িছেনে মানুষের জন্য তার নিজের লাভের জন্য না। আমরা ঐশী গ্রন্থ থকে শক্ষিা নিলে আমাদেন লাভ ঈশ্বররে কোন লাভের সম্ভাবনা নাই। তার পরেও তিনি বিভিন্নি Prophetic সত্বার মানুষ পাঠিয়ে মানুষের কৌতুহল নিবৃত্ত করছেন। আমরা বিশ্বাস করলে করব না হলে নরকে জ্বলব ঈশ্বরের তাতে কি যায় আসে। অথচ এই সাধারন কথাটি না বুঝেই আমরা ঈশ্বরের কাছ থেকে অত্যাধিক প্রত্যাশা করি।

ঈশ্বরকে যদি আমরা একটি সর্বশক্তিমান শক্তি হিসাবে ভাবি তাহলে কিন্তু এত প্রশ্নের উদ্রেক করে না। তাপ শক্তি যেমন দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায় তমেন ঈশ্বরকেও দেখা যায় না অনুভব করতে হবে। তা আবেগ দিয়, বিশ্বাস দিয়ে, মন দিয়ে। কিন্তু অনেকের মধ্যে এই ইচ্ছা প্রবল আবেগ নয় তর্ক-যুক্তি-বিজ্ঞান দিয়ে ঈশ্বরকে বুঝবেন।

আমরা র্সব্চচ কোন স্মৃতি মনে করতে পারি। যেদিন আমার ভ্রুন সৃষ্টি হয়েছে খুব চেষ্টা করলে সেই র্পযন্ত। এর আগের স্মৃতি আমি কোনদিনই মনে করত পারব না। স্রষ্টা সৃষ্টির আগেও বিদ্যমান ছিল। মানুষরে পক্ষ সৃষ্টরি শুরুর দিন পর্যন্ত পৃথিবী কি অবস্থায় ছিল সেটি হয়ত কোন না কোনদিন জানা সম্ভব হবে। এর আগে কি ছিল তা কিভাবে মানুষ বের করবে? সৃষ্টিই হয়নি কোন কিছু যেখানে সেখানে তার আগের ঘটনা বের করতে চাওয়া নেহাত বোকামী। একমাত্র ঈশ্বরই তা বলত পারনে। তার বলার হয়ত ঈচ্ছা নেই তাই তিনি বলেন নি। অথবা তিনি হয়ত বলেছেন আমরা বুঝতে পারছি না। এখন বিশ্বাসে মেলায় বস্তু র্তকে বহুদূর।

অনেকেই কোন কিছুকে ধ্রুব মনে করেন। মনে করেন কিছু ব্যাপার অপরিবর্তনীয়। এর উপর স্রষ্টার কোন হাত নেই। যেমন ধরেন দুই আর দুই চার হয়। কিন্তু অধুনা বিজ্ঞান প্রমান করেছে কোন কিছুই স্ট্যাবল নয়। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্র ব্যাবহার করে আপনি ৬ ফিট লম্বা বাশ অনায়সে ৪ফিট ঘরে ঢুকিয়ে ফেলতে পারেন। আপনার কাছে যা ৪ ঘন্টা তা মহাশূণ্যে’র কোন অভিযাত্রির কাছে ৬ ঘন্টাও হতে পারে। তাই আপনি ২+২=৪ র্সবকালে সব সময় সত্য নাও হতে পারে। একজন গ্রীক দার্শনিক বিশ্বাস করতেন কোন “কিছুই স্থির নয় সবই বহমান।” আমরা যদি বিজ্ঞানের দিকে তাকাই তাহলে এর সত্যতা খুজে পাই। এক সময় বিজ্ঞানই বলত পৃথিবী সমতল। তারপর বিজ্ঞান বলা শুরু করল না পৃথিবী গোলাকার। পৃথিবীর সব মানচিত্রই আকাঁ হয়েছিল প্রথম দিকে পৃথিবীকে গোলাকার ভেবেই। এমনকি এরিষ্টটল, পিথাগোরাস মারা গেছেন এই বিশ্বাস নিয়ে পৃথিবী গোলাকার। আজ বিজ্ঞান পৃথিবীর যে আকৃতি’র কথা বলছে কাল তা নাও থাকতে পারে। যে বিজ্ঞান আজ বলছে পৃথিবী সমতল, কাল বলছে গোলাকার, পরশু কমলালেবু তারা যে ১০০ বছর পর পৃথিবীর আরেক আকার নিয়ে আসবে না তার কি মানে থাকতে পারে। বিজ্ঞানের উপর আসলে কতটা আস্থা রাখা যায়। এরচেয়ে ঐশী গ্রন্থগুলোর উপর আস্থা রাখাই শ্রেয় নই।

