| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কোন এক সোনালী বিকেলে
বলেছিলে-
”আরো বেশি ভালোবাসবে আমায়।”
আমি বলেছিলাম ”মিথ্যে বলছো,
ভালোবাসার কি পরিমাপ হয়?
জৈবিক নিয়মে তার ওঠা নামা চলে ।”
কোন এক রাতে
হয়তো নিজেরই প্রয়োজনে বলেছিলে,
”তোমায় ছাড়া বাঁচবো না গো”
আমি বলেছিলাম
“এটাও মিথ্যা
পৃথিবীতে কোন কিছুর জন্য কোন কিছু থেমে থাকে না।
তবে সব সম্পকের ভালো কিছু স্মৃতি রয়ে যায়,রোমন্থনের জন্য।
বাঁচা মরা সে অন্য ব্যপার।”
কোন এক সকালে বলেছিলে,
”তুমি আমার সব চেয়ে প্রিয়”
আমি বলেছিলাম,
”এটাও মিথ্যা
সময়ের সাথে সাথে সব সম্পর্ক বদলে যায়।”
এখন একলা বিকেলগুলো আমি আছি
তুমি নাই!
তুমি কোথায় ?
খুঁজি তো নাই !
অবহেলায়!
তোমার সব কথা কেমন যেন মিথ্যে বলে প্রমানিত হয়ে গেছে।
আমার খুশি হবার কথা।
আমার ভব্যিষৎ বানীগুলো কেমন মিলে গেছে।
কিন্তু আমার খুশি লাগে না কেন?
কেন মন কেমন করে ? কেন অন্তর পোড়ে?
কেন আঁধার এত ভালো লাগে?
সে কি তোমারই কারণ
যাকে করেছি একদা তুচ্ছ আর অবহেলা?
© রফিকুল ইসলাম ইসিয়াক
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫৩
ইসিয়াক বলেছেন:
এত বড়ো মন্তব্য!!
আমি কিন্তু এত কিছু ভেবে লিখিনি। কখনও কখনও মনে কিছু আবেগ জমে তখন লিখতে বসি। অনেকে বলে কবিতা লেখা সহজ। হয়তো সহজ। কিন্তু আমার কাছে কবিতা বা গল্প লেখা হলো মাথার মধ্যে কিলবিল করা ভাবনার বোঝাগুলো নামিয়ে ফেলে স্বস্তি পাওয়া।লেখাগুলো সাহিত্যের মানদণ্ডে তেমন কিছুই না। তবু লিখে একধরনের আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।
২|
১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর কবিতা।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
ইসিয়াক, আপনার ‘একাকীত্বের বয়ান’ কবিতাটি পড়ে মনে হলো, মানুষের মনকে বোঝা কত কঠিন! মুখে আমরা অনেক সময় যুক্তির কথা বলি, ভবিষ্যতের পরিণতি আগেই অনুমান করার দাবি করি, এমনকি সম্পর্কের অনিবার্য পরিবর্তন সম্পর্কেও সচেতন থাকি। কিন্তু বাস্তবতা যখন আমাদের অনুমানের সঙ্গে মিলে যায়, তখনও মন সব সময় সেই বাস্তবতাকে সহজে মেনে নিতে পারে না। আপনার কবিতার মূল বেদনাটি এখানেই।
কবিতার শুরুতে ভালোবাসার পরিমাপ নিয়ে যে প্রশ্নটি তুলেছেন, সেটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ভালোবাসা কি সত্যিই পরিমাপ করা যায়? মানুষের অনুভূতির কোনো নির্দিষ্ট একক নেই। সময়ের সঙ্গে ভালোবাসার প্রকাশ বদলাতে পারে, আবেগের তীব্রতা কমতে বা বাড়তে পারে, সম্পর্কের সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে। কিন্তু তাই বলে প্রতিটি ভালোবাসার প্রকাশকে মিথ্যা বলা যায় কি? আমার মনে হয়, এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। কোনো মুহূর্তে মানুষ যে অনুভূতি প্রকাশ করে, তা সেই মুহূর্তে সত্যও হতে পারে; কিন্তু মানুষ ভবিষ্যতে ঠিক একইভাবে অনুভব করবে, তার নিশ্চয়তা নেই। অনুভূতির পরিবর্তন আর অতীতের অনুভূতির মিথ্যাচার এক বিষয় নয়।
আপনার কবিতার বক্তা ভালোবাসার প্রতিশ্রুতিগুলোকে একে একে অবিশ্বাস করেছেন। ‘তোমায় ছাড়া বাঁচবো না’ কিংবা ‘তুমি আমার সবচেয়ে প্রিয়’—এ ধরনের কথাকে তিনি সময়ের বিচারে মিথ্যা বলে চিহ্নিত করেছেন। বাস্তব জীবনে এমন প্রতিশ্রুতি অনেক সময় আবেগের তীব্র মুহূর্তে উচ্চারিত হয়। মানুষ তখন নিজের বর্তমান অনুভূতিকেই চিরস্থায়ী সত্য বলে মনে করে। কিন্তু জীবন, পরিস্থিতি ও মানসিকতার পরিবর্তনের সঙ্গে সেই অনুভূতিরও পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফলে প্রতিশ্রুতির ভাষা যতটা চিরন্তন, মানুষের বাস্তব জীবন সব সময় ততটা স্থির নয়।
কবিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, বক্তা নিজের ভবিষ্যদ্বাণী সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও আনন্দিত হতে পারছেন না। তিনি আগেই বলেছিলেন, সম্পর্ক বদলে যাবে; একদিন প্রিয় মানুষটি আর পাশে থাকবে না। শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই ঘটেছে। যুক্তির বিচারে তাঁর জয় হয়েছে, কিন্তু অনুভূতির বিচারে তিনি পরাজিত। এই বৈপরীত্যটি মানুষের মনস্তত্ত্বের একটি গভীর সত্য প্রকাশ করে। আমরা অনেক সময় কোনো সম্পর্কের পরিণতি আগেই বুঝতে পারি, কিন্তু বুঝতে পারা মানেই সেই পরিণতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা নয়।
এখানেই আপনার কবিতার ‘কেন আমার খুশি লাগে না?’ প্রশ্নটি বিশেষভাবে হৃদয়স্পর্শী। কারণ মানুষ কেবল ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিজের অনুমান সত্য প্রমাণিত হওয়ার জন্য সম্পর্ক গড়ে তোলে না। সে সম্পর্কের মধ্যে সঙ্গ, নির্ভরতা, স্মৃতি, অভ্যাস এবং একধরনের মানসিক আশ্রয় খুঁজে পায়। সেই আশ্রয় হারিয়ে গেলে মানুষ নিজের পূর্বানুমানের যথার্থতা নিয়েও নিঃসঙ্গ বোধ করতে পারে। প্রিয় মানুষটি চলে যাওয়ার পর বক্তার যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সেটি তাঁর যুক্তিকে অস্বীকার করে না; বরং যুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।
আমার কাছে কবিতাটির শেষাংশ সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। যে মানুষটিকে একসময় তুচ্ছ ও অবহেলা করা হয়েছিল, তার অনুপস্থিতিই এখন মনের ভেতরে প্রশ্ন তৈরি করছে। এখানে আত্মসমালোচনার একটি সম্ভাবনাও রয়েছে। আমরা অনেক সময় কাউকে কাছে পেয়ে তার গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করি না। তার উপস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে নিই, তার অনুভূতিকে অবহেলা করি, কিংবা মনে করি সে সব সময় আমাদের পাশেই থাকবে। কিন্তু দূরত্ব তৈরি হওয়ার পর বুঝতে পারি, সেই মানুষটির উপস্থিতি আমাদের জীবনে কতটা জায়গা দখল করে ছিল।