বিবেকহীন পৃথিবীর বিবেক যে ধর্ম এ কথা বেমালুম চেপে যাই। ধর্ম না থাকলে যে গোটা সমাজ ব্যবস্থায় ভেঙে পড়ত এই সভ্যতা তৈরী হত না এ কথা আমাদের বোধগম্যই হই না। ধর্ম মিথ্যার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, খারাপের বিরুদ্ধে বলেই সমাজ এত সুন্দর। সমাজের প্রতিটি মঙ্গল ধর্মেরই অবদান। অথচ আমরা আমাদের মিথ্যা অহমিকায় ধর্মকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলার চেষ্টা করি। বলতে চেষ্টা করি ধর্মের প্রয়োজনীতা শেষ হয়ে গিয়েছে। একটি সঠিক,সুন্দর শ্রেনীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সমাজে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা থাকবে। ভবিষ্যতই বলে দেবে ধর্মের অবস্থান কি হবে? তাই বলে কেউ অবিবেচকের মত ভূল, ক্ষতিকর কোন ধর্ম নিয়ে পড়ে থাকলে তাকে সেভাবেই থাকতে দেওয়া ঠিক হবে না। কারন সভ্যতার বিকাশের জন্য সঠিক ধর্মের এগিয়ে যাওয়াটা খুবই জরুরী। এক্ষেত্রে যদি সব সমস্যারে, সব প্রশ্নের মিমাংসা নাও হয়ে থাকে তবুও অপেক্ষাকৃত নিভূর্ল ধর্ম নিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই কাম্য। মানুষের যতটুকু জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তাতে বিবদমান ধর্মের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নির্ভূল ধর্ম বেছে সে নিতেই পারে একটু ভাবনা চিন্তা করলে।

শেষ এ এসে ওই প্রথম কথাতেই আসি। রাস্তায় কাদা বলে আজ বাইরে বের হবো না এমন ধারনা পোষন করাটা কিম্বা চোরের উপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়াটা নেহাত বোকামী। বাসার সামনে দুই চোর মারামারি করছে এই বাড়ীতে কে চুরি করবে সেই বিবাদ নিয়ে আর আপনি যদি বলেন এটা চোরদের একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার আপনার এই ব্যাপারে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই তাহলে আপনি বোকার স্বর্গেই বাস করবেন কেননা চুরিটা আপনার বাসায় হতে যাচ্ছে। কেউ অন্ধ কুসঙ্কারাচ্ছন্ন ধর্মে বসবাস করলে তাকে আলোর ধর্মে নিয়ে আসাটা প্রয়োজনে জোর করে সেটাই কাম্য। এতে যদি অণ্যায়কারীরা বা মৌলবাদীরা সুযোগ নিয়ে এ ধরনের চিন্তার ভূল ব্যাখ্যা দিয়ে ফ্যাসাদ বাধায় তবুও পিছপা হওয়া যাবে না। তাদের শক্ত হাতে দমন করে ন্যায়,সত্যকেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের কল্যান শুধুই ব্ক্কতিতা বিবৃতিতে নই রাজপথেই নিহিত। আমি সত্য’র কথা বলে বলে গেলাম কেউ শুনলে ভাল না শুনলে কিছু করার নেই – এমন উদ্যান প্রীতি পরিতায্য।

হয় কোন ধর্মই সত্য নয় নচেত যেকোন একটা ধর্মই সত্য – এটাই সবচেয়ে বাস্তবতা। যার প্রমান হবে ভবিষ্যত পৃথিবীতে। সব ধর্মই সত্য – বলাটা নেহাত ভদ্রলোকি। গা বাচানোর কৌশল। আপোষকামীতা। যা শুভকর নয় সভ্যতার বিকাশে।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৪৮

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: ব্লগার কবিরনি, আপনার এত কষ্টসাধ্য উত্তর টা দেখে ধারণা করি, আমার লেখার হাত অত্যন্ত খারাপ, তাই হয়ত আমি আপনার মনের ভাব সম্পূর্ণ ভাবে বুঝাতে পারি নাই।

পরিশেষে একটা ই কথা বলতে চাই , ঐ যে বললাম, যার যার মত, তার সেটা নিয়ে থাকার অধিকারে আমি বিশ্বাস করি, তাই আপনার সাথে আলোচনায় যেতে হয়ত আমি প্রস্তুত হলেও হতে পারি। কিন্তু আপনাকে জোর করব সে মনোভাব আমার কোন দিন ই আমার ছিল না।

আরেকটা কথা, সকল ধর্ম সত্য নাও হতে পারে, কিনতু সকল ধর্ম এক সাথে সত্য কখনোই হতে পারে না, বলেছেন আপনি। আমি আপনার সাথে একমত বা দ্বিমত হতে পারছি না। এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায়।

৬| ০৩ রা মার্চ, ২০১২ বিকাল ৩:৫৬

ভাবসাধক বলেছেন: লক্ষ একটাই, স্রষ্টাকে পাওয়া।

০৪ ঠা মার্চ, ২০১২ রাত ১২:৪৯

প্রতিবাদীকন্ঠ০০৭ বলেছেন: সহমত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.