তবে এই জায়গায় একটি প্রশ্নও থেকে যায়—বক্তা কি সত্যিই সেই মানুষটিকে ভালোবাসতেন, নাকি তার অনুপস্থিতির ফলে তৈরি হওয়া শূন্যতাকে ভালোবাসা বলে অনুভব করছেন? দুটো সম্ভাবনাই মানুষের জীবনে দেখা যায়। কখনো আমরা মানুষটিকে মিস করি, কখনো তার সঙ্গে কাটানো সময়কে, আবার কখনো তার কাছ থেকে পাওয়া গুরুত্ব ও মানসিক আশ্রয়কে। কবিতাটি এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয় না; বরং পাঠককে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে উত্তর খুঁজতে আহ্বান জানায়। আমার মনে হয়, এই অনির্ধারিত জায়গাটিই কবিতার অনুভূতিকে আরও গভীর করেছে।
শিরোনাম ‘একাকীত্বের বয়ান’ যথার্থ হয়েছে। এখানে একাকীত্ব শুধু পাশে কোনো মানুষ না থাকার নাম নয়; এটি নিজের যুক্তি ও অনুভূতির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অভিজ্ঞতাও। বক্তা জানেন, সম্পর্কের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি জানেন, পৃথিবী কারও জন্য থেমে থাকে না। তবু তাঁর অন্তর পোড়ে। অর্থাৎ বুদ্ধি যে সত্যকে মেনে নিতে পারে, হৃদয় সব সময় তা একই গতিতে গ্রহণ করতে পারে না।
আপনার কবিতার ভাষা সহজ, কথোপকথনধর্মী এবং সরাসরি অনুভূতিনির্ভর। বারবার ‘এটাও মিথ্যা’ বলে ফিরে আসার মধ্যে একধরনের আত্মরক্ষার চেষ্টা লক্ষ করা যায়। যেন বক্তা নিজেকে বোঝাতে চান, তিনি আগেই সব বুঝেছিলেন, তাই তাঁর কষ্ট পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের প্রশ্নই সেই আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। এই পুনরাবৃত্তি কবিতাটির আবেগের কাঠামো তৈরি করেছে।
একটি কথা বিশেষভাবে বলব—ভালোবাসার পরিবর্তনকে স্বীকার করা মানেই ভালোবাসাকে অবিশ্বাস করা নয়। বরং সম্পর্কের স্থায়িত্ব শুধু প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, যত্ন, সততা এবং সময়ের সঙ্গে একে অপরকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টার ওপর। কেউ চিরকাল একই অনুভূতিতে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন; কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা সম্ভব। হয়তো ভালোবাসার প্রকৃত পরীক্ষা প্রতিশ্রুতির বড় বড় বাক্যে নয়, বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট আচরণে।
সবশেষে বলব, আপনার কবিতাটি শুধু হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার আক্ষেপ নয়; এটি মানুষের আত্মপ্রবঞ্চনা, সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তি দিয়ে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার সীমাবদ্ধতা নিয়ে একটি ভাবনামূলক রচনা। মানুষ কখনো কখনো নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক অনুমান করেও সুখী হতে পারে না, কারণ জীবনের সত্য আর মনের চাওয়া সব সময় এক পথে চলে না।
কবিতাটি পড়তে পড়তে মনে হলো, কখনো কখনো মানুষ প্রিয়জনকে হারানোর পর শুধু তাকে খোঁজে না, নিজের সেই পুরোনো সত্তাকেও খোঁজে—যে সত্তা একদিন কাউকে বিশ্বাস করেছিল, কাছে টেনেছিল কিংবা অবহেলা করেছিল। সেই আত্মঅনুসন্ধানই একাকীত্বকে নিছক নিঃসঙ্গতা থেকে গভীর উপলব্ধিতে রূপান্তরিত করতে পারে।
সুন্দর ও ভাবনাজাগানিয়া কবিতাটির জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, ইসিয়াক